সাব ইন্সপেক্টর (Sub Inspector বা SI) হলো বাংলাদেশ পুলিশের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদ, যেখানে মামলার তদন্ত ও থানা পরিচালনা মূল দায়িত্ব। বিসিএস ছাড়াই সরাসরি পুলিশ বিভাগে অফিসার পদে প্রবেশের এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পথ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ, রেশন সুবিধা ও নিরাপদ ক্যারিয়ার গ্রোথ এই পদটিকে প্রতি বছর লক্ষাধিক প্রার্থীর পছন্দের শীর্ষে রাখে।
SI job preparation শুধু বই পড়ে সম্ভব নয়। এখানে শারীরিক ফিটনেস, লিখিত পরীক্ষায় দক্ষতা এবং কম্পিউটার সক্ষমতা তিনটিতেই আলাদাভাবে প্রস্তুত হতে হয়। এই গাইডে আমরা sub inspector exam preparation-এর প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
সাব ইন্সপেক্টর পদে আবেদনের যোগ্যতা
Sub inspector job preparation শুরু করার আগে যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমান।
শারীরিক যোগ্যতা:
যোগ্যতা
পুরুষ প্রার্থী
নারী প্রার্থী
উচ্চতা
ন্যূনতম ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি
ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি
বুকের মাপ
স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি
প্রযোজ্য নয়
দৃষ্টিশক্তি
৬/৬
৬/৬
BMI
অনুমোদিত পরিমাপে
অনুমোদিত পরিমাপে
অন্যান্য যোগ্যতা:
বয়স ১৯ থেকে ২৭ বছর (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য)
বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক
অবিবাহিত
কম্পিউটার চালনায় দক্ষ
সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়া: ১১টি ধাপ
Bangladesh police sub inspector selection সম্পন্ন হয় মোট ১১টি ধাপে। প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কোনো ধাপে অপ্রস্তুত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
Sub inspector exam preparation-এ সফল হতে হলে শারীরিক ও একাডেমিক প্রস্তুতি একসাথে চালাতে হয়। নিচের ৯০ দিনের কাঠামো অনুসরণ করলে দুটো দিকই সামলানো সহজ হয়।
প্রথম ৩০ দিন: শারীরিক প্রস্তুতির ভিত্তি গড়া
প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে দৌড় দিয়ে শুরু করুন। প্রথম সপ্তাহে ৫০০-৭০০ মিটার দৌড়ান, তারপর প্রতি সপ্তাহে ২০০-৩০০ মিটার বাড়ান। এই পর্যায়ে লক্ষ্য হলো সহনশীলতা তৈরি করা, গতি পরে আসবে। পুশআপ ও সিট আপও প্রতিদিন শুরু করুন, প্রথম দিকে কম হলেও সমস্যা নেই।
দৈনিক রুটিন (প্রথম ৩০ দিন):
ভোর ৫.৩০: দৌড় + স্ট্রেচিং (৪৫ মিনিট)
সকাল ১০-১২: বাংলা ও গণিত পড়া
বিকাল ৪-৫: পুশআপ, সিট আপ, জাম্প অনুশীলন
রাত ৮-১০: ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান
পরের ৩০ দিন: শারীরিক মানোন্নয়ন ও লিখিত প্রস্তুতির গভীরে
এই পর্যায়ে দৌড়ের লক্ষ্যমাত্রা ১,৬০০ মিটারের কাছাকাছি নিয়ে আসতে হবে। ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং শুরু করুন, কারণ এই দুটো একদম নতুন দক্ষতা এবং শেখার জন্য সময় লাগে। লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি বিষয় পদ্ধতিগতভাবে পড়া শুরু করুন।
শেষ ৩০ দিন: মক টেস্ট ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি
এই পর্যায়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বেঁধে PET ইভেন্টের অনুশীলন করুন এবং বিগত বছরের SI লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন। প্রতি সপ্তাহে একটি করে পূর্ণাঙ্গ Mock Test দিন। এই মাসেই OMR শিটে অনুশীলন করার অভ্যাস শুরু করুন।
সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
লিখিত পরীক্ষায় মোট ২৫০ নম্বর। এটিই চাকরি পাওয়ার মূল নিয়ামক।
বিষয়
পূর্ণমান
ইংরেজি ও বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন
১০০
সাধারণ জ্ঞান ও গণিত
১০০
মনস্তত্ত্ব
৫০
বাংলা (৫০ নম্বর)
বাংলায় রচনা (১০-১৫ নম্বর), ভাবসম্প্রসারণ (১০ নম্বর), ব্যাকরণ (১০ নম্বর) এবং অনুবাদ (১০-১৫ নম্বর) থেকে প্রশ্ন আসে। রচনায় পুলিশ-সম্পর্কিত, মুক্তিযুদ্ধ ও সমসাময়িক জাতীয় বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকরণে এক কথায় প্রকাশ, বাগধারা, সন্ধি, বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ নিয়মিত আসে।
ইংরেজি (৫০ নম্বর)
Essay (১০-১৫ নম্বর), Grammar (১০ নম্বর), Letter (১০ নম্বর) ও Translation (১০-১৫ নম্বর) মূল অংশ। Grammar-এ Fill in the gap, Idioms and Phrases, Parts of Speech, Article ও Tense থেকে বেশি প্রশ্ন আসে। ইংরেজি প্রস্তুতির জন্য English Wizard Grammar অনুসরণ করা যেতে পারে।
সাধারণ জ্ঞান (৫০ নম্বর)
বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন (২০ নম্বর), সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (২০ নম্বর), টীকা (১০ নম্বর) এই কাঠামোয় থাকে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, মুক্তিযুদ্ধ, মেগা প্রকল্প, পুলিশ-সম্পর্কিত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পূর্ণরূপ বিশেষভাবে দেখে যেতে হবে।
গণিত (৫০ নম্বর)
পাটিগণিত (ন্যূনতম ২০ নম্বর) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ল.সা.গু/গ.সা.গু, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত, ঐকিক নিয়ম: এই টপিকগুলো প্রতিবারই আসে। বীজগণিত থেকে উৎপাদক, সমীকরণ ও সূচক থেকে ১০-২০ নম্বর আসতে পারে।
মনস্তত্ত্ব (৫০ নম্বর)
বিসিএস মানসিক দক্ষতার টপিকের সাথে অনেকটা মিলে যায়। সাদৃশ্য বিচার, সাংকেতিক বিন্যাস, গাণিতিক যুক্তি, অসম্ভাব্যতা বিচার ও বর্ণবিন্যাস থেকে প্রশ্ন আসে। কিছু প্রশ্ন MCQ, কিছু লিখিত উত্তরে।
লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিগত বছরের প্রশ্নের ভূমিকা
Sub inspector written exam preparation-এ বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। প্রশ্নের প্যাটার্ন অনেকটা একই থাকে, তাই আগের বছরের প্রশ্ন ভালোভাবে আয়ত্ত করলে পরীক্ষায় পরিচিত ধরনের প্রশ্ন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন PDF এক জায়গায় সংগ্রহ করে নিয়মিত অনুশীলন করুন।
Live MCQ™ দিয়ে SI Exam Preparation যেভাবে আরও কার্যকর হয়
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষায় শুধু SI-এর জন্য আলাদা প্যাকেজ না থাকলেও Live MCQ™-এর একটি প্যাকেজেই SI লিখিত পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রস্তুতি সম্ভব। এটা একটা বড় সুবিধা, কারণ অনেক প্রার্থীই SI-এর পাশাপাশি BCS, Bank বা অন্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি একসাথে নিচ্ছেন, এবং এক প্যাকেজেই সব কভার হয়।
টপিক-ভিত্তিক অনুশীলন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান আলাদা আলাদাভাবে অনুশীলন করা যায়, ফলে দুর্বল বিষয় দ্রুত চিহ্নিত হয়
Live Exam: প্রতিদিনের লাইভ পরীক্ষায় হাজার হাজার প্রার্থীর সাথে অংশ নিলে নিজের প্রকৃত অবস্থান বোঝা যায়
OMR ফিচার: বাস্তব পরীক্ষার মতো OMR পদ্ধতিতে অনুশীলনের সুযোগ থাকে
Performance Analysis: প্রতিটি পরীক্ষার পর বিষয়ভিত্তিক রিপোর্ট দেখে পরবর্তী পড়াশোনা পরিকল্পনা করা যায়
প্রশ্নব্যাংক: ৬.৫ লাখের বেশি MCQ, ব্যাখ্যাসহ সমাধান
সাব ইন্সপেক্টর পদ ১০ম গ্রেডভুক্ত (দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা)।
বেতন: DMP পোস্টিংয়ে ৩০,০০০ টাকার বেশি, DMP-এর বাইরে ২৮,০০০ টাকার বেশি
রেশন: চাল, ডাল, তেল, চিনি এবং ঈদে বিশেষ রেশন
পোশাক: বছরে দুই সেট পুলিশ পোশাক, জুতা, মশারি, তোয়ালেসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী
UN মিশন: ৫ বছর চাকরির পর SAT Mission-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ, প্রতিদিন ১৪৩ USD ভাতায় বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় সম্ভব। চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ ৩টি SAT Mission করা যায়
পদোন্নতি: সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত SI-রা ৫ বছর পর Inspector পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় বসতে পারেন
সাব ইন্সপেক্টর ও ASI: পার্থক্য কী?
SI (Sub Inspector) এবং ASI (Assistant Sub Inspector) দুটো আলাদা পদ। SI সরাসরি নিয়োগ পদ যেখানে স্নাতক লাগে, ASI সাধারণত কনস্টেবল থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে বা আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পায়। বাংলাদেশ পুলিশ ASI নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে আলাদাভাবে জানা যাবে।
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
Sub inspector exam preparation কোথা থেকে শুরু করব? প্রথমে যোগ্যতা যাচাই করুন, বিশেষ করে শারীরিক মাপ। তারপর একসাথে দৌড়ানোর অনুশীলন এবং লিখিত পরীক্ষার পড়াশোনা শুরু করুন। PET-এর জন্য কমপক্ষে ৩ মাস শারীরিক অনুশীলন প্রয়োজন।
সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেলে পাস করা যায়? নির্দিষ্ট কাট মার্ক নেই, মোট ২৫০ নম্বরে উত্তীর্ণদের মধ্যে শীর্ষ প্রার্থীদের বাছাই করা হয়। তাই সব বিষয়েই ভালো নম্বরের চেষ্টা করতে হবে।
Physical Endurance Test-এ প্রস্তুতির জন্য কতদিন লাগে? ন্যূনতম ৬০-৯০ দিনের নিয়মিত অনুশীলন দরকার। বিশেষ করে দৌড়, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং নতুনদের জন্য আলাদা সময় নেয়।
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষায় মনস্তত্ত্ব অংশে কীভাবে ভালো করব? বিসিএস মানসিক দক্ষতার প্রশ্নব্যাংক থেকে নিয়মিত অনুশীলন করলেই এই অংশের প্রস্তুতি অনেকটা হয়ে যায়। সাদৃশ্য বিচার, গাণিতিক যুক্তি ও সাংকেতিক বিন্যাসের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিন।
SI এবং বিসিএস পুলিশ ক্যাডার প্রস্তুতি কি একসাথে নেওয়া যায়? হ্যাঁ। লিখিত পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রায় একই: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান। তাই BCS প্রস্তুতি নিলে SI লিখিত পরীক্ষাও ভালো হয়, শুধু শারীরিক প্রস্তুতি আলাদাভাবে নিতে হয়।
সাব ইন্সপেক্টর কম্পিউটার পরীক্ষায় কী কী আসে? MS Word, MS Excel, Web Browsing এবং বেসিক Troubleshooting দক্ষতা দেখা হয়। বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং গতিও গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
Sub inspector exam preparation একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া যেখানে শারীরিক ফিটনেস ও একাডেমিক দক্ষতা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। ৯০ দিনের রুটিন মেনে শুরু থেকেই দৌড়, পুশআপের অনুশীলন এবং লিখিত প্রস্তুতি একসাথে চালিয়ে গেলে প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করা সম্ভব। বিগত বছরের প্রশ্ন নিয়মিত সমাধান করুন এবং প্রতিটি ভুল থেকে শিখুন।
যারা লিখিত পরীক্ষার জন্য structured MCQ অনুশীলন শুরু করতে চান, আজই Live MCQ™ অ্যাপ ডাউনলোড করে ফ্রি ট্রায়াল শুরু করতে পারেন।
সাব ইন্সপেক্টর (Sub Inspector বা SI) পদের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে সবার আগে সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। ২০২১ সালে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন নীতিমালায় SI পরীক্ষার কাঠামোয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে, বিশেষত মনস্তত্ত্বে নম্বর বেড়েছে এবং পাটিগণিতের জায়গায় সাধারণ গণিত যুক্ত হয়েছে। পুরনো তথ্য দিয়ে প্রস্তুতি নিলে সেই পরিবর্তনগুলো বাদ পড়ে যায়, তাই সর্বশেষ আপডেট সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়াটা জরুরি।
এই আর্টিকেলে বাংলাদেশ পুলিশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (police.gov.bd) এবং ২০২১ সালের নতুন নিয়োগ নীতিমালার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ SI written exam syllabus ও বিষয়ভিত্তিক মানবণ্টন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
একনজরে সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পর্যায়ে মোট তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়। দুই দিনে মোট ২৫০ নম্বরের লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষার পর আলাদাভাবে বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা হয়।
বিষয়
পূর্ণমান
পরীক্ষার দিন
বাংলা ও ইংরেজি রচনা ও কম্পোজিশন
১০০
১ম দিন
সাধারণ জ্ঞান ও গণিত
১০০
২য় দিন
মনস্তত্ত্ব
৫০
২য় দিন
বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা
৫০
আলাদা দিন
মোট
৩০০
২০২১ সালের নতুন নীতিমালায় যা পরিবর্তন হয়েছে:
আগে মনস্তত্ত্বে ২৫ নম্বর ছিল, এখন ৫০ নম্বর
আগে পাটিগণিত ছিল, এখন সাধারণ গণিত (বীজগণিত ও জ্যামিতি সহ)
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, তবেই মৌখিক পরীক্ষায় বসা যাবে
বিস্তারিত সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন
বাংলা বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন (৫০ নম্বর)
SI লিখিত পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা অংশে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে নিচের প্যাটার্ন দেখা যায়:
বিষয়
অন্তর্ভুক্ত টপিক
আনুমানিক নম্বর
রচনা
সমসাময়িক, জাতীয় সমস্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও পুলিশ-সম্পর্কিত বিষয়
প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম
৫-১০
অনুবাদ
ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ
১০-১৫
প্রস্তুতির পরামর্শ: রচনায় পুলিশ সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিশেষভাবে দেখে রাখুন, যেমন বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ইত্যাদি।
ইংরেজি বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন (৫০ নম্বর)
SI লিখিত পরীক্ষার প্রথম দিনে ইংরেজি অংশে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
বিষয়
অন্তর্ভুক্ত টপিক
আনুমানিক নম্বর
Essay
সমসাময়িক ও জাতীয় বিষয়, পুলিশ ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত
১০-১৫
Passage/Comprehension
Passage পড়ে ৫টি প্রশ্নের উত্তর
১০
Grammar
Fill in the gap, Idioms and Phrases, Parts of Speech, Article, Tense, Preposition, Sentence Correction
১০
Letter
Formal letter writing
১০
Translation
বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ
১০-১৫
প্রস্তুতির পরামর্শ: Grammar-এ Appropriate Preposition, Idioms and Phrases এবং Vocabulary-তে বেশি মনোযোগ দিন। Translation-এ শব্দে শব্দে না করে ভাব বুঝে স্বাভাবিক ইংরেজিতে প্রকাশ করার অভ্যাস করুন।
সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন (৫০ নম্বর)
দ্বিতীয় দিনে সাধারণ জ্ঞান অংশে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
বিষয়
অন্তর্ভুক্ত টপিক
আনুমানিক নম্বর
বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন
বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (প্রতিটি ১০ নম্বর)
২০
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে ৫/১০টি প্রশ্ন
২০
টীকা
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত টীকা
১০
পূর্ণরূপ
গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত রূপের বিস্তারিত
মাঝে মাঝে
গুরুত্বপূর্ণ টপিক: মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প, সংবিধান, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়, পুলিশ-সম্পর্কিত তথ্য (পুলিশের বিভিন্ন শাখা, দায়িত্ব), গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্ণরূপ।
গণিত বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন (৫০ নম্বর)
দ্বিতীয় দিনে গণিত অংশে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। ২০২১ সালের নতুন নীতিমালায় শুধু পাটিগণিতের পরিবর্তে সাধারণ গণিত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বীজগাণিতিক সূত্র, উৎপাদক, মান নির্ণয়, সরল ও দ্বিপদী সমীকরণ, সূচক, লগারিদম
১০-২০
জ্যামিতি
গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য, পরিমিতি (ক্ষেত্রফল ও আয়তন), বেসিক জ্যামিতিক সংজ্ঞা
০-১০
প্রস্তুতির পরামর্শ: পাটিগণিত অংশে সবচেয়ে বেশি নম্বর আসে। শতকরা, লাভ-ক্ষতি ও সুদকষা থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন আসে, তাই এই টপিকগুলোতে বাড়তি মনোযোগ দিন।
মনস্তত্ত্ব বিষয়ের সিলেবাস ও মানবণ্টন (৫০ নম্বর)
২০২১ সালের নতুন নীতিমালায় মনস্তত্ত্বে নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। দ্বিতীয় দিনে এই পরীক্ষা হয়। কিছু প্রশ্ন MCQ (বৃত্ত ভরাট), কিছু লিখিত উত্তরে।
টপিক
বিস্তারিত
ভাষাগত যুক্তি
শব্দ সম্পর্ক, সাদৃশ্য বিচার (Analogy)
সাংকেতিক বিন্যাস
বর্ণ ও সংখ্যার প্যাটার্ন, কোড-ডিকোড
গাণিতিক যুক্তি
সংখ্যা সিরিজ, গাণিতিক সম্পর্ক
অসম্ভাব্যতা বিচার
Odd one out, শ্রেণিকরণ
বর্ণবিন্যাস ও শব্দ গঠন
অক্ষর সাজানো, নতুন শব্দ তৈরি
স্থান সম্পর্ক
দিকনির্ণয়, দূরত্ব ও অবস্থান
সাধারণ জ্ঞান
পুলিশ ও সাম্প্রতিক বিষয় সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন
প্রস্তুতির পরামর্শ: মনস্তত্ত্বের প্যাটার্ন বিসিএস মানসিক দক্ষতার সাথে অনেকটা মিলে যায়। বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন ব্যাংক থেকে মানসিক দক্ষতা অংশ নিয়মিত অনুশীলন করলে এই অংশেও ভালো করা সম্ভব।
বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষার সিলেবাস (৫০ নম্বর)
লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় পাস করলেই কেবল মৌখিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ মেলে।
মৌখিক পরীক্ষায় যা যা জিজ্ঞেস করা হয়:
বাংলাদেশের ইতিহাস, সংবিধান ও পুলিশ সম্পর্কিত বিষয়
জাতিসংঘ সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য
ইংরেজিতে দক্ষতা যাচাই, ২-৩টি অনুবাদ
প্রার্থীর নিজ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, দর্শনীয় স্থান
পুলিশ সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত প্রশ্ন
বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্ন
প্রার্থীর অনার্সের বিষয়ের মৌলিক প্রশ্ন
কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষা (Qualifying)
এটি qualifying পরীক্ষা, পৃথকভাবে নম্বর যোগ হয় না তবে উত্তীর্ণ না হলে মৌখিক পরীক্ষায় বসা যাবে না।
MS Word (বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং গতি)
MS Excel (বেসিক)
Web Browsing
Basic Troubleshooting
অফিশিয়াল সোর্স
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য নিচের অফিশিয়াল সোর্সগুলো অনুসরণ করুন:
নতুন সার্কুলার প্রকাশিত হলে সেখানে উল্লিখিত সিলেবাস ও মানবণ্টন চূড়ান্ত হিসেবে ধরতে হবে। SI লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যালোচনা করলে প্রতিটি বিষয়ের প্যাটার্ন আরও স্পষ্ট হয়।
Live MCQ™ দিয়ে SI সিলেবাস অনুযায়ী প্রস্তুতি
সিলেবাস জানা হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো সেই অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলন। Live MCQ™-এ এক প্যাকেজেই SI লিখিত পরীক্ষার সব বিষয়ের প্রস্তুতি সম্ভব। কারণ বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব এই পাঁচটি বিষয়ই BCS-সহ অন্যান্য সরকারি চাকরির সাথে অনেকটা মিলে যায়।
টপিক-ভিত্তিক অনুশীলন: সিলেবাসের প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করা যায়, দুর্বল জায়গা দ্রুত চিহ্নিত হয়
প্রশ্নব্যাংক: ৬.৫ লাখের বেশি MCQ, সঠিক রেফারেন্সসহ ব্যাখ্যা
OMR শিটে অনুশীলন: মনস্তত্ত্বের MCQ অংশের জন্য OMR ফিচার বিশেষভাবে কাজে আসে
Performance Analysis: প্রতিটি পরীক্ষার পর কোন বিষয়ে কতটা দুর্বলতা আছে তা স্পষ্টভাবে দেখা যায়
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
SI লিখিত পরীক্ষায় মোট কত নম্বর? ২০২১ সালের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় মোট ২৫০ নম্বর (বাংলা+ইংরেজি ১০০, সাধারণ জ্ঞান+গণিত ১০০, মনস্তত্ত্ব ৫০)। এর পর বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় আরও ৫০ নম্বর, সর্বমোট ৩০০ নম্বর।
SI পরীক্ষার সিলেবাস কি BCS-এর মতো? অনেকটা মিলে যায়। বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান ও গণিত উভয় পরীক্ষায় আছে। তবে SI পরীক্ষায় মনস্তত্ত্ব আলাদাভাবে ৫০ নম্বরে আছে এবং শারীরিক পরীক্ষা (PET) SI-তে বাধ্যতামূলক।
২০২১ সালের নতুন নীতিমালায় কী পরিবর্তন এসেছে? দুটো বড় পরিবর্তন: মনস্তত্ত্বে নম্বর ২৫ থেকে বেড়ে ৫০ হয়েছে এবং পাটিগণিতের জায়গায় সাধারণ গণিত (বীজগণিত ও জ্যামিতি সহ) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার পরীক্ষায় পাস না করলে মৌখিক পরীক্ষায় বসা যাবে না।
SI সিলেবাস কোথায় পাওয়া যাবে? বাংলাদেশ পুলিশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট police.gov.bd এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বশেষ সিলেবাস পাওয়া যায়। নতুন সার্কুলারে সিলেবাস পরিবর্তন হতে পারে, তাই সার্কুলারের তথ্যকেই চূড়ান্ত ধরতে হবে।
SI মনস্তত্ত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেব? BCS মানসিক দক্ষতার প্রশ্নব্যাংক থেকে নিয়মিত অনুশীলন করুন। সাদৃশ্য বিচার, সাংকেতিক বিন্যাস ও গাণিতিক যুক্তির দিকে বেশি মনোযোগ দিন, কারণ SI পরীক্ষায় এই টপিকগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে।
সাব ইন্সপেক্টর পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন জানা প্রস্তুতির প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০২১ সালের নতুন নীতিমালার আলোকে মনস্তত্ত্বে ৫০ নম্বর এবং সাধারণ গণিতের বিস্তারিত প্রস্তুতি নেওয়া এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি। সিলেবাসের প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে নিয়মিত অনুশীলন এবং বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু আইনজীবী হবার জন্য কিভাবে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন এই চিন্তাতেই অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়েন। LLB শেষ করার পর যখন বার কাউন্সিল পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়, তখন- কোথা থেকে শুরু করবেন, কী পড়বেন, কতদিন সময় লাগবে, কোন বইটা ধরবেন এসব চিন্তাতেই ঘুম হারিয়ে ফেলেন। এই প্রশ্নগুলো যদি আপনার মাথায়ও ঘুরতে থাকে, তাহলে শূন্য থেকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি এই গাইডলাইনটি সম্পূর্ণ আপনার জন্যই লেখা।
বাংলাদেশে একজন স্বীকৃত আইনজীবী হতে হলে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষায় তিনটি ধাপ রয়েছে — MCQ, লিখিত এবং ভাইভা। প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে উত্তীর্ণ হতে হয়, যা অনেকের কাছেই চ্যালেঞ্জিং মনে হয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা, ধারাবাহিক পরিশ্রম আর স্মার্ট স্ট্র্যাটেজি থাকলে এই পরীক্ষায় সফল হওয়া কঠিন নয়।
এই গাইডলাইনে একদম শূন্য থেকে শুরু করে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। স্টাডি প্ল্যান থেকে শুরু করে ভাইভার টেবিলে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন- সব কিছুই এক জায়গায় পাবেন। তাহলে আর দেরি না করে শুরু করা যাক।
বার কাউন্সিল কি?
বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতির শুরুতেই জেনে নেওয়া দরকার বার কাউন্সিল কি? বার কাউন্সিল হলো দেশের আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। কিন্তু বার কাউন্সিল শুনলেই অনেকে ভাবেন- “এটা শুধু পরীক্ষা নেওয়ার একটা সংস্থা।” বাংলাদেশ বার কাউন্সিল হলো দেশের পুরো আইন পেশার মূল ভিত্তি। এই সংস্থাটি নির্ধারণ করে কে আইনজীবী হতে পারবেন, কীভাবে পেশা পরিচালনা করতে হবে এবং আইনি পেশার মান কতটা উঁচুতে থাকবে। সহজ কথায়, বার কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশের কোনো আদালতে আইনজীবী হিসেবে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তাই এই সংস্থাটিকে ভালোভাবে বোঝা প্রতিটি আইনের শিক্ষার্থীর জন্য জরুরি।
বার কাউন্সিলের কাজ ও ভূমিকা
১৯৭২ সালের বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার অনুযায়ী বার কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত। বার কাউন্সিলের মূল কাজগুলো হলো:
আইনজীবীদের তালিকাভুক্তি (Enrollment): কে আইন পেশায় প্রবেশ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে।
পেশাগত মান নিয়ন্ত্রণ: আইনজীবীরা যেন নৈতিকতা বজায় রেখে পেশা পরিচালনা করেন তা নিশ্চিত করে।
পরীক্ষা পরিচালনা: এনরোলমেন্ট পরীক্ষা (MCQ, লিখিত ও ভাইভা) গ্রহণ করে।
শৃঙ্খলা রক্ষা: অভিযুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আইন শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
সহজ কথায়, বার কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে কোনো আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করা সম্ভব নয়।
একজন আইনজীবীর জন্য এর গুরুত্ব
আপনি হয়তো ভাবছেন — “LLB তো করেই ফেললাম, এখন কি আর পরীক্ষা দিতে হবে?” — হ্যাঁ, হবে। এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
১। বার কাউন্সিলের সনদ ছাড়া আপনি আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। ২। এই সনদ আপনার পেশাদার পরিচয় — আপনি যে একজন যোগ্য আইনজীবী, তার প্রমাণ।
৩। উচ্চতর আদালত বা বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হওয়ার প্রথম ধাপ হলো এই এনরোলমেন্ট।
৪। সরকারি চাকরি, ব্যাংক, কর্পোরেট সেক্টরে লিগ্যাল পোস্টে আবেদন করতেও এই সনদ প্রয়োজন হয়।
আইনজীবী হওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া (Enrollment Process)
আইনজীবী হওয়ার জন্য শুধু এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করলেই শেষ নয়। এর পর রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ, প্রশিক্ষণ এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। বার কাউন্সিল পররীক্ষার প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে এবং সঠিকভাবে এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হলে প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো, যেন আপনি সহজেই আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন।
LLB শেষ করার পর করণীয়
LLB (পাস/অনার্স) শেষ করার পর সরাসরি বার কাউন্সিল পরীক্ষায় বসা যায় না। একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ধাপগুলো হলো:
ধাপ ১ → পিউপিলেজ সম্পন্ন করুন ধাপ ২ → এনরোলমেন্ট ফর্ম পূরণ করুন ধাপ ৩ → MCQ পরীক্ষায় অংশ নিন ধাপ ৪ → লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিন ধাপ ৫ → ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হন ধাপ ৬ → সনদ সংগ্রহ করুন ও সিনিয়র আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্র্যাকটিস শুরু করুন
ইন্টার্নশিপ/পিউপিলেজ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
পিউপিলেজ (Pupilage) হলো একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ। এটি আইন পেশার সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা।
পিপিলেজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাস্তব মামলা দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
আদালতের পরিবেশ ও ভাষার সাথে পরিচিত হওয়া যায়।
জুনিয়র হিসেবে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়।
ভাইভা পরীক্ষায় এই অভিজ্ঞতা সরাসরি কাজে আসে।
টিপস: পিউপিলেজের সময়টাকে শুধু “সময় পার করার” কাজ মনে করবেন না। সিনিয়র আইনজীবীর কাছ থেকে সর্বোচ্চটা শিখুন।
এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার ধাপসমূহ
এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়ার ধাপসমূহগুলোকে নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হল।
ধাপ
বিষয়
বিস্তারিত
১
আবেদনপত্র
বার কাউন্সিলের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ
২
ফি জমা
নির্ধারিত ফি ব্যাংকে জমা দেওয়া
৩
কাগজপত্র জমা
সকল সনদ ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা
৪
MCQ পরীক্ষা
প্রিলিমিনারি পর্যায়
৫
লিখিত পরীক্ষা
MCQ-তে উত্তীর্ণদের জন্য
৬
ভাইভা
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য
৭
সনদ প্রদান
সফল প্রার্থীদের সনদ ও গাউন অনুষ্ঠান
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও কাগজপত্র
আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত পূরণ না হলে আবেদন গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও ডকুমেন্টসমূহ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিস্তারিতভাবে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে ধরা হলো।
আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্টের জন্য যে সকল যোগ্যতা প্রয়োজন সেগুলো হলঃ
বাংলাদেশের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে LLB ডিগ্রি
ন্যূনতম বয়স ২১ বছর
মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে
দেউলিয়া বা ফৌজদারি দণ্ডপ্রাপ্ত নন এমন ব্যক্তি
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ নিম্নরূপ-
LLB সার্টিফিকেট ও মার্কশিট (সকল বর্ষের)
SSC ও HSC সার্টিফিকেট
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
পিউপিলেজ সার্টিফিকেট (সিনিয়র আইনজীবী কর্তৃক প্রদত্ত)
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
চারিত্রিক সনদপত্র
আদালত কর্তৃক স্বাক্ষরিত সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র
বার কাউন্সিল পরীক্ষার কাঠামো (Exam Pattern & Marks Distribution)
পরীক্ষার কাঠামো বোঝা প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।
MCQ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার ধরন
বিষয়
বিস্তারিত
মোট প্রশ্ন
১০০টি MCQ
মোট নম্বর
১০০
সময়
১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট
নেগেটিভ মার্কিং
প্রযোজ্য (সাধারণত ০.২৫)
পাশ নম্বর
৫০ (পরিবর্তনশীল, নোটিশ দেখুন)
MCQ-তে যেসব বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে:
Code of Civil Procedure (CPC)
Code of Criminal Procedure (CrPC)
Penal Code
Evidence Act
Contract Act
Transfer of Property Act
Specific Relief Act
Constitutional Law
Family Law (Muslim/Hindu/Christian)
Land Laws
General Knowledge (আইন সংক্রান্ত)
লিখিত পরীক্ষার প্যাটার্ন
MCQ-তে উত্তীর্ণ হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায়।
বিষয়
বিস্তারিত
মোট নম্বর
২০০ (সাধারণত)
পেপার সংখ্যা
২টি
প্রতিটি পেপার
১০০ নম্বর
প্রশ্নের ধরন
বর্ণনামূলক, সমস্যা ভিত্তিক
সময়
প্রতিটি পেপারে ৩ ঘণ্টা
লিখিত পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
পেপার ১: দেওয়ানি আইন (Civil Law) — CPC, Contract, Transfer of Property পেপার ২: ফৌজদারি ও অন্যান্য আইন — Penal Code, CrPC, Evidence Act
ভাইভা পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইভা বোর্ডে ডাকা হয়। নিম্নে ভাইভা পরীক্ষার মূল্যয়ন পদ্ধতি তুলে ধরা হলো
সাধারণত ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা।
বোর্ডে ৩-৫ জন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা বিচারক থাকেন।
প্রশ্ন হয় আইনের ধারা, মামলার তথ্য, ব্যবহারিক জ্ঞান ও পেশাদার নীতিমালা বিষয়ে।
ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও উপস্থাপনা নম্বর প্রভাবিত করে।
পাশ মার্ক ও নম্বর বণ্টন
পর্যায়
মোট নম্বর
পাশ নম্বর
MCQ
১০০
৫০+
লিখিত
২০০
১০০+ (প্রতিটি পেপারে আলাদাভাবে পাশ)
ভাইভা
৫০
২৫+
গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিটি পর্যায়ে আলাদাভাবে পাশ করতে হয়। MCQ-তে ফেল করলে লিখিততে বসার সুযোগ নেই।
শূন্য থেকে প্রস্তুতি শুরু করার স্ট্র্যাটেজি
শূন্য থেকে বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে হলে প্রথমেই একটি সঠিক পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি। এলোমেলোভাবে না পড়ে ধাপে ধাপে বেসিক থেকে শুরু করে এগোলে প্রস্তুতি অনেক সহজ ও কার্যকর হয়। সময় অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত স্টাডি প্ল্যান এবং নিয়মিত রুটিন মেনে চলাই সফলতার মূল চাবিকাঠি। নিচে নতুনদের জন্য একটি কার্যকর প্রস্তুতি কৌশল তুলে ধরা হলো।
Beginner হলে কোথা থেকে শুরু করবেন
শুরুতে অনেকেই বিভ্রান্ত হন — “কোন বইটা পড়ব? কোথা থেকে শুরু করব?” এই বিভ্রান্তি দূর করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
প্রথম সপ্তাহ (Foundation তৈরি): ১. পরীক্ষার সিলেবাস ভালোভাবে পড়ুন। ২. প্রতিটি বিষয়ের গুরুত্ব বুঝুন। ৩. বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করুন ও চোখ বুলান (এখনই সমাধান করতে হবে না)। ৪. কোন বিষয়গুলো আপনার কাছে কঠিন, তা চিহ্নিত করুন।
দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে (পড়া শুরু):
সবচেয়ে বেশি নম্বরের বিষয় দিয়ে শুরু করুন (CPC ও CrPC)।
প্রতিটি বিষয় পড়ার সময় ছোট ছোট নোট তৈরি করুন।
MCQ প্র্যাকটিস সেট থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩০টি প্রশ্ন সমাধান করুন।
৩–৬ মাসের স্টাডি প্ল্যান
নিম্নে ৩-৬ মাসের একটা পরিপূর্ণ স্টাডি প্লান ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হল। প্রথম মাস স্ট্যাডি প্লান
CPC ও CrPC-র মূল ধারণাগুলো পড়ুন।
Evidence Act ও Penal Code-র গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো চিহ্নিত করুন।
প্রতিদিন ১টি বিষয়ের উপর ফোকাস করুন।
দ্বিতীয় মাস স্ট্যাডি প্লান
Contract Act, Transfer of Property ও Specific Relief Act পড়ুন।
Family Law ও Land Law-র বেসিক ধারণা নিন।
প্রতিদিন ৫০টি MCQ প্র্যাকটিস করুন।
তৃতীয় মাস (স্ট্যাডি প্লান
সকল বিষয়ের প্রথম রিভিশন শুরু করুন।
বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করুন।
দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বেশি সময় দিন।
চতুর্থ ও পঞ্চম মাস স্ট্যাডি প্লান
Mock Test দিন — সময় ধরে পূর্ণ পরীক্ষা অনুশীলন করুন।
লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তর লেখার অভ্যাস করুন।
ভাইভার জন্য সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর মুখে বলার অভ্যাস করুন।
ষষ্ঠ মাস স্ট্যাডি প্লান
চূড়ান্ত রিভিশন করুন।
শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও সংক্ষিপ্ত নোট পড়ুন।
মানসিক চাপমুক্ত থাকুন ও পর্যাপ্ত ঘুমান।
দৈনিক ও সাপ্তাহিক পড়ার রুটিন
রুটিন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় পাস করার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। নিম্নে দৈনিক এবং সাপ্তাহিক পড়ার রুটিন তুলে ধরা হলঃ
একটি আদর্শ দৈনিক রুটিন (৮–১০ ঘণ্টা)
সময়
কাজ
সকাল ৬টা–৭টা
আগের দিনের পড়া রিভিশন
সকাল ৭টা–১০টা
নতুন বিষয় পড়া (৩ ঘণ্টা)
সকাল ১০টা–১০:৩০
বিরতি
সকাল ১০:৩০–১২:৩০
MCQ প্র্যাকটিস (৫০+ প্রশ্ন)
দুপুর ১২:৩০–২টা
বিরতি + খাবার
দুপুর ২টা–৫টা
লিখিত অংশের প্রস্তুতি
বিকেল ৫টা–৬টা
বিরতি
সন্ধ্যা ৬টা–৮টা
নোট তৈরি ও পুনরালোচনা
রাত ৮টা–৯টা
ভাইভা প্র্যাকটিস (আয়নার সামনে বা বন্ধুর সাথে)
সাপ্তাহিক পরিকল্পনা
সোম–শুক্র: নতুন পড়া ও MCQ প্র্যাকটিস
শনিবার: পুরো সপ্তাহের রিভিশন + Mock Test
রবিবার: দুর্বল বিষয়গুলো বিশেষভাবে পড়া
Smart Study vs Hard Study
অনেক পরীক্ষার্থী শুধু “কঠোর পরিশ্রম” করেন, কিন্তু স্মার্টলি পড়েন না। পার্থক্যটা জেনে নিন:
Hard Study
Smart Study
সব কিছু সমান গুরুত্বে পড়া
গুরুত্বপূর্ণ টপিক চিহ্নিত করে পড়া
শুধু পড়া
পড়া + প্র্যাকটিস + রিভিশন
দীর্ঘ সেশন বিরতি ছাড়া
Pomodoro (২৫ মিনিট পড়া + ৫ মিনিট বিরতি)
নোট ছাড়া পড়া
নিজের ভাষায় নোট তৈরি
শুধু বই পড়া
বইয়ের পাশাপাশি গাইড ও MCQ ব্যাংক ব্যবহার
মূল কথা: ১২ ঘণ্টা অমনোযোগে পড়ার চেয়ে ৬ ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে পড়া বেশি কার্যকর।
MCQ পরীক্ষার প্রস্তুতির কৌশল
MCQ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে শুধু পড়াশোনা নয়, কৌশলগত প্রস্তুতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক টপিক নির্বাচন, শর্টকাট টেকনিক এবং সময় ব্যবস্থাপনা এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে প্রশ্নের ধরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। নিচে কার্যকর কিছু কৌশল তুলে ধরা হলো, যা আপনার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আপনার বার কাউন্সিলের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
গুরুত্বপূর্ণ টপিক ও সাবজেক্ট লিস্ট
MCQ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রশ্ন আসে এই বিষয়গুলো থেকে:
হাই-ওয়েটেজ বিষয় (অবশ্যই ভালো করতে হবে)
Code of Civil Procedure, 1908 (CPC) — ১৫–২০টি প্রশ্ন
Code of Criminal Procedure, 1898 (CrPC) — ১৫–২০টি প্রশ্ন
Penal Code, 1860 — ১০–১৫টি প্রশ্ন
Evidence Act, 1872 — ১০–১৫টি প্রশ্ন
মিড-ওয়েটেজ বিষয়
Contract Act, 1872 — ৮–১০টি প্রশ্ন
Transfer of Property Act, 1882 — ৫–৮টি প্রশ্ন
Specific Relief Act — ৩–৫টি প্রশ্ন
অন্যান্য বিষয়
Family Law (Muslim Personal Law, Hindu Law)
Land/Tenancy Laws
Constitutional Law
Limitation Act
Bar Council Rules
শর্টকাট টেকনিক (Elimination, Time Management)
কিছুকিছু শর্টকাট পরীক্ষার হলের প্রতিকুল পরিবেশে অনেক বেশি উপকারে আসে। নিম্নে Elimination Technique, এবং Time Management টেকনিক সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ
Elimination Technique: MCQ-তে সঠিক উত্তর না জানলেও ভুল উত্তর বাদ দিয়ে সঠিকের কাছাকাছি যাওয়া যায়।
যেমন: ৪টি অপশনের মধ্যে ২টি যদি স্পষ্টতই ভুল মনে হয়, তাহলে বাকি ২টির মধ্যে সঠিকটি বেছে নেওয়া সহজ হয়। এতে সঠিকের সম্ভাবনা ৫০% হয়ে যায়।
Time Management
১০০টি প্রশ্নের জন্য ৯০ মিনিট → প্রতিটি প্রশ্নে গড়ে ৫৪ সেকেন্ড।
যে প্রশ্ন ১৫ সেকেন্ডে পারবেন, সেটি সাথে সাথে করুন।
যেটি সময় নেবে, সেটি মার্ক করে পরে আসুন।
শেষের ১০ মিনিট শুধু Review-এর জন্য রাখুন।
আরও কিছু টিপস
প্রশ্নে “সর্বদা”, “কখনোই না”, “শুধুমাত্র” — এই শব্দগুলো সতর্কতার সাথে পড়ুন।
“সঠিক নয়” বা “ভুল” জিজ্ঞেস করা হলে বিশেষ মনোযোগ দিন।
নেগেটিভ মার্কিং থাকলে সম্পূর্ণ অজানা প্রশ্নে অনুমানে উত্তর না দেওয়াই ভালো।
বিগত বছরের প্রশ্নের ব্যবহার
বিগত বছরের প্রশ্নপত্র হলো প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। কারণ:
বার কাউন্সিল প্রায়ই আগের প্রশ্নের কাছাকাছি বা একই ধারার প্রশ্ন করে।
কোন ধারাগুলো বারবার আসে তা বোঝা যায়।
পরীক্ষার প্যাটার্ন সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পাওয়া যায়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন:
শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করবেন না। বুঝুন কেন এই উত্তর সঠিক।
ভুল উত্তরের কারণটাও বোঝার চেষ্টা করুন।
৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্যাটার্ন পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সাধারণ ভুল ও তা এড়ানোর উপায়
নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে সাধারণ ভুল ও সেগুলোর সমাধান দেখানো হলোঃ
লিখিত পরীক্ষায় ভালো জন্য বিষয় জানার পাশাপাশি, সঠিকভাবে উপস্থাপন করাও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ভুল ফরম্যাটে উত্তর লেখা, আইন ও ধারাগুলো সঠিকভাবে উল্লেখ করা এবং প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা দেওয়া উচ্চ নম্বর পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত Writing practice ও model answer অনুসরণ করলে উত্তর লেখার দক্ষতা দ্রুত উন্নত হয়। নিচে বিস্তারিত গাইড তুলে ধরা হলো।
উত্তর লেখার সঠিক ফরম্যাট
লিখিত পরীক্ষায় শুধু জ্ঞান দিয়ে কাজ হয় না — সঠিক ফরম্যাটে উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে লেখার সঠিক ফরম্যাটগুলো দেখানো হলো
বর্ণনামূলক প্রশ্নের জন্য:
ভূমিকা (Introduction): প্রশ্নের মূল বিষয়টি ১-২ লাইনে উল্লেখ করুন।
মূল আলোচনা (Main Body): আইনের সংজ্ঞা সংশ্লিষ্ট ধারা উল্লেখ উদাহরণ বা মামলার রেফারেন্স (যদি থাকে)
উপসংহার (Conclusion): সংক্ষেপে মূল বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করুন।
সমস্যা ভিত্তিক (Problem-based) প্রশ্নের জন্য:
বিষয় চিহ্নিত করুন: এটি কোন ধরনের আইনি সমস্যা? প্রযোজ্য আইন বলুন: কোন আইনের কোন ধারা প্রযোজ্য? বিশ্লেষণ করুন: ঘটনার সাথে আইনের সম্পর্ক বোঝান। সিদ্ধান্ত দিন: মামলার ফলাফল কী হবে?
আইন ও ধারা মনে রাখার কৌশল
অনেক ধারা মনে রাখা কঠিন মনে হয়। এই পদ্ধতিগুলো চেষ্টা করুন:
Mnemonic (স্মরণ সংকেত): গুরুত্বপূর্ণ ধারার নম্বরগুলো ছোট গল্প বা ছড়ার সাথে মনে রাখুন। যেমন: CPC-র ধারা ৯ (Civil Court-র jurisdiction) “৯ নম্বর দরজায় দেওয়ানি আদালত” Concept Map: বিষয়গুলোকে মানচিত্রের মতো সংযুক্ত করে মনে রাখুন। Grouping পদ্ধতি: সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো একসাথে পড়ুন। যেমন: CrPC-র গ্রেফতার সংক্রান্ত সব ধারা একসাথে। Daily Revision: নতুন পড়া ধারা পরদিন সকালে রিভিশন দিন। এতে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতিতে সংরক্ষিত হয়।
উচ্চ নম্বর পাওয়ার টেকনিক
উচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য বেশ কিছু টেকনিক অনেক বেশি জনপ্রিয়। নিম্নে কিছু কার্যকারী টেকনিক উল্লেখ করা হলঃ
১। হাতের লেখা পরিষ্কার রাখুন। পরীক্ষক যদি পড়তে না পারেন, নম্বর কমে যায়। ২। ধারা উল্লেখ করুন। শুধু মুখের কথা নয়, নির্দিষ্ট আইনি ধারা উল্লেখ করলে বাড়তি নম্বর পাওয়া যায়। ৩। উত্তর সংগঠিত করুন। ভূমিকা–মূল অংশ–উপসংহার স্পষ্টভাবে আলাদা করুন। ৪। ভূমিকা দীর্ঘ করবেন না। সরাসরি মূল বিষয়ে আসুন। ৫। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লেখার চেষ্টা করুন। অসম্পূর্ণ উত্তরও আংশিক নম্বর পায়।
Writing Practice ও Model Answer ব্যবহার
বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার নিয়মিত লিখার প্রাকটিস করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন অন্তত একটি প্রশ্নের উত্তর লিখুন সময় ধরে।
Model Answer পড়ে শুধু কপি করবেন না। নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করুন।
লেখার পর নিজেই পড়ুন এবং বিচার করুন — এটি কি পরিষ্কার? ধারা উল্লেখ আছে কি?
সম্ভব হলে কোনো অভিজ্ঞ আইনজীবী বা সিনিয়রকে দেখিয়ে মতামত নিন।
ভাইভা পরীক্ষায় সফল হওয়ার উপায়
অনেকেই লিখিত পরীক্ষায় ভালো করলেও ভাইভায় ঘাবড়ে যান। নিম্নে ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার উপায়গুলো দেওয়া হল।
সাধারণ প্রশ্নের ধরন
বার কাউন্সিল ভাইভাতে সাধারণত যেসব প্রশ্ন করা হয় সেগুলো নিম্নে দেওয়া হল-
আইনি জ্ঞান সংক্রান্ত:
“CPC-র ধারা ৮০ কি বলে?”
“FIR ও GD-র মধ্যে পার্থক্য কি?”
“Bail ও Anticipatory Bail কখন পাওয়া যায়?”
“দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পার্থক্য বলুন।”
ব্যবহারিক জ্ঞান সংক্রান্ত:
“আপনার পিউপিলেজের সময় কী কী মামলা দেখেছেন?”
“একটি চুক্তি বাতিলযোগ্য হওয়ার শর্তগুলো কী?”
ব্যক্তিগত প্রশ্ন:
“কেন আইন পেশায় আসতে চাইছেন?”
“একজন ভালো আইনজীবীর গুণাবলি কি?”
আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৌশল
অন্যান্য পেশার তুলনায় আইনজীবী পেশার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ন্যায় অন্যায় উপয় পক্ষের ক্ষেত্রেই আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। নিম্নে ভাইবাতে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কৌশল গুলো দেওয়া হলোঃ
প্রস্তুতিই আত্মবিশ্বাসের সেরা উৎস। ভালো প্রস্তুতি থাকলে ভাইভায় স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাস আসে।
বন্ধু বা পরিবারের সামনে Mock Viva অনুশীলন করুন।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে উত্তর দেওয়ার অভ্যাস করুন।
উত্তর না জানলে বিনয়ের সাথে বলুন — “স্যার, এই বিষয়ে আমার জ্ঞান সীমিত।” এটি সততার প্রমাণ, দুর্বলতার নয়।
পরীক্ষার আগে রাতে ভালো ঘুমান।
Dress Code ও Body Language
ভাইভা পরীক্ষায় আপনার জ্ঞান যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ আপনার উপস্থাপন ও আচরণ। সঠিক Dress Code এবং আত্মবিশ্বাসী Body Language বোর্ডের সামনে একটি ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করে। পরিপাটি পোশাক, ভদ্র আচরণ এবং স্বাভাবিকভাবে কথা বলার দক্ষতা আপনার সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। নিচে এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হলো।
পোশাক– পুরুষ: সাদা বা হালকা রঙের শার্ট, ফর্মাল প্যান্ট, টাই পরা ভালো, জুতা পরিষ্কার ও পলিশ করা। নারী: ফর্মাল শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ (গাঢ় বা হালকা — পরিষ্কার হলেই হবে), পরিপাটি থাকতে হবে।
Body Language– ১। সোজা হয়ে বসুন — ঝুঁকে বসবেন না। ২। বোর্ডের সদস্যদের চোখে চোখ রেখে কথা বলুন। ৩। হাত নাড়াচাড়া কম রাখুন। ৪। কথা বলার সময় স্পষ্ট ও মাঝারি গতিতে বলুন। ৫। বোর্ডে প্রবেশ করার সময় বিনয়ের সাথে সালাম বা আদাব দিন।
বোর্ডে ভালো ইমপ্রেশন তৈরির টিপস
ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই আপনার আচরণ ও উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিম্নে বোর্ডে ভালো ইম্প্রেশন তৈরি করার কিছু টিপস দেওয়া হলঃ
বোর্ডে ঢুকে অনুমতি নিয়ে বসুন।
প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দেওয়া শুরু করবেন না।
উত্তর দেওয়ার আগে এক সেকেন্ড চিন্তা করুন।
ভুল হলে নিজে সংশোধন করুন — এটি ইতিবাচক দেখায়।
বের হওয়ার সময় ধন্যবাদ জানান।
প্রয়োজনীয় বই ও স্টাডি রিসোর্স
সঠিক বই ও স্টাডি রিসোর্স নির্বাচন প্রস্তুতির মান অনেকাংশে নির্ধারণ করে। ভালো মানের বই, কার্যকর নোট এবং নির্ভরযোগ্য অনলাইন রিসোর্স একসাথে ব্যবহার করলে পড়াশোনা আরও সহজ ও ফলপ্রসূ হয়। নিচে প্রয়োজনীয় কিছু রিসোর্স তুলে ধরা হলো, যা আপনার প্রস্তুতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
Recommended বইয়ের তালিকা
বার কাউন্সিল প্রস্তুতির জন্য বাজারে অসংখ্য বই রয়েছে। নিম্নে কিছু বইয়ের তালিকা দেওয়া হলঃ
বিষয়
প্রস্তাবিত বই/লেখক
CPC
সি. কে. ঠাকার / মোহাম্মদ আলী (বাংলা গাইড)
CrPC
রতনলাল ও ধীরজলাল / স্থানীয় গাইড
Penal Code
K.D. Gaur / বাংলা সংস্করণ
Evidence Act
Batuk Lal / বাংলা সংস্করণ
Contract Act
Avtar Singh
Transfer of Property
Mulla on Transfer of Property
Constitutional Law
মাহবুবুর রহমান / রেজাউল হক
MCQ Practice
বার কাউন্সিল MCQ ব্যাংক (বিগত প্রশ্ন সংকলন)
পরামর্শ: প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি ভালো বাংলা গাইড এবং একটি ইংরেজি রেফারেন্স বই রাখুন।
নোট, গাইড ও অনলাইন রিসোর্স
প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন নোট, গাইড ও অনলাইন রিসোর্স রাখা। নিম্নে এই বিষয়গুলো নিয়ে বর্ণনা করা হলঃ নোট তৈরির পদ্ধতি:
পড়তে পড়তে নিজের ভাষায় সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করুন।
গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোর জন্য আলাদা নোটবুক রাখুন।
রঙিন কলম বা হাইলাইটার ব্যবহার করুন — গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা করতে।
অনলাইন রিসোর্স:
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে আইনের তথ্য পাওয়া যায়।
ইউটিউবে বার কাউন্সিল প্রস্তুতি বিষয়ক ভিডিও দেখুন।
বিভিন্ন আইন-বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন — সেখানে অভিজ্ঞরা পরামর্শ দেন।
কোচিং বনাম Self-Study
বিষয়
কোচিং
Self-Study
সুবিধা
নির্দেশিত পথ, নিয়মিত পরীক্ষা, সহপাঠীদের সাথে প্রতিযোগিতা
নিজের গতিতে, কম খরচ, নমনীয় সময়সূচি
অসুবিধা
ব্যয়বহুল, সময় নির্দিষ্ট
নিজস্ব শৃঙ্খলা না থাকলে পিছিয়ে পড়া
কার জন্য
যারা নিজে নিজে পড়তে অভ্যস্ত নন
যারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও স্বনির্ভর
পরামর্শ: কোচিং ও Self-Study-র মিশ্রণ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কোচিং থেকে দিকনির্দেশনা নিন, কিন্তু নিজের পড়ার অভ্যাসও ধরে রাখুন।
পরীক্ষায় সফল হওয়ার কার্যকর টিপস
শুধু বেশি পড়লেই হয় না পরীক্ষায় সফল হতে হলে, সঠিক কৌশল অনুসরণ করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সফল প্রার্থীদের স্টাডি স্ট্র্যাটেজি, কার্যকর সময় ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্টভাবে পড়া মনে রাখার পদ্ধতি আপনাকে এগিয়ে রাখবে। পাশাপাশি দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় নিজেকে মোটিভেটেড রাখাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। নিচে এমন কিছু কার্যকর টিপস দেওয়া হলো, যা আপনার সফলতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
Topper দের স্টাডি স্ট্র্যাটেজি
যারা বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ভালো করেছেন তাদের কাছ থেকে জানা সাধারণ কৌশলগুলো:
বেসিক আগে, Advanced পরে: বেসিক ধারণা পরিষ্কার না হলে জটিল বিষয় মাথায় ঢোকে না। Consistency > Intensity: প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা পড়া, পরীক্ষার আগে রাত জেগে ১৬ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে ভালো। শুধু পড়া নয়, লেখার অভ্যাস: যা পড়েছেন তা লিখুন। লেখা মনে থাকে বেশি। পরীক্ষাকেন্দ্রে সময়মতো পৌঁছান: দেরিতে পৌঁছানো মানে মানসিক চাপ, যা পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়।
সময় ব্যবস্থাপনার কৌশল
পরীক্ষার দিন– MCQ: প্রতি প্রশ্নে সর্বোচ্চ ১ মিনিট। লিখিত: প্রথম ৫ মিনিট প্রশ্ন পড়ুন, তারপর পরিকল্পনা করে লিখুন। সহজ প্রশ্ন আগে করুন — এতে সময় ও আত্মবিশ্বাস দুটোই বাড়ে।
পড়ার সময়: Pomodoro Technique: ২৫ মিনিট একাগ্রভাবে পড়া → ৫ মিনিট বিরতি → ৪টি চক্র পরে ৩০ মিনিট বিরতি।Priority Matrix: কোন বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণ করে সময় বণ্টন করুন।
পড়া মনে রাখার টেকনিক
Active Recall: বই বন্ধ করে যা পড়েছেন তা মাথা থেকে বের করার চেষ্টা করুন। Spaced Repetition: নতুন পড়া বিষয় ১ দিন পরে, ৩ দিন পরে, ৭ দিন পরে রিভিশন দিন। Teaching Technique: কাউকে পড়িয়ে দিন — এতে নিজে সবচেয়ে ভালো শেখা হয়। Visualization: আইনের ধারাকে কোনো ঘটনার সাথে কল্পনা করুন।
Motivation ধরে রাখার উপায়
দীর্ঘ প্রস্তুতিকালে হতাশা আসা স্বাভাবিক। এই পরামর্শগুলো কাজে লাগান:
লক্ষ্য মনে রাখুন: কেন আইনজীবী হতে চান? সেই কারণটা লিখে টেবিলের সামনে লাগিয়ে রাখুন।
ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন: “আজকে CPC-র ৫টি ধারা শেষ করব” — এই ছোট সাফল্যগুলো অনুপ্রেরণা দেয়।
সফল আইনজীবীদের গল্প পড়ুন।
পড়ার সাথী বানান: একজন সহপাঠীর সাথে একসাথে পড়লে দুজনই এগিয়ে যান।
বিরতি নিন: ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নিন। জোর করে পড়লে মনে থাকে না।
সাধারণ ভুলগুলো যা এড়িয়ে চলা উচিত
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ব্যর্থতার পেছনে বেশিরভাগ সময় মেধার অভাব নয়, বরং কিছু সাধারণ ভুলই দায়ী। নিম্নে কিছু সাধারণ ভুল তুলে ধরা হল। যেগুলো এড়িয়ে চললে বার কাউন্সিল পরীক্ষায় প্রস্তুতি আরও বেটার হবে।
ভুল স্টাডি প্ল্যান
অনেক পরীক্ষার্থী এমন স্টাডি প্ল্যান তৈরি করেন যা বাস্তবসম্মত নয়। যেমন — “প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা পড়ব” — এটি কয়েকদিনেই ভেঙে পড়ে।
সমাধান: বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করুন। সপ্তাহে ৫ দিন মনোযোগ দিয়ে পড়া, ১ দিন রিভিশন ও ১ দিন বিশ্রাম — এটি দীর্ঘমেয়াদে অনেক বেশি কার্যকর।
শুধু মুখস্থ নির্ভরতা
বার কাউন্সিল পরীক্ষা — বিশেষত লিখিত ও ভাইভা — শুধু মুখস্থ দিয়ে পার হওয়া কঠিন। পরীক্ষকরা বোঝার ক্ষমতা যাচাই করেন। সমাধান: ধারা মুখস্থ করুন, কিন্তু তার প্রয়োগও বুঝুন। “এই ধারাটি কোন পরিস্থিতিতে কাজে আসবে?” — এই প্রশ্নটি নিজেকে করুন।
পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস না করা
শুধু পড়লেই হবে না — MCQ সমাধান করা, লিখিত উত্তর লেখা ও ভাইভার অনুশীলন না করলে পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া কঠিন। সমাধান: প্রতিদিনের রুটিনে অবশ্যই প্র্যাকটিসের সময় রাখুন।
সময় ব্যবস্থাপনার অভাব
অনেকে পরীক্ষার হলে গিয়ে সময়ের চাপে পড়েন — কারণ আগে থেকে সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন ছিল না। সমাধান: বাড়িতেই সময় ধরে Mock Test দিন। পরীক্ষার হলের পরিবেশ অনুশীলন করুন।
FAQ (সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর)
কতবার পরীক্ষা দেওয়া যায়?
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সংখ্যার কোনো সীমাবদ্ধতা সাধারণত নেই। তবে প্রতিটি পর্যায়ে আলাদাভাবে উত্তীর্ণ হতে হয়। MCQ-তে উত্তীর্ণ না হলে লিখিতে বসতে পারবেন না। পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট শর্তাবলি জেনে নিন।
পাশ নম্বর কত লাগে?
বার কাউন্সিল পাশ করতে MCQ: ৫০% (১০০-তে ৫০), লিখিত: প্রতিটি পেপারে ৫০% (১০০-তে ৫০), ভাইভা: ৫০% (৫০-তে ২৫)। নোট: এই নম্বরগুলো পরিবর্তন হতে পারে। সর্বদা বার কাউন্সিলের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি দেখুন।
কতদিনে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব?
বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নির্ভর করে আপনার বেসিক জ্ঞান, পড়ার অভ্যাস ও প্রতিদিন কতটা সময় দিতে পারবেন তার উপর। ন্যূনতম সময়: ৩ মাস (যাদের বেসিক ভালো), আদর্শ সময়: ৬ মাস (সকলের জন্য প্রস্তাবিত), বিগিনারদের জন্য: ৬–৯ মাস। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত Consistency-ই সবচেয়ে বড় নির্ধারক।
উপসংহার
বার কাউন্সিল পরীক্ষা নিয়ে যাত্রা শুরু হয় একটি স্বপ্ন থেকে- আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন। এই গাইডে আমরা সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথটা ধাপে ধাপে দেখিয়েছি। বার কাউন্সিল কী, এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে, পরীক্ষার কাঠামো কেমন, MCQ থেকে শুরু করে ভাইভা পর্যন্ত কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে- প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সঠিক বই বেছে নেওয়া, স্মার্টভাবে সময় ব্যবস্থাপনা করা এবং সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলার কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পরামর্শ হিসেবে একটাই কথা- আজই শুরু করুন। “কাল থেকে পড়ব” বা “আরেকটু গুছিয়ে নিই” এই মানসিকতাই সবচেয়ে বড় বাধা। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে গেলে ছয় মাস পরে পেছনে তাকালে দেখবেন কতটা পথ পেরিয়ে এসেছেন। মুখস্থ নির্ভরতা ছেড়ে বোঝার অভ্যাস গড়ুন, নিয়মিত প্র্যাকটিস করুন এবং নিজের উপর আস্থা রাখুন। মনে রাখবেন, প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছেন- তারা অসাধারণ কেউ নন, শুধু ধারাবাহিক ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছেন। আপনিও পারবেন।
আইন শুধু একটি পেশা নয়- এটি সমাজের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার। আপনি সেই পথেই হাঁটতে চাইছেন। শুভকামনা!
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ৯ম–১৩তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।
এসব নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রয়োজন গোছানো সিলেবাসভিত্তিক প্রস্তুতি ও নিয়মিত মডেল টেস্ট অনুশীলন।
এই লক্ষ্যেই Live MCQ অ্যাপে ৯ম–১৩তম গ্রেডের নন-ক্যাডার চাকরির পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির নতুন রুটিন চালু হয়েছে।
🚀 Live MCQ প্রিমিয়াম প্যাকেজে ডিসকাউন্ট অফার চলমান — শেষ সময় ৭ এপ্রিল ২০২৬।
বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক লাখ পদ শূন্য রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হলো ৯ম–১৩তম গ্রেডের পদ।
এই গ্রেডের জনপ্রিয় কিছু পদ হলো —
আইন কর্মকর্তা
সিনিয়র অফিসার
সহকারী সচিব
বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা
মেডিকেল অফিসার
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা
সহকারী প্রকৌশলী
সহকারী শিক্ষক
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা
উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক
এই পদগুলোর প্রশ্নপত্র সাধারণত বিসিএস ধাঁচের হওয়ায় প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি।
📚 Live MCQ-তে ৯ম–১৩তম গ্রেড প্রস্তুতির সুবিধা
Live MCQ অ্যাপের প্রিমিয়াম প্যাকেজে থাকছে —
✅ সকল রুটিনের পরীক্ষা OMR ফরম্যাটে দেওয়ার সুযোগ ✅ Live MCQ-এর যেকোনো প্রিমিয়াম প্যাকেজেই এই রুটিনের পরীক্ষা ফ্রি ✅ Join Anytime — সারাবছর পরীক্ষার সুযোগ ✅ লাইভ পরীক্ষা মিস হলে আর্কাইভ থেকে যেকোনো সময় পরীক্ষা দেওয়া যাবে
📝 পরীক্ষার রুটিন (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড)
🕘 লাইভ পরীক্ষা চলমান রয়েছে
মোট লাইভ পরীক্ষা: ৬৫টি
পরীক্ষার ধরন
📘 বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা: ৪৪টি
📊 ফুল মডেল টেস্ট: ১০টি
🔁 রিভিশন পরীক্ষা: ১১টি
এই পরীক্ষাগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করলে পুরো সিলেবাস কভার হয়ে যাবে।
📖 পরীক্ষার কাঠামো
এই রুটিনে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য একটি কার্যকর স্ট্রাকচার অনুসরণ করা হয়েছে —
✔ প্রথমে ৫টি বিষয়ভিত্তিক ছোট পরীক্ষা ✔ এরপর ১টি রিভিশন পরীক্ষা ✔ প্রতি ৬টি পরীক্ষার পর ১টি ফুল মডেল টেস্ট
এভাবে মোট ৬৫টি পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সিলেবাস সম্পন্ন হবে।
🚀 প্রিমিয়াম প্যাকেজে অতিরিক্ত সুবিধা
Live MCQ প্রিমিয়াম প্যাকেজে থাকছে আরও অনেক স্মার্ট ফিচার —
প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতি এর পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। মূলত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা নির্দিষ্ট ক্যাডার পদ (যেমন প্রশাসন, পুলিশ ইত্যাদি) পান না, বরং প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্যান্য সরকারি পদে নিয়োগ পান, তাদের নন-ক্যাডার বলা হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আলাদা পরীক্ষা গ্রহণ করে, যা নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা নামে পরিচিত। এ ধরনের চাকরিতে যোগ দিতে হলে প্রার্থীদের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়ে সিলেবাস শেষ করে পরবর্তীতে বিগত সালের প্রশ্নের উপর পরীক্ষা দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর উপায়। নিয়মিত রিভিশন, বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান, এবং সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পড়াশোনার মাধ্যমেই নন-ক্যাডার পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসি এই নন-ক্যাডার অর্থাৎ ৯ম-১৩তম গ্রেডে নিয়োগের লক্ষ্যে নন-ক্যাডার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। এই নিয়োগগুলোতে বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এর নিয়োগ পরীক্ষাগুলোও বেশ প্রতিযোগীতাপূর্ণ হয়ে থাকে। তাই প্রতিযোগীতাপূর্ণ পরীক্ষায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে আপনার প্রস্তুতি হতে হবে গোছানো এবং কার্যকর। তাছাড়া আপনাদের মধ্যেই অনেকে নন-ক্যাডার নিয়োগ, এর চাকরির সুবিধা-অসুবিধা, এই নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাস এবং প্রশ্ন প্যাটার্ন আরোও নানা বিষয়ে কনফিউজড থাকেন। আজকের ব্লগে আমরা পিএসসি কর্তৃক নেয়া ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতির প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন আলোচনা করবো। এছাড়াও এই ব্লগে নন-ক্যাডার সম্পর্কিত নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফলে এখান থেকে আপনারা নন-ক্যাডার এর পদসমূহ, চাকরির সুবিধা-অসুবিধা এবং আরোও নানান বিষয়ে জানতে পারবেন। আশা করি, এই ব্লগটি পড়ার পর নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না।
নন-ক্যাডারদের পদ
প্রথমত, নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের জেনারেল পদগুলো ভালো। সবগুলোতে কম-বেশি সুবিধা রয়েছে। জেনারেলগুলোতে টেকনিক্যালগুলোর তুলনায় একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, ১০ম গ্রেডের কয়েকটি খুব ভালো জব রয়েছে। এগুলো অনেকেই ৯ম গ্রেড থেকে এগিয়ে রাখে। যেমন- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।
নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদ: > সাবরেজিস্ট্রার- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। > উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা- নির্বাচন কমিশন। > উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা- সমাজসেবা অধিদপ্তর।
নন-ক্যাডার ১০ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদ: > সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > কর পরিদর্শক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট, বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর কার্যালয়।
নন-ক্যাডার বেতন কাঠামো
বাংলাদেশে নন-ক্যাডার পদগুলোও প্রথম শ্রেণি (Grade 9-10) এবং দ্বিতীয় শ্রেণি (Grade 11-13) সরকারি চাকরির অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদের বেতন সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সব মিলিয়ে একজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০,০০০+ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, পদ ও অবস্থানভেদে।
ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য
১. নিয়োগ প্রক্রিয়া
ক্যাডার: বিসিএস (Bangladesh Civil Service) পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নির্দিষ্ট ক্যাডার (যেমন প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা, কাস্টমস, ফরেন সার্ভিস ইত্যাদি) এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নন-ক্যাডার: বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ক্যাডারে সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরা PSC এর মাধ্যমে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সরকারি পদে নিয়োগ পান। নন-ক্যাডার নিয়োগের জন্য আলাদা সার্কুলার/পরীক্ষাও হয়।
২. পদ ও দায়িত্ব
ক্যাডার: প্রশাসনিক, নীতি-নির্ধারণী বা বিশেষায়িত পদে কাজ করেন। উদাহরণ: সহকারী কমিশনার (AC), পুলিশ ASP, শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক ইত্যাদি।
নন-ক্যাডার: বিভিন্ন দপ্তরে অফিসার/সহকারী পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। যেমন: সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।
৩. গ্রেড ও বেতন
ক্যাডার: সাধারণত ৯ম গ্রেড থেকে শুরু (২২,০০০ টাকা বেসিক) এবং ধাপে ধাপে উন্নতি।
নন-ক্যাডার:৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম বা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ হয়। গ্রেড যত নিচু, বেতনও তত কম।
৪. প্রশিক্ষণ
ক্যাডার: বিসিএস একাডেমি বা সংশ্লিষ্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ পান।
নন-ক্যাডার: সাধারণত সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে ক্যাডারদের মতো বিস্তৃত নয়।
৫. ক্যারিয়ার উন্নতি
ক্যাডার: পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার অগ্রগতি তুলনামূলক দ্রুত ও নির্দিষ্ট কাঠামোয় হয়।
নন-ক্যাডার: পদোন্নতি তুলনামূলক ধীর, অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উচ্চ পদে পৌঁছানো যায় না।
৬. সুবিধা
ক্যাডার: গাড়ি সুবিধা, সরকারি বাসা, বিদেশে প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ইত্যাদি বেশি থাকে।
নন-ক্যাডার: বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়া গেলেও ক্যাডারদের সমপর্যায়ের বাড়তি সুবিধা থাকে না।
মূলত ক্যাডারগণ দেশের নীতি, প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনায় নিয়োজিত এলিট সরকারি কর্মকর্তা এবং নন-ক্যাডারগণ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, তবে ক্যাডারের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম।
নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে সুপারিশকৃত কিছু পদ
পিএসসি বিসিএস ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করে। নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে তাদের চাহিদা মোতাবেক জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয়ই পদেই যোগ্য প্রার্থীকে সুপারিশ করে। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে দুই বা তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নিম্নে পিএসসি কর্তৃক নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে সুপারিশকৃত কিছু পদের নাম উল্লেখ করা হলো:-
পদের নাম
গ্রেড
মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর
পদের ধরন
জেলা ক্রীড়া অফিসার
৯ম
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর।
জেনারেল
সহকারী উপজেলা/ থানা শিক্ষা অফিসার
১০ম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
জেনারেল
প্রশাসনিক কর্মকর্তা
১১ম
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন তোশাখানা ইউনিট, তোশাখানা জাদুঘর।
জেনারেল
স্টেশন অফিসার
১২তম
স্বরাষ্ট্র মধ্যপালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন ফায়ার সার্ভিস, ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
জেনারেল
সহকারী প্রোগ্রামার
৯ম
আইন ও বিচার বিভাগ এর আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
টেকনিক্যাল
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)
১০ম
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে
টেকনিক্যাল
এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনার
১১তম
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
টেকনিক্যাল
নার্স মিডওয়াফ
১২তম
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
টেকনিক্যাল
উপোরক্ত পদগুলো ছাড়াও আরো শতাধিক নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে থাকে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি)। জেনারেল সকল অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদের সিলেবাস ও মানবন্টন একই রকম। তাই একটি সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারলে চাকরি পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা থাকে। অনুরূপভাবে টেকনিক্যাল সকল পদের পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বাকি সিলেবাস ও প্রস্তুতি একই ধরনের, তাই টেকনিক্যালে পদের জন্য পদ- সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বাকিগুলতে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া যায়। আমরা এখানে জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয় ধরনের পরীক্ষার পদ্ধতি, সিলেবাস এবং গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি গাইডলাইনটি আপনাদের প্রস্তুতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
৯ম-১৩তম গ্রেড নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের পরীক্ষা পদ্ধতি
৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০ জনের বেশি হলে লিখিত পরীক্ষার পূর্বে প্রথমে ১ ঘণ্টা ব্যাপী ১০০ নম্বরের MCQ ধরনের বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। MCQ পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরবন্টন নিম্নরুপ:
ক্রমিক নং
বিষয়
নম্বর
সময়
১
বাংলা
২৫
১ ঘণ্টা
২
ইংরেজি
২৫
৩
সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)
২৫
৪
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান
২৫
৫
সর্বমোট
১০০
MCQ ধরনের বাছাই পরীক্ষায় প্রার্থীগণ প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন; ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে।
৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে শূন্য আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০ বা তার কম হলে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের পর সরাসরি ৪ ঘণ্টা ব্যাপী ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরবন্টন নিম্নরুপ:
ক্রমিক নং
বিষয়
নম্বর
পাশ নম্বর
সময়
১
বাংলা
৫০
সামগ্রিকভাবে পাশ নম্বর ৪৫% অর্থ্যাৎ পাশ মার্ক ৯০
৪ ঘণ্টা
২
ইংরেজি
৫০
৩
সাধারণ জ্ঞান
৪০
৪
গণিত ও মানসিক দক্ষতা
৬০
সর্বমোট
২০০
৯ম গ্রেডের মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০০ মার্কসের, পাশ নম্বর ৪৫% অর্থ্যাৎ ৪৫ পেলে পাশ বলে বিবেচিত হবেন। অপরদিকে ১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেডের মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ মার্কসের, পাশ নম্বর ৪০% অর্থ্যাৎ ২০ পেলে পাশ বলে বিবেচিত হবেন।
প্রার্থীকে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদা আলাদাভাবে পাশ করতে হবে। অন্যথায় প্রার্থী সার্বিকভাবে অকৃতকার্য বিবেচিত হবেন।
৯ম-১৩তম গ্রেড নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা প্রস্তুতির গাইডলাইন-
বাংলা- (২৫ নম্বর)
পিএসসি নন-ক্যাডারের বিগত বছরের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে দেখা গিয়েছে, বাংলা ব্যাকরণ এবং সাহিত্য উভয় অংশ থেকে প্রায় সমান পরিমান প্রশ্ন এসেছে। তাই ব্যাকরন এবং সাহিত্য উভয় অংশেই সমান জোর দিয়ে পড়তে হবে।
❖ সাহিত্য অংশ:
– বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ প্রভৃতি সময়কাল নিয়ে জানা থাকতে হবে। অন্ধকার যুগের সাহিত্য কর্ম নিয়ে জেনে নিবেন।
– প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ সম্পর্কিত সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখবেন। চর্যাপদ থেকেই প্রায় সকল নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই এর পদ, পদকর্তা, আবিষ্কারক, অনুবাদক, টীকাকারকসহ গুরত্বপূর্ণ সকল তথ্য পড়বেন।
– মধ্যযুগ থেকে প্রতি নন-ক্যাডার পরীক্ষায় ২-৩টি প্রশ্ন আসে। তাই এই অংশে কোনভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না। এই অংশে মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাসমূহ, পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, লোক সাহিত্য, মর্সিয়া সাহিত্য, কবিগান ও শায়ের প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ সকল কিছু পড়বেন। এছাড়া মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম পড়বেন। এই অংশে এই নামের একাধিক লেখা ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্যিকগণ লিখেছেন। তাই পরীক্ষায় আসলে যাতে কনফিউশনে না পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রেখে পড়বেন।
– আধুনিক যুগ থেকে প্রতিটি নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রায় ৮-১০টি প্রশ্ন আসে। এই অংশে বাংলা গদ্যের বিকাশ (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও অন্যান্য); সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি, সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা; গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ; বাংলা সাহিত্যে যা কিছু প্রথম; মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অন্যান্য আন্দোলন সংগ্রাম বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পড়বেন।
– এছাড়া আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়, জসীমউদ্দীন, অন্নদাশঙ্কর রায়, আহসান হাবীব, ডি. এল. রায়, শওকত আলী, শওকত ওসমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, শামসুর রাহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ মুজতবা আলী, হাসান আজিজুল হক প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম পড়বেন।
– তাছাড়া ত্রিশের দশক ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব, বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক, সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম দেখে যাবেন।
❖ ব্যাকরণ অংশ:
– ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, বাংলা বর্ণমালা ও যুক্তবর্ণ, সন্ধি, শব্দের উৎস, পারিভাষিক শব্দ, শব্দার্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, উপসর্গ, শব্দ প্রকরণ, বাগ্ধারা, সমাস, কারক ও বিভক্তি, বচন, পদ প্রকরণ, বাক্য সঙ্কোচন ও এক কথায় প্রকাশ, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বাচ্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
বাংলা অংশ অনেকটা বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অংশ কেউ ভালোভাবে শেষ করলে বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলা অংশ অনেকটাই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
অধ্যয়নের উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২২ সংস্করণ।
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর (অথবা যেকোনো শিক্ষক/স্কলারের বই)।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম (অথবা যেকোনো শিক্ষক/স্কলারের বই)।
লাল নীল দীপাবলি (বাঙলা সাহিত্যের জীবনী), হুমায়ুন আজাদ।
কতো নদী সরোবর (বাঙলা ভাষার জীবনী), হুমায়ুন আজাদ।
গুরুত্বপূর্ণ সকল লেখকের পেইজগুলো বাংলাপিডিয়াতে একনজর দেখে নিবেন।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
ইংরেজী – (২৫ নম্বর)
ইংরেজি অংশে সাধারণত Literature থেকে ২-৪টি প্রশ্ন আসে, বাকি প্রশ্নগুলো Grammar অংশ থেকে। তাই দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজিতে Grammar খুবই গুরত্বপূর্ণ।
❖ English Literature:
– এই অংশে Classification of English Literary Periods, Important Writers of the Different Ages, Literary Terms, Characters and Quotations of Famous Literary Works প্রভৃতি পড়বেন। সর্বোপরি এই অংশে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন।
❖ English Grammar:
– Grammar অংশ জোর দিয়ে পড়বেন। প্রথমত Vocabulary অংশে আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষায় ৩টি থেকে ৫টি পর্যন্ত Vocabulary সম্পর্কিত অর্থাৎ Meaning, Synonym, Antonym, Spelling প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসে। এই অংশে ভালো করার জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) পিডিএফটি দেখতে পারেন।
– এছাড়া Idioms এবং One Word Substitution থেকে নিয়মিত প্রশ্ন এসেছে। এই অংশে ভালো করার জন্য জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Idoms পিডিএফটি দেখতে পারেন।
– তাছাড়া Parts of Speech, Interchange of Different Parts of Speech, Gender, Number, Right form of Verb, Appropriate Preposition Fill in Blanks (Sentence Completion), Clause, Sentence and Correction, Voice, Narration, Translation, Degree প্রভৃতি টপিকগুলো পড়বেন।
Grammar অংশ থেকে যেহেতু অধিকাংশ প্রশ্ন আসে, এ অংশটি ভালোভাবে পড়ে যাবেন। ইংরেজি ভীতির কারণে এই অংশ কম গুরত্ব দেন। কিন্তু গোছানো প্রস্তুতি এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
Live MCQTM Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) PDF.
Live MCQTM Idioms PDF.
Applied English Grammar and Composition, P. C. Das.
A Passage to the English Language, S M Zakir Hossain.
An ABC OF English Literature, Dr. M. Mofizar Rahman.
ইংরাজি সাহিত্যের ইতিহাস, ড. শীতল ঘোষ।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
সাধারণ জ্ঞান – (২৫ নম্বর)
সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং ভূগোল থেকে মোট ২৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। এছাড়া নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন থেকে মাঝে মধ্যে ২/১টি প্রশ্ন আসতে পারে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে তুলনামূলক একটু বেশি প্রশ্ন আসে। এ অংশ ভালোভাবে শেষ করা গেলে যেকোন চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে।
❖ বাংলাদেশ বিষয়াবলি:
– এই অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের ইতিহাস, প্রাচীন জনপদ ও মধ্যযুগ দেখে যাবেন।
– ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। তাই অংশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। সংবিধান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এই অংশ ভালোভাবে পড়তে হবে।
– এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প-বাণিজ্য-কৃষি, জাতীয় অর্জন, খেলাধুলা, গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যক্তি ভালোভাবে পড়বেন।
❖ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি:
– বৈশ্বিক ইতিহাস, বিপ্লব ও সভ্যতা, মহাদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ দেশের সাধারণ তথ্য (রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা ইত্যাদি), বিখ্যাত ব্যক্তি (রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী), গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পড়বেন।
– আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন ও জোট, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আবিষ্কারক, খেলাধুলা প্রভৃতি।
❖ ভূগোল:
– নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়, প্রণালি, ভৌগোলিক উপনাম প্রভৃতি সম্পর্কিত।
– জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল (ম্যানগ্রোভ, রেইন, পাহাড়ি ইত্যাদি)।
– দেশীয় ও বৈশ্বিক স্থান ও স্থাপনা (ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ), জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সীমারেখা ইত্যাদি।
এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক বিষয়সমূহ দেখে যাবেন। সাম্প্রতিক যা পাবেন তাই পড়ার দরকার নেই, শুধু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট করে পড়তে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
অর্থনীতি বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ, বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা এই অধ্যায় সমূহ)।
বাংলাদেশের সংবিধান।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা প্রভৃতির ওয়েবসাইট।
উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস, প্রথম পত্র।
উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি, দ্বিতীয় পত্র।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্রিটানিকা, হিস্টোরি.কম, ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস প্রভৃতি প্রথিতযশা ওয়েবসাইট।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই। সাম্প্রতিকের জন্য দৈনিক পত্রিকা, Live MCQTM Daily NewsPicker, Live MCQTM Weekly
Bulletin, Live MCQTM সাম্প্রতিক সমাচার নিয়মিত অনুসরণ করবেন।
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান – (২৫ নম্বর)
এই অংশে গণিত থেকে সাধারণত ১৭-১৯টি প্রশ্ন আসে। এছাড়া দৈনন্দিন বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি থেকে ৬-৮টি প্রশ আসতে পারে। যদিও পিএসসি নন-ক্যাডার সিলেবাসে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি অংশটি নেই, তবে বিগত বছরের নন-ক্যাডারের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে দেখা গিয়েছে, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি অংশ থেকে মাঝে মধ্যে ১/২টি প্রশ্ন এসেছে।
❖ সাধারন গণিত:
পাটিগণিত অংশে, বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, ঐকিক নিয়ম প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
বীজগণিত অংশে বীজগাণিতিক রাশি, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, দ্বি-ঘাত ও সরল সহ-সমীকরণ, সূচক লগারিদম, অসমতা, সেট ও ফাংশন, ধারা (সমান্তর ও গুণোত্তর) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
এছাড়া ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, সরল রেখা, বৃত্ত ও বহুভুজ সংক্রান্ত সমাধান, পরিমিতি, ত্রিকোণমিতি, সম্ভাব্যতা, স্থানাঙ্ক জ্যামিতি, ঘড়ি ও সময় বিষয়ক সমস্যা পড়বেন।
❖ দৈনন্দিন বিজ্ঞান:
দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে খাদ্য ও পুষ্টি, উদ্ভিদের পুষ্টি, রক্ত, মানবদেহ ও রোগ জীবাণু, স্কেল, রাশি ও পরিমাপক, চুম্বক, তড়িৎ ও অন্যান্য শক্তি এবং শক্তির রূপান্তর, আধুনিক বিজ্ঞান, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও ব্যবহারিক বিষয় (যেমন – ফিটকিরি, বেকিং পাউডার ইত্যাদি), বিভিন্ন বিষয়ের জনক প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসে।
❖ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি:
কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটার প্রোগ্রাম (যেমন – অনুবাদক প্রোগ্রাম ইত্যাদি), ডাটাবেজ সিস্টেম, ডাটা কমিউনিকেশন, তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অংশ থেকে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন আসে।
অধ্যয়নের উৎস:
সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
Live MCQ Computer & ICT Cloud বই
পদার্থ, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। মৌলিক বিষয়গুলো এক নজর দেখে নিবেন।
বিগত বছরের পিএসসির বিসিএস ও নন ক্যাডার পরীক্ষায় আসা সকল প্রশ্ন ভালোভাবে পড়বেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
৯ম–১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস
বাংলা – [পূর্ণমান: ৫০ নম্বর]
ক্রমিক নং
বাংলা সিলেবাস
নম্বর
১
রচনা
১৫
২
সারাংশ/সারমর্ম
৫
৩
পত্র লিখন: ব্যক্তিগত পত্র, আবেদনপত্র, পত্রিকায় প্রকাশনার্থে পত্র, ব্যবসা সংক্রান্ত পত্র, স্মারকলিপি।
১০
৪
বঙ্গানুবাদ
৫
৫
ব্যাকরণ: ভাষার সংজ্ঞা, ভাষার রূপ, সাধুভাষা ও চলিত রীতির রূপান্তর, দেশি ও বিদেশি শব্দ, ণত্ব- বিধান ও ষত্ব-বিধানের সংজ্ঞা ও নিয়মাবলি, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদ, ধাতু, উপসর্গ, অনুসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, যতি বা বিরাম চিহ্ন, শুদ্ধ ও অশুদ্ধ, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, প্রতিশব্দ ও সমার্থক শব্দ, প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ, একই শব্দের বিভিন্নার্থে প্রয়োগ।
১৫
৬
মোট
৫০
ইংরেজি – [পূর্ণমান: ৫০ নম্বর]
ক্রমিক নং
ইংরেজি সিলেবাস
নম্বর
১
Essay (with hints)
১৫
২
Comprehension
১০
৩
Letter: Official/ Demi-Official/ Memorandum/ Business Type.
১০
৪
Grammar: Use of verbs, prepositions, Voice, Narration, Correction of errors in composition, use of words having similar pronunciation but conveying different meanings, use of idioms and phrases.
১৫
৫
মোট
৫০
সাধারণ জ্ঞান – [পূর্ণমান: ৪০ নম্বর]
ক্রমিক নং
সাধারণ জ্ঞান সিলেবাস
নম্বর
১
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিল্প ও সাহিত্য, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, জলবায়ু, পরিবেশ, বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যের অবদান, উন্নয়ন পরিকল্পনা।
১৫
২
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, গ্লোবালাইজেশন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ।
১৫
৩
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুৎ, আলো, চুম্বক, খাদ্যের উপাদান, জনস্বাস্থ্য, দূষণ, কম্পিউটার।
১০
৪
মোট
৪০
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত বাংলা গাইডলাইন-
প্রবন্ধ রচনা:
প্রবন্ধ সাহিত্যের এক বিশেষ প্রকরণ। সংস্কৃত শব্দ ‘প্রবন্ধ’ – এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘প্রকৃষ্টরূপে বন্ধন’; বাংলায় শব্দটির একই অর্থ রক্ষিত। গদ্যে রচিত লেখকের বুদ্ধিদীপ্ত, মননশীল, যুক্তিশাণিত আঁটোসাঁটো বন্ধনে নিয়ন্ত্রিত সাহিত্যরূপই হলো প্রবন্ধ। প্রবন্ধ শব্দটির বিকল্প হিসেবে বাংলায় ‘রচনা’ শব্দের ব্যবহারও লক্ষণীয়, যার অর্থ ‘নির্মাণ করা’। ইংরেজি Essay শব্দের পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর প্রকৃতি প্রবন্ধের সঙ্গে ঠিক মেলে না।
প্রবন্ধের প্রকারভেদ: প্রবন্ধ সাহিত্য প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: চিন্তাশ্রিত এবং ভাবাশ্রিত। প্রথমোক্ত ধরনে বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সর্বাধিক, আর দ্বিতীয়োক্ত ধরনে লেখকের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রাধান্য।
এছাড়াও যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:
যে বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ লেখা হবে সে বিষয়-সংশিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও উপকরণ আগেই ঠিক করতে হবে।
যে বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হবে সেই বিষয়ের ওপর নানা দিক থেকে আলো ফেলতে হবে। অর্থাৎ যতভাবে বিষয়টিকে দেখা যায় ততগুলো উপশিরোনাম বা অনুচ্ছেদ ঠিক করতে হবে।
উপশিরোনামগুলো বা অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য থাকতে হবে।
একই কথার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রবন্ধের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সম্পর্ক হবে জৈবিক। গঠনগত ঐক্য প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রবন্ধের মধ্যে প্রাবন্ধিকের চিন্তার স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবন্ধের মধ্যে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য যথাযথভাবে বিন্যাস করতে হয়।
সারার্শ/সারমর্ম: সারাংশ বা সারমর্ম লেখার নিয়ম –
নির্ধারিত অংশটি বার বার পড়ে মূল বক্তব্য অনুধাবন করতে হবে।
মূল অংশে যেসব অপ্রয়োজনীয় উপমা, অলঙ্কার, দৃষ্টান্ত আছে সারাংশে তা বাদ দিয়ে আসল কথাটা লিখতে হবে।
একই কথার পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। তেমনি প্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেয়া যাবে না।
সারাংশ খুব ছোট কিংবা বড় হবে না। মূল অংশের চেয়ে তা অবশ্যই আকারে ছোট হবে।
বক্তব্যের বর্ণনায় বিশেষণ, ক্রিয়াপদ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক ইত্যাদি অবান্তর। বাহুল্য বাদ দিয়ে মূল বিষয়টি সরাসরি লিখতে হবে।
মূল বিষয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনো বিষয় সারাংশে অবতারণা করা যাবে না। অনুমান নির্ভর কোনো ব্যাখ্যা বাঞ্ছনীয় নয়।
সারমর্ম কিংবা সারাংশ রচনার ভাষা মূলের অনুগামী হওয়া প্রয়োজন। সহজ-সরল মৌলিক ভাষায় বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে সবার সহজবোধ্য হয়।
উদ্ধৃত রচনায় একাধিক বিষয় থাকলে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে এবং মূল বিষয়টি থেকে যাতে রচিত অংশটি সরে না আসে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
শব্দ ও বাক্য প্রয়োগে সংযম অবলম্বন করতে হবে। একাধিক বিশেষণ প্রয়োগ বাঞ্ছনীয় নয়।
কোনো সাংকেতিক বিষয় থাকলে তার তত্ত্ব বের করতে হবে। ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য থাকলে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে প্রকাশ করতে হবে।
প্রদত্ত অনুচ্ছেদ অথবা কবিতাংশটি বারবার পড়ে মূলভাবটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
উদ্ধৃত অংশের মূলভাবের বাক্য/বাক্যগুলি চিহ্নিত করুন।
উপমা, উদাহরণ, উদ্ধৃতি ও রূপক আলাদাভাবে চিহ্নিত করুন।
সারাংশ লিখনের সময় লেখার আয়তনের দিকে লক্ষ রাখুন।
মূলভাবটি যথাযথ ও সহজ বাক্যবিন্যাসে লিখুন।
উপমা, রূপক উদ্ধৃতসহ সকল বাহুল্য বর্জন করুন।
একই কথার পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য করুন।
উদ্ধৃতাংশটি কোন কবি বা লেখকের সেটি বলার দরকার নেই।
প্রথম বাক্যটি হবে সহজ সরল ও মূলভাবের প্রতি নির্দেশক।
সারাংশটি লেখা হলে কয়েকবার পড়ে নিশ্চিত হন যে প্রয়োজনীয় কোনো কিছু বাদ যায়নি।
ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য অনুশীলন প্রয়োজন। সারাংশ রচনায় ভাষা পড়ে বুঝতে পারা ও সংক্ষিপ্ত করে লেখা এ দুটি বিষয়ের দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এ দক্ষতা অর্জন করতে হলে সারাংশ রচনার অনুশীলন করতে হবে।
পত্র লিখন:
পরীক্ষায় সামাজিক সমস্যা বা জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য সম্পদকের নিকট পত্র লিখতে হবে অথবা জীবনের মূল্যবোধ বা ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বন্ধু, বাবা-মা বা ছোট ভাই-বোন অথবা কোনো আত্মীয় স্বজনকে ব্যক্তিগত পত্র লিখতে হতে পারে।
পত্র লেখার সময় অবশ্যই পত্রের ফরমেট অনুসরণ করতে হবে। পত্রের ৬টি অংশের সবগুলোই যাতে পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখার সময় থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
সবচেয়ে ভালো হয় ২/৩টা করে ব্যক্তিগত পত্র, অফিসিয়াল পত্র, সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাছে লিখিত পত্র ইত্যাদি নোট করে রাখলে এবং ২/১ দিন পর পর সেগুলো চোখ বুলালে ফরম্যাটিং ভালো করে মনে থাকবে এবং কোনো অংশ মিস হবে না। তাছাড়া সপ্তাহে অন্তত একদিন লিখে অনুশীলন করা যেতে পারে। ফরম্যাটিং নোট করার জন্য ভাষা শিক্ষা বইটির সাহায্য নিতে পারেন।
পত্র লেখার ক্ষেত্রে সম্বোধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পত্রের প্রাপকের উপর নির্ভর করে কি ধরনের সম্বোধন হবে। পত্রের ক্ষেত্রে কি ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যাবে, সেগুলো বাংলা একাডেমি অভিধান ঘেঁটে সেগুলো নোট করে রাখলে পরবর্তীতে সুবিধা পাওয়া যাবে।
অনুবাদ:
জ্ঞানবিস্তারে অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অনুবাদের সাহায্যেই পৃথিবীর বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা সম্পর্কে সাধারণ পাঠক জ্ঞান লাভ করতে পারে। বিশ্বের অগণিত ভাষায় যে বিপুল জ্ঞানচর্চা হচ্ছে, শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন-সমাজতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব এবং মানববিদ্যার যে কোনো বিষয় নিয়ে জ্ঞানের যে প্রবাহ বিকাশ লাভ করছে তা সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম উপায় হলো অনুবাদ। অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত করা। কোনো রচনার বক্তব্য বিষয়কে পরিবর্তন না করে শুধু ভাষার পরিবর্তনকেই অনুবাদ বলা হয়। কোনো ভাষার সমৃদ্ধি সাধনে ও বিশ্বসাহিত্যের ক্ষেত্রে অনুবাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনুবাদের গুরুত্বের কারণে বিভিন্ন সাহিত্যে অনুবাদ নামক বিশেষ এক শাখা গড়ে উঠেছে। অনুবাদের দ্বারা পরস্পরের ভাষা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
ব্যাকরণ:
বাংলা ভাষাকে জানা এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ করার একমাত্র মাধ্যম হলো ব্যাকরণ। তেমনি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ব্যাকরণে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
ব্যাকরণ অংশে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে প্রিলিমিনারি এবং লিখিত উভয়ই সম্পন্ন হয়ে যাবে।
বুঝে পড়ার অংশ এবং মুখস্ত অংশ আলাদাভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন। বুঝে পড়ার অংশে ধ্বনি পরিবর্তন, সমাস, সন্ধি, প্রত্যয়, পদ প্রভৃতির বিস্তারিত নিয়মগুলো জানবেন। আর মুখস্ত অংশ যেমন বাগ্ধারা, এক কথায় প্রকাশ, প্রবাদ প্রবচন প্রচুর পড়তে হবে। তবে এগুলোর অর্থ বুঝে মুখস্ত করার চেষ্টা করবেন, তাহলে সহজেই মুখস্ত হবে পরবর্তীতে আর ভুলবেন না। যেমন- প্রবাদ-প্রবচনের একটা ইতিহাস বা স্টোরি থাকে, আপনি সেই ইতিহাস বা স্টোরি যদি জানতে পারেন তবে সহজে মনে থাকবে, পড়েও মজা পাবেন।
বাংলা বানান অবশ্যই ভালোভাবে জানতে হবে। বাক্যশুদ্ধি, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ শিখে নিবেন।
৯ম-১০ম শ্রেণির নতুন এবং পুরাতন ব্যাকরণ মিলিয়ে পড়বেন। সাংঘর্ষিক তথ্য পেলে নতুন বইকে প্রাধান্য দিবেন। হায়াৎ মামুদ স্যারের ভাষা-শিক্ষা বইটাও দেখতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই ইত্যাদি।
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত ইংরেজি গাইডলাইন-
Essay:
Essay ভালো লেখার পূর্বশর্ত হচ্ছে Free Hand Writing ভালো থাকা। একইসাথে নির্দিষ্ট Essay টি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানা। তথ্য না জানলে আপনি খুব বেশি ভালো লিখতে পারবে না।
শুরুতেই রচনা কোনটি লিখবেন তা সিলেক্ট করুন। তারপর Brainstorm শুরু করুন। মনের মাঝে কী কী তথ্য আছে সেটা Collect করে ফেলুন।
এবার পেন্সিল/কলম দিয়ে খাতায় একটা পেইজে একটা চার্ট রাফ করুন যে কী কী পয়েন্ট আপনি লিখবেন। কোন পয়েন্ট আগে আসবে, কোনটা পরে, কোনটায় বেশি ইনফো দিবেন, কোনটায় কম – চট করে সেটা এই চার্টে সাজিয়ে ফেলুন। Outline টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা অনেক সময় বাঁচায়। Wh questions-who/what/how/why/when/where- এইগুলো ধরে ধরে আগালে টপিক ক্লিয়ার হয়ে যায়।
এবার Introduction. খুব Snappy/Eye catchy একটা Introduction লেখার চেষ্টা করবেন যাতে পরীক্ষকের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষিত হয়।ভালো Introduction লেখার অনেক স্টাইল আছে। অন্যতম দুইটা হলো –
– প্রবাদবাক্য, কোন উক্তি দিয়ে শুরু করা। – ছোট্ট কোন গল্প দিয়ে শুরু করা (Extra সাহসী পদক্ষেপ এটা)।
Introduction যেন বেশী বড় না হয়, আবার বেশী ছোটও না হয়। Introduction এ সংজ্ঞায়ন করে ফেলার দরকার নেই।
Essay-তে Introduction – Conclusion মেনশন করার দরকার নেই। বরং মাথার মাঝে যে পয়েন্টটা আছে সেটা প্যারাগুলোর প্রথম বাক্যেই মেনশন করে ফেলুন। এতে কোন প্যারার প্রথম বাক্য দেখলেই পরীক্ষক বুঝে ফেলবেন ওই প্যারায় কী নিয়ে আলাপ করা হয়েছে।
Body of the essay – মানে ভূমিকা ও উপসংহারের মাঝখানের পয়েন্টগুলোর Order & Unity খেয়াল করতে হবে।
প্রথমেই সাজিয়ে নিতে হবে কোনটা আগে কোনটা পরে দিবেন। আবার একটার সাথে আরেকটার কানেকশন আছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখা লাগবে। Transition Words ব্যবহার করে Coherence ঠিক রাখা লাগবে।
Conclusion – A good ending makes your writing perfect. অনেকেই Essay এর উপসংহার চট করে শেষ করে দেন বা জাস্ট ১/২ বাক্যে শেষ করে দেন। এটা করা যাবে না। Conclusion আকারে ছোট হলেও Well organized & Well thought হতে হবে। দুয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সামারি এখানে আসবে। To the point, subject related প্রবাধ/উক্তি দিয়ে শেষ করা যায়।
Comprehension:
এই অংশে একটি Comprehension Passage দেয়া থাকবে। এখানে ভালো করার জন্য অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই। এই অংশ দ্বারা মূলত একজন পরীক্ষার্থীর Understanding ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। তাই এটি বুঝে তা থেকে উত্তর দিতে হবে। এটি সাধারণত কোন পত্রিকার কলাম বা কোন ম্যাগাজিনের আর্টিকেল হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কোন টপিক নিয়ে এটি হয় না। তাই নির্দিষ্ট কোন বই পড়লে কমন আসবে এমন কোন সুযোগ নেই। তবে কিছু কৌশল অনুসরণ করে একজন পরীক্ষার্থী তার English Language Understanding ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এখান থেকে Effectively উত্তর দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশ্ন সম্পর্কে একটা আইডিয়া করা যায়।
লেখার কৌশল:
– প্রথমেই সময় পরিকল্পনা। এটা লিখিত পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অনেকেই Passage এর প্রশ্নের উত্তরে বেশি সময় দিতে গিয়ে পরে অন্যান্য প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেন না। তাই আগেই ঠিক করে রাখতে হবে এই অংশে সর্বোচ্চ কত সময় ব্যায় করা যাবে।
– এবার Passage টি যেহেতু ভালোভাবে বুঝা অত্যন্ত জরুরি তাই উত্তর লেখা শুরু করার আগে এটি একাধিকবার পরে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আগে প্রশ্নগুলো পড়ে নিলে টার্গেট সেট করে নেয়া যায় যে ঠিক কি ধরণের ইনফরমেশন আপনাকে Passage থেকে বের করতে হবে। তাই শুরুতেই প্রশ্ন পড়ে নিয়ে প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ কি-ওয়ার্ড মার্ক করে নিতে হবে। এবার একটা একটা প্রশ্নের একটা একটা Keyword ধরে প্যাসেজে ঐ কি-ওয়ার্ডটি চিহ্নিত করতে পারলে সহজেই উত্তর দেয়া যাবে।
– Passage থেকে উত্তর দেয়ার সময় কোন বাক্য কপি করা যাবেনা, Sentence এর structure/ formation পরিবর্তন করে বা synonym/antonym ব্যবহার করে বা Sentence কে paraphrase করে উত্তর করা যেতে পারে।
– Grammar & Spelling ভুল করা যাবেনা। এক্ষেত্রে Complex and Compound Sentence ব্যবহার করলে নিঃসন্দেহে উত্তরের গুণগত মান অনেক বেড়ে যায়। তবে যদি ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে বা Complex and Compound Sentence ব্যবহারে যথার্থ পারদর্শীতা না থাকে, তবে Simple Sentence ব্যবহারই শ্রেয়।
– Passage এর বাহিরের কোন বিষয়ের সাথে এর অভ্যন্তরীণ কোন কিছু মিক্সড না করা ভালো।
– Formal language ব্যাবহার করতে হবে। Passive Voice & Modal Auxiliary এর ব্যবহারে ভাষাটা Formal করে তুলতে হবে। Contraction/Slang ব্যবহার করা যাবেনা।
Letter:
প্রথমেই হেডিং ও সেন্ডারের এড্রেস থাকবে। সাবজেক্ট অনেকেই না দিলেও চলে বলেন, তবে দেওয়াটাই সেইফ। Editor কে সম্বোধন করার পর ৩-৪ বাক্যে লেটারটি প্রকাশ করার অনুরোধ করে Yours/Sincerely/With Regards দিয়ে নাম, সংক্ষিপ্ত ঠিকানা দিয়ে শেষ করে দিবেন। এরপর থাকবে সিম্পল একটা টাইটেল।
এবার মূল feature/Report/ যেটা পাবলিশ হবে – সেটা লিখবেন। এ অংশকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়-
– Clarification of the issue. – Practical Experience /Present Condition. – Express your opinion. – Concluding statement.
অনেকেই এটা পুরো লেখার পর আবার লেখকের নাম ঠিকানা দেন, অনেকে দেন না। দুইটাই শুদ্ধ। এ ধরণের লেটারের আসলে নানান ফরম্যাট প্রচলিত।
লেখার সময় Formal languae ব্যাবহার করতে হবে। Passive Voice & Modal Auxiliary এর ব্যবহার Language কে Formal করে।
Alignment এর ক্ষেত্রে বৃটিশ অথবা আমেরিকান যেকোন একটা ব্যবহার করা যাবে।
Grammar:
Grammar অংশে ভালো করার জন্য যেকোনো একজন প্রখ্যাত লেখকের বই বুঝে বুঝে পড়ে ফেলতে হবে। Rules গুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা ক্রবেন। এক্ষেত্রে P. C. Das বা S M Zakir Hossain এর বই পড়তে পারেন। মোদ্দাকথা, Grammar এর ব্যাসিক স্ট্রং করতে হবে।
তাছাড়া Vocabulary অংশে আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। এই অংশে ভালো করার জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) পিডিএফটি দেখতে পারেন। Idioms এবং One Word Substitution অংশে ভালো করার জন্য জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Idoms পিডিএফটি দেখতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
Live MCQTM Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) PDF, Live MCQTM Idioms PDF.
Applied English Grammar and Composition, P. C. Das.
A Passage to the English Language, S M Zakir Hossain.
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত সাধারন জ্ঞান গাইডলাইন-
বাংলাদেশ বিষয়াবলি:
সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে প্রচুর লিখতে হয়। তাই বাসায় সবসময় দ্রুত হাতের লেখার অভ্যাস করতে হবে। আবার দ্রুত লিখতে গিয়ে হাতের লেখা যাতে অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মানচিত্র, চার্ট, সারণি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি সহকারে উত্তর করার চেষ্টা করবেন। এই বিষয়গুলো উত্তরপত্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রেজেন্টেশনও ভালো করে। উক্তি, পয়েন্ট, রেফারেন্স বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নীল কালিতে লিখার চেষ্টা করবেন। এতে পরীক্ষকের চোখ এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়াবে না।
বাংলাদেশ বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস (পটভূমি, ঘটনাক্রম); মূলনীতিসমূহ, সংবিধানের প্রস্তাবনা (উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য); সাংবিধানিক সংস্থাসমূহ ও পদসমূহ; সরকারি ও বেসরকারি বিল, অর্থবিল, বাজেট; মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রধর্ম, সংবিধানের প্রাধান্য, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, ধর্মনিরপেক্ষতা, জরুরি অবস্থা, নারীর অধিকার, নাগরিক অধিকারে সমতা, ন্যায়পাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ); রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি সংক্রান্ত অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ সমূহ, সংবিধানের সংশোধনী সমূহ ও সংবিধানের তফসিলসমূহ; সংবিধানের অভিভাবক, ব্যাখ্যাকারক, সংশোধন সংক্রান্ত বিধান ও নিয়ম, ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; সরকারের গুরুত্বপুর্ণ বিভাগসমূহ যেমন – আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ প্রভৃতি।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি (কৌশলগত অবস্থান, গুরুত্ব, সুবিধা); বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন – ভূমিরূপ, নদ-নদী, বনাঞ্চল ইত্যাদি; ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (কাঠামো, অর্থায়ন ও চ্যালেঞ্জ); সমুদ্র অর্থনীতি, সমুদ্র বিজয় (সরকারের পদক্ষেপ, বাস্তবায়নে করণীয়); বঙ্গবন্ধু দ্বীপ, ভাসানচর, প্রবাল দ্বীপ, সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড, বিগ-বি, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রভৃতি পড়বেন।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের বৈচিত্র্য (পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক); মানব সম্পদ উন্নয়নে করণীয়; ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, এর সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ; বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং প্রাসঙ্গিকতা; জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২; পরিবার পরিকল্পনা (পরিচিতি, প্রয়োজনীয়তা, সরকারের পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নে করণীয়) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ঘটনাবলি); মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব শক্তির ভূমিকা (ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র); মুক্তিযুদ্ধ ও প্রভাব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ ও বর্তমান প্রয়োজনীতা; স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যা, অপারেশ জ্যাকপট, অপারেশন সার্চলাইট, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, মুক্তিবাহিনী, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরপ্রতীক, উল্লেখযোগ্য অপারেশন ইত্যাদি।
বাংলাদেশের পরিবেশ (বৈশিষ্ট্য, দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিকার ও প্রতিরোধ); জলবায়ু পরিবর্তন (বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ (কারণ, প্রতিকার ও প্রশমনে করণীয়); সুন্দরবনের পরিবেশ, নদীদূষণ (কারণ, প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা বাঁধ, ই-বর্জ্য, যৌথ নদী কমিশন, সবুজ অর্থনীতি, SPARSO ইত্যাদি।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ (বিবরণ, ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ও করণীয়); বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ ( বিবরণ, সমস্যা-সম্ভাবনা, রক্ষার গুরুত্ব ও করণীয়); সামুদ্রিক সম্পদ (সম্ভাবনা ও আহরণে করণীয়), কৃষিজ ও মৎস সম্পদ; নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য সম্পদ; বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ; বিশ্ব ঐতিহ্যে স্বীকৃত বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ; পেট্রোবাংলা; বাপেক্স প্রভৃতি।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য; অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ (জ্বালানী সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কোভিড-১৯ অতিমারি); দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা; রপ্তানি আয় (তৈরি পোশাক শিল্প, মৎস্য খাত, পর্যটন শিল্প, পাট ও অন্যান্য উদীয়মান শিল্পের ভূমিকা); অর্থনীতির বিভিন্ন খাত (কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অন্যান্য উপখাত) ও তাঁদের অবদান; ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়; রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি, পর্যটন শিল্প, চামড়া শিল্প, মৎস খাত, পাট শিল্প, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, বাজেট, SDG, MDG (প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের সাফল্য ও করণীয়) প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ মূলবই।
৯ম-১০ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ মূলবই।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ সংশোধনী সম্বলিত মূল সংবিধান।
হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’।
মুনতাসির মামুনের লেখা ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’।
সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা।
প্রথিতযশা জাতীয় দৈনিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাম্প্রতিক কলামসমূহ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সরকারি ওয়েবসাইট।
বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যকোষ।
সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি:
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির উত্তরে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ছক, বক্স, গ্রাফ, চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার বৃদ্ধি করলে উত্তরপত্র প্রশংসার সাথে মূল্যায়িত হবে। মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারলে ভালো হয়। সরকারি নীতিসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে, কোনোভাবেই যেনো কোনো পয়েন্ট/শিরোনামে সরকারের সমালোচনা না থাকে, থাকলেও তা যেন গঠনমূলক সমালোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (সংজ্ঞা, প্রকৃতি, পরিধি, বিষয়বস্তু, গুরুত্ব); আন্তর্জাতিক রাজনীতি (পরিধি, বিষয়বস্তু, পাঠের প্রয়োজনীয়তা, নিয়ন্ত্রক উপাদানসমূহ); আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব; আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাস্তববাদ, আচরণবাদ, বহুত্ববাদ ও উদারনীতিবাদ; স্নায়ুযুদ্ধ (পরিচিতি, উৎপত্তির স্বরূপ, কারণসমূহ ও পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি); Clash of Civilization, UDHR, CEDAW, Shadow Pandemic, ম্যাগনা কার্টা, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি প্রভৃতি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ; ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব; বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সমস্যা ও সম্ভাবনা; বিদেশের বাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ (প্রয়োজনীয়তা, ভূমিকা ও কৌশল); আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ, অর্জন ও সম্ভাবনা; বাংলাদেশ-চীন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক; স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ; বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রভৃতি।
জাতিসংঘ (গঠনের পটভূমি, কার্যাবলি, সাফল্য ও ব্যর্থতা, মহাসচিবের ক্ষমতা ও কার্যাবলি); জাতিসংঘের সনদ অনুসারে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও মূল দায়িত্ব; জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সাফল্য ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ; আন্তর্জাতিক আদালত (গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি); পরিবেশগত এজেন্ডা, মানবাধিকার এজেন্ডা; শরণার্থী সংকট মোকাবেলায়, নারীর ক্ষমতায়নে ও আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় জাতিসংঘের ভূমিকা।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম, নীতিমালা ও ভূমিকা); ব্রিকস, আইডিবি, AIIB, NDB; জি-৭, জি-২০, জি-৭৭ (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম); কিয়োটা প্রটোকল চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনে কপ (COP) এর পদক্ষেপ প্রভৃতি।
সার্ক (অবদান, সাফল্য-ব্যর্থতা, সনদ পরিবর্তনে পরামর্শ ও বর্তমান অবস্থা); ন্যাম (গঠন, কার্যক্রম, অবদান ও কার্যকর করার জন্য পরামর্শ); ইউরোপীয় ইউনিয়ন (বিকাশ ও সম্প্রসারণ); ও.আই.সি (গঠন, কার্যাবলি, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা); ওপেক (গঠন, পটভূমি, উদ্দেশ্য, অবদান ও সম্ভাবনা); ASEAN, BIMSTEC, EU, ASEAN, APEC, AU, GCC, Common Wealth, RCEP (গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, সাফল্য-ব্যর্থতা); NATO (উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালি); দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য চুক্তি: SAPTA, SAFTA; AFTA ও অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সহযোগীতা চুক্তি প্রভৃতি।
বিশ্বায়ন, বিশ্বের প্রধান ইস্যু ও দ্বন্দ্বসমূহ; বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক সংবাদ, প্রাসঙ্গিক কলাম ও সম্পাদকীয়।
নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি- তারেক শামসুর রেহমান।
বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি- শাহ মুহাম্মদ আব্দুল হাই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি- মোঃ আবদুল হালিম।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ের পাঠ্য।
বেবি মওদুদের রচনায় ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনা’ গ্রন্থ।
অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামের ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক’ বই।
মোস্তফা কামালের লেখা ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশ’।
সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।
ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া – ইত্যাদি থেকে টপিক সার্চ করে বিস্তারিত পড়ে নিবেন।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেকের জন্য ভয়ের কারণ। তবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিল এখানে সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সম্ভব। কারণ নন-ক্যাডারে অংশে খুব বেশি ডিপ থেকে আসার সম্ভাবনা নেই। ৯ম-১০ম শ্রেণিতে সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে হুবুহু প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের পরীক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বইগুলো পড়তে পারেন। অন্যরা শুধু টপিক ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন।
বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বর পেতে হলে সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক ও চিত্রসহ (যদি প্রয়োজন হয়) বিষয়বস্তু বর্ণনা করতে পারলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। চিত্র আকা ও সমীকরণ লিখার জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা উচিত। তবে সমীকরণ অন্য রংয়ের কলম দিয়েও লেখা যেতে পারে। কোনভাবেই লাল রংয়ের কালির কলম ব্যবহার করা যাবে না।
বিজ্ঞানের গুরত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
আলোর প্রকৃতি, বর্ণালি; বিভিন্ন রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্য; অতিবেগুনি রশ্মি, অবলোহিত রশ্মি ও লেজার; আলোর প্রতিফলন, আলোর প্রতিসরণ, আলোর বিচ্চুরণ; লেন্স, আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন; আলোর কণাতত্ত্ব, আইনস্টাইনের ফটোতড়িৎ সমীকরণ, আলোক কোষ প্রভৃতি।
চুম্বক ও চুম্বকত্ব; চৌম্বক ও অচৌম্বক পদার্থ; চৌম্বকের পোলারিটি এবং বিদ্যুতের সাথে সম্পর্ক; চৌম্বক বলরেখা; দন্ড চুম্বক হিসেবে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র; তড়িৎ চুম্বক; ট্যানজেন্ট গ্যালভানোমিটার; কম্পন ম্যাগনেটোমিটার; ডায়া, প্যারা, ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ; তড়িৎ চুম্বক ও স্থায়ী চুম্বক প্রভৃতি।
মাটি, মাটির প্রকারভেদ, মাটির গঠন, মাটির বৈশিষ্ট্য, মাটির pH; মাটি ক্ষার ও অম্ল হওয়ার কারন, বাফারিং; মাটি দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিরোধ; প্রাকৃতিক গ্যাস ও এর প্রধান উপাদান; প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও কয়লার উৎস, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার; বনপালনবিদ্যা, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণ; দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান, বিভিন্ন ধরনের দূষণ প্রভৃতি।
খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান; প্রোটিন; স্নেহ ও লিপিড; শর্করা; ভিটামিন; শর্করা ও প্রোটিনের প্রকারভেদ ও উৎস; রাফেজ; পুষ্টি মান; সুষম খাদ্য উপাদান তালিকা; সুষম খাদ্যের পিরামিড; বডি মাস ইনডেক্স (BMI), জাঙ্ক ফুড; খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি; খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ও এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।
রোগ সংক্রমণ, কারণ ও প্রতিকার; এন্টিবায়োটিক; স্ট্রোক; হৃদরোগ; উচ্চ রক্তচাপ; ডায়াবেটিস; ডেঙ্গু; কোভিড-১৯; এইডস; ক্যান্সার; ডায়রিয়া; মাদকাসক্তি; ভ্যাকসিনেশন; ফুড পয়েজনিং; কেমোথেরাপি; রেডিওথেরাপি; সিটিস্ক্যান; এম.আর.আই প্রভৃতি।
কম্পিউটার ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
কম্পিউটার সংগঠন ও কার্যাবলি, কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটারের প্রজন্ম; সিপিইউ ও তার অংশ, মাইক্রোপ্রসেসর, মাদারবোর্ড; কম্পিউটার মেমরি, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস, বায়োস, বাস আর্কিটেকচার; অনুবাদক প্রোগ্রাম; প্রোগ্রামিং ভাষা; সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, অফিস অটোমেশন; কম্পিউটার ভাইরাস, দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের প্রভাব প্রভৃতি।
ডাটা ও ডাটা কমিউনিকেশন, তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বন্টন; ডাটাবেজ সফটওয়্যার ও কাঠামো, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম; মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার; LAN, MAN, WAN, GPS, টপোলজি, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস (রাউটার, সুইচ, হাব প্রভৃতি); প্রোটোকল, ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার; WWW, ওয়েব প্রযুক্তি, জনপ্রিয় ওয়েবসাইটসমূহ; ক্লাউড কম্পিউটিং, ইমেইল, ডাটাবেজ, সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; ট্রান্সমিশন মিডিয়া, ব্যান্ডউইথ, অপটিক্যাল ফাইবার, ওয়াইফাই; টেলিকমিউনিকেশন এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ভিস্যাট; ই-কমার্স; সাম্প্রতিক আলোচিত তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই।
২০১৯ সংস্করণের ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (অবশ্যই পড়তে হবে)।
৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বই।
৮ম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বই।
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
বীজগণিত: বর্গ ও ঘন এর সূত্র এবং এর ব্যবহার, ল.সা.গু, গ. সা. গু, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, সমাধান, মান নির্ণয় ইত্যাদি।
১৫
৩
জ্যামিতি: প্রাথমিক ধারণা ও সংজ্ঞা, রেখা, বিন্দু, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ সম্পৰ্কীয়, বিষয়াদি; ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত সম্পৰ্কীয় বিষয়াদি, ত্রিকোণমিতি ইত্যাদি।
১০
৪
মানসিক দক্ষতা: Ability to understand language, decision making ability, ability to measure spatial relationship and direction, problem solving ability, perceptual ability etc.
২০
৫
মোট
৬০
গণিত:
গণিতে ৩টি অংশ আলাদা রয়েছে। যথা- পাটিগণিত, বীজগণিত এবং জ্যামিতি। নন-ক্যাডার সিলেবাসটা অনেকাংশে বিসিএস সিলেবাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেউ বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিলে এই অংশ কভার হয়ে যায়। তদুপরি, যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় গণিত অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণিতের প্রস্তুতি সবমসয় ভালোভাবে নেওয়া উচিত।
❖ পাটিগণিত:
– বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, সরল, গড়, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম গণিতের ব্যাসিক বিষয়। এগুলো সকলেরই জানা থাকা উচিত। এগুলোর ব্যাসিক শক্তিশালী না হলে গণিতে ভালো করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অবশ্যই সবাই এ অধ্যায়গুলো ভালোভাবে শিখে যাবেন।
– সেট প্রকাশের পদ্ধতি, সেটের বিভিন্ন অপারেশন, বিভিন্ন সেটের সংজ্ঞা, ডোমেইন রেঞ্জ নির্ণয়, কার্তেসীয় গুণজ, ক্রমজোড়ের সূত্র, ডি মরগ্যান এর সূত্র সম্পর্কিত সমস্যাসমূহ দেখবেন। ভেনচিত্র সম্পর্কিত সমস্যাসমূহ পড়ে যাবেন।
– সমান্তর ও গুণোত্তর ধারার সকল সূত্রাবলি মুখস্ত রাখতে হবে এবং প্রয়োগ জানতে হবে। অসীমতক সমষ্টির নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ অনুপাত ও উল্লিখিত শর্ত লক্ষ্য রেখে সমাধান করতে হবে। কিছু কিছু পৌনঃপনিক থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আবৃত ভগ্নাংশের ব্যবহার ও প্রয়োগ জেনে যাবেন।
❖ বীজগণিত:
– বীজগাণিতিক সূত্রাবলি এবং বহুপদী উৎপাদকে বিশ্লেষণ খুবই গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই এই টপিকের ব্যাসিক থেকে শুরু করে ডিপ সব ধরনের অংক সমাধান করার দক্ষতা থাকতে হবে। বীজগণিতের সকল সূত্রাবলি মুখস্থ রাখতে হবে এবং সূত্রাবলির প্রয়োগ জানতে হবে।
– সূচক এবং লগারিদম থেকে প্রায়ই লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। লিখিত পরীক্ষার জন্য এটা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়ে যাবে। সূচক এবং লগারিদমের সূত্রাবলি ভালোভাবে মুখস্থ রাখতে হবে এবং প্রয়োগ জানতে হবে।
❖ জ্যামিতি:
– জ্যামিতিতে ভালো করার জন্য জ্যামিতির ব্যাসিক বিষয়গুলো যেমন: বিভিন্ন ধরনের রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ট্রাপিজিয়াম, বৃত্ত প্রভৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। উপপাদ্য মাধ্যমিক গণিত এবং উচ্চতর গণিত বই থেকে সরাসরি সম্ভাবনা রয়েছে। অধ্যায় শেষে অনুশীলনীর সমস্যাগুলোও সমাধান করবেন। ত্রিভুজ সংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য সম্পর্কিত প্রমান এবং বৃত্ত সম্পর্কিত উপপাদ্যগুলো পড়বেন।
– পরিমিতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমে অংশে রয়েছে সরলক্ষেত্র (যেমন- ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, সামান্তরিক, ট্রাপিজিয়াম প্রভৃতি) এবং দ্বিতীয় অংশে ঘনবস্তু (যেমন: ঘনক, কোণক, গোলক, বেলন, সিলিন্ডার, পিরামিড, প্রিজম প্রভৃতি)। পরমিতিতে ভালো করতে হলে সরলক্ষেত্র এবং ঘনবস্তুসমূহের ক্ষেত্রফল ও অন্যান্য সূত্রগুলো মুখস্ত রাখতে হবে।
– ত্রিকোণমিতিক অনুপাতের মধ্যে সম্পর্কসমূহ এবং সূত্রসমূহ মুখস্থ করতে হবে। বিভিন্ন ত্রিকোণমিতিক অনুপাতের (0, 30, 45, 60, 90) ডিগ্রীর মানগুলো মুখস্থ রাখতে হবে। উন্নতি কোণ, অবনতি কোণ, দূরত্ব, উচ্চতা সম্পর্কিত সমস্যাসমূহের বিশেষভাবে সমাধান করতে হবে। বোর্ড বইয়ের এই অধ্যায়ের সমস্যা সমূহের সমাধান করতে হবে।
অধ্যয়নের উৎস
সরল ও যৌগিক মুনাফা ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১ এবং ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩.৫, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪.৩ থেকে পড়বেন।
শতকরা ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪ থেকে পড়বেন।
লাভ-ক্ষতি ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩.৫, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪.২ থেকে পড়বেন।
অনুপাত-সমানুপাত ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১, ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩ থেকে পড়বেন।
ঐকিক নিয়ম ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.৩, ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.৩, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ২ থেকে পড়বেন।
সেট ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৭; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১ থেকে পড়বেন।
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৭ থেকে পড়বেন।
বীজগাণিতিক সূত্রাবলি এবং বহুপদী উৎপাদকে বিশ্লেষণ ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪, ৫ এবং ৬; ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪ এবং ৫; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০০২ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় ২, ৩ এবং ৪ থেকে পড়বেন।
সূচক এবং লগারিদম ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৯; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬ থেকে পড়বেন।
জ্যামিতি ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬, ৮, ৯ এবং ১০; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬, ১৪ এবং ১৫; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩ থেকে পড়বেন।
পরিমিতি ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৫ এবং ১৬; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৩ থেকে পড়বেন।
ত্রিকোণমিতি ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৯ এবং ১০; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৮ থেকে পড়বেন।
সর্বশেষ সংস্করণের নির্ভরযোগ্য যেকোনো গাইডবই।
মানসিক দক্ষতা:
মানসিক দক্ষতাকে মূলত ৬টি অংশে বিভক্ত করা যায়। বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং লিখিত মানসিক দক্ষতা অংশের জন্য প্রস্তুতি নিলে এই অংশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। মানসিক দক্ষতায় ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। মনে রাখবেন এই বিষয়ে সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া সম্ভব।
বানান ও ভাষা: ভাষাগত যৌক্তিক বিচার অংশে মূলত আপনার চিন্তা করা ক্ষমতা, জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হবে। এই অংশে সাধারণত কোন শব্দ, শব্দগুচ্ছ বা বাক্য কার্যকরভাবে ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এছাড়া সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে পাশাপাশি ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক বিষয়ায়বলি থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। সামাজিক এবং পরিস্থিতি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে।
সমস্যা সমাধান: এই অংশে আপনার গাণিতিক সমস্যা, জ্যামিতিক সমস্যা ও অনুধাবন ক্ষমতা ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এছাড়া সাধারণ গণিতের যেকোন অঙ্ক আসতে পারে। যেমন: ঘড়ি, দিনপুঞ্জি, কাজ-সময়, ট্রেন-নৌকা-গতি, সম্পর্ক অনুধাবন প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
সংখ্যাগত দক্ষতা: এই অংশে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাগত ক্ষমতা যাচাই করা হয়। সংখ্যাগত হিসাব, ধারায় সংখ্যার অবস্থান, ধারা থেকে বিলুপ্ত সংখ্যা খোঁজা, সংখ্যা চিহ্নিতকরণ প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। এছাড়া চিত্রে যৌক্তিক সংখ্যা কোনটি হবে, জ্যামিতিক চিত্রে সংখ্যা ব্যবহারের দক্ষতা প্রভৃতি সক্ষমতা দেখা হয়।
স্থানাঙ্ক সম্পর্ক: এ অংশে একটি চিত্র হতে লুকায়িত চিত্র খুঁজে বের করতে বলা হতে পারে। কোডিং-ডিকোডিং, দিক এবং দূরত্ব নির্ণয় করতে বলা হয়। পরীক্ষার্থীর বহুমাত্রিক অবস্থান নির্ণয়ের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
বিমূর্ত যুক্তি: এই অংশে আয়নায় ও পানিতে প্রতিবিম্ব নিরূপণ করতে দেওয়া হয়। বাংলা ও ইংরেজি বর্ণ এবং সংখ্যার আয়নায় ও পানিতে প্রতিবিম্বরূপ মুখস্ত রাখতে হবে। একটি অসম্পূর্ণ চিত্র সম্পূর্ণ করতে বলা হতে পারে। চিত্র থেকে ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ গণনা করার প্রক্রিয়া জানতে হবে। কাগজের ভাঁজ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করার নিয়ম জানতে হবে। বিভিন্ন ধরনের চিত্র বা ডায়াগ্রাম হতে ব্যতিক্রমী চিত্র বা ডায়াগ্রামটি খুঁজে বের করতে হয়।
যান্ত্রিক দক্ষতা: এই অংশে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সরল ও জটিল যন্ত্রাংশ ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে। তাছাড়া লিভারের ভারসাম্য, কপিকল, স্প্রিং, গিয়ারের ঘূর্ণন দিক নির্ণয় সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
অধ্যয়নের উৎস
বিগত বিসিএস লিখিত ও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আসা মানসিক দক্ষতার সব প্রশ্ন একসাথে সংগ্রহ করে সমাধান করে ফেলতে হবে। একই টপিকের অন্যান্য প্রশ্নগুলোর উপরও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
মানসিক দক্ষতার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন – Examveda, Indiabix ইত্যাদি থেকে বিসিএস সিলেবাসের টপিকগুলোর উপর প্রস্তুতি নিন।
The Aptitude Test Workbook by Jim Barrett বইটি থেকে সিলেবাস মিলিয়ে পড়তে পারেন।
Mechanical Aptitude Test by Paul Newton বইটি থেকে সিলেবাস মিলিয়ে পড়তে পারেন।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইডবই।
টেকনিক্যাল পদের প্রিলিমিনারি এবং লিখিত প্রস্তুতির জেনারেল অংশের গাইডলাইন সম্পর্কে জানতে উপরের নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) অংশের বিষয়ভিত্তিক গাইডলাইন ও সাজেশন দেখুন। পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিগত সময়ে আসা পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিন।
প্রিয় চাকরির প্রত্যাশীগণ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান PDF সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। কর্মসংস্থানের দিক থেকে সরকারি চাকরির স্থান বরাবরই সবার উপরে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বেশিরভাগই বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন সরকারি চাকরির ন্যায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অনেক চাকরির প্রত্যাশীগণ অংশগ্রহন করে থাকেন।
যেকোন চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমরা শুরুতেই উক্ত চাকরির বিগত সালে আসা প্রশ্ন সমাধানের পরামর্শ দিয়ে থাকি। কেননা বেশির ভাগ সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে বিগত সাল থেকে অনেক প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়। তাই এ চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতির প্রারম্ভাগেই যদি প্রশ্নব্যাংক সমাধান করা যায় তাহলে পরবর্তী প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হবে এবং কোন অংশগুলোর উপর জোর দিয়ে পড়তে হবে এ বিষয়গুলো আপনাদের কাছে স্পষ্ট হবে। যা আপনার প্রস্তুতিকে অনেকটাই সহজ করে তুলবে।
প্রশ্নব্যাংকের নানাবিধ গুরুত্বের বিষয় বিবেচনা করে আমরা শুরু করেছি বিভিন্ন চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান সংক্রান্ত বিশেষ সিরিজ। এই সিরিজের আওতায় আজকে ব্লগে অথেনটিক রেফারেন্স ও নির্ভুল ব্যাখ্যাসহ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান PDF ফরম্যাটে প্রকাশ করা হয়েছে। পিডিএফটি আপনারা চাইলে ডাউনলোড করে কিংবা প্রিন্ট করেও পড়তে পারবেন।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান PDF ডাউনলোড করুন
বাংলাদেশ ডাক বিভাগ মেইল অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান PDF