প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের জাতির ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায় ও সাহিত্যিক অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা, উপন্যাস, গল্প ও নাটকের মাধ্যমে উঠে এসেছে বীরত্ব, ত্যাগ ও স্বাধীনতার চেতনা। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা। আজকের ব্লগে আমরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করবো। আপনারা যারা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এই পোস্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই পোস্টে সংশ্লিষ্ট পিডিএফ পড়ে আপনারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখা বিখ্যাত উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ছোত গল্প, স্মৃতি কথা, পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র, সল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও বিদেশি লেখকদের রচনা গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। আপনারা চাইলে পিডিএফটি ডাউনলোড বা প্রিন্ট করেও সংগ্রহে রাখতে পারেন।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ সালে সংঘটিত হয় — এটি ছিল প্রায় নয় মাসব্যাপী (২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত) এক সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। যুদ্ধের মূল প্রেক্ষাপট ছিল পাকিস্তানি শাসনের অধীনে পূর্ববাংলার মানুষের প্রতি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তরে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অনীহা স্বাধীনতার দাবিকে তীব্রতর করে তোলে। অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতির মুক্তিসংগ্রামের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটায়।
মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিকামী বীর সেনারা সংগঠিত হয়ে গেরিলা কৌশলে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গ্রামাঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীনতার আন্দোলন। এই সংগ্রামে আনুমানিক ১০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেন, এবং অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হন, যা মানবতার ইতিহাসে এক করুণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মুক্তিযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভারতের সক্রিয় সহায়তা এবং জাতিসংঘসহ বিশ্বজনমতের সমর্থন বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ভূমিকা রাখে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে যৌথ বাহিনীর বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এই যুদ্ধ শুধু সামরিক সাফল্য নয়, বরং এটি জাতীয় ঐক্য, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের অমর প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলায়ও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কবি শামসুর রাহমানের কবিতা, নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক এর নাটক, এবং চাষী নজরুল ইসলামের “ওরা এগারো জন” চলচ্চিত্রসহ অসংখ্য সৃষ্টিকর্মে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব, ত্যাগ ও মানবিক মূল্যবোধ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও প্রামাণ্যচিত্রসমূহ এই ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক পুনর্গঠনের ভিত্তি স্থাপন করে। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়। এই মহান যুদ্ধ আমাদের শেখায় ত্যাগের মূল্য, ন্যায়ের প্রতি দৃঢ়তা এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ। সর্বোপরি, মুক্তিযুদ্ধ শুধু একটি রাজনৈতিক বিজয় নয় — এটি বাংলাদেশের জাতিগত, সাংস্কৃতিক ও মানবিক পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য:
মুক্তিযুদ্ধ সাহিত্যিকদের কলমে পেয়েছে এক অনন্য প্রকাশ। যুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক তাঁদের লেখনীতে তুলে ধরেছেন বীরত্বগাথা, ত্যাগ, এবং মানবিক কষ্টের গভীর কাহিনি। ফলে সাহিত্য হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত স্মারক ও প্রেরণার উৎস। ১৯৭১ সালের সশস্ত্র সংগ্রাম, মানুষের বীরত্ব, ত্যাগ এবং মানবিক বেদনা ফুটে উঠেছে উপন্যাস, কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক ও চলচ্চিত্রে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য শুধু অতীতের স্মৃতি ধরে রাখে না, এটি নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং সাহসিকতার পাঠ দেয়।
উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের জীবন ও সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে অনুপমভাবে। হুমায়ূন আহমেদের আগুনের পরশমণি এবং আনিসুল হকের মা এই ধারার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এসব রচনায় যুদ্ধের ভয়, নির্যাতন, ত্যাগ এবং মানুষের অদম্য মনোবলকে জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ছোটগল্প ও স্মৃতিকথায় বিশেষ করে নারীর অভিজ্ঞতা, শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা, এবং যুদ্ধোত্তর মানসিক টানাপোড়েন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জাহির রায়হানের হাজার বছর ধরে ও আরেক ফাল্গুন, হাসান আজিজুল হকের নামহীন গোত্রহীন এই ধারার প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রামাণ্যচিত্র মুক্তিযুদ্ধের নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে ইতিহাস ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি বিদেশি লেখকদের রচনাতেও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ও মানবিক প্রভাবের বিশ্লেষণ পাওয়া যায়।
সর্বোপরি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য কেবল একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাস, জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম বোঝার এক অমূল্য উৎস। শিক্ষার্থী ও চাকরি–প্রত্যাশীদের জন্যও এই সাহিত্য সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও রচনা–চর্চায় এক গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য | Literature on the Liberation War of Bangladesh
প্রিয় চাকরির প্রত্যাশীগণ, একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। এটি গত ১৯৭৬ সালে চালু হয়। এ পুরষ্কারটি জাতীয় সম্মান ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। ভাষা আন্দোলনসহ সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সমাজসেবা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরষ্কারে বিশিষ্টজনদের মনোনীত করা হয়। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ পুরষ্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। বিজয়ীরা স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ (৪ লাখ টাকা) পান।
এবছর একুশে পদক ২০২৫ পাচ্ছেন ১৭ বিশিষ্টজন ও বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন “চলচিত্রে- আজিজুর রহমান (মরণোত্তর),” “সংগীতে- ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা,” “আলোকচিত্রে- নাসির আলী মামুন,” “চিত্রকলায়- রোকেয়া সুলতানা, “সাংবাদিকতায়- মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর),” “ সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে- মাহমুদুর রহমান,” “সংস্কৃতি ও শিক্ষায়- শহীদুল আলম,” “শিক্ষায়- নিয়াজ জামান,” “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে- মেহেদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম, শাবাব মুস্তাফা” “সমাজসেবায়- মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর),” “ভাষা ও সাহিত্যে- হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) ও শহীদুল জহির (মরণোত্তর),” এবং “গবেষণায়- ঈদুল হাসান।” এছাড়া ক্রীড়ায় “বাংলাদেশ নারী ফুটবল” দলকে একুশে পদক দেয় হবে।
প্রিয় চাকরির প্রত্যাশীগণ, আপনারা জানেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরষ্কার হলো “বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার।” বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পুরষ্কার প্রদান করা হয়। সাহিত্যের মোট ৭ টি শাখায় এ পুরষ্কার দেয়া হয়। এটি ১৯৬০ সালে প্রবর্তিত একটি বাৎসরিক সাহিত্য পুরষ্কার।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদ। এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার পেয়েছেন ৭ জন সাহিত্যিক। গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ প্রস্তাবক কমিটি’র প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার কমিটি ২০২৪’-এর সিদ্ধান্তক্রমে বাংলা একাডেমি নির্বাহী পরিষদ ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ অনুমোদন করে। বিজ্ঞপ্তিতে আরোও জানানো হয়, বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরস্কার প্রদান করবেন।
এক নজরে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪ প্রাপ্তদের তালিকাসহ বিস্তারিত দেখুন
পূর্বের ঘোষণা সম্পর্কিত নোটিশ
উল্লেখ্য যে এর পূর্বে গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্কার ২০২৪ ঘোষনা করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে উল্লেখ্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কারও কারও বিষয়ে কিছু অভিযোগ থাকার ফলে উক্ত তালিকাটি স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পূর্বের তালিকা থেকে বাদ পড়া সাহিত্যকগণ হলেন- কথাসাহিত্যে সেলিম মোরশেদ, শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজ ও মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হাননান।
প্রিয় চাকরি প্রার্থীগণ সদ্য অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো আমেরিকার ৬০ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সারা বিশ্বজুড়ে এই নির্বাচন ঘিরে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা ছিল অনেক। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই নির্বাচনের যেমন প্রভাব রয়েছে ঠিক তেমনি বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এই নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে অনেক। তাই চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য নিয়ে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া আমেরিকা তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৪ এর একটি ইনফোগ্রাফি। আশাকরি এটি আপনাদের অনেক কাজে আসবে।
নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট: ডোনাল্ড ট্রাম্প (৪৭তম)
নির্বাচনের তারিখ: ৫ নভেম্বর, ২০২৪ (নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবার)
আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা: ৬ জানুয়ারি, ২০২৫
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ: ২০ জানুয়ারি ২০২৫
প্রেসিডেন্টের মেয়াদ: ৪ বছর (এক জন প্রার্থী সর্বোচ্চ দুইবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।)
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল ও নির্বাচনী প্রতীক: রিপাবলিকান পার্টি [হাতি] এবং ডেমোক্র্যাট পার্টি [গাধা]
মোট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী: ৬ জন। যার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প [রিপাবলিকান] এবং কমলা হ্যারিস [ডেমোক্র্যাট] ছাড়াও আরও ৪ জন স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলীয় প্রার্থী রয়েছেন।
বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় ক্রীড়ার আসর অলিম্পিক গেমস যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্বের প্রায় ২০৬ টি দেশের হাজারো খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব অলিম্পিক গেমস নিয়ে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য জেনে নিন।
অলিম্পিক গেমস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (সাধারণ জ্ঞান)
অলিম্পিক সংস্থা:
নাম: International Olympic Committee (IOC)প্রতিষ্ঠা: ২৩ জুন ১৮৯৪সদর দপ্তর: লুজন সুইজারল্যান্ডসদস্য: ২০৬ টি রাষ্ট্রপ্রেসিডেন্ট: থমাস বাখউদ্যোক্তা: ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তা
আধুনিক অলিম্পিক এর মূলনীতি:
“ক্ষীপ্রতা, উচ্চতা ও শক্তি”
দাপ্তরিক ভাষা:
ইংরেজি ও ফরাসি।
অলিম্পিকের জনক:
ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তা।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া অনুষ্ঠান:
অলিম্পিক গেমস।
প্রাচীন অলিম্পিক শুরু হয়:
৭৭৬ খ্রিস্টপূর্বে গ্রিসে।
অলিম্পিক পতাকায় বৃত্ত রয়েছে:
৫টি (ভিন্ন ভিন্ন রংয়ের বৃত্ত)৫ টি বৃত্ত দ্বারা ৫ টি মহাদেশকে বোঝায়।(এশিয়া = হলুদ; আমেরিকা = লাল; ইউরোপ = নীল; আফ্রিকা = কালো; ওশেনিয়া = সবুজ)
আধুনিক অলিম্পিকের পতাকার পরিকল্পনাকারী:
ব্যারন পিয়ের দ্য কুবার্তা।
আধুনিক অলিম্পিকের অপর নাম:
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক।
অলিম্পিক জাদুঘর অবস্থিত:
সুইজারল্যান্ডের লাউসানে।
আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসর বসে:
১৮৯৬ সালে গ্রিসের এথেন্সে।
অলিম্পিকের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়:
১৯২০ সালে; এন্টওয়ার্প অলিম্পিকে।
অলিম্পিকে মহিলাদের প্রথম অংশগ্রহণ:
১৯০০ সালে প্যারিস অলিম্পিকে।
অলিম্পিকে পুরুষদের সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু হয়:
১৮৯৬ সালে; এথেন্সে।
আধুনিক অলিম্পিকের সবচেয়ে বেশি আসর বসে:
লন্ডনে; ১৯০৮, ১৯৪৮, ২০১২ সালে।
প্রথম ফুটবল খেলা অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়:
১৯০০ সালে; প্যারিস।
ওয়াটার পলো প্যারা অলিম্পিক আয়োজন করা হয়:
প্রতিবন্ধীদের জন্য।
বিশ্বযুদ্ধের কারণে অলিম্পিক আসর অনুষ্ঠিত হয়নি:
১৯১৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালে।
২০২৪ সালের ৩৩ তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস
৩৩ তম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসের আয়োজক ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস।প্যারিস অলিম্পিকে মোট খেলা ৩২টি আর ইভেন্ট রয়েছে ৩২৯টি। পদক জয়ের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন ২০৬ দেশের ১০ হাজার ৭১৪ জন অ্যাথলেট।গত ২৭ জুলাই প্রথম পদকের লড়াই অনুষ্ঠিত হয় শ্যুটিংয়ের মিক্সড টিম এয়ার রাইফেলে। ১১ আগস্ট মেয়েদের বাস্কেটবল ফাইনাল এবারের অলিম্পিকের শেষ ইভেন্ট।পদক তালিকায় এক নম্বরে থেকে প্যারিস অলিম্পিক শেষ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সমান সংখ্যক স্বর্ণ জিতেও তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন, তিন নম্বরে জাপান, চারে অস্ট্রেলিয়া এবং পাঁচে আয়োজক দেশ ফ্রান্স। পদকের ডিজাইনে রাখা হয়েছে প্যারিসের আইকন আইফেল টাওয়ারের টুকরো। এবারের পদকগুলো ডিজাইন করেছে বিখ্যাত লুইস ভিটন কোম্পানি।এবারের গেমসের মাসকট ‘দ্য অলিম্পিক ফ্রাইরেজ’।প্যারিস অলিম্পিকে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের জন্য ভিলেজ বানানো হয়েছে। এই ভিলেজের আয়তন প্রায় ৭০টি ফুটবল মাঠের সমান। ২০২৪ সালের অলিম্পিকের পরপরই রয়েছে প্যারা অলিম্পিক গেমস।
২০২৮ সালে ৩৪ তম আসর বসবে:
যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে।
বাংলাদেশ প্রথম অংশগ্রহণ করে:
২৩তম অলিম্পিকে; ১৯৮৪ সালের লস এঞ্জেলস আসরে।এখন পর্যন্ত ৫৪ জন বাংলাদেশী ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক গেমসে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
৩৩তম অলিম্পিক গেমস – এ সেরা ১০টি দেশের পদক তালিকা
দেশ
সোনা
রূপা
ব্রোঞ্জ
সর্বমোট
যুক্তরাষ্ট্র
৪০
৪৪
৪২
১২৬
চীন
৪০
২৭
২৪
৯১
জাপান
২০
১২
১৩
৪৫
অস্ট্রেলিয়া
১৮
১৯
১৬
৫৩
ফ্রান্স
১৬
২৬
২২
৬৪
নেদারল্যান্ডস
১৫
৭
১২
৩৪
গ্রেট ব্রিটেন
১৪
২২
২৯
৬৫
দক্ষিণ কোরিয়া
১৩
৯
১০
৩২
ইতালি
১২
১৩
১৫
৪০
জার্মানি
১২
১৩
৮
৩৩
অলেম্পিক গেমস নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্নের উত্তর:
চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অলিম্পিক গেমস নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্নের উত্তর নিম্নে দেওয়া হল:
প্রশ্ন: আধুনিক অলিম্পিক গেমসের জনক কে?
উত্তর: আধুনিক অলিম্পিক গেমস এর জনক ব্যরন পিয়ারে দ্য কুবার্তা।
প্রশ্ন: অলিম্পিক গেমস এর মটো কি?
উত্তর: অলিম্পিক গেমস এর মটো “ক্ষীপ্রতা, উচ্চতা ও শক্তি”।
প্রশ্ন: ২০২৮ সালে অলিম্পিক কোথায় হবে?
উত্তর: ২০২৮ সালের অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন: অলিম্পিকে কি কি খেলা হয়?
উত্তর: অলিম্পিকে দৌড়, সাঁতার, বাস্কেটবল, সাইকেলিং, ফুটবল, ক্রিকেট ফিল্ড হকি, টেনিস, কুস্তি, ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং, ফিগার স্কেটিং, আইস হকি, যুগ্ম নর্ডিক, স্কি লাফ, এবং দ্রুত স্কেটিং সহ নানা ধরনের খেলা হয়ে থাকে।
প্রশ্ন: সর্বশেষ অলিম্পিক গেমস কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
উত্তর: সর্বশেষ অলিম্পিক গেমস ২০২৪ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন: ২০৩২ সালের অলিম্পিক গেমস কোথায় হবে?
উত্তর: ২০৩২ সালের অলিম্পিক গেমস অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত হয়।
আপনারা নিশ্চয়ই জেনে থাকবেন যে সম্প্রতি তীব্র গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখে বাংলাদেশের সর্বশেষ নির্বাচিত সরকার বিলুপ্ত হয়েছে। পরবর্তীতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূস কে প্রধান উপদেষ্টা করে আরও ১৬ জন উপদেষ্টার সমন্বয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট্য এই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চপ্পু বাংলাদেশের এই নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ করান যার মধ্যে ২ জন উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ বাকী ছিল। পরবর্তীতে গত ১৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আগের ২ জন উপদেষ্টা সহ আর বেশ কয়েকজন নতুন উপদেষ্টা শপথ গ্রহণ করেন। যেকোন চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকাররের তালিকা ২০২৪ এর সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তথ্যগুলো পেতে সম্পূর্ণ ব্লগ টি পড়ুন।
ছবি সহ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তালিকা দেখে নিন। এই ছবিতে নতুন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সকলের তথ্য দেওয়া হয়েছে।
দপ্তর বন্টন অনুসারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তালিকা ২০২৪ |interim government bangladesh 2024 list
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগন কে কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন চলুন দেখে নেওয়া যাক।
নাম
পদবী
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রাণালয়
ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
সালেহ উদ্দিন আহমেদ
উপদেষ্টা
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ড. আসিফ নজরুল
উপদেষ্টা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়,
আদিলুর রহমান খান
উপদেষ্টা
শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
এ এফ হাসান আরিফ
উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
তৌহিদ হোসেন
উপদেষ্টা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
উপদেষ্টা
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
শারমিন মুরশিদ
উপদেষ্টা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিধান রঞ্জন রায়
উপদেষ্টা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
ফারুক-ই-আজম
উপদেষ্টা
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ব্রি.জে এম সাখাওয়াত হোসেন (অব)
উপদেষ্টা
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
সুপ্রদীপ চাকমা
উপদেষ্টা
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
আ.ফ.ম খালিদ হাসান
উপদেষ্টা
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ফরিদা আখতার
উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
নূর জাহান বেগম
উপদেষ্টা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
মো. নাহিদ ইসলাম
উপদেষ্টা
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
উপদেষ্টা
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন
উপদেষ্টা
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ
উপদেষ্টা
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়
আলী ইমাম মজুমদার
উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়
লে. জে. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
উপদেষ্টা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়
অন্তর্বর্তীকালীনসরকারের প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টাদের পরিচয় বৃত্তান্ত
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক। তিনি ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক। অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন। ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার সহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসকে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে আরও জানার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য লিংকে প্রবেশ করুন।
জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ:
তিনি মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল–ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব রুরাল ডেভেলপমেন্ট (বার্ড) এর। দীর্ঘদিন ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিসের এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর মহাপরিচালক পদেও। গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন তিনি।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স ও পরের বছরের মাস্টার্স পরীক্ষা পাস করে সেই বিভাগেই অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন ১৯৭০ সালে। কিছু সময় শিক্ষকতা করে পরে সালেহউদ্দিন সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
১৯৭৮ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরের ‘ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটি’ থেকে অর্থনীতির উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। সালেহউদ্দিনের জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর (দরিশ্রীরামপুর) গ্রামে।
জনাব এএফ হাসান আরিফ
বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি ১৯৪১ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহণ করেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং এলএলবি ডিগ্রি পাস করেন।
১৯৬৭ সালে কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পর তিনি সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হন। তিনি ‘এএফ হাসান আরিফ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’ চেম্বারের প্রধান।
তিনি সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে ১৯৮২ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৮৫ সালের অগাস্ট পর্যন্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল; ১৯৮৫ সালের অগাস্ট থেকে ১৯৯৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিএনপি জামায়াত–জোট সরকারের আমলে ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ১ বছর তিনি তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকার ফখরুদ্দিন আহমেদ সরকারের আইন উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের একজন প্যানেল সদস্য।
জনাব মো. তৌহিদ হোসেন
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেনের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালে ফেব্রুয়ারি এবং ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত দুই মেয়াদে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই কূটনীতিক।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন। ২০০৬ সালে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালের জুনে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকমিশনার করা হয়।
জনাব আদিলুর রহমান খান
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দ্বায়িত্ব পালন করা আদিলুর রহমান খান ১৯৬১ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইন পেশায় থাকার সময় ১৯৯৪ সালে তিনি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করেন। আদিলুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে ‘ভ্রিজ ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলস’ থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরে বিক্ষোভের সময় নেতা-কর্মীরা অপসারণের অভিযানে নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০১৩ সালের ১০ অগাস্ট গোয়েন্দা পুলিশ তাকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে আটক কর। এই মামলায় আদিলুর রহমান খান সহ তার সংগঠনের নাসিরুদ্দিন নামের একজন কর্মকর্তার দুই বছরের সাজা হয়। ২০১৪ সালে তিনি রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। একই বছর তিনি মানবাধিকারের জন্য গোয়াংজু পুরস্কারও জিতেছিলেন।
জনাব ড. আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল ১৯৬৬ সালের ১২ জানুয়ারি জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশুনা করেছেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে তিনি তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিচিত্রা নামক একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় কাজ করতেন। এছাড়া তিনি ম্যাজিস্ট্রেটও হিসেবে কাজ করেছেন।
লেখক, রাজনীতি-বিশ্লেষক ও কলামিস্ট অধ্যাপক আসিফ নজরুল আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ে কয়েকটি বই লিখেছেন। এছাড়াও তার লিখনির তালিকায় কিছু নন-ফিকশন বইও রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে ছয় বছর মানবাধিকার সংগঠন ‘সাউথ এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস’-এর ব্যুরো সদস্য ছিলেন আসিফ নজরুল। ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির হয়ে গণতদন্ত কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। তবে পরে সেই কমিটির সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।
জনাব এম সাখাওয়াত হোসেন
এম সাখাওয়াত হোসেন ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনড লাভ করেন তিনি। পরে দেশ স্বাধীন হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশের সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। ২০০৭ সালে সেনা শাসিত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনাব আ ফ ম খালিদ হাসান
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমির ও সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত আ ফ ম খালিদ হাসান। ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা উপদেষ্টা ও মাসিক আত তাওহীদের সম্পাদক।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে তার শিক্ষা জীবন শেষ করেন। ২০০৬ সালে ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খুতবা: একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’ বিষয়ে উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ফরিদা আখতার
ফরিদা আখতারের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বর্তমানে কাজ করছেন আর্থসামাজিক গবেষণার নানা ক্ষেত্রে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা জানা এবং পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও লেখালেখিই তার কাজের প্রধান জায়গা। নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক বিষয়ে তিন দশক ধরে কাজ করেছেন।
বাংলাদেশের নারী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত সম্মিলিত নারী সমাজের সদস্য তিনি। উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালকও ফরিদা। লেখক ও কলামিস্ট হিসেবেও তার পরিচিতি আছে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের জন্ম ১৯৬৮ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকার ধানমন্ডিতে। তার পৈত্রিক বাড়ি হবিগঞ্জে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও হলিক্রস কলেজের পড়াশুনা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পাস করার পর তিনি ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিতে (বেলা) যোগ দেন। ১৯৯৭ সালে বেলার প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন।
পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক কাজের জন্য অবদানের জন্য বেশকিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা তৈরির কারণে ২০০৭ সালে পরিবেশ পুরস্কার, পরের বছর নেপালভিত্তিক ক্রিয়েটিভ স্টেটমেন্টস অ্যান্ড সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ ‘সিলেব্রেটিং ওমেনহুড অ্যাওয়ার্ড’, ২০০৯ সালে গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কার, ওই বছরই টাইম সাময়িকীর ‘হিরোজ অফ এনভায়রনমেন্ট’ এবং ২০১২ সালে ম্যাগসেসে পুরস্কার পান রিজওয়ানা।
নূরজাহান বেগম
নূরজাহান বেগম ২০১০ সালে গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। তিনি নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
নুরজাহান বেগম গ্রামীণ পরিবারের একটি অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শিক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৬ সালে যখন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকল্প শুরু হয়, তখন তিনি ইউনূসের প্রথম সারির সহযোগীদের একজন ছিলেন।তিনি অনেক দেশে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের পরামর্শদাতা, প্রশিক্ষক এবং মূল্যায়নকারী হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড সামিট মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস অ্যাওয়ার্ড ২০০৯ এবং ভিশন অ্যাওয়ার্ড ২০০৯–এভূষিতহন।
নুরজাহান ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন’ সামিটে অংশ নেন। একই বছর স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি হন।
শারমিন মুরশিদ
সমাজকর্মী শারমিন মুরশিদ বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী হিসাবেও কাজ করে এই সংস্থা। তিনি একটি খ্যাতনামা পরিবারের সদস্য। তার বাবা খান সারওয়ার মুরশিদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। তার মা নূরজাহান মুরশিদ ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় বাংলাদেশের প্রথম সরকারের দূত হিসেবে কাজ করেন।
নাহিদ ইসলাম
উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের ডাক দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একজন নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (শিক্ষাবর্ষ-২০১৬-১৭) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।
নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্ব গঠিত গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আত্মপ্রকাশের সময় বলা হয়েছিল, এটি ‘রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিমুক্ত স্বতন্ত্র একটি ছাত্র সংগঠন’।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের একজন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ (শিক্ষাবর্ষ- ২০১৭-১৮) থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেছেন তিনি। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট আসিফের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায়। গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য সচিব আসিফ।
জনাব ফারুক-ই-আজম
ফারুক-ই-আজম ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় সময় তিনি খুলনা থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে নানা বাধা অতিক্রম করে চট্টগ্রামে পৌঁছান এবং ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।
তিনি নৌবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর অপারেশন জ্যাকপট-এ অংশগ্রহণ করেন, যা ছিল মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত অভিযান। এই অভিযানে একযোগে দেশের চারটি বড় বন্দরে আক্রমণ চালানো হয়। ফারুক ছিলেন অভিযানের উপ-অধিনায়ক। ১৯৭১ সালের ১৬ আগস্ট, চট্টগ্রাম, মোংলা, চাঁদপুর এবং নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকিস্তানী শত্রুদের অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানে কোনো মুক্তিযোদ্ধা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি। ফারুক-ই-আজমের বীরত্ব ও নেতৃত্ব তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করেছে এবং তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অমর নায়ক হিসেবে স্মরণীয়।
জনাব সুপ্রদীপ চাকমা
পররাষ্ট্র ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক এই রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা ১৯৬১ সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৫ সালে সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে সুপ্রদীপ চাকমা সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক এই কর্মকর্তা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চ্যায়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে তিনি মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন। রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা এবং কলম্বোতে বাংলাদেশ মিশনেও তিনি বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন।
জনাব বিধান রঞ্জন রায়
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ও পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পেশায় একজন মানসিক চিকিৎসক ও মনরোগ বিশেষজ্ঞ। মনরোগ বিজ্ঞানে এমবিবিএস, ডিপিএম, ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করা এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ময়মসিংহ মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহের ইউনিয়ন স্পেশালাইজড হাসপাতালে কর্মরত আছেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ যিনি ১ জুলাই জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছেন। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। দেশে ফিরে এসে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার, জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএন-সিডিপি) সদস্য। সেইসাথে, তিনি সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব ইকোনমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসএএনইআই) চেয়ারম্যান। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তিনি পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দীর্ঘ সময় এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন।
ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির
ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত অর্থনীতিবিদ। তিনি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড–এর (ইডকল)দায়িত্ব পালন করেন।
ড. এম ফওজুল খান ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যাট বোস্টন, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইস্ট–ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পার্ট–টাইম ও ফুলটাইম ফ্যাকাল্টি হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ইউএনডিপি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের একজন শীর্ষ পরামর্শক। তার বাড়ি সন্দ্বীপের হরিশপুর গ্রামে। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড পাওয়ারের পরিচালনা পরিষদে ইনডিপেন্ডেন্ট পরিচালক হিসাবে আছেন।
আলি ইমাম মজুমদার
৭৪ বছর বয়সী আলী অমাম মজুমদার প্রাক্তন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং একই সময়ে মুখ্য সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। তার পূর্বে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে প্রশাসন ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন আলী ইমাম মজুমদার এবং পরবর্তীতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি বর্তমানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বিভিন্ন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। আলী ইমাম মজুমদার তার চাকরি জীবনে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্যগুলো যেকোন চাকরির পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আশাকরি সাম্প্রতিক এই তথ্যগুলো আপনার চাকরির প্রস্তুতিতে অনেক কাজে আসবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ছাড়াও এই সরকার গঠন হওয়ার সাথে সাথে প্রধান বিচারপতি, অ্যাাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু পদে পরিবর্তন আসে। নিম্নে ১৮ আগষ্ট ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত সদ্য রদবদল হওয়া এই পদগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হল:
পদবী / দপ্তর
নাম
বিশেষ তথ্য
প্রধান বিচারপতি
সৈয়দ রেফাত আহমেদ
সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দেন।তিনি দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি এবং ওবায়দুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল
মো. আসাদুজ্জামান
তিনি এ এম আমিন উদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।তিনি বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
আহসান এইচ মনসুর
তিনি দেশের ১৩তম গভর্নর।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক অর্থনীতিবিদ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান
আবদুর রহমান
তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ছিলেন।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)
এ কে এম সহিদ উদ্দিন
তিনি প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক
মাহবুব মোর্শেদ
তিনি এক জন সাংবাদিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক।এর আগে এক প্রজ্ঞাপনে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক পদে আবুল কালাম আজাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)
মো. ময়নুল ইসলাম, এনডিসি
তিনি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।তিনি বাংলাদেশের ৩২তম আইজিপি।
র্যাবের মহাপরিচালক
কে এম শহিদুর রহমান
তিনি মো. হারুন-অর-রশিদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
রেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই) মহাপরিদর্শক
মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান
তিনি মেজর জেনারেল হামিদুল হকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন
আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক
মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ
তিনি মেজর জেনারেল এ কে এম আমিনুল হকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক
মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরোয়ার ফরিদ
তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) কমান্ড্যান্ট ছিলেন।তিনি মেজর জেনারেল মো. হোসাইন আল মোরশেদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান
মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী
তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ডেভেলপমেন্ট শাখায় অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) মহাপরিচালক
মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান
এ পদে থাকা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান
এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া
তিনি এয়ার কমডোর সাদিকুর রহমান চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হবেন।এয়ার কমডোর সাদিকুর রহমান চৌধুরীকে ঢাকা বিমান বাহিনী সদর দপ্তরের প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
আশাকরি বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মণ্ডলীর তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় সহ সদ্য রদবদল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো আপনার চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অনেক কাজে আসবে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্নের উত্তর:
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে কী হয়?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে তা স্থানে অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে হয়। যদিও সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, তবে সংবিধান অনুসারে ৩ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হয়। এছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও গঠন করা যায়।
প্রশ্ন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাকে বলে?
উত্তর: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হচ্ছে একটি অস্থায়ী সরকার যা রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় গঠন করা হয়।
প্রশ্ন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর কাজ কী?
উত্তর: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ও বিভিন্ন বাহিনীর সংস্কার করাও এ সরকারের কাজের অংশ হতে পারে।
প্রশ্ন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন?
উত্তর: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে তা নির্দিষ্ট নয়। মেয়াদ ৩ মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি আলোচিত নাম। পূর্বে এই নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ কে নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা ও সমালোচনা হয়ে থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রেক্ষাপটে তার জীবনী এবং অর্জনগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাকরি প্রত্যাশীদের এই প্রয়োজনগুলো মাথায় রেখেই আজকে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস কে নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৮ জুন, ১৯৪০ সালে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উনার পিতার নাম হাজী দুলা মিয়া সওদাগর যিনি পেশায় একজন জহুরি ছিলেন এবং মাতার নাম সুফিয়া খাতুন। দুই ভাই ও নয় বোনের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন তৃতীয়। মুহাম্মদ ইউনূসের ভাই মুহাম্মদ ইব্রাহিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং ছোট ভাই মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব। মুহাম্মদ ইউনূসের সহধর্মিনীর নাম ড. আফরোজী ইউনুস। দুই কন্যার জনক মুহাম্মদ ইউনূস এর এক মেয়ের নাম মনিকা ইউনূস এবং অন্য জনের নাম দীনা আফরোজ ইউনূস।
মুহাম্মদ ইউনূসের শিক্ষা জীবন:
শিক্ষা জীবনের শুরুতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার গ্রামের মহাজন ফকিরের স্কুল নামে একটি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৪ সালে তার পরিবার চট্টগ্রাম শহরে চলে আসায় তিনি গ্রামের স্কুল থেকে লামাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তী হন।
মাধ্যমিক পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ৩৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ তম স্থান অধিকার করেন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি বয়েজ স্কাউটসে যোগদান করেন এবং বয়েজ স্কাউটসের পক্ষ থেকে মাত্র ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন।
পরবর্তীতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তী হন। এই সময়ে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন এবং কলেজ জীবনেই নাটকে অভিনয় করার জন্য প্রথম পুরষ্কার অর্জন করেন। এছাড়াও কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা এবং আজাদী পত্রিকায় কলাম লেখার কাজে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ এবং এমএ সম্পন্ন করেন।
মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মজীবন:
স্নাতকের পর কর্মজীবনের শুরুতেই মুহাম্মদ ইউনূস ব্যুরো অব ইকোনমিক্স -এ গবেষণা সহকারী হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ফুলব্রাইট স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এই পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭৬ সালে মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক ভাবে দরিদ্র বাংলাদেশী নাগরিকদের ব্যাংকিং সুবিধায় আনার আনার জন্য এবং ঋণ প্রদান করার জন্য এই ব্যাংকটির অবদান রয়েছে অনেক। দরিদ্র নাগরিকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এই ব্যাংকিং মডেল টি বিশ্বদরবারে অনেক প্রশংসা অর্জন করে এবং বিশ্বের অনেক উন্নত ও শিল্পোন্নত দেশসমূ গ্রামীণের এই মডেল ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হয়। তার এই অবদানের জন্য মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে। এবং পরবর্তীতে আগস্ট ২০২৪ তারিখে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান:
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পক্ষে বিদেশে জনমত গড়ে তোলা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদানের জন্য সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালীন সময়ে মুহাম্মদ ইউনূস দেশের নাগরিকদের দারিদ্র্যতার বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম শুরু করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্ভিক্ষের সময় তিনি বুঝতে পারেন স্বল্প পরিমাণে ঋণ দরিদ্র মানুষের জীবন মান উন্নয়নে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই সময়ে তিনি গবেষণার লক্ষ্যে গ্রামীণ অর্থনৈতিক প্রকল্প চালু করেন। ১৯৭৪ সালে মুহাম্মদ ইউনুস তেভাগা খামার প্রতিষ্ঠা করেন যা সরকার প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় অধিগ্রহণ করে।
মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
নিজের জ্ঞাণ ও ভাবনাগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের লেখা বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেন। যার মধ্যে অন্যতম বইগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হল –
Banker to the Poor:Micro-lending and The battle against World Poverty. (১৯৯৮)
Three Farmers of Jobra; Department of Economics, Chittagong University; (১৯৭৪)
Creating a World Without Poverty
আত্মজীবনী মূলক বই – দারিদ্র্য হীন বিশ্বের অভিমুখে
দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্বের জন্য
গ্রামীণ ব্যাংক ও আমার জীবন
পথের বাধা সরিয়ে নিন, মানুষকে এগুতে দিন
মুহাম্মদ ইউনূসের সম্মাননা ও পুরষ্কার সমূহ:
প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার ছাড়াও ড. মোহাম্মদ ইউনূস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬২টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল অর্জন করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১০ টি দেশ থেকে বিশেষ সম্মাননা সহ সর্বমোট ২৬ টি দেশ থেকে ১১২ টি পুরষ্কার লাভ করেন। উনার উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারসমূহ থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পুরষ্কার নিম্নে তুলে ধরা হল –
প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড। (১৯৭৮)
রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার। (১৯৮৪)
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড। (১৯৮৫)
স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮৭)
আগা খান অ্যাওয়ার্ড। (১৯৮৯)
কেয়ার পুরস্কার। (১৯৯৩)
নোবেল পুরস্কার (শান্তি)। (২০০৬)
মানবহিতৈষণা পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্র। (১৯৯৩)
মুহাম্মদ সাহেবুদ্দিন বিজ্ঞান (সামাজিক অর্থনীতি) পুরস্কার,শ্রীলঙ্কা (১৯৯৩)
রিয়াল এডমিরাল এম এ খান স্মৃতি পদক,বাংলাদেশ (১৯৯৩)
বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার,যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪)
পিফার শান্তি পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্র (১৯৯৪)
ডঃ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম স্মৃতি স্বর্ণ পদক, বাংলাদেশ (১৯৯৪)
এইসেনহওয়ের মেডেল ফর লিডারশীপ অ্যান্ড সার্ভিস, যুক্তরাষ্ট্র (২০০৯)
গোল্ডেন বিয়াটেক এ্যাওয়ার্ড, স্লোভাকিয়া (২০০৯)
গোল্ড মেডেল অফ ওনার এ্যাওয়ার্ড, যুক্তরাষ্ট্র (২০০৯)
প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডম, যুক্তরাষ্ট্র (২০০৯)
পি আই সি এম ই টি এ্যাওয়ার্ড, পোর্টল্যান্ড (২০০৯)
বৈরুত লিডারশীপ এ্যাওয়ার্ড (২০০৯)
সোলারওয়ার্ল্ড আইন্সটাইন এ্যাওয়ার্ড (২০১০)
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিখ্যাত উক্তি:
বিভিন্ন সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিখ্যাত বেশ কিছু উক্তি প্রদান করেছেন। তার বিখ্যাত উক্তিগুলো থেকে সংগ্রহীত কিছু উক্তি তুলে ধরা হল।
” Poverty does not belong in civilized human society. Its proper place is in a museum. That’s where it will be. “
“Once we know where we want to go, getting there will be so much easier.”
” If you think creating a world without any poverty is impossible, let’s do it. Because it is the right thing to do ”
” We can remove poverty from the surface of the earth only if we can redesign our institutions – like the banking institutions, and other institutions; if we redesign our policies, if we look back on our concepts, so that we have a different idea of poor people”
” If we are looking for one single action which will enable the poor to overcome their poverty, I would focus on credit ”
” Like navigation markings in unknown waters, definitions of poverty need to be distinctive and unambiguous. A definition that is not precise is as bad as no definition at all”
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার জবনী নিয়ে বিভিন্ন তথ্য উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হল। পরবর্তীতে উনার সম্পর্কে আরও হালনাগাদকৃত তথ্য এই পোস্টেই আপডেট করে দেওয়া হবে। আশাকরি চাকরির পরীক্ষার জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো আপনার চাকরির প্রস্তুতিতে অনেক কাজে আসবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কে নিয়ে বহুল জিজ্ঞাসিত কিছু প্রশ্নের উত্তর:
প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস কত সালে নোবেল পুরষ্কার পান?
উত্তর: ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পান।
প্রশ্ন: ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন দল করেন?
উত্তর: ব্যাক্তিগত জীবনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন দলীয় রাজনীতি করেন নি। তবে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার মাত্র ৫ মাসের মধ্যে তিনি নাগরিক শক্তি নামক একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে চেয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন। তবে ২০০৭ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন ডঃ মুহাম্মদ ইউনূস। সেবার তিনি এই প্রস্তাব টি নাকচ করে দেন।