Category: Guideline

  • সকল প্রাইভেট ব্যাংকের নিয়োগ পদ্ধতি ২০২৬ – Private Bank Recruitment Process | পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    সকল প্রাইভেট ব্যাংকের নিয়োগ পদ্ধতি ২০২৬ – Private Bank Recruitment Process | পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি প্রাইভেট ব্যাংকগুলোও এখন আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার। কিন্তু অনেকেই জানেন না- প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি ঠিক কীভাবে কাজ করে? কোথায় আবেদন করতে হয়? কী কী পরীক্ষা দিতে হয় এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিলে সাফল্য আসে।

    প্রতিটি প্রাইভেট ব্যাংকে রয়েছে দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ, আধুনিক কর্মপরিবেশ এবং উচ্চ বেতন কাঠামো। তাই প্রতি বছর লক্ষাধিক তরুণ ব্যাংকিং সেক্টরে প্রবেশ করতে চান।  এই ব্লগে আমরা প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আবেদন থেকে শুরু করে চাকরিতে যোগদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সহজ ভাষায় তুলে ধরা হবে। যেন, আপনি সঠিকভাবে প্রাইভেট ব্যাংকের প্রস্তুতি নিতে পারেন।

    প্রাইভেট ব্যাংকের বিভিন্ন পদসমূহ

    প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির আবেদন করার আগে জানা দরকার- কোন কোন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সাধারণত নিচের পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হয়:

    এন্ট্রি লেভেল পদ:

    • Management Trainee Officer (MTO)  সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক পদ
    • Probationary Officer (PO)  সরাসরি অফিসার হিসেবে যোগদান
    • Trainee Assistant Officer (TAO)  ব্র্যাঞ্চ লেভেলের কাজের জন্য
    • Teller / Cash Officer  ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব
    • Customer Service Officer (CSO)  গ্রাহকসেবা বিভাগ

    মিড ও সিনিয়র লেভেল পদ:

    • Senior Officer / Principal Officer
    • Assistant Vice President (AVP)
    • Vice President (VP)
    • Senior Vice President (SVP)
    • Deputy Managing Director (DMD)

    বিশেষায়িত পদ:

    • IT Officer / Software Engineer (টেক ব্যাংকিং বিভাগ)
    • Credit Analyst
    • Risk Management Officer
    • Human Resources Officer
    • Legal & Compliance Officer

    প্রতিটি পদে আবেদনের যোগ্যতা, পরীক্ষার ধরন এবং বেতন কাঠামো আলাদা। MTO ও PO পদে সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা হয়, কারণ এখানে ক্যারিয়ার গ্রোথের সুযোগ সবচেয়ে বেশি।

    প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি – Private Bank Recruitment Process

    বাংলাদেশের প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি সাধারণত কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। নিচে প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

    ১. অনলাইনে আবেদন (Online Application)

    প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতির প্রথম ধাপ হলো অনলাইনে আবেদন করা। বর্তমানে প্রায় সব প্রাইভেট ব্যাংকই অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। 

    কোথায় আবেদন করবেন?

    • সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের Career Section
    • bdjobs.com — দেশের সবচেয়ে বড় জব পোর্টাল
    • linkedin.com — অনেক ব্যাংক এখানে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়

    আবেদনের সময় যা যা লাগে:

    • আপডেটেড CV বা Resume (সর্বোচ্চ ২ পৃষ্ঠা)
    • সকল শিক্ষাগত সনদের স্ক্যান কপি
    • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন
    • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
    • কভার লেটার (কিছু ব্যাংক চায়)


    টিপস: আবেদনের আগে ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। সার্কুলারে উল্লিখিত সব শর্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং CV তে মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

    ২. CV শর্টলিস্টিং

    আবেদন জমা পড়ার পর ব্যাংকের HR বিভাগ প্রাপ্ত সকল CV রিভিউ করে একটি শর্টলিস্ট তৈরি করে। এই ধাপে সাধারণত নিচের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়:

    • একাডেমিক রেজাল্ট: CGPA, SSC ও HSC এর ফলাফল
    • ইন্সটিটিউশন: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়
    • প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা: ব্যাংকিং বা ফিনান্স সংক্রান্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা
    • CV এর মান: পরিপাটি, তথ্যবহুল এবং প্রফেশনাল CV

    শর্টলিস্টকৃত প্রার্থীদের সাধারণত ইমেইল বা SMS-এর মাধ্যমে পরবর্তী ধাপের জন্য ডাকা হয়।

    ৩. লিখিত পরীক্ষা (Written Exam)

    প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই পরীক্ষায় সাধারণত MCQ ও Written উভয় ফরম্যাটে প্রশ্ন থাকে।

    পরীক্ষায় যা যা থাকে:

    বিষয়বিবরণ
    বাংলাব্যাকরণ, সন্ধি, সমাস, বাগধারা, ভাব সম্প্রসারণ
    EnglishGrammar, Vocabulary, Comprehension, Writing
    গণিতArithmetic, Algebra, Percentage, Profit-Loss
    সাধারণ জ্ঞানবাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, ব্যাংকিং
    কম্পিউটার ও ITBasic IT, MS Office, Internet
    Analytical AbilityReasoning, Logic, Data Interpretation

    পরীক্ষার সময়কাল সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট। কিছু ব্যাংক (যেমন BRAC Bank, Dutch-Bangla Bank) IBA, DU বা অন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা করে।

    ৪. ভাইভা ও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এই ধাপে একটি প্যানেল বোর্ড প্রার্থীর সাথে সরাসরি কথা বলে।

    ভাইভায় যা জিজ্ঞেস করা হয়:

    • নিজের পরিচয় ও ব্যাকগ্রাউন্ড
    • ব্যাংকিং সম্পর্কিত জ্ঞান
    • কেন এই ব্যাংকে কাজ করতে চান?
    • দেশের অর্থনীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনা
    • পেশাদার লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

    ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে যা লাগে:

    • সকল একাডেমিক সনদ ও মার্কশিট (মূল কপি)
    • জাতীয় পরিচয়পত্র
    • চারিত্রিক সনদপত্র
    • অভিজ্ঞতা সনদ (যদি থাকে)
    • পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট (কিছু ব্যাংকে)

    পরামর্শ: ভাইভায় আত্মবিশ্বাসী থাকুন। নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সৎভাবে উত্তর দিন এবং কীভাবে সেটি কাটিয়ে উঠছেন তা বলুন।

    ৫. অন্যান্য পরীক্ষা (ব্যাংক ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

    কিছু প্রাইভেট ব্যাংক তাদের নিয়োগ পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ধাপ যোগ করে:

    • Psychometric Test: ব্যক্তিত্ব ও মানসিক দক্ষতা যাচাই
    • Group Discussion (GD): দলগত আলোচনায় নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন
    • Medical Examination: শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিতকরণ
    • Background Check: পূর্ববর্তী কর্মস্থল ও চরিত্র যাচাই

    উল্লেখযোগ্যভাবে, BRAC Bank, City Bank, Eastern Bank (EBL), Standard Chartered-এর মতো ব্যাংকগুলো এই অতিরিক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে।

    ৬. জব অফার ও জয়েনিং

    সব ধাপ সফলভাবে পার হলে প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক Job Offer Letter পাঠানো হয়। এতে থাকে:

    • পদের নাম ও বিভাগ
    • বেতন ও সুযোগ-সুবিধার বিবরণ
    • যোগদানের তারিখ ও স্থান
    • শর্তাবলী ও চুক্তির মেয়াদ

    অফার গ্রহণ করলে নির্ধারিত তারিখে Joining করতে হয়। সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের Probation Period থাকে, যেখানে কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।

    আবেদনের যোগ্যতা

    প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি অনুযায়ী আবেদন করতে হলে নিচের যোগ্যতাগুলো সাধারণত প্রয়োজন হয়:

    শিক্ষাগত যোগ্যতা:

    • যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি
    • MTO পদে সাধারণত ন্যূনতম CGPA ৩.০০ (৪.০০ স্কেলে) চাওয়া হয়
    • SSC ও HSC-তে কোনো তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয়
    • BBA/MBA বা Finance/Banking বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়

    বয়সসীমা:

    সাধারণত ৩০ বছরের মধ্যে (কিছু ব্যাংকে ৩২ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়)

    অন্যান্য যোগ্যতা:

    • ভালো কমিউনিকেশন স্কিল (বাংলা ও ইংরেজি উভয়)
    • কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা
    • দলগত কাজ করার মানসিকতা
    • সততা ও নৈতিকতা

    প্রাইভেট ব্যাংকের চাকরির জন্য প্রস্তুতি

    প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি বোঝার পাশাপাশি সঠিক প্রস্তুতিই পারে আপনাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে। নিচে একটি কার্যকর প্রস্তুতি পরিকল্পনা দেওয়া হলো:

    Study Plan

    সময়কালকরণীয়
    ১ম মাসবাংলা ও ইংরেজি গ্রামার বেসিক শেষ করুন
    ২য় মাসগণিত ও Analytical Reasoning প্র্যাকটিস করুন
    ৩য় মাসসাধারণ জ্ঞান ও ব্যাংকিং বিষয়ক পড়াশোনা
    ৪র্থ মাসমডেল টেস্ট ও দুর্বল বিষয়গুলো রিভিশন

    দৈনিক রুটিন:

    • সকাল: গণিত ও Analytical Ability (১-১.৫ ঘণ্টা)
    • দুপুর: বাংলা ও ইংরেজি (১ ঘণ্টা)
    • রাত: সাধারণ জ্ঞান ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স (৩০ মিনিট)
    • সাপ্তাহিক: ১টি পূর্ণ Mock Test

    গুরুত্বপূর্ণ বই

    • বাংলা: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ (NCTB), অগ্রদূত বাংলা ব্যাকরণ
    • English: Cliff’s TOEFL, Barron’s Essential Words, Competitive English Grammar
    • গণিত: খাইরুলস ম্যাথ, R.S. Aggarwal Quantitative Aptitude
    • সাধারণ জ্ঞান: MP3 সিরিজ, আজকের বিশ্ব, নিয়মিত পত্রিকা পড়া
    • ব্যাংকিং: Bangladesh Bank-এর প্রকাশনা, জয়কলি ব্যাংকিং গাইড

    Online Resource

    • Live MCQ™ প্রাইভেট ব্যাংক জব প্রস্তুতি 
    • YouTube: BCS ও Bank Job প্রস্তুতির চ্যানেলগুলো অনুসরণ করুন
    • Facebook Groups: “Bank Job Preparation BD”, “MTO Preparation” গ্রুপে যোগ দিন
    • 10 Minute School: ব্যাংক পরীক্ষার বিশেষ কোর্স
    • Shikho / Bohubrihi: অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম
    • Bangladesh Bank-এর ওয়েবসাইট থেকে ব্যাংকিং নিয়ম ও বিধি পড়ুন

    Mock Test

    Mock Test দেওয়া প্রস্তুতির সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এটি আপনাকে:

    • পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে পরিচিত করে
    • সময় ব্যবস্থাপনা শেখায়
    • দুর্বল বিষয় চিহ্নিত করতে সাহায্য করে

    কোথায় Mock Test দেবেন:

    • bdjobs.com এর Practice Section
    • Prothomalo Jobs পোর্টাল
    • বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম
    • আগের বছরের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে নিজেই পরীক্ষা দিন

    প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় স্কিল

    শুধু পরীক্ষায় পাস করলেই হবে না- ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে টিকে থাকতে ও এগিয়ে যেতে কিছু বিশেষ দক্ষতা থাকা জরুরি:

    ১. যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skill) 
    ব্যাংকে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে কথা বলতে হয়। স্পষ্ট, বিনম্র ও কার্যকর যোগাযোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে — বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায়।

    ২. বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা (Analytical Skill) 
    ঋণ মূল্যায়ন, ঝুঁকি বিশ্লেষণ বা গ্রাহকের আর্থিক প্রোফাইল বোঝার জন্য বিশ্লেষণী মনোভাব থাকা প্রয়োজন।

    ৩. সমস্যা সমাধানের দক্ষতা (Problem-Solving)
    ব্যাংকিং পেশায় প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান খোঁজার মানসিকতা দরকার।

    ৪. ডিজিটাল ব্যাংকিং জ্ঞান 
    Mobile Banking, Internet Banking, Core Banking Software (CBS), FinTech প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন।

    ৫. সেলস ও মার্কেটিং দক্ষতা 
    বিশেষত রিলেশনশিপ ম্যানেজার বা ব্র্যাঞ্চ অফিসার পদে সেলস মানসিকতা ও গ্রাহক আকর্ষণের দক্ষতা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. টিমওয়ার্ক ও নেতৃত্বগুণ 
    ব্যাংকে দলগতভাবে কাজ করতে হয়। নিজেকে দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে।

    ৭. নৈতিকতা ও সততা 
    ব্যাংকিং একটি আস্থার পেশা। গ্রাহকের আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা ও সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখা প্রতিটি ব্যাংক কর্মীর দায়িত্ব।

    বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা

    প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সাধারণত সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতামূলক। বিস্তারিত জানতে আমাদের প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ুন।

    সাধারণ একটি ধারণার জন্য নিচের তথ্য দেখুন:

    পদমাসিক মূল বেতন (আনুমানিক)
    Management Trainee Officer (MTO)৩০,০০০ – ৪৫,০০০ টাকা
    Probationary Officer (PO)২৮,০০০ – ৪০,০০০ টাকা
    Senior Officer৪৫,০০০ – ৬৫,০০০ টাকা
    Assistant Vice President (AVP)৭০,০০০ – ১,০০,০০০ টাকা
    Vice President (VP)১,০০,০০০+ টাকা

    উপরের তথ্যটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পেস্কেল অনুযায়ী তৈরি। তবে বেতন ব্যাংক ও অভিজ্ঞতাভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ: সিটি ব্যাংকে MTO পদে সাধারণত ৮০হাজার টাকা প্রবিশনারি প্রিরিয়ডে দেওয়া হয়।  

    অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা:

    • বার্ষিক বোনাস: সাধারণত ২টি ঈদ বোনাস এবং পারফরম্যান্স বোনাস
    • মেডিকেল সুবিধা: কর্মী ও পরিবারের জন্য মেডিকেল কভারেজ
    • প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি: দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা
    • গাড়ি/ফুয়েল ভাতা: ঊর্ধ্বতন পদের জন্য
    • মোবাইল ও ইন্টারনেট ভাতা
    • ট্রেনিং ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ: দেশ-বিদেশে ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ
    • ক্যারিয়ার গ্রোথ: দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ

    বাংলাদেশে কোন কোন ব্যাংক আছে এবং সেগুলোর তুলনামূলক সুবিধা সম্পর্কে জানতে আমাদের বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা দেখুন।

    উপসংহার

    সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতির প্রতিটি ধাপ সফলভাবে পার করা সম্ভব। প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি নিশ্চিত করতে এই গাইডে আলোচিত প্রতিটি ধাপ মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন। 

    মনে রাখবেন, প্রাইভেট ব্যাংক নিয়োগ পদ্ধতি জানাটাই যথেষ্ট নয়- নিয়মিত পড়াশোনা, Mock Test এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার মানসিকতাই আপনাকে সফল করবে। ব্যাংকিং সেক্টরে একবার প্রবেশ করতে পারলে দ্রুত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি আছে আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাদার মর্যাদা। 

    এবার আপনার ব্যাংক চাকরির প্রস্তুতিকে নিশ্চিত করতে- আমাদের Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। প্রাইভেট ব্যাংক প্রস্তুতি রুটিনে এনরোল করে ব্যাংক প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করুন।  

    আজ থেকেই প্রস্তুতি শুরু করুন-  সাফল্য আপনার দোরগোড়ায়!

  • সকল প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল – Private Bank Salary Scale 2026

    সকল প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল – Private Bank Salary Scale 2026

    বাংলাদেশে ব্যাংকিং সেক্টর অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে একটি স্বপ্নের কর্মক্ষেত্র। তবে অনেকেরই একটি বড় প্রশ্ন থাকে- প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল কত? ব্যাংকে  চাকরি করলে আসলে কত টাকা বেতন পাওয়া যায়? এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করে সিনিয়র পদ পর্যন্ত বেতন কাঠামো কেমন? কোন ব্যাংক সবচেয়ে বেশি বেতন দেয়? এই সব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের এই বিস্তারিত গাইড। ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে এখানে সকল প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।বাংলাদেশের প্রাইভেট ব্যাংকখাত সম্পর্কে জানতে, বাংলাদেশের প্রাইভেট ব্যাংকের তালিকা ব্লগটি দেখে নিতে পারেন। 

    প্রাইভেট ব্যাংকগুলো বাংলদেশের অর্থনীতির খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত। আকর্ষণীয় বেতন, সামাজিক মর্যাদা সাথে ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ থাকায় প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী ব্যাংকিং খাতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো এখন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।  প্রতি বছর প্রাইভেট ব্যাংকগুলো হাজার হাজার দক্ষ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। তাই আপনারা যারা প্রাইভেট ব্যাংক জব প্রার্থী আছেন তাদের জন্য আজকের ব্লগটি অনেক উপকারী হবে। চলুন তাহলে জেনে নেই প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সম্পর্কে বিস্তারিত।  

    প্রাইভেট ব্যাংকের ইতিহাস

    বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮২-৮৩ সালে, যখন দেশে প্রথমবারের মতো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। এর আগে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে। আরব বাংলাদেশ ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক এই পথের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত।

    ১৯৯০-এর দশকে বেসরকারি ব্যাংক খাত দ্রুত প্রসার লাভ করে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে এবং এটি ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিং পরিচালনায় দেশে অন্যতম পথিকৃৎ। ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক — এই ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে দেশীয় অর্থনীতির মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪২টিরও বেশি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে। এগুলো দেশের মোট ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিশাল অংশ পরিচালনা করছে। বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজারেরও বেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন।

    প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল – Private Bank Salary Scale

    প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল- Private Bank Salary Scale – কেমন হবে সেটা সর্বদা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করেন। তবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এন্ট্রি লেভেলের ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করে দেয়, যাতে মেধাবী তরুণরা ব্যাংকিং পেশায় আগ্রহী হন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবেশনারি পিরিয়ড সম্পন্ন করার পর প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য সর্বনিম্ন ৩৯,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

    এই সার্কুলার অনুযায়ী, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (সাধারণ এবং ক্যাশ) পদে প্রবেশনারি পিরিয়ডে সর্বনিম্ন বেতন হবে ২৮,০০০ টাকা এবং অফিস সহায়ক, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মেসেঞ্জারসহ সহায়ক কর্মীরা পাবেন সর্বনিম্ন ২৪,০০০ টাকা।

    এই কাঠামোর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পদের বেতন নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

    Entry Level Salary (Trainee / Probationary Officer)

    প্রাইভেট ব্যাংকে সাধারণত দুটি এন্ট্রি পথ রয়েছে — ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (TAO) এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (MTO)। বেশিরভাগ ব্যাংক এই দুটি পদেই নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ দেয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার এবং সমমানের পদে প্রবেশনারি পিরিয়ডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২৮,০০০ টাকা এবং প্রবেশনারি শেষ হলে মোট বেতন (বেসিক সহ) কমপক্ষে ৩৯,০০০ টাকা প্রতি মাসে নির্ধারণ করা হয়।

    তবে বাস্তবে বড় প্রাইভেট ব্যাংকগুলো এই ন্যূনতম সীমার চেয়ে অনেক বেশি বেতন দিয়ে থাকে। ব্যাংকভেদে এন্ট্রি লেভেলের বেতন কাঠামো সাধারণত এরকম থাকে:

    ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (TAO) / প্রবেশনারি অফিসার: প্রবেশনারি পিরিয়ডে মোট প্যাকেজ সাধারণত ২৮,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে। প্রবেশনারি শেষ হলে বেতন হয় ৩৯,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

    ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (MTO): এটি অপেক্ষাকৃত উচ্চ পদ এবং এখানে সাধারণত বেতন শুরু হয় ৪৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকার মধ্যে। বড় ব্যাংক যেমন ব্র্যাক ব্যাংক বা ডাচ-বাংলা ব্যাংকে MTO বেতন আরও বেশি হয়।

    ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে, শিক্ষানবিশকালীন মাসিক বেতন প্রায় ৩২,০০০ টাকা এবং স্থায়ী হওয়ার পর মাসিক বেতন প্রায় ৩৯,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়।

    Mid-Level Salary

    ব্যাংকে ৩ থেকে ৭ বছর কাজ করার পর একজন কর্মকর্তা মিড-লেভেলে উন্নীত হন। এই পর্যায়ে সাধারণত অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, সিনিয়র অফিসার বা প্রিন্সিপাল অফিসার পদে থাকেন। মিড-লেভেলের বেতন কাঠামো সাধারণত এরকম থাকে:

    সিনিয়র অফিসার / প্রিন্সিপাল অফিসার: মোট প্যাকেজ সাধারণত ৫৫,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

    অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার: বেতন সাধারণত ৭০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়।

    ডেপুটি ম্যানেজার: মোট বেতন ৯০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে।

    এই পর্যায়ে বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যানবাহন ভাতা এবং বার্ষিক পারফরম্যান্স বোনাস মিলিয়ে মোট প্যাকেজ অনেকটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

    High-Level Salary

    সিনিয়র ম্যানেজার থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (EVP) এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) পর্যন্ত হাই-লেভেলের পদগুলোতে বেতন অনেক বেশি হয়।

    ম্যানেজার / সিনিয়র ম্যানেজার: মোট প্যাকেজ ১,২০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

    ভাইস প্রেসিডেন্ট (VP) / সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (SVP): বেতন সাধারণত ২,০০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০ টাকার মধ্যে থাকে।

    এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (EVP) / ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (DMD): এই পদে বেতন ৪,০০,০০০ থেকে ৮,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়।

    ম্যানেজিং ডিরেক্টর (MD) / CEO: বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বেতনের MD রয়েছেন বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংকে। ব্যাংকটি প্রতি মাসে গড়ে MD-এর পেছনে প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করে থাকে।

    ব্যাংকভেদে বেতন স্কেল (Table format)

    নিচে বাংলাদেশের শীর্ষ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর আনুমানিক বেতন স্কেল (২০২৬ সালের তথ্যের ভিত্তিতে) তুলে ধরা হলো:

    ব্যাংকের নামট্রেইনি/PO (প্রবেশনারি)প্রবেশনারি পরবর্তীমিড-লেভেলম্যানেজার লেভেল
    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ৩২,০০০ টাকা৩৯,০০০+ টাকা৬০,০০০–৯০,০০০ টাকা১,০০,০০০+ টাকা
    ব্র্যাক ব্যাংক৩৫,০০০–৪৫,০০০ টাকা৪৫,০০০–৬০,০০০ টাকা৭০,০০০–১,১০,০০০ টাকা১,২০,০০০+ টাকা
    ডাচ-বাংলা ব্যাংক৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা৪০,০০০–৫৫,০০০ টাকা৬৫,০০০–১,০০,০০০ টাকা১,১০,০০০+ টাকা
    প্রাইম ব্যাংক৩০,০০০–৪২,০০০ টাকা৪২,০০০–৫৮,০০০ টাকা৬০,০০০–৯৫,০০০ টাকা১,০০,০০০+ টাকা
    সিটি ব্যাংক৩৫,০০০–৪৮,০০০ টাকা৪৮,০০০–৬৫,০০০ টাকা৭৫,০০০–১,১৫,০০০ টাকা১,৩০,০০০+ টাকা
    ইস্টার্ন ব্যাংক৩৮,০০০–৫০,০০০ টাকা৫০,০০০–৭০,০০০ টাকা৮০,০০০–১,২০,০০০ টাকা১,৫০,০০০+ টাকা
    ব্যাংক এশিয়া২৮,০০০–৩৮,০০০ টাকা৩৯,০০০–৫২,০০০ টাকা৫৫,০০০–৮৫,০০০ টাকা৯০,০০০+ টাকা
    মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক২৮,০০০–৩৮,০০০ টাকা৩৯,০০০–৫০,০০০ টাকা৫৫,০০০–৮৫,০০০ টাকা৯০,০০০+ টাকা
    পূবালী ব্যাংক২৮,০০০–৩৫,০০০ টাকা৩৯,০০০–৪৮,০০০ টাকা৫০,০০০–৮০,০০০ টাকা৯০,০০০+ টাকা
    এক্সিম ব্যাংক২৮,০০০–৩৬,০০০ টাকা৩৯,০০০–৫০,০০০ টাকা৫৫,০০০–৮৫,০০০ টাকা৯৫,০০০+ টাকা

    দ্রষ্টব্য: উপরের বেতনগুলো আনুমানিক এবং ব্যাংকের নীতিমালা, প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হতে পারে। মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা যুক্ত হয়ে মোট প্যাকেজ আরও বেশি হতে পারে।

    প্রাইভেট ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা

    প্রাইভেট ব্যাংকে শুধু মূল বেতনই নয়, পাশাপাশি আরও অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

    বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance): সাধারণত মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা দেওয়া হয়।

    চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance): প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হয়। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবারসহ গ্রুপ স্বাস্থ্য বিমাও দিয়ে থাকে।

    যানবাহন ভাতা (Conveyance Allowance): অফিসে যাতায়াতের জন্য যানবাহন ভাতা বা গাড়ি সুবিধা দেওয়া হয়। সিনিয়র পদে অনেক সময় অফিসের গাড়িও বরাদ্দ থাকে।

    বার্ষিক বোনাস (Annual Bonus): সাধারণত দুটি ঈদে দুটি উৎসব বোনাস দেওয়া হয়। পারফরম্যান্স ভালো হলে বার্ষিক পারফরম্যান্স বোনাসও পাওয়া যায়।

    প্রভিডেন্ট ফান্ড (Provident Fund): মূল বেতনের একটি অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে যায় এবং ব্যাংকও সমপরিমাণ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ যোগ করে।

    গ্র্যাচুইটি (Gratuity): নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ করার পর অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি সুবিধা পাওয়া যায়।

    ঋণ সুবিধা (Loan Facility): কর্মীরা স্বল্প সুদে বা সুদমুক্ত গৃহঋণ, গাড়িঋণ ও ব্যক্তিগত ঋণ নিতে পারেন।

    প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন (Training & Development): দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

    ছুটি সুবিধা: বার্ষিক ছুটি, অসুস্থতার ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ছুটি পাওয়া যায়।

    ক্যান্টিন ও বিনোদন সুবিধা: অনেক ব্যাংকে অফিসিয়াল ক্যান্টিন, বার্ষিক পিকনিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকে।

    প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা

    প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরি পেতে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। নিচে সাধারণ যোগ্যতার বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো:

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: ট্রেইনি বা প্রবেশনারি অফিসার পদে আবেদনের জন্য সাধারণত যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন। অনেক ব্যাংক ব্যবসায় প্রশাসন, অর্থনীতি, ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেয়। শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি থাকলে সাধারণত আবেদনযোগ্য হওয়া যায় না।

    বয়সসীমা: সাধারণত ২১ থেকে ৩০ বা ৩২ বছর বয়সীরা আবেদন করতে পারেন। তবে ব্যাংকভেদে এটি কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

    ইংরেজি দক্ষতা: ব্যাংকিং খাতে ইংরেজিতে লেখা ও কথা বলার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ ব্যাংক লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি রচনা, ব্যাকরণ এবং অনুবাদ পরীক্ষা করে।

    গণিত ও বিশ্লেষণ দক্ষতা: ব্যাংকিং কাজে সংখ্যাগত বিশ্লেষণ করতে হয় প্রতিনিয়ত। তাই গণিতে ভালো দক্ষতা থাকা জরুরি।

    কম্পিউটার দক্ষতা: MS Office (Word, Excel, PowerPoint) এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষতা প্রয়োজন।

    নির্বাচন প্রক্রিয়া: সাধারণত তিন ধাপে নির্বাচন করা হয় — লিখিত পরীক্ষা, মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা। লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যাংকিং সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে।

    যোগাযোগ দক্ষতা: গ্রাহকসেবায় ভালো যোগাযোগ দক্ষতা ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে।

    সততা ও নৈতিকতা: ব্যাংকিং খাতে আর্থিক লেনদেন পরিচালনার কারণে সততা ও নৈতিকতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসংহার

    আশা করি, প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। চাকরির ইন্টারর্ভিউতে এখান প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল নিয়ে প্রশ্ন করতে অনায়াসেই উত্তর দিতে পারবেন। প্রাইভেট ব্যাংকের বেতন স্কেল সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। 

    বাংলাদেশের প্রাইভেট ব্যাংকিং সেক্টর একটি গতিশীল ও সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় এন্ট্রি লেভেলে সর্বনিম্ন ৩৯,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করার পর থেকে এই খাতে তরুণদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা মিলিয়ে মোট প্যাকেজ অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

    সঠিক প্রস্তুতি, দৃঢ় মনোবল এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলে প্রাইভেট ব্যাংকে একটি সফল ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্পূর্ণ সম্ভব। আপনার প্রাইভেট ব্যাংকের প্রস্তুতিকে আরও গোছানো এবং শক্তিশালী করতে আমাদের Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। প্রাইভেট ব্যাংক জব প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন। 

  • বাংলাদেশের সকল বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা – Bangladesh all private bank list – 2026

    বাংলাদেশের সকল বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা – Bangladesh all private bank list – 2026

    দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো এদেশের ব্যাংকিং খাত। দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সারকারি ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে অনেকেরই দেশের বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। স্বাধীনতার পর থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এই ব্যাংকিং ব্যবস্থা আজ দেশের কোটি কোটি মানুষের আর্থিক লেনদেন, সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও ঋণ সুবিধার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিশেষত, দ্রুতগতির সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ও উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তায় বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে।

    যারা বেসরকারি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন কিংবা সরকারি/বেসরকারি ব্যাংক চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তাই এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা, পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও সেরা ব্যাংকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি, সকলের জন্য এটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। 

    বেসরকারি ব্যাংক কী?

    বেসরকারি ব্যাংক (Private Commercial Bank বা PCB) হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যার মালিকানা, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ বা প্রধানত ব্যক্তি বা বেসরকারি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে। অর্থাৎ, এ ধরনের ব্যাংকে সরকারের কোনো মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না কিংবা সীমিত পরিমাণে থাকে।

    বেসরকারি ব্যাংকগুলো ‘বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ১৯৭২’ এবং ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১’-এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পরিচালিত হয়। বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স প্রয়োজন হয় এবং প্রতিটি ব্যাংকের ন্যূনতম মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী রক্ষা করতে হয়। 

    বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- 

    • মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা 
    • গ্রাহকসেবায় দক্ষতা 
    • আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার 
    • দ্রুত সেবা প্রদান 
    • শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি 

    এছাড়া এসব ব্যাংক আমানত সংগ্রহ, ঋণ প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স সংগ্রহ, লেটার অব ক্রেডিট (LC) খোলা, ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান ইত্যাদি বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

    বেসরকারি ব্যাংক কয়টি? 

    বাংলাদেশে বর্তমানে (২০২৬ সাল পর্যন্ত) মোট ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংককে সাধারণভাবে Private Commercial Bank বা PCB বলা হয়, যার মধ্যে ৩৩টি প্রথাগত বা কনভেনশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে।

    বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বাংলাদেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬৩টি। 

    • অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫টি। 
    • রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক –  ৭টি 
    • রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক –  ৩টি  
    • বিদেশি ব্যাংক রয়েছে –  ৯টি 
    • অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক –  ৫টি  

    ** উল্লেখ্য, ৫টি অ-তালিকাভূক্ত ব্যাংক বাদে দেশের সকল ব্যাংকই তালিকাভূক্ত ব্যাংক। 

    নিচে কাজের ধরণের ভিত্তিতে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা দেখানো হলো:

    ব্যাংকের ধরনসংখ্যা
    কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংক৩৩টি
    ইসলামিক বেসরকারি ব্যাংক১০টি
    মোট বেসরকারি ব্যাংক৪৩টি

    বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা

    বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে। ১৯৮৩ সালে দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে আরও অনেক বেসরকারি ব্যাংক গড়ে উঠেছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

    নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে দেশের সকল বেসরকারি ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো।

    কনভেনশনাল (Conventional) বেসরকারি ব্যাংক

    কনভেনশনাল বা প্রচলিত ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক (Interest-based) ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৩টি কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। এই ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে নির্দিষ্ট সুদ প্রদান করে এবং ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট সুদ আদায় করে। 

    নিচে সকল কনভেনশনাল বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা দেওয়া হলো:

    ক্রমিক ব্যাংকের নামপ্রতিষ্ঠা সাল
    ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড১৯৮৩
    দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড১৯৮৩
    ইউসিবি ব্যাংক (United Commercial Bank) লিমিটেড১৯৮৩
    এবি ব্যাংক লিমিটেড১৯৮২
    আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড১৯৭৬
    ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (EBL)১৯৯২
    ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৫
    ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৬
    ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড২০০১
    ১০প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৫
    ১১পূবালী ব্যাংক লিমিটেড১৯৫৯
    ১২উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড১৯৬৫
    ১৩মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ১৪মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ১৫সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৫
    ১৬ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ১৭প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ১৮ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড১৯৯৯
    ১৯যমুনা ব্যাংক লিমিটেড২০০১
    ২০শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (পূর্বে প্রচলিত)২০০১
    ২১এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    ২২এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    ২৩মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    ২৪মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    ২৫মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    ২৬ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ২৭এসবিএসি ব্যাংক (South Bangla Agriculture & Commerce)২০১৩
    ২৮সিমান্তো ব্যাংক লিমিটেড২০১৬
    ২৯সিটিজেন ব্যাংক পিএলসি২০২২
    ৩০বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড২০২১
    ৩১পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড২০১৯
    ৩২বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৮
    ৩৩কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড২০১৯

    ইসলামিক (Islamic) বেসরকারি ব্যাংক

    ইসলামিক ব্যাংকগুলো পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়। এই ব্যাংকগুলোতে সুদের পরিবর্তে মুদারাবা, মুশারাকা, মুরাবাহা, ইজারা প্রভৃতি ইসলামি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ ও আমানত পরিচালিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ মোট ব্যাংকিং খাতের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

    ক্রমিক ব্যাংকের নামপ্রতিষ্ঠা সাল
    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড১৯৮৩
    আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৫
    সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৫
    এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড২০০১
    ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড২০১৩
    স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড১৯৯৯
    ১০আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড১৯৮৭

    ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের সর্বপ্রথম ইসলামি ব্যাংক এবং এটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্যাংকটি বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবেও বিবেচিত। 

    বাংলাদেশের সেরা ১০টি বেসরকারি ব্যাংক

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছর ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্ষমতা, টেকসই উন্নয়ন, খেলাপি ঋণের হার, মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য সক্ষমতা ইত্যাদি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর “সাসটেইনেবল রেটিং” প্রকাশ করে আসছে। এই রেটিং পাঁচটি সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়— টেকসই অর্থায়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম, পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন, টেকসই কোর ব্যাংকিং সূচক ও ব্যাংকিং সেবার পরিধি। 

    নিচে বিভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশের সেরা ১০টি বেসরকারি ব্যাংকের তালিকা উপস্থাপন করা হলো:

    ১। ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি  
    বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিং তালিকায় টানা বছরের পর বছর শীর্ষে অবস্থানকারী ব্র্যাক ব্যাংক দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) ঋণ সহায়তায় বিশেষভাবে পরিচিত।

    ২। সিটি ব্যাংক পিএসসি  
    বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিং তালিকায় টানা চার বছর স্থান পাওয়া সিটি ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড সেবা এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে দেশের মধ্যে অগ্রণী।

    ৩। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL) 
    দেশে এটিএম বুথ নেটওয়ার্ক প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই ব্যাংকটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবায় একটি মাইলফলক। বিশেষত “নেক্সাস পে” মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

    ৪। ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL) 
    বণিক বার্তার ব্যাংক র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করা ইস্টার্ন ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে বিশেষ সুনাম রাখে।

    ৫। যমুনা ব্যাংক পিএলসি 
    দেশের একটি দ্রুত বর্ধনশীল বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে যমুনা ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল ব্যাংকিং সেবায় সমানভাবে দক্ষতা প্রদর্শন করছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং গ্রাহকবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

    ৬। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি  (MTB) 
    টেকসই রেটিং তালিকায় স্থান পাওয়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে বিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করছে।

    ৭। এনসিসি ব্যাংক পিএলসি  
    দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসা এনসিসি ব্যাংক কর্পোরেট ব্যাংকিং, এসএমই ফাইন্যান্স এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থিতিশীল কার্যক্রম ও গ্রাহকসেবার কারণে ব্যাংকটি দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি সুপরিচিত নাম।

    ৮। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি  
    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল রেটিং তালিকায় স্থান পাওয়া প্রাইম ব্যাংক দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কর্পোরেট ব্যাংকিংয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নাম।

    ৯। পূবালী ব্যাংক পিএলসি  
    দেশের সবচেয়ে পুরনো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ব্যাংকটি বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে গ্রাহকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

    ১০। শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি 
    শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবার জন্য পরিচিত শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক গ্রাহকদের সুদমুক্ত আর্থিক লেনদেনের সুবিধা প্রদান করে। আমানত, বিনিয়োগ এবং রেমিট্যান্স সেবায় দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধার মাধ্যমেও ব্যাংকটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেছে। 

    বেসরকারি ব্যাংকের ভূমিকা

    বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে আসছে। ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংক দেশের কোটি কোটি মানুষের সঞ্চয় সংরক্ষণ, ঋণ সহায়তা, রেমিট্যান্স পরিচালনা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য সহজীকরণে নিরলসভাবে কাজ করছে। কনভেনশনাল ও ইসলামিক উভয় ধারার ব্যাংকের সমন্বিত উপস্থিতি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক করে তুলেছে।

    প্রাইভেট ব্যাংক জব: তরুণদের জন্য স্মার্ট পছন্দ

    বেসরকারি ব্যাংক খাতে কর্পোরেট জব আজকের তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়—কারণ এখানে রয়েছে দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ, প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশ। বিশেষ করে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক গড়ার বড় সুযোগ তৈরি করে এই সেক্টর। তাই সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি থাকলে এই খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

    শীর্ষ ১০ বেসরকারি ব্যাংক কোনটি?

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি রেটিং ২০২৪ অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো হলো— ব্র্যাক ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি (DBBL) , যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড পিএলসি । 

    বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক কোনটি?

    মোট সম্পদ, আমানত, ঋণ বিতরণ এবং শাখার সংখ্যার বিচারে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। 

    বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংক কয়টি?

    বাংলাদেশে মোট বেসরকারি ব্যাংক আছে ৪৩টি, যার মধ্যে ৩৩টি প্রথাগত কনভেনশনাল এবং ১০টি ইসলামিক শরীয়াহভিত্তিক। পাশাপাশি বাংলাদেশে ৯টি বিদেশি ব্যাংক এবং ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে। 

    এই ব্লগে প্রাইভেট ব্যাংকের পূর্ণ তালিকা সম্পর্কে জানলেন। এবার যারা প্রাইভেট ব্যাংক জবে আগ্রহী, তারা আরও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

    🚀 Live MCQ™ অ্যাপের “প্রাইভেট ব্যাংক প্রস্তুতি” রুটিনে যুক্ত হয়ে আজই শুরু করুন স্মার্ট, স্ট্র্যাটেজিক প্রস্তুতি!

    সরকারি, বেসরকারি ব্যাংকখাত বা যেকোনো চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে তা কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

    আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ! 

  • ব্যাংক ভাইভা প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন | Bank Job Viva Preparation Guideline

    ব্যাংক ভাইভা প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন | Bank Job Viva Preparation Guideline

    ব্যাংক ভাইভা প্রস্তুতি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান- কোথা থেকে শুরু করবেন, কী পড়বেন, আর কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভা বোর্ডের সামনে বসাটা অনেকের কাছেই বেশ চাপের মনে হয়, কারণ এখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, বরং আপনার সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিষয়জ্ঞান-  সবকিছু একসাথে যাচাই করা হয়।

    তবে, সঠিক পরিকল্পনা আর গোছানো প্রস্তুতি থাকলে ব্যাংক ভাইভাকে ভয় নয়, সুযোগ হিসেবে দেখা সম্ভব। আপনার ভাইভার ভয়কে দূর করতে আজকের এই গাইডলাইন ব্লগ। এখানে ধাপে ধাপে আলোচনা করব- কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন এবং ভাইভা বোর্ডে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেকে তুলে ধরবেন। আপনি যদি সত্যিই একটি ব্যাংকিং ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্যই।

    ব্যাংকের ভাইভায় কেমন প্রশ্ন থাকে?

    ব্যাংকের ভাইভায় সাধারণত ব্যাংকখাত, অর্থনীতি সম্পর্কে বেশি প্রশ্ন করে থাকে। এছাড়াও ব্যক্তিগত বিষয়, আন্তজার্তিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং সমসাময়িক বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। তাই ব্যাংক ভাইভা প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে অবশ্যই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

    ব্যক্তিগত প্রশ্ন

    ১। প্রার্থীর নিজ নামের অর্থ
    ২। নিজ জেলা, এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কৃত তথ্য
    ৩। ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে জ্ঞান যাচাই 
    ৪। সাম্প্রতিক রাজনীতি, অর্থনীত ও বিভিন্ন আলোচিত বিষয়ে মতামত 
    ৫। যে ব্যাংকের জন্য ভাইভা পরীক্ষা হচ্ছে সেই ব্যাংক সম্পর্কে
    ৬। ব্যাংকিংয়ে একাডেমিক সাবজেক্টের প্রয়োগ 

    ব্যাংক খাত সম্পর্কে

    • কেন্দ্রীয় ব্যাংক
    • বিভিন্ন ধরণের ব্যাংকের সংজ্ঞা ও সংখ্যা
    • ব্যাংকের সাধারণ কাজ ও বিশেষ কাজ 
    • সম্প্রতি আলোচিত দেশগুলোর অর্থনীতি, মুদ্রার নাম ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্পর্কে
    • ব্যাংকিং–সম্পর্কিত বিভিন্ন টার্ম (যেমন- কল মানি, ব্যাংক রেট, ব্যাংক নোট, ট্রেজারি বিল, বন্ড, সিআরআর, এসএলআর, লোন, মর্টগেজ, আমানত, সুদ, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, চেক, পিও, আরটিজিএস, ক্লিয়ারিং, মানি লন্ডারিং, বিএফআইইউ, অ্যাগ্রি ক্রেডিট, এসএমই, এলসি, বিল, বিওপি, এমএফএস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং) 

    অর্থনীতির মৌলিক বিষয়

    • জিডিপি, জিএনপি ও রিজার্ভ
    • মনিটরি & ফিসক্যাল পলিসি
    • বাজেট, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ
    • আমদানি–রপ্তানি, মানি মার্কেট, ক্যাপিটাল মার্কেট
    • সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ডেটা (৫ বছরের)
    • প্রধান অর্থনৈতিক খাত ও উপখাত
    • নন–পারফর্মিং লোন, ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট
    • অর্থনৈতিক জোন, মেগা প্রজেক্ট, আইসিটি খাত
    • এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট, ব্লু ইকোনমি ইত্যাদি

    আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান

    • আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নাম ও কাজ
    • বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পর্ক বা চুক্তি 
    • উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ, আইডিবি, ইইউ, ডব্লিউটিও, ওপেক, এপেক, আকু, জি-৭, জি-২০, নাফটা, সার্ক, জিসিসি, আসিয়ান ইত্যাদি 
    • প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ক তথ্য 

    সমসাময়িক বিষয়

    • বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ইস্যু
    • যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, রিজার্ভ পরিস্থিতি
    • দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা

    ব্যাংকের ভাইভায় ভালো করার কিছু স্মার্ট টিপস

    ব্যাংক ভাইভা প্রস্তুতি আরও বেশি গোছানো এবং আরও বেশি শক্তিশালী করতে নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলোঃ

    ১। যথাযথ পোশাক পরে এবং ভাইভা বোর্ডের ভেতরে প্রবেশের আগে অনুমতি নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করুন। অনুমতি দেওয়ার পর বসুন অথবা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর নিজেই বসার জন্য অনুমতি চাইবেন। বসার পর ধন্যবাদ জানাবেন।
    ২। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সাথে নিজের অপারগতা প্রকাশ করবেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল উত্তর দিবেন না।
    ৩। ভাইভা চলাকালীন পুরোটা সময় মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
    ৪। ভাষার আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন।
    ৫। যেকোন প্রশ্ন মন দিয়ে পুরোটা শুনে তারপর সামান্য সময় ভেবে উত্তর দেওয়া শুরু করুন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝেই কথা বলবেন না।
    ৬। ইংরেজিতে প্রশ্নকরা হলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর দিতে বললে সেটই করবেন, কিন্তু বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইবেন না। উত্তর দেওয়ার সময় সহজ শব্দও ও ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করবেন। 
    ৭। ভাইভা বোর্ডে একজনের প্রশ্নের উত্তর করা অবস্থায় আরেকজন প্রশ্ন করলে প্রথমজনের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় জনের প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
    ৮। আপনার একাডেমিক পড়াশোনার রেজাল্ট কোনভাবে ভালো না হয়ে থাকলে সে বিষয়ের স্বপক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য কারণ আগেই তৈরি করে রাখবেন।
    ৯। বেশি বেশি মক/মডেল ভাইভাতে অংশগ্রহণ করুন।
    ১০। ব্যাংকের বিভিন্ন টার্ম সম্পর্কে ভালো ভাবে জানুন।
    ১১। কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত গভীর আলোচনায় যাবেন না আবার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে উত্তর দিতে বেশি দেরিও করবেন না।
    ১২। নিজের কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকলে তা প্রকাশ করবেন না। নিরপেক্ষভাবে মন্তব্য করুন। 
    ১৩। বোর্ডের কারও সাথে তর্কে জড়াবেন না। তারা আপনাকে ভুল প্রতিপন্ন করলে সেই বিষয়ের আপডেট তথ্যটি আপনার জানা নেই এবং জেনে নিবেন বলে তাদের কথাই মেনে নিবেন।
    ১৪। ভাইভায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যেসব নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলবেন এবং যেসব ডকুমেন্টস সরবরাহ করতে বলা হয়েছে তা গুছিয়ে সঙ্গে নিবেন।  
    ১৫। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আত্মবিশ্বাস রাখবেন এবং বোর্ডের সাথে ইতিবাচক, পরিমিত ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখবেন।

    Live MCQ ও Live Written ইউজারদের জন্য বিশেষ পরামর্শ 

    Live MCQ ও Live Written অ্যাপে ব্যাংকের কোর্সগুলোতে পর্যাপ্ত স্টাডি-ম্যাটেরিয়ালস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে উপরোক্ত প্রায় সকল বিষয়ের নোট ও MCQ প্রশ্ন পেয়ে যাবেন। 

    এমনকি, Live MCQ-এর প্রিমিয়াম ইউজাররা টপিকগুরুতে সার্চ করেই বেশিরভাগ টপিকের পড়াশোনা করে নিতে পারবেন। 

    এই গাইডলাইন ব্যাংকের যেকোনো পদের ভাইভার জন্যই সহায়ক হবে।  

    বিস্তারিত সাজেশন PDF পেতে—  

    Live MCQ™ অ্যাপের ➝ PDF Section ➝ ❝গাইডলাইন ও সাজেশন❞ ➝ “বাংলাদেশ ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, অফিসার ও অফিসার [ক্যাশ] পদের ভাইভা পরীক্ষার সাজেশন” বাটনে দেখুন।

    এছাড়া বাজারের প্রচলিত ব্যাংক ভাইভা সংক্রান্ত ভালো কোনো বই অনুসরণ করলে ভাইভার বিভিন্ন সম্ভ্যব্য প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। 

    আপনার সফল ব্যাংক ক্যারিয়ারের পথে এই ধাপটি হোক দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী। শুভকামনা রইল আপনার ভাইভা ও চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য!

    উপসংহার

    আশা করি, ব্যাংক ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে সকল বিস্তারিত বিষয়াদি জানতে পেরেছেন। ব্যাংক ভাইভা সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। গাইডলাইনটি অনুসরণ করলে আপনার ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। আপনার জন্য অগ্রিম শুভ কামনা।