Blog

  • অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি: শূন্য থেকে সফল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি: শূন্য থেকে সফল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা একটি স্মার্ট এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিলে আপনি অন্যদের চেয়ে কয়েক বছর এগিয়ে থাকবেন এবং পরীক্ষার দিন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, কিন্তু সফল হন মাত্র কয়েক হাজার। এই বিশাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই

    দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি তাড়াহুড়ো না করে বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে পারবেন। শেষ মুহূর্তের চাপ কমে যায়, বেসিক শক্ত হয় এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় ধীরে ধীরে। এই গাইডটি মূলত তাদের জন্য যারা অনার্স ১ম বা ২য় বর্ষে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে ৩য় বা ৪র্থ বর্ষে আছেন, তারাও এই গাইড থেকে কার্যকর পরামর্শ পাবেন।

    বিসিএস সংক্ষিপ্ত পরিচিত

    বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার পূর্বে প্রথমেই বিসিএস সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা জরুরি। নিম্নে বিসিএস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো। 

    বিসিএস কি?

    বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস হলো বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সেবায় প্রবেশের পরীক্ষা। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) এই পরীক্ষা পরিচালনা করে। বিসিএস ক্যাডার হওয়া মানে সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করা। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ২৬টিরও বেশি ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে।

    বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ

    বিসিএস পরীক্ষা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।

    • প্রথম ধাপ হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এটি ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা। মোট ১০টি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং পাস করলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
    • দ্বিতীয় ধাপ হলো লিখিত পরীক্ষা। এটি ৯০০ নম্বরের বিস্তারিত পরীক্ষা। বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা পেপার থাকে এবং এটিই মূলত মেধা যাচাইয়ের প্রধান মঞ্চ।
    • তৃতীয় ধাপ হলো ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। এটি ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা যেখানে ব্যক্তিত্ব, সাধারণ জ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    কোন সাবজেক্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে যে বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে সেগুলো হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল ও পরিবেশ, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা এবং নৈতিকতা ও সুশাসন।

    অনার্স ১ম বর্ষে কীভাবে শুরু করবেন

    অনার্স ১ম বর্ষকে ধরা হয় বিসিএস প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সবথেকে পারফেক্ট সময়। নিম্নে অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করবেন তা দেওয়া হলো:

    বেসিক শক্ত করার কৌশল

    অনার্স ১ম বর্ষে বিসিএস প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেসিক মজবুত করা। এই পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে না গিয়ে আগে নিজের ভিত্তি তৈরি করুন।

    বাংলা ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে রপ্ত করুন। ইংরেজি গ্রামার ও ভোকাবুলারিতে মনোযোগ দিন। দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন যা সাধারণ জ্ঞান তৈরিতে সহায়তা করবে। ম্যাথের বেসিক অঙ্কগুলো নিয়মিত চর্চা করুন।

    দৈনিক পড়াশোনার রুটিন

    ১ম বর্ষে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আলাদা রাখুন। সকালে ইংরেজি ভোকাবুলারি ও গ্রামার চর্চা করুন। বিকেলে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ পড়ুন এবং রাতে দৈনিক পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ুন ও নোট করুন।

    কোন বইগুলো শুরুতে পড়বেন

    শুরুতে খুব বেশি বই কেনার দরকার নেই। প্রথমে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই পড়ুন, কারণ বিসিএসের বেশিরভাগ ব্যাকরণ প্রশ্ন এখান থেকেই আসে। ইংরেজির জন্য PC Das বা Cliffs TOEFL পড়তে পারেন। সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব বা mp3 সিরিজের বই দিয়ে শুরু করুন। গণিতের জন্য নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই এখনো অত্যন্ত কার্যকর।

    English ও Math-এ ফোকাস দেওয়ার কারণ

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ইংরেজি ও গণিত থেকে মোট ৫০ নম্বর থাকে। অনেক প্রার্থী এই দুটি বিষয়ে দুর্বল থাকেন এবং এখানেই পিছিয়ে পড়েন। তাই শুরু থেকেই এই দুটি বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিন।

    ১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রস্তুতি

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকেই বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিলে প্রস্তুতি অনেক বেশি গোছানো এবং কার্যকর হয়। নিম্নে অনার্স ১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষের স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রস্তুতি দেওয়া হলো:

    ১ম বর্ষ – বেসিক বিল্ডআপ

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতির যাত্রা শুরু হওয়া উচিত মূল ভিত্তি গড়ার মধ্য দিয়ে।

    বাংলায় এই সময়ে করণীয় হলো ব্যাকরণের মূল বিষয়গুলো যেমন সন্ধি, সমাস, কারক, উপসর্গ ইত্যাদি ভালোভাবে বোঝা এবং বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ ও বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া।

    ইংরেজিতে Parts of Speech, Tense, Voice, Narration ভালোভাবে আয়ত্ত করুন এবং প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি নতুন শব্দ শিখুন।

    সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করুন।

    ২য় বর্ষ – কনসেপ্ট ক্লিয়ার ও অনুশীলন

    ২য় বর্ষে শুধু পড়লেই হবে না, এবার থেকে নিয়মিত MCQ প্র্যাকটিস শুরু করতে হবে।

    MCQ প্র্যাকটিসের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০টি MCQ সমাধান করুন এবং ভুল উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করুন।

    কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের জন্য প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোটবুকে লিখে রাখুন। মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন সংগ্রহ করুন। এই বছর বিজ্ঞান, ভূগোল ও কম্পিউটার বিষয়ে মনোযোগ দিন। এই বিষয়গুলো অনেকে এড়িয়ে যান, কিন্তু এখান থেকে সহজ নম্বর পাওয়া যায়।

    পরামর্শ থাকবে- Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিয়মিত MCQ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। 

    ৩য় বর্ষ – অ্যাডভান্স প্রস্তুতি

    ৩য় বর্ষে প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়। অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে যারা সিরিয়াস, তারা এই বছর থেকে মডেল টেস্ট দেওয়া শুরু করুন।

    মডেল টেস্টের জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন। সময় ধরে পরীক্ষা দিন এবং নিজের স্কোর ট্র্যাক করুন।

    রিভিশনের জন্য ১ম ও ২য় বর্ষে পড়া বিষয়গুলো আবার ঝালাই করুন। শর্ট নোট তৈরি করুন যা পরে দ্রুত রিভাইজ করা যাবে।

    ৪র্থ বর্ষ – ফুল প্রস্তুতি

    ৪র্থ বর্ষে পুরো সিলেবাস কভার করার পাশাপাশি পূর্ববর্তী বিসিএস প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন। বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। দুর্বল বিষয়গুলোতে বাড়তি সময় দিন এবং শক্তিশালী বিষয়গুলোতে নম্বর নিশ্চিত করুন।

    সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল

    বিসিএসে ভালো করার জন্য সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল অবলম্বন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশলগুলো উল্লেখ করা হলো:

    বাংলা

    বিসিএসে বাংলা থেকে মোট ৩০ নম্বর থাকে। বাংলা সাহিত্যের জন্য প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রসহ প্রধান সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্ম ভালোভাবে পড়ুন।

    ব্যাকরণের জন্য সন্ধি, সমাস, কারক, বাগধারা, প্রবাদ, এককথায় প্রকাশ এই বিষয়গুলো বারবার চর্চা করুন।

    ইংরেজি

    ইংরেজিতে ভালো করতে হলে গ্রামার ও লিটারেচার দুটোতেই মনোযোগ দিতে হবে। Synonym, Antonym, Analogy, Sentence Correction, Fill in the Blanks এই ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে। প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়লে এই বিষয়গুলোতে দক্ষতা বাড়ে।

    ইংরেজি সাহিত্যের জন্য Shakespeare, Milton, Wordsworth, T.S. Eliot সহ বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো মনে রাখুন।

    গণিত

    বিসিএস গণিতে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন আসে। শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত, বয়স সম্পর্কিত অঙ্ক নিয়মিত চর্চা করুন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করুন। শর্টকাট পদ্ধতি শিখুন কিন্তু কনসেপ্ট বোঝার দিকেও মনোযোগ দিন।

    সাধারণ জ্ঞান

    বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, ভূগোল এই বিষয়গুলো গভীরভাবে পড়ুন।

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বের দেশ ও রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও ঘটনাবলি সম্পর্কে জানুন।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

    সাধারণ বিজ্ঞানে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মূল ধারণাগুলো পড়ুন। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বেসিক কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা দরকার।

    উপসংহার

    স্মার্ট স্টাডি আর সময় ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ই একজন সফল বিসিএস ক্যাডার তৈরি করে। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা মানে আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনে রাখবেন, বিসিএস একটি দীর্ঘ যাত্রা। এই যাত্রায় ধৈর্য, পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

    আজই শুরু করুন, কারণ আগামীকাল শুরু করার চেয়ে আজ শুরু করা সবসময় ভালো। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া যারা শুরু করেছেন, তারা ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতায় একধাপ এগিয়ে গেছেন। এখন শুধু সঠিক পথে এগিয়ে যান, সাফল্য আসবেই। 

  • ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস – 51st Bcs Preliminary Syllabus 2026 (Update) 

    ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস – 51st Bcs Preliminary Syllabus 2026 (Update) 

    প্রতিটি সরকারী চাকরি প্রত্যাশীর প্রথম এবং প্রধান স্বপ্ন থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়া। তবে প্রতিবছর লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও শুধু প্রলিমিনারিতেই ঝরে যায় ৯৫ শতাংশ। তাই, এই অংশে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং সঠিক কৌশিল অবলম্বন করা। লাখো প্রতিযোগীদের থেকে নিজেকে এগিয়ে রাখতে উচিত শুরুতেই ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা। 

    আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে- ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস | 51st BCS Preliminary Syllabus সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আশা করি- বিসিএস প্রিলিমিনারী সিলেবাস এবং মানবণ্টন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট তথ্য পাবেন। বিসিএস প্রস্তুতির প্রথম ধাপে অনেক সহায়ক হবে।    

    একনজরে বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস এর সিলেবাস অনেক বিশাল। সরকারী কর্ম কমিশনের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী নতুন এই সিলেবাসে মোট ১০টি বিষয় থেকে প্রিলিমিনারি প্রশ্ন হবে। নিম্নে বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত  বিষয় এবং প্রতিটি বিষয়ের মান উল্লেখ করা হলো।  

    বিষয়ের নাম মানবণ্টন 
    বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩০ 
    English Language and Literature৩০ 
    বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২৫ 
    আন্তজার্তিক বিষয়াবলি ২৫ 
    ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০ 
    সাধারণ বিজ্ঞান ১৫ 
    কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ১৫ 
    গাণিতিক যুক্তি ২০ 
    মানসিক দক্ষতা ১৫ 
    নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন ১৫
    পূর্ণমান ২০০ 

    প্রতিযোগিতামূলক সরকারি পরীক্ষাগুলোর মধ্যে বিসিএস প্রিলিমিনারি অন্যতম। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নিজের অবস্থান যাচাই করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এবং নিয়মিত লাইভ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের অবস্থান যাচাই করতে আজই Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। 

    বিস্তারিত বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও মানবণ্টন – Bcs Preliminary Syllabus 

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা হয়ে থাকে। পরীক্ষার জন্য সময় থাকে ২ ঘণ্টা। বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তজার্তিক বিষয়াবলি, ভূগোল পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা, নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সু-শাসন এই টপিকগুলোর উপরে প্রশ্ন হয়ে থাকে। নিম্নে বিষয় ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ প্রিলিমিনারি সিলেবাস – Bcs Preliminary Syllabus ও মানবণ্টন দেওয়া হলো।  

    বাংলা বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন 

    বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা বিষয় থেকে মোট ৩০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। নিম্নে বাংলা বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো: 

    টপিক অন্তর্ভুক্ত বিষয়  মানবণ্টন
    ভাষাপ্রয়োগ-অপ্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি ও সমাস১৫ 
    সাহিত্য(ক) প্রাচীন ও মধ্যযুগ, ০৫ 
    (খ) আধুনিক যুগ (১৮০০–বর্তমান পর্যন্ত)১০ 

    ইংরেজি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস প্রিলিমিনারির ইংরেজি বিষয় দুইটি অংশ দুইটি ভাগে বিভক্ত থাকে। এগুলো হলো: Language এবং Literature. ইংরেজি অংশের পূর্ণমান হলো ৩০। নিম্নে বিসিএস পিলিমিনারির ইংরেজি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো:

    টপিক অন্তর্ভুক্ত বিষয়  মানবণ্টন
    Part- I: LanguageA. Parts of Speech:The Noun: (The Determiner, The Gender, The Number),The Pronoun, The Verb: (The Finite: transitive, intransitive, The Non-finite: participles, infinitives, gerunds, The Linking Verb, The Phrasal Verb, Modals), The Adjective, The Adverb, The Preposition, The Conjunction15
    B. Idioms & Phrases:Meanings of PhrasesKinds of PhrasesIdentifying Phrases
    C. Clauses:The Principal ClauseThe Subordinate Clause:The Noun ClauseThe Adjective ClauseThe Adverbial Clause & its types
    D. Corrections:The TenseThe VerbThe PrepositionThe DeterminerThe GenderThe NumberSubject-Verb Agreement
    E. Sentences & Transformations:The Simple SentenceThe Compound SentenceThe Complex SentenceThe Active VoiceThe Passive VoiceThe Positive DegreeThe Comparative DegreeThe Superlative Degree
    F. Words:MeaningsSynonymsAntonymsSpellingsUsage of words as various parts of speechFormation of new words by adding prefixes and suffixes
    G. Composition:Names of parts of paragraphs/letters/applications
    Part II: LiteratureH. English Literature:Names of writers of literary pieces from the Elizabethan period to the 21st Century.Quotations from drama /poetry of different ages15 

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি বিষয় থেকে বিসিএস প্রিলিতে ২৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে অনেকগুলো টপিক থেকে প্রশ্ন আসে। তাই এই বিষয়ে ভালো করার জন্য সিলেবাস এবং মানবণ্টন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে বিসিএস বাংলাদেশ বিষয়াবলির বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো:

    টপিক অন্তর্ভুক্ত বিষয়  মানবণ্টন
    ১।  বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলিপ্রাচীনকাল হতে সম-সাময়িক কালের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। ভাষা আন্দোলন; ১৯৫৪ সালের নির্বাচন; গণ অভ্যুত্থান ১৯৬৯; বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল; মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা; পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়।০৬ 
    ২। বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদশস্য উৎপাদন এবং এর বহুমুখীকরণ, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা।০২ 
    ৩। বাংলাদেশের জনসংখ্যা, জনশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সংক্রান্ত বিষয়াদি।০২ 
    ৪। বাংলাদেশের অর্থনীতিউন্নয়ন পরিকল্পনা প্রেক্ষিত, জাতীয় আয়-ব্যয়, রাজনীতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি।০২ 
    ৫। বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যশিল্প উৎপাদন, পণ্য আমদানি ও রপ্তানিকরণ, গার্মেন্টস শিল্প ও এর সার্বিক ব্যবস্থাপনা, অন্যান্য শিল্পসমূহ, বৈদেশিক লেন-দেন, অর্থ প্রেরণ, ব্যাংক ও বীমা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।০২ 
    ৬। বাংলাদেশের সংবিধানপ্রস্তাবনা ও বৈশিষ্ট্য, মৌলিক অধিকারসহ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ, সংবিধানের সংশোধনীসমূহ।০৩ 
    ৭। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থারাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা।০৩ 
    ৮। বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাআইন, শাসন ও বিচার বিভাগসমূহ, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও সংস্কার; স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা।০৩ 
    ৯। বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।০২ 

    আন্তজার্তিক বিষয়াবলি বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবন্টন

    ৫১তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে আন্তজার্তিক বিষয়াবলি থেকে মোট ২৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। নিম্নে আন্তজার্তিক বিষয়াবলির বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবন্টন দেওয়া হলো: 

    টপিক পূর্ণমান 
    বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি।০৫ 
    আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক।০৫ 
    বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাপ্রবাহ।০৫ 
    আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি।০৫ 
    আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি।০৫ 

    ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয় থেকে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। নিম্নে ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো:

    টপিক মানবণ্টন
    বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব০২ 
    অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক), সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব।০২ 
    বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ।০২ 
    বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব।০২ 
    প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরন, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা।০২ 

    সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস প্রিলিমিনারি সাধারণ বিজ্ঞান অংশে ৩টি টপিক (ভৌত বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, আধুনিক বিজ্ঞান ) থেকে পাঁচ নম্বর করে মোট ১৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। নিম্নে সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো: 

    টপিক অন্তর্ভুক্ত বিষয়  মানবণ্টন 
    ভৌত বিজ্ঞানপদার্থের অবস্থা, এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস এবং এর প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর, আলোক যন্ত্রপাতি, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি।০৫ 
    জীব বিজ্ঞানপদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, হৃদপিণ্ড এবং হৃদরোগ, স্নায়ু এবং স্নায়ুরোগ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, মাইক্রোবায়োলজি, প্লান্ট নিউট্রেশন, পরাগায়ন ইত্যাদি।০৫ 
    আধুনিক বিজ্ঞানপৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, কসমিক রে, ব্লাক হোল, হিগের কণা, বারিমণ্ডল, টাইড, বায়ুমণ্ডল, টেকটোনিক প্লেট, সাইক্লোন, সুনামি, বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, জোয়ার-ভাটা, এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হটিকালচার, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, আইসি, আপেক্ষিক তত্তা, ফোটন কণা ইত্যাদি।০৫ 

    কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। নিম্নে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন উল্লেখ করা হলো:

    টপিক অন্তর্ভুক্ত বিষয়  মানবণ্টন 
    কম্পিউটার
    কম্পিউটার পেরিফেরালস (Computer Peripherals): কি-বোর্ড (Keyboard), মাউস (Mouse), ওসিআর (OCR) ইত্যাদি;কম্পিউটারের অঙ্গসংগঠন (Computer Architecture): সিপিইউ (CPU), হার্ড ডিস্ক (Hard Disk, এএলইউ (ALU) ইত্যাদি:কম্পিউটারের পারঙ্গমতা (Computer Performance);দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার (Computer in Practical Fields): কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা ইত্যাদি;কম্পিউটারের নম্বর ব্যবস্থা (Number Systems of Computer);অপারেটিং সিস্টেমস (Operating Systems);এমবেডেড কম্পিউটার (Embedded Computer);কম্পিউটারের ইতিহাস (History of Computer);কম্পিউটারের প্রকারভেদ (Types of Computers);কম্পিউটার প্রোগ্রাম (Computer Program): ভাইরাস (VIRUS), ফায়ারওয়াল (Firewall) ইত্যাদি;ডেটাবেইস সিস্টেম (Database System)।
    ০৫ 
    তথ্যপ্রযুক্তি ই-কমার্স (E-Commerce);সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক (Cellular Data Network): টুজি (2G), থ্রিজি (3G), ফোরজি (4G),ওয়াইম্যাক্স (Wimax) ইত্যাদি;কম্পিউটার নেটওয়ার্ক (Computer Network): ল্যান (LAN), ম্যান (MAN), ওয়াই-ফাই (WiFi), ওয়াইম্যাক্স (Wimax) ইত্যাদি;দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি (Information Technologies in Practical Fields);স্মার্টফোন (SmartPhone);ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World Wide Web – WWW);ইন্টারনেট (Internet);নিত্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং প্রযুক্তি Daily-Use Computing Technology): ই-মেইল (E-mail), ফ্যাক্স (Fax) ইত্যাদি;ক্লায়ন্ট-সার্ভার ম্যানেজমেন্ট (Client-Server Management);মোবাইল প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ (Mobile Features);তথ্যপ্রযুক্তির বড় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবা/তথ্যসমূহ (Tech-Giants Services & News): গুগল (Google), মাইক্রোসফট (Microsoft), আইবিএম (IBM) ইত্যাদি;ক্লাউড কম্পিউটিং (Cloud Computing);সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং (Social Networking): ফেসবুক (Facebook), টুইটার (Instagram), ইন্সটাগ্রাম (Twitter) ইত্যাদি;রোবটিক্স (Robotics);সাইবার অপরাধ (Cyber Crime)।০৫ 

    গাণিতিক যুক্তি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় গাণিতিক যুক্তি বিষয় থেকে ২০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। নিম্নে বিসিএস প্রিলিমিনারি গাণিতিক যুক্তি বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাসটি দেওয়া হলোঃ 

    বিষয় মানবণ্টন 
    বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু. গ.সা.গু, শতকরা, সরল ও যৌগিক মুনাফা, অনুপাত ও সমানুপাত, লাভ ও ক্ষতি।৪ 
    বীজগাণিতিক সূত্রাবলি, বহুপদী উৎপাদক, সরল ও দ্বিপদী সমীকরণ, সরল ও দ্বিপদী অসমতা, সরল সহসমীকরণ।৪ 
    সূচক ও লগারিদম, সমান্তর ও গুণোত্তর অনুক্রম ও ধারা।৪ 
    রেখা, কোণ, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ সংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য, পরিমিতি- সরলক্ষেত্র ও ঘনবস্তু।৪ 
    সেট, বিন্যাস ও সমাবেশ, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্যতা।৪ 

    মানসিক দক্ষতা  বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সর্বশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস অনুযায়ী মানসিক দক্ষতা সিলেবাসের পূর্ণমান ১৫। নিম্নে মানসিক দক্ষতা বিষয়ের সিলেবাসটি তুলে ধরা হলো:

    ১। ভাষাগত যৌক্তিক বিচার (Verbal Reasoning)
    ২। সমস্যা সমাধান (Problem Solving)
    ৩। বানান ও ভাষা (Spelling and Language)
    8। যান্ত্রিক দক্ষতা (Mechanical Reasoning)
    ৫। স্থানাঙ্ক সম্পর্ক (Space Relation)
    ৬। সংখ্যাগত ক্ষমতা (Numerical Ability)

    নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন  বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন

    বিসিএস প্রিলিতে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন বিষয় থেকে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন হয়ে থাকে। নিম্নে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন বিষয়ের বিস্তারিত সিলেবাস ও মানবণ্টন দেওয়া হলো: 

    1. Definition of Values and Good Governance;
    2. Relation between Values and Good Governance;
    3. General Perception of Values and Good Governance;
    4. Importance of Values and Good Governance in the life of an individual as a citizen, as well as in the making of society and national ideals.
    5. Impact of Values and Good Governance in National Development
    6. How the elements of Good Governance and Values can be established in society in a given social context;
    7. The benefit of Values and Good Governance, and the cost society pays adversely in their absence.

    বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ডাউনলোড – BCS Preliminary Syllabus PDF Download

    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ডাউনলোড করতে পারবেন। এছাড়া- অনলাইনের মাধ্যমে বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাসটি দেখতে এবং ডাউনলোড করতে নিচের Download Now বাটনে ক্লিক করুন।

       

    উপসংহার

    বিসিএসের সিলেবাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান রাখা বিসিএস প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। আশা করি- বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে সকল তথ্য বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।  

    আপনারা যারা বিসিএস ক্যাডার হবার স্বপ্ন দেখছেন এবং অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করতে চাচ্ছেন তারা আমাদের Live MCQ™ Blog সেকশনটি ঘুরে দেখতে পারেন। সকল সরকারি জব সার্কুলার থেকে শুরু করে নোটিশ এবং ক্যারিয়ার  গাইডলাইন সকল আপডেট শেয়ার করা হয়ে থাকে। প্রিয় বিসিএসপ্রার্থী আপনার জন্য শুভকামনা।     

  • ৯টি শুণ্যপদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | BFCB Job Circular 2026

    ৯টি শুণ্যপদে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি | BFCB Job Circular 2026

    প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি – BFCB Job Circular 2026 প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের রাজস্ব খাতভুক্ত গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-১৬ পর্যন্ত মোট ৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ৯টি শূন্যপদে সরাসরি জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা যোগ্যতার ভিত্তিতে আগামী ৭ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

    সকল সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ এবং নির্দেশনা পেতে Live MCQ™ Blog সেকশনে নিয়মিত চোখ রাখুন। চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে চাকরির প্রস্তুতি, ফলাফলসহ সকল প্রকারের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রতিনিয়ত আপডেট পাবেন। একই ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটিও দেখতে পারেন।

    একনজরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সকল তথ্য  

    বিষয়বিস্তারিত
    প্রতিষ্ঠানের নামবাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড (BFCB)
    আবেদন শুরুর তারিখ২২ এপ্রিল ২০২৬ (সকাল ১০:০০ টা)
    আবেদনের শেষ তারিখ৭ মে ২০২৬ (বিকেল ০৪:০০ টা)
    চাকরির ধরনসরকারি
    পদ ক্যাটাগরি৩টি
    মোট শূন্যপদ৯টি
    বয়সসীমা১৮–৩২ বছর
    আবেদন পদ্ধতিঅনলাইন 

    BFCB নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬  এর সকল পদের বিস্তারিত তথ্য

    ১। পদের নাম: সীটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর 
    পদ সংখ্যা: ৩টি 
    বেতন: ১০,২০০–২৪,৬৮০ টাকা 
    গ্রেড: ১৪তম 
    বয়স: ১৮–৩২ বছর 
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। টাইপলিখিত গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ৪৫টি শব্দ এবং ইংরেজিতে ৭০টি শব্দ। কম্পিউটার ব্যবহার সংক্রান্ত ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডেটা এন্ট্রি ও টাইপিং-এর গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ২৫টি শব্দ এবং ইংরেজিতে ৩০টি শব্দ।

    ২। পদের নাম: অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক 
    পদ সংখ্যা: ৫টি 
    বেতন: ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা 
    গ্রেড: ১৬তম 
    বয়স: ১৮–৩২ বছর 
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। কম্পিউটার ব্যবহার সংক্রান্ত ওয়ার্ড প্রসেসিং, ডেটা এন্ট্রি ও টাইপিং-এর গতি প্রতি মিনিটে বাংলায় ২০টি শব্দ এবং ইংরেজিতে ২০টি শব্দ।

    ৩। পদের নাম: ড্রাইভার 
    পদ সংখ্যা: ১টি 
    বেতন: ৯,৭০০–২৩,৪৯০ টাকা 
    গ্রেড: ১৫তম 
    বয়স: ১৮–৩২ বছর 
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের কোনো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অথবা অষ্টম শ্রেণি পাস। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ হালকা বা ভারী যানবাহন চালনার অভিজ্ঞতা।

    বিশেষ দ্রষ্টব্য: সকল জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    আবেদন ফর্ম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তাবলি

    ১। ০১.০৪.২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩২ বছর হতে হবে।
    ২। শুধু বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিকগণ আবেদন করতে পারবেন।
    ৩।অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন ফর্ম পূরণ এবং জমাদানের সময়সূচী ২২ এপ্রিল ২০২৬ (সকাল ১০:০০ টা) থেকে ৭ মে ২০২৬ (বিকেল ০৪:০০ টা) পর্যন্ত। 
    ৪। আবেদন ফি: ক্রমিক ১-৩ পদের জন্য মোট ১১২ টাকা।
    ৫। আবেদনপত্র Submit করার পর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Teletalk থেকে SMS-এর মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন কোনো অবস্থাতেই গৃহীত হবে না।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শুণ্যপদগুলোতে আবেদন করতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এবং আবেদন করতে নিচের আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

    বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-সহ দেশের সকল সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে এখনই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করুন। বিসিএস, ব্যাংক, NTRCA, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে সকল সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক, মডেল টেস্ট এবং লাইভ পরীক্ষার সুবিধা পাবেন এই একটি অ্যাপেই। আজই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং আপনার চাকরির প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলুন l

  • ১৬টি অফিস সহায়ক শূন্যপদে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | Khagrachhari DC Office Job Circular 2026

    ১৬টি অফিস সহায়ক শূন্যপদে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ | Khagrachhari DC Office Job Circular 2026

    প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা এবং এর অধীন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়সমূহের জন্য ১টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৬টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা যোগ্যতার ভিত্তিতে আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

    সকল সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নোটিশ এবং নির্দেশনা পেতে Live MCQ™ Blog সেকশনে নিয়মিত চোখ রাখুন। চাকরির বিজ্ঞপ্তি থেকে শুরু করে চাকরির প্রস্তুতি, ফলাফলসহ সকল প্রকারের ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রতিনিয়ত আপডেট পাবেন। নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখতে চাইলে কারা অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারেন।

    এক নজরে খাগড়াছড়ি DC Office নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬  

    বিষয়বিস্তারিত
    প্রতিষ্ঠানের নামজেলা প্রশাসকের কার্যালয়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা
    আবেদন শুরুর তারিখ২১ এপ্রিল ২০২৬ (সকাল ৯:০০ টা)
    আবেদনের শেষ তারিখ২০ মে ২০২৬ (বিকেল ০৪:০০ টা)
    চাকরির ধরনসরকারি
    পদ ক্যাটাগরি১টি
    মোট শূন্যপদ১৬টি
    বয়সসীমা১৮–৩২ বছর
    আবেদন পদ্ধতিঅনলাইন 

    পদের বিস্তারিত তথ্য

    ১। পদের নাম: অফিস সহায়ক 
    পদ সংখ্যা: ১৬টি 
    বেতন: ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা 
    গ্রেড: ২০তম 
    বয়স: ১৮–৩২ বছর 
    শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের “কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা, ২০২০ (সংশোধন ২০২৪)” এর তপশিল-৫ অনুযায়ী গৃহীত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

    আবেদন ফর্ম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তাবলি

    ১। প্রার্থীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। 
    ২। ২০ মে ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স ১৮–৩২ বছর হতে হবে।  
    ৩। অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ এবং জমাদানের সময়সীমা- ২১ এপ্রিল ২০২৬ (সকাল ৯:০০ টা) থেকে ২০ মে ২০২৬ (বিকেল ০৪:০০ টা) পর্যন্ত। 
    ৪। আবেদন ফি: মোট ৫৬ টাকা (Teletalk সার্ভিস চার্জসহ)।
    ৫। আবেদনপত্র Submit করার পর পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে Teletalk প্রি-পেইড মোবাইল থেকে SMS-এর মাধ্যমে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হবে। বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন কোনো অবস্থাতেই গৃহীত হবে না।

    আবেদন প্রক্রিয়া

    অনলাইনে মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শূন্যপদে আবেদন করতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এবং আবেদন করতে নিচের আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

    খাগড়াছড়ি DC Office নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬-সহ দেশের সকল সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিতে এখনই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করুন। বিসিএস, ব্যাংক, NTRCA, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে সকল সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক, মডেল টেস্ট এবং লাইভ পরীক্ষার সুবিধা পাবেন এই একটি অ্যাপেই। আজই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং আপনার চাকরির প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে তুলুন।

  • এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান–সহকারী প্রধান নিয়োগের ফল প্রকাশ: পাশ ১৪,৯৪২ জন | বিস্তারিত দেখুন

    এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান–সহকারী প্রধান নিয়োগের ফল প্রকাশ: পাশ ১৪,৯৪২ জন | বিস্তারিত দেখুন

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA) কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণের হার মোট পরীক্ষার্থীর ৩১ শতাংশ।

    📊 এক নজরে ফলাফলের তথ্য

    ✅ মোট উত্তীর্ণ: ১৪,৯৪২ জন

    📈 পাশের হার: ৩১%

    👥 মোট আবেদনকারী: ৫৩,০৬৯ জন

    🪑 শূন্যপদ: ১১,১৫১টি

    🗓️ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ 

    📢 ফল প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ (বুধবার)

    বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬ এর এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ১৪৬ জন। এ এমসিকিউ পরীক্ষার ফল ২২ এপ্রিল অপরাহ্নে প্রকাশ করা হয়। পদভিত্তিক উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের রোল নম্বরগুলো (মেধাক্রম অনুযায়ী নয়) এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে (https://ntrca.gov.bd) প্রকাশ করা হলো।

    সম্পূর্ণ ফলাফল দেখুন: 

    উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের টেলিটক থেকে এসএমএস’র মাধ্যমে ফল জানানো হবে। এছাড়া প্রার্থীরা NTRCA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তাদের রোল নম্বর ব্যবহার করে ফলাফল দেখতে পারবেন।

    উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরবর্তীতে এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

    চাকরির গুরুত্বপূর্ণ সব খবর জানতে Live MCQ™ এর সঙ্গেই থাকুন।

  • বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন – Administration Cadre Preparation 2026

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন – Administration Cadre Preparation 2026

    বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ক্যাডারগুলোর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডার (BCS Administration Cadre Preparation) অন্যতম। প্রতি বছর লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না।

    প্রশাসন ক্যাডার হলো বাংলাদেশ সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি। একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই ক্যাডারের মাধ্যমে আপনি সরাসরি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    এই গাইডলাইনে আমরা প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রিলিমিনারি থেকে ভাইবা, সিলেবাস বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে কর্মজীবনের পদক্রম পর্যন্ত সব বিষয় একসাথে জানতে পারবেন। যারা বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য রিসোর্স।

    প্রশাসন ক্যাডার পরিচিতি

    প্রশাসন ক্যাডার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) একটি অভিজাত ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত ক্যাডার। সরকারের নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদান পর্যন্ত এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা সর্বত্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    প্রশাসন ক্যাডার কি?

    প্রশাসন ক্যাডার (BCS Administration Cadre) হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটি সাধারণ ক্যাডার, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয় উভয় পর্যায়ে কাজ করেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) কর্তৃক পরিচালিত বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকেন এবং তাদের পোস্টিং দেশের যেকোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা জেলায় হতে পারে।

    প্রশাসন ক্যাডারের কাজ কি?

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করেন-  মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়। তাদের প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো:

    • জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক প্রশাসন পরিচালনা
    • ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায় তদারকি
    • সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ
    • প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা
    • নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা ও রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন
    • জাতীয় নীতি প্রণয়নে মন্ত্রণালয়ে কাজ করা
    • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বয় ও যোগাযোগ রক্ষা

    প্রশাসন ক্যাডারের গ্রেড

    প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর একজন কর্মকর্তা ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। নিচে পদক্রম ও বেতন স্কেল উল্লেখ করা হলো:

    গ্রেডপদবেতন স্কেল (টাকা)
    গ্রেড-৯সহকারী কমিশনার / সহকারী সচিব২২,০০০ – ৫৩,০৬০
    গ্রেড-৭সিনিয়র সহকারী সচিব / সিনিয়র সহকারী কমিশনার২৯,০০০ – ৬৩,৪১০
    গ্রেড-৬উপজেলা নির্বাহী অফিসার / সিনিয়র সহকারী সচিব৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০
    গ্রেড-৫জেলা প্রশাসক / যুগ্ম সচিব৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০
    গ্রেড-৪বিভাগীয় কমিশনার / অতিরিক্ত সচিব৫০,০০০ – ৭১,২০০
    গ্রেড-৩সচিব৫৬,৫০০ – ৭৪,৪০০
    গ্রেড-১সিনিয়র সচিব / মন্ত্রিপরিষদ সচিব৭৮,০০০ (স্থির)

    প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি

    প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেতে হলে তিনটি ধাপ সফলভাবে পার করতে হয়-  প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা। প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা কৌশল ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

    সিলেবাস ও মানবন্টন বিশ্লেষণ

    বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা। নিম্নে বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন তুলে ধরা হলো:

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা 
    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১০টি বিষয়ের উপরে সর্বোমোট ২০০ নম্বরের হয়ে থাকে। সময় থাকে ২ ঘণ্টা। নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে বিষয়ের নাম ও মান উল্লেখ করা হলো।  

    বিষয়ের নাম মান 
    বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩০ 
    English Language and Literature৩০ 
    বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২৫ 
    আন্তজার্তিক বিষয়াবলি ২৫ 
    ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০ 
    সাধারণ বিজ্ঞান ১৫ 
    কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ১৫ 
    গাণিতিক যুক্তি ২০ 
    মানসিক যুক্তি ১৫ 
    নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন ১০ 
    পূর্ণমান ২০০ 

    লিখিত পরীক্ষা 
    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ৬টি বিষয়ের উপরে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। ২০০ নম্বরের পরীক্ষাগুলোতে সময় থাকে ৪ ঘণ্টা এবং ১০০ নম্বরের পরীক্ষা গুলোতে সময় থাকে ৩ ঘণ্টা। নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার বিষয় সময় এবং পুর্ণমান তুলে ধরা হলো।  

    বিষয়  ও বিষয়কোড পূর্ণমান (নম্বর) সময় 
    বাংলা (০০২) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    ইংরেজি (০০৩) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    বাংলাদেশ বিষয়াবলী (০০৫) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (০০৭) ১০০ ৩ ঘণ্টা
    গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (০০৮+০০৯) (৫০+৫০) = ১০০  ৩ ঘণ্টা
    সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (০১০) ১০০ ৩ ঘণ্টা 
    সর্বমোট ৯০০ নম্বর ২১ ঘণ্টা 

    বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিসিএস লিখিত সিলেবাস ব্লগটি পড়ুন। 

    ভাইবা পরীক্ষা 
    বিসিএস পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভাইবা। বিসিএসে ভাইবা ২০০ নাম্বারের হয়ে থাকে। এই ধাপে সাধারণত ব্যক্তিত্ব যাচাই, সাধারণ জ্ঞান, কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা, মানসিক পরিপক্কতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

    প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি

    প্রিলিমিনারি বিসিএস পরীক্ষার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিবছর গোড়ে ৯৫% বিসিএস পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি পাশ করতে ব্যর্থ হয়। তাই এই পরীক্ষায় ভালো করতে হলে নিয়মিত MCQ অনুশীলন করা অপরিহার্য। এছাড়াও- 

    • বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের মৌলিক নিয়মগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। 
    • বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত ফলো করুন। 
    • গণিত ও মানসিক দক্ষতায় প্রতিদিন অন্তত ৩০টি MCQ সমাধান করুন। 
    • বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন এবং প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করুন

    বিসিএস পরীক্ষায় ভালো কররার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত এবং রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত বহুনির্বচনী প্রশ্নগুলো অনুশীলন। 

    পরামর্শ থাকবে- Live MCQ™ অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণ করা।এতে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের অবস্থান যাচাই হবে। 

    লিখিত প্রস্তুতি

    লিখিত পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডার নির্বাচনে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ লিখিতে প্রাপ্ত নম্বরই মূলত ক্যাডার নির্ধারণ করে।

    • বাংলায় সারাংশ, ভাবসম্প্রসারণ ও রচনার জন্য নিয়মিত লেখার অভ্যাস গড়ুন
    • ইংরেজিতে Essay, Letter Writing ও Précis Writing অনুশীলন করুন
    • বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে বিশ্লেষণধর্মী উত্তর দেওয়ার দক্ষতা তৈরি করুন
    • গাণিতিক সমস্যা সমাধানে শর্টকাট পদ্ধতি রপ্ত করুন

    লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাড়ায় সময় ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করতে ব্যর্থ হওয়া।

    তাই পরামর্শ থাকবে-  বিসিএস প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য Live Written™ অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন। এতে আপনার সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়াও অভিজ্ঞ মেন্টদের মাধ্যমে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাতা মূল্যয়নের মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো পরিলক্ষিত হবে। 

    ভাইবা প্রস্তুতি

    ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষায় ২০০ নম্বর থাকে। এখানে শুধু জ্ঞান নয়, আপনার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হয়।

    • নিজের জেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠ্য বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করুন
    • সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মতামত দেওয়ার অভ্যাস করুন
    • মিরর প্র্যাকটিস ও মক ভাইভার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ান
    • পোশাক-আশাক, চলাফেরা ও কথাবার্তায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন
    • প্রশাসন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি রাখুন

    শূন্য থেকে প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি

    যারা একেবারে শুরু থেকে প্রস্তুতি নিতে চান, তাদের জন্য নিম্নে একটা রোডম্যাপ দেওয়া হলো।

    ১। বিসিএসের সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্ন প্যাটার্ন এবং মানবন্টন সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা। 
    ২। বিসিএস এর প্রয়োজনীয় বই এবং রিসোর্স সংগ্রহ করা। পরামর্শ থাকবে- বিসিএস প্রিলিমিনারি জব সলুশ্যন বইটি দিয়ে শুরু করা।  
    ৩। বিগত সালের প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে অনুশীলন করা। বাংলা এবং ইংরেজি ব্যকরনের মৌলিক বিষয়গুলো শেষ করা। 
    ৪। বিসিএস এর সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি টপিক আলাদা আলাদাভাবে আয়ত্ব করা। 
    ৫। নিয়মিত MCQ অনুশীলন করা এবং সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য সংবাদপত্র পড়া। 
    ৬। পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট এবং দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মনোযোগী হওয়া।  

    আপনারা যারা অনার্স থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে চান তারা অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের বিস্তারিত গাইডলাইন ব্লগটি পড়তে পারেন।

    প্রশাসন ক্যাডার পদক্রম

    প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত প্রথমে মাঠ প্রশাসনে পোস্টিং দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা ও পদোন্নতির ভিত্তিতে সচিবালয়ে বদলি হন।

    মাঠ প্রশাসনের কর্মপদ্ধতি

    মাঠ প্রশাসনে একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার কর্মজীবন শুরু হয় সহকারী কমিশনার হিসেবে। এই পর্যায়ে তিনি জেলা প্রশাসকের অধীনে কাজ করেন।

    • সহকারী কমিশনার (এসি): ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন
    • উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO): উপজেলার সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক প্রশাসন পরিচালনা
    • অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ADC): জেলা প্রশাসকের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের কাজ তদারকি
    • জেলা প্রশাসক (DC): জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের নেতৃত্ব
    • বিভাগীয় কমিশনার: বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, একাধিক জেলা তদারকি করেন

    সচিবালয়ের কর্মপদ্ধতি

    সচিবালয়ে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেন। এখানে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়িত হন।

    • সহকারী সচিব: নীতি প্রণয়নে সহায়তা, ফাইল প্রসেসিং ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
    • সিনিয়র সহকারী সচিব: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি ও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান
    • উপসচিব: বিভাগ পরিচালনা, মন্ত্রীকে পরামর্শ প্রদান
    • যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব: বৃহৎ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি
    • সচিব: মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী, মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা
    • সিনিয়র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব: জাতীয় নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পর্যায়

    প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতা

    প্রশাসন ক্যাডারে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা

    যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে চতুর্থ শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। শিক্ষাজীবনে দুটির বেশি তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফলাফল থাকলে আবেদন করা যাবে না।

    বয়সসীমা

    সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের নির্ধারিত তারিখে বয়স গণনা করা হয়।

    স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা

    শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। দৃষ্টিশক্তি নির্ধারিত মানের হতে হবে। মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্দিষ্ট শারীরিক অক্ষমতা থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন।

    নাগরিকত্ব

    বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে আবেদন করা যাবে না। যদি বিদেশে বিবাহ করা হয়ে থাকে অথবা স্বামী বা স্ত্রী বিদেশের নাগরিক হন, সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

    প্রশাসন ক্যাডারের কাজ কি?

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়ে তারা জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন পরিচালনা করেন — আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি তাদের প্রধান দায়িত্ব। সচিবালয়ে তারা নীতি প্রণয়ন, আইন প্রস্তুত এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বেতন কত?

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর একজন কর্মকর্তা গ্রেড-৯ এ সহকারী কমিশনার হিসেবে ২২,০০০ টাকা মূল বেতনে যোগ দেন (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)। তবে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা যোগ করলে মোট আয় অনেক বেশি হয়। ঢাকায় পোস্টিং হলে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৪৫% পর্যন্ত পান।

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ কোনটি?

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ হলো মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পদ এবং গ্রেড-১ এর অন্তর্ভুক্ত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করেন এবং মন্ত্রিসভার সকল কার্যক্রম সমন্বয় করেন। এছাড়া সিনিয়র সচিব পদটিও গ্রেড-১ এর অন্তর্ভুক্ত।

    উপসংহার

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। এই ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

    প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতিতে সিলেবাস বোঝা, নিয়মিত অনুশীলন, বিষয়ভিত্তিক গভীর পড়াশোনা এবং নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠাই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা এই দেশের ৩০ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত- এই দায়িত্ব যেমন গুরুভার, তেমনি গৌরবময়।

    আপনার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন, অভিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের গাইডেন্স নিন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। শুভকামনা রইল আপনার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার যাত্রায়!

  • সিনিয়র স্টাফ নার্স (Senior Staff Nurse) নিয়োগ প্রস্তুতি ২০২৬ – স্মার্ট রুটিন, স্টাডি প্ল্যান ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    সিনিয়র স্টাফ নার্স (Senior Staff Nurse) নিয়োগ প্রস্তুতি ২০২৬ – স্মার্ট রুটিন, স্টাডি প্ল্যান ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    প্রিয় নার্সিং পেশাজীবী বন্ধুগণ,
    আপনারা জানেন, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায়, সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ ২০২৬ (Senior Staff Nurse Recruitment) পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত ৮২৮টি পদে নিয়োগের এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নার্সিং পেশা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন ক্যারিয়ারগুলোর একটি। বিশেষ করে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা প্রস্তুতি যারা নিচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। 

    নার্সিং পেশা দিন দিন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। তাই সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ যাদের লক্ষ্য, অর্থাৎ যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। 

    এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব- পরীক্ষার সম্পূর্ণ সিলেবাস, মানবন্টন, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগকে কেন্দ্র করে Live MCQ™ -এর শর্ট কোর্স রুটিন সম্পর্কে।

    একনজরে ৮২৮ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ তথ্য

    বিবরণ (Description)তথ্য (Details)
    পদের নামসিনিয়র স্টাফ নার্স (নন-ক্যাডার পদ)
    মোট পদ সংখ্যা৮২৮টি
    আবেদনের যোগ্যতা BSc in Nursing/ Diploma in Nursing Science & Midwifery (4 year) + BNC Registration 
    আবেদনের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর 
    বেতন স্কেল ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০) 
    সম্ভাব্য পরীক্ষার সময়মে ২০২৬
    নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষবাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
    অধিদফতরনার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার ধাপ ও মানবন্টন

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ)

    নার্সিং প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে জেনারেল অংশে (বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান) ৬০ নম্বর এবং টেকনিক্যাল অংশে ৪০ নম্বর নির্ধারিত। একইভাবে লিখিত পরীক্ষার ২০০ নম্বরের মধ্যে জেনারেল অংশে ১২০ ও টেকনিক্যাল অংশে ৮০ নম্বর থাকবে।

    মানবন্টন

    বিষয় নম্বর 
    বাংলা ২০ 
    ইংরেজি ২০ 
    সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)২০ 
    সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয় ৪০ 
    মোট নম্বর ১০০ 
    • পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। 
    • প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। 
    • প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.৫০ কাটা যাবে। 

    লিখিত পরীক্ষা

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের চার ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

    মানবন্টন

    বিষয় নম্বর 
    বাংলা ৪০ 
    ইংরেজি ৪০ 
    সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)৪০ 
    সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয় ৮০ 
    মোট নম্বর ২০০ 

    ব্যবহারিক পরীক্ষা: লিখিত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
    মৌখিক পরীক্ষা: সর্বশেষ ধাপে ৫০ নম্বরের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে হবে; ৫০% নম্বর পেতে হবে। 
    পাশ নম্বর: প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে ২৫%, টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল অংশে ৪০% ও সামগ্রিকভাবে ৪৫% নম্বর পেতে হবে। 

    প্রিলিমিনারি সিলেবাস, সাজেশন ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির গাইডলাইন

    বাংলা বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক 

    বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য দুটি মিলেই প্রশ্ন আসতে পারে। ব্যাকরণ ও সাহিত্যের যেসব টপিক পড়তে হবে—
    বাংলা ব্যাকরণ অংশ: 

    • বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) 
    • ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) 
    • বাক্য প্রকরণ (যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ; বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন, কারক ও বিভক্তি)
    • শব্দপ্রকরণ (শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি – প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ, লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক; সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ) 
    • বানান ও বাক্যশুদ্ধি; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।)
    • পদ-প্রকরণ (পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ) 

    বাংলা সাহিত্য অংশ:

    • বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; 
    • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্য যুগ সম্পূর্ণ; 
    • বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; 
    • বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ;
    • কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; 
    • সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; 
    • বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি ও চরিত্র
    • বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, অমিয় চক্রবর্তী, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বেগম রোকেয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ফররুখ আহমদ, বিষ্ণু দে, আবু ইসহাক, আল মাহমুদ, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হুমায়ূন আহমেদ, শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, কায়কোবাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সুকান্ত ভট্টাচার্য [লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে]

    কিভাবে পড়বেন: 

    • উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। 
    • ব্যাকরণের ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
    • এছাড়াও Live MCQ™ অ্যাপের “টপিক গুরু” থেকে বাংলা সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন-উত্তর ব্যাখ্যাসহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ™ জব সল্যুশন বাটন থেকে বিগত সালের নার্সিং নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো পড়তে হবে।

    ইংরেজি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক 

    ইংরেজি ব্যাকরণ অংশ: 

    • Parts of speech, Number, Gender, Determiner, Right form of Verb, Fill in the Blanks with appropriate word, Appropriate Preposition, Linkers
    • Vocabulary: Word meaning, synonym, antonym, spelling
    • Tense, Sentence & Correction, Transformation of Sentences, Voice, Narration, Idioms & Phrases, Degree, One Word Substitution

    ইংরেজি সাহিত্য অংশ: 

    [লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে।] 
    1. William Shakespeare
    2. William Wordsworth 
    3. P.B. Shelley
    4. John Keats
    5. Jane Austen
    6. Charles Dickens
    7. GB Shaw
    8. George Orwell
    9. ST Coleridge
    10. Christopher Marlowe
    11. Ernest Hemingway
    12. W. B. Yeast
    13. T. S. Eliot
    14. E. M. Forster
    15. John Milton
    16. Ben Jonson
    17. Alexander Pope
    18. Lord Alfred Tennyson

    কিভাবে পড়বেন

    • গ্রামারের জন্য: High School English Grammar and Composition by Wren and Martin; Advanced Learner’s Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain; A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hossain; Applied English Grammar and Composition by P. C. Das; English Grammar in Use by Raymond Murphy; Dictionaries (Oxford, Cambridge, Merriam-Webster etc.) [প্রচলিত যেকোনো ভালো একটি গাইড বইয়ের পাশাপাশি উপর্যুক্ত বইয়ের যেকোনো একটি বেছে নিন]
    • প্র্যাকটিসের পাশাপাশি টপিকভিত্তিক পড়াশোনার জন্য Live MCQ প্রণীত ❝English Wizard❞  ও ❝English Essence❞  বই পড়তে পারেন।
    • এছাড়াও Live MCQ এর টপিক গুরু থেকে ইংরেজি সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন উত্তর ব্যাখ্যা সহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ জব সল্যুশন বাটন থেকে বিগত সালের নার্সিংয়ের প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে পারেন। 
    • বিগত বিসিএস ও পিএসসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন।
    • Live MCQ Vocabulary sheet 

    সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকবে। 

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি

    • বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা ও ভূ-প্রকৃতি 
    • বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস ও সামসময়িক ইতিহাস, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও তাদের উল্লেখযোগ্য কর্ম
    • বাংলাদেশের সংবিধান
    • বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ
    • জলবায়ু ও পরিবেশ, কৃষি সম্পদ, শিল্প ও বানিজ্যের অবদান, জনশুমারী ও অন্যান্য রিপোর্ট ও সমীক্ষা 
    • সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়াবলি

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

    • বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
    • জাতিসংঘ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ
    • আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ 
    • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থানসমূহ
    • আন্তর্জাতিক সম্মেলন, আন্তর্জাতিক পুরস্কার
    • সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

    সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান অংশ)

    • বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা, নারী ও শিশু, বিভিন্ন দূষণ, আলোচিত রোগ ও চিকিৎসা (এইডস, পোলিও, কোভিড-১৯, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, মাঙ্কি পক্স, ডেঙ্গু, চিকুন গুনিয়া, ইত্যাদি), মানবদেহ ও রক্ত
    • দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুৎ, আলো, চুম্বক, খাদ্য, পুষ্টি ও ভিটামিন 
    • বেসিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি

    কিভাবে পড়বেন

    • অষ্টম শ্রেণির বই, ভূগোল ও পরিবেশ এবং ইতিহাস ও পৌরনীতি, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]
    • সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, আমদানি রপ্তানি রিপোর্ট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ,
    • লাইভ পাবলিকেশন্সের Live MCQ Science Expert
    • লাইভ পাবলিকেশন্সের Live MCQ Computer & ICT Cloud 
    • অষ্টম শ্রেণির বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়] 
    • উল্লিখিত টপিকে বিগত বিসিএস ও পিএসসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। 
    • সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য Live MCQ এর ‘টপিকগুরু’ থেকে সাধারণ জ্ঞান সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন উত্তর ব্যাখ্যাসহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ অ্যাপের ডাইনামিক প্যানেল, তথ্যসমাহার, নিউজ পিকার, সাপ্তাহিক বুলেটিন, সাম্প্রতিক সমাচার বাটন থেকে সাধারণ জ্ঞানের উপর জোরালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।  
    চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেটেড থাকার জন্য Live MCQ এর প্রতিদিনের আয়োজন Daily NewsPicker এবং সাপ্তাহিক আয়োজন Weekly Bulletin অনুসরণ করতে পারেন। Live MCQ অ্যাপের PDF সেকশনে প্রকাশিত প্রতি মাসের সাম্প্রতিক সমাচার, Live MCQ তথ্য সমাহার সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল PDF আপনার সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করবে। এছাড়াও Dynamic Info Panel এর শেষ মুহূর্তের সকল আপডেটেড তথ্য তো রয়েছেই যা পরীক্ষার আগমুহূর্তে সাম্প্রতিক বিষয়াবলিতে আপনার প্রস্তুতিকে সহজ করবে। 

    ব্যবহারিক টেকনিক্যাল বিষয়:

    • প্রার্থীদের নার্সিংয়ে বিএসসি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাদের নার্সিং টেকনিক্যাল অংশের মৌলিক ধারণা থাকবে। তবু মৌলিক বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করে পুরনো পড়া ঝালিয়ে নিতে হবে।
    • সেক্ষেত্রে, নার্সিং পেশায় প্রায়োগিক বিষয়গুলো, যা নিয়মিত পেশাগত কাজে বেশি প্র্যাকটিস করতে হয়, সেসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে; যেমন—অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, কমিউনিটি অব নার্সিং, অ্যাডাল্ট নার্সিং, ফান্ডামেন্টাল নার্সিং, সাইকোলজি, মেন্টাল হেলথ, অর্থোপেডিক, মিডওয়াইফারি, ফার্মাকোলজি প্রভৃতি। এছাড়া ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, নিউট্রিশন অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সাপোর্ট, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড নিউ বর্ন নার্সিং, ইন্টার্নশিপ অথবা পেশাগত ক্লিনিক্যাল ডিউটি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা রাখতে হবে।
    • Live MCQ-এর নার্সিং শর্ট কোর্সের টেকনিক্যাল অংশের পরীক্ষা ও ৮টি ক্লাসে উল্লিখিত টপিকগুলো কাভার করা হবে। 

    Live MCQ™ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার জন্য হাতে সময় খুবই কম। এই কম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে Live MCQ™ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন।   

    এক নজরে সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন 

    মোট লাইভ পরীক্ষা: ২৫টি 

    • জেনারেল বিষয়: ১০টি 
    • টেকনিক্যাল বিষয়: ১০টি 
    • ফুল মডেল টেস্ট: ৫টি 

    মোট ক্লাস: ১৫টি 

    • টেকনিক্যাল ক্লাস: ৮টি 
    • জেনারেল ক্লাস: ৭টি 

    ক্লাসগুলোর বিস্তারিত তথ্য   

    যেহেতু স্টাফ নার্স পরীক্ষায় জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয় বিষয়েরই প্রশ্ন থাকে, তাই কোর্সের ক্লাসগুলোকে জেনারেল ও টেকনিক্যাল দুইটা ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 

    জেনারেল অংশের ক্লাস টপিক

    • বাংলা সাহিত্য
    • বাংলা ব্যাকরণ
    • সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলি
    • সাধারণ জ্ঞান আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
    • সাধারণ বিজ্ঞান
    • English Grammar
    • English Grammar & Literature

    টেকনিক্যাল অংশের ক্লাস টপিক 

    • Syllabus analysis & Course analysis 
    • Basic Science + Anatomy & Physiology 
    • Microbiology & Parasitology + Pharmacology + Orthopedics Nursing
    • Fundamentals of Nursing + Psychology & Psychiatric Nursing 
    • Nutrition & Dietetics + Nursing Education, Leadership & Management
    • Midwifery & Obstetrics + Pediatric & Newborn Nursing
    • Medical & Surgical Nursing + Emergency & Critical Care Nursing
    • Community Health Nursing + Research Methodology 

    বিশেষ দ্রষ্টব্য: জেনারেল ও টেকনিক্যাল উভয় অংশের প্রথম ১টি করে মোট ২টি ক্লাস অ্যাপে ‘সবার জন্য ফ্রি’ থাকবে।

    এই শর্ট কোর্সটি কেন গুরুত্বপূর্ণ 

    • লাইভ ও রেকডের্ড ক্লাসের মাধ্যমে জেনারেল, টেকনিক্যাল উভয় অংশের সিলেবাস কমপ্লিট করানো হবে।  
    • লাইভ ও আর্কাইভ পরীক্ষার মাধ্যমে সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। 
    • ৫টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা প্রক্রিয়া এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান করা হবে। 
    • গাইডলাইন ভিত্তিক ক্লাসগুলোর মাধ্যমে স্টাফ নার্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে। 

    এছাড়াও- লাইভ ক্লাসে ও ২৪/৭ কাস্টোমার সাপোর্টের মাধ্যমে নার্সিং সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের সমাধান করা দেওয়া হবে। 

    কোর্সের বিশেষ সুবিধা 

    • কোন লাইভ ক্লাস অথবা পরীক্ষা মিস হলে- যেকোন সময় আর্কাইভ থেকে সেটা পরীক্ষা দেওয়া যাবে এবং ক্লাস করা যাবে। 
    • পরীক্ষার হলের প্রশ্নপত্রের মতো পরীক্ষাগুলো OMR-এ দিতে পারবেন। 

    এছাড়াও- সাথে পাবেন স্মার্ট সার্চ, টপিকগুরু, ডাইনামিক প্যানেল, কুইজ মাস্টার, তথ্যকল্পদ্রুমসহ অসংখ্য স্টাডি সহায়ক Live MCQ™ এর প্রিমিয়াম ফিচার।

    রুটিন ডাউনলোড প্রক্রিয়া 

    Live MCQ™ App / Website → Homepage → PDF Section → “রুটিন, সিলেবাস ও কারিকুলাম” থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি ও শর্ট কোর্স রুটিনসহ চলমান সকল রুটিনের পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবেন। 

    এছাড়া- অনলাইনের মাধ্যমে রুটিনটি দেখতে এবং ডাউনলোড করতে নিচের পিডিএফ ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। 

    শেষ কথা

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়- এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও সম্মানজনক নন-ক্যাডার পদে ক্যারিয়ার গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। তাই দেরি না করে এখনই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    🚀 দেরি না করে, আজই Live MCQ™ অ্যাপের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি ও শর্ট কোর্স রুটিনে যুক্ত হয়ে শুরু করুন আপনার স্মার্ট, স্ট্র্যাটেজিক প্রস্তুতি!

  • সমাস কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী? বিস্তারিত আলোচনা

    সমাস কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী? বিস্তারিত আলোচনা

    বাংলা ব্যাকরণের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক সমাস। চাকরির পরীক্ষা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তী, স্কুল কলেজ সহ শিক্ষা জীবনের প্রায় সকল পর্যায়েই বাংলা ব্যাকরণের সমাস টপিক টির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এই সমস নিয়ে শিখার্থীদের মধ্যে নানা ভীতি দেখা যায়। আজকের এই আর্টিক্যাল টি পড়ার পর আশাকরি সমাস নিয়ে আপনার আর কোন সমস্যা থাকবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক সমাস কি, সমাস কত প্রকার ও কি কি, এছাড়াও সমাস নিয়ে বিস্তারিত সকল তথ্য। এছাড়াও জানতে পারবেন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষাগুলোতে সমাস নিয়ে আসা বিভ্রান্তকর সকল প্রশ্ন এবং সেগুলোর সঠিক উত্তর এবং রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা।

    সমাস কাকে বলে?

    বাক্যের মধ্যে পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক পদের এক শব্দে পরিণত হওয়ার নাম সমাস। এটি একটি সংযোজন প্রক্রিয়া। সমাসের প্রধান কাজ হচ্ছে সংক্ষিপ্তকরন। নতুন শব্দ গঠনের জন্য সমাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন: দেশের সেবা = দেশসেবা, নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া ইত্যাদি।

    সমাস শব্দের অর্থ:

    সমাস সংস্কৃত ভাষার একটি শব্দ। সমাস শব্দের অর্থ হচ্ছে মিলন, সংক্ষেপণ, একপদীকরণ। বাক্যে শব্দের অধিক ব্যাবহার কমানোর জন্য সমাস ব্যাবহৃত হয়।

    সমাসের বৈশিষ্ট্য:

    সমাসের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নিম্নে বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হল –

    ১। পাশাপাশি দুই বা তার অধিক শব্দ থাকতে হবে।
    ২। এসব শব্দের মধ্যে অর্থসঙ্গতি থাকতে হবে।
    ৩। এসব শব্দের মধ্যে বৃহৎ শব্দ তৈরি করার যোগ্যতা থাকতে হবে।
    ৪। নতুন শব্দ গঠন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
    ৫। একাধিক শব্দকে সংকোচন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
    ৬। শব্দগুলোর বিভক্তি লোপ পেতে হবে।

    সমাসের প্রয়োজনীয়তা:

    বাংলা ব্যকরণের সমাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিম্নে সমাসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হল:
    ১। শব্দকে সহজভাবে উচ্চারণে সহযোগিতা করে।
    ২ শব্দকে সংক্ষেপ করার মাধ্যমে সমাস ভাষার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
    ৩। বাক্যের মধ্যে অনাবশ্যক পদের ব্যবহার লোপ করে সমাসবদ্ধ পদের ব্যাবহারের মাধ্যমে বিষয়টিকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায়।
    ৪। সমাস বাক্যের অর্থকে সহজ ও সাবলীল করে তোলে।
    ৫। নতুন শব্দ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সমাসের ভূমিকা অনেক।
    ৬। ভাষায় অর্থদ্যোতনার সৃষ্টি করে বৈচিত্র্যময় দ্যোতনা এনে দেয়।

    সমাসের উপাদান:

    সমাসের উপাদান ৫টি। যথা:

    ১। সমস্তপদ / সমাসবদ্ধপদ / সমাসনিষ্পন্ন পদ
    ২। ব্যাসবাক্য / বিগ্রহ বাক্য / সমাস বাক্য
    ৩। পূর্বপদ
    ৪। পরপদ / উত্তরপদ
    ৫। সমস্যমান পদ

    সমাসের এই ৫টি উপাদানকে একত্রে প্রতীতি বলা হয়।

    সমস্ত পদ: সমাসবন্ধ বা সমাস নিষ্পন্ন পদ কে সমস্ত পদ বলে।
    সমস্যমান পদ: যে পদগুলোর মিলনে সমাস গঠিত হয় সেই প্রত্যেকটি সমাসবদ্ধ পদকে সমস্যামান পদ বলে।
    পূর্বপদ ও পরপদ: সমস্যমান পদের মধ্যে অবস্থিত প্রথম পদটিকে পূর্বপদ, এবং পরবর্তী পদকে পরপদ বা উত্তরপদ বলে। পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে অতরিক্ত কোন পদ থাকলে তাকে মধ্যপদ বলে।
    ব্যাসবাক্য / বিগ্রহ বাক্য / সমাস বাক্য: সমস্ত পদকে ভেঙ্গে যে বাক্যাংশ করা হয়, তাকে সমাসবাক্য বা ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহ বাক্য বলে।

    সমাস কত প্রকার ও কি কি

    সমাস মূলত ৬ প্রকার। যথা – 

    ১। দ্বন্দ্ব সমাস

    ২। কর্মধারয় সমাস

    ৩। তৎপুরুষ সমাস

    ৪। বহুব্রীহি সমাস

    ৫। দ্বিগু সমাস

    ৬। অব্যয়ীভাব সমাস

    সমাসের প্রকারভেদ

    ১। দ্বন্দ্ব সমাস:

    দ্বন্দ্ব শব্দের অর্থ সংঘাত বা বিবাদ হলেও সমাসের ক্ষেত্রে ‘দ্বন্দ্ব’ শব্দটি মিলন, জোড়া ও যুগল অর্থে ব্যবহৃত হয়। দা সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মা-বাবা = মা বা, দাদ

    সাদা ও কালো, কালি-কলম কালি ও কলম, রাজ বাদশা = রাজা ও বাদশা।

    দ্বন্দ্ব সমাস চেনার উপায়:

    • পূর্বপদ ও পরপদের অর্থ প্রধান।
    • পূর্বপদ ও পরপদে একই পদ বসে।
    • পূর্বপদ ও পরপদের মাঝে হাইফেন (-) বসে।
    • পূর্বপদে অপেক্ষাকৃত সম্মানিত ব্যক্তি বসে।
    • পূর্বপদে স্ত্রীবাচক ও পরপদে পুরুষবাচক শব্দ বসে।
    • ব্যাসবাক্যে সাধারণত ‘ও’ বসে।

    গঠনপ্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দ্বন্দ্ব সমাসকে ৮ ভাগে ভাগ করা যায়:

    ১। সাধারণ দ্বন্দ্ব: সাধারণত একাধিক পদ একসাথে অবস্থান করলে তাকে সাধারণ দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: কালিকলম = কালি ও কলম, লতাপাতা = লতা ও পাতা, সৈন্যসামন্ত = সৈন্য ও সামন্ত, রক্ত-মাংস = রক্ত ও মাংস ইত্যাদি।

    ২। মিলনার্থক দ্বন্দ্ব: একাধিক পদের মিলন বোঝাতে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় থাকে মিলনার্থক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন: চা-বিস্কুট = চা ও বিস্কুট, জিনপরি = জিন ও পরি, মা-বাপ = মা ও বাপ ইত্যাদি।

    ৩। সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমন্ধ বোঝায় তাকে সম্বন্ধবাচক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন: দম্পতি = জায়া ও পতি, মাসি-পিসি = মাসি ও পিসি, কাকা-কাকি = কাকা ও কাকি ইত্যাদি।

    ৪। সমার্থক দ্বন্দ্ব: পূর্বপদ ও পরপদে সমার্থক শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে সমার্থক দ্বন্দ্ব বলে। যেমন: হাট-বাজার = হাট ও বাজার, জনমানব জন ও মানব, সুখশান্তি সুখ ও শান্তি ইত্যাদি।

    ৫. বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব: পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: হিতাহিত হিত ও অহিত, অহিনকুল = অহি ও নকুল, মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা, ছোটোবড়ো = ছোটো ও বড়ো, ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ, দাকুমড়া = দা ও কুমড়া, সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ, ভরণপোষণ = ভরণ ও পোষণ ইত্যাদি।

    ৬. একশেষ দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে প্রধান পদটি অবশিষ্ট থেকে অন্য পদের লোপ হয় এবং শেষ পদ অনুসারে শব্দের রূপ নির্ধারিত হয় তাকে একশেষ দ্বন্দ্ব বলে। যেমন: আমরা = সে, তুমি ও আমি: আমাদের = তার, তোমার ও আমার; তোরা = সে ও তুই ইত্যাদি।

    ৭. বহুপদী দ্বন্দ্ব: বছ পদ মিলে যে স্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বহুপদী দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন। তেল-নুন-লাকড়ি = তেল, নুন ও লাকড়ি। নাক-কান-গলা = নাক, কান ও গলা। স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল = স্বর্গ, মর্ত্য ও পাতাল ইত্যাদি।

    ৮. অলুক দ্বন্দ্ব: যে দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদগুলোর বিভক্তি সমস্ত পদেও যুক্ত থাকে বা বিভক্তি লোপ পায় না তাকে অলুক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন। দুধে-ভাতে = দুধে ও ভাতে, হাতে-কলমে = হাতে ও কলমে, ধীরেসুস্থে = ধীরে ও সুস্থে ইত্যাদি।

    ২। দ্বিগু / দ্বিগু কর্মধারয় সমাস

    যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বলে এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু/ দ্বিগু কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: দ্বিগু = গো-র সমাহার।

    দ্বিগু / দ্বিগু কর্মধারয় সমাস চেনার উপায়:

    • পরপদের অর্থ প্রধান
    • পূর্বপদে সংখ্যা থাকবে
    • পরপদ বিশেষ্য হবে
    • সমস্তপদ বিশেষ্য হবে
    • ব্যাসবাক্যে ‘সমাহার’ শব্দটি বসবে
    • দ্বিগু সমাসের বিপরীত সমাস অব্যয়ীভাব

    ✓ বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রমিত ব্যাকরণে দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাসের মধ্যে রাখা হয়েছে। যে কারণে এটির নতুন নাম হয়েছে ‘দ্বিগু কর্মধারয়’।

    ৩। কর্মধারয় সমাস:

    বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের যে সমাস হয় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন: কাঁচকলা = কাঁচা যে কলা

    কর্মধারয় সমাস চেনার উপায়:

    • কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান।
    • বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ দ্বারা কর্মধারয় সমাস হয়।
    • সমস্তপদ দ্বারা সাধারণত কোনো গুণ বোঝায়।
    • ব্যাসবাক্যে সাধারণত যে-সে, যিনি-তিনি, ন্যায়, মতো, রূপ বসে।
    • কর্মধারয় সমাসের বিপরীত অব্যয়ীভাব।

    কর্মধারয় সমাসের প্রকারভেদ:

    কর্মধারয় সমসকে সাধারণত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

    ১। সাধারন কর্মধারয়

    ২। মধ্যপদলোপী কর্মধারয়

    ৩। উপমামূলক কর্মধারয়

    সাধারণ কর্মধারয়: মধ্যপদলোপী ও উপমামূলক কর্মধারয় সমাস ছাড়া অন্যান্য কর্মধারয় সমাসকে সাধারণ কর্মধারয় সমাস বলা হয়।

    মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: ব্যাসবাক্যের মাঝের পদ লোপ পেয়ে যে কর্মধারয় সমাস হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। উদাহরণ: সিংহাসন = সিংহ চিহ্নিত আসন , সাহিত্যসভা = সাহিত্য বিষয়ক সভা, রান্নাঘর = রান্না করার ঘর ।

    উপমামূলক কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে দোষ-গুণ বা বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য বা তুলনা করা হয় তাকে উপমামূলক কর্মধারয় সমাস বলে।

    ৪। তৎপুরুষ / কারকলোপী সমাস:

    পূর্বপদের বিভক্তি লোপে ও পরপদের অর্থ প্রধান হয়ে যে সমাস হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। মনে রাখা জরুরি যে ব্যাসবাক্যের পূর্বপদে অবশ্যই বিভক্তি থাকবে, যা সমস্তপদে লোপ পাবে এবং এই বিভক্তির নামানুসারে তৎপুরুষ সমাসের নাম হবে।

    তৎপুরুষ / কারকলোপী সমাস চেনার উপায়:

    • তৎপুরুষ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান।
    • পূর্বপদের বিভক্তি লোপে তৎপুরুষ সমাস হয়।
    • দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত বিভক্তির নাম অনুসারে হয়।

    তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ:

    তৎপুরুষ সমাস ৯ প্রকার। যথা –

    ১। দ্বিতীয়া তৎপুরুষ বা কর্মতৎপুরু

    ২। তৃতীয়া তৎপুরুষ

    ৩। চতুর্থী তৎপুরুষ

    ৪। পঞ্চমী তৎপুরুষ

    ৫। ষষ্ঠী তৎপুরুষ

    ৬। সপ্তমী তৎপুরুষ

    ৭। নঞ্ তৎপুরুষ

    ৮। উপপদ তৎপুরুষ

    ৯। অলুক তৎপুরুষ

    ১। দ্বিতীয়া তৎপুরুষ বা কর্মতৎপুরুষ: পূর্বপদে দ্বিতীয় বিভক্তি (কে) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ হয় তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – শরনিক্ষেপ – শরকে নিক্ষেপ, রথ দেখা – রথকে দেখা, সাহায্যপ্রাপ্ত – সাহায্যকে প্রাপ্ত, বিপদাপন্ন – বিপদকে আপন্ন।

    ২। তৃতীয়া তৎপুরুষ বা করণৎপুরুষ: পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ হয় তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। শ্রমলব্ধ = শ্রম দ্বারা লব্ধ, ছায়াশীতল = ছায়া দ্বারা শীতল, মধুমাখা = মধু দ্বারা মাখা।

    ৩। চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান তৎপুরুষ: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – রান্নাঘর = রান্নার জন্য ঘর, দেবভক্তি = দেবকে ভক্তি, বসতবাটী = বসতের নিমিত্তে বাটী ইত্যাদি।

    ৪। পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ: পুর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে, চেয়ে) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। সাধারণত চ্যুত, জাত, আগত, ভীত, গৃহীত, বিরত, মুক্ত, উত্তীর্ণ, পালানো, ভ্রষ্ট ইত্যাদি বোঝালে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন – বিলাতফেরত – বিলাত হতে ফেরত, স্কুল পালানো – স্কুল থেকে পালানো,

    ৫। ষষ্ঠী তৎপুরুষ বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ: পূর্বপদে ষষ্ঠী বিভক্তি (র, এর) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – চা-বাগান = চায়ের বাগান, রাজহংস = হাসের রাজা।

    ৬। সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ: পূর্বপদে সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

    ৭। নঞ্ তৎপুরুষ: নঞ্ শব্দের অর্থ ‘না’। পূর্বপদে না বাচক অব্যয় (অ, অনা, বে, বি, না, নি, গর) বসে যে তৎপুরুষ হয় তাকে নঞ্ তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন – অবিশ্বাস = নয় বিশ্বাস, অনাদর = না আদর, অজানা = নাই জানা।

    ৮। উপপদ তৎপুরুষ: যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস। যেমন – জলে চরে যা = জলাচর, জল দেয় যে = জলদ, পঙ্কে জম্নে যা = পঙ্গজ। এরুপ – সত্যবাদী, ছেলেধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, পা-চাটা, ছা-পোষা ইত্যাদি।

    ৯। অলুক / অলোপ তৎপুরুষ: ব্যাসবাক্যের বিভক্তি পূর্বপদে লোপ না পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় তাকে অলুক তৎপুরুষ সমাস বলে।

    ৫। বহুব্রীহি সমাস:

    যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন ব্যাক্তি, বস্তু, ধারনাকে বোঝায় তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: দশানন = দশ আনন (মস্তক) যার।

    বহুব্রীহি সমাস চেনার উপায়:

    • বহুব্রীহি সমাস দ্বন্দ্ব সমাসের বিপরীত
    • বহুব্রীহি সমাসে কোনো পদের অর্থই প্রধান হয় না
    • ব্যাসবাক্যে যার, যা বসে বহুব্রীহি সমাস হয়
    • বহুব্রীহি সমাস আট প্রকার।

    বহুব্রীহি সমাসের প্রকারভেদ:

    ১। সমানাধিকরণ

    ২। ব্যাধিকরন

    ৩। ব্যাতিহার

    ৪। মধ্যপদলোপী

    ৫। নঞ্

    ৬। প্রত্যয়ান্ত

    ৭। সংখ্যাবাচক

    ৮। অলুক

    ১। সমানাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষণ কিংবা পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – কানকাটা = কান কাটা যার, ঘরপোড়া = ঘর পোড়া যার।

    ২। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি: পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য হলে, অর্থাৎ পূর্বপদ ও পরপদের কোনোটাই বিশেষণ না হলে ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন – আশীবিষ = আশীতে বিষ যার, বজ্রদেহ = বজ্রতে দেহ যার।

    ৩। ব্যতিহার বহুব্রীহি: ক্রিয়ার পারস্পরিক অর্থে ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস হয়। এ সমাসে পূর্বপদে ‘আ’ এবং পরপদে ‘ই’ যত হয়। এ সমাসের পূর্বপদ ও পরপদ বিশেষ্য হয়। যেমন – হাতাহাতি = হাতে হাতে যে যুদ্ধ, কানাকানি = কানে কানে যে কথা।

    ৪। মধ্যপদলোপী বা পদলোপী বহুব্রীহি / উপমাত্মক বহুব্রীহি:

    বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যাবহৃত ব্যাক্যাংশের কোন অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন – সোনামুখী = সোনার মতো উজ্জ্বল মুখ যার, মৃগনয়না = মৃগের ন্যায় নয়ন যার।

    ৫। নঞ্ বহুব্রীহি: না-বোধক অব্যয় পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – অজ্ঞান = নেই জ্ঞাণ যার, নর্ভুল = নেই ভুল যার।

    ৬। প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – একচোখা = এক দিকে চোখ যার, একরোখা – এই দিকে রোখ যার।

    ৭। সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি: পূর্বপদ সংখ্যাবাচক, পরপদ বিশেষ্য এবং সমস্তপদ বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলে। যেমন – দশভুজ = দশভুজ যার, সপ্তবর্ণা = সপ্ত বর্ণ যার।

    ৮। অলুক বহুব্রীহি: যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের বিভক্তি পূর্বপদে লোপ পায় না তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন – মাথায়পাগড়ি = মাথায় পাগড়ি যার, গলায়গামছা = গলায় গামাছা যার।

    ৬। অব্যয়ীভাব সমাস:

    পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়ের অর্থই প্রধান হয়, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন- উপকূল = কূলের সমীপে, প্রতিদিন = দিন দিন।

    অব্যয়ীভাব সমাস চেনার উপায়:

    • অব্যয়ীভাব’ অর্থ অব্যয়ের ভাব বর্তমান।
    • অব্যয়ীভাব সমাস দ্বিগু, কর্মধারয় ও তৎপুরুষের বিপরীত।
    • অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদে উপসর্গ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে।
    • উপসর্গযোগে গঠিত প্রায় সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস।

    সমাস ও এক কথায় প্রকাশের মধ্যে পার্থক্য

    আমরা জেনেছি দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে, কিন্তু এই কথা সবসময় ঠিক নয়। দুই বা ততোধিক পদ একপদে পরিণত হয়ে সমাস না হয়ে এক কথায় প্রকাশও হতে পারে। তাই কখন দুই পদের মিলনকে সমাস বলবো আর কখন এক কথায় প্রকাশ বলবো চলুন জেনে নেই।

    সমাসএক কথায় প্রকাশ
    ১। ব্যাসবাক্যের প্রধান পদদুটি সমস্তপদে দৃশ্যমান থাকে।১। ব্যাকের সকল পদ সংকুচিত পদে দৃশ্যমান থাকে না।
    ২। মহান যে পুরুষ = মহাপুরুষ। এখানে ব্যাসবাক্যটির প্রধান পদ দুটি হচ্ছে মহান ও পুরুষ। সমস্তপদে প্রধান পদ দুটি দৃশ্যমান আছে। তাই এটি সমাস।২। যা জলে ও স্থলে চরে = উভচর। এখানে বিস্তৃত বাক্যের প্রধান পদ হচ্ছে জল, স্থল, চরা। কিন্তু সংক্ষেপিত বা সংকুচিত পদে দৃশ্যমান কেবল চরা। তাই এটি এক কথায় প্রকাশ।
    ৩। অলুক সমাস বাদে সকল সমাসই এককথায় প্রকাশের উদাহরণ।৩। এক কথায় প্রকাশ সমাসের উদাহরণ নয়।

    সমাস ও সন্ধির মধ্যে পার্থক্য

    সমাসের মতো বাংলা ব্যাকরণের সন্ধিও দুটি শব্দের মিলনে তৈরি হয়। তবুও সমাস ও সন্ধির মধ্যে রয়েছে অনেক পার্থক্য। তাই কখন দুই শব্দের মিলনকে সমাস বলবো আর কখন সন্ধি বলবো চলুন জেনে নেই।

    সন্ধিসমাস
    ১।সন্ধি ধ্বনিতত্বে আলোচিত হয়।১।সমাস শব্দতত্ত্বে আলোচিত হয়।
    ২।সন্ধিতে ধ্বনি বা বর্ণের মিলন ঘটে। ২।সমাসে পদের মিলন ঘটে।
    ৩।সন্ধি শব্দগঠনের কোন মৌলিক প্রক্রিয়া নয়।৩।সমাস শব্দ গঠনের মৌলিক প্রক্রিয়া।
    ৪।উচ্চারণের সুবিধা ও ধ্বনিগত মাধুর্য সৃষ্টি সন্ধির উদ্দেশ্য৪।বাক্যে শব্দের ব্যবহার সংক্ষেপ করা সমাসের উদ্দেশ্য।

    সমাস চেনার সহজ উপায়:

    সমাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা অর্জনের পরেও কোনটি কোন সমাস এটি সমাস চিনতে আমাদের অনেক সময় ভুল হয়ে থাকে। আপনার সমাস নিয়ে অর্জিত কোন ধারনাই কাজে আসবে না যতদিন না আপনি কোনটি কোন সমাস সেটি সঠিক ভাবে চিনতে পারবেন। আর চাকরীর পরীক্ষা সহ সকল পরীক্ষার প্রশ্নে সাধারণত সমাস নির্নয়ের প্রশ্নটিই আসতে দেখা যায়। আমরা এই অংশে খুব সহজে আপনাকে প্রতিটি সমাস চেনানোর চেষ্টা করবো।

    ১। দ্বন্দ্ব সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস ব্যাকের মাঝে ও, এবং, আর এই তিনটি শব্দ থাকে।

    ২। কর্মধারয় সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস ব্যাক্যে যে বা যিনি উল্লেখ থাকবে এবং সমস্তপদের দ্বারা তুলনা বোঝাবে।

    ৩। দ্বিগু সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস বাক্যে সংখ্যা জাতীয় শব্দ থাকবে এবং ‘সমাহার’ শব্দটি থাকবে।

    ৪। তৎপুরুষ সমাসের ক্ষেত্রে ব্যাস বাক্যে বিভক্তিসমূহ থাকবে।

    ৫। অব্যয়ীভাব সমাসের ক্ষেত্রে পূর্বপদ হিসেবে অব্যয় থাকবে।

    ৬। বহুব্রীহি সমাসের ব্যাসবাক্যে ‘যার’ শব্দটি থাকবে এবং সমস্যমান পদগুলোর নিজস্ব অর্থবাদে ভিন্নধর্মী অর্থে সমস্তপদ তৈরি হবে।

    এছাড়াও সমাস চেনার রয়েছে আরও কিছু পদ্ধতি:

    অর্থ প্রাধান্যের ভিত্তিতে সমাস চেনার উপায়:

    ১। দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদের অর্থের প্রাধান্য আছে এবং পরপদের অর্থেরও প্রধান্য আছে।

    ২। কর্মধারয়, তৎপুরুষ ও দ্বিগু সমাসে পূর্বপদের প্রাধান্য নেই কিন্তু পরপদের প্রাধান্য আছে।

    ৩। অব্যয়ীভাব সমাসে পূর্বপদের প্রাধান্য আছে কিন্তু পরপদের প্রাধান্য নেই।

    ৪। বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের প্রাধান্য নাই এবং পরপদেরও প্রাধান্য নাই।

    ব্যাংলা ব্যাকরণের সমাস টপিকে ভালো করার উপায়:

    • প্রথমেই ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই থেকে সমাস অংশটি থেকে সমাস সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন।
    • সমাসের গঠন প্রক্রিয়া, চেনার উপায় সহ বিভিন্ন টেকনিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা অর্জনের জন্য Live MCQ বাংলাবিদ ব্যাকরণ বই টি অনুসরণ করতে পারেন।
    • সমাস নিয়ে বিগত সময়গুলোতে চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো থেকে ধারনা অর্জন করুন।

    এছাড়াও বাংলা ব্যাকরণের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশের প্রায় ৬০ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে। শুধু তাই নয় Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং অবস্থান যাচাই করুন।

    সমাস নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর:

    প্রশ্ন: বেতার কোন সমাস?

    উত্তর: বেতার শব্দটি নঞ্ বহুব্রীহি সমাস। বিশেষ্য পূর্বপদের আগে নঞ্ (না অর্থবোধক) অব্যয় যোগ করে যে বহুব্রীহি সমাস গঠিত হয় তাকে নঞ্ বহুব্রীহি সমাস বলে।

    প্রশ্ন: ইত্যাদি কোন সমাস?

    উত্তর: ইতি হতে আদি = ইত্যাদি একটি পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস। পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে তৎপুরুষ সমাস হয় থাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

    প্রশ্ন: মহারাজ কোন সমাস?

    উত্তর: মহারাজ কর্মধারয় সমাসের একটি উদাহরণ।

    প্রশ্ন: বিলাত ফেরত কোন সমাস?

    উত্তর: বিলাত ফেরত ততপুরুষ সমাসের উদাহরণ।  বিলাত থেকে ফেরত = বিলাতফেরত পূর্বপদে পঞ্চমি বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

    প্রশ্ন: কলের গান কোন সমাস?

    উত্তর: কলের গান একটি অলুক তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

    প্রশ্ন: গায়ে হলুদ কোন সমাস?

    উত্তর: গায়ে হলুদ অলুক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদের কোন পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে।

    প্রশ্ন: সেতার কোন সমাস?

    উত্তর: সেতার সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। যে সমাসের পূর্বপদ সংখ্যাবাচক তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস বলে। সে (তিন) তার যে যন্ত্রের = সেতার।

    প্রশ্ন: তেপান্তর কোন সমাস?

    উত্তর: তেপান্তর দ্বিগু সমাসের উদাহরণ। তেপান্তর = তে (তিন) প্রান্তরের সমাহার। যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাচার বুঝায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।

    প্রশ্ন: মুজিববর্ষ কোন সমাস?

    উত্তর: মুজিববর্ষ = মুজিবের স্মরণে যে বর্ষ একটি  মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস। যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদের লোপ হয় তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে। 

    প্রশ্ন: চৌচালা কোন সমাস?

    উত্তর: চৌচালা বহুব্রীহি সমাসের একটি উদাহরণ। যে সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে তৃতীয় অর্থ প্রকাশ করে তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।

    প্রশ্ন: করপল্লব কোন সমাস?

    উত্তর: করপল্লব উপমিত কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।

    প্রশ্ন: শশব্যস্ত কোন সমাস?

    উত্তর: শশব্যস্ত উপমান কর্মধারয় সমাসজাত শব্দ। এর ব্যাসবাক্য শশের ন্যায় ব্যস্ত।

    প্রশ্ন: মৌমাছি কোন সমাস?

    উত্তর: মৌমাছি একটি মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। মৌ-সংগ্রহ করে যে মাছি = মৌমাছি।

  • অফিস সহকারী কি ও পদের বিস্তারিত পরিচয়

    অফিস সহকারী কি ও পদের বিস্তারিত পরিচয়

    বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থায় অফিস সহকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। দেশের সকল সরকারি দফতর, মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে এই পদধারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুচারু রাখতে অফিস সহকারীর ভূমিকা অপরিহার্য।

    যারা সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য অফিস সহকারী পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা জরুরি। আজকের আর্টিকেলে অফিস সহকারী পদের পরিচয়, কাজের ধরন, পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

    অফিস সহকারী কি? 

    অফিস সহকারী হলো বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বাজেটভুক্ত একটি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি পদ। জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত একটি ক্লেরিক্যাল বা কেরানি-সংশ্লিষ্ট পদ, যেখানে কম্পিউটার অপারেটিং, টাইপিং, ফাইল ব্যবস্থাপনা ও দাফতরিক সহায়তামূলক কাজ সম্পাদন করা হয়।

    বিভিন্ন সরকারি অফিসে এই পদের নামকরণ একটু ভিন্ন হতে পারে- যেমন “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” বা “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর”। তৃতীয় শ্রেণির চাকরিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির প্রস্তুতি ব্লগটি দেখুন। 

    বিষয়বিবরণ
    পদমর্যাদাতৃতীয় শ্রেণি
    গ্রেড১৩তম – ১৬তম
    নিয়োগকর্তাবাংলাদেশ সরকার
    শিক্ষাগত যোগ্যতাএইচএসসি বা সমমান

    অফিস সহকারীর কাজ কি?

    অফিস সহকারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বহুমুখী। প্রতিটি সরকারি অফিসে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পাদনে তারা সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। তাদের প্রধান কাজগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

    • কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজিতে চিঠি, নোটিশ, প্রতিবেদন টাইপ এবং মুদ্রণ করা।
    • অফিসের নথিপত্র, ফাইল ও রেকর্ড সংগঠিত করা এবং সংরক্ষণ করা।
    • ডাক, ই-মেইল ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পরিচালনা করা।
    • অফিস আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, স্মারকলিপি তৈরি ও বিতরণ করা।
    • তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংকলন ও ডেটা এন্ট্রি করা এবং হালনাগাদ রাখা।
    • ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দাফতরিক সহায়তা প্রদান করা।
    • বিভিন্ন মিটিং বা সভার কার্যবিবরণী (Minutes) প্রস্তুত করা।
    • দর্শনার্থীদের সাথে প্রাথমিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাদের সহায়তা করা।
    • সরকারি হিসাবপত্র ও বাজেট-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা।
    • অফিসের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা।

    অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পার্থক্য

    অনেকেই “অফিস সহকারী” ও “অফিস সহায়ক” পদ দুটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কিন্তু এই দুটি পদ সম্পূর্ণ আলাদা- পদমর্যাদা, কাজের ধরন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সবদিক থেকেই পার্থক্য রয়েছে।

    বিষয়অফিস সহকারীঅফিস সহায়ক
    পদমর্যাদাতৃতীয় শ্রেণিচতুর্থ শ্রেণি
    গ্রেড১৩তম – ১৬তম১৭তম – ২০তম
    কাজের ধরনক্লেরিক্যাল / কম্পিউটার কাজশারীরিক / সহায়তামূলক কাজ
    শিক্ষাগত যোগ্যতাএইচএসসি বা সমমানঅষ্টম বা এসএসসি
    দায়িত্বটাইপিং, ফাইলিং, ডেটা এন্ট্রিডাক বিতরণ, অফিস পরিষ্কার
    পূর্বতন নামক্লার্ক / কেরানিপিয়ন / এমএলএসএস

    অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতি

    অফিস সহকারী পদ থেকে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে, তবে তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দফতরের নীতিমালা, পদ শূন্যতা ও কর্মীর কর্মদক্ষতার উপর। সাধারণ পদোন্নতির ধারাক্রম নিচে দেওয়া হলো:

    ধাপপদের নামগ্রেড / মন্তব্য
    ১মঅফিস সহকারীগ্রেড ১৩–১৬ | তৃতীয় শ্রেণি | প্রারম্ভিক পদ
    ২য়উচ্চমান সহকারী / সিনিয়র সহকারীগ্রেড ১১–১২ | বিভাগীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে
    ৩য়অফিস সুপারিনটেন্ডেন্টগ্রেড ৯–১০ | দ্বিতীয় শ্রেণি
    ৪র্থপ্রশাসনিক কর্মকর্তাগ্রেড ৭–৮ | দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতায়

    পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা পাস করা, নির্ধারিত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক থাকা আবশ্যক।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর 

    নিম্নে অফিস সহকারী পদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলো এবং উত্তর দেওয়া হলো

    অফিস সহকারী কত তম গ্রেড?

    অফিস সহকারী ১৬ তম গ্রেড। 

    অফিস সহকারী মানে কি? 

    “অফিস সহকারী” বলতে এমন একজন কর্মীকে বোঝায়, যিনি একটি অফিসের দৈনন্দিন কাজকর্মে সাহায্য করেন।

    অফিস সহকারী এর কাজ কি? 

    অফিস সহকারী ফাইল সাজানো ও সংরক্ষণ, ডকুমেন্ট টাইপ বা কপি করা এবং চিঠিপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। পাশাপাশি অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে।

    উপসংহার

    অফিস সহকারী পদটি বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনের একটি মেরুদণ্ডস্বরূপ। এই পদের মাধ্যমে সরকারি সেবা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে এই পদ থেকে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুযোগ উন্মুক্ত হয়।

    সুতরাং যারা সরকারি চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য অফিস সহকারী পদ একটি সম্মানজনক ও সুরক্ষিত সূচনাবিন্দু হতে পারে। সঠিক প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে এই পদ থেকে ধাপে ধাপে উপরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আশা করি, অফিস সহকারী পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এবার, অহিস সহকারী চাকরির প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। 

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- পরিচিতি, কার্যক্রম ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- পরিচিতি, কার্যক্রম ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া

    যেকোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সব কিছু এই মন্ত্রণালয় করে থাকে। তবে অনেকেই এই মন্ত্রণালয়ের কাজ, কাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। আপনি যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করতে চান, তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

    আজকের এই ব্লগে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং সকল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনা করব। আশা করি, সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এই লেখাটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড হিসেবে কাজ করবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচিতি

    বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এই মন্ত্রণালয়টি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।

    মন্ত্রণালয়টি ঢাকার সচিবালয়ে অবস্থিত এবং একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। মন্ত্রীর অধীনে একজন সিনিয়র সচিব বা সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর ও বিভাগ। বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহ ব্লগটি দেখতে পারেন।  

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রধান প্রতিষ্ঠানসমূহ

    • বাংলাদেশ পুলিশ — দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
    • র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) — অপরাধ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী
    • আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) — গ্রামীণ নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী
    • কারা অধিদপ্তর — দেশের কারাগার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে
    • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স — অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
    • ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর — বিদেশ গমন ও পাসপোর্ট সেবা

    এই প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে কাজ করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূলত দুটি বিভাগে বিভক্ত- জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ কী

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। শুধু পুলিশ পরিচালনা নয়, এই মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বহন করে। নিচে মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যক্রমগুলো তুলে ধরা হলো: 

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা 

    দেশের প্রতিটি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা মন্ত্রণালয়ের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ কাজটি পরিচালিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কার্যক্রম দমনে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন  করে।

    সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হলো- বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা, পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদান এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং মানব পাচার প্রতিরোধেও মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

    কারা ব্যবস্থাপনা

    আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তিদের কারাগারে রাখা এবং তাদের সংশোধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কারাগার পরিচালনা, কয়েদিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

    দুর্যোগ ও অগ্নিনির্বাপণ

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগুন লাগা, ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়। এছাড়াও নাগরিকদের দুর্যোগকালীন সচেতনতা বৃদ্ধিতেও মন্ত্রণালয় কাজ করে।

    স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পরিচালনা

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) পরিচালনার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদান করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান পদসমূহ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নানা ধরনের পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। পদগুলো মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত — কর্মকর্তা পদ (১ম ও ২য় শ্রেণি) এবং কর্মচারী পদ (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি)।

    পদের নামশ্রেণিনিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ
    সচিব / সিনিয়র সচিব১ম শ্রেণিরাষ্ট্রপতি / মন্ত্রিপরিষদ
    অতিরিক্ত সচিব১ম শ্রেণিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
    যুগ্ম সচিব১ম শ্রেণিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
    উপসচিব১ম শ্রেণিপিএসসি / বিসিএস ক্যাডার
    সিনিয়র সহকারী সচিব২য় শ্রেণিপিএসসি
    সহকারী সচিব২য় শ্রেণিপিএসসি
    সাঁটলিপিকার (স্টেনোগ্রাফার)৩য় শ্রেণিমন্ত্রণালয়
    অফিস সহকারী / কম্পিউটার অপারেটর৩য় শ্রেণিমন্ত্রণালয়
    অফিস সহায়ক / এমএলএসএস৪র্থ শ্রেণিমন্ত্রণালয়

    এছাড়াও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো- যেমন পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস-  তাদের নিজস্ব পদক্রমে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়। পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল থেকে শুরু করে ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) পর্যন্ত বিভিন্ন পদ রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়োগ প্রক্রিয়া

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হয়। পদের শ্রেণিভেদে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন হয়ে থাকে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাধারণত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.mha.gov.bd) প্রকাশিত হয়।

    ধাপ ১: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

    মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদনের তারিখ উল্লেখ থাকে।

    ধাপ ২: অনলাইনে আবেদন

    প্রার্থীরা সাধারণত অনলাইনে আবেদন করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেলিটক সিমের মাধ্যমে বা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং পরীক্ষার ফি জমা দিতে হয়।

    ধাপ ৩: লিখিত পরীক্ষা

    আবেদন বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ১ম শ্রেণির পদের জন্য বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ধাপ ৪: শারীরিক পরীক্ষা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

    পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের মতো বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। উচ্চতা, বুকের মাপ, দৌড় ও শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়া যায় না।

    ধাপ ৫: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, মনোভাব, দেশ সম্পর্কে জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়।

    ধাপ ৬: পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সব ধাপে উত্তীর্ণ হলে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর মাধ্যমে হয়।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ কী কী?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, পুলিশ ও আনসার বাহিনী পরিচালনা করা, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা প্রদান করা, কারাগার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা, ফায়ার সার্ভিস পরিচালনা করা এবং দেশের নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পদ কোনটি?

    উত্তর: প্রশাসনিক দিক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তার পদ হলো সিনিয়র সচিব বা সচিব। তবে রাজনৈতিকভাবে মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    উপসংহার

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক কার্যক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়গুলোর একটি। এই মন্ত্রণালয় শুধু পুলিশ পরিচালনা নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোয় পরিচালনা করে।

    যারা এই মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করতে আগ্রহী, তাদের উচিত নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া।

    মনে রাখবেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি মানে শুধু একটি পেশা নয়- এটি দেশের নাগরিকদের সেবা করার এবং জাতীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখার একটি মহৎ সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো যোগ্য প্রার্থী এই মন্ত্রণালয়ে তার কাঙ্ক্ষিত পদে নিযুক্ত হতে পারেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সকল সরকারী চাকরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।