Category: Blog

  • বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট যেভাবে সাজাবেন | BCS Cadre Choice List

    বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট যেভাবে সাজাবেন | BCS Cadre Choice List

    বিসিএস পরীক্ষার আবেদন করার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজানো বা BCS Cadre Choice List সিলেকশন করা। বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার একটি অংশ এবং ভাইভা পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন ক্যাডার চয়েসের উপর নির্ভর করে। কিন্তু ক্যাডারদের কাজ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা এবং কোন কোন বিষয় মাথায় রেখে চয়েস লিস্ট সাজানো উচিত তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা না থাকায় অনেকেই চয়েজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন।

    নতুন প্রার্থীদের পাশাপাশি চাকরিতে কর্মরত আছেন এমন প্রার্থীদেরো ক্যাডার চয়েস লিস্টটি কীভাবে সাজানো উচিত তা জানা খুবই জরুরি তাই আজকের ব্লগে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডারের মধ্য থেকে কীভাবে আপনার জন্য বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজাবেন তা বিস্তারিতভাবে জানানো হবে। আশা করি, কোন ক্যাডার আগে রাখবেন কোন ক্যাডার পরে আজকের পর এই বিষয়ে আর কোন কনফিউশন থাকবে না।

    যেভাবে সাজাবেন বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট

    বিসিএস ক্যাডার কয়টি ও কী কী?

    বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজানোর পূর্বে আপনাকে প্রথমেই বিসিএস ক্যাডারের ধরনগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। চলুন বিসিএস ক্যাডার কয়টি ও কী কী এবং এর ধরনগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। বিসিএস ক্যাডার সাধারণত ২ ধরনের হয়ে থাকে।

    ১। সাধারণ ক্যাডার (General Cadre)

    ২। কারিগরি ক্যাডার (Technical Cadre) / পেশাগত ক্যাডার (Professional Cadre)

    এই দুই ধরনের ক্যাডারের মধ্যে সর্বমোট ২৬টি ক্যাডার রয়েছে যার মধ্যে ১৪টি সাধারণ ক্যাডার এবং ১২টি পেশাগত বা, কারিগরি ক্যাডার ।

    একজন চাকরি প্রার্থী শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডার, শুধুমাত্র প্রফেশনাল ক্যাডার, এবং (সাধারণ ও প্রফেশনাল ক্যাডার) বা Both Cadre (উভয় ক্যাডার) – এই ৩ ভাবেই ক্যাডার চয়েস করে আবেদন করতে পারেন। নিম্নে এই ৩ ধরনের ক্যাডার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

    বিসিএস সাধারণ ক্যাডার (BCS General Cadre):

    বিসিএস সাধারণ ক্যাডার (General Carder) এর পদগুলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাডারগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য সকল প্রার্থীই আবেদনের সময় সাধারণ ক্যাডার (General Cadre) চয়েস করতে পারে। অর্থাৎ প্রার্থী যে বিষয়েই তার স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জন করুন না কেন তিনি ১৪টি সাধারণ ক্যাডারের সবগুলোই চয়েস দিতে পারবেন।

    কোন প্রার্থী যদি বিসিএস পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডার (General Cadre) চয়েস দিয়ে আবেদন করেন এবং ২০০ নম্বরের বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন, তবে তাকে সাধারণ ক্যাডারের জন্য নির্দিষ্ট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

    বিসিএস পেশাগত ক্যাডার (BCS Professional Cadre) / বিসিএস কারিগরি ক্যাডার (BCS Technical Cadre):

    নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে পড়াশোনা করা প্রার্থীরা পেশাগত ক্যাডার (Professional Cadre) বা, কারিগরি ক্যাডার (Technical Cadre) পদ গুলোর জন্য আবেদন করতে পারেন। যেমন – চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃষি ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করা প্রার্থীরা এই পদ গুলোর জন্য আবেদন করার সুযোগ পান। পেশাগত ক্যাডার এবং কারিগরি ক্যাডার ছাড়াও এই প্রার্থীরা একই সাথে জেনারেল ক্যাডারেও আবেদন করার সুযোগ পান। পেশাগত ক্যাডার (Professional Cadre) বা, কারিগরি ক্যাডার (Technical Cadre) এর সংখ্যা সর্বমোট ১২ টি।

    কোন প্রার্থী যদি বিসিএস পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র পেশাগত ক্যাডার (Professional Cadre) বা কারিগরি ক্যাডার (Technical Cadre) চয়েস দিয়ে আবেদন করেন এবং বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তবে তাকে পেশাগত ক্যাডার বা কারিগরি ক্যাডারের জন্য নির্দিষ্ট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।এই ক্ষেত্রে জেনারেল ক্যাডারের লিখিত পরীক্ষার জন্য যে নির্দিষ্ট ৯০০ নম্বরের সিলেবাস ছিল সেখান থেকে বাংলা ২য় পত্র এবং বিজ্ঞানের ২০০ নম্বর বিয়োগ হয়ে মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে সাধারণ ক্যাডার (General Cadre) সিলেবাস থেকে। এবং প্রার্থী যে বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন সেই নির্দিষ্ট বিষয় থেকে ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

    অর্থাৎ সাধারণ ক্যাডারের সিলেবাস থেকে ৭০০ নম্বর ও স্নাতক বা সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নকৃত বিষয় থেকে ২০০ নম্বর সহ মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

    উভয় ক্যাডার (Both Cadre):

    যদি কোন প্রার্থী সাধারণ ক্যাডার এবং পেশাগত বা কারিগরি ক্যাডার উভয় ধরনের ক্যাডার সিলেক্ট করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এই প্রিক্রিয়াকে Both Cadre বা উভয় ক্যাডার চয়েস বলা হয়। Both Cadre চয়েস দিয়ে যদি কোন প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তাহলে লিখিত পরীক্ষায় ঐ প্রার্থীকে সাধারণ ক্যাডার (General Cadre) এর জন্য নির্দিষ্ট ৯০০ নম্বর এবং স্নাতক পর্যায়ে নিজের পঠিত বিষয় থেকে ২০০ নম্বর সহ মোট ১১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সর্বমোট ২৬ টি ক্যাডারের সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    ক্যাডার কোড ও ক্যাডারের ধরনসহ বিসিএস ক্যাডার তালিকা (BCS Cadre List with Code):

    ২০২৪ সালের সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী ক্যাডার কোড, ক্যাডারের ধরন সহ বিসিএস ক্যাডার তালিকা নিম্নে দেওয়া হলঃ

    ক্যাডারের ধরন
    [Type of cadre]
    ক্যাডারের নাম
    [Cadre Name]
    ক্যাডার কোড
    [Cadre Code]
    সাধারণ ক্যাডার
    [মোট ১৪টি]
    বিসিএস এডমিন ক্যাডার [প্রশাসন]১১০
    বিসিএস আনসার ক্যাডার১১৮
    বিসিএস অডিট ক্যাডার [নিরীক্ষা ও হিসাব]১১২
    বিসিএস সমবায় ক্যাডার১১৯
    বিসিএস ট্যাক্স ক্যাডার [শুল্ক ও আবগারি]১১৩
    বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডার১২৪
    বিসিএস খাদ্য ক্যাডার১১১
    বিসিএস ফরেন ক্যাডার [পররাষ্ট্র]১১৫
    বিসিএস তথ্য ক্যাডার১২১ / ১২২ / ১২৩
    বিসিএস পুলিশ ক্যাডার১১৭
    বিসিএস ডাক ক্যাডার১১৬
    বিসিএস রেলওয়ে ক্যাডার [পরিবহণ ও বাণিজ্যিক]১২৫
    বিসিএস ট্যাক্স ক্যাডার [কর]১১৪
    বিসিএস বাণিজ্য ক্যাডার১২০
    পেশাদার/কারিগরি ক্যাডার
    [মোট ১২টি]
    বিসিএস কৃষি ক্যাডার২২৬/২২৭/২২৯
    বিসিএস মৎস্য ক্যাডার২৪০/২৪৪/২৪৫/২৪৮/২৫৩/২৬১/২৬৩
    বিসিএস বন ক্যাডার৫৫০
    বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার৪১০/৪৫০
    বিসিএস পশু সম্পদ ক্যাডার২৭০/২৮১
    বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ক্যাডার৩২০
    বিসিএস গণপূর্ত ক্যাডার৩১১/৩১২
    বিসিএস রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডার৩৫১/৩৫২
    বিসিএস সড়ক ও জনপদ ক্যাডার৩৩১/৩৩২
    বিসিএস পরিসংখ্যান ক্যাডার৫৪০
    বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারবিষয় সংশ্লিষ্ট কোড
    বিসিএস কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারবিষয় সংশ্লিষ্ট কোড

    যেসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বিসিএস ক্যাডার চয়েজ লিস্ট তৈরি করতে হবে:

    যেসব বিষয় বিবেচনায় রেখে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজাবেন

    বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের পূর্বেই আপনাকে কাগজে কলমে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টের একটি খসড়া সাজিয়ে ফেলতে হবে যেন আবেদনের সময় কোন প্রকার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। আবেদনের সময় তাৎক্ষণিক ক্যাডার চয়েসের সিদ্ধান্ত নিতে গেলে ভুল করার সম্ভাবনা বেড়ে যায় তাই আগে থেকে কাগজে কলমে এটা সাজিয়ে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

    ক্যাডার চয়েস লিস্টটি সাজানোর সময় বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পছন্দ, চাকরির সুযোগ সুবিধা, কর্মস্থল এবং কর্মস্থলের পরিবেশ, প্রমোশন ও পদসোপান, আর্থিক সচ্ছলতা ও সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে একজন আপনি বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজাতে পারেন।

    ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পছন্দ: আবেদনের সময় আপনি আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পছন্দের উপর ভিত্তি করে ক্যাডার চয়েজ লিস্ট তৈরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যদি পুলিশ ক্যাডারের প্রতি Passionate হোন, তাহলে অবশ্যই আপনার উচিত হবে পুলিশ ক্যাডারকেই প্রথম চয়েসে রাখা। আবার অনেকেই বিসিএস স্বাস্থ্য বা শিক্ষার প্রতি Passionate থাকেন, সেক্ষেত্রে সেই ক্যাডারই প্রথমে রাখা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে আপনার পারিবারিক পছন্দও ক্যাডার চয়েজ লিস্ট তৈরিতে প্রাধান্য পেতে পারে।

    বেতন, ভাতা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা: সকল ক্যাডার পদেরই বেসিক বেতন প্রায় একই রকম হলেও অনেক ক্যাডারেই অতিরিক্ত দায়িত্ব, বিভিন্ন কমিটি প্রধান হিসাবে দায়িত্ব ইত্যাদি নানা কারণে বেতনের বাইরেও অতিরিক্ত ও বৈধ আয়ের সুযোগ থাকে। বেতনের বাইরে এই সুবিধাগুলো অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিয়ে আসে যা অবশ্যই ক্যাডার চয়েজ করার সময় বিবেচনা করা উচিত।

    পদের দায়িত্ব ও সামাজিক মর্যাদা: বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের বিভিন্ন পদে সামাজিক মর্যাদা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ক্যাডার পদের দায়িত্ব এবং সামাজিক মর্যাদা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাছাড়া অনেকেই কোন একটা নির্দিষ্ট ক্যাডারের দায়িত্ব সম্পর্কে Passionate হতে পারেন, সেক্ষেত্রে সেই ক্যাডারটি পছন্দের তালিকায় শুরুর দিকে রাখা উচিত।

    প্রমোশন ও পদসোপান, কর্মস্থল ও কাজের পরিবেশ: আপনি যে ক্যাডার পদটি সবার আগে রাখতে চান, সেই পদের প্রমোশন কত দ্রুততম সময়ে হয়, সর্বোচ্চ পদ কী, কর্মস্থলের পরিবেশ কেমন ইত্যাদি বিবেচনা করা ক্যাডার চয়েজ লিস্ট তৈরি করা উচিত।

    যে ক্যাডারগুলো পেতে বেশি নম্বরের প্রয়োজন হয়:

    বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গড়ে ৩.৫ – ৪.৫ লাখ পর্যন্ত হয়ে থাকে, বিপরীতে পদের সংখ্যা গড়ে ৩-৫ হাজার। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীকে পেছনে ফেলে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বিভিন্ন ক্যাডার পদ প্রাপ্তির জন্য তুলনামূলক কম-বেশি নম্বরের প্রয়োজন হয়।

    এক্ষেত্রে কিছু ক্যাডার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশি নম্বর প্রয়োজন হলেও কিছু ক্যাডারের জন্য তুলনামূলক কম নম্বর পেলেও চলে। বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজানোর সময় নম্বর প্রাপ্তির এই বিষয়টিকেও প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। তুলনামূলক যে ক্যাডারগুলো পেতে অধিক নম্বর পাওয়ার প্রয়োজন হয়, সেগুলো ক্রমানুসারে সাজানো হলো –

    • বিসিএস পররাষ্ট্র
    • বিসিএস প্রশাসন/পুলিশ
    • বিসিএস কাস্টমস/ট্যাক্স/অডিট
    • বিসিএস আনসার/তথ্য
    • বিসিএস খাদ্য/রেলওয়ে
    • বিসিএস তথ্য (বেতার অনুষ্ঠান/ বার্তা)
    • বিসিএস সমবায়/ডাক/পরিবার পরিকল্পনা

    বেশি নম্বর প্রাপ্তির ভিত্তিতে উপরের ক্যাডারের ক্রমটি সাজানো হয়েছে। বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজানোর সময় বেশি নম্বর লাগে এমন ক্যাডার গুলো প্রথমদিকে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ বিসিএস পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে আপনি কেমন নম্বর পাবেন তা সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা থাকে না।

    তাই কম নম্বর লাগে এমন ক্যাডার যদি আপনি প্রথম দিকে রাখেন এবং পেয়েও যান তাহলে পরবর্তীতে অনুতাপ করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। তাই বেশি নম্বর লাগে এমন ক্যাডারগুলো প্রথমদিকে এবং তুলনামূলক কম নম্বর লাগে এই পদগুলো পরের দিকে রাখাই শ্রেয়। তবে প্রার্থীর কাঙ্ক্ষিত পছন্দ উল্লিখিত ক্যাডারের ক্রম থেকে ব্যতিক্রম হলে এই লিস্টে পরিবর্তন করা যাবে।

    যাভাবে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট সাজাবেন:

    উভয় ক্যাডারের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট (Both Cadre BCS Choice List)

    Both Cadre এর ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট

    Both Cadre এ আবেদন করার বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন – Both Cadre এ আবেদন করলে একজন প্রার্থীর ক্যাডার প্রাপ্তির সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। যেহেতু সকল প্রার্থীই জেনারেল ক্যাডার চয়েস করতে পারেন, সেহেতু জেনারেল ক্যাডার গুলো পেতে একজন প্রার্থীকে অনেক বেশি সংখ্যক প্রার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়।

    অপরদিকে টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে শুধু তার নিজের সাবজেক্ট এর উপর পড়াশোনা সম্পন্ন করা প্রার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কম হওয়ায় ক্যাডার প্রাপ্তির সুযোগ অনেক বেশি বেড়ে যায়। তাই ক্যাডার চয়েজের ক্ষেত্রে Both Cadre চয়েস করাটাই উত্তম।

    বিভিন্ন দৃশ্যপট থেকে একজন প্রার্থী Both Cadre চয়েস দিতে চাইলে কিভাবে তার বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টটি কীভাবে সাজাতে পারেন তা বাস্তবসম্মত ভাবে নিম্নে তুলে ধরা হল।

    (পদ্ধতি-১) ইংরেজিতে দক্ষতার উপর নির্ভর করে

    ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকলে একজন প্রার্থী পররাষ্ট্র ক্যাডারকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখে তার ক্যাডার চয়েজ লিস্ট সাজাতে পারেন। ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্র ক্যাডার কে প্রথম চয়েজ দিতে পারেন অথবা ক্যাডার চয়েজের তালিকা থেকে পররাষ্ট্র ক্যাডারটি বাদ দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ক্যাডার চয়েস লিস্টটি হতে পারে নিম্নরূপ-

    পররাষ্ট্র [ইংরেজি স্পিকিং ভাল হওয়ার সাপেক্ষে]

    প্রশাসন/পুলিশ

    পুলিশ/প্রশাসন

    ট্যাক্স/কাস্টমস

    কাস্টমস/ট্যাক্স

    অডিট/আনসার

    আনসার/অডিট

    সমবায়/তথ্য

    তথ্য/সমবায়

    খাদ্য/পরিবার পরিকল্পনা

    পরিবার পরিকল্পনা/খাদ্য

    বাণিজ্য/ডাক

    ডাক/বাণিজ্য

    রেলওয়ে পরিবহণ ও বাণিজ্য

    শিক্ষা ক্যাডার/স্বাস্থ্য ক্যাডার/প্রকৌশলী/অন্যান্য টেকনিক্যাল ক্যাডার

    ইংরেজিতে ভালো ভাবে কথা বলার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্র ক্যাডার কে প্রথম চয়েস দিতে পারেন অথবা ক্যাডার চয়েস তালিকা থেকে পররাষ্ট্র ক্যাডার বাদ দিতে পারেন।

    (পদ্ধতি-২) প্রফেশনাল / টেকনিক্যাল ক্যাডার ২য় অবস্থানে রেখে

    যারা শিক্ষা ক্যাডারসহ নিজের অধীনে থাকা বিভিন্ন প্রফেশনাল ক্যাডার ও টেকনিক্যাল ক্যাডার ২য় অবস্থানে রেখে বিসিএস ক্যাডার চয়েজ লিস্ট সাজাতে চান, তারা নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে ক্যাডার চয়েজের তালিকাটি সাজাতে পারেন।

    প্রশাসন/পুলিশ

    সাধারণ শিক্ষা/টেকনিক্যাল ক্যাডার/প্রফেশনাল ক্যাডার

    ট্যাক্স/কাস্টমস

    কাস্টমস/ট্যাক্স

    অডিট/আনসার

    আনসার/অডিট

    সমবায়/তথ্য

    তথ্য/সমবায়

    খাদ্য/পরিবার পরিকল্পনা

    পরিবার পরিকল্পনা/খাদ্য

    বাণিজ্য/ডাক

    ডাক/বাণিজ্য

    রেলওয়ে পরিবহণ ও বাণিজ্য

    টেকনিক-৩ প্রফেশনাল / টেকনিক্যাল ক্যাডার ১ম অবস্থানে রেখে

    যারা স্নাতক ও সমমানের পর্যায়ে নিজের অধ্যয়নকৃত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এর অধীনে থাকা ক্যাডারগুলো পছন্দের তালিকায় প্রথমে রেখে আবেদন করতে চান, অর্থাৎ টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডার ১ম স্থানে রেখে আবেদন করতে চান তারা নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করে ক্যাডার চয়েজের তালিকাটি সাজাতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ক্যাডার চয়েস লিস্ট হতে পারে নিম্নরূপ –

    সাধারণ শিক্ষা/টেকনিক্যাল ক্যাডার/প্রফেশনাল ক্যাডার

    প্রশাসন/পুলিশ

    ট্যাক্স/কাস্টমস

    কাস্টমস/ট্যাক্স

    অডিট/আনসার

    আনসার/অডিট

    সমবায়/তথ্য

    তথ্য/সমবায়

    খাদ্য/পরিবার পরিকল্পনা

    পরিবার পরিকল্পনা/খাদ্য

    বাণিজ্য/ডাক

    ডাক/বাণিজ্য

    রেলওয়ে পরিবহণ ও বাণিজ্য

    শুধু ১টি (জেনারেল / টেকনিক্যাল / প্রফেশনাল) ক্যাডার চয়েস লিস্ট (General / Professional Cadre BCS Cadre Choice List)

    যেকোন একটি! সাধারণ ক্যাডার Vs প্রফেশনাল ক্যাডার

    শিক্ষাগত কারণে অনেক বিষয়ে অধ্যয়ন করা প্রার্থীরা বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল ক্যাডারে আবেদন করতে পারেন না। তাই সেসকল প্রার্থীরা বাধ্য হয়েই কেবল জেনারেল ক্যাডারের পদগুলোতে আবেদন করেন। বিপরীতে অনেক প্রার্থী শুধু তাদের নিজের অধ্যয়ন করা বিষয়ের উপর চাকরি করতে চান। ফলে তারা শুধু তার বিষয়ের অধীনে থাকা টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল ক্যাডার গুলো চয়েস দিয়ে আবেদন করেন।

    (পদ্ধতি-১) শুধু জেনারেল ক্যাডার চয়েস

    যে-সকল প্রার্থীর স্নাতক বা সমমানের পর্যায়ে অধ্যয়নকৃত বিষয়ের অধীনে কোন টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডার নেই অথবা যে-সকল প্রার্থী ঐচ্ছিক ভাবেই ভাবেই বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টে শুধু জেনারেল ক্যাডার রাখতে চান তারা নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে তাদের বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টটি সাজাতে পারেন।

    পররাষ্ট্র (ইংরেজি স্পিকিং স্কিল ভাল হলে)

    প্রশাসন / পুলিশ

    পুলিশ / প্রশাসন

    ট্যাক্স / কাস্টমস

    কাস্টমস / ট্যাক্স

    অডিট / আনসার

    আনসার / অডিট

    সমবায় / তথ্য

    তথ্য / সমবায়

    খাদ্য / পরিকল্পনা

    পরিবার পরিকল্পনা / খাদ্য

    বাণিজ্য / ডাক

    ডাক / বাণিজ্য

    রেলওয়ে পরিবহণ ও বাণিজ্য

    ইংরেজিতে ভালোভাবে কথা বলার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে পররাষ্ট্র ক্যাডার কে প্রথম চয়েস দিতে পারেন অথবা ক্যাডার চয়েস তালিকা থেকে পররাষ্ট্র ক্যাডার বাদ দিতে পারেন।

    (পদ্ধতি-২) শুধু টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার চয়েজ:

    যদি কোন প্রার্থী শুধু তার অধ্যয়নকৃত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ক্যাডার চয়েজ করতে চান, তবে তিনি শুধু তার স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ের অধীনে থাকা টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডারটি চয়েজ করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে প্রার্থীর চয়েজ করা ক্যাডারের সংখ্যা হবে ১টি। যেমন –

    ১। সাধারণ শিক্ষা / টেকনিক্যাল ক্যাডার / প্রফেশনাল ক্যাডার

    বিসিএস ক্যাডার চয়েস সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা কিছু প্রশ্নের উত্তর:

    প্রশ্নঃ বিসিএস এর পূর্ণরূপ কি

    উত্তরঃ বিসিএস এর পূর্ণরূপ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস।

    প্রশ্নঃ বিসিএস ক্যাডার কয়টি

    উত্তরঃ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস ক্যাডার সর্বমোট ২৬ টি। পূর্বে বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা আরও বেশি থাকলেও কিছু ক্যাডার বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে এই সংখ্যা ২৬ টি হয়েছে।

    প্রশ্নঃ সাধারণ ক্যাডার কি?

    উত্তরঃ বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের যে পদগুলোর মধ্যে সকল বিভাগ থেকে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন, অর্থাৎ যে পদগুলোর জন্য কোন বিশেষ বিষয়ে পড়াশোনা দরকার পরে না সেই ক্যাডার গুলোকে সাধারণ ক্যাডার বলা হয়।

    প্রশ্নঃ বিসিএস ক্যাডারের বেতন কত?

    উত্তরঃ প্রত্যেক বিসিএস ক্যাডারই সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডে (২২০০০ – ৫৩০৬০ টাকা) থেকে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সময় পদোন্নতি এবং বদলির মাধ্যমে এই বেতন স্কেলের আরও উন্নতি হয়। বেতন ছাড়াও এই সার্ভিসে আরও নানান সুযোগ সুবিধা থাকে।

    প্রশ্নঃ কোন ক্যাডার সবচেয়ে ভালো?

    উত্তরঃ বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের কোন ক্যাডার সবচেয়ে ভালো তা যাচাই করা একটু কঠিন। কারন একেক জনের কাছে ভালোর সংজ্ঞা একেক রকম। তবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা, ক্ষমতা ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, ট্যাক্স, অডিট এই ক্যাডারগুলোকে এগিয়ে রাখা হয়।

    প্রশ্নঃ বোথ ক্যাডার কি?

    উত্তরঃ বোথ ক্যাডারের অর্থ হচ্ছে উভয় ক্যাডার। যদি কোন প্রার্থী একই সাথে জেনারেল এবং টেকনিক্যাল / প্রফেশনাল উভয় পদের ক্যাডার গুলো চয়েস করে বিসিএস এর ফরম পূরণ করেন তাহলে সেটিকে বোথ ক্যাডার বা উভয় ক্যাডার চয়েস বলা হয়।

    প্রশ্নঃ কোন কোন সাবজেক্টে প্রশাসন ক্যাডার আছে?

    উত্তরঃ যেহেতু বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার একটি জেনারেল ক্যাডার। তাই বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্য যে কেউই প্রশাসন ক্যাডারে আবেদন করতে পারবেন। প্রশাসন ক্যাডারের জন্য কোন বিশেষ বিষয়ে পড়াশোনা করার প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্নঃ প্রফেশনাল ক্যাডার কি?

    উত্তরঃ মূলত পেশাদার ক্যাডারদেরই প্রফেশনাল ক্যাডার বলা হয়। আপনি যে বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জন করেছেন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যদি আপনি নিজের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কোন ক্যাডার পদের জন্য আবেদন করেন তাহলে সেটিকে প্রফেশনাল ক্যাডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

    প্রফেশনাল ক্যাডারের সাথে টেকনিক্যাল ক্যাডারও সম্পর্কিত রয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার, শিক্ষা ক্যাডার, প্রকৌশলী এসব ক্যাডারই প্রফেশনাল ক্যাডার বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত। 

  • বিসিএস সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন এবং উত্তর জানুন | BCS FAQ 2026

    বিসিএস সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন এবং উত্তর জানুন | BCS FAQ 2026

    চাকরি প্রত্যাশী প্রার্থীদের কাছে বিসিএস একটি স্বপ্নের নাম। তাই বিসিএস সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কৌতূহলেরও শেষ নেই। অনেকেই বিসিএস সংক্রান্ত অনেক বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন। প্রতিনিয়ত এমন অনেক অজানা বিষয় নিয়ে চাকরির প্রার্থীগণ আমাদের কাছে প্রশ্ন করে থাকেন। আপনাদের সকল কনফিউশন দূর করতে আজকের ব্লগে আমরা বিসিএসের খুঁটিনাটি নানান প্রশ্ন উত্তরসহ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। আশা করছি এই আর্টিকেলটি পড়ার পর সহজেই অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    বিসিএস সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন এবং উত্তর

    বিসিএস সম্পর্কিত কমন প্রশ্ন ও উত্তর গুলো দেওয়া হলো। এই প্রশ্ন ও উত্তরের বাহিরেও যদি কোন প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে তাহলে অবশ্যই কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।

    প্রশ্ন: বিসিএস (BCS) এর পূর্ণরূপ কি?
    উত্তর: বিসিএস এর পূর্ণরূপ Bangladesh Civil Service (বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন)।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা সর্বপ্রথম কত সালে শুরু হয়েছিল?
    উত্তর: ১৯৭৩ সালে।

    প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস ক্যাডার কে?
    উত্তর: মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আবুল কালাম।

    প্রশ্ন: বিসিএস ক্যাডারের বেতন কত?
    উত্তর: প্রত্যেক বিসিএস ক্যাডারই সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডে (২২০০০ – ৫৩০৬০ টাকা) থেকে তার কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সময় পদোন্নতি এবং বদলির মাধ্যমে এই বেতন স্কেলের আরও উন্নতি হয়। বেতন ছাড়াও এই সার্ভিসে আরও নানান সুযোগ সুবিধা থাকে।

    প্রশ্ন: বিসিএস ক্যাডার হতে কত বছর লাগে?
    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা সম্পন্ন হবার পর চুড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএস ১০ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।

    প্রশ্ন: কোন ক্যাডার সবচেয়ে ভালো?
    উত্তর: বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের কোন ক্যাডার সবচেয়ে ভালো তা যাচাই করা একটু কঠিন। কারন একেক জনের কাছে ভালোর সংজ্ঞা একেক রকম। তবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা, ক্ষমতা ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, ট্যাক্স, অডিট এই ক্যাডারগুলোকে এগিয়ে রাখা হয়।

    প্রশ্ন: উভয় ক্যাডার কি?
    উত্তর: যদি কোন প্রার্থী একই সাথে জেনারেল এবং টেকনিক্যাল / প্রফেশনাল উভয় পদের ক্যাডার গুলো চয়েস করে বিসিএস এর ফরম পূরণ করেন তাহলে সেটিকে বোথ ক্যাডার বা উভয় ক্যাডার চয়েস বলা হয়।

    প্রশ্ন: বিসিএস আবেদন ফি কত?
    উত্তর: বিসিএস আবেদন ফি ২০০ টাকা।

    প্রশ্ন: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কি বিসিএস দেয়া যায়?
    উত্তর: হ্যাঁ।

    প্রশ্ন: বিসিএসে আবেদনের বয়সসীমা কত?
    উত্তর: ২১ থেকে ৩২ বছর।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়?
    উত্তর: আপনি ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন (পূর্বে বিশেষ কোটাধারী পরীক্ষার্থীরা ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারতো।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়?
    উত্তর: সাধারণত প্রতি বছরই বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ করবার লক্ষ্যে পিএসসি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা দিতে কত পয়েন্ট লাগে?
    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষা দিতে কোন নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা জিপিএ প্রয়োজন পরে না। প্রার্থীর এস.এস.সি, এইচ.এস.সি এবং অনার্স এই ৩ টি পর্যায়ে একাধিক তৃতীয় বিভাগ বা তৃতীয় শ্রেণির ফলাফল না থাকলেই বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করবেন।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষার বিষয়সমূহ কি?
    উত্তর: প্রিলি – বিসিএস প্রিলিমিনারি সিলেবাস অনুসারে বিষয়গুলো হল – বাংলা (ভাষা ও সাহিত্য), ইংরেজি (ব্যাকরণ ও সাহিত্য), গণিত, মানসিক দক্ষতা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, সাধারণ জ্ঞান- (বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন)।
    লিখিত – বাংলা, ইংরেজি, গাণিতিক যুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি , বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং প্রফেশনাল ক্যাডারের ক্ষেত্রে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা হয়ে থাকে।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন?
    উত্তর: প্রিলিমিনারি, লিখিত, ভাইবা।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষায় কী ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়?
    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষায় সকল ধরনের যান্ত্রিক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। যেমন- ঘড়ি, মোবাইল ফোন বা সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর ইত্যাদি । শুধু লিখিত পরীক্ষায় গাণিতিক যুক্তি বিষয়ে সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়।

    প্রশ্ন: বিসিএস ক্যাডার কয়টি?
    উত্তর: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস ক্যাডার সর্বমোট ২৬ টি। পূর্বে বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা আরও বেশি থাকলেও কিছু ক্যাডার বিলুপ্ত হয়ে বর্তমানে এই সংখ্যা ২৬ টি হয়েছে।

    প্রশ্ন: বিসিএস প্রিলিতে পাস মার্ক কত?
    উত্তর: বিসিএস প্রিলিতে কোন নির্দিষ্ট পাস মার্ক নেই। আছে “কাট মার্ক।” ধরুন, কোন এক বিসিএস প্রিলিতে মোট ১০০০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্য থেকে বিপিএসসি (পিএসসি) সর্বোচ্চ ৫০ জন পরীক্ষার্থীকে পাশ করানোর সিদ্ধান্ত নিলো। এখন মেধা তালিকার ৫০তম অবস্থানে যিনি থাকেন তার প্রাপ্ত নাম্বারকেই “কাট মার্ক” বলে। এই কাট মার্ক প্রতি বছরই পরিবর্তিত হয়।

    প্রশ্ন: নন ক্যাডার কি গেজেটেড?
    উত্তর: হ্যাঁ।

    প্রশ্ন: বিসিএসে নেগেটিভ মার্ক কত?
    উত্তর: ০.৫।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
    উত্তর: বিভাগীয় ৮ টি শহর ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

    প্রশ্ন: সাধারণ ক্যাডার কি?
    উত্তর: বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের যে পদগুলোর মধ্যে সকল বিভাগ থেকে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন, অর্থাৎ যে পদগুলোর জন্য কোন বিশেষ বিষয়ে পড়াশোনা দরকার পরে না সেই ক্যাডার গুলোকে সাধারণ ক্যাডার বলা হয়।

    প্রশ্ন: কোন কোন সাবজেক্টে প্রশাসন ক্যাডার আছে?
    উত্তর: যেহেতু বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার একটি জেনারেল ক্যাডার। তাই বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্য যে কেউই প্রশাসন ক্যাডারে আবেদন করতে পারবেন। প্রশাসন ক্যাডারের জন্য কোন বিশেষ বিষয়ে পড়াশোনা করার প্রয়োজন নেই।

    প্রশ্ন: প্রফেশনাল ক্যাডার কি?
    উত্তর: মূলত পেশাদার ক্যাডারদেরই প্রফেশনাল ক্যাডার বলা হয়। আপনি যে বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জন করেছেন বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে যদি আপনি নিজের বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত কোন ক্যাডার পদের জন্য আবেদন করেন তাহলে সেটিকে প্রফেশনাল ক্যাডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রফেশনাল ক্যাডারের সাথে টেকনিক্যাল ক্যাডারও সম্পর্কিত রয়েছে। স্বাস্থ্য ক্যাডার, শিক্ষা ক্যাডার, প্রকৌশলী এসব ক্যাডারই প্রফেশনাল ক্যাডার বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত।

    প্রশ্ন: বিসিএস প্রিলির কত দিন পর লিখিত পরীক্ষা হয়?
    উত্তর: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হবার পর বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গড়ে মোটামুটি ৬-৭ মাস সময় হাতে পাওয়া যায়।

    প্রশ্ন: বিসিএস প্রস্তুতি নিতে কতদিন লাগে?
    উত্তর: যতো আগে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন ততোই আপনার জন্য ভালো হবে। অনার্স ভর্তির পর থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে দিন। কোন কারণে সেটা সম্ভব না হলে Live MCQ-এর ২০০ দিন, ১৪০ দিন, ১০০ দিন এবং শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি হিসাবে ৩৫ দিনের রুটিন ফলো করলে যথাযথভাবে সিলেবাস শেষ করবার মাধ্যমেও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    প্রশ্ন: বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কি কি টেস্ট করানো হয়?
    উত্তর: বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সাধারণত প্রার্থীর ওজন, উচ্চতা, বক্ষের মাপ, দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা ইত্যাদি করানো হয়। যার মধ্যে কিছু রুটিন টেস্ট থাকে যেখানে সাধারণত প্রার্থীর রক্তচাপ, হেপাটাইটিস, এইচআইভি টেস্ট করানো হয়।

    প্রশ্ন: বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার যোগ্যতা কি?
    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সাধারণত যেসকল যোগ্যতা প্রয়োজন যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক যোগ্যতা, বয়সসীমা, নাগরিকত্ব এই সকল যোগ্যতাই শিক্ষা ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতার জন্য প্রযোজ্য। তবে যেহেতু শিক্ষা ক্যাডার একটি প্রফেশনাল ক্যাডার এবং প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নকৃত বিষয়ের উপর এটি নির্ভর করে সেহেতু প্রার্থী কোন বিষয়ে তার স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জন করেছেন সেটিও একটি যোগ্যতা। কারন সকল বিষয়ের জন্য শিক্ষা ক্যাডার পদ টি থাকে না।

    প্রশ্ন: ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষা কবে হতে পারে?
    উত্তর: ২০২৫ সালের মে বা জুন মাসে।

    প্রশ্ন: বিসিএস প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার সময়সীমা কত ঘণ্টা হয়ে থাকে?
    উত্তর: ২ ঘণ্টা ও ৬ বিষয়ে ২১ ঘণ্টা ।

    প্রশ্ন: বিসিএস,ব্যাংক ও ননক্যাডার এগুলোতে হিজাব পরিহিত ছবি গ্রহণযোগ্য কি না?
    উত্তর: হ্যা গ্রহণযোগ্য। হিজাব পরিহিত ছবি কোনো সমস্যা হবে না।

    প্রশ্ন: Fazil (Bachelor of Theology and Islamic Studies) এবং Kamil (Hadith) দিয়ে কি বিসিএস Apply করতে পারবো? বোথ ক্যাডারে পারব কি?
    উত্তর: জ্বি, পারবেন।

    প্রশ্ন: Last drawn salary তে কি ব্যাসিক স্যালারি এমাউন্ট দিবো নাকি ওভারঅল স্যালারি দিতে হবে?
    উত্তর: Basic স্যালারি লিখবেন।

    প্রশ্ন: বিসিএস আবেদনে ছবি ফোনে তুলে এডিট করে আবেদন করছি, কোন অসুবিধে হবে কি?
    উত্তর: ছবি ক্লিয়ারলি বুঝা গেলে কোনো সমস্যা হবে না।

    প্রশ্ন: MPO স্কুল এর শিক্ষক হহলে Employment Status এ কোনটা সিলেক্ট করবো?
    উত্তর: Private Organization.

    প্রশ্ন: নার্সরা কি বিসিএসে আবেদন করতে পারবে আর নার্সদের সাবজেক্ট ক্যাডার নেই কেন?
    উত্তর: বিএসসি ইন নার্সিং সম্পন্ন করার পর বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করা যায়।

    প্রশ্ন: প্রিলিতে বিসিএসে ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষা দিয়ে, রিটেনে কি বাংলা ভার্সনে পরীক্ষা দেওয়া যাবে?
    উত্তর: লিখিত পরীক্ষায় বাংলা বা ইংরেজি যে ভাষা সংক্রান্ত বিষয় তা উক্ত ভাষাতেই উত্তর দিতে হবে। আর অন্য সকল বিষয় গুলাতে বাংলা বা ইংরেজি যে কোন এক বিষয়ে দেওয়া যাবে। তবে একই বিষয়ের পরীক্ষায় একাধিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না (উদ্ধতি বা অনিবার্য টেক্সট ব্যতিত)।

    প্রশ্ন: আইন বিভাগে পড়ে কি জেনারেল আর টেকনিক্যাল/প্রোফেশনাল ক্যাডারে আবেদন করা যায়?
    উত্তর: আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার নেই।

    প্রশ্ন: বিসিএস আবেদন ফরম পূরণে ভুল করেছি, কিভাবে সংশোধন করবো?
    উত্তর: ফি জমা দেয়ার পর পুনরায় বিসিএস আবেদন ফরম সংশোধন করার সুযোগ নেই। যদি ফি জমা না দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ৭২ ঘন্টার মধ্যে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে নতুন করে ফরম পূরণ করলে নতুন একটি ইউজার আইডি পাবেন। উক্ত আইডি ব্যবহার করে ফি জমা দিবেন।

    প্রশ্ন: তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস কোর্স) করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?
    উত্তর: বিসিএস এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে উচ্চমাধ্যমিকের পর প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে চার বছর মেয়াদি কোর্স থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি পাস কোর্সের পর প্রার্থীকে অবশ্যই মার্স্টার্স সম্পন্ন করতে হবে।

    প্রশ্ন: বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় একটি বোর্ডে কতজন সদস্য থাকে?
    উত্তর: সাধারণত ৩ জন থাকে।

    প্রশ্ন: বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় মনোবিজ্ঞানীর কাজ কী?
    উত্তর: বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় মনোবিজ্ঞানীর কাজ-

    মৌখিক পরীক্ষার সময় অনেক প্রার্থীই অত্যধিক মানসিক চাপে থাকেন। একজন মনোবিজ্ঞানী প্রার্থীর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী প্রশ্ন করতে পারবেন।
    একজন মনোবিজ্ঞানী প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বের গুণাবলী, সামাজিক দক্ষতা ইত্যাদি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
    সরকারি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন চাপের মুখোমুখি হতে হয়।
    মনোবিজ্ঞানী প্রার্থীর মানসিক স্থিতিশীলতা এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতা যাচাই করতে পারবেন, ইত্যাদি।

    প্রশ্ন: বিসিএসে আবেদনের যোগ্যতা কী?
    উত্তর: প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে একের অধিক তৃতীয় শ্রেণী (3rd Class) থাকলে বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না।

    প্রশ্ন: আমার ওজন ৪২ কেজি। আমি কি আবেদন করতে পারব?
    উত্তর: বিসিএস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সকল ক্যাডারে ৪৯.৯৯ কেজি (পুরুষ) ও ৪৩.৫৪ কেজি (নারী) এবং পুলিশ ও আনসার ক্যাডারের ক্ষেত্রে ৫৪.৫৪ কেজি (পুরুষ) ও ৪৫.৪৫ কেজি (নারী) ওজন থাকতে হবে। তবে মেডিকেল পরীক্ষা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ ধাপ হওয়ার ফলে এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ওজনে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

    প্রশ্ন: স্পেশাল বিসিএস কী?
    স্পেশাল বিসিএস হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট কোনো ক্যাডারে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের জন্য আয়োজন করা বিশেষ ধরনের বিসিএস পরীক্ষা। 

    স্পেশাল বিসিএসে কি লিখিত পরীক্ষা থাকে?
    স্পেশাল বিসিএসে কোন লিখিত পরীক্ষা থাকে। শুধু প্রিলিমিনারি এবং ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

  • সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলেবাস | Combined Bank Syllabus

    সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলেবাস | Combined Bank Syllabus

    প্রিয় চাকরি প্রার্থীগণ সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলেবাস সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা নিশ্চই অবগত আছেন ব্যাংক জব প্রস্তুতি সহ যেকোন চাকরির পরীক্ষার প্রস্ততি নেওয়ার প্রারম্ভেই উক্ত চাকরির পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই কারনে সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলেবাসটি সমন্বিত ব্যাংকে বিভিন্ন পদে চাকরি প্রত্যাশি প্রার্থীদের জন্য ভালো ভাবে জানা খুব জরুরি।

    এই ব্লগ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ হালনাগাদকৃত সিলেবাস ও মানবন্টনগুলো দেখলে সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলাবস নিয়ে কোন কনফিউশন থাকবে না। এবং প্রস্তুতি নেওয়ার সময়কালে দিকভ্রান্ত হওয়ার কোন সুযোগও থাকবে না। তাই চলুন সর্বশেষ হালনাগাদকৃত সমন্বিত ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, অফিসার (জেনারেল), অফিসার (ক্যাশ) এর প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন দেখে নেওয়া যাক।

    সমন্বিত ব্যাংকের (অফিসার জেনারেল) পদের সিলেবাস ও মানবন্টন

    সমন্বিত ব্যাংকের অফিসার জেনারেল পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথমে ১ ঘন্টাব্যাপী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

    সমন্বিত ব্যাংক (অফিসার জেনারেল) MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Bangla25
    English25
    General Mathematics & Quantitative Skills20
    General Knowledge20
    Basic Computer Knowledge10
    ToTal100

    সমন্বিত ব্যাংক (অফিসার জেনারেল) লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Focus Writing in English (On Recent Global / Bangladesh Issues)35
    Focus Writing in Bangla (On Recent Global / Bangladesh Issues)30
    General Knowledge30
    Comprehension (English)20
    Mathematics (SSC Level)25
    Translation: Bangla to English in 5 Sentences20
    Translation: English to Bangla in 5 Sentences20
    Preparation of Summary in English (Precis Writing)20
    Total Marks200

    সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ/টেলর) পদের সিলেবাস ও মানবন্টন

    সমন্বিত ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ / টেলর) পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথমে ১ ঘন্টাব্যাপী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

    সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ / টেলর) পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    English25×1 = 25
    Bangla25×1 = 25
    General Mathematics & Quantitative Skills20×1 = 20
    General Knowledge20×1 = 20
    Basic Computer Knowledge10×1 = 10
    Total Mark100

    সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (ক্যাশ / টেলর) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarksPass Marks
    Focus Writing in English (On Recent Global / Bangladesh Issues)35
    Focus Writing in Bangla (On Recent Global / Bangladesh Issues)35
    General Knowledge (15X2 = 30) (Language of questions will be in Bangla)30
    Comprehension (English) (4X5 = 20)208
    Mathematics (SSC Level) (5X6) (Language of questions will be in Bangla)3012
    Translation: English to Bangla208
    Argument Writing in English30
    Total Mark200

    জনতা ব্যাংক রুরাল ক্রেডিট (আরসি) অফিসার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির অন্তর্ভুক্ত জনতা ব্যাংক রুরাল ক্রেডিট / আরসি অফিসার পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীকে ১০০ নম্বরের MCQ এনং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

    জনতা ব্যাংক রুরাল ক্রেডিট (আরসি) অফিসার পদের MCQ টাইপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Bangla25X1 = 25
    English25X1 = 25
    General Mathematics & Quantitative Skills20X1 = 20
    General Knowledge20X1 = 20
    Basic Computer Knowledge10X1 = 10
    Total Marks100

    জনতা ব্যাংক রুরাল ক্রেডিট (আরসি) অফিসার পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Focus Writing in English (On Recent Global / Bangladesh Issues)35
    Focus Writing in Bangla (On Recent Global / Bangladesh Issues)35
    General Knowledge30
    Comprehension (English) – (4 Questions x 5 =20)20
    Mathematics (SSC Level) (5X6 = 30)30
    Translation: Bangla to English in 5 Sentences (5×4=20)20
    Translation: English to Bangla in 5 Sentences (5×4=20)20
    Preparation of summary in English (Precise Writing)10
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকনিক্যাল পদগুলোর সিলেবাস ও মানবন্টন

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ম গ্রেডভুক্ত সহকারী প্রোগ্রামার, সহকারী মেইনটিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান), সহকারি পরিচালক গবেষণা, মেডিকেল অফিসার, এবং ১০ম গ্রেডভুক্ত অফিসার (পুরকৌশল), অফিসার (তরিৎকৌশল), অফিসার (যন্ত্রকৌশল), অফিসার (এক্স ক্যাডার-গ্রন্থাগার) পদ সহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল পদগুলোর জন্য রয়েছে বিশেষ সিলেবাস এবং মানবন্টন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী প্রোগ্রামার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী প্রোগ্রমার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় একই সেশনে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শীর্ষে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী প্রোগ্রামার পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী প্রোগ্রামার পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মেইন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মেইন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় একই সেশনে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শীর্ষে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মেইন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মেইন্টিন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (গবেষণা) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত সহকারী পরিচালক (গবেষণা) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় একই সেশনে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শীর্ষে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (গবেষণা) পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (গবেষণা) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের একই সেশনে ১০০ নম্বরে MCQ পরীক্ষায় এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (পরিসংখ্যান) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের (মেডিকেল অফিসার) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মেডিকেল অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের ২ ঘন্টা ব্যাপী MCQ Type পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মেডিকেল অফিসার পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Basic Medical Knowledge40
    Clinical Medicine60
    Subject Oriented Knowledge (Medicine & Allied, Pediatrics, Gyne & Surgery)60
    Practical Skill & Experience25
    General Knowledge15
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (পুরকৌশল) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত অফিসার পুরকৌশল পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের একই সেশনে ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষায় এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পুরকৌশল পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার পুরকৌশল পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (তরিৎকৌশল) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (তড়িৎকৌশল) পদের প্রার্থীদের একই সেশনে ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার তড়িৎকৌশল পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার তড়িৎকৌশল পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (যন্ত্রকৌশল) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (যন্ত্রকৌশল) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের একই সেশনে ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা এবং ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার যন্ত্রকৌশল পদের MCQ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related75
    Mathematics15
    General Knowledge10
    Total Marks100

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার যন্ত্রকৌশল পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    ContentMarks
    Subject Related150
    Mathematics20
    English Language Proficiency30
    Total Marks200

    বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (এক্স ক্যাডার-গ্রন্থাগার) পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন

    সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডভুক্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার (এক্স ক্যাডার-গ্রন্থাগার) পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের ২ ঘন্টাব্যাপী লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

    PartContentMarks
    Part 1: MCQ
    Marks: 60
    Bangladesh Affairs15
    International Affairs15
    Daily / General Science15
    Computer Literacy15
    Part 2: Written
    Marks: 140
    Bengali Language Proficiency20
    English Language Proficiency20
    Subjective / Professional
    Library Information system & service50
    Digital Library Management50
    Total (Part 1 + Part 2)200

    FAQ – বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

    প্রশ্ন: সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) পদের লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর কত?
    উত্তর: অফিসার (জেনারেল) পদের লিখিত পরীক্ষার মোট নম্বর ২০০।

    প্রশ্ন : সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোন বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে?
    উত্তর: সমন্বিত ব্যাংক অফিসার (জেনারেল) পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও Quantitative Skills, সাধারণ জ্ঞান এবং কম্পিউটার বিষয় থেকে মোট ১০০ নম্বরের MCQ প্রশ্ন আসে।

    প্রশ্ন: সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষায় ইংরেজি অংশে কী ধরনের প্রশ্ন আসে?
    উত্তর: ইংরেজি অংশে Grammar, Vocabulary, Reading Comprehension, Translation, Essay Writing, Precis Writing এবং Argument Writing থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

    উপসংহার

    আশাকরি এই ব্লগ টি পড়ার পর সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন নিয়ে আপনার ভালো একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। যদি ব্যাংক নিয়োগ সিলেবাস সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে তা জানাতে পারেন। একদম নতুন অবস্থায় কিভাবে ব্যাংক জব প্রস্তুতি শুরু করবেন জানতে ব্যাংক জব প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন ব্লগ টি অনুসরণ করুন।

  • বাজেট সম্পর্কিত সকল তথ্য বিস্তারিত | জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ 

    বাজেট সম্পর্কিত সকল তথ্য বিস্তারিত | জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ 

    জাতীয় বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল। সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাবের বাইরে এটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির রূপরেখা তুলে ধরে। তাই জাতীয় বাজেট সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা শুধু শিক্ষার্থী বা চাকরি পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী প্রতিটি নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    এই ব্লগে আমরা বাজেটের মৌলিক ধারণা, বাজেটের ধরন, বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস, সংবিধানে বাজেটের অবস্থান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং ছায়া বাজেটসহ জাতীয় বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।

    বাজেট কী 

    সাধারণভাবে, বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের একটি পূর্বনির্ধারিত হিসাব বা আর্থিক পরিকল্পনা। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি সরকারের এমন একটি আর্থিক পরিকল্পনা যেখানে নির্দিষ্ট অর্থবছরে সরকার কী পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করবে, তা কোথায় ব্যয় করবে এবং সম্ভাব্য ঘাটতি কীভাবে পূরণ করবে তার বিস্তারিত বিবরণ থাকে। 

    অন্যভাবে বলা যায়, “বাজেট হলো সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার আর্থিক প্রতিফলন।”

    অর্থাৎ, বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি সরকারের অগ্রাধিকার, উন্নয়ন দর্শন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার প্রতিচ্ছবি।

    বাজেটের মৌলিক ধারণা

    বাজেট’ (Budget) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে ফরাসি শব্দ “Bougette” থেকে। এই শব্দটির অর্থ হলো ছোট চামড়ার থলি বা ব্যাগ (Leather Bag)। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হলো, প্রাচীনকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অর্থমন্ত্রী একটি চামড়ার ব্যাগে করে সরকারের আয়-ব্যয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতেন। ধীরে ধীরে সেই ব্যাগের নাম থেকেই সরকারের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনাকে “Budget” বা বাজেট বলা শুরু হয়। 

    সংবিধানে বাজেটের নাম

    বাংলাদেশের সংবিধানে বাজেটকে “বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি” (Annual Financial Statement) বলা হয়েছে। সংবিধানের ৮৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতি অর্থবছরের জন্য রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিবরণ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।

    সাংবিধানিক নাম → Annual Financial Statement
    সাধারণ নাম → Budget
    উপস্থাপন করেন → অর্থমন্ত্রী
    অনুমোদন দেয় → জাতীয় সংসদ

    বাজেটের উদ্দেশ্য (Objectives of Budget)

    বাজেট প্রণয়নের পেছনে সরকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য থাকে। এর মধ্যে প্রধান চারটি হলো-

    • সম্পদ বণ্টন (Resource Allocation)
    • অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা (Economic Stability)
    • আয় পুনর্বণ্টন (Redistribution of Income)
    • উন্নয়ন পরিকল্পনা (Development Planning)

    বাজেটের ধরন (Types of Budget)

    আয় ও ব্যয়ের সম্পর্কের ভিত্তিতে বাজেট সাধারণত তিন প্রকার। এছাড়া আধুনিক প্রশাসনে বিভিন্ন ধরনের বাজেট পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

    ক. উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget)

    যখন সরকারের সম্ভাব্য আয় ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলা হয়।

    বৈশিষ্ট্য:

    • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
    • অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাহিদা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
    • সাধারণত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সময়ে গ্রহণ করা হয়।

    খ. সুষম বাজেট (Balanced Budget)

    যখন সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সমান হয়, তখন তাকে সুষম বাজেট বলা হয়।

    বৈশিষ্ট্য:

    • আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
    • ঋণের প্রয়োজন হয় না।
    • বাস্তবে খুব কম দেশই সম্পূর্ণ সুষম বাজেট প্রণয়ন করতে পারে।

    গ. ঘাটতি বাজেট (Deficit Budget)

    যখন সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে ঘাটতি বাজেট বলা হয়।

    বৈশিষ্ট্য:

    • উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশি দেখা যায়।
    • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যবহৃত হয়।
    • ঘাটতি পূরণে সরকার ঋণ গ্রহণ করে বা অন্যান্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে।

    বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশ সাধারণত ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করে থাকে।

    ঘ. কর্মসম্পাদনভিত্তিক বাজেট (Performance Budget)

    যে বাজেটে শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, বরং কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করে কী ফলাফল অর্জন করা হবে, তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাকে কর্মসম্পাদনভিত্তিক বাজেট বলে।

    বৈশিষ্ট্য:

    • কাজের ফলাফল মূল্যায়ন করা যায়।
    • জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়।
    • দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

    উদাহরণ:

    শুধু “স্বাস্থ্য খাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ” বলা নয়; বরং এই অর্থ ব্যয় করে কতটি হাসপাতাল নির্মাণ হবে, কতজন মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে-এসবও নির্ধারণ করা হয়।

    বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাস 

    বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের ইতিহাসও স্বাধীনতা-উত্তর পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বর্তমান বাজেটকে ভালোভাবে বুঝতে হলে বাংলাদেশের বাজেটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর  যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এই প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করা হয়। ৩০ জুন ১৯৭২ সালে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে দেশের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটের আকার ছিল প্রায় ৭৮৬ কোটি টাকা। প্রথম বাজেটের প্রধান লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। প্রথম বাজেটে কৃষি পুনর্বাসন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, শিল্প খাতের পুনরুজ্জীবন, সরকারি প্রশাসন পুনর্গঠন, বিদেশি সহায়তা ব্যবস্থাপনা সেক্টরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। 

    অন্যদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রায় পাঁচ দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশের বাজেটের আকার বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এই বৃদ্ধি বাংলাদেশের-

    • অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ,
    • উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তার,
    • সরকারি সেবার সম্প্রসারণ,
    • রাজস্ব আহরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি

    -এর প্রতিফলন।

    তবে বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না; বরং কার্যকর বাস্তবায়নই প্রকৃত সাফল্যের নির্ণায়ক।

    বাজেট ও সংবিধান 

    বাজেট শুধুমাত্র সরকারের একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। অর্থাৎ, সংবিধানে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জাতীয় বাজেট প্রণয়ন, উপস্থাপন এবং অনুমোদন করতে হয়। তাই বাজেট সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে হলে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

    সংবিধানে বাজেটের অবস্থান

    বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৭ থেকে ৯২ অনুচ্ছেদে বাজেট এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫২ অনুচ্ছেদে অর্থবছরের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

    বাজেট সম্পর্কিত আইন

    সংবিধানের পাশাপাশি বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ আইন রয়েছে। সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থা আইন, ২০০৯ (Public Money and Budget Management Act, 2009)। এই আইনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য- 

    ১. বাজেট প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ- বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কীভাবে বাজেট প্রস্তুত করবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা।
    ২. সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি- জনগণের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা।
    ৩. ফলাফলভিত্তিক বাজেট ব্যবস্থাপনা উৎসাহিত করা- শুধু অর্থ ব্যয় নয়, বরং সেই ব্যয়ের মাধ্যমে কী ফলাফল অর্জিত হলো, তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া।
    ৪. আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা- অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

    এক নজের জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ 

    বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এই বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো টেবিলের মাধ্যমে দেওয়া হলো:

    বিষয় তথ্য 
    বাজেটের শিরোনামগণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা
    বাজেট ঘোষণা১১ জুন ২০২৬
    সম্ভাব্য বাজেট পাস৩০ জুন ২০২৬
    কার্যকর হওয়ার তারিখ১ জুলাই ২০২৬
    কততম বাজেট৫৫তম জাতীয় বাজেট (অন্তর্বর্তীকালীনসহ ৫৬তম)
    বাজেটের আকার৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা
    GDP-এর শতাংশ১৩.৭%
    বাজেট ঘাটতি২,৪৩,০০০ কোটি টাকা
    ঘাটতি (GDP-এর %)৩.৬%
    বাজেটের ধরনঘাটতি বাজেট

    বাজেটের প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য

    সরকার এই বাজেটের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করেছে।

    • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কর।
    • অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত
    • বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
    • কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
    • সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
    • অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
    • বৈষমা হ্রাস করা।

    ছায়া বাজেট (Shadow Budget)  

    জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ছায়া বাজেট (Shadow Budget)। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারণী সংগঠন সরকারি বাজেটের বিকল্প প্রস্তাবনা উপস্থাপন করছে। এর মাধ্যমে তারা দেখানোর চেষ্টা করে যে, ক্ষমতায় থাকলে তারা কী ধরনের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিরোধী দল একটি Shadow Budget বা বিকল্প বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে, যা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

    Shadow Budget কী?

    Shadow Budget হলো সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সংগঠন কর্তৃক উপস্থাপিত বিকল্প বাজেট প্রস্তাব। অর্থাৎ, “সরকারি বাজেটের সমালোচনা ও বিকল্প অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রণীত বাজেট প্রস্তাবই হলো Shadow Budget ।”

    Shadow Budget-এর উদ্দেশ্য

    ছায়া বাজেট প্রণয়নের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো-

    ১. বিকল্প অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা।
    ২. সরকারি বাজেটের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করা।
    ৩. জনগণের সামনে ভিন্ন নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা।
    ৪. বাজেট নিয়ে গণতান্ত্রিক বিতর্ক সৃষ্টি করা।
    ৫. জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।

    উপসংহার 

    জাতীয় বাজেট কোনো সাধারণ আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। তবে একটি বাজেটের সাফল্য শুধুমাত্র এর আকার বা ঘোষণার ওপর নির্ভর করে না। বাজেটের প্রতিটি বরাদ্দ কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং তার সুফল জনগণের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে, সেটিই হবে প্রকৃত মূল্যায়নের মাপকাঠি।

    আশা করি, এই ব্লগটি বাজেট সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী এবং  চাকরি পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি কার্যকর রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে। এবার বিসিএস, ব্যাংক, NTRCA সহ সকল সরকারি প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুনবাজেট সম্পর্কিত যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন। 

  • Live MCQ™ Summer Sale স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার   

    Live MCQ™ Summer Sale স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার   

    চাকরির প্রস্তুতিতে সফলতার অন্যতম উপায় হলো সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের অবস্থান নিয়মিত যাচাই করা। বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর মাসে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বেশি প্রকাশিত হওয়ায় সময়টি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রস্তুতিকে আরও গোছানো এবং সফল করতে প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।

    এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে Live MCQ™ নিয়ে এসেছে Summer Sale স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার। আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের সাথে আছে প্রিমিয়াম ফিচার, স্মার্ট প্রস্তুতি টুল, লাইভ পরীক্ষা, ভিডিয়ো ক্লাস এবং বিশাল প্রশ্নব্যাংকের সুবিধা। এখন আরও সাশ্রয়ী খরচে শুরু করতে পারবেন আপনার স্বপ্নের চাকরির প্রস্তুতি।

    কেন Summer Sale অফার?  

    বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর এই সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বেশি প্রকাশ হয়। এই সময়ে দরকার রুটিন মেনে পড়াশোনা এবং লাইভ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করা। তাই গোছানো প্রস্তুতি নিতে সঠিক প্লাটফর্ম থাকা অনেক দরকারী।

    এই বিষয়কে সামনে রেখে Live MCQ™ নিয়ে এসেছে Summer Sale স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফার। এই অফারে সকল প্রিমিয়াম প্যাকেজে পাবেন আকর্ষণীয় মূল্যছাড়। যেন চাকরি প্রস্তুতি আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।  

    কেন Summer Sale অফারটি আপনার জন্য স্পেশাল?

    Live MCQ Summer Sale অফারটি এবার অনেক বেশি স্পেশাল। আকর্ষণীয় ডিসকাউন্টের সাথে রয়েছে অন্যান্য সুবিধা যেন এই গরমেও আপনার চাকরি প্রস্তুতি থাকে স্বস্তিদায়ক। এই অফারেই রয়েছে: 

    আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট

    Summer Sale অফারে প্রিমিয়াম প্যাকেজগুলো পাচ্ছেন স্পেশাল ছাড়ে:

    ষাণ্মাসিক প্যাকেজ: ৳৯৯৯ → মাত্র ৳৭৯৯ (২০০ টাকা ছাড়!) 

    বার্ষিক প্যাকেজ: ৳১,৪৯৯ → মাত্র ৳১,১৯৯ (৩০০ টাকা ছাড়!)

    স্পেশাল অফারে প্রিমিয়াম প্যাকেজগুলো পাচ্ছেন স্পেশাল দামে।

    অফারটি চলবে ১ জুন, ২০২৬ থেকে ১৩ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত,  মোট ৪৩ দিন।

    মেয়াদ সমন্বয় সুবিধা

    আপনার যদি আগের কোনো প্যাকেজ কেনা থাকে, তাহলেও চিন্তা নেই। Live MCQ সবসময় মেয়াদ সমন্বয়ের সুবিধা দেয়। অর্থাৎ বর্তমান প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে নতুন প্যাকেজ অটোমেটিক শুরু হবে। ফলে আপনার প্রস্তুতিতে কোনো গ্যাপ পড়বে না। 

    একটা প্লার্টফর্মেই সকল চাকরির প্রস্তুতি 

    BCS, ব্যাংক, প্রাইমারি, NTRCA  সব পরীক্ষার প্রস্তুতি একটাই অ্যাপে। আলাদা আলাদা কোর্স বা অ্যাপের ঝামেলা নেই। ৭ লাখেরও বেশি Exclusive MCQ আর্কাইভ, ২,০০০+ ভিডিও ক্লাস এবং PDF লাইব্রেরি সব এক জায়গায়।

    Live MCQ Compass™ ও অন্যান্য প্রিমিয়াম ফিচার

    স্পেশাল ডিসকাউন্ট অফারে সকল প্রিমিয়াম প্যাকেজে পাচ্ছেন Live MCQ-এর সেরা টুলগুলো:

    Live MCQ Compass™ স্মার্ট অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আপনার প্রস্তুতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরবে। এর শক্তিশালী ফিচারগুলো:

    Readiness Score: ০ থেকে ১০০% স্কেলে আপনার প্রস্তুতির মাত্রা দেখাবে এবং নিয়মিত অনুশীলনে স্কোর কীভাবে বাড়ছে তা গ্রাফ আকারে দেখাবে।

    Heatmap View: সিলেবাসের বিভিন্ন সাবজেক্টে আপনার পারফরম্যান্স রঙিন মানচিত্রের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে তুলবে, যেন কোথায় দুর্বলতা আছে তা সহজেই বোঝা যায়।

    পার্সেন্টাইল র‍্যাংক: অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় আপনার অবসস্থান কোথায় তা শতাংশে প্রকাশ করবে, যেন আপনার লক্ষ্য থাকে সর্বদা ৭৫তম র‍্যাংকের উপরে থাকা।

    স্মার্ট প্র্যাকটিস: আপনার আগের পারফরম্যান্স এবং দক্ষতার স্তর বিশ্লেষণ করে আপনার জন্য প্রশ্ন সেট তৈরি করে দিবে।

    এছাড়া আরও পাচ্ছেন Smart Search, Topic Guru, Job Solution, Quiz MasterDynamic Panel মতো ফিচারগুলো। এগুলা এই গরমেও আপনার প্রস্তুতিকে রাখবে শীতল। 

    কাদের জন্য এই অফারটি সবচেয়ে বেশি জরুরি?

    Summer Sale অফারটি সকল সরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের জন্যই সমানভাবে জরুরি। তবে আসন্ন বিসিএসপ্রার্থী, দীর্ঘমেয়াদি চাকরিপ্রার্থী, ব্যাংক চাকরিপার্থী এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রার্থীদের জন্য বেশি স্পেশাল।  

    ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতে যারা আছেন

    বিসিএস প্রিলিমিনারি থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য Live MCQ-এ রয়েছে লাইভ পরীক্ষা, আর্কাইভ এবং বিশাল প্রশ্নব্যাংক। তাই আপনার আসন্ন ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি হবে একদম গোছানো ও পরিপূর্ণ।   

    যারা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির প্রস্তুতি নিতে চান

    সারাবছরই বিভিন্ন জব সার্কুলার চলমান থাকে। তাই বার্ষিক প্যাকেজ নিয়ে পুরো বছর নিশ্চিন্তে ধারাবাহিক প্রস্তুতি নিতে পারবেন।  

    ব্যাংক জব প্রত্যাশী

    জুন থেকে আগস্ট মাসে ব্যাংকের সার্কুলার সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়ে থাকে। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত হলো এখনই প্রস্তুতি শুরু করা।

    NTRCA এবং প্রাইমারি জব প্রত্যাশী

    শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও Live MCQ সমানভাবে কার্যকর। তাই শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির সকল গাইডলাইন এবং স্ট্যাডি ম্যাটেরিয়ালস এক প্যাকেজেই পাচ্ছেন।

    সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর – FAQ

    Summer Sale অফারের মেয়াদকাল কত?

    অফারটি ১ জুন ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চলবে মোট ৪৩ দিন। এই সময়ের মধ্যেই এনরোল করতে হবে। 

    অলরেডি প্যাকেজ কেনা থাকলে কি নতুন করে এনরোল করবো?

    হ্যাঁ, অবশ্যই! Live MCQ মেয়াদ সমন্বয়ের সুবিধা দেয়। আপনার বর্তমান প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে নতুন প্যাকেজ শুরু হবে। তাই এখন এনরোল করলে এই কম দামের সুবিধাটা পাবেন, কোনো মেয়াদ নষ্ট হবে না। 

    Summer Sale শেষ হওয়ার পরেও কি এই দামে কিনতে পারবো?

    না। অফার শেষ হলে প্যাকেজগুলো নিয়মিত দামে ফিরে যাবে। এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র Summer Sale চলাকালীন সময়ের জন্যই প্রযোজ্য।

    উপসংহার 

    Live MCQ™ Summer Sale স্পেশাল অফারে আপনার চাকরি প্রস্তুতি হবে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে। অফারটির মেয়াদ সীমিত। তাই এই গরমে বিশেষ মূল্যছাড়ে সাশ্রয়ী সুযোগটি মিস না করতে চাইলে আজই এনরোল করুন। 

    নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপনার পছন্দের প্যাকেজটি এনরোল করতে নিচের ENROLL NOW বাটনে ক্লিক করুন। 

    আজ থেকেই শুরু করুন স্মার্ট ও আত্মবিশ্বাসী চাকরির প্রস্তুতি।

  • অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি: শূন্য থেকে সফল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি: শূন্য থেকে সফল হওয়ার পূর্ণাঙ্গ গাইড

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা একটি স্মার্ট এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিলে আপনি অন্যদের চেয়ে কয়েক বছর এগিয়ে থাকবেন এবং পরীক্ষার দিন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হবেন। বাংলাদেশে প্রতি বছর লক্ষাধিক শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, কিন্তু সফল হন মাত্র কয়েক হাজার। এই বিশাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই

    দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি তাড়াহুড়ো না করে বিষয়গুলো গভীরভাবে বুঝতে পারবেন। শেষ মুহূর্তের চাপ কমে যায়, বেসিক শক্ত হয় এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় ধীরে ধীরে। এই গাইডটি মূলত তাদের জন্য যারা অনার্স ১ম বা ২য় বর্ষে পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়া যারা ইতোমধ্যে ৩য় বা ৪র্থ বর্ষে আছেন, তারাও এই গাইড থেকে কার্যকর পরামর্শ পাবেন।

    বিসিএস সংক্ষিপ্ত পরিচিত

    বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার পূর্বে প্রথমেই বিসিএস সম্পর্কে একটা পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা জরুরি। নিম্নে বিসিএস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো। 

    বিসিএস কি?

    বিসিএস বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস হলো বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক সেবায় প্রবেশের পরীক্ষা। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) এই পরীক্ষা পরিচালনা করে। বিসিএস ক্যাডার হওয়া মানে সরকারি চাকরির সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করা। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ ২৬টিরও বেশি ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমে।

    বিসিএস পরীক্ষার ধাপসমূহ

    বিসিএস পরীক্ষা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।

    • প্রথম ধাপ হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এটি ২০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা। মোট ১০টি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় এবং পাস করলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।
    • দ্বিতীয় ধাপ হলো লিখিত পরীক্ষা। এটি ৯০০ নম্বরের বিস্তারিত পরীক্ষা। বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা পেপার থাকে এবং এটিই মূলত মেধা যাচাইয়ের প্রধান মঞ্চ।
    • তৃতীয় ধাপ হলো ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। এটি ২০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা যেখানে ব্যক্তিত্ব, সাধারণ জ্ঞান এবং পেশাগত দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    কোন সাবজেক্টগুলো গুরুত্বপূর্ণ

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে যে বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন আসে সেগুলো হলো বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল ও পরিবেশ, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা এবং নৈতিকতা ও সুশাসন।

    অনার্স ১ম বর্ষে কীভাবে শুরু করবেন

    অনার্স ১ম বর্ষকে ধরা হয় বিসিএস প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সবথেকে পারফেক্ট সময়। নিম্নে অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করবেন তা দেওয়া হলো:

    বেসিক শক্ত করার কৌশল

    অনার্স ১ম বর্ষে বিসিএস প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেসিক মজবুত করা। এই পর্যায়ে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে না গিয়ে আগে নিজের ভিত্তি তৈরি করুন।

    বাংলা ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে রপ্ত করুন। ইংরেজি গ্রামার ও ভোকাবুলারিতে মনোযোগ দিন। দৈনিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন যা সাধারণ জ্ঞান তৈরিতে সহায়তা করবে। ম্যাথের বেসিক অঙ্কগুলো নিয়মিত চর্চা করুন।

    দৈনিক পড়াশোনার রুটিন

    ১ম বর্ষে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আলাদা রাখুন। সকালে ইংরেজি ভোকাবুলারি ও গ্রামার চর্চা করুন। বিকেলে বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ পড়ুন এবং রাতে দৈনিক পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ুন ও নোট করুন।

    কোন বইগুলো শুরুতে পড়বেন

    শুরুতে খুব বেশি বই কেনার দরকার নেই। প্রথমে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বই পড়ুন, কারণ বিসিএসের বেশিরভাগ ব্যাকরণ প্রশ্ন এখান থেকেই আসে। ইংরেজির জন্য PC Das বা Cliffs TOEFL পড়তে পারেন। সাধারণ জ্ঞানের জন্য আজকের বিশ্ব বা mp3 সিরিজের বই দিয়ে শুরু করুন। গণিতের জন্য নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই এখনো অত্যন্ত কার্যকর।

    English ও Math-এ ফোকাস দেওয়ার কারণ

    বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ইংরেজি ও গণিত থেকে মোট ৫০ নম্বর থাকে। অনেক প্রার্থী এই দুটি বিষয়ে দুর্বল থাকেন এবং এখানেই পিছিয়ে পড়েন। তাই শুরু থেকেই এই দুটি বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিন।

    ১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষ পর্যন্ত স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রস্তুতি

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকেই বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিলে প্রস্তুতি অনেক বেশি গোছানো এবং কার্যকর হয়। নিম্নে অনার্স ১ম বর্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষের স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রস্তুতি দেওয়া হলো:

    ১ম বর্ষ – বেসিক বিল্ডআপ

    অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতির যাত্রা শুরু হওয়া উচিত মূল ভিত্তি গড়ার মধ্য দিয়ে।

    বাংলায় এই সময়ে করণীয় হলো ব্যাকরণের মূল বিষয়গুলো যেমন সন্ধি, সমাস, কারক, উপসর্গ ইত্যাদি ভালোভাবে বোঝা এবং বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ ও বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া।

    ইংরেজিতে Parts of Speech, Tense, Voice, Narration ভালোভাবে আয়ত্ত করুন এবং প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি নতুন শব্দ শিখুন।

    সাধারণ জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করুন।

    ২য় বর্ষ – কনসেপ্ট ক্লিয়ার ও অনুশীলন

    ২য় বর্ষে শুধু পড়লেই হবে না, এবার থেকে নিয়মিত MCQ প্র্যাকটিস শুরু করতে হবে।

    MCQ প্র্যাকটিসের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০টি MCQ সমাধান করুন এবং ভুল উত্তরগুলো বিশ্লেষণ করুন।

    কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের জন্য প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোটবুকে লিখে রাখুন। মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিন সংগ্রহ করুন। এই বছর বিজ্ঞান, ভূগোল ও কম্পিউটার বিষয়ে মনোযোগ দিন। এই বিষয়গুলো অনেকে এড়িয়ে যান, কিন্তু এখান থেকে সহজ নম্বর পাওয়া যায়।

    পরামর্শ থাকবে- Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিয়মিত MCQ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা। 

    ৩য় বর্ষ – অ্যাডভান্স প্রস্তুতি

    ৩য় বর্ষে প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হয়। অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে যারা সিরিয়াস, তারা এই বছর থেকে মডেল টেস্ট দেওয়া শুরু করুন।

    মডেল টেস্টের জন্য প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন। সময় ধরে পরীক্ষা দিন এবং নিজের স্কোর ট্র্যাক করুন।

    রিভিশনের জন্য ১ম ও ২য় বর্ষে পড়া বিষয়গুলো আবার ঝালাই করুন। শর্ট নোট তৈরি করুন যা পরে দ্রুত রিভাইজ করা যাবে।

    ৪র্থ বর্ষ – ফুল প্রস্তুতি

    ৪র্থ বর্ষে পুরো সিলেবাস কভার করার পাশাপাশি পূর্ববর্তী বিসিএস প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন। বিগত ১০ থেকে ১৫ বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। দুর্বল বিষয়গুলোতে বাড়তি সময় দিন এবং শক্তিশালী বিষয়গুলোতে নম্বর নিশ্চিত করুন।

    সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল

    বিসিএসে ভালো করার জন্য সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল অবলম্বন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে সাবজেক্টভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশলগুলো উল্লেখ করা হলো:

    বাংলা

    বিসিএসে বাংলা থেকে মোট ৩০ নম্বর থাকে। বাংলা সাহিত্যের জন্য প্রাচীন যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক ও তাদের রচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রসহ প্রধান সাহিত্যিকদের জীবন ও কর্ম ভালোভাবে পড়ুন।

    ব্যাকরণের জন্য সন্ধি, সমাস, কারক, বাগধারা, প্রবাদ, এককথায় প্রকাশ এই বিষয়গুলো বারবার চর্চা করুন।

    ইংরেজি

    ইংরেজিতে ভালো করতে হলে গ্রামার ও লিটারেচার দুটোতেই মনোযোগ দিতে হবে। Synonym, Antonym, Analogy, Sentence Correction, Fill in the Blanks এই ধরনের প্রশ্ন বেশি আসে। প্রতিদিন ইংরেজি পত্রিকা পড়লে এই বিষয়গুলোতে দক্ষতা বাড়ে।

    ইংরেজি সাহিত্যের জন্য Shakespeare, Milton, Wordsworth, T.S. Eliot সহ বিখ্যাত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে মূল তথ্যগুলো মনে রাখুন।

    গণিত

    বিসিএস গণিতে পাটিগণিত, বীজগণিত ও জ্যামিতি থেকে প্রশ্ন আসে। শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সুদকষা, অনুপাত, বয়স সম্পর্কিত অঙ্ক নিয়মিত চর্চা করুন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি গাণিতিক সমস্যা সমাধান করুন। শর্টকাট পদ্ধতি শিখুন কিন্তু কনসেপ্ট বোঝার দিকেও মনোযোগ দিন।

    সাধারণ জ্ঞান

    বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, সরকার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, ভূগোল এই বিষয়গুলো গভীরভাবে পড়ুন।

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশ্বের দেশ ও রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও ঘটনাবলি সম্পর্কে জানুন।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

    সাধারণ বিজ্ঞানে পদার্থ, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের মূল ধারণাগুলো পড়ুন। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বেসিক কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকা দরকার।

    উপসংহার

    স্মার্ট স্টাডি আর সময় ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ই একজন সফল বিসিএস ক্যাডার তৈরি করে। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা মানে আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মনে রাখবেন, বিসিএস একটি দীর্ঘ যাত্রা। এই যাত্রায় ধৈর্য, পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। 

    আজই শুরু করুন, কারণ আগামীকাল শুরু করার চেয়ে আজ শুরু করা সবসময় ভালো। অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া যারা শুরু করেছেন, তারা ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতায় একধাপ এগিয়ে গেছেন। এখন শুধু সঠিক পথে এগিয়ে যান, সাফল্য আসবেই। 

  • বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন – Administration Cadre Preparation 2026

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন – Administration Cadre Preparation 2026

    বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ক্যাডারগুলোর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডার (BCS Administration Cadre Preparation) অন্যতম। প্রতি বছর লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না।

    প্রশাসন ক্যাডার হলো বাংলাদেশ সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি। একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এই ক্যাডারের মাধ্যমে আপনি সরাসরি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

    এই গাইডলাইনে আমরা প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। প্রিলিমিনারি থেকে ভাইবা, সিলেবাস বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে কর্মজীবনের পদক্রম পর্যন্ত সব বিষয় একসাথে জানতে পারবেন। যারা বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য রিসোর্স।

    প্রশাসন ক্যাডার পরিচিতি

    প্রশাসন ক্যাডার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) একটি অভিজাত ও বহুল আকাঙ্ক্ষিত ক্যাডার। সরকারের নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ে সেবা প্রদান পর্যন্ত এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা সর্বত্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

    প্রশাসন ক্যাডার কি?

    প্রশাসন ক্যাডার (BCS Administration Cadre) হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একটি সাধারণ ক্যাডার, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয় উভয় পর্যায়ে কাজ করেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) কর্তৃক পরিচালিত বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা সরাসরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকেন এবং তাদের পোস্টিং দেশের যেকোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা জেলায় হতে পারে।

    প্রশাসন ক্যাডারের কাজ কি?

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করেন-  মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়। তাদের প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো:

    • জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক প্রশাসন পরিচালনা
    • ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায় তদারকি
    • সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ
    • প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা
    • নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতা ও রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন
    • জাতীয় নীতি প্রণয়নে মন্ত্রণালয়ে কাজ করা
    • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সমন্বয় ও যোগাযোগ রক্ষা

    প্রশাসন ক্যাডারের গ্রেড

    প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর একজন কর্মকর্তা ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। নিচে পদক্রম ও বেতন স্কেল উল্লেখ করা হলো:

    গ্রেডপদবেতন স্কেল (টাকা)
    গ্রেড-৯সহকারী কমিশনার / সহকারী সচিব২২,০০০ – ৫৩,০৬০
    গ্রেড-৭সিনিয়র সহকারী সচিব / সিনিয়র সহকারী কমিশনার২৯,০০০ – ৬৩,৪১০
    গ্রেড-৬উপজেলা নির্বাহী অফিসার / সিনিয়র সহকারী সচিব৩৫,৫০০ – ৬৭,০১০
    গ্রেড-৫জেলা প্রশাসক / যুগ্ম সচিব৪৩,০০০ – ৬৯,৮৫০
    গ্রেড-৪বিভাগীয় কমিশনার / অতিরিক্ত সচিব৫০,০০০ – ৭১,২০০
    গ্রেড-৩সচিব৫৬,৫০০ – ৭৪,৪০০
    গ্রেড-১সিনিয়র সচিব / মন্ত্রিপরিষদ সচিব৭৮,০০০ (স্থির)

    প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি

    প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেতে হলে তিনটি ধাপ সফলভাবে পার করতে হয়-  প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা। প্রতিটি ধাপের জন্য আলাদা কৌশল ও পরিকল্পনা প্রয়োজন।

    সিলেবাস ও মানবন্টন বিশ্লেষণ

    বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইবা। নিম্নে বিসিএস সিলেবাস ও মানবন্টন তুলে ধরা হলো:

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা 
    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ১০টি বিষয়ের উপরে সর্বোমোট ২০০ নম্বরের হয়ে থাকে। সময় থাকে ২ ঘণ্টা। নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে বিষয়ের নাম ও মান উল্লেখ করা হলো।  

    বিষয়ের নাম মান 
    বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ৩০ 
    English Language and Literature৩০ 
    বাংলাদেশ বিষয়াবলি ২৫ 
    আন্তজার্তিক বিষয়াবলি ২৫ 
    ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ১০ 
    সাধারণ বিজ্ঞান ১৫ 
    কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ১৫ 
    গাণিতিক যুক্তি ২০ 
    মানসিক যুক্তি ১৫ 
    নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন ১০ 
    পূর্ণমান ২০০ 

    লিখিত পরীক্ষা 
    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ৬টি বিষয়ের উপরে মোট ৯০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে। ২০০ নম্বরের পরীক্ষাগুলোতে সময় থাকে ৪ ঘণ্টা এবং ১০০ নম্বরের পরীক্ষা গুলোতে সময় থাকে ৩ ঘণ্টা। নিম্নে টেবিলের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষার বিষয় সময় এবং পুর্ণমান তুলে ধরা হলো।  

    বিষয়  ও বিষয়কোড পূর্ণমান (নম্বর) সময় 
    বাংলা (০০২) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    ইংরেজি (০০৩) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    বাংলাদেশ বিষয়াবলী (০০৫) ২০০ ৪ ঘণ্টা 
    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (০০৭) ১০০ ৩ ঘণ্টা
    গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (০০৮+০০৯) (৫০+৫০) = ১০০  ৩ ঘণ্টা
    সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (০১০) ১০০ ৩ ঘণ্টা 
    সর্বমোট ৯০০ নম্বর ২১ ঘণ্টা 

    বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিসিএস লিখিত সিলেবাস ব্লগটি পড়ুন। 

    ভাইবা পরীক্ষা 
    বিসিএস পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ভাইবা। বিসিএসে ভাইবা ২০০ নাম্বারের হয়ে থাকে। এই ধাপে সাধারণত ব্যক্তিত্ব যাচাই, সাধারণ জ্ঞান, কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা, মানসিক পরিপক্কতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।

    প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি

    প্রিলিমিনারি বিসিএস পরীক্ষার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতিবছর গোড়ে ৯৫% বিসিএস পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি পাশ করতে ব্যর্থ হয়। তাই এই পরীক্ষায় ভালো করতে হলে নিয়মিত MCQ অনুশীলন করা অপরিহার্য। এছাড়াও- 

    • বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের মৌলিক নিয়মগুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করুন। 
    • বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়মিত ফলো করুন। 
    • গণিত ও মানসিক দক্ষতায় প্রতিদিন অন্তত ৩০টি MCQ সমাধান করুন। 
    • বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন এবং প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করুন

    বিসিএস পরীক্ষায় ভালো কররার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত এবং রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত বহুনির্বচনী প্রশ্নগুলো অনুশীলন। 

    পরামর্শ থাকবে- Live MCQ™ অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণ করা।এতে পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি নিজের অবস্থান যাচাই হবে। 

    লিখিত প্রস্তুতি

    লিখিত পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডার নির্বাচনে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ লিখিতে প্রাপ্ত নম্বরই মূলত ক্যাডার নির্ধারণ করে।

    • বাংলায় সারাংশ, ভাবসম্প্রসারণ ও রচনার জন্য নিয়মিত লেখার অভ্যাস গড়ুন
    • ইংরেজিতে Essay, Letter Writing ও Précis Writing অনুশীলন করুন
    • বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে বিশ্লেষণধর্মী উত্তর দেওয়ার দক্ষতা তৈরি করুন
    • গাণিতিক সমস্যা সমাধানে শর্টকাট পদ্ধতি রপ্ত করুন

    লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাড়ায় সময় ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করতে ব্যর্থ হওয়া।

    তাই পরামর্শ থাকবে-  বিসিএস প্রশাসন পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য Live Written™ অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন। এতে আপনার সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক অভিজ্ঞতা হবে। এছাড়াও অভিজ্ঞ মেন্টদের মাধ্যমে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাতা মূল্যয়নের মাধ্যমে নিজের ভুলগুলো পরিলক্ষিত হবে। 

    ভাইবা প্রস্তুতি

    ভাইবা বা মৌখিক পরীক্ষায় ২০০ নম্বর থাকে। এখানে শুধু জ্ঞান নয়, আপনার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস ও যোগাযোগ দক্ষতাও মূল্যায়ন করা হয়।

    • নিজের জেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাঠ্য বিষয় সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করুন
    • সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে মতামত দেওয়ার অভ্যাস করুন
    • মিরর প্র্যাকটিস ও মক ভাইভার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ান
    • পোশাক-আশাক, চলাফেরা ও কথাবার্তায় পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন
    • প্রশাসন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি রাখুন

    শূন্য থেকে প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতি

    যারা একেবারে শুরু থেকে প্রস্তুতি নিতে চান, তাদের জন্য নিম্নে একটা রোডম্যাপ দেওয়া হলো।

    ১। বিসিএসের সিলেবাস, পরীক্ষা পদ্ধতি, প্রশ্ন প্যাটার্ন এবং মানবন্টন সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান অর্জন করা। 
    ২। বিসিএস এর প্রয়োজনীয় বই এবং রিসোর্স সংগ্রহ করা। পরামর্শ থাকবে- বিসিএস প্রিলিমিনারি জব সলুশ্যন বইটি দিয়ে শুরু করা।  
    ৩। বিগত সালের প্রশ্ন গুলো ভালোভাবে অনুশীলন করা। বাংলা এবং ইংরেজি ব্যকরনের মৌলিক বিষয়গুলো শেষ করা। 
    ৪। বিসিএস এর সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিটি টপিক আলাদা আলাদাভাবে আয়ত্ব করা। 
    ৫। নিয়মিত MCQ অনুশীলন করা এবং সাম্প্রতিক বিষয়ের জন্য সংবাদপত্র পড়া। 
    ৬। পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট এবং দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মনোযোগী হওয়া।  

    আপনারা যারা অনার্স থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে চান তারা অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে আমাদের বিস্তারিত গাইডলাইন ব্লগটি পড়তে পারেন।

    প্রশাসন ক্যাডার পদক্রম

    প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার পর একজন কর্মকর্তাকে সাধারণত প্রথমে মাঠ প্রশাসনে পোস্টিং দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা ও পদোন্নতির ভিত্তিতে সচিবালয়ে বদলি হন।

    মাঠ প্রশাসনের কর্মপদ্ধতি

    মাঠ প্রশাসনে একজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তার কর্মজীবন শুরু হয় সহকারী কমিশনার হিসেবে। এই পর্যায়ে তিনি জেলা প্রশাসকের অধীনে কাজ করেন।

    • সহকারী কমিশনার (এসি): ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, এবং বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন
    • উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO): উপজেলার সর্বোচ্চ নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বিক প্রশাসন পরিচালনা
    • অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ADC): জেলা প্রশাসকের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিভাগের কাজ তদারকি
    • জেলা প্রশাসক (DC): জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের নেতৃত্ব
    • বিভাগীয় কমিশনার: বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, একাধিক জেলা তদারকি করেন

    সচিবালয়ের কর্মপদ্ধতি

    সচিবালয়ে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করেন। এখানে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পদায়িত হন।

    • সহকারী সচিব: নীতি প্রণয়নে সহায়তা, ফাইল প্রসেসিং ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়
    • সিনিয়র সহকারী সচিব: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি ও অধীনস্থ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান
    • উপসচিব: বিভাগ পরিচালনা, মন্ত্রীকে পরামর্শ প্রদান
    • যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব: বৃহৎ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি
    • সচিব: মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী, মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা
    • সিনিয়র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব: জাতীয় নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পর্যায়

    প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতা

    প্রশাসন ক্যাডারে আবেদন করতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা

    যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে চতুর্থ শ্রেণির চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। শিক্ষাজীবনে দুটির বেশি তৃতীয় বিভাগ বা সমমানের ফলাফল থাকলে আবেদন করা যাবে না।

    বয়সসীমা

    সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বিসিএস পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণের নির্ধারিত তারিখে বয়স গণনা করা হয়।

    স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা

    শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। দৃষ্টিশক্তি নির্ধারিত মানের হতে হবে। মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। নির্দিষ্ট শারীরিক অক্ষমতা থাকলে কিছু ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন।

    নাগরিকত্ব

    বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে আবেদন করা যাবে না। যদি বিদেশে বিবাহ করা হয়ে থাকে অথবা স্বামী বা স্ত্রী বিদেশের নাগরিক হন, সে ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

    প্রশাসন ক্যাডারের কাজ কি?

    প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুটি মূল ক্ষেত্রে কাজ করেন। মাঠ পর্যায়ে তারা জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন পরিচালনা করেন — আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি তাদের প্রধান দায়িত্ব। সচিবালয়ে তারা নীতি প্রণয়ন, আইন প্রস্তুত এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের বেতন কত?

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের পর একজন কর্মকর্তা গ্রেড-৯ এ সহকারী কমিশনার হিসেবে ২২,০০০ টাকা মূল বেতনে যোগ দেন (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী)। তবে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা যোগ করলে মোট আয় অনেক বেশি হয়। ঢাকায় পোস্টিং হলে বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৪৫% পর্যন্ত পান।

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ কোনটি?

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ হলো মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ আমলাতান্ত্রিক পদ এবং গ্রেড-১ এর অন্তর্ভুক্ত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করেন এবং মন্ত্রিসভার সকল কার্যক্রম সমন্বয় করেন। এছাড়া সিনিয়র সচিব পদটিও গ্রেড-১ এর অন্তর্ভুক্ত।

    উপসংহার

    বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশাগুলোর একটি। এই ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এটি অর্জন করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

    প্রশাসন ক্যাডার প্রস্তুতিতে সিলেবাস বোঝা, নিয়মিত অনুশীলন, বিষয়ভিত্তিক গভীর পড়াশোনা এবং নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠাই হলো সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। মনে রাখবেন, প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা এই দেশের ৩০ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত- এই দায়িত্ব যেমন গুরুভার, তেমনি গৌরবময়।

    আপনার প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন, অভিজ্ঞ পরামর্শদাতাদের গাইডেন্স নিন এবং নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন। শুভকামনা রইল আপনার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার যাত্রায়!

  • সিনিয়র স্টাফ নার্স (Senior Staff Nurse) নিয়োগ প্রস্তুতি ২০২৬ – স্মার্ট রুটিন, স্টাডি প্ল্যান ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    সিনিয়র স্টাফ নার্স (Senior Staff Nurse) নিয়োগ প্রস্তুতি ২০২৬ – স্মার্ট রুটিন, স্টাডি প্ল্যান ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

    প্রিয় নার্সিং পেশাজীবী বন্ধুগণ,
    আপনারা জানেন, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা উন্নত করতে শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায়, সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ ২০২৬ (Senior Staff Nurse Recruitment) পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)। পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বহুল প্রতীক্ষিত ৮২৮টি পদে নিয়োগের এই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী মে মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নার্সিং পেশা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদাসম্পন্ন ক্যারিয়ারগুলোর একটি। বিশেষ করে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা প্রস্তুতি যারা নিচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। 

    নার্সিং পেশা দিন দিন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আর সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। তাই সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ যাদের লক্ষ্য, অর্থাৎ যারা ইতোমধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। 

    এই ব্লগে আমরা আলোচনা করব- পরীক্ষার সম্পূর্ণ সিলেবাস, মানবন্টন, বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির কৌশল এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগকে কেন্দ্র করে Live MCQ™ -এর শর্ট কোর্স রুটিন সম্পর্কে।

    একনজরে ৮২৮ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ তথ্য

    বিবরণ (Description)তথ্য (Details)
    পদের নামসিনিয়র স্টাফ নার্স (নন-ক্যাডার পদ)
    মোট পদ সংখ্যা৮২৮টি
    আবেদনের যোগ্যতা BSc in Nursing/ Diploma in Nursing Science & Midwifery (4 year) + BNC Registration 
    আবেদনের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর 
    বেতন স্কেল ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০) 
    সম্ভাব্য পরীক্ষার সময়মে ২০২৬
    নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষবাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)
    অধিদফতরনার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার ধাপ ও মানবন্টন

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ)

    নার্সিং প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে জেনারেল অংশে (বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান) ৬০ নম্বর এবং টেকনিক্যাল অংশে ৪০ নম্বর নির্ধারিত। একইভাবে লিখিত পরীক্ষার ২০০ নম্বরের মধ্যে জেনারেল অংশে ১২০ ও টেকনিক্যাল অংশে ৮০ নম্বর থাকবে।

    মানবন্টন

    বিষয় নম্বর 
    বাংলা ২০ 
    ইংরেজি ২০ 
    সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)২০ 
    সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয় ৪০ 
    মোট নম্বর ১০০ 
    • পরীক্ষায় মোট ১০০টি প্রশ্ন থাকবে। 
    • প্রার্থী প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। 
    • প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.৫০ কাটা যাবে। 

    লিখিত পরীক্ষা

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের চার ঘণ্টার লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

    মানবন্টন

    বিষয় নম্বর 
    বাংলা ৪০ 
    ইংরেজি ৪০ 
    সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)৪০ 
    সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয় ৮০ 
    মোট নম্বর ২০০ 

    ব্যবহারিক পরীক্ষা: লিখিত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
    মৌখিক পরীক্ষা: সর্বশেষ ধাপে ৫০ নম্বরের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে হবে; ৫০% নম্বর পেতে হবে। 
    পাশ নম্বর: প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে ২৫%, টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল অংশে ৪০% ও সামগ্রিকভাবে ৪৫% নম্বর পেতে হবে। 

    প্রিলিমিনারি সিলেবাস, সাজেশন ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির গাইডলাইন

    বাংলা বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক 

    বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য দুটি মিলেই প্রশ্ন আসতে পারে। ব্যাকরণ ও সাহিত্যের যেসব টপিক পড়তে হবে—
    বাংলা ব্যাকরণ অংশ: 

    • বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) 
    • ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) 
    • বাক্য প্রকরণ (যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; প্রয়োগ ও অপ্রয়োগ; বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন, কারক ও বিভক্তি)
    • শব্দপ্রকরণ (শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি – প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ, লিঙ্গ/পুরুষবাচক-স্ত্রীবাচক শব্দ; সংখ্যাবাচক শব্দ; দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব; বচন; পদাশ্রিত নির্দেশক; সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ) 
    • বানান ও বাক্যশুদ্ধি; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।)
    • পদ-প্রকরণ (পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ) 

    বাংলা সাহিত্য অংশ:

    • বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; 
    • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্য যুগ সম্পূর্ণ; 
    • বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; 
    • বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ;
    • কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; 
    • সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; 
    • বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি ও চরিত্র
    • বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রমথ চৌধুরী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, অমিয় চক্রবর্তী, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বেগম রোকেয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, ফররুখ আহমদ, বিষ্ণু দে, আবু ইসহাক, আল মাহমুদ, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হুমায়ূন আহমেদ, শওকত আলী, শওকত ওসমান, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, সৈয়দ মুজতবা আলী, কায়কোবাদ, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, সুকান্ত ভট্টাচার্য [লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে]

    কিভাবে পড়বেন: 

    • উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। 
    • ব্যাকরণের ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
    • এছাড়াও Live MCQ™ অ্যাপের “টপিক গুরু” থেকে বাংলা সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন-উত্তর ব্যাখ্যাসহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ™ জব সল্যুশন বাটন থেকে বিগত সালের নার্সিং নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন গুলো পড়তে হবে।

    ইংরেজি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক 

    ইংরেজি ব্যাকরণ অংশ: 

    • Parts of speech, Number, Gender, Determiner, Right form of Verb, Fill in the Blanks with appropriate word, Appropriate Preposition, Linkers
    • Vocabulary: Word meaning, synonym, antonym, spelling
    • Tense, Sentence & Correction, Transformation of Sentences, Voice, Narration, Idioms & Phrases, Degree, One Word Substitution

    ইংরেজি সাহিত্য অংশ: 

    [লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে।] 
    1. William Shakespeare
    2. William Wordsworth 
    3. P.B. Shelley
    4. John Keats
    5. Jane Austen
    6. Charles Dickens
    7. GB Shaw
    8. George Orwell
    9. ST Coleridge
    10. Christopher Marlowe
    11. Ernest Hemingway
    12. W. B. Yeast
    13. T. S. Eliot
    14. E. M. Forster
    15. John Milton
    16. Ben Jonson
    17. Alexander Pope
    18. Lord Alfred Tennyson

    কিভাবে পড়বেন

    • গ্রামারের জন্য: High School English Grammar and Composition by Wren and Martin; Advanced Learner’s Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain; A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hossain; Applied English Grammar and Composition by P. C. Das; English Grammar in Use by Raymond Murphy; Dictionaries (Oxford, Cambridge, Merriam-Webster etc.) [প্রচলিত যেকোনো ভালো একটি গাইড বইয়ের পাশাপাশি উপর্যুক্ত বইয়ের যেকোনো একটি বেছে নিন]
    • প্র্যাকটিসের পাশাপাশি টপিকভিত্তিক পড়াশোনার জন্য Live MCQ প্রণীত ❝English Wizard❞  ও ❝English Essence❞  বই পড়তে পারেন।
    • এছাড়াও Live MCQ এর টপিক গুরু থেকে ইংরেজি সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন উত্তর ব্যাখ্যা সহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ জব সল্যুশন বাটন থেকে বিগত সালের নার্সিংয়ের প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে পারেন। 
    • বিগত বিসিএস ও পিএসসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন।
    • Live MCQ Vocabulary sheet 

    সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী ও সাধারণ বিজ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকবে। 

    বাংলাদেশ বিষয়াবলি

    • বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা ও ভূ-প্রকৃতি 
    • বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাস ও সামসময়িক ইতিহাস, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও তাদের উল্লেখযোগ্য কর্ম
    • বাংলাদেশের সংবিধান
    • বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ
    • জলবায়ু ও পরিবেশ, কৃষি সম্পদ, শিল্প ও বানিজ্যের অবদান, জনশুমারী ও অন্যান্য রিপোর্ট ও সমীক্ষা 
    • সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়াবলি

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

    • বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
    • জাতিসংঘ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ
    • আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ 
    • আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থানসমূহ
    • আন্তর্জাতিক সম্মেলন, আন্তর্জাতিক পুরস্কার
    • সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

    সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান অংশ)

    • বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা, নারী ও শিশু, বিভিন্ন দূষণ, আলোচিত রোগ ও চিকিৎসা (এইডস, পোলিও, কোভিড-১৯, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, মাঙ্কি পক্স, ডেঙ্গু, চিকুন গুনিয়া, ইত্যাদি), মানবদেহ ও রক্ত
    • দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুৎ, আলো, চুম্বক, খাদ্য, পুষ্টি ও ভিটামিন 
    • বেসিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি

    কিভাবে পড়বেন

    • অষ্টম শ্রেণির বই, ভূগোল ও পরিবেশ এবং ইতিহাস ও পৌরনীতি, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়]
    • সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, আমদানি রপ্তানি রিপোর্ট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ,
    • লাইভ পাবলিকেশন্সের Live MCQ Science Expert
    • লাইভ পাবলিকেশন্সের Live MCQ Computer & ICT Cloud 
    • অষ্টম শ্রেণির বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়] 
    • উল্লিখিত টপিকে বিগত বিসিএস ও পিএসসি কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে পড়ে নিন। 
    • সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য Live MCQ এর ‘টপিকগুরু’ থেকে সাধারণ জ্ঞান সংশ্লিষ্ট টপিক থেকে নির্ভুল প্রশ্ন উত্তর ব্যাখ্যাসহ পড়তে পারেন।
    • Live MCQ অ্যাপের ডাইনামিক প্যানেল, তথ্যসমাহার, নিউজ পিকার, সাপ্তাহিক বুলেটিন, সাম্প্রতিক সমাচার বাটন থেকে সাধারণ জ্ঞানের উপর জোরালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।  
    চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেটেড থাকার জন্য Live MCQ এর প্রতিদিনের আয়োজন Daily NewsPicker এবং সাপ্তাহিক আয়োজন Weekly Bulletin অনুসরণ করতে পারেন। Live MCQ অ্যাপের PDF সেকশনে প্রকাশিত প্রতি মাসের সাম্প্রতিক সমাচার, Live MCQ তথ্য সমাহার সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল PDF আপনার সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করবে। এছাড়াও Dynamic Info Panel এর শেষ মুহূর্তের সকল আপডেটেড তথ্য তো রয়েছেই যা পরীক্ষার আগমুহূর্তে সাম্প্রতিক বিষয়াবলিতে আপনার প্রস্তুতিকে সহজ করবে। 

    ব্যবহারিক টেকনিক্যাল বিষয়:

    • প্রার্থীদের নার্সিংয়ে বিএসসি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তাদের নার্সিং টেকনিক্যাল অংশের মৌলিক ধারণা থাকবে। তবু মৌলিক বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করে পুরনো পড়া ঝালিয়ে নিতে হবে।
    • সেক্ষেত্রে, নার্সিং পেশায় প্রায়োগিক বিষয়গুলো, যা নিয়মিত পেশাগত কাজে বেশি প্র্যাকটিস করতে হয়, সেসব বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে; যেমন—অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, কমিউনিটি অব নার্সিং, অ্যাডাল্ট নার্সিং, ফান্ডামেন্টাল নার্সিং, সাইকোলজি, মেন্টাল হেলথ, অর্থোপেডিক, মিডওয়াইফারি, ফার্মাকোলজি প্রভৃতি। এছাড়া ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস, নিউট্রিশন অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সাপোর্ট, পেডিয়াট্রিক অ্যান্ড নিউ বর্ন নার্সিং, ইন্টার্নশিপ অথবা পেশাগত ক্লিনিক্যাল ডিউটি সম্পর্কে বাস্তব ধারণা রাখতে হবে।
    • Live MCQ-এর নার্সিং শর্ট কোর্সের টেকনিক্যাল অংশের পরীক্ষা ও ৮টি ক্লাসে উল্লিখিত টপিকগুলো কাভার করা হবে। 

    Live MCQ™ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার জন্য হাতে সময় খুবই কম। এই কম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে Live MCQ™ সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন।   

    এক নজরে সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রস্তুতি শর্ট কোর্স রুটিন 

    মোট লাইভ পরীক্ষা: ২৫টি 

    • জেনারেল বিষয়: ১০টি 
    • টেকনিক্যাল বিষয়: ১০টি 
    • ফুল মডেল টেস্ট: ৫টি 

    মোট ক্লাস: ১৫টি 

    • টেকনিক্যাল ক্লাস: ৮টি 
    • জেনারেল ক্লাস: ৭টি 

    ক্লাসগুলোর বিস্তারিত তথ্য   

    যেহেতু স্টাফ নার্স পরীক্ষায় জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয় বিষয়েরই প্রশ্ন থাকে, তাই কোর্সের ক্লাসগুলোকে জেনারেল ও টেকনিক্যাল দুইটা ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 

    জেনারেল অংশের ক্লাস টপিক

    • বাংলা সাহিত্য
    • বাংলা ব্যাকরণ
    • সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলি
    • সাধারণ জ্ঞান আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
    • সাধারণ বিজ্ঞান
    • English Grammar
    • English Grammar & Literature

    টেকনিক্যাল অংশের ক্লাস টপিক 

    • Syllabus analysis & Course analysis 
    • Basic Science + Anatomy & Physiology 
    • Microbiology & Parasitology + Pharmacology + Orthopedics Nursing
    • Fundamentals of Nursing + Psychology & Psychiatric Nursing 
    • Nutrition & Dietetics + Nursing Education, Leadership & Management
    • Midwifery & Obstetrics + Pediatric & Newborn Nursing
    • Medical & Surgical Nursing + Emergency & Critical Care Nursing
    • Community Health Nursing + Research Methodology 

    বিশেষ দ্রষ্টব্য: জেনারেল ও টেকনিক্যাল উভয় অংশের প্রথম ১টি করে মোট ২টি ক্লাস অ্যাপে ‘সবার জন্য ফ্রি’ থাকবে।

    এই শর্ট কোর্সটি কেন গুরুত্বপূর্ণ 

    • লাইভ ও রেকডের্ড ক্লাসের মাধ্যমে জেনারেল, টেকনিক্যাল উভয় অংশের সিলেবাস কমপ্লিট করানো হবে।  
    • লাইভ ও আর্কাইভ পরীক্ষার মাধ্যমে সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রস্তুতি যাচাই করা হবে। 
    • ৫টি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা প্রক্রিয়া এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান করা হবে। 
    • গাইডলাইন ভিত্তিক ক্লাসগুলোর মাধ্যমে স্টাফ নার্স পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হবে। 

    এছাড়াও- লাইভ ক্লাসে ও ২৪/৭ কাস্টোমার সাপোর্টের মাধ্যমে নার্সিং সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের সমাধান করা দেওয়া হবে। 

    কোর্সের বিশেষ সুবিধা 

    • কোন লাইভ ক্লাস অথবা পরীক্ষা মিস হলে- যেকোন সময় আর্কাইভ থেকে সেটা পরীক্ষা দেওয়া যাবে এবং ক্লাস করা যাবে। 
    • পরীক্ষার হলের প্রশ্নপত্রের মতো পরীক্ষাগুলো OMR-এ দিতে পারবেন। 

    এছাড়াও- সাথে পাবেন স্মার্ট সার্চ, টপিকগুরু, ডাইনামিক প্যানেল, কুইজ মাস্টার, তথ্যকল্পদ্রুমসহ অসংখ্য স্টাডি সহায়ক Live MCQ™ এর প্রিমিয়াম ফিচার।

    রুটিন ডাউনলোড প্রক্রিয়া 

    Live MCQ™ App / Website → Homepage → PDF Section → “রুটিন, সিলেবাস ও কারিকুলাম” থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি ও শর্ট কোর্স রুটিনসহ চলমান সকল রুটিনের পিডিএফ ডাউনলোড করতে পারবেন। 

    এছাড়া- অনলাইনের মাধ্যমে রুটিনটি দেখতে এবং ডাউনলোড করতে নিচের পিডিএফ ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করুন। 

    শেষ কথা

    সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৬ শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়- এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও সম্মানজনক নন-ক্যাডার পদে ক্যারিয়ার গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। তাই দেরি না করে এখনই সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    🚀 দেরি না করে, আজই Live MCQ™ অ্যাপের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রস্তুতি ও শর্ট কোর্স রুটিনে যুক্ত হয়ে শুরু করুন আপনার স্মার্ট, স্ট্র্যাটেজিক প্রস্তুতি!

  • অফিস সহকারী কি ও পদের বিস্তারিত পরিচয়

    অফিস সহকারী কি ও পদের বিস্তারিত পরিচয়

    বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থায় অফিস সহকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। দেশের সকল সরকারি দফতর, মন্ত্রণালয়, অধিদফতর এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে এই পদধারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সুচারু রাখতে অফিস সহকারীর ভূমিকা অপরিহার্য।

    যারা সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য অফিস সহকারী পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা জরুরি। আজকের আর্টিকেলে অফিস সহকারী পদের পরিচয়, কাজের ধরন, পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

    অফিস সহকারী কি? 

    অফিস সহকারী হলো বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বাজেটভুক্ত একটি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি পদ। জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। এটি মূলত একটি ক্লেরিক্যাল বা কেরানি-সংশ্লিষ্ট পদ, যেখানে কম্পিউটার অপারেটিং, টাইপিং, ফাইল ব্যবস্থাপনা ও দাফতরিক সহায়তামূলক কাজ সম্পাদন করা হয়।

    বিভিন্ন সরকারি অফিসে এই পদের নামকরণ একটু ভিন্ন হতে পারে- যেমন “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক” বা “অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর”। তৃতীয় শ্রেণির চাকরিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ১৪তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির প্রস্তুতি ব্লগটি দেখুন। 

    বিষয়বিবরণ
    পদমর্যাদাতৃতীয় শ্রেণি
    গ্রেড১৩তম – ১৬তম
    নিয়োগকর্তাবাংলাদেশ সরকার
    শিক্ষাগত যোগ্যতাএইচএসসি বা সমমান

    অফিস সহকারীর কাজ কি?

    অফিস সহকারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য বহুমুখী। প্রতিটি সরকারি অফিসে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পাদনে তারা সরাসরি ভূমিকা পালন করেন। তাদের প্রধান কাজগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

    • কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজিতে চিঠি, নোটিশ, প্রতিবেদন টাইপ এবং মুদ্রণ করা।
    • অফিসের নথিপত্র, ফাইল ও রেকর্ড সংগঠিত করা এবং সংরক্ষণ করা।
    • ডাক, ই-মেইল ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ পরিচালনা করা।
    • অফিস আদেশ, বিজ্ঞপ্তি, স্মারকলিপি তৈরি ও বিতরণ করা।
    • তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংকলন ও ডেটা এন্ট্রি করা এবং হালনাগাদ রাখা।
    • ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী দাফতরিক সহায়তা প্রদান করা।
    • বিভিন্ন মিটিং বা সভার কার্যবিবরণী (Minutes) প্রস্তুত করা।
    • দর্শনার্থীদের সাথে প্রাথমিক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাদের সহায়তা করা।
    • সরকারি হিসাবপত্র ও বাজেট-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা।
    • অফিসের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা।

    অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কের পার্থক্য

    অনেকেই “অফিস সহকারী” ও “অফিস সহায়ক” পদ দুটি নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। কিন্তু এই দুটি পদ সম্পূর্ণ আলাদা- পদমর্যাদা, কাজের ধরন ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সবদিক থেকেই পার্থক্য রয়েছে।

    বিষয়অফিস সহকারীঅফিস সহায়ক
    পদমর্যাদাতৃতীয় শ্রেণিচতুর্থ শ্রেণি
    গ্রেড১৩তম – ১৬তম১৭তম – ২০তম
    কাজের ধরনক্লেরিক্যাল / কম্পিউটার কাজশারীরিক / সহায়তামূলক কাজ
    শিক্ষাগত যোগ্যতাএইচএসসি বা সমমানঅষ্টম বা এসএসসি
    দায়িত্বটাইপিং, ফাইলিং, ডেটা এন্ট্রিডাক বিতরণ, অফিস পরিষ্কার
    পূর্বতন নামক্লার্ক / কেরানিপিয়ন / এমএলএসএস

    অফিস সহকারী থেকে পদোন্নতি

    অফিস সহকারী পদ থেকে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে, তবে তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দফতরের নীতিমালা, পদ শূন্যতা ও কর্মীর কর্মদক্ষতার উপর। সাধারণ পদোন্নতির ধারাক্রম নিচে দেওয়া হলো:

    ধাপপদের নামগ্রেড / মন্তব্য
    ১মঅফিস সহকারীগ্রেড ১৩–১৬ | তৃতীয় শ্রেণি | প্রারম্ভিক পদ
    ২য়উচ্চমান সহকারী / সিনিয়র সহকারীগ্রেড ১১–১২ | বিভাগীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে
    ৩য়অফিস সুপারিনটেন্ডেন্টগ্রেড ৯–১০ | দ্বিতীয় শ্রেণি
    ৪র্থপ্রশাসনিক কর্মকর্তাগ্রেড ৭–৮ | দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতায়

    পদোন্নতির জন্য বিভাগীয় পরীক্ষা পাস করা, নির্ধারিত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা এবং বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক থাকা আবশ্যক।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর 

    নিম্নে অফিস সহকারী পদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলো এবং উত্তর দেওয়া হলো

    অফিস সহকারী কত তম গ্রেড?

    অফিস সহকারী ১৬ তম গ্রেড। 

    অফিস সহকারী মানে কি? 

    “অফিস সহকারী” বলতে এমন একজন কর্মীকে বোঝায়, যিনি একটি অফিসের দৈনন্দিন কাজকর্মে সাহায্য করেন।

    অফিস সহকারী এর কাজ কি? 

    অফিস সহকারী ফাইল সাজানো ও সংরক্ষণ, ডকুমেন্ট টাইপ বা কপি করা এবং চিঠিপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে। পাশাপাশি অফিস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে।

    উপসংহার

    অফিস সহকারী পদটি বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনের একটি মেরুদণ্ডস্বরূপ। এই পদের মাধ্যমে সরকারি সেবা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে এই পদ থেকে উচ্চতর পদে পদোন্নতির সুযোগ উন্মুক্ত হয়।

    সুতরাং যারা সরকারি চাকরিতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য অফিস সহকারী পদ একটি সম্মানজনক ও সুরক্ষিত সূচনাবিন্দু হতে পারে। সঠিক প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে এই পদ থেকে ধাপে ধাপে উপরে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আশা করি, অফিস সহকারী পদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। এবার, অহিস সহকারী চাকরির প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। 

  • স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- পরিচিতি, কার্যক্রম ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- পরিচিতি, কার্যক্রম ও চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া

    যেকোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সব কিছু এই মন্ত্রণালয় করে থাকে। তবে অনেকেই এই মন্ত্রণালয়ের কাজ, কাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন না। আপনি যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করতে চান, তাহলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

    আজকের এই ব্লগে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং সকল বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনা করব। আশা করি, সরকারি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এই লেখাটি একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড হিসেবে কাজ করবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচিতি

    বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সর্বোচ্চ সরকারি প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এই মন্ত্রণালয়টি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে আসছে।

    মন্ত্রণালয়টি ঢাকার সচিবালয়ে অবস্থিত এবং একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। মন্ত্রীর অধীনে একজন সিনিয়র সচিব বা সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধিদপ্তর ও বিভাগ। বাংলাদেশের সকল মন্ত্রণালয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহ ব্লগটি দেখতে পারেন।  

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রধান প্রতিষ্ঠানসমূহ

    • বাংলাদেশ পুলিশ — দেশের প্রধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
    • র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) — অপরাধ দমনে বিশেষায়িত বাহিনী
    • আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) — গ্রামীণ নিরাপত্তা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী
    • কারা অধিদপ্তর — দেশের কারাগার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে
    • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স — অগ্নিনির্বাপণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
    • ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর — বিদেশ গমন ও পাসপোর্ট সেবা

    এই প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে কাজ করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূলত দুটি বিভাগে বিভক্ত- জননিরাপত্তা বিভাগ এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ কী

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। শুধু পুলিশ পরিচালনা নয়, এই মন্ত্রণালয় দেশের সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বহন করে। নিচে মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যক্রমগুলো তুলে ধরা হলো: 

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা 

    দেশের প্রতিটি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা মন্ত্রণালয়ের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। পুলিশ বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ কাজটি পরিচালিত হয়। বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কার্যক্রম দমনে মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন  করে।

    সীমান্ত নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হলো- বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণ করা, পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদান এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা । অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং মানব পাচার প্রতিরোধেও মন্ত্রণালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

    কারা ব্যবস্থাপনা

    আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তিদের কারাগারে রাখা এবং তাদের সংশোধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। কারা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন কারাগার পরিচালনা, কয়েদিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

    দুর্যোগ ও অগ্নিনির্বাপণ

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মাধ্যমে আগুন লাগা, ভূমিকম্প বা যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলা করা হয়। এছাড়াও নাগরিকদের দুর্যোগকালীন সচেতনতা বৃদ্ধিতেও মন্ত্রণালয় কাজ করে।

    স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী পরিচালনা

    আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) পরিচালনার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই বাহিনী গ্রামাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদান করে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান পদসমূহ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নানা ধরনের পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। পদগুলো মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত — কর্মকর্তা পদ (১ম ও ২য় শ্রেণি) এবং কর্মচারী পদ (৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি)।

    পদের নামশ্রেণিনিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ
    সচিব / সিনিয়র সচিব১ম শ্রেণিরাষ্ট্রপতি / মন্ত্রিপরিষদ
    অতিরিক্ত সচিব১ম শ্রেণিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
    যুগ্ম সচিব১ম শ্রেণিমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
    উপসচিব১ম শ্রেণিপিএসসি / বিসিএস ক্যাডার
    সিনিয়র সহকারী সচিব২য় শ্রেণিপিএসসি
    সহকারী সচিব২য় শ্রেণিপিএসসি
    সাঁটলিপিকার (স্টেনোগ্রাফার)৩য় শ্রেণিমন্ত্রণালয়
    অফিস সহকারী / কম্পিউটার অপারেটর৩য় শ্রেণিমন্ত্রণালয়
    অফিস সহায়ক / এমএলএসএস৪র্থ শ্রেণিমন্ত্রণালয়

    এছাড়াও অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো- যেমন পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস-  তাদের নিজস্ব পদক্রমে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেয়। পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল থেকে শুরু করে ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) পর্যন্ত বিভিন্ন পদ রয়েছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়োগ প্রক্রিয়া

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশ কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হয়। পদের শ্রেণিভেদে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ভিন্ন হয়ে থাকে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সাধারণত জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.mha.gov.bd) প্রকাশিত হয়।

    ধাপ ১: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

    মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে পদের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও আবেদনের তারিখ উল্লেখ থাকে।

    ধাপ ২: অনলাইনে আবেদন

    প্রার্থীরা সাধারণত অনলাইনে আবেদন করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টেলিটক সিমের মাধ্যমে বা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং পরীক্ষার ফি জমা দিতে হয়।

    ধাপ ৩: লিখিত পরীক্ষা

    আবেদন বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ১ম শ্রেণির পদের জন্য বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    ধাপ ৪: শারীরিক পরীক্ষা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

    পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের মতো বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। উচ্চতা, বুকের মাপ, দৌড় ও শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়া যায় না।

    ধাপ ৫: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)

    লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, মনোভাব, দেশ সম্পর্কে জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়।

    ধাপ ৬: পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা

    চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং চিকিৎসকের দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সব ধাপে উত্তীর্ণ হলে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর মাধ্যমে হয়।

    বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ কী কী?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হলো দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, পুলিশ ও আনসার বাহিনী পরিচালনা করা, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা প্রদান করা, কারাগার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা, ফায়ার সার্ভিস পরিচালনা করা এবং দেশের নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পদ কোনটি?

    উত্তর: প্রশাসনিক দিক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তার পদ হলো সিনিয়র সচিব বা সচিব। তবে রাজনৈতিকভাবে মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    উপসংহার

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক কার্যক্রমধর্মী মন্ত্রণালয়গুলোর একটি। এই মন্ত্রণালয় শুধু পুলিশ পরিচালনা নয়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোয় পরিচালনা করে।

    যারা এই মন্ত্রণালয় বা এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করতে আগ্রহী, তাদের উচিত নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া।

    মনে রাখবেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি মানে শুধু একটি পেশা নয়- এটি দেশের নাগরিকদের সেবা করার এবং জাতীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখার একটি মহৎ সুযোগ। সঠিক প্রস্তুতি ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো যোগ্য প্রার্থী এই মন্ত্রণালয়ে তার কাঙ্ক্ষিত পদে নিযুক্ত হতে পারেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সকল সরকারী চাকরি প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।