Category: Blog

  • Live MCQ- গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস্‌ | সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস

    Live MCQ- গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস্‌ | সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস

    প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, Live MCQ- গুরুত্বপূর্ণ স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস্‌- সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা জানেন, দেশের উন্নয়ন, নীতি বাস্তবায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সিভিল সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কর্মকর্তারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারের কার্যক্রম পরিচালনায় এই সেবার অবদান অনস্বীকার্য। বহুল প্রত্যাশিত এই সার্ভিসে যোগদানের জন্য বেশিরভাগ চাকরির প্রার্থীগণ নিজেদের সপ্নের বীজ বপন করে থাকেন। সেক্ষেত্রে এই সার্ভিস সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রার্থীর সংখ্যাও অনেক। আশা করছি এ কনটেন্টটি পড়ার পর সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন এবং পরবর্তীতে আর কোন কনফিউশন থাকবে না।

    সিভিল সার্ভিসের সূচনা ঘটে ঊনবিংশ শতকে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময়। ১৮৫৪ সালে লর্ড ম্যাকলে রিপোর্ট-এর ভিত্তিতে মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের প্রথা চালু হয়, যা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। এর আগে নিয়োগ হতো পরিবার বা পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে। সেই সময় এই প্রশাসনিক কাঠামোকে বলা হতো ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (ICS), যেটি ছিল ব্রিটিশ ভারতে শাসন ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। ICS কর্মকর্তারা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতেন এবং রাজস্ব আদায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন।

    ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর এই কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারত ও পাকিস্তানের নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামোতে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

    সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস, এই ব্যবস্থার বিবর্তন ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত

    সিভিল সার্ভিস কী

    সিভিল সার্ভিস একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। এটি মূলত একটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনী, যারা সংবিধান ও সরকারের নীতিমালার আলোকে কাজ করে।

    সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত থাকেন। এছাড়া, তারা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা স্তরে নিয়োজিত থাকেন। যেমন—উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক, মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, পুলিশ সুপার, কর কমিশনার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা প্রভৃতি।

    বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিস সাধারণত বিভিন্ন ক্যাডারে বিভক্ত, যেমন: প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর, তথ্য, সমবায় ইত্যাদি। এই কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) এর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত BCS পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সিভিল সার্ভিস দেশের উন্নয়ন, নীতি বাস্তবায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লোগো

    সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব ও ধরণ

    প্রাচীন সভ্যতায় সিভিল সার্ভিসের ধারণা-

    সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয়েছে – প্রাচীন কালেই; যখন কিনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল। পূর্ববর্তী সময়ে, যখন নাগরিক কর্মচারীরা রাজার পরিবারের অংশ ছিল, তখন তারা আক্ষরিক অর্থে রাজার ব্যক্তিগত চাকর ছিল। পরবর্তীতে, রাজা ও রাজপুত্রদের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে এবং কিছু দেশে রাজতন্ত্রকে উৎখাত করার ফলে ‘নাগরিক কর্মচারীদের’ নিয়োগ উক্ত বিভাগের মন্ত্রী ও বিভাগীয় প্রধানগণের ব্যক্তিগত পছন্দ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল। উনিশ শতকে ইউরোপে সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রায়শই ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অনুকূল্যের উপর নির্ভর করে, তবে নিয়োগ লাভের পর নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মেয়াদ ছিল সাধারণ। বর্তমানেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সিভিল সার্ভিসের পদগুলোর জন্য একই রকম ব্যবস্থা বিদ্যমান।

    ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে সিভিল সার্ভিসের বিকাশ-

    এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, সিভিল সার্ভিসের ধারণার উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রীক সভ্যতার সময়। পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্য প্রশাসনিক দপ্তর নির্মাণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল; যা পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চগুলোও অনুসরণ করে। চীনে খ্রিস্টপূর্ব ২ অব্দে সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয় যা চীনা সভ্যতা/সাম্রাজ্যকে দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়িত্ব দিয়েছে। সতের থেকে আঠারো শতকে গড়ে উঠা ব্রিটিশসহ বিভিন্ন উপনিবেশিক শক্তিও সিভিল সার্ভিস/আমলাতন্ত্রের উপর ভিত্তি করেই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পেরেছিল।

    সিভিল সার্ভিসে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন –

    ১. আন্তর্জাতিক নাগরিক কর্মচারী – বিভিন্ন আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থা যেমন – জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিমস্‌টেক, আসিয়ান প্রভৃতি কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মচারী। বিশ্ব পোস্টাল ইউনিয়ন (UPU) সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিস বা আন্তর্জাতিক নাগরিক কর্মচারী সম্পর্কে ধারণা দেয়।

    ২. জাতীয় নাগরিক কর্মচারী – কোনো দেশের সরকার বা জাতীয় সংস্থা যখন তার সিভিল সার্ভিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কর্মচারী নিয়োগ করে থাকে, তখন জাতীয় নাগরিক কর্মচারী শ্রেণির উদ্ভব হয়। সিভিল সার্ভিস একটি দেশের ‘জনপ্রশাসনের’ অংশ।

    সিভিল সার্ভিসের প্রধান বৈশিষ্ঠ্য – আমলাতন্ত্র (Bureaucracy)। সাধারণত সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আমলাদের নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ, বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয়ে থাকে।

    আমলাতন্ত্র (Bureaucracy)

    ‘আমলা’ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ – আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন। শব্দগতভাবে তাই, যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন করে করে তাদেরকে আমলা বলে। আমলাদের সংগঠনকে বলা হয় “আমলাতন্ত্র”। আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ – Bureaucracy। ফরাসি ‘ব্যুরো’ (Bureau) এবং গ্রিক ‘ক্রেটিন’ (Kratein) শব্দ থেকে Bureaucracy শব্দের উদ্ভব হয়েছে। ‘ব্যুরো’ শব্দের অর্থ ‘লেখার টেবিল’ (Desk) আর ‘ক্রেটিন’ শব্দের অর্থ ‘শাসন’। সুতরাং, উৎপত্তিগত অর্থে আমলাতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে – “Desk Government” বা “দপ্তর সরকার”। আক্ষরিক অর্থে ‘আমলাতন্ত্র’ বলতে আমলা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের শাসন বোঝায়।

    এই কাঠামো সাধারণত স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন। আমলারা পরস্পর সুশৃঙ্খলভাবে সংযুক্ত। তারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করেন। আমলাতন্ত্রের আধুনিক আলোচনার অগ্রনায়ক প্রখ্যাত জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েবার। তিনিই সর্বপ্রথম আমলাতন্ত্রকে একটি ‘আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত মডেল’ (Legal and Rational Model) হিসাবে উপস্থাপন করেন। ওয়েবারই ছিলেন ‘আদর্শ আমলাতন্ত্রের’ (Ideal Bureaucracy) উদ্ভাবক।

    এর কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

    অধ্যাপক ফাইনার (Professor Finer) এর মতে, “আমলাতন্ত্র একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকুরিজীবী শ্রেণি” (The civil service is a body of officials – permanent, paid and skilled.)।

    পল এইচ. অ্যাপলবি (Poul H. Appelby) বলেন, “আমলাতন্ত্র অসংখ্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে ও জটিল শর্তে সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর একত্রিত হওয়াকে বোঝায়” (Bureaucracy is inseparable from the phenomenon of systematic interaction of many persons associated in common and complex terms.)।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অগ (Ogg) এর মতে, “রাষ্ট্রীয় কর্মচারীবৃন্দ বা আমলা হচ্ছেন সুদক্ষ, পেশাদারি, অরাজনৈতিক, স্থায়ী এবং অধীনস্থ কর্মকর্তা” (The body of the civil servants is an expert, professional, non-political, permanent and subordinate staff.)।

    অধ্যাপক ফিফ্‌নার ও প্রেসথাস (Professor Pfiffner and Prethus) বলেন, “আমলাতন্ত্র হলো বিভিন্ন ব্যক্তি এবং তাদের কার্যাবলিকে এমন একটি পদ্ধতিতে সংগঠিত করা যা সুসংহতভাবে গোষ্ঠী শ্রমের উদ্দেশ্যে অর্জনে সক্ষম হয়” (Bureaucracy is the systematic organization of tasks and individuals into a pattern which can effectively attain the end of group effort.)।

    সুতরাং, আমলাতন্ত্র হলো স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের সংগঠন। আমলাতন্ত্র সরকারের সিদ্ধান্ত ও নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে।

    সাংগঠনিক বৈশিষ্ঠ্য ও কার্যাবলি

    নিম্নে আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য ও কাজ উল্লেখ করা হলো –

    বৈশিষ্ঠ্যপ্রধান কার্যাবলি
    পেশাগত দক্ষতাআইন প্রণয়নে সহায়তা করা
    সুনির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রআইন কার্যকর করা
    পদসোপানভিত্তিক (Hierarchical) সংগঠনসরকারী নীতি নির্ধারণে সহায়তা করা
    পেশাদার ও বেতনভুক্তবিচার সংক্রান্ত কাজ (ট্রেডমার্ক, জমি ক্রয়-বিক্রয়, রেজিস্ট্রি)
    রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাসরকারের নিকট জনসাধারণের দাবি-দাওয়া উত্থাপন
    মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং জৈষ্ঠ্যতা ও কৃতিত্বমূলক পদোন্নতিমন্ত্রী ও আইসভার সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবেশন
    কাজের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা, অনমনীয় বিধি ও কার্যপদ্ধতির উপর অপ্রোজনীয় গুরুত্ববিধি মোতাবেক রুটিনমাফিক প্রশাসনিক কাজ সম্পাদন করা
    কাজের স্থায়িত্ব নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিধিসম্মতভাবে স্থায়ীপেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা
    আমলাতন্ত্র

    আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতা ও সুশাসন

    আমলাতন্ত্রকে আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার অপরিহার্য অঙ্গ বলা হয়। আমলা বা সিভিল সার্ভেন্ট ছাড়া কোন দেশেই সরকার পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সাধরণত রাষ্ট্রীয় নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মন্ত্রী বা রাজনৈতিক প্রশাসকগণ। এসব নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন আমলারা। রাজনৈতিক প্রশাসক বা মন্ত্রীদের সময়ের অভাব বা কর্মব্যস্ততা, তাদের টেকনিক্যাল ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণে নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহনে তারা আমলাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এতে অনেক সময় আমলারা নীতি প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।

    বিশ্বের প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রেই আমলাদের ক্ষমতা অপ্রতিহত গতিতে বেড়েই চলেছে। আমলা বা বেসামরিক কর্মকর্তাগণ রাজনৈতিক প্রশাসক বা মন্ত্রীদের মত জনপ্রতিনিধি নয়। জনগণের সাথে তাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক ও দাপ্তরিক। আমলাগণ তাদের কাজের জন্য সরাসরি জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। তাদের শিক্ষা-দীক্ষা, জীবনযাপন পদ্ধতি, গোষ্ঠীগত সংহতি সব কিছুই সাধারণ জনগণ অপক্ষা অনেকটাই ভিন্ন। এতে সরকারের প্রশাসনযন্ত্র জনবান্ধব না হয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    তবে, অনেক সময় আমলারা ক্ষমতা প্রয়োগে সীমারেখা অতিক্রম করেন। পাবলিক সার্ভিস যাদের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার কথা তারা যদি জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায় তাহলে জনসেবা ও জনকল্যাণ বাধাগ্রস্থ হবে। জনগণ হয়রানির শিকার হয়; প্রশাসনে দুর্নীতির বিস্তার ঘটে। জবাবদিহিতার অভাব ও অস্বচ্ছতার অভাবে আমলারা শুধু দুর্নীতিপরায়ণই হয়ে উঠে না, তারা হয়ে পড়ে স্বৈরাচারী। ফলে যা সৃষ্টি হয় তাকে ‘অপশাসন’ (Bad Governance) বলা হয়। এর ফলে প্রশাসনের সাথে সাথে সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বের বহু দেশে সরকারের পতনও ঘটেছে। একদিকে, আমলাতন্ত্র শৃঙ্খলা আনে; অন্যদিকে, এটি বিলম্বও ঘটাতে পারে।

    আমলাতন্ত্রের জবাবদিহিতার সাথে সুশাসনের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট ও নিবিড়। সুতরাং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সরকার পরিচালনা এবং প্রশাসন পরিচালনায় জবাবদিহিতার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মন্ত্রিসভা ও শাসন বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের নীতি, সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য আইনসভার নিকট জবাবদিহি করে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা আমলারা জনপ্রতিনিধিদের নিকট জবাবদিহি করে। শুধু তাই নয়, আমলারা তাদের উর্ধ্বতন আমলা-প্রশাসকদের নিকটও জবাবদিহি করে। বর্তমান জনকল্যাণকর রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা, কার্যাবলি, ও জবাবদিহিতা ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

    বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস (স্বাধীনতা পরবর্তী সময়)

    স্বাধীনতার পরের সময়কাল-

    বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিস বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (Bangladesh Civil Service) বা সংক্ষেপে BCS নামেই সর্বাধিক পরিচিতি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশে একটি দক্ষ সিভিল সার্ভিস গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

    ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়। তার ফলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের চাকরির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়। সংবিধানে সিভিল সার্ভিস শব্দটা ব্যবহার করা হয় নি, তবে সকল শ্রেণীর সিভিল সার্ভেন্টকে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    চাকরি সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক অধ্যায় (১৩৬ নং অনুচ্ছেদে) অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে –

    – প্রথম, এই অনুচ্ছেদে সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের চাকরির শর্তাবলি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সংসদকে দেয়া হয়েছে।

    – দ্বিতীয়, এতে সরকারকে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠন করার এবং সিভিল সার্ভিস সদস্যদের অসুবিধা ঘটতে পারে চাকরির এমন শর্তাবলি পরিবর্তন করারও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

    সিভিল সার্ভিস – এর প্রয়োজনীয়তা মেটানোর উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের এক আদেশে ‘সরকারী কর্ম কমিশন’ গঠিত হয়। সংবিধানের নবম ভাগে (বাংলাদেশের কর্মবিভাগ) অংশে সিভিল সার্ভিস – এর প্রজাতন্ত্রের কর্মবিভাগ, নিয়োগের যোগ্যতা, শর্ত, মেয়াদ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রশাসনিক সংস্কারের ধারা-

    পাকিস্তান আমল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এই সিভিল সার্ভিসকে পুনর্গঠিত করার কাজেও সরকার হাত দেয়। এই লক্ষ্যে সরকার প্রশাসনিক ও চাকরি পুনর্গঠন কমিটি (এএসআরসি, ১৯৭২) নামে একটি কমিটি গঠন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম.এ চৌধুরী (মুজাফফর আহমদ চৌধুরী) ছিলেন এই কমিটির প্রধান। চাকরি কাঠামো সম্পর্কে কমিটি ১৯৭৩ সালে প্রদত্ত রিপোর্টে নিম্নোক্ত সুপারিশ করে –

    (ক) সাবেক অল পাকিস্তান সার্ভিস, অন্যান্য কেন্দ্রীয় সুপিরিয়ার সার্ভিস এবং সাবেক প্রাদেশিক সার্ভিসের মধ্যকার পার্থক্য বিলোপ করতে হবে। উচ্চতর ও নিম্নতর শ্রেণীগুলোর মধ্যকার পার্থক্যও বিলোপ করতে হবে এবং প্রত্যেক পেশার গ্রুপে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন গ্রেডিং প্রথা চালু করতে হবে;

    (খ) বিভিন্ন গ্রুপের জন্য পদ সংরক্ষণের বর্তমান ব্যবস্থাও বিলোপ করতে হবে; এবং

    (গ) সকল সিভিল সার্ভেন্টকে একটি একক শ্রেণীহীন গ্রেডিং কাঠামোয় সংগঠিত করতে হবে। সমস্ত সার্ভিস এই কাঠামোর আওতায় থাকবে যেখানে দক্ষতা ও দায়িত্বের বিভিন্ন স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত সংখ্যক ভিন্ন ভিন্ন বেতন স্তর থাকবে এবং প্রতিটি পদের সঠিক গ্রেডিং সেই পদের বিশ্লেষণের দ্বারা নির্ধারিত হবে।

    তবে এই সুপারিশগুলো কার্যকর করা হয় নি।

    প্রশাসনিক সংস্কার বিদ্যমান সরকারি কাঠামো এবং এর কাজের ধরন ঢেলে সাজানো বা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্বাধীনতার পর উত্তরাধিকারসূত্রে বাংলাদেশ যে প্রশাসন ব্যবস্থা লাভ করেছে তা ছিল মূলত উপনিবেশিক ধাঁচের। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তানে ব্রিটিশ প্রশাসনিক ব্যবস্থাই চালু ছিল। পাকিস্তান সরকার এ ব্যবস্থা থেকে বেড়িয়ে আসার তেমন কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করে নি। ফলে প্রশাসনে সাদা সাহেবদের স্থলাভিষিক্ত হন বাদামি সাহেবরা।

    ব্যুরোক্রেসির চ্যালেঞ্জ ও সমাধান-

    স্বাধীনতা লাভের পর বেসামরিক প্রশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিদ্যমান একটি প্রাদেশিক প্রশাসনকে কেন্দ্রীয় প্রশাসনে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে সরকার সমস্যার সম্মুখীন হয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন রেস্টোরেশন কমিটি নামে একটি কমিটি গঠন করে। এ কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয় বিভিন্ন পর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসনের পুনর্গঠন এবং পাকিস্তানের সাবেক কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আত্তীকরণের বিষয় পরীক্ষা করে সে সম্পর্কে পরামর্শ দান করা। এ কমিটি ১৯৭২ সালের ৪ জানুয়ারি একটি অন্তবর্তীকালীন রিপোর্ট পেশ করে। এতে প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের জটিলতা পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টি সাময়িকভাবে অসম্পূর্ণ রাখা হয়। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রাদেশিক সচিবালয়কে জাতীয় সচিবালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। এতে ২০টি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর/বিভাগ ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা রাখা হয়। ১৯৭২-৭৫ সময়কালে সরকার দুটি বড় কমিটি নিয়োগ করে, প্রশাসন ও চাকুরি পুনর্গঠন কমিটি ১৯৭২ এবং ন্যাশনাল পে কমিশন ১৯৭২

    ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়ার শাসনামলে, ১৯৭৬ সালে তিনি নতুন করে সরকারি চাকুরি সংক্রান্ত বিষয় এবং বেতন কাঠামো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সুপারিশ পেশ করতে একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির নাম দেয়া হয় পে অ্যান্ড সার্ভিস কমিশন। গঠিত কমিশন এ মত পোষণ করে যে, সাধারণ শ্রেণি বনাম বিশেষ শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে বদ্ধমূল যে বিতর্ক চলে আসছে তা নিরসনের উপায় হচ্ছে সরকারি চাকুরির অবস্থানগত মানদণ্ডের আমূল পরিবর্তন এবং অভিন্ন বেতনস্কেল ও পদোন্নতির বিধান রাখা। কমিশন আরও যুক্তি প্রদর্শন করে যে, কেবল একটি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এবং অনেক পদ সংরক্ষিত রাখার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক সাধারণ ক্যাডার সৃষ্টি করা উচিত নয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে ২৮ টি ক্যাডার সৃষ্টি হয়, সিনিয়র সার্ভিসেস পুল গঠিত হয় এবং প্রবর্তন করা হয় নতুন জাতীয় গ্রেড ও বেতন স্কেল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য সরকারও সিভিল সার্ভিস ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কারের জন্য উদ্যোগী হয়েছিলেন।

    সংবিধানে সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত বিষয়

    সংবিধানে সিভিল সার্ভিস শব্দটা ব্যবহার করা হয় নি, তবে সকল শ্রেণীর সিভিল সার্ভেন্টকে প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োজিত ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংবিধানের নবম ভাগে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

    নিম্নে সংবিধানের ৯ম ভাগের ১ম ও ২য় পরিচ্ছেদের এই সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো দেওয়া হলঃ

    নবম – অধ্যায়: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ

    প্রথম পরিচ্ছেদ – কর্মবিভাগ

    অনুচ্ছেদ নংবর্ণনা
    অনুচ্ছেদ – ১৩৩নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী
    অনুচ্ছেদ – ১৩৪কর্মের মেয়াদ
    অনুচ্ছেদ – ১৩৫অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি
    অনুচ্ছেদ – ১৩৬কর্মবিভাগ-পুনর্গঠন

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ – সরকারী কর্ম কমিশন

    অনুচ্ছেদ নংবর্ণনা
    অনুচ্ছেদ – ১৩৭কমিশন-প্রতিষ্ঠা
    অনুচ্ছেদ – ১৩৮সদস্য-নিয়োগ
    অনুচ্ছেদ – ১৩৯পদের মেয়াদ
    অনুচ্ছেদ – ১৪০কমিশনের দায়িত্ব
    অনুচ্ছেদ – ১৪১বার্ষিক রিপোর্ট

    এছাড়াও সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের ৪০ নং অনুচ্ছেদে “পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা” তে বলা হয়েছে যে, যোগ্যতা অনুসারে নাগরিকগণ যেকোন পেশা পছন্দ করতে পারবে। এই অনুচ্ছেদটি যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিকদের সিভিল সার্ভিস পেশা পছন্দ করার স্বাধীনতা সম্পর্কিত।

    বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC)

    বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এটি সংবিধানের বিধান অনুসারে, ১৯৭২ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই জন্য ৮ এপ্রিলকে – বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

    বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুসারে, প্রথমাবস্থায় ২ টি পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করে, যা পাবলিক সার্ভিস কমিশন (প্রথম) এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন (দ্বিতীয়) নামে অভিহিত হয়; কিন্তু পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধন এর মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে উভয় কমিশনকে একত্রিত করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন নামে একটিমাত্র কমিশন পদ্ধতি চালু করা হয়। সংবিধানে BPSC সম্পর্কিত অনুচ্ছেদগুলো হলো – ১৩৭ থেকে ১৪১ নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত।

    সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) গঠিত। অনুচ্ছেদে বলা হয় –

    “আইনের দ্বারা বাংলাদেশের জন্য এক বা একাধিক সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠার বিধান করা যাইবে এবং একজন সভাপতিকে ও আইনের দ্বারা যেরূপ নির্ধারিত হইবে, সেইরূপ অন্যান্য সদস্যকে লইয়া প্রত্যেক কমিশন গঠিত হইবে”।

    সংবিধানের ১৪০ নং অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে –

    “(১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হইবে

    (ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদিগকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা;

    (খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোন বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হইলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব-সংক্রান্ত কোন বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হইলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশ দান; এবং

    (গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন।

    (২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন এবং কোন কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের (যাহা অনুরূপ আইনের সহিত অসমঞ্জস নহে) বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন কমিশনের সহিত পরামর্শ করিবেন:

    (ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাহাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;

    (খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হইতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;

    (গ) অবসর ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং

    (ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি”।

    বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন সংক্রান্ত তথ্য:

    • বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কমিশনের কার্যালয় রাজধানী ঢাকার আগারগাও-এ অবস্থিত।
    • বর্তমানে পাবলিক সার্ভিসের ক্যাডার সংখ্যা – মোট ২৬টি। ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর ইকোনমিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে একীভূত করা হয়। এর ফলে ক্যাডার সংখ্যা ২৭ থেকে ২৬ – এ পরিণত হয়। এগুলোর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগর/কারিগরি ক্যাডার।
    • পাবলিক সার্ভিস কমিশন – এর প্রধানের পদবী – চেয়ারম্যান; মেয়াদ – ৫ বছর। কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান – এ. কিউ. এম. বজলুল করিম।
    • বর্তমান চেয়ারম্যান (১৫-তম) – মোবাশ্বের মোনেম।তিনি ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও কমিশনে আরো ১২ জন সদস্য রয়েছেন। কমিশনের ইতিহাসে একমাত্র নারী চেয়ারম্যান – ড. জেড.এন তাহমিনা বেগম।
    বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন

    সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান –

    • বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা Bangladesh Public Administration Training Centre (BPATC) – ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশের পাবলিক সার্ভিসের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। এটি চারটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে –
    • Bangladesh Administrative Staff College (BASC)
    • National Institute of Public Administration (NIPA)
    • Civil Officer’s Training Academy (COTA)
    • Staff Training Institute (STI)

    BPATC – এর অবস্থান – ঢাকার সাভারে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানের পদবী – রেক্টর। বর্তমান রেক্টর – সাঈদ মাহবুব খান।

    • বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি (BCSAA) বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত।

    বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (BPA) – ১৯১২ সালের জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠিত। বিপিএ-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল– মেজর এইচ. চিমনী (Major H. Chamney)। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীণ এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পুলিশ প্রশিক্ষণ একাডেমি। এখানে, পুলিশের এ.এস.পি (বিসিএস), এস.আই/সার্জেন্ট ও কনস্টেবল – দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এটি রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত। এর প্রধান (প্রিন্সিপাল) – এ.আই.জি.পি সমমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।

    বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের প্রকৃতি

    বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিস পুরোপুরি আমলাতান্ত্রিক। সরকারের জনকল্যাণকর নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে জনসেবা নিশ্চিত করা আমলাদের কাজ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর উল্টোটাই ঘটে। তাদের কাজকর্ম অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিক (Formal) করতে গিয়ে জনগণের সমস্যার মানবিক দিকটি উপেক্ষা করে। আমলাতন্ত্রে ‘লালফিতার দৌরাত্ম্য’ (Red Tapism) খুব বেশি। আমলাতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা, দীর্ঘসূত্রিতা, নিয়ম-কানুনের কড়াকড়ি ও বাড়াবাড়ি বোঝাতে এটি ব্যবহার হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে Red Tapism কথাটির প্রচলন ঘটে।

    জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাবে অনুন্নত বিশ্বে আমলাগণ নিজেদেরকে ‘জনগণের সেবক’ মনে না করে ‘জনগণের প্রভু’ মনে করে। দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শাসনই এর জন্য দায়ী। এর ফলে আমলাদের সাথে সাথে সরকারও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    বাংলাদেশে আমলাদের আচরণ আরো মারাত্মক। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনামলে আমলারা যেভাবে নিজেদেরকে ‘জনগনের সেবক না ভেবে প্রভু’ মনে করতেন, বাংলাদেশের আমলাদের মানসিকতা আজও অনেকটা তেমনি আছে। নিজেদেরকে আজও তারা ‘স্বর্গে-সৃষ্ট এক কর্ম ব্যবস্থা’ (a heaven born service) বলে মনে করেন এবং আত্মতুষ্টি লাভ করেন।

    তবে পাকিস্তান আমলের শেষের দিকে বাঙ্গালি আমলাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছিল। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত আইন অমান্য ও অসহযোগ আন্দোলনকে সফল করার জন্য বাঙ্গালি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রায় সকলেই সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অনেক বাঙ্গালি আমলারাই সরাসরি যুদ্ধে ও অনেকেই মুজিবনগর সরকারে যোগদান করে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান হানাদারদের আক্রমণে বহুসংখ্যক বাঙ্গালি সামরিক-আধাসামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকে জীবন হারাতে হয়েছিল।

    স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সামরিক-বেসামরিক শাসকগণ ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি আমলের মত করেই আমলাতন্ত্রকে গড়ে তোলে। এর সাথে পরবর্তীতে যুক্ত হয় – দলীয়করণ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ইত্যাদি। ফলে এখনো সেই ঔপনিবেশিক আমলের মনোভাবসম্পন্ন আমলাতন্ত্র বাংলাদেশে বিদ্যমান। জনগনের চাওয়া-পাওয়া, আবেদন আমলাতন্ত্রের ‘লালফিতার’ বাঁধনে আটকে পড়ে থাকে। সমস্যা-সমাধানে বিধি মোতাবেক যথাযোগ্য নিয়মে (Through Proper Channel) অগ্রসর হতে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং সমস্যা আরো জটিল হয়ে পড়ে। এমনকি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের মূহুর্তেও অনেক সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা, রাজনীতিকীকরণ, ইত্যাদি কারণে আমাদের দেশের আমলাতন্ত্র অনেকটাই বেপরোয়া।

    তবে, আমলাদের মধ্যে এখনো দেশপ্রেম হারিয়ে যায়নি। আমলাদের অনেকেই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে চান, দুর্নীতির নির্মূল চান, জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে সেবা করতে চান। বিগত সময়ের বিভিন্ন ঘটনায় যেমন – প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদি সময়ে মানুষদের রক্ষায় বাংলাদেশের আমলারা দেশে বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে, আমলাদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রতিষ্ঠিত হলে, দেশে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠলে আরো দক্ষতার সাথে, নিবেদিত হয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আমলারা তাদের ভূমিকা রাখতে পারবে।

    বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস

    সচিবালয়

    সচিবালয় দেশের গোটা প্রশাসন ও সরকারি কর্মকান্ডের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। প্রধানত এখানেই সরকারের সকল নীতি নির্ধারণী সংস্থা অবস্থিত। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার ছিল কার্যত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারেরই অবিকল প্রতিরূপ। নির্বাচিত সরকার থাকাকালে প্রাদেশিক মন্ত্রীদের অধীনে কয়েকটি বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত এর একটি সচিবালয় থাকত। স্বাধীনতা লাভের পর বিদ্যমান প্রাদেশিক প্রশাসনিক কাঠামোটি জাতীয় সরকারের প্রশাসনে রূপান্তরিত হয়।

    ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর স্বাধীনতার ঘোষণাবলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং এই সরকারের সদরদপ্তর ছিল মুজিবনগর। অস্থায়ী সরকারের অধীনে কতগুলি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ একটি সচিবালয় ছিল। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশে এই সচিবালয়টি ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।

    ১৯৭২ সালে সাময়িক সংবিধানের ভিত্তিতে অস্থায়ী সরকারের বিলুপ্তি ঘটে এবং তাতে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়। ১৯৭২ সালের জানুয়ারির শেষ নাগাদ সম্প্রসারিত একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হলে ১৯টি মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে সচিবালয়টিও পুনর্গঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৮ ও ৪৬।

    • বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা – ৪৩টি (রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়, সশস্ত্র বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাদে ৩৯টি।)। ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের নামের শেষে ‘মন্ত্রণালয়’ শব্দটি রয়েছে।
    • সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদে অর্পিত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশে কার্যবিধি অনুসারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন নিষ্পন্ন হয়। অধিকন্তু, সরকারি কার্যবিধির ৪(১০) ধারার আওতায় প্রস্ত্তত ‘সচিবালয় নির্দেশাবলী’ নামে আরেকটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে সরকারি কাজকর্ম সম্পাদনের ধরন নির্ধারিত হয়।
    • প্রধানমন্ত্রী নিজে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকেন এবং একজন মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রীর ওপর এক বা একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ক্ষেত্র বিশেষে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিন্নভাবে নির্দেশিত না হলে তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়/বিভাগের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না।
    • সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ পদবী – ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
    • যেকোন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান হলেন – মন্ত্রী।
    • সচিব – হলেন মন্ত্রণালয়/বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি এর প্রশাসন, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও ন্যস্ত যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। তিনি তাঁর মন্ত্রণালয়/বিভাগ, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসসমূহের কার্যবিধি যথাযথভাবে অনুসৃত হচ্ছে কিনা তাও সতর্কতার সঙ্গে তদারক করেন। তিনি মন্ত্রণালয়/বিভাগের কার্যকলাপ সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে অবহিত রাখেন।
    • বিভাগ/মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত নীতিসমূহ সাধারণত কয়েকটি নির্বাহী সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। সেগুলি হলো সংযুক্ত অধিদপ্তর ও অধীনস্থ অফিসসমূহ। সংযুক্ত অধিদপ্তর বলতে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত সংস্থাগুলিই বোঝায়। সংযুক্ত অধিদপ্তরগুলি সাধারণত তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক গৃহীত নীতিসমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাহী নির্দেশনা প্রদান করে।

    উপমহাদেশের পাবলিক সার্ভিসের ইতিহাস

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক ধারা-

    সিভিল সার্ভিস ভারতের ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূল প্রতিষ্ঠান ছিল সিভিল সার্ভিস। ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস ছিল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সরকারের ফসল। কিন্তু ভারতীয় সিভিল সার্ভিস তা ছিল না। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছিল প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৭৬৫-১৮৫৮) এবং পরে ব্রিটিশ রাজের (১৮৫৮-১৯৪৭) উপনিবেশিক রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ও পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে।

    ১৭৮৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভূখন্ডগত মালিকানা প্রধানত ‘সুপারভাইজার’ নামে অভিহিত কোম্পানির স্থানীয় বাণিজ্যিক অফিসারদের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশীয় সংস্থাগুলোর দ্বারা পরিচালিত হতো। কোম্পানির সিভিল সার্ভেন্টদের বলা হতো কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভেন্ট। কোম্পানির শাসনের অবসান পর্যন্ত এবং তারপরও দীর্ঘদিন এ পদবিটি চালু ছিল। এ সার্ভিসের সদস্যরা ভারতে চাকরির জন্য ভারত সচিবের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হতেন বিধায় এ চাকরির নাম হয়েছিল কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিস (সিসিএস)।

    বঙ্গদেশে উপনিবেশিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিষয়াবলি ব্রিটিশ রাজের সনদে নির্দেশিত শর্তাবলি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হতো। সনদের অধীনে কোম্পানি ‘পূর্ব ভারতীয় অঞ্চলে’ স্বীয় কর্মচারীদের উপর ব্রিটিশ রাজের পক্ষ থেকে সার্বভৌম ক্ষমতা ভোগ করত।

    ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম, বধর্মান ও মেদিনীপুরে ভূখন্ডগত অধিকার লাভ এবং পরবর্তীকালে ১৭৬৫ সালে সুবাহ বাংলার উপর দেওয়ানি অধিকার লাভের ফলে ভূখন্ডগত অধিগ্রহণ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো এক ধরনের বেসামরিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামো গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। বঙ্গদেশে ফোর্ট উইলিয়মের প্রেসিডেন্সি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি বিষয়ে বঙ্গদেশে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হয়ে দাঁড়ান। দেওয়ানি প্রশাসন পরিচালনার জন্য তিনি প্রাথমিক পর্যায়ের সিভিল সার্ভিস চালু করেন। এ সিভিল সার্ভিসের প্রধান ছিলেন চার সদস্যের একটি বাছাই কমিটির প্রেসিডেন্ট জন কার্টিয়ার। দেশীয় রাজস্ব সংগ্রাহকদের কাজকর্ম তদারকির জন্য জেলা পর্যায়ে বেশ কয়েকজন ইউরোপীয় সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়। দেশীয় নায়েব দেওয়ান সৈয়দ মোহাম্মদ রেজা খানের অনুষঙ্গ বা সহযোগী শক্তি হিসাবেই কেবল এ অস্থায়ী বা সাময়িক সিভিল সার্ভিস গঠন করা হয়।

    সৈয়দ মোহাম্মদ রেজা খানের নেতৃত্বাধীন দেশীয় সংস্থাগুলোই মূলতঃ কোম্পানির দেওয়ানি প্রশাসন দেখাশোনা করত। এ দেওয়ানি প্রশাসনকে সাধারণভাবে বলা হতো ডায়ার্কি বা দ্বৈতশাসন। নায়েব দেওয়ান ও কোম্পানির মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগির ভিত্তিতেই প্রারম্ভিক পর্যায়ের সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন ক্লাইভ। এ ডায়ার্কি বা দ্বৈত শাসনের ফল হয়েছিল বিপর্যয়কর। এর পরিণতিতে ১৭৬৮-৬৯ সালের মহা মন্বন্তর সৃষ্টি হয়।

    ১৭৭২ সালে ডায়ার্কি বা দ্বৈতশাসনের অবসান হয়। এরপর বঙ্গদেশকে ১৭৭৩ সালের রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলে কোম্পানির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশের ফোর্ট উইলিয়ম ও কাউন্সিলের গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত ওয়ারেন হোস্টিংস রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলে প্রতিষ্ঠিত নয়া আমলাতন্ত্রের প্রধান হয়ে দাঁড়ান। কাউন্সিল নামে অভিহিত চার সদস্যের একটি কমিটি তাকে পরামর্শ ও সহায়তা দিতেন। রেগুলেটিং অ্যাক্ট বলে বঙ্গদেশের জন্য গঠিত ক্ষুদ্র আমলাতন্ত্রিক কাঠামোর শীর্ষে ছিল এ কাউন্সিল। ক্ষমতার স্তর বিন্যাসে এ কাউন্সিলের পরেই ছিল রাজস্ব আদায়কারী দেশীয় জেলা কালেক্টর, যাদের বলা হতো দেওয়ান। তখনও নওয়াবি প্রতিষ্ঠানই বিচারবিভাগের ক্ষমতা প্রয়োগ করত।

    সংক্ষেপে বলতে গেলে প্রথমদিকের উপনিবেশিক রাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস ছিল একদিকে রাজস্ব আদায় এবং অন্যদিকে যুগপৎ ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা। নবগঠিত সিভিল সার্ভিস ছিল এমন এক ব্যবস্থা যার শীর্ষভাগে ছিলেন ইউরোপীয়রা এবং নিম্নস্তরে ছিলেন দেশীয়রা। সকল দেওয়ান বা স্থানীয় পর্যায়ের রাজস্ব প্রশাসকরা ছিলেন দেশীয়। ওয়ারেন হোস্টিংসের প্রশাসনিক ধারণাটির উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানি-রাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিসে দেশীয় লোকদের সম্পৃক্ত করা। তিনি ফৌজদারি প্রশাসনের জন্য সদর নিযামত আদালত গঠন করেন এবং সে আদালত পরিচালনার সুযোগ দেন মূলত দেশীয় বিচারকদের।

    ব্রিটিশ শাসনে আমলাতন্ত্রের বিকাশ-

    ১৭৮৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয় যা সাধারণভাবে পিট্স ইন্ডিয়া অ্যাক্ট নামে অভিহিত। আইনে নতুন সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্দেশ করে কাউন্সিলের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত অথচ জনপ্রিয় জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিসকে নিয়োগ করা হয়। আইনে ভারতের বিষয়াবলির জন্য একটি বোর্ড অব কমিশনার গঠন করা হয় যা সচরাচর বোর্ড অব কন্ট্রোল হিসেবে পরিচিত। এতে থাকতেন রাজা কর্তৃক নিযুক্ত কন্ট্রোলার অব এক্সচেকার, একজন সেক্রেটারী অব স্টেট এবং চারজন প্রিভি কাউন্সিলর

    কর্নওয়ালিস কোডের অধীনে পুনর্গঠিত সিভিল সার্ভিসকে বলা হতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিস। নবগঠিত কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে নয় বরং কোর্ট অব ডিরেক্টরদের এক একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে নিয়োগ করা হতো। বঙ্গদেশে কোম্পানির সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রত্যেক ডিরেক্টরের ক্যাডেট কোটার বিধিবদ্ধ সুবিধা ছিল। সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষানবিশী পর্যায় সম্পন্ন করার পর ক্যাডেটদের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির কালেক্টর হিসেবে ও অন্যান্য নির্বাহী পদে নিয়োগ করা হতো।

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮১৩ সালে তার একচেটিয়া অধিকার আংশিকভাবে এবং ১৮৩৩ সালে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে। ১৮৩৩ সালের আইনবলে কোম্পানি রাজা বা রানীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় একটি সংস্থায় পর্যবসিত হয়। এ আইনে নয়া উদারপন্থী পার্লামেন্ট কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিসে (সিসিএস) চাকরি ও সার্ভিস প্রদানের আদলে দেশীয়দের ক্ষমতার ভাগ দেয়ার অঙ্গীকার করে।

    কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ১৮৫৩ সালের শেষ চার্টার অ্যাক্টের আগ পর্যন্ত কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিসের দ্বার ভারতীয়দের জন্য বন্ধ ছিল। ১৮৫৩ সালের ওই চার্টার অ্যাক্ট বলে সিভিল সার্ভিসে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ বিলোপ করা হয়। ১৮৫৪ সাল থেকে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সিসিএস-এ লোক নিয়োগের ব্যবস্থা চালু হয়ে যায়।

    ১৮৬১ সালের আইনবলে কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিসের নতুন নামকরণ হয় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস)। এটি করা হয় ব্রিটিশ ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ও প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং – এর শাসনামলে। তবে আইসিএস-এ ভারতীয়দের অংশগ্রহণের ব্যাপারটা মোটামুটি অসম্ভবই থেকে যায়। কারণ ভারতীয়দের লন্ডনে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হতো, আর সেটাও করতে হতো অত্যন্ত কম বয়সে এবং তাদের ইংল্যান্ডে দু’বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে থাকতে হতো। আইসিএস পরীক্ষা দেয়ার জন্য ইংল্যান্ড যাওয়া বিপুল খরচের ব্যাপারই শুধু ছিল না, সমুদ্র পাড়ি দেয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিধিনিষেধেরও সম্মুখীন হতে হতো। মুসলমানরা তখনও ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করে নি বলে তারা আইসিএস পরীক্ষা দিতে পারত না।

    ১৮৬৩ সালের আগ পর্যন্ত কোনো ভারতীয় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের সদস্য হতে পারে নি। পরের বছর ১৮৬৪ সালের আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর – ই প্রথম ভারতীয় হিসেবে আইসিএস সদস্য হন।

    সিভিল সার্ভিসে অধিক সংখ্যক ভারতীয়ের যোগদানের সুবিধার্থে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড লিটন (১৮৭৬-১৮৮০) ১৮৭৯ সালে একটি বিধিবদ্ধ সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এই ব্যবস্থায় যেসব পদ আগে কভেন্যান্টেড সিভিল সার্ভিসের অধীনে ছিল তার এক-ষষ্ঠাংশ পদ প্রাদেশিক সরকারগুলোর মনোনীত ব্যক্তিদের দ্বারা পূরণের বিধান রাখা হয়। এ নতুন চাকরিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের অবশ্য কুলীন বংশীয় লোক হতে হতো। এটি ছিল একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যার উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় এলিট শ্রেণীর লোকদের ক্ষমতার ভাগ দেওয়া। কিন্তু এ ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় নি।

    ভারতে আইসিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং সিভিল সার্ভিসে আরোও বেশি সংখ্যায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণের ক্রমবর্ধমান দাবির প্রেক্ষাপটে একটি পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা সরকারি কর্মকমিশন গঠন করা হয়। স্যার সি. আইচিসনকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। সিনিয়র আইসিএস সদস্য ও পাঞ্জাবের প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট গভর্নর আইচিসন একটি পরিকল্পনা উদ্ভাবন করেন যা ১৮৮৯ সালে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত এবং ১৮৯১ সালে বাস্তবায়িত হয়। নয়া পরিকল্পনায় সংবিধিবদ্ধ সিভিল সার্ভিস বিলুপ্ত করা হয়। সরকারের বেসামরিক অফিসারদের তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়,

    • ইম্পেরিয়াল ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস,
    • প্রভিন্সিয়াল সিভিল সার্ভিস ও
    • সাব-অর্ডিনেট সিভিল সার্ভিস।

    প্রথমটির ক্ষেত্রে রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থা আগের মতো ইংল্যান্ডেই রাখা হয়। তবে বলা হয় যে, যেসব ভারতীয় ইংল্যান্ডে গিয়ে লন্ডনে পরীক্ষা দিতে পারবে তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া যাবে। অপর দুই সার্ভিসের ক্ষেত্রে রিক্রুটমেন্টের ব্যবস্থা ভারতেই করা হয়। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আইসিএস পরীক্ষা একই সঙ্গে ইংল্যান্ড ও ভারতে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়।

    ১৯২২ সালে ভারতে ‘ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ এর অধীন ভারতের এলাহাবাদে ও পরে দিল্লীতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়; পাশাপাশি লন্ডনেও পরীক্ষা অনুসষ্ঠিত হতে থাকে।

    ১৯১৯ সালের Government of India Act ও ১৯২৪ সালে লী কমিশন (Lee Commission) এর সুপারিশক্রমে, ১ অক্টোবর, ১৯২৬ সালে ভারতের ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ গঠিত হয়। চেয়ারম্যান ছাড়াও এর আরো ৪ জন সদস্য এর সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হয়।

    সম্প্রদায়গতভাবে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে ভারতের পূর্বাঞ্চলের মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব কার্যত ছিল না বললেই চলে। রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকার ১৯২৫ সালে ভারতীয় ও বঙ্গীয় সিভিল সার্ভিসে কুলীন বংশীয় শিক্ষিত মুসলমানদের মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে খুব সামান্য সংখ্যকই এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পেরেছিল।

    ১৯৩৪ সাল নাগাদ ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে সাতটি সর্বভারতীয় সার্ভিস ও পাঁচটি কেন্দ্রীয় বিভাগ নিয়ে গঠিত ছিল যার সবগুলোই ছিল সেক্রেটারি অফ স্টেটের নিয়ন্ত্রণে এবং অন্যদিকে তিনটি কেন্দ্রীয় বিভাগ ছিল ইম্পিরিয়াল সরকার ও প্রাদেশিক সরকারের যৌথ নিয়ন্ত্রণে। ভারত বিভাগের পর, সিভিল সার্ভিসের অংশ বিশেষের নতুন নামকরণ পাকিস্তানের ক্ষেত্রে করা হয় সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি)। অপরদিকে ভারতীয় অংশের সার্ভিসের নাম পূর্ববর্তী ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসই বহাল থাকে।

    উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের আগের ভারতীয় উপমহাদেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসের সাথে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাস সম্পৃক্ত।

    ১৯৪৭ সাল পরবর্তী অধ্যায়:

    ১৯৪৭ পরবর্তী অধ্যায়ে সিভিল সার্ভিসের উন্নয়নের ধারার বড় ধরনের বৈশিষ্ট্য হলো ১৯৪৭ সালের আগে সিভিল সার্ভিসের যে কাঠামো ও কার্যাবলির অস্তিত্ব ছিল উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাই পরবর্তী সময়ে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। সার্ভিসগুলো পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন সময়ে বহু কমিশন/কমিটি গঠিত হওয়া সত্ত্বেও সেই ঐতিহ্যই চলতে থাকে। বেশিরভাগ গবেষণায় এর কারণ হিসেবে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারদের প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে।

    অন্য কারণগুলোর মধ্যে প্রধান হলো রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও শাসনকার্য পরিচালনার প্রারম্ভিক সাংবিধানিক কাঠামোর অভাব, স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠীসহ পাঁচটি প্রদেশের অস্তিত্ব, যে কারণে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব লাভ করে এবং বিশেষভাবে যে কথাটি উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো অল-পাকিস্তান সার্ভিস পূর্ববর্তী বছরগুলোর ঐতিহ্যের ধারায় গড়ে উঠেছিল

    ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি কাঠামো প্রধান দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল:

    • (ক) সাবেক অল পাকিস্তান সার্ভিস, যেমন সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি), পুলিশ সার্ভিস অব পাকিস্তান (পিএসপি) এবং
    • (খ) সাবেক সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস যার অন্তর্ভুক্ত ছিল পাকিস্তান ফরেন সার্ভিস (পিএফএস), পাকিস্তান অডিট অ্যান্ড একাউন্টস সার্ভিস, পাকিস্তান মিলিটারি অ্যান্ড একাউন্টস সার্ভিস, পাকিস্তান ট্যাক্সেশন সার্ভিস, পাকিস্তান রেলওয়ে একাউন্টস সার্ভিস, পাকিস্তান কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ সার্ভিস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস (সিএসএস), পাকিস্তান মিলিটারি ল্যান্ড অ্যান্ড ক্যান্টনমেন্ট সার্ভিস, পাকিস্তান পোস্টাল সার্ভিস, সেন্ট্রাল ইনফরমেশন সার্ভিস।

    সার্কভুক্ত দেশগুলোর সিভিল সার্ভিস

    সার্কভুক্ত ৮টি দেশের সিভিল সার্ভিসের নাম ও অন্যান্য তথ্যসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে তুলে ধরা হলঃ

    দেশপাবলিক সার্ভিস কমিশনপ্রতিষ্ঠাকালআনুষাঙ্গিক তথ্য
    ভারতইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC)১ অক্টোবর, ১৯২৬ সাল১ জন চেয়ারম্যান ও ৯ জন সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন গঠিত। ৩ ক্যাটাগরিতে (All India Services, Central Services and State Services) ২৪ ধরনের পরীক্ষার আয়োজন করে। ১৯৫০ সালে এটি সংবিধানে বিধিবদ্ধ হয়।
    পাকিস্তানফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশন (FPSC)১৯২৬ সাল১ জন চেয়ারম্যান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত। এটি সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস (CSS) পরীক্ষার আয়োজন করে। ১৯৭৩ সালে সংবিধানের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ হয়।
    বাংলাদেশবাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC)৮ এপ্রিল, ১৯৭২ সালমোট ২৬টি ক্যাডারের (১৪টি সাধারণ ও ১২ টি টেকনিক্যাল) জন্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) পরীক্ষাসহ আরো কিছু পরীক্ষা আয়োজন করে। বর্তমানে ১ জন চেয়ারম্যান ও ১২ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত।
    নেপালপাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)১৫ জুন, ১৯৫১ সাল২০০৭ সালের নেপালি সংবিধান অনুযায়ী নেপাল পাবলিক সার্ভিস কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। ১ জন চেয়ারম্যান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত। সদস্যদের পদের মেয়াদ ৬ বছর।
    ভুটানরয়েল সিভিল সার্ভিস কমিশন (RCSC)১৯৮২ সাল১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত। সর্বশেষ, ২০১০ সালে ভুটান সিভিল সার্ভিস রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করে।
    শ্রীলঙ্কাপাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC)১৫ মে, ১৯৪৬ সাল১৯৭২ সালে সংবিধানের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ হয়। ১ জন চেয়ারম্যান ও ৫ – ৯ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত।
    মালদ্বীপমালদ্বীপ সিভিল সার্ভিস কমিশন (MCSC)২৩ অক্টোবর, ২০০৭ সাল১ জন চেয়ারম্যান, ১ জন ভাইস-চেয়ারম্যান সহ ৫ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠিত।
    আফগানিস্তানIndependent Administrative Reform and Civil Service Commission (IARCSC)প্রতিষ্ঠা – ২৩ মে, ২০০২

    কার্যক্রম শুরু – ১০ জুন, ২০০৩
    ১ জন চেয়ারম্যান ও ৫ জন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত।
    সার্কভুক্ত ৮টি দেশ

    বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের পাবলিক সার্ভিস

    বিশ্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের পাবলিক সার্ভিস ও তার কমিশন নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো –

    যুক্তরাজ্য

    যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিক বা লিখিত সংবিধান নেই। যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিসের নাম – Her Majesty’s Home Civil Service বা Her Majesty’s Civil Service। এটি শুধু Home Civil Service নামেও পরিচিত। যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিসে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা বা ক্রাউন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত হয়। তারা সংসদীয় কর্মকর্তা বা স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তা নয়। Northern Ireland Civil Service যুক্তরাজ্যের Home Civil Service – এর অন্তর্ভূক্ত নয়।

    • যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিস বিশ্বের প্রাচীণতম সিভিল সার্ভিসের একটি। সংসদীয় ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বিশ্বে পরিচিত করার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
    • আগে থেকে প্রচলন থাকলেও আঠার শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রসার ও অর্থনৈতিক বিকাশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সিভিল সার্ভিসকে সুগঠিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। ইংল্যান্ডের রাজা চার্লস ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ অনুদান দেয়। এর ফলে দক্ষ কর্মচারি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৮০৬ সালে কোম্পানি লন্ডনে East India Company College প্রতিষ্ঠা করে।
    • ১৮৫৪ সালে Charles Trevelyan (ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট ও উপনিবেশিক প্রশাসক) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, সুসংগঠিত, দক্ষ সিভিল সার্ভিস গড়ে তোলার ও মেধারভিত্তিতে তাতে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করে। তার সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৮৫৫ সালে সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়।
    • যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিস কমিশনাররা সিভিল সার্ভেন্ট নয় বরং মন্ত্রিপরিষদের সদস্য। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে – সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা। তারা রাজা/রাণী কর্তৃক নিয়োগকৃত ও কাজের ব্যাপারে প্রতিবছর সরাসরি রাজা/রাণীকে রিপোর্ট (জবাবদিহি) করেন।
    • যুক্তরাজ্যের Home Civil Service – এর সর্বোচ্চ পদবী ক্যাবিনেট সেক্রেটারি।
    • যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিস সংক্রান্ত কিছু বিষয় – Permanent Secretaries Management Group (PSMG); Civil Service Steering Board (CSSB) ইত্যাদি।

    যুক্তরাষ্ট্র

    যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস ফেডারেল গভর্নমেন্ট কর্তৃক নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত। সামরিক বাহিনীর পদ ব্যতীত নির্বাহী, বিচারিক ও আইনসভা সংক্রান্ত পদগুলো সিভিল সার্ভিসের আওতায় পড়ে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য এবং স্থানীয় সরকার সত্ত্বাগুলিতে প্রায়শই তুলনামূলক সিভিল সার্ভিস সিস্টেম থাকে যা বিভিন্ন সময় জাতীয় ব্যবস্থায় মডেল করা হয়।

    • যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিসের উত্তরসূরী Advisory Board of the Civil Service ১৮৭১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউলিসিস এস. গ্রান্ট এর সময়ে গঠিত হয়। এই বোর্ডের দায়িত্ব ছিল সিভিল সার্ভিসে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ প্রদান করা। Personnel Management (OPM) এর মতামত অনুসারে, ABCS সিভিল সার্ভিসকে পুনর্গঠনের জন্য কয়েকটি সুপারিশ করেছিলেন।
    • ১৮৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় Pendleton Civil Service Reform Act – 1883 অনুসারে। ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কর্মচারীদের জন্য সদ্য-বাস্তবায়িত মেধাভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতির তদারকি করার জন্য কমিশনটি গঠন করা হয়েছিল।
    • সিভিল সার্ভিস কমিশন ৩ জন সদস্য (কমিশনার) নিয়ে গঠিত। সদস্যদের প্রেসিডেন্ট সিনেটের পরামর্শ ও অনাপত্তির প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রদান করে থাকে। একই পার্টি থেকে দুই জনের বেশি সদস্য নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
    • ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল সার্ভিস কমিশন Civil Service Reform Act অনুসারে পুনর্গঠিত হয়। এই পুনর্গঠনের সময় বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় এবং ৩টি আলাদা সংস্থায় সিভিল সার্ভিস কমিশনকে ভাগ করা হয়। তিনটি সংস্থা হচ্ছে –
      · Office of Personnel Management – বিধিমালা বাস্তবায়ন এবং ফেডারাল এক্সিকিউটিভ ওয়ার্কফোর্স পরিচালনার তদারকি।
      · Merit Systems Protection Board– কর্মসংস্থান সম্পর্কিত শুনানি এবং আবেদনগুলি প্রক্রিয়া করণ।
      · Federal Labor Relations Authority – গাইডলাইন স্থাপন এবং সম্মিলিত দর কষাকষির সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলি সমাধান করণ।
    • যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে সিভিল সার্ভিসের প্রধান পদগুলোতে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রশাসন পরিবর্তনের সাথে সিভিল সার্ভিসের প্রধান পদগুলোতেও পরিবর্তন আসে।

    চীন

    চীনের সিভিল সার্ভিস একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা ঐতিহ্যগতভাবে চীনের সরকারের বেসামরিক কাজ সম্পাদনার জন্য মেধাভিত্তিক প্রতিযোগীতার মাধ্যমে বিয়োগপ্রাপ্ত হন। যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের প্রাচীনতম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো চীনের ইম্পেরিয়াল আমলাতন্ত্র।

    • চীনের প্রথম রাজবংশ কিন রাজবংশের (Qin Dynasty : 221–207 BC) প্রথম কেন্দ্রীভূত চীনা আমলাতান্ত্রিক সাম্রাজ্য ও প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য রাজবংশের শাসনের সময় তা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে ও অধিক সুসংগঠিত হয়।
    • সং সাম্রাজ্য (Song Dynasty – 960–1279) প্রথম যোগ্যতা (jinshi degree) ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়। ১০৬৫ সাল থেকে প্রতি তিন বছর পর পর নিয়মিত পরীক্ষার প্রচলন করা হয়।
    • মিং সাম্রাজ্যের (Ming dynasty – 1368–1644) সময় সিভিল সার্ভিস সিস্টেম চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে কিং সাম্রাজ্যও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে। এই সময় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ নিজের এলাকায় নিয়োগ না পাওয়া, এক স্থানে তিনবছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করা ইত্যাদি নিয়ম অন্তর্ভূক্ত হয়। তাছাড়া, উচ্চপদের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস অন্তর্ভূক্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়।
    • আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টার মাঝে ১৯০৫ সালে কিং রাজবংশ কর্তৃক শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়া হয় এবং পূর্বে বিদ্যমান সিভিল সার্ভিস সিস্টেমটি 1911/12 সালে রাজবংশের সাথে উৎখাত করে দেওয়া হয়েছিল।
    • চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর মূলত বর্তমান রাষ্ট্রীয় সিভিল সার্ভিসের প্রচলন ঘটে। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই সার্ভিসে যোগদান করে।

    চীনে সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়। চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চ বেতনের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে। চীনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা মান্দারিন ভাষায় হয় ‘Guako’

    জাপান

    জাপানের পাবলিক সার্ভিস সেক্টর সেদেশের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা নিয়োগকৃত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দ্বারা গঠিত। এই কর্মকর্তাদের একটি মেধাভিত্তিক প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

    • জাপানের নারা সাম্রাজ্যের (Nara period – 710–784) সময় জাপানের পাবলিক সার্ভিসের সংগঠিত কাঠামো দাঁড়ায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শাসকের শাসনামলে তা পরিমার্জন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে আরো সুংগঠিত হতে থাকে।
    • ১৯৯২ সালে জাপানের সিভিল সার্ভিসের সাথে সম্পর্কিত একটি শ্রেণিকে Elite Bureaucracy – এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। জাপানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অংশ এই Elite Bureaucrat রাই মূলত জাপানের মূল ক্ষমতা উপভোগ করে। Elite Bureaucrat রা জাপানে Kanryo নামে পরিচিত।
    • ১৯৯০ এর দশকে Elite Civil Service এর সংশোধন ও পরিমার্জন হয়। এতে আমলাতন্ত্রের ক্ষমতা হ্রাস করা হয় এবং রাজনীতিবিদদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
    • National Personnel Authority (NPA) জাপানের সিভিল সার্ভিসের প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার আয়োজন করে।
    • কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাপানের সিভিল সার্ভেন্টরা তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। ক্যাটাগরিগুলো হলোঃ
      · এলিট প্রফেশনালস বা বিস্তৃত সেবা প্রদানকারী – নীতি নির্ধারণ ও গবেষণার সাথে জড়িত।
      · সাধারণ সেবা প্রদানকারী – প্রধানত রুটিনকাজ সম্পন্ন করে।
      · বিশেষজ্ঞ বা স্পেশালিস্ট – ট্যাক্স ইন্সপেক্টর, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলার, চিকিৎসক এবং শিক্ষক।

    পাবলিক সার্ভিস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ দিবস:

    • ৮ এপ্রিল: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন দিবস।
    • ২৩ জুন: আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবস।
    • ২৩ জুলাই: জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস।

    উপসংহার

    সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে। এর কারণ হিসেবে সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা, মর্যাদা ও ক্ষমতা, উচ্চ বেতন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে চাকরি হারানোর ভয়, সামাজিক চাপ বা ব্যক্তিগত ইচ্ছাও রয়েছে।

  • ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    প্রিয় চাকরি প্রত্যাশীগণ, Live MCQ এর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত এই লেখায় আপনাকে স্বাগতম। আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, গত ১৪ মার্চ ২০২৪ তারিখে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের বিশাল এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের সংখ্যা ৩০১৭ টি।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের চাকরিগুলো সকল চাকরি প্রত্যাশীদের কাছে অনেক আকর্ষনীয়। একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারলে আপনি ৩০১৭ পদের মধ্যে যেকোনো পদে নিয়োগ পেতে পারেন। এই লেখাটি সম্পূর্ণ পড়লে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে শুরু করবেন, পরীক্ষার ধরন, সিলেবাস ও মানবণ্টন, আবেদনের চয়েজ লিস্ট, কোন পদের কি কাজ, কিভাবে পড়লে ভালো ফলাফল করবেন, কোন কোন বই পড়বেন— এসব বিষয়সহ বিস্তারিত সকল খুঁটিনাটি জানতে পারবেন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভেবে শুরু করবেন

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনের নিয়ম:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন ফরম পূরণের জন্য http://dlrs.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত পদ বাছাই করে প্রার্থীর ব্যাক্তগত ও শিক্ষাগত তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরম পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে User ID প্রাপ্ত প্রার্থীগণ টেলিটক প্রিপেইড মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন।

    তবে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের এই নিয়োগে ৩০১৭ জনের বিশাল সংখ্যক পদ থাকায় আবেদনকারীদের মধ্যে একাধিক পদের জন্য একত্রে আবেদন করার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছে। অতীতে এই ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় একই দিনে একই সময়ে অনেকগুলো পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা গিয়েছে বিধায় সঠিক ভাবে পদ বাছাই না করে আবেদন করলে প্রার্থীরা তাদের একাধিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ হারাতে পারেন।

    আসুন দেখে নেওয়া যাক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার পদগুলোর চয়েজ লিস্ট কীভাবে সাজালে কোন পদের পরীক্ষাই আপনার হাতছাড়া হবে না সেটি। কিভাবে চয়েস লিস্ট টি সাজাবেন তাও দেখে নেওয়া যাক।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ আবেদনের পদগুলোর চয়েজ লিস্ট:

    সাধারণত বড় সংখ্যক পদের চাকরির নিয়োগ গুলোতে প্রার্থীদের একাধিক পদে আবেদনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগের ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। যেহেতু এই ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক পদের নিয়োগ পরীক্ষা একই দিনে এবং একই সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই একাধিক পদের আবেদন করতে গেলে আপনাদের কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে বিভিন্ন পদের কাজ, পদ সংখ্যা, প্রতিযোগিতা, সুযোগ সুবিধা, পদোন্নতি এবং অবশ্যই ব্যাক্তিগত পছন্দ এবং পারদর্শীতার উপর নির্ভর করে একজন প্রার্থী একাধিক পদে আবেদন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

    সবগুলো বিষয় বিবেচনা করে নিম্নের পদগুলো প্রার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পদগুলো হলঃ

    • খারিজ সহকারী
    • পেশকার
    • রেকর্ড কিপার
    • কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী
    • যাঁচ মোহরা

    তবে একাধিক পদের পরীক্ষাগুলো একসাথে একই সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় একজন প্রার্থীকে একটি বেতন স্কেলের একটি মাত্র পদেই আবেদন করার জন্য আমরা পরমার্শ দিয়ে থাকি।

    তবে যেসব টেকনিক্যাল পদের পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও অংশগ্রহণ করতে হবে সেই পরীক্ষাগুলোতে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ প্রার্থীদেরই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে পদ সমূহের পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে হবে তা আমরা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ধরন অংশে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের কাজ আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার আগে প্রার্থীকে বিভিন্ন পদের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা, পদোন্নতি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। যে পদের জন্য আবেদন করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছেন তা সম্পর্কে ধারনা নেওয়া ও এক ধরনের প্রস্তুতি। আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা, বেতন স্কেল সম্পর্কৃত সকল তথ্য।

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার ভূমি প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। তিনি ভূমি সংক্রান্ত জরিপ, মানচিত্র সংশোধন, ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও হালনাগাদ, এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকেন। মূলত, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ভূমি জরিপ ও সেটেলমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করাই তার প্রধান দায়িত্ব।

    কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোন বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা কোন স্বীকৃত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত ইন্সটিউট বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনূন্য ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সার্ভেয়িং টেকনোলজি) ডিগ্রী থাকলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদে আবেদন করা যাবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কানুনগো/ উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    এছাড়া কানুনগো/ উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসারগনের জৈষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে কারিগরি উপদেষ্টা পদে এবং ১০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, ৭ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক (প্রিন্টিং) অথবা সহকারী পরিচালক (জরিপ) পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    সার্ভেয়ারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    সার্ভেয়ার হচ্ছেন একজন জরিপকারী। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একজন সার্ভেয়ার সাধারণত জমি সংক্রান্ত পরিমাপের কাজে ভূমি জরিপ করে থাকেন। প্রচলিত ভাষায় ভূমি সার্ভেয়ার কে আমিন বলে ডাকা হয়।

    কোন স্বীকৃত ইন্সটিটিউট বা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভেইং টেকনোলজি এর উপর ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার পদে আবেদন করা যাবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১৪তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    এছাড়া সার্ভেয়ার পদে ৮ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কানুনগো/ উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    ট্রাভার্স সার্ভেয়ারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    কোন মৌজার নকশা সম্পুর্ণ নতুন করা এবং মৌজার কাঠামো স্থাপন করাই ট্রাভার্স সার্ভেয়ারের কাজ। কোন স্বীকৃত ইন্সটিটিউট বা প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভেইং টেকনোলজির উপর ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী থাকলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সার্ভেয়ার পদে আবেদন করা যাবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ট্রাভার্স সার্ভেয়ার পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১৫ তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    ট্রাভার্স সার্ভেয়ার পদে অনূন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কানুনগো/ উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    সার্ভেয়ার বা আমিন জমির পরিমাপ করার পর এই পরিমাপের উপর ভিত্তি করে নকশা প্রস্তুত করাই একজন ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপারের কাজ।

    কোন স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অনুন্য দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হলে এবং কোন কোন স্বীকৃত ইন্সটিটিউট বা প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ড্রাফটিং ট্রেড কোর্স থাকলে ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপারের পদে আবেদন করতে পারবেন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপার পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১৫তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপার পদে অনূন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কানুনগো/ উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    নাজির কাম ক্যাশিয়ারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি অফিসে নাজিরের কাজ মূলত হিসাব রক্ষকের। ভূমির খাজনা ও বিভিন্ন লেনদেন সংক্রান্ত অর্থের হিসাব রাখাই নাজির কাম ক্যাশিয়ারের কাজ। বর্তমানে অনলাইনেই ভূমির খাজনা পরিশোধ করা গেলেও সেগুলোর হিসাব রাখেন মূলত ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার পদে থাকা এই ব্যাক্তি।

    কোন স্বীকৃত বোর্ড হতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ উত্তীর্ণ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন ২০টি ইংরেজি ও ২০টি বাংলা শব্দ লিখতে পারা নাজির কাম ক্যাশিয়ার পদের আবেদনের যোগ্যতা।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নাজির কাম কম্পিউটার পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। নাজির কাম ক্যাশিয়ারের পদে অনূন্য ৭ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    পেশকারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আদালতে বিচারকের কাছে যে কর্মচারি কাগজপত্র উপস্থাপন এবং রক্ষা করে তিনিই মূলত পেশকার। সাধারণত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহকারী হিসেবে কাজ করাই পেশকারের কাজ।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন ২০টি ইংরেজি ও ২০টি বাংলা শব্দ লিখতে পারা পেশকার পদের আবেদনের যোগ্যতা।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পেশকার পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    রেকর্ড কিপারের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    প্রতিটি ভূমি অফিসেই একটি রেকর্ড রুম থাকে যেখানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি এবং কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়। এই রেকর্ড রুমের দলিলাদি ও কাগজপত্র সংরক্ষণ ও দেখাশোনা করাই মূলত রেকর্ড কিপারের কাজ।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতাই রেকর্ড কিপার পদের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের রেকর্ড কিপার পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    খারিজ সহকারীর কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের খারিজ সহকারী একটি গুরুত্বপুর্ণ পদ। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের খারিজ সহকারীর কাজ হচ্ছে জমির খারিজ সংক্রান্ত আবেদনগুলো গ্রহণ করা, জমি খারিজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো যাচাই বাছাই করা এবং খারিজের সার্টিফিকেট প্রদান করা।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন ২০টি ইংরেজি ও ২০টি বাংলা শব্দ লিখতে পারা কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী পদের আবেদনের যোগ্যতা।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের খারিজ সহকারী পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    যাঁচ মোহরার কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ভূমি সেটেলমেন্ট অফিসে যাঁচ মোহরা কাজ করে থাকেন।যাঁচ মোহরা শব্দের অর্থ জানলেই এই পদের কাজ সম্পর্কে একটি ধারনা পাওয়া যায়। যাঁচ মোহরা শব্দের অর্থ লেখক। অর্থাৎ একজন যাঁচ মোহরার প্রধান কাজ লেখালেখি করা। ভূমি সেটেলমেন্ট অফিসে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত মামলার ভুলভ্রান্তি ছাড়া সকল তথ্য তৈরি করাই একজন যাঁচ মোহরার কাজ।

    উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা যাঁচ মোহরা পদের আবেদনের যোগ্যতা।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের যাঁচ মোহরা পদটি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারীর কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে, প্রত্যেকটা আদালতের মতো ভূমি অফিসেরও নিজস্ব আদালত রয়েছে। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পেশকার উভয় পদ রয়েছে। ভূমি অফিসের বিচারক এবং পেশকারের সহকারী হিসেবে যিনি লেখালেখির কাজ করেন তিনিই কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী।

    সাধারণত মামলার নথি বিচারকের সামনে পেশ করা, এক্সিকিউটিভ কোর্টে মামলার তারিখ দেখা, নথির কিছু অংশ লেখা, নথি ঠিকঠাক রাখা, মোবাইল কোর্টে জরিমানার রশিদ লেখা, অভিযোগপত্র ও জব্দ তালিকার নথি রাখা, বিচারকের হুকুম অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পাদন করা, কিছু আইন কানুন জানা, আদালতের সার্বিক পরিস্থিতি বজায় রাখা এগুলোই একজন কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারীর কাজ।

    উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় বিভাগ বা সমমানের জিপিএসহ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন ২০টি ইংরেজি ও ২০টি বাংলা শব্দ লিখতে পারা কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী পদের আবেদনের যোগ্যতা।

    কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১৬ গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    অফিস সহায়কের কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অফিস সহায়কের কাজ হল অফিসের আসবাবপত্র, রেকর্ডসমূহ সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা ও পরিচ্ছন্ন রাখা, অফিসের ফাইল ও কাগজপত্র কারও কাছে পৌঁছানো বা অন্য অফিসে পৌঁছে দেওয়া এই কাজগুলোই মূলত অফিস সহায়কের কাজ। মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই এই পদের জন্য আবেদন করা যায়।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক পদটি সরকারি বেতন স্কেল ২০তম গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত।

    অফিস সহায়ক পদে অনূন্য ৩ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে টিন্ডেল, রেকর্ড সাপ্লাইয়ার অথবা প্রসেস সার্ভার পদে এবং অনূন্য ৭ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যাঁচ মোহরার অথবা বুক বাইন্ডার পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    চেইনম্যান এর কাজ, আবেদনের যোগ্যতা ও বেতন:

    ভূমি জরিপ চলাকালীন সময়ে যিনি সার্ভেয়ার থাকেন প্রচলিত ভাষায় যাকে আমিন বলা হয় তাঁর সহযোগী হিসেবে চেইনম্যান কাজ করে। সার্ভেয়ার বা আমিন যখন জমি পরিমাপ করতে যায় তখন তাঁর সাথে ২ জন চেইনম্যান থাকে। মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই এই পদের জন্য আবেদন করা যায়।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের চেইনম্যান পদটি সরকারি বেতন স্কেল ২০তম গ্রেডের অন্তর্ভূক্ত। চেইনম্যান পদে অনূন্য ৭ বছরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যাঁচ মোহরার পদে পদোন্নতি লাভ করা যায়।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ধরন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার ধরন

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ অনুযায়ী এই অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়োগের পরীক্ষাগুলো সাধারণত ৩ টি ধাপে হয়ে থাকে। যথাঃ

    • লিখিত পরীক্ষা
    • মৌখিক পরীক্ষা
    • এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ অধিদপ্তরে কর্মচারি নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ অনুযায়ী সকল পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্যই চাকরি প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে বিশেষ কিছু টেকনিক্যাল পদের জন্য প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে প্রিলি, রিটেন ও ভাইভা হয়ে থাকে।

    শুধুমাত্র লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যেসব পদের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ এর তফসিল ২, তফসিল ৩, তফসিল ৪ এবং তফসিল এবং তফসিল ৬ এ বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী নিম্নে উল্লেখিত পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের শুধুমাত্র লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পদগুলো হল –

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার, সহকারী জরিপ অফিসার, সাব-সার্ভেয়ার, কম্পিউটার, জিংক কারেক্টর, বাউন্ডারি আমিন, সহকারী রেকর্ড কিপার, লাইব্রেরিয়ান, স্টোর কিপার, ডেসপাচার, বুক বাইন্ডার, গ্রেইনার, অফিস সহায়ক এবং ম্যাপ কাউন্টার।

    উল্লেখ্য যে উপরে বর্ণিত পদ সমূহে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় পৃথকভাবে পাশ করতে হবে। এবং মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% নম্বর পেয়ে পাশ করতে হবে।

    লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি যেসব পদের প্রার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ এর তফসিল ৫-এ বর্ণিত নিম্নে উল্লেখিত টেকনিক্যাল পদসমূহের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে হবে। পদগুলো হল –

    হিসাব সহকারী, ড্রাফটসম্যান, ক্যামেরাম্যান, প্রিন্টার, ফটোম্যান, এবং মেকানিক।

    উল্লেখ্য, এই ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রার্থীকে স্বতন্ত্রভাবে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০% নম্বর পেয়ে পৃথকভাবে পাশ করতে হবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদসমূহের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে ধারনা থাকা জরুরি।

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ক্ষেত্রে-

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদের নিয়োগ প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলায় ২৫ নম্বর, ইংরেজিতে ২৫ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) ২৫ নম্বর, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান ২৫ নম্বর সহ সর্বমোট ১০০ নম্বর থাকে। উক্ত পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ১ ঘন্টা।

    লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে-

    কানুনগো/উপ-সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার পদের নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ৫০ নম্বর, ইংরেজিতে ৫০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞান ৪০ নম্বর, গণিত ও মানসিক দক্ষতা ৬০ নম্বর সহ সর্বমোট ২০০ নম্বর থাকে। উক্ত পদের লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় থাকবে ৪ ঘন্টা।

    উল্লেখ্য যে, বর্তমানে পিএসসি উক্ত পদে নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    সহকারী জরিপ অফিসার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    (ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিধিমালা অনুসারে)

    সহকারী জরিপ অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২০ নম্বর, ইংরেজিতে ২০ নম্বর, গণিতে ১৫ নম্বর, সাধারণ জ্ঞানে ১৫ নম্বর, এবং বিষয়ভিত্তিক ২০ নম্বর সহ সর্বমোট ৯০ নম্বর থাকে। মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর সহ উক্ত পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সর্বমোট নম্বর ১০০। উল্লেখ্য, উক্ত পদের লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় থাকে ৯০ মিনিট।

    তবে, সাম্প্রতিক সময়ে পিএসসি নন-ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে।

    সাব-সার্ভেয়ার, কম্পিউটার, জিংক কারেক্টর, বাউন্ডারি আমিন, সহকারী রেকর্ড কিপার, লাইব্রেরিয়ান, স্টোর কিপার, ডেসপাচার পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    সাব-সার্ভেয়ার, কম্পিউটার, জিংক কারেক্টর, বাউন্ডারি আমিন, সহকারী রেকর্ড কিপার, লাইব্রেরিয়ান, স্টোর কিপার, ডেসপাচার পদের লিখিত পরীক্ষায় বাংলায় ২০ নম্বর, ইংরেজিতে ২০ নম্বর, গণিত ও পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর সহ সর্বমোট ৯০ নম্বর থাকে। মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর সহ উক্ত পদ সমূহের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সর্বমোট নম্বর ১০০।

    উল্লেখ্য, উক্ত পদ সমূহের লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় থাকে ৯০ মিনিট।

    হিসাব সহকারী, ড্রাফটসম্যান, ক্যামেরাম্যান, প্রিন্টার, ফটোম্যান, এবং মেকানিক পদের পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    হিসাব সহকারী, ড্রাফটসম্যান, ক্যামেরাম্যান, প্রিন্টার, ফটোম্যান, এবং মেকানিক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলায় ২০ নম্বর, ইংরেজিতে ২০ নম্বর, গণিত ও পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৩০ নম্বর, সাধারণ জ্ঞানে ২০ নম্বর সহ সর্বমোট ৯০ নম্বর থাকে। মৌখিক পরীক্ষায় ১০ নম্বর সহ উক্ত পদ সমূহের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য সর্বমোট নম্বর ১০০।

    উল্লেখ্য, উক্ত পদ সমূহের লিখিত পরীক্ষার জন্য সময় থাকে ৯০ মিনিট। এবং এই পদগুলোর জন্য প্রার্থীকে ব্যাবহারিক পরীক্ষায় স্বতন্ত্রভাবে উত্তীর্ণ হতে হয়।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    যেহেতু ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নের ধরন এক কোথায় প্রকাশ টাইপ এমসিকিউ এবং লিখিত এই দুই ধরনের প্রশ্নের সমন্বয়ে হয়ে থাকে। সেহেতু ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পরীক্ষার্থীকে ২ ধরনের প্রশ্নের জন্যই প্রস্তুতি নিতে হবে।

    বিগত সালের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং সিলেবাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ভালো করতে হয়।

    বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে এই বিষয় গুলোর মধ্যে কোন টপিক গুলো গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে তা জানা খুব জরুরী। আসুন দেখে নেওয়া যাক ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে কোন বিষয়ের কোন টপিক গুলো অধিক গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বাংলা অংশের ব্যাকরণ থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন এই নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে এসে থাকে। তাই বাংলা অংশে ভালো করার জন্য বাংলা ব্যকরণ অংশে জোর দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।

    বাংলা ব্যাকরণ অংশে ধ্বনি ও ধ্বনি পরিবর্তন, সন্ধি বিচ্ছেদ, কারক, সমাস, বাগধারা, এক কথায় প্রকাশ, রূপতত্ব, বাক্য শুদ্ধিকরণ, বাক্য রচনা – এই বিষয়গুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নিলে বাংলা ব্যাকরণ অংশে ভালো করা যায়।

    সকল চাকরির বাংলা ব্যকরন অংশের প্রস্তুতির জন্য Live Publication এর Live MCQ বাংলাবিদ ব্যকরণ বই টি অনুসরণ করতে পারেন।

    বাংলা লিখিত অংশের জন্য ভাব-সম্প্রসারণ, পত্র লিখন, অনুবাদ এই বিষয়গুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নিলে লিখিত অংশে ভালো করা যায়।

    এছাড়া বাংলা সাহিত্য অংশে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম এবং সাহিত্যিকদের নাম থেকেও প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।

    Live Written অ্যাাপের Study Section অংশের PDF Section বাটনে বাংলা লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভাব সম্প্রসারণ এবং অনুবাদ অংশের প্রস্তুতি নিতে পারেন।

    এছাড়া বাংলা ব্যাকরণের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ অ্যাাপের Study Section অংশের Video Section বাটনে বাংলাবিদ ব্যাকরণ অংশ থেকে পরীক্ষার্থীরা এই টপিকগুলো সিলেক্ট করে আমাদের অভিজ্ঞ মেন্টরদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার ইংরেজি অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষায় আসা বিগত সালের প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করলে ইংরেজির গ্রামার অংশ থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। পাশাপাশি ইংরেজি লিখিত অংশ থেকেও এই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে।

    তাই ইংরেজি অংশে ভালো করার জন্য ইংরেজি গ্রামার অংশ এবং লিখিত অংশে জোর দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।

    ইংরেজি গ্রামার অংশের Right form of Verb, Number, Gender, Transformation of sentence, Voice, Narration, Synonym & Antonym, Preposition, Make sentences, Fill in the blanks with suitable word, Word meaning, Spelling Correction – এই টপিক গুলোর উপর ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিলে ইংরেজি গ্রামার অংশে ভালো করা সম্ভব।

    ইংরেজি গ্রামার অংশের প্রস্তুতির জন্য Live Publication এর Live MCQ English Wizard Grammar বই টি অনুসরণ করতে পারেন।

    এছাড়া Live MCQ অ্যাাপের Study Section অংশের Video Section বাটনে English Wizard অংশ থেকে পরীক্ষার্থীরা এই টপিকগুলো সিলেক্ট করে আমাদের অভিজ্ঞ মেন্টরদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    ইংরেজি লিখিত অংশের প্রস্তুতির জন্য Free hand writing, Paragraph writing, Letter, Translation এই অংশগুলোতে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব সহকারে অনুশীলন করতে হবে।

    ইংরেজি লিখিত অংশের Translation বা অনুবাদ টপিকের প্রস্তুতির জন্য Live Written অ্যাপের Exam Section এ থাকা ব্যাংক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি অংশ থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার গণিত অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় গণিত অংশের নির্দিষ্ট কিছু টপিকের উপর ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিলে এই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায়।

    বিগত সালে বহুলবার পরীক্ষায় আসা গণিত অংশের টপিক গুলো হল –

    পাটিগণিত: বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু, গ.সা.গু, বর্গমূল, শতকরা, লাভ ক্ষতি, সুদ-কষা, অনুপাত ও সমানুপাত, বয়স সংক্রান্ত, ঐকিক নিয়ম,

    বীজগণিত: – উৎপাদক, মান নির্ণয়

    জ্যামিতি: পরিমিতি ও জ্যামিতি।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের গণিত লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর সাধারণ গণিত বইটি অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়া Live MCQ অ্যাাপের Study Section অংশের Video Section বাটনে থাকা Math Master অংশ থেকে পরীক্ষার্থীরা এই টপিকগুলো সিলেক্ট করে আমাদের অভিজ্ঞ মেন্টরদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার সধারন জ্ঞান অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে সাধারণ জ্ঞাণ অংশের নির্দৃষ্ট কিছু টপিক থেকে বার বার প্রশ্ন আসে। এই টপিক গুলোতে ভালো ভাবে প্রস্তুতি নিলে সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো ফলাফল করা যায়।

    সাধারণ জ্ঞান অংশ থেকে বহুল বার পরীক্ষায় আসা টপিক গুলো হচ্ছে –

    বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, আয়তন, সীমানা, নদ-নদী; ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ও কর্ম, বাংলাদেশের অর্থনীতি, তথ্য ও প্রযুক্তির সাধারণ বিষয়সমূহ, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, দেশ ও মহাদেশ পরিচিতি, পুরস্কার ও খেলাধুলা, সাম্প্রতিক গুরত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ।

    Live MCQ অ্যাাপের Study Section এর Video Section বাটনে থাকা GKPedia – বাংলাদেশ বিষয়াবলি, GKpedia – আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা, ICT Expert, Weekly Bulletin অংশ থেকে পরীক্ষার্থীরা এই টপিকগুলো সিলেক্ট করে আমাদের অভিজ্ঞ মেন্টরদের ক্লাসে অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবেন।

    এছাড়া Live MCQ ফেসবুক পেইজে নিয়মিত প্রচারিত Daily NewsPicker এবং সাপ্তাহিক Weekly Bulletin অনুসরণ করে সাধারণ জ্ঞান অংশের জন্য নিখুত প্তস্তুতি নিতে পারেন। এছাড়াও Live MCQ অ্যাাপে মাসিক সাম্প্রতিক সমাচার, বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার এবং সালতামামি তো থাকছেই।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার পদ সংশ্লিষ্ট অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিগত সালগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে সবগুলো পদের নিয়োগ পরীক্ষায় পদ সংশ্লিষ্ট ১০ নম্বর থাকে। পদ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোতে ভালো করার জন্য পরীক্ষার্থীকে বিগত সালে আসা পদ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর সামাধান করতে হবে এবং এই প্রশ্নগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থী যে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন সেই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো পড়তে হবে।

    আশাকরি এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আসা ১০ নম্বরের জন্য আপনার বাড়তি পরিশ্রম করতে হবে না।

    এছাড়া ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর সহ ১১তম – ২০তম গ্রেডের সকল চাকরির ক্যারিয়ার গাইডলাইন সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য Live MCQ বা Live Written ফেসবুক পেজে ম্যাসেজ করলে অথবা পেজে থাকা ফোন নম্বরে কল করলে আমাদের টিম থেকে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করা হবে।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে যে বইগুলো অবশ্যই পড়তে হবে

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আপনাকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে জানতে হবে। ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বিগত সালের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নগুলো অ্যানালাইসিস করলে দেখা যায় যে, এই পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের প্রশ্নের প্যাটার্নে হয়ে থাকে।

    বাজারের প্রচলিত যেকোন নির্ভরযোগ্য ভালোমানের ১১তম-২০তম গ্রেডের নিয়োগ গাইড এবং ১১তম-২০তম গ্রেডের লিখিত পরীক্ষার জব সল্যুশন অনুসরণ করলে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে একটা ভালো ধারনা পাওয়া যায়।

    বিষয়ভিত্তিক গণিত প্রস্তুতিত জন্য ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বই থেকে গণিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এবং বাংলা ব্যকরণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির ব্যকরণ বই থেকে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেন।

    এছাড়া বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য বিভিন্ন পাবলিকেশনের বইগুলো অনুসরণ করতে পারেন। যেমন English Wizard বই এর নতুন নতুন Term এবং Technique ব্যবহার করে Grammar কে আরো সহজ, মনে রাখার উপযোগী ও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ইংরেজি গ্রামার অংশের প্রস্তুতির জন্য Live MCQ English Wizard Grammar বই টি অনুসরণ করলে আপনার ইংরেজি প্রস্তুতি হবে আরও সহজ। পাশাপাশি ইংরেজি গ্রামার অংশের প্রস্তুতির জন্য Live MCQ English Wizard Grammar বই টি অনুসরণ করলে আপনার ইংরেজি প্রস্তুতি হবে আরও সহজ।

    Live MCQ English Wizard Grammar Book

    দেখে নিন যা যা থাকছে Live MCQ English Wizard Grammar বইটিতে।

    বইয়ের পাশাপাশি আপনি Live MCQ App এবং Website এ Live MCQ English Wizard Grammar বই সম্পর্কৃত Full Video Tutorials ক্রমান্বয়ে আপলোড করা হচ্ছে।

    ঘরে বসে ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি:

    ঘরে বসে ভূমি ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডের সকল চাকরির প্রস্তুতি নিতে আপনার সহযোগী হতে পারে Live MCQ এবং Live Written মোবাইল অ্যাাপ।

    Live Written এর এক্সপার্ট প্যানেলের ১০৪ জন অভিজ্ঞ পরীক্ষক দ্বারা ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে একবার লিখিত খাতা মূল্যায়ন, অভিজ্ঞ মেন্টরদের ক্লাস, পিডিএফ লেকচার শীট, Peer to Peer P2P Review সহ আরও অনেক ফিচার যেকোন চাকরির নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতিকে করবে আরও সহজ।

    রচনা, ভাব-সম্প্রসারণ, Letter, Essay Writing সহ লিখিত অংশের প্রস্তুতি নিতে পারবেন একটি অ্যাাপেই। এছাড়াও যেকোন সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রয়েছে আমাদের হেল্পলাইন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য Live MCQ অ্যাাপের অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলীর ক্লাস তো থাকছেই।

    হাজারো প্রতিযোগীর সাথে ঘরে বসেই দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ চাকরির প্রস্তুতি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, NTRCA, Bar Council, BJS -সহ সকল চাকরির প্রস্তুতির জন্য Live MCQ এবং Live Written অ্যাপ টি ইনস্টল করুন।

    ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ:

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা কোথায় হয়?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে।

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগে মেয়েরা আবেদন করতে পারবে?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেহেতু প্রার্থীর কোন লিঙ্গ উল্লেখ করা নেই সেহেতু নারী পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন।

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগে পোস্টিং কোথায় হয়?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগের পোস্টিং বা পদায়ন প্রার্থীর নিজের জেলাতেই হয়ে থাকে।

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা কি এমসিকিউ নাকি লিখিত?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো লিখিত, মৌখিক বা ভাইভা এবং ব্যবহারিক এই ৩ টি ধাপে হয়ে থাকে। এর মধ্যে শুধুমাত্র টেকনিক্যাল পদগুলোর জন্য ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়।

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগে একাধিক পদে আবেদন করা যাবে?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের নিয়োগে একাধিক পদের জন্য একজন প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু একই গ্রেডের একাধিক পদের নিয়োগ পরীক্ষা একই দিনে একই সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রশ্নঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সবগুলো পদের পরীক্ষা কি একসাথে হবে?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সবগুলো পদের পরীক্ষা একসাথে হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও একই গ্রেডের বিভিন্ন পদের পরীক্ষা একই দিনে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রশ্নঃ পেশকার এর কাজ কি?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আদালতে বিচারকের কাছে যে কর্মচারি কাগজপত্র উপস্থাপন এবং রক্ষা করে তিনিই মূলত পেশকার। সাধারণত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহকারীকেই পেশকারের কাজ।

    প্রশ্নঃ ট্রাভার্স সার্ভেয়ারের কাজ কি?

    উত্তরঃ কোন মৌজার নকশা সম্পুর্ণ নতুন করা এবং মৌজার কাঠামো স্থাপন করাই ট্রাভার্স সার্ভেয়ারের কাজ

    প্রশ্নঃ ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপারের কাজ কি?

    উত্তরঃ সার্ভেয়ার বা আমিন জমির পরিমাপ করার পর এই পরিমাপের উপর ভিত্তি করে নকশা প্রস্তুত করাই একজন ড্রাফটসম্যান কাম এরিয়া এস্টিমেটর কাম সিট কিপারের কাজ।

    প্রশ্নঃ রেকর্ড কিপারের কাজ কি ?

    উত্তরঃ ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি এবং কাগজপত্র সংরক্ষণ করাই রেকর্ড কিপারের কাজ।

    প্রশ্নঃ খারিজ সহকারীর কাজ কি?

    উত্তরঃ জমির খারিজ সংক্রান্ত আবেদনগুলো গ্রহণ করা, জমি খারিজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো যাচাই বাছাই করা এবং খারিজের সার্টিফিকেট প্রদান করাই খারিজ সহকারীর কাজ।

    প্রশ্নঃ নাজির কাম ক্যাশিয়ার এর কাজ কি?

    উত্তরঃ ভূমি অফিসের হিসাব রক্ষকের কাজ করেন নাজির কাম ক্যাশিয়ার। ভূমির খাজনা ও বভিন্ন লেনদেন সংক্রান্ত অর্থের হিসাব রাখাই নাজির কাম ক্যাশিয়ারের কাজ।

    প্রশ্নঃ যাঁচ মোহরার কাজ কি?

    উত্তরঃ যাঁচ মোহরা শব্দের অর্থ লেখক। অর্থাৎ একজন যাঁচ মোহরার প্রধান কাজ লেখালেখি করা। ভূমি সেটেলমেন্ট অফিসে বিভিন্ন জমি সংক্রান্ত মামলার ভুলভ্রান্তি ছাড়া সকল তথ্য তৈরি করাই একজন যাঁচ মোহরার কাজ।

    প্রশ্নঃ সার্ভেয়ার এর কাজ কি?

    উত্তরঃ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের একজন সার্ভেয়ার সাধারণত জমি সংক্রান্ত পরিমাপের কাজে ভূমি জরিপ করে থাকেন। প্রচলিত ভাষায় ভূমি সার্ভেয়ারকে আমিন বলে ডাকা হয়।

    প্রশ্নঃ কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারীর কাজ কি?
    উত্তরঃ ভূমি অফিসের বিচারক এবং পেশকারের সহকারী হিসেবে কপিস্ট কাম বেঞ্চ সহকারী থাকেন যিনি লেখালেখির কাজ করেন।

    প্রশ্নঃ চেইনম্যান এর কাজ কি?

    উত্তরঃ ভূমি জরিপ চলাকালীন সময়ে যিনি সার্ভেয়ার বা আমিন থাকেন তাঁর সহযোগী হিসেবে চেইনম্যান কাজ করেন। সার্ভেয়ার বা আমিনেকে ভূমি জরিপের কাজে সহযোগিতা করাই চেইনম্যানের কাজ।

  • ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম

    প্রিয় চাকরির প্রত্যাশীগণ ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের চাকরি একটি প্রথম শ্রেণির চাকরি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বর্তমান শিক্ষিত প্রজন্মের আগ্রহের দিক থেকে বিসিএসের চাহিদা সবার শীর্ষে। আপনারা জানেন, গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ হতে ৪৭তম বিসিএস আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা চলবে আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত।

    বিসিএসের প্রথম ধাপ হলো নির্ভুলভাবে বিসিএস আবেদন ফরম পূরণ করা। অনেকেই আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে নানা রকম বিভ্রান্তিতে পড়ে ভুল করে থাকেন। যেহেতু বিসিএস আবেদন ফি জমা দেয়ার পর ফরমের যেকোন প্রকার ভুল সংশোধনের সুযোগ নেই তাই শুরুতেই খুব সতকর্তার সাথে আবেদন ফরম পূরণ করা উচিত। আজকের ব্লগে ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম, আবেদন ফি, যোগ্যতা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি এই ব্লগটি পড়ার পর বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম, বিসিএস আবেদন ফি, বিসিএস আবেদন যোগ্যতা এবং আবেদনে ভুল হলে কি করতে হবে এসকল বিষয় নিয়ে আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না।

    আরও দেখুন- বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি জেনে নিন
    আরও দেখুন- ৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন – সম্পূর্ণ গাইডলাইন

    ৪৭তম বিসিএস অনলাইন আবেদন
    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম, আবেদন ফি, যোগ্যতা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য

    ৪৭তম বিসিএসে আবেদন করার নিয়ম

    অনলাইনে BCS Application Form পূরণ করার ক্ষেত্রে প্রথমত bpsc.teletalk.com.bd এর ওয়েবসাইট থেকে Online Application for 47th BCS Examination 2024 অংশে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তীতে প্রার্থীর SSC সনদ অনুসারে বোর্ড, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাসের সন লিখে নিচে ৩টি অপশন দেখতে পারবেন। যেমন-

    • General Cadre (সাধারণ ক্যাডার)
    • Technical/Professional Cadre (কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার)
    • General & Technical/Professional (both) Cadre (উভয় ক্যাডার) (সাধারণ ও কারিগরি ক্যাডার)

    আপনার স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় অনুসারে ক্যাডার নির্বাচন করতে হবে। আপনার স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ে যদি কারিগরি পদ না থাকে সেক্ষেত্রে “সাধারণ ক্যাডার (General Cadre)” অংশে ক্লিক করবেন আর যদি কোন কারিগরি পদ থাকে সেক্ষেত্রে “পেশাগত ক্যাডার (Technical/Professional Cadre)” বা “উভয় ক্যাডার (Both Cadre)” নির্বাচন করতে পারেন।


    উপরোক্ত অংশ পূরণের পর আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে “বিপিএসসি ফরম-১ (BPSC Form-1)” পেয়ে যাবেন। এই অংশে ৩টি ধাপ রয়েছে।

    • Personal Information (ব্যাক্তিগত তথ্য)
    • Educational Qualification Information (শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য)
    • Cadre Choice Option (ক্যাডার নির্বাচন)

    প্রথম ধাপ: ব্যাক্তিগত তথ্য (Personal Information)

    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম প্রারম্ভিক তথ্য পূরণ ফরম এর ছবি
    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম ব্যাক্তিগত তথ্য (Personal Information) পূরণ

    এ ধাপের প্রথমেই প্রার্থীর আবেদনের শুরুতে এসএসসি এর সকল তথ্য দেয়া সাপেক্ষে পরবর্তীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনদ অনুসারে পিতার নাম এবং মাতার নাম বড় অক্ষরে ফিল আপ হবে। বিসিএস আবেদনের ক্ষেত্রে জন্ম তারিখ ভুল হলে প্রার্থীতা বাতিল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়াও বিসিএসের ক্ষেত্রে বয়স গণনার বিষয় থাকে। তাই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বয়সসীমার মধ্যে আপনার বয়সের সামঞ্জস্য রয়েছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে নিতে হবে।

    পরবর্তীতে থাকবে “লিঙ্গ নির্বাচন”। নারী, পুরুষ অথবা তৃতীয় লিঙ্গ যেকোন একটি বাছাই করবেন।

    এরপরের অংশে রয়েছে “Employment Status (কর্মসংস্থানের অবস্থা)”। প্রার্থীর কর্মসংস্থানের অবস্থা অনুসারে এ অংশ পূরণ করবেন। কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট অপশন সিলেক্ট করতে হবে। প্রার্থী কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত থাকলে মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভাগীয় ছাড়পত্র নিতে হবে আবার পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পূরণসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।

    • এক্ষেত্রে প্রার্থী বেকার হলে ‘Not Employed’,
    • কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে ”Regular Basis Under Revenue Budget”
    • স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে “Autonomous or Semi-autonomous Organization”
    • বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে ”Private Organization”
    • রাজস্ব বাজেটের অধীনে নন-ক্যাডার পদে কর্মরত থাকলে “Ad-hoc basis in non cadre post under revenue budget”
    • রাজস্ব বাজেটের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত থাকলে “Temporary basis under revenue budget”
    • রাজস্ব বাজেটের অধীনে কাজের চার্জের ভিত্তিতে কর্মরত থাকলে “Work Charged basis under revenue budget”
    • উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত থাকলে “Temporary basis under development project”
    • উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে কাজের চার্জের ভিত্তিতে কর্মরত থাকলে “Work charged basis under development project”

    পরের অংশে থাকবে কোটা সংক্রান্ত তথ্য। প্রার্থী উপজাতি বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হলে “Ethnic Minority” বাটন ক্লিক করবেন। আবার প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা নাতি-নাতনি হলে সংশ্লিষ্ট অপশনে, তৃতীয় লিঙ্গ হলে “Third Gender”, শারীরিক কোন প্রতিবন্ধিতা থাকলে “Physically Handicapped” আর উপরক্ত কিছুই না হলে “Non Quota” অপশন নির্বাচন করবেন। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, বর্তমানে বিসিএসে কোনো কোটা নেই।

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রার্থীর বৈবাহিক অবস্থা অনুযায়ি “Single (অবিবাহিত)” অথবা “Married (বিবাহিত)” অপশন সিলেক্ট করবেন। বিবাহিত হলে নির্দিষ্ট স্থানে “স্বামী বা স্ত্রীর নাম(Spouse Name)” লিখতে হবে। এরপরের অংশে প্রার্থীর জাতীয়তা (স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা থাকে), জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর, উচ্চতা (সেন্টিমিটার এককে), ওজন (কিলোগ্রামে), সাধারণ অবস্থায় বুকের মাপ (সেন্টিমিটার এককে) সঠিকভাবে লিখতে হবে।

    ঠিকানার ক্ষেত্রে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সম্ভব হলে অভিন্ন দেওয়াই ভালো। কেননা প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হলে উল্লেখিত ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে স্থায়ী ঠিকানায় বাবার ঠিকানা ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। পরের অংশে প্রার্থীর সচল যোগাযোগ নম্বর দিতে হবে। কেননা আবেদন সংক্রান্ত সকল তথ্য পরবর্তীতে এই নম্বরেই ম্যাসেজের মাধ্যমে জানানো হবে।

    পরীক্ষার কেন্দ্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থী যে স্থান নির্বাচন করবেন সে কেন্দ্রেই তাকে প্রিলিমিনারি এবং লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। নির্বাচিত কেন্দ্র পরবর্তীতে পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। সকল প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    বলা বাহুল্য যে, প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ইংরেজি সংস্করণে দিতে ইচ্ছুক হলে Question Version English-এ টিক দিতে হবে। তবে লিখিত পরীক্ষা প্রার্থী ইচ্ছামতো যেকোনো ভার্সনে দিতে পারবেন।এক্ষেত্রে এক বিষয়ের পুরো খাতায় যেকোনো এক (বাংলা/ ইংরেজি) ভাষায় উত্তর করতে হবে।

    উপরে দেয়া তথ্যসমূহ পুনরায় চেক করে সব তথ্য ঠিক থাকলে “The above information is correct and I would like to go to the next step” অংশে ✅টিক দিয়ে “পরবর্তী (Next)” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

    দ্বিতীয় ধাপ: শিক্ষাগত যোগ্যতা

    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম শিক্ষাগত তথ্য (Educational Qualifications) ফরম পূরণ এর ছবি

    বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের দ্বিতীয় ধাপে প্রার্থীর মাধ্যমিক (SSC) [স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করা থাকবে], উচ্চমাধ্যমিক (HSC), স্নাতক, স্নাতকোত্তর (যদি থাকে) পর্যায়ের সকল তথ্য সার্টিফিকেট অনুসারে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, রোল, রেজাল্ট, গ্রুপ এবং পাসের সাল লিখতে হবে।


    স্নাতকের ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়/প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদী কোর্স তা লিখতে হবে। প্রার্থী যদি অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করে থাকেন অর্থাৎ যাদের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে তবে ফলাফল প্রকাশ হয়নি তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরু এবং শেষের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে পরীক্ষা আবেদনের তারিখ শেষ হবার পূর্বেই সম্পন্ন হতে হবে। আবার মৌখিক পরীক্ষার সময় বিভাগীয় প্রধানের কাছ থেকে প্রত্যায়নপত্র নিয়ে ভাইভা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

    স্নাতকোত্তর যদি থাকে তাহলে ✅টিক দিন। পরবর্তীতে সার্টিফিকেট অনুসারে প্রয়োজনীয় তথ্য লিখুন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে বিষয়ের ঘরে যদি “Others” পূরণ করেন তাহলে প্রিলিমিনিরি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) কে লিখিত আকারে তা জানাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রিলিমিনারির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাথে সাথেই পিএসসিতে যোগাযোগ করা শ্রেয়।

    Additional Qualification for Teachers’ Training College: প্রযোজ্য হলে ✅টিক চিহ্ন দিন। পরবর্তীতে সার্টিফিকেট অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয়/ প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্ট, পাসের সন দিতে হবে।

    প্রার্থী যদি স্নাতক পর্যায়ে বিদেশি ডিগ্রিধারী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রনালয়/বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে সমমান সনদ সংগ্রহ করে নিতে হবে। সমমান সনদের মূল কপি মৌখিক পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে জমা দিতে হবে।

    এই ধাপের সবশেষ অংশে প্রার্থীর পদ সংশ্লিষ্ট বিষয় বাছাই করতে হবে। প্রার্থী যদি উভয় ক্যাডার (Both Cadre) অথবা শুধু কারিগরি/ পেশাগত ক্যাডার (Technical Cadre) প্রার্থী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় বাছাই করতে হবে। তবে সাধারণ ক্যাডারের এক্ষেত্রে কিছু করার প্রয়োজন নেই।

    ফরমে দেয়া সকল তথ্য পুনরায় চেক করে, সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন এই মর্মে “The above information is correct and I would like to go to the next step” অংশে ✅টিক দিয়ে “পরবর্তী (Next)” বাটনে ক্লিক করতে হবে।

    তৃতীয় ধাপ: ক্যাডার নির্বাচন

    ৪৭তম বিসিএস আবেদন ফরম ক্যাডার চয়েস (Cadre Choice) অপশনের ছবি

    বিসিএস আবেদন ফরম পূরণের তৃতীয় ধাপে “Cadre Choice” সংক্রান্ত একটি পেইজ আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে আসবে। ক্যাডার চয়েজ করার পূর্বে অবশ্যই বিভিন্ন ক্যাডারের সুযোগ সুবিধা, কাজের ধরণ, পদোন্নতি ইত্যাদি বিষয়ে জেনে নেয়া জরুরী। এক্ষেত্রে আমাদের বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট যেভাবে সাজাবেন এই ব্লগটি দেখে নিতে পারেন। আশা করি এরপর ক্যাডার চয়েজ নিয়ে আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না।

    ক্যাডার চয়েসের ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার ব্যাক্তিগত পছন্দ, পরিবারের পছন্দ বা মতামত, পড়াশোনার বিষয় ইত্যাদি বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। আপনার পছন্দ অনুযায়ি ক্যাডার বাছাই করতে পারবেন। তবে যে ক্যাডারে যোগদান করার ইচ্ছে নেই তা সিলেক্ট করার প্রয়োজন নেই।

    যেহেতু ক্যাডার চয়েস পরিবর্তনের সুযোগ নেই সেক্ষেত্রে অবশ্যই সকল দিক বুঝে শুনে ক্যাডার চয়েস লিস্টটি সাজাবেন। এক্ষেত্রে কাগজে কলমে বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্টের একটি খসড়া সাজিয়ে ফেলতে পারেন যেন আবেদনের সময় কোন প্রকার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

    পছন্দক্রমানুসারে ক্যাডার চয়েজ লিস্ট সাজানোর পর সকল তথ্য সঠিক দিয়েছেন এই মর্মে “The above information is correct and I would like to go to the next step” অংশে ✅টিক দিয়ে “পরবর্তী (Next)” বাটনে ক্লিক করার পর “Application Preview” নামক একটি পেইজ আসবে। এখানে ঠান্ডা মাথায় সময় নিয়ে সতর্কতার সাথে ফরমে দেয়া তথ্যসমূহ রিচেক করুন। কেননা ফি জমাদানের পর ফরম সংশোধন করার কোন সুযোগ নেই।

    47th BCS Application Preview Image

    ভেরিফিকেশন কোড, ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড

    ফরমে দেয়া সকল তথ্য রিভিউ করার পর স্ক্রিনে একটি “Varification Code” আসবে। কোডে দেয়া ডিজিট বা লেটারগুলো হুবুহু পাশের বক্সে লিখতে হবে।

    পরবর্তীতে প্রার্থীর ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির ক্ষেত্রে প্রার্থীর সদ্য তোলা (তিন মাসের মধ্যে তোলা) ৩০০×৩০০ পিক্সেলের এক কপি রঙিন ছবি আপলোড করতে হবে। ছবির সাইজ ৮০ কিলোবাইটের বেশি যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া মুখমন্ডলের কোন অংশের অস্পষ্ট কোন ছবি গ্রহনযোগ্য হবেনা।

    স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ৩০০×৮০ পিক্সেলের সাক্ষর আপলোড করতে হবে। স্বাক্ষরের সাইজ ৬০ কিলোবাইটের মধ্যে হতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে যে স্বাক্ষর দেয়া হবে প্রার্থীর চূড়ান্ত সুপারিশের আগ পর্যন্ত সকল ডকুমেন্টে একই স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখবেন স্বাক্ষর অবশ্যই প্রার্থীর হস্তলিখিত চিহ্নে বাংলা /ইংরেজি নাম বা নামের অংশ দ্বারা করতে হবে। স্বাক্ষর যথাসম্ভব ছোট রাখাই ভালো।

    ফরম পূরণের শেষ ধাপ

    ফরমে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Submit the Aplication” বাটনে ক্লিক করে ফরমটি সাবমিট করতে হবে। পরবর্তীতে প্রার্থীর “ইউজার আইডি (User ID)” সম্বলিত একটি “আবেদনকারী (Applicant’s Copy)” পাবেন। এই “Applicant’s Copy” টি “Download this page” বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড ও সংরক্ষন করতে হবে।

    47th BCS Applicant's Copy Image
    47th BCS Applicant's Copy Download Image

    বিসিএস আবেদন ফি জমা দেয়ার পদ্ধতি

    আপনারা জানেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুসারে বিসিএস আবেদন ফি ৭০০ টাকা এর পরিবর্তে ২০০ টাকা করা হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিসিএস আবেদন ফি ৫০ টাকা করা হয়েছে। ইতোপূর্বে আবেদন ফরমে দেয়া ইউজার আইডি (User ID) ব্যবহার করে যথাযথ নির্দেশনা অনুসারে টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে ২টি SMS এর মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে।

    এক্ষেত্রে,

    • ১ম SMS-এ “BCS <Space> User ID” লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।
    • পরবর্তীতে ফিরতি ম্যাসেজে একটি PIN নম্বর দেয়া হবে, যা ব্যবহার করে ২য় ম্যাসেজে পাঠাতে হবে।
    • ২য় SMS-এ “BCS <Space> Yes <Space> PIN লিখে পুনরায় 16222 নম্বরে ম্যাসেজ করতে হবে।

    বিসিএস প্রবেশপত্র ডাউনলোড

    ফি জমা দেয়ার পর User ID ও Password ব্যবহার করে প্রার্থীর “প্রবেশপত্র (Admit Card)” ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে সংরক্ষন করতে হবে।

    আবেদন ফরম সংশোধন সংক্রান্ত তথ্য

    ফি জমা দেয়ার পর পুনরায় বিসিএস আবেদন ফরম সংশোধন করার সুযোগ নেই। যদি ফি জমা না দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ৭২ ঘন্টার মধ্যে আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে নতুন করে ফরম পূরণ করলে নতুন একটি ইউজার আইডি পাবেন। উক্ত আইডি ব্যবহার করে ফি জমা দিবেন। যেকোন প্রকার ভুল তথ্য প্রদানের ফলে প্রার্থীর আবেদন বাতিল হতে পারে। তাই ফরম পূরণের পর Applicant Preview থেকে সময় নিয়ে সতর্কতার সাথে সকল তথ্য রিচেক করতে হবে। তারপর ফি জমা দিতে হবে।

    বিশেষ নির্দেশনা

    বিসিএস আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করা বিসিএসের প্রথম ধাপ। আবেদন ফরম পূরণে প্রার্থীর যেকোন প্রকার ভুলের কারণে বা একাধিকবার ফরম পূরণ করলে আবেদন বাতিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া এসকল ক্ষেত্রে পিএসএসির আওতাধীন সকল পরীক্ষায় অযোগ্য বিবেচনা করা সহ আইনানুগ যেকোন ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তবে বিশেষ কোন কারণবশত যদি ফরমে কোন প্রকার সংশোধন করা প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে পিএসসি এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে আগের আবেদন বাতিল করতে হবে।

    উল্লেখ্য যে, বিসিএস পরীক্ষার আবেদনের শেষ তারিখ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৪) অতিক্রম করার পর bpsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে স্ক্রিনে আর আবেদন করার অপশন পাবেন না।

    এছাড়াও বিসিএস ফরম পূরণ সংক্রান্ত বিস্তারিত নিয়ে আমাদের আলাদা করে ভিডিয়ো কন্টেন্ট রয়েছে আপনারা চাইলে নিচে দেয়া এই ভিডিয়ো থেকেও বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন। আশা করছি এতে আপনাদের সকল কনফিউশন দূর হবে।

    প্রশ্ন: বিসিএস এর পূর্ণরুপ কী?

    উত্তর- BCS এর পূর্ণরুপ Bangladesh Civil Service.

    প্রশ্ন: বিসিএস আবেদন ফি কত?

    উত্তর- ২০০ টাকা। তবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বিসিএস আবেদন ফি ৫০ টাকা।

    প্রশ্ন: BCS ক্যাডার কত প্রকার ও কি কি?

    উত্তর- জেনারেল এবং কারিগরি বা প্রফেশনাল এই দুটি মূল বিভাগের অধীনে মোট বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যা ২৬টি।

    প্রশ্ন: ৪৭তম বিসিএস কবে হতে পারে?

    উত্তর- ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২৫ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রশ্ন: বিসিএসে আবেদনের যোগ্যতা কী?

    উত্তর- প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে একের অধিক তৃতীয় শ্রেণী (3rd Class) থাকলে বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন না।

    প্রশ্ন: তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস কোর্স) করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?

    উত্তর- বিসিএস এর বিজ্ঞপ্তি অনুসারে উচ্চমাধ্যমিকের পর প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে চার বছর মেয়াদি কোর্স থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি পাস কোর্সের পর প্রার্থীকে অবশ্যই মার্স্টার্স সম্পন্ন করতে হবে।

  • প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | Primary Job Preparation

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | Primary Job Preparation

    প্রিয় চাকরি প্রত্যাশীগণ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। ১৯৯৩ সাল থেকে দেশজুড়ে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল সহ প্রতিটি প্রান্তে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারের অধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে অনেক বড় একটি জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ার সাথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় লাখো চাকরি প্রার্থীর।

    নিজ স্থায়ী ঠিকানায় থেকে চাকরির সুবিধা, দ্রুত পদায়ন, আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, তুলনামূলক কম কর্মঘণ্টা ছাড়াও লিখিত পরীক্ষা না থাকায় চাকরির প্রস্তুতিতে কম সময় লাগে বিধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদটি অনেক তরুণের জন্য একটি আকর্ষণীয় চাকরি হয়ে উঠেছে। এছাড়াও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় অন্য চাকরির প্রস্তুতি এবং চাকরির পাশাপাশি বাড়তি কিছু করারও সুযোগ রয়েছে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের জন্য প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। তাই হাজারো প্রতিযোগীর ভিড়ে নিজেকে আলাদা করতে নিতে হবে একটি গুছানো প্রস্তুতি। আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি সম্পর্কিত সকল তথ্যই পেয়ে যাবেন যা প্রস্তুতি শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার জানা জরুরি। বিশেষ করে একদম নতুন অবস্থায় যারা প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিবেন তাদের জন্য এই আর্টিকেলে রয়েছে বিশেষ গাইডলাইন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার যোগ্যতা: (Primary Teacher Job Qualification)

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য একজন প্রার্থীর বেশ কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। যার মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স সীমা, এবং স্থায়ী ঠিকানা অন্যতম।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীকে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ সহ (৪ স্কেলে ন্যূনতম ২.২৫ ও ৫ স্কেলে নূন্যতম ২.৮) স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

    বয়সসীমা: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স আবেদন শুরুর দিন হতে ২১ বছর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বয়স ২১ বছর থেকে ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

    স্থায়ী ঠিকানা: বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাগুলো গুচ্ছভাবে কয়েকটি ধাপে হয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপের জন্য অঞ্চল ভাগ করে দেওয়া থাকে। এবং প্রতি অঞ্চলের জন্য আলাদা শূন্য পদ সংখ্যাও নির্দিষ্ট করা থাকে। এই দিকগুলো বিবেচনা করলে আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানাও একটি যোগ্যতা হিসেবে কাজ করে।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি:

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাটি সাধারণ ২ টি ধাপে হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে প্রার্থীদের ৭৫ থেকে ৮০ নম্বরের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। যেখানে ৭৫-৮০ নম্বরের জন্য সর্বমোট ৭৫-৮০ টি প্রশ্নই বরাদ্দ থাকে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর যোগ হয় এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হয়। এই পরীক্ষার জন্য সর্বমোট বরাদ্দ সময় ৬০ মিনিট অর্থাৎ প্রতিটি প্রশ্নের জন্য আপনি সময় পাবেন ৪৫ সেকেন্ড।

    MCQ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন: Primary Teacher Exam Syllabus & Mark Distribution

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সর্বমোট ৭৫ থেকে ৮০ নম্বরের। এই ৪ টি বিষয়ের মানবন্টন হয় নিম্নরূপ –

    • বাংলায় – ২০ নম্বর,
    • ইংরেজিতে – ২০ নম্বর,
    • গণিতে – ২০ নম্বর,
    • সাধারণ জ্ঞানে – ১৫ থেকে ২০ নম্বর

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিস্তারিত মানবন্টন

    বিষয়মার্ক
    বাংলা সাহিত্য৪-৫
    বাংলা ব্যাকরণ১৫-১৬
    English Grammar৮-৯
    English Vocabulary১০-১১
    Literature১-২
    গণিত২০
    বাংলাদেশ বিষয়াবলি + আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি১৬-১৭
    Science + ICT৩-৪
    সর্বমোট৭৫ – ৮০

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ সিলেবাস PDF দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক বাংলা):

    একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে সবটুকুই অর্জন করা সম্ভব। এই নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে ব্যাকরণ অংশ থেকে ১৫-১৬ নম্বর, সাহিত্য অংশ থেকে ৪-৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    বাংলা সাহিত্য (৪-৫ নম্বর)

    টপিকমার্ক
    রবীন্দ্রনাথ-নজরুল১-২
    বঙ্কিম-শরৎচন্দ্র-সুকান্ত০-১
    পত্র পত্রিকা০-১
    ছদ্মনাম
    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্য
    উক্তি-গান
    মধ্যযুগের সাহিত্য০-১
    বাংলা একাডেমির ইতিহাস০-১

    বাংলা ব্যকরণ (১৫-১৬ নম্বর)

    টপিকমার্ক
    সমার্থক শব্দ১-২
    সন্ধি বিচ্ছেদ০-১
    বানান শুদ্ধি০-১
    ভাষা-ধ্বনি-বর্ণ
    এক কথায় প্রকাশ
    পারিভাষিক শব্দ
    সমাস
    কারক
    অনুবাদ
    একই শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ
    বাক্য শুদ্ধি, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ
    শব্দ
    উপসর্গ

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাংলা বুক লিস্ট:

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা বিষয়ে ভালো করার কার্যকরী কিছু টিপস:

    ১। বিসিএস এর জন্য একবার বাংলার প্রস্তুতি নেওয়া থাকলে নতুন করে আর প্রস্তুতি না নিয়ে বার বার পুরাতন বিষয়গুলো রিভিশন দিন।
    ২। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলার জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বর থেকে ১৫ নম্বরই আসে বাংলা ব্যাকরণ অংশ থেকে। তাই বাংলা ব্যাকরণে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
    ৩। ব্যাকরণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বইটি অনুসরণ করুন। সাধারণত ব্যাকরণে এর বাইরে প্রশ্ন হয় না।
    ৪। সাহিত্য অংশের জন্য প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের বিখ্যাত সাহিত্য ও বৈশিষ্ট্য কবি ও সাহিত্যিকদের কর্ম, সাহিত্যে অবদান রাখা পত্রিকা ও সাময়িকীগুলো সম্পর্কে ধারণা নিন।
    ৫। বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান থেকে বাংলা অংশের প্রশ্নগুলো সমাধানে গুরুত্ব দিন।

    এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশের প্রায় ৬৪ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির বাংলা বিষয়ের জন্য Live MCQ অ্যাপের ফিচার সমূহ

    এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক ইংরেজি):

    বাংলার মতো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইংরেজির বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও একটু গোছানো প্রস্তুতি নিলেই একটি ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। ইংরেজি বিষয়ের জন্য বরাদ্দ ২০ নম্বরের মধ্যে ৮-৯ নম্বর আসে ইংরেজি গ্রামার অংশ থেকে, Vocabs অংশ থেকে আসে ১০-১১ নম্বর, এবং সাহিত্য থেকে ১-২ নম্বর থাকে।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ইংরেজি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    English Grammar (8-9 marks)

    TopicsMarks
    Parts of Speech2-3
    Preposition2-3
    The right form of Verb1
    Sentence Correction3-4
    Voice & Narration1-2
    Number & Gender1

    English Vocabulary (10-11 marks)

    TopicsMarks
    Synonyms1-2
    Antonym1-2
    Spelling2
    Phrase & Idioms2
    Translation2

    English Literature (1-2 marks)

    Topics
    Shakespeare
    Previous Primary Questions
    Previous BCS Questions

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় ইংরেজি বুক লিস্ট:

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:

    ১। ইংরেজির জন্য সবকিছু না পড়ে যেটুকু পড়তে হবে শুধু সেটুকুর উপরই গুরুত্ব দিন।
    ২। ইংরেজি গ্রামার অংশের জন্যই অধিকাংশ নম্বর বরাদ্দ থাকে বিধায় এই অংশে বিশেষ জোর দিন।
    ৩। কোন একটি টপিকে কনফিউশন থাকলে সেটি দূর করার জন্য রেফারেন্স হিসেবে একটি গ্রামার বই অনুসরণ করুন।
    ৪। বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে বাড়তি সময় দিন।
    ৫। বিগত সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান থেকে ইংরেজি অংশের প্রশ্নগুলো সমাধানে গুরুত্ব দিন।

    এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের English Language ও English Literature অংশের প্রায় ৬২ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির ইংরেজি বিষয়ের জন্য Live MCQ অ্যাপের ফিচার সমূহ

    এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক গণিত):

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত অংশের জন্য সর্বমোট ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। যার মধ্যে পাটিগণিতে ১২-১৩ নম্বর, বীজগণিতে ৩-৪ নম্বর, এবং জ্যামিতিতে ৪ নম্বর থাকে। একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত অংশে ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার গণিত বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    পাটিগণিত – (১২ – ১৩ নম্বর)

    টপিকমার্ক
    সংখ্যার ধারণা (বাস্তব সংখ্যা), গড়১-২
    লসাগু, গসাগু১-২
    অনুপাত-সমানুপাত
    ভগ্নাংশ১-২
    শতকরা১-২
    লাভ-ক্ষতি
    সুদকষা
    পরিসংখ্যান
    পরিমাপ

    বীজগণিত – (৩-৪ নম্বর)

    টপিকমার্ক
    বীজগাণিতিক সূত্রাবলি
    সরল সমীকরণ১-২
    উৎপাদকে বিশ্লেষণ০-১
    লগারিদম০-১
    সূচক০-১
    ধারা০-১
    বিন্যাস, সমাবেশ০-১

    জ্যামিতি – (৪ নম্বর)

    টপিকমার্ক
    ত্রিভুজ ও কোণ
    বৃত্ত
    পরিমিতি০-১

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় গণিত বুক লিস্ট:

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গণিতে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:

    • ৮ম শ্রেণি থেকে ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই টি ভালো ভাবে শেষ করুন।
    • শর্টকাট পরিহার করে গণিতে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার পিছনে মনোনিবেশ করুন। ভিত্তি মজবুত হলে কম সময়ে গণিত সমাধান করার পদ্ধতি আপনি নিজেই বের করতে পারবেন।
    • প্রতিদিন নিয়মিত গণিত চর্চা করুন।

    এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের গণিতের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের গাণিতিক যুক্তি অংশের প্রায় ৩৫ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির গণিত বিষয়ের জন্য Live MCQ অ্যাপের ফিচার সমূহ

    এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি (বিষয়ভিত্তিক সাধারণ জ্ঞাণ):

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞাণ অংশ থেকে সর্বমোট ২০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। যেখানে বাংলাদেশ বিষয়াবলী থেকে ১০-১১ নম্বর, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী থেকে ৪-৫ নম্বর এবং সাধারণ বিজ্ঞান থেকে ৪-৫ নম্বর এসে থাকে। সঠিকভাবে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে খুব সহজেই সাধারণ জ্ঞাণ অংশে একটি ভালো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞাণ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    বাংলাদেশ বিষয়াবলী (১০ – ১১ নম্বর)

    টপিকগুরুত্ব
    বাংলাদেশের ভৌগলিক পরিচিতি***
    প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস***
    ভাষা আন্দোলন-মুক্তিযুদ্ধ***
    জাতীয় অর্জন*
    সংবিধান**
    গান-কবিতা***
    বিভিন্ন দিবস**
    জনসংখ্যা ও উপজাতি*
    কৃষি*
    জনশুমারী***
    অর্থনৈতিক সমীক্ষা***
    এসডিজি***
    প্রাইমারি শিক্ষানীতি (শিক্ষা ব্যবস্থা, স্কুল সংখ্যা, বই বিতরণ)**

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী (৪-৫ নম্বর)

    টপিকগুরুত্ব
    সভ্যতার ইতিহাস***
    জাতিসংঘ***
    দেশ-মুদ্রা-রাজধানী-আইনসভা**
    বিশ্বের বিভিন্ন ভৌগলিক উপনাম**
    বিশ্বের বিখ্যাত স্থান, শহর ও দ্বীপ***
    গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও সদরদপ্তর***
    প্রনালী***
    সাম্প্রতিক যুদ্ধ-সংঘাত-সংকট, সম্মেলন, পরিবেশ ইস্যু***
    ১০-সর্বশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন**
    বিগত প্রাইমারি ও নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন**

    সাধারণ জ্ঞান – সাধারণ বিজ্ঞান (৪-৫ নম্বর)

    টপিকগুরুত্ব
    মানবদেহ***
    রোগ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত**
    খাদ্য, পুষ্টি, বিভিন্ন রোগ***
    বিভিন্ন ধরনের কালচার***
    বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র***
     পদার্থবিজ্ঞান (বেসিক)*
     পদার্থবিজ্ঞান (বেসিক)*
    বায়ুমণ্ডল**
    ১০- সর্বশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন***
    বিগত প্রাইমারি ও নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন**

    সাধারণ জ্ঞান – (কম্পিউটার)

    টপিকগুরুত্ব
    কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সফটওয়্যার***
    ইনপুট-আউটপুট ডিভাইস***
    ইন্টারনেট***
    ইমেইল*
    মোবাইল ফোন ও এর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য*
    দৈনন্দিন জীবনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার**
    ১০- সর্বশেষ বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রশ্ন***
    বিগত প্রাইমারি ও নিবন্ধন পরীক্ষার প্রশ্ন**

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সাধারণ জ্ঞাণ বুকলিস্ট:

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাধারণ জ্ঞাণে ভালো করার জন্য কিছু কার্যকরী টিপস:

    এছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের সাধারণ জ্ঞানের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের সাধারণ জ্ঞান, ICT ও বিজ্ঞাণ প্রস্তুতির জন্য Live MCQ অ্যাপের ফিচার সমূহ

    এখানেই শেষ নয়! প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য অ্যাপের Exam Section এ থাকা শিক্ষক নিয়োগ ও নিবন্ধন বাটনের অধীনে প্রাইমারি ফুল মডেল টেস্ট, প্রাইমারি ডেইলি কুইজ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি এবং প্রাইমারি জব সল্যুশন বাটন গুলো থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ MCQ পরীক্ষায় ভালো করার উপায়:

    প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করার জন্য গৎবাঁধা ভাবে না পড়ে এনালাইসিস করে বুঝে ও গুছিয়ে পড়তে হবে। নিচের টিপস গুলো মেনে চললে আপনার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেক সহজ হবে বলে আশাকরি।

    ১। বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন। এই পরীক্ষায় ১৫-২০ নম্বর প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়।
    ২। বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন। বিসিএস এর বিগত সালের প্রশ্ন থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনেক প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়।
    ৩। প্রস্তুতির মান যাচাইয়ের জন্য Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত মডেল টেস্ট ও মক টেস্ট পরীক্ষা দিন। ১০০ মিনিটের মধ্যে মক টেস্ট পরীক্ষা শেষ করার অভ্যাস করুন করুন।
    ৪। ভুল করা প্রশ্নগুলো নিয়মিত চর্চা করুন। এবং
    ৫। ইংরেজি ও গণিত অংশে বিষদ প্রস্তুতি নিন।
    ৬। একটি স্মার্ট রিভিশন সার্কেল অনুসরণ করুন, পূর্বে পঠিত বিষয়গুলোকে এই সার্কেলের মাধ্যমে বার বার রিভিশন দিন।
    ৭। একই লক্ষ্যে অবিচল পরিশ্রমী ও সমমনা পরীক্ষার্থীদের সাথে স্টাডি গ্রুপ গঠন করে পারস্পরিক সিহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত ভাবে প্রস্তুতি নিন।
    ৮। কার্যকরী ও কৌশলী উপায় অবলম্বন করুন। শর্টকাট পরিহার করুন।
    ৯। পরীক্ষার শুরুতেই বাংলা, সাধারণ জ্ঞাণ এবং ইংরেজি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর করবেন এবং সবার শেষে উত্তর করবেন গণিত। যেহেতু গণিত প্রশ্নের উত্তর করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ১-২ মিনিটের মতো সময় লেগে যায় তাই শুরুতেই গণিত উত্তর করতে গেলে এবং সময় দিয়েও ১-২ টা গণিত উত্তর করতে না পারলে আপনি ঘাবড়ে যেতে পারেন।

    প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার উপায়:

    ১। মনে রাখবেন ভাইভাতে শুধুমাত্র আপনার পড়াশোনা বা জানা বোঝার বিষয়গুলোই দেখা হবে না, বরং এর সাথে আপনার অভিব্যাক্তি, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং উপস্থাপনা কৌশলও দেখা হবে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি এই বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিতে হবে।
    ২। আপনার নিজের সম্পর্কে, নিজ জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, অনার্সে পঠিত বিষয় ইত্যাদি সম্পর্কেও বিষদ ধারনা রাখতে হবে।
    ৩। কেন আপনি প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এই সম্পর্কে একটি যৌক্তিক কারন ঠিক করে রাখতে হবে।
    ৪। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে সাম্যক ধারনা রাখতে হবে।
    ৫। আপনাকে একইসাথে আত্মবিশ্বাসী এবং বিনয়ী হতে হবে। ভাইভা বোর্ডে এমন কোন আচরণ করা যাবে না যেটি আপনাকে ওভার কনফিডেন্ট বুঝায়।
    ৬। ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের জন্য আপনার সিরিয়াল আসলে ভাইবা রুমের দরজা থেকেই অনুমতি নিয়ে রুমে ঢুকবেন, এরপর আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আপনার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সালাম, আদাব ইত্যাদি বলবেন, অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত বসবেন না। কোন কারনে বোর্ডের সদস্যরা বসতে বলতে দেরি করলে বিনয়ের সাথে বসবার জন্য তাদের অনুমতি চাইবেন। তারা অনুমতি দিলে তারপর বসবেন। এবং পর ভাইবা বোর্ডের সকলের সাথে হাসিমুখে আই কন্ট্রাক্ট করবার চেষ্টা করবেন।
    ৭। ভাইভা চলাকালীন পুরোটা সময় মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
    ৮। ভাইভা বোর্ডে ভাষার আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন।
    ৯। যেকোন প্রশ্ন মন দিয়ে শুনে তারপর সামান্য সময় ভেবে পরে উত্তর দিন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝেই কথা বলবেন না।
    ১০। সব প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে এমন মনোভাব নিয়ে ভুল বা অনুমান নির্ভর উত্তর দিবেন না। কোন প্রশ্নের উত্তর আপনার জানা না থাকলে শয়েটি বিনয়ের সাথে স্বীকার করে নিবেন।
    ১১। ভাইবা বোর্ডে প্রবেশের পূর্বে এবং ভাইভা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যথাসম্ভব টেনশন ফ্রী থাকার চেষ্টা করুন।
    ১২। ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর দিতে বললে সেটিই করবেন, বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইবেন না।
    ১৩। ভাইভা বোর্ডে একজনের প্রশ্নের উত্তর করার সময় আরেকজন কোন প্রশ্ন করলে প্রথমজনের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় জনে প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
    ১৪। কোন প্রশ্ন একবার শুনে বুঝতে না পারলে বিনীতভাবে সেটি জানাবেন।
    ১৫। আপনার একাডেমিক পড়াশোনার ফলাফল কোন কারনে ভালো হয়ে না থাকলে এই বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য কারণ তৈরি করে রাখবেন।
    ১৬। আপনার কোণ মুদ্রাদোষ থেকে থাকলে সেটি সম্পর্কে সচেতন হোন। ভাইভা বোর্ডে মুদ্রাদোষ পরিহার করার চেষ্টা করুন।

    কোচিং ছাড়াই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি :

    যেকোন চাকরির প্রস্তুতি নিতে প্রয়োজন হয় একটি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সঠিক প্রস্তুতিমূলক গাইডলাইন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় Live MCQ নামের চাকরির প্রস্তুতির প্লাটফর্ম নিয়ে এসেছি আমরা, অর্জন করেছি ১২ লক্ষের অধিক অ্যাপ ব্যাবহারকারীর আস্থা।দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কোচিং ছাড়াই প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতির সকল সুবিধা পাচ্ছেন Live MCQ অ্যাাপে। অ্যাাপের প্রিমিয়াম ও দুর্দান্ত সব ফিচার উপভোগ করতে আজই ইন্সটল করুন।

    Live MCQ অ্যাপের ফিচার সমূহ

    আশাকরি ব্লগ টি পড়ার পর এই গাইডলাইন গুলো অনুসরণ করলে আপনার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির পথ অনেকটাই সুগম হয়ে যাবে। Live MCQ অ্যাপে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিয়ে আপনার লক্ষ্য অর্জন করুন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সহ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার প্রশ্নটি জানান অথবা Whatsapp Icon টিতে ক্লিক করে আমাদের ম্যাসেজ করুন।

    শুভকামনায় –
    Live MCQ

  • সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | সম্পূর্ণ গাইডলাইন

    সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | সম্পূর্ণ গাইডলাইন

    আমাদের দেশে পুলিশ বিভাগের অফিসার পদে দুই ভাবে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব। যার মধ্যে একটি হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি পুলিশ ক্যাডার (সহকারী পুলিশ সুপার) পদে, এবং অন্যটা হচ্ছে পুলিশ বিভাগ কর্তৃক সরাসরি সাব-ইন্সপেক্টর (এস আই) / উপ পরিদর্শক পদে। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডার হওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা কঠিন হলেও শারীরিক যোগ্যতা থাকলে সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) পদে পুলিশে যোগদানের জন্য আপনাকে তুলনামূলক অনেক কম পরিশ্রম করলেও চলবে।

    বর্তমানে উন্নত বেতন স্কেল, রেশন সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ছাড়াও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে অল্প সময়েই কোটিপতি হওয়ার সুযোগ, এই চাকরিটিকে করেছে আরও বেশী আকর্ষণীয়। তাছাড়া বাংলাদেশ পুলিশে এসআই পদে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে আপনি যেমন দেশ তথা জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবেন ঠিক তেমনি জনগণের কাছ থেকে পাবেন যথাযথ সম্মান। আর এক্ষেত্রে শুধু আপনি নন বরং আপনার পরিবারও হবে সম্মানিত এবং গর্বিত।

    আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কীভাবে খুব সহজেই স্মার্ট উপায়ে সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

    সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) নিয়োগের যোগ্যতা:

    সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেতে চাইলে আপনার তিন ধরনের যোগ্যতা থাকতে হবে। এই ধরন তিনটি হচ্ছে,

    শিক্ষাগত যোগ্যতা:

    • প্রার্থীকে অবশ্যই স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় ডিগ্রি প্রাপ্ত হতে হবে।

    শারীরিক যোগ্যতা:

    • আপনি একজন পুরুষ প্রার্থী হয়ে থাকলে আপনার উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১.৬৭৬৪ মিটার হতে হবে। এছাড়া আপনার বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি বা ০.৮১২৮ মিটার হতে হবে।
    • আর আপনি একজন নারী প্রার্থী হয়ে থাকলে আপনার দৈহিক উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২৫৬ মিটার হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার জন্য বুকের মাপ প্রযোজ্য হবে না।
    • পুরুষ ও নারী উভয় প্রার্থীর জন্যই বয়স ও উচ্চতার সাথে ওজন অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে অর্থাৎ BMI (Body Mass Index) ঠিক থাকতে হবে।
    • উভয় প্রার্থীর ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি ৬/৬ থাকা বাধ্যতামূলক।

    অন্যান্য যোগ্যতা:

    • প্রার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ১৯ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২৭ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে। (তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য)
    • প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
    • অবিবাহিত হতে হবে (তালাক প্রাপ্ত/ তালাক প্রাপ্তা গ্রহণযোগ্য নয়)।
    • অবশ্যই কম্পিউটার চালনায় দক্ষ হতে হবে।

    উপরে উল্লেখিত যোগ্যতাসমূহ আপনার থেকে থাকলে আপনি সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে আবেদন করতে পারবেন।

    যেভাবে সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগের জন্য আবেদন করবেনঃ

    সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে থাকা যোগ্যতা এবং শর্তসমূহ আপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আপনি এই পদের জন্য প্রাথমিক ভাবে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করার জন্য আপনাকে http://police.teletalk.com.bd/ লিংকে প্রবেশ করে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে আবেদনের পূর্বে আপনাকে বেশ কিছু জিনিস প্রস্তুত করে রাখতে হবে। সেগুলো হল:

    • ডিজিটাল ক্যামেরায় সদ্য তোলা প্রার্থীর ৩০০ X ৩০০ পিক্সেল এর রঙিন ছবির (সফট কপি)।
    • প্রার্থীর ছবির ফাইল সাইজ হতে হবে ১০০ কিলোবাইটের কম।
    • কালো কালির কলম দিয়ে আপনার একটি স্বাক্ষরের ৩০০ X ৮০ পিক্সেলের (সফট কপি)
    • প্রার্থীর স্বাক্ষরের ফাইল সাইজ হতে হবে ৬০ কিলোবাইটের কম।

    আবেদনের জন্য আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন। আবেদন করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে আবেদনের কোন অংশেই কোন ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেয়া যাবে না। আপনি এমনটি করলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার যেকোনো মুহূর্তে আপনার আবেদন বাতিল করতে পারেন।

    বাংলাদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ ফরম টি দেখুন

    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form
    Bangladesh Police Sub Inspactor Aplication Form

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়া:

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনের পর থেকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মূলত ১১ টি ধাপে এই বাছাই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। এই ধাপগুলো হচ্ছে:

    ১। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন,

    ২। ওয়েব বেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং,

    ৩। শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ,

    ৪। শারীরিক সক্ষমতা যাচাই বা Physical Endurance Test,

    ৫। ওয়েব বেজড আবেদন ফরম পূরণ,

    ৬। লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ,

    ৭। কম্পিউটার দক্ষতার পরীক্ষা গ্রহণ,

    ৮। মৌখিক পরীক্ষা,

    ৯। মেডিক্যাল টেস্ট বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা,

    ১০। পুলিশ ভেরিফিকেশন,

    ১১। ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন।

    নিম্নে এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা

    ১। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন:

    নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই প্রার্থীকে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে করতে হবে।

    ২। ওয়েব বেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং:

    আবেদনকারী প্রার্থীদের মধ্য থেকে এসএসসি, এইচএসসি, ডিগ্রি/স্নাতক/সমমান পরীক্ষার ফলাফল এবং উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত নিয়োগবিধি অনুযায়ী ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্টসংখ্যক যোগ্য প্রার্থীকে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা (Physical Endurance Test – PET) এর জন্য নির্বাচন করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের মোবাইলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। তারপর ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের পর প্রিন্ট (২ কপি) করে শারীরিক মাপ ও Physical Endurance Test এর দিন নিয়ে যেতে হবে।

    ৩। শারীরিক মাপ ও কাগজপত্র যাচাইকরণ:

    এই প্রক্রিয়াটি সর্বমোট ৩ দিনে অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে প্রথম দিনে শারীরিক মাপ এবং কাগজপত্র যাচাইকরণ হয়ে থাকে।

    ১ম দিন:

    প্রথম দিনে ওয়েববেজড প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিংয়ে বাছাই করা প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তারিখ, সময় ও স্থানে শারীরিক মাপ, কাগজপত্র যাচাইকরণসহ শারীরিক সহনশীলতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই দিন আপনাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ পরীক্ষার ভেন্যুতে উপস্থিত হলে প্রথমেই একটি স্কেলের সাহায্যে আপনার উচ্চতা মেপে ভেন্যুর ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। তারপর সেখানে একে একে আবার আপনার উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ (পুরুষ পরীক্ষার্থী হয়ে থাকলে) মেপে দেখা হবে। তারপর আপনার কাগজপত্র যাচাই করে সব কিছু ঠিক থাকলে আপনাকে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষার এডমিট দিয়ে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে। এই ধাপে অংশগ্রহণের জন্য আপনাকে যে কাগজপত্রগুলো সাথে নিতে হবে সেগুলো হল:

    প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসমূহ হল:

    • প্রবেশপত্র- ২ কপি (PET Physical Endurance Test পরীক্ষার জন্য)
    • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র
    • কম্পিউটার দক্ষতার সনদপত্র
    • চারিত্রিক সনদপত্র
    • জাতীয় পরিচয়পত্র (মূল কপি)
    • চাকরিজীবী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র
    • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও প্রত্যয়নপত্র
    • অভিভাবকের সম্মতিপত্র সহ ইনডেমনিটি ঘোষণাপত্র

    ৪। শারীরিক সক্ষমতা যাচাই বা Physical Endurance Test:

    প্রথম দিনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে এই ধাপ টি সম্পন্ন হয়। এ ধাপে প্রার্থীকে সাতটি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। ইভেন্টগুলো হলো দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, পুশ আপ, সিট আপ, ড্র্যাগিং ও রোপ ক্লাইমিং। প্রতিটি ইভেন্টেই পাস করতে হবে। একটি ইভেন্টে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ইভেন্টে অংশ নেওয়া যাবে না। শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। এই দুই দিন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সব কাগজপত্র নিয়ে প্রার্থীদের পরীক্ষার ভেন্যুতে উপস্থিত থাকতে হবে।

    ২য় দিন:

    ২য় দিন ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার পর শুরু হবে আপনার শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের ইভেন্টসমূহ। এই ইভেন্টসমূহের প্রতিটিতে আপনাকে আলাদাভাবে কৃতকার্য হতে হবে। কোন একটি ইভেন্টে আপনি অকৃতকার্য হলে পরের ইভেন্টে আর অংশ নিতে পারবেন না। অর্থাৎ আপনার আর সাব-ইন্সপেক্টর হওয়া হবে না। এই ইভেন্টসমূহ হচ্ছে,

    • প্রথম ইভেন্ট (দৌড়): এই ইভেন্টে একজন পুরুষ পরীক্ষার্থীকে সঠিক নিয়ম মেনে ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ১ হাজার ৬০০ মিটার এবং একজন নারী একজন নারী পরীক্ষার্থী হয়ে থাকলে ৭ মিনিটে ১০০০ মিটার দূরত্ব দৌড়ে পার হতে হবে।
    • দ্বিতীয় ইভেন্ট (লং জাম্প): দৌড়ের ইভেন্টে কৃতকার্য হলে পুরুষ পরীক্ষার্থীদের কমপক্ষে ১০ ফুট এবং নারী পরীক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৬ ফুট দূরত্ব লং জাম্পের মাধ্যমে পার হতে হবে। এই ইভেন্টে কৃতকার্য হওয়ার জন্য আপনি মোট তিনবার সুযোগ পাবেন। এই ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে আপনাকে ডিসকোয়ালিফায়েড ঘোষণা করা হবে।
    • তৃতীয় ইভেন্ট (হাই জাম্প): লং জাম্পে সফল হলে এরপর আপনাকে হাই জাম্প ইভেন্টে যোগ দিতে হবে। এই পর্যায়ে একজন পুরুষ প্রার্থীকে যথাযথ নিয়ম মেনে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫ ফুট এবং নারী প্রার্থীকে কমপক্ষে ২ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতা জাম্প করে পার হতে হবে। লং জাম্পের মতো এই ইভেন্টেও কৃতকার্য হওয়ার জন্য মোট তিনবার সুযোগ দেয়া হবে।

    ৩য় দিন:

    ২য় দিনের ইভেন্টসমূহে কৃতকার্য হলে আপনি ৩য় দিনের ইভেন্টসমূহে অংশ নেবার বিষয়ে অনুমতি পাবেন। ৩য় দিন ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার পর আপনাকে যে ইভেন্টসমূহে অংশ নিতে হবে সেগুলো হচ্ছে,

    • চতুর্থ ইভেন্ট (পুশআপ): এই পর্যায়ে একজন পুরুষ প্রার্থীকে ৪০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে ১৫টি এবং নারী প্রার্থীকে ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে ১০টি পুশ আপ করতে হবে। পুশআপ করবার সময় আপনি নির্ধারিত নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটালে আপনাকে ডিসকোয়লিফায়েড ঘোষণা করা হবে।
    • পঞ্চম ইভেন্ট (সিট আপ): পুশ আপ এর পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হলে আপনাকে সিট আপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এ পর্যায়ে পুরুষ প্রার্থীদের ৪০ সেকেন্ডে ১৫টি সিট আপ এবং নারী প্রার্থীদের ৩০ সেকেন্ডে ১০টি সিট আপ দিতে হবে।
    • ষষ্ঠ ইভেন্ট (ড্র্যাগিং): পুরুষ প্রার্থীদের ১৬০ পাউন্ড ওজনের টায়ার টেনে ৩০ ফুট দূরত্ব এবং নারী প্রার্থীদের ১২০ পাউন্ড ওজনের টায়ার টেনে ২০ ফুট দূরত্ব পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।
    • সপ্তম ইভেন্ট (রোপ ক্লাইমিং): এই পর্যায়ে একজন পুরুষ প্রার্থীকে নিয়ম মেনে ১২ ফুট এবং নারী প্রার্থীকে ৮ ফুট রোপ ক্লাইম্বিং করতে হবে বা দড়ি বেয়ে উঠতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনি একবার ব্যর্থ হলে আরেকবার রোপ ক্লাইমিং সুযোগ পাবেন।

    ইউটিউবে বাংলাদেশ পুলিশের অফিশিয়াল চ্যানেলে ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদের নিয়োগ পরীক্ষার ‘সর্বশেষ পরিবর্তিত পদ্ধতি’ নামের একটি অনুশীলন ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এই ভিডিও দেখলে Physical Endurance Test-এর ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। সে অনুসারে মূল পরীক্ষার আগে ন্যূনতম এক মাস নিয়মিত অনুশীলন করে যাবেন। আপনাদের সুবিধার্থে এই Video টি নিম্নে দেওয়া হল:

    ৫। ওয়েববেজড আবেদন ফরম পূরণ:

    শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা বা Physical Endurance Test-এর সাতটি ইভেন্টে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সব প্রাতিষ্ঠানিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, কম্পিউটার সনদ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ অন্য তথ্যাবলি ব্যবহার করে লিখিত মনস্তত্ত্বসহ কম্পিউটার দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন করে ৫৫০ টাকা ফি জমা দিতে হবে। তারপর লিখিত ও মনস্তত্ত্বসহ কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

    ৬। লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা:

    প্রার্থীদের তিনটি ধাপে মোট ২৫০ নম্বরের লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় প্রার্থীদের অংশ নিতে হবে। মূলত এই লিখিত পরীক্ষা চাকরি পাওয়ার মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাই এই অংশে ভালো করার বিকল্প নেই। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হলে অবশ্যই বিগত বছরের পরীক্ষাগুলো বিশ্লেষণ করতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে। সাব-ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন নিম্নরূপ-

    লিখিত পরীক্ষার বিষয়পূর্ণমান
    ইংরেজি এবং বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন১০০
    সাধারণ জ্ঞান ও গণিত১০০
    মনস্তত্ত্ব৫০

    লিখিত পরীক্ষার প্রথম দিন ইংরেজি ও বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন পরীক্ষা হবে এবং পরের দিন সাধারণ জ্ঞান, গণিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    ৭। কম্পিউটার দক্ষতার পরীক্ষা গ্রহণ:

    লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় (MS Office, Web Browsing, Troubleshooting) অংশগ্রহণ করতে হবে।

    ৮। বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা:

    কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নির্ধারিত স্থান, তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী ৫০ নম্বরের বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। লিখিত, মনস্তত্ত্বসহ বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে নিয়োগবিধি মোতাবেক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

    ৯। স্বাস্থ্য পরীক্ষা:

    প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ, সময় ও স্থানে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

    ১০। পুলিশ ভেরিফিকেশন:

    স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীরা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করবেন। পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

    ১১। ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন:

    উপরিউক্ত ১০ টি ধাপ সফলাভাবে অতিক্রম করার পর একজন প্রার্থী বাংলাদেশ পুলিশের এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। নির্বাচিত প্রার্থীদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণকালীন সরকারি বিধি মোতাবেক তারা প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

    সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) নিয়োগ প্রস্তুতির জন্য ১১ টি পরামর্শ:

    ১। প্রতিদিন দৌড়ানো: বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হতে গেলে শুধু বইয়ের পড়াশোনাই যথেষ্ট নয়। এখানে শারীরিক সক্ষমতাও জরুরি। এখানে (Physical Endurance Test – PET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য পুরুষ প্রার্থীদের ১ হাজার ৬০০ মিটার দৌড় ৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এবং নারী প্রার্থীদের ১ হাজার মিটার দৌড় ৭ মিনিটে অতিক্রম করতে হবে। তাই আজ থেকেই প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে দৌড়ানোর অভ্যাস করুন। হঠাৎ করে দৌড়ানো শুরু করলে এক দিনে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না এটাই স্বাভাবিক। তাই প্রতিদিন একটু একটু করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

    ২। জাম্পিং অনুশীলন: আপনারা ইতোমধ্যেই জেনেছেন যে সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষায় দুই ধরনের জাম্পে অংশগ্রহণ করতে হবে। যেগুলো হচ্ছে লং জাম্প ও হাই জাম্প। তাই এখন থেকে প্রতিদিনই জাম্প করার অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন অনুশীলন করলে সহজ সাবলীলভাবেই আপনি জাম্প করতে পারবেন। নির্দিষ্ট উচ্চতায় দড়ি বেঁধে হাই জাম্প এবং নির্দিষ্ট দূরত্বের পর দাগ দিয়ে লং জাম্প অনুশীলন করুন। এক্ষেত্রে জাম্প করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আঘাত এড়ানোর জন্য যেখানে আপনি ল্যান্ড করবেন সেখানে অবশ্যই নরম মাটি বা বালি রেখে অনুশীলন করুন।

    ৩। প্রতিদিন পুশআপ দিন: প্রতিদিন বেশি বেশি পুশ আপ অনুশীলন করার অভ্যাস করুন। পুশআপ নিয়মিত দিলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ে। তবে যাদের একদমই পুশআপ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নেই এবং একদমই পারছেন না তারা হাঁটু গেড়ে (knee push up) দিতে পারেন। এতে করে আপনার সক্ষমতা বাড়বে এবং আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ভাবে পুশ আপ দিতে পারবেন।

    ৪। সিট আপ দিন: পুশ আপ এর পাশাপাশি আপনাকে প্রতিদিন সিট আপেরও অনুশীলন করতে হবে। প্রতিদিন অনুশীলন করলে আপনি সহজেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ধাপ টি অতিক্রম করতে পারবেন। প্রথম দিকে সিট আপ দিতে একটু কষ্ট মনে হলেও আস্তে আস্তে এটি আপনার আয়ত্তে চলে আসবে।

    ৫। ড্র্যাগিং শিখুন: বাকি সবগুলো অনুশীলনের সাথে আপনি আগে থেকেই পরিচিত থাকলেও ড্র্যাগিং বিষয়টি আপনার জন্য একদমই নতুন। মনে রাখবেন ড্র্যাগিং শুধুমাত্র শক্তির পরীক্ষা নয় এটি একটি কৌশলেরও বিষয়। তাই আগে থেকে এটি না শিখলে আপনি (Physical Endurance Test – PET) পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন না। আর তাই পদার্থ বিজ্ঞানের বেসিক নলেজ কে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন পুরুষ প্রার্থীরা ১৬০ পাউন্ড এবং নারী প্রার্থীরা ১২০ পাউন্ডের টায়ারকে টেনে নেওয়ার জন্য নিয়মিত চর্চা করুন।

    ৬। দড়ি বেয়ে উঠুন: নিয়মিত দড়ি বেয়ে নির্দিষ্ট উচ্চতায় উঠার অভ্যাস করুন। আগে থেকে অভ্যাস না করলে দড়ি বেয়ে উঠার পরীক্ষায় আপনার অকৃতকার্য হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। দড়ি বেয়ে উপরে উঠার ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগের সাথে সাথে কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। এখানেও পদার্থ বিজ্ঞানের বেসিক নলেজ আপনার কাজে আসবে। ইউটিউবে সার্চ করেও Rope Climbing এর কিছু টিপস দেখে নিতে পারেন।

    ৭। বিগত সালের প্রশ্ন অনুশীলন: বিগত সালের প্রশ্নের প্যাটার্ন অনুসরণ করলে দেখা যায় যে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের নিয়োগ পরীক্ষায় কমন কয়েকটি টপিক থেকেই বেশি প্রশ্ন এসে থাকে। বিগত সালের প্রশ্ন নিয়মিত অনুশীলন করলে আপনি ভালো ধারণা পাবেন। তাই বিগত সালের প্রশ্নগুলো নিয়মিত অনুশীলন করুন।

    ৮। নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন: চাকরির প্রস্তুতির জন্য দৈনিক পত্রিকা খুব ভালো একটা মাধ্যম। নিয়মিত পত্রিকা পড়লে সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি অনেকাংশে হয়ে যাবে। তাই মনোযোগ দিয়ে নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। এবং পত্রিকা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ও তথ্য নোট করে রাখতে হবে।

    ৯। নিয়মিত গণিত অনুশীলন: বিগত সালের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কয়েকটি কমন টপিক থেকেই বারবার গণিতের প্রশ্ন এসে থাকে। যেমন গ.সা.গু ও ল.সা.গু, ভগ্নাংশ, সরলীকরণ, ঐকিক নিয়ম, গড়, অনুপাত ও সমানুপাত, শতকরা ও লাভ ক্ষতি, সুদকষা, পরিমাপ, ক্ষেত্রফল ইত্যাদি। নির্ভুল ভাবে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য এই বিষয়টি অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে একটু বেশিই চর্চা করতে হয়।

    ১০। কম্পিউটার টাইপিং শিখুন: শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা, লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় অনেকে উত্তীর্ণ হলেও শুধুমাত্র কম্পিউটারে ভালো দক্ষতা না থাকার জন্য অনেক প্রার্থীই সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই অংশে বাদ পরে যায়। তাই নিয়মিত কম্পিউটারে বাংলা ও ইংরেজিতে দ্রুত গতিতে টাইপ করা এবং বেসিক ট্রাবলশুট সলভ করা শিখুন। আপনার কাছে কম্পিউটার না থাকলে নিকটস্থ ডাক বিভাগের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়েও এটি অনুশীলন করতে পারেন।

    ১১। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের অভ্যাস: সাব-ইন্সপেক্টরের লিখিত পরীক্ষায় বসতে হলে আপনাকে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। তাই এখানে শারীরিক ফিটনেস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান, পর্যাপ্ত ঘুমান। তা ছাড়া ওজন বাড়ানো বা কমানোর প্রয়োজন হলে সেটির দিকে গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগ দিতে হবে। আজ থেকেই স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের অভ্যাস করুন।

    সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি:

    বাংলাদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত খুব বেশি গভীর থেকে প্রশ্ন করা হয় না। একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারলে এই ধাপটি খুব সহজেই অতিক্রম করা যায়। এই পর্যায়ে সাধারণত প্রত্যেক বিষয়ের বেসিক থেকে প্রশ্ন করা হয়। কর্তৃপক্ষ লিখিত পরীক্ষার জন্য শুধু বিষয়ের নাম ও সিলেবাস দিয়েছে, কিন্তু নির্দিষ্ট বিষয়ের অভ্যন্তরীণ কোন টপিক থেকে প্রশ্ন আসবে তা দেয় নি। যেহেতু টপিক ফিক্সড না সেহেতু মূল পরীক্ষায় প্রশ্নের প্যাটার্ন ও টপিকের পরিবর্তন হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে সমন্বিত প্রস্তুতি একটি ভালো প্রস্তুতি নিতে পারলে যেকোনো প্যাটার্নের প্রশ্নেই ভালো পরীক্ষা সম্ভব। তাই এখানে বিগত সালের পরীক্ষা প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে সকল টপিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (বাংলা):

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে সর্বমোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। বিগত সালের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাংলা বিষয়ের নিম্নোক্ত টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন আসতে দেখা গিয়েছে –

    • রচনা: সাধারণত দুটি রচনা থাকে, যেকোনো একটি রচনার উত্তর করতে হয়। রচনাটি ১০/১৫ নম্বরের হতে পারে।
    • ভাবসম্প্রসারণ: সাধারণত ১০ নম্বরের একটি ভাব-সম্প্রসারণ থাকে এবং সেটির উত্তর করতে হয়।
    • ব্যাকরণ: ব্যাকরণ থেকে সবসময়ই ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। অধিকাংশ পরীক্ষায় এক কথায় প্রকাশ, বাগধারার অর্থসহ বাক্য রচনা আসে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সন্ধি, সমাস, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ প্রভৃতি ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ টপিক থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
    • সাহিত্য: সাধারণত সাহিত্য থেকে কম প্রশ্ন আসে। তবে সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ ২০২১ পরীক্ষায় ১০ নম্বরের সাহিত্যের প্রশ্ন এসেছে।
    • অনুবাদ: সবসময়ই ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ পরীক্ষায় এসে থাকে। অনুবাদটি ১০/১৫ নম্বরের হতে পারে।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত বাংলা অংশে ভালো করতে আমাদের পরামর্শ:

    • বাংলা রচনার জন্য সমসাময়িক এবং জাতীয় সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে জোর দিতে হবে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত, পুলিশ সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখে যেতে হবে।
    • ভাব-সম্প্রসারণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভাব-সম্প্রসারণ অনুসরণ করলেই চলবে।
    • ব্যাকরণ অংশে এককথায় প্রকাশ, অর্থসহ বাক্য রচনা, বাগধারা, সন্ধি, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, সমাস, কারক, উপসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয় প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ে যাবেন।
    • সাহিত্যে অংশে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম এবং আধুনিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম দেখে যাবেন।
    • অনুবাদের জন্য বেশি বেশি অনুশীলনের বিকল্প নেই।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (ইংরেজি): 

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে ইংরেজি অংশের জন্য সর্বমোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিম্নের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সাজানো হয়েছে:

    • Essay: সাধারণত দুটি Essay থাকে, যেকোনো একটি Essay এর উত্তর করতে হয়। Essay-টি ১০/১৫ নম্বরের হতে পারে।
    • Passage: মাঝেমধ্যে ১০ নম্বরের একটি Passage থাকে, যার মধ্যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়।
    • Grammar: সবসময়ই Grammar থেকে ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে Fill in the gap এবং Make sentences with Idioms থেকে প্রশ্ন আসে।
    • Letter: ১০ নম্বরের একটি Lettter প্রায়ই আসে।
    • Translation: প্রতিবারই ১০/১৫ নম্বরের বাংলা থেকে ইংরেজি Translation আসে।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত বাংলা অংশে ভালো করতে আমাদের পরামর্শ:

    • রচনার জন্য সমসাময়িক এবং জাতীয় সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে জোর দিতে হবে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত, পুলিশ সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখে যেতে হবে।
    • Grammar এর ক্ষেত্রে Appropriate preposition, Idioms and Phrases, Parts of Speech, Article, Preposition, Fill in the gap, Vocabulary, Number, Tense, Verb, Sentence correction প্রভৃতি অংশ ভালোভাবে দেখে যাবেন।
    • অনুবাদের জন্য বেশি বেশি অনুশীলনের বিকল্প নেই।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (সাধারণ জ্ঞাণ): 

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞাণ অংশে সর্বমোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে মোট ৪ ধরনের প্রশ্নের প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। যা নিম্নে আলোচনা করা হল – 

    • বিশ্লেষণমূলক প্রশ্ন: ১০ নম্বর করে মোট ২০ নম্বরের দুটি বিশ্লেষণমূলক/রচনামূলক প্রশ্ন থাকতে পারে। একটি বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং একটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে প্রশ্ন আসে।
    • সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন: বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশ থেকে মোট ১০ নম্বরের ৫/১০টি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশ থেকে মোট ১০ নম্বরের ৫/১০টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন অর্থাৎ ২০ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
    • টীকা: সাধারণত ৪/৫টি টীকা আসে, মোট নম্বর থাকে ১০.
    • পূর্ণরূপ: মাঝেমধ্যে ৫/১০ নম্বরের বিভিন্ন টার্মের পূর্ণরূপ আসতে দেখা যায়।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত সাধারণ জ্ঞাণ অংশে ভালো করতে আমাদের পরামর্শ:

    • সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো দেখে যাবেন।
    • মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি দেখে যাবেন।
    • বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশ-সম্পর্কিত তথ্য জেনে যাবেন।
    • বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং গুরত্বপূর্ণ টার্মের পূর্ণরূপ দেখে যাবেন।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (সাধারণ গণিত):

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে সাধারণ গণিত অংশের জন্য সর্বমোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিম্নের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সাজানো হয়েছে:

    • পাটিগণিত: গণিতের মধ্যে সব পরীক্ষায় পাটিগণিত থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে। সর্বনিম্ন ২০ থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্ন পাটিগণিত থেকে আসতে পারে। তাই অংশকে ভালোভাবে জোড় দিয়ে পড়তে হবে।
    • বীজগণিত: বীজগণিত থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। ১০ থেকে ২০ নম্বরের বীজগণিতের প্রশ্ন থাকতে পারে।
    • জ্যামিতি: জ্যামিতি থেকে সবসময় প্রশ্ন আসে না। মাঝেমধ্যে জ্যামিতির বেসিক অংশ থেকে ১০ নম্বরের প্রশ্ন আসতে পারে।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত সাধারণ গণিত অংশে ভালো করতে আমাদের পরামর্শ:

    • পাটিগণিত অংশে বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু/গ.সা.গু, মুনাফা, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত-সমানুপাত, পরিমাপ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো করবেন।
    • বীজগণিত অংশে উৎপাদক, মান নির্ণয়, সরল সহ সমীকরণ, সূচক, লগারিদম প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো বার বার করে যাবেন।
    • জ্যামিতি অংশে পরিমিতি, গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য, গুরুত্বপূর্ণ জ্যামিতিক সংজ্ঞা দেখে যাবেন।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (মনস্তত্ত্ব):

    সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ধাপে মনস্তত্ত্ব অংশের জন্য সর্বমোট ৫০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে নিম্নের গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সাজানো হয়েছে:

    মনস্তত্ত্বের টপিকসমূহ:

    • মনস্তত্ত্বের টপিক বিসিএস পরীক্ষার প্রিলি ও লিখিত মানসিক দক্ষতার টপিকের সাথে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
    • বেশিরভাগ প্রশ্ন ২ নম্বর করে থাকে, কয়েকটা ১/৩ নম্বরের হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে ২২ ২৫টি প্রশ্ন থাকে।
    • প্রশ্নগুলো এমসিকিউ এবং লিখিত উভয় প্যাটার্নেই থাকে। অর্থাৎ কিছু প্রশ্নের উত্তর বৃত্ত ভরাট করতে হয়, আবার কিছু প্রশ্নের উত্তর সরবরাহকৃত উত্তরপত্র লিখতে হয়।

    সাব ইন্সপেক্টর লিখিত সাধারণ মনস্তত্ত্ব অংশে ভালো করতে আমাদের পরামর্শ:

    মনস্তত্ত্বে সাধারণত ভাষা ও সাহিত্য, সাদৃশ্য বিচার, সাংকেতিক বিন্যাস বা পুনর্বিন্যাস, সম্পর্ক ও বিশেষত্ব নির্ণয়, অসম্ভাব্যতা বিচার, বর্ণবিন্যাস ও শব্দ গঠন, গাণিতিক যুক্তি, জ্যামিতির মৌলিক বিষয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হয়। বিসিএসের জন্য প্রচলিত প্রস্তুতি নিলেই এ অংশের প্রস্তুতি হয়ে যাবে। লিখিত প্রস্তুতির জন্য রেফারেন্সের তালিকা:

    • বাংলা: ৯ম-১০ম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বই; বাজারে প্রচলিত ভালোমানের গাইডবই।
    • ইংরেজি: যেকোনো ভালো লেখকের গ্রামার বই; বাজারে প্রচলিত নির্ভরযোগ্য যেকোনো গাইডবই। আবার Live MCQ English Wizard Grammar by Saleh Ahmed এই বইটি ফলো করতে পারেন।
    • সাধারণ জ্ঞান: ৯ম-১০ম শ্রেণির ইতিহাস ও বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় বই; বাংলাপিডিয়া ও নির্ভরযোগ্য যেকোনো তথ্যকোষ; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র; বাজারে প্রচলিত নির্ভরযোগ্য যেকোনো গাইডবই।

    এসআই পদে চাকরি পাওয়ার পর যে যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়:

    ১ বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ চলাকালীন সুযোগ সুবিধাসমূহ:

    • বিনা মূল্যে খাবার
    • বিনা মূল্যে বাসস্থান
    • বিনা মূল্যে ইউনিফর্ম
    • বিনা মূল্যে চিকিৎসা
    • সরকারি বিধি মোতাবেক নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ভাতা

    প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগদান করার পর সুযোগ সুবিধাসমূহ:

    • টিএ/ডিএ বিল।
    • পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা।
    • মামলা বিল (তবে এই বিল দুটি বেতনের সাথে পাবেন না। ২-৩ মাস পরপর আলাদাভাবে ভাউচার করে তুলতে হবে।)
    • হরতাল অবরোধের সময় স্পেশাল ডিউটির জন্য বিশেষ এলাউন্স।
    • ইউনিট অনুসারে পোস্টিংয়ের জন্য বিশেষ ভাতা।
    • এখানে চাকরির বৈচিত্র্য আছে। আপনি চাইলে ইউনিফর্ম পরে থানায় ব্যস্ততম জীবন-যাপন করতে পারেন অথবা পুলিশের অন্য ইউনিট-এ সিভিলের মতো এসি রুমে ৯টা-৫টা অফিস করতে পারেন।
    • রেশন: সাধারনত রেশন হিসেবে, চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদি এবং ঈদের সময় স্পেশাল রেশন হিসাবে সেমাই, পোলাও চাল ইত্যাদি পাবেন।
    • পোশাক: সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর দুই সেট পুলিশ পোশাক পাবেন। সকালে ব্যায়াম করার জন্য একজোড়া কেডস জুতা এবং নিত্য ব্যবহার্য হিসাবে তোয়ালে, মশারি, বুট জুতা, মোজা, জুতার ব্রাস ও কালি পাবেন।
    • মিশন: আপনার চাকরির বয়স ৫ বছর পূর্ণ হলে যোগ্যতা অনুসারে আপনি জাতিসংঘের SAT Mission-এ যেতে পারবেন । এই মিশন ১ বছর সময়কালের হয়ে থাকে। এই এক বছর প্রতি দিন ১৪৩ ইউএস ডলার বেতন ও ভাতা পাবেন। অর্থাৎ এক বছরে বাংলাদেশি টাকার হিসাবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মতো বেতন ও ভাতা পাবেন। চাকরি জীবনে মোট ৩টি SAT Mission-এ যাবার সুযোগ পেতে পারেন। এছাড়া FPO মিশনেও যাবার সুযোগ পাবেন। এক বছর মেয়াদি এই মিশনে গেলে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মতো আয় করতে পারবেন।
    • চিকিৎসা সুবিধা: উন্নত চিকিৎসা সুবিধা সম্পন্ন রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

    সাব ইন্সপেক্টর এর বেতন ও গ্রেড:

    দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলে আপনি ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। এক্ষেত্রে আপনার পোস্টিং যদি DMP-তে হয় তাহলে আপনি ১৬০০০ টাকা বেসিকে ৩০,০০০ টাকার কিছু বেশি টাকা বেতন হিসাবে পাবেন। আর DMP বাইরে পোস্টিং হলে ঐ একই বেসিকে ২৮০০০ টাকার কিছু বেশি বেতন হিসাবে পাবেন।

    সাব ইন্সপেক্টর (এস আই) থেকে পদোন্নতি:

    সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে অনেকে ৬/৭ বছর চাকরি করেই ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়েছেন দেখা যায়। বাংলাদেশ পুলিশে সাব ইন্সপেক্টর পদবিতে দুই ধরনের কর্মকর্তা থাকেন। একদল রয়েছেন বিভাগীয় কর্মকর্তা, অর্থাৎ যারা কনস্টেবল পদে যোগদান করে একাধিক পদোন্নতি পেয়ে সাব ইন্সপেক্টর হয়েছেন। আরেকদল হচ্ছেন যারা সরাসরি সাব ইন্সপেক্টর পদেই পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন।

    বর্তমান নিয়মে বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে ৪ (চার) বছর কর্মরত থাকার পরে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্য হন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত থাকে যে, এর আগে তাঁদের এক বছর মেয়াদি ডি.সি. (Departmental Cadet) কোর্স সম্পন্ন করা থাকতে হবে।

    অপরদিকে, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) গণ ৫ বছর পরে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। উভয় ধারার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) গণ একই সাথে একই প্রশ্নমালায় পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশ নেন। এতে মোট ৩টি বিষয়ের সবগুলোতে (এক বা একাধিক প্রচেষ্টায়) সফলভাবে পাশ করার পর শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পাওয়া যায়।এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে ইন্সপেক্টর মানেই (ওসি) নয়। বর্তমানে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত (নিরস্ত্র শাখার) ইন্সপেক্টর গণ সাধারণত প্রথমে যেসব পদায়ন পান, সেগুলোর মাঝে কয়েকটি হলো—

    • বিভিন্ন (পুরাতন) ফাঁড়ি/ তদন্ত কেন্দ্র/ টি.ও.পি. ইত্যাদির ইনচার্জ
    • বিভিন্ন থানায় তদন্ত/ অপারেশন/ সি.পি.আই. পরিদর্শক,
    • সার্কেল অফিস, অপরাধ শাখা, প্রসিকিউশন, ডি.এস.বি., ডি.বি., পি.বি.আই., সি.আই.ডি. ইত্যাদি শাখা/ইউনিটে পরিদর্শক সহ আরো নানাবিধ পদায়ন।

    অর্থাৎ, সাধারণত কেউই এসআই হতে ইন্সপেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরপরই কোনো জেলা/মেট্রো থানার ও.সি. হিসেবে পদায়ন পান না। এমনকি (নিরস্ত্র শাখারও) অনেক ইন্সপেক্টর হতো তাঁদের চাকরিজীবনের কখনোই ও.সি. হিসেবে পদায়ন পান না, পান নাই, পাবেন না। আর, “শহর ও যান” শাখা এবং “সশস্ত্র” শাখার ইন্সপেক্টর গণ সাধারণভাবেই কোনো জেলা/মেট্রো থানার ও.সি. হিসেবে পদায়ন পান না।

    বাংলাদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদ টি নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্ন ও উত্তর:

    প্রশ্ন: এ এস আই এর পূর্ণরূপ কি?

    উত্তর: এস আই এর পূর্ণরূপ সাব ইন্সপেক্টর (Sub Inspector)। সাব ইন্সপেক্টর বা (এসআই) বাংলাদেশ পুলিশের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

    প্রশ্ন: সাব ইন্সপেক্টর এর কাজ কি?

    উত্তর: পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে নিরীক্ষণ ও তদন্তের দেখভাল করা।

    প্রশ্ন: সাব ইন্সপেক্টর নিরস্ত্র মানে কি?

    উত্তর: বাংলাদেশ পুলিশের সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুটি শাখা রয়েছে। সশস্ত্র শাখার সদস্যরা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত থাকেন। বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রদান এই শাখার মূল দায়িত্ব। কনস্টেবল থেকে পদোন্নতির সময় সশস্ত্র ও নিরস্ত্র দুটি শাখায় আলাদা করে পদোন্নতি ও পদায়ন করা হয়। সাব-ইন্সপেক্টর পদে শুধু নিরস্ত্র শাখায় কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। নিরস্ত্র শাখার পুলিশ সদস্যদের থানায় পদায়ন করা হয়। মামলার তদন্তকাজ নিরস্ত্র শাখার প্রধান দায়িত্ব।

  • উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | সম্পূর্ণ গাইডলাইন

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি | সম্পূর্ণ গাইডলাইন

    প্রিয় চাকরি প্রার্থীগণ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাদের স্বাগতম। আপনারা জানেন যে সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ২ হাজার ৩৬০ টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এই বিজ্ঞপ্তি টি প্রকাশের পর থেকে আমাদের কাছে এই পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়ে অসংখ্য প্রশ্ন আসে যার প্রেক্ষিতে আমরা এই ব্লগ টি প্রকাশ করছি।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদটির আরও বিভিন্ন নাম রয়েছে। যার মধ্যে উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা, এবং উপসহকারী প্রশিক্ষক অন্যতম। পূর্বে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর অধীনে এই পদের নিয়োগ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এবং এইবার দ্বিতীয় বারের মতো এই পরীক্ষাটি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসি এর অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।

    তাই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ প্রত্যাশীদের খুব ভালোভাবে গোছানো একটি প্রস্তুতি নিতে হবে। একটু কৌশলী এবং গোছানো প্রস্তুতি নিলে এই পদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সহজেই উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব। আজকের এই আর্টিক্যাল টি পড়ার পর উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে একটি রোডম্যাপ পেয়ে যাবেন। তাই সম্পূর্ণ আর্টিক্যাল টি গুরুত্বসহকারে পড়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হল।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দ্বায়িত্ব ও কাজ:

    সরকারের কৃষি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ কে মাঠপর্যায়ে থেকে বাস্তবায়ন করাই একজন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাজ। নিম্নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দ্বায়িত্ব ও কাজ নিয়ে আলোচনা করা হল –

    • কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বিভিন্ন পরিকল্পনা সরাসরি কৃষক পর্যায়ে সরাসরি কৃষক পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতা করা।
    • মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা, সমাধানে সহযোগিতা করা এবং প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা।
    • সকল শ্রেণির কৃষককে কৃষি সম্প্রসারণ সেবা প্রধান করার পাশাপাশি কৃষকদের মাঠ ফসল ও উদ্যানত্বত্তিক ফসলের সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা করা।
    • কৃষকদের তথ্য ও চাহিদার ভিত্তিতে মৌসুমভিত্তিক উৎপাদন কর্মকান্ড পরিচালনায় সহযোগিতা করা। প্রয়োজনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা জন্য প্রদর্শনী, উদ্ভুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ ও সভা, দলীয় আলোচনা, অংশীদারিত্বমূলক ছোট আকৃতির পরীক্ষামূলক প­ট স্থাপন এবং মাঠ দিবস পরিচালনা ইত্যাদি কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।
    • বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন – বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি সংগঠিত হলে তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন জরিপ কার্য সম্পাদন করা।
    • দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লকের বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে এসএএও ডায়রিতে সংরক্ষণ করা। যেমন: প্রাকৃতিক সম্পদ, আবাদি জমির পরিমাণ, জনসংখ্যা, প্রচলিত শস্য বিন্যাস, বিভিন্ন উপকরণ চাহিদা, ঋণ প্রাপ্তির সুবিধা-অসুবিধা, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ পদ্ধতি, কৃষি প্রযুক্তি ব্যাবহারকারী কৃষকের সংখ্যা ও তাদের সফলতার চিত্র ইত্যাদি।
    • বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক সংস্থার সহযোগিতা ও তথ্যাদি পেতে কৃষকদের সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত খামার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
    • খাদ্য শস্য ও ফলমূল সহ বিভিন উৎপাদিত ফসলের নমুনা সংগ্রহ করে মোট উৎপাদন নির্নয় করে উপজেলায় প্রেরণ করা।
    • ব্লকের বীজ, সার, বিদ্যুৎ, ডিজেল সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণের দৈনন্দিন পরিস্থিতি উপজেলা কৃষি অফিসার, সার পরিদর্শক, কীটনাশক পরিদর্শককে অবহিত রাখা।
    • ইউনিয়ন কৃষি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে বিভিন্ন সভা আয়োজন করা এবং কার্য বিবরণী উপজেলা কৃষি কমিটির সভাপতির কাছে প্রেরণ করা।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ যোগ্যতা:

    সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি রয়েছে। যার মধ্যে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, এবং নাগরিকত্ব অন্যতম। নিম্নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ যোগ্যতা আলোচনা করা হল –

    যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইন্সটিটিউট থেকে কৃষি বিজ্ঞানে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমাধারী অনধিক ৩০ বছর বয়সী প্রার্থীরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য এই বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি:

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষাটি মূলত ৩ টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, দ্বিতীয় ধাপে প্রিলিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তৃতীয় ধাপে ৫০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর বরাদ্দ এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা হয়ে থাকে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় বসতে হবে।

    ধাপপরীক্ষার নামমোট নম্বর
    ১ম ধাপপ্রিলিমিনারি পরীক্ষা১০০
    ২য় ধাপলিখিত পরীক্ষা২০০
    ৩য় ধাপমৌখিক পরীক্ষা৫০

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও মান বন্টন:

    ইতোমধ্যে আপনারা জেনে গেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সর্বমোট ১০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন আসে। যার মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞাণ, কৃষি এই ৪ টি বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এখানে গণিত থেকে কোন প্রশ্ন আসে না।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন

    বিষয় নম্বর
    বাংলা২০
    ইংরেজি২০
    সাধারণ জ্ঞান২০
    কৃষি৪০
    সর্বমোট১০০

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সম্ভাব্য সাজেশন:

    উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাজেশন: (বাংলা)

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলা বিষয় থেকে বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা সাহিত্য অংশ থেকে প্রশ্ন এসে থাকে। নিম্নে এই পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপুর্ণ টপিক গুলো নিয়ে সাজেশন দেওয়া হল-

    বাংলা ব্যাকরণ

    বাংলা ব্যাকরণ১। প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ,  ২। বানান ও বাক্যশুদ্ধি, ৩। পরিভাষা, ৪। সমার্থক শব্দ, ৫। বিপরীত শব্দ, ৬। ধ্বনি ও বর্ণ, ৭। ণ ত্ব ও ষ ত্ব বিধান, ৮। শব্দ, ৯। পদ, ১০।  বাক্য, ১১। প্রত্যয়, ১২। সন্ধি, ১৩। সমাস, ১৪। উপসর্গ, ১৫। বাগধারা, ১৬। বাক্য সংকোচন, ১৭। কারক, ১৮। প্রবাদ প্রবচন ও বিবিধ

    বাংলা সাহিত্য

    প্রাচীন যুগচর্যাপদ (বিস্তারিত)
    মধ্যযুগ:শ্রীকৃষ্ণকীর্তন;মঙ্গলকাব্য;অনুবাদ সাহিত্য;নাথ সাহিত্য;লোকসাহিত্য;আরাকান রাজসভা;মর্সিয়া সাহিত্য;বৈষ্ণব সাহিত্য;কবিয়াল ও শায়ের (পুথিঁ সাহিত্য)
    আধুনিক যুগভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থাবলি ও সাহিত্য;বিভিন্ন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান (ফোর্ড উইলিয়াম কলেজ, ইয়ং বেঙ্গল, বঙ্গীয় ও মুসলিম সাহিত্য সমিতি, ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমি)গুরুত্বপুর্ণ সাহিত্যিক: ১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর২। কাজী নজরুল ইসলাম৩। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর৪। জসীম উদদীন৫। মাইকেল মধুসূদন দত্ত৬। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৭। মীর মশাররফ হোসেন৮। দীনবন্ধু মিত্র৯। বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন১০। কায়কোবাদ১১। ফররুখ আহমদ১২। ঈশ্বরচন্দ্রগুপ্ত১৩। বিহারী লাল চক্রবর্তী১৪। প্রমথ চৌধুরী১৫। নজিবর রহমান১৬। জীবনানন্দ দাশ১৭। শরৎচন্দ্র১৮। বিষ্ণু দে১৯। অমিয় চক্রবর্তী২০। বুদ্ধদেব বসু২১। হুমায়ুন আহমেদ

    বাংলা রেফারেন্স বই সমূহ:

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগের বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য নিম্নের বুক লিস্ট টি অনুসরণ করতে পারেন।

    • বাংলা ব্যাকরণ ৯ম-১০ম শ্রেনীর বোর্ড বই (নতুন সংস্করণ);
    • হুমায়ূন আজাদের লাল নীল দীপাবলি;
    • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – ড. সৌমিত্র শেখর।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাজেশন: (ইংরেজি)

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনার পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ের ২ টি অংশ (ইংরেজি ভাষা, ইংরেজি সাহিত্য) থেকে প্রশ্ন এসে থাকে। নিম্নে এই পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপুর্ণ টপিক গুলো নিয়ে সাজেশন দেওয়া হল-

    ইংরেজি ভাষা

    Parts of SpeechThe Noun: The Determiner, The Gender, The Number The Pronoun The Verb:The Finite: transitive, intransitiveThe Non-finite: participles, infinitives, gerund The Linking Verb The Phrasal Verb Modals The AdjectiveThe Adverb The Preposition The Conjunction
    Idioms & PhrasesMeanings of Phrases Kinds of Phrases Identifying Phrases
    ClausesThe Principal Clause The Subordinate Clause: The Noun Clause The Adjective Clause The Adverbial Clause & its types
    CorrectionsThe Tense The Verb The Preposition The Determiner The Gender The Number Subject-Verb Agreement
    Sentences & TransformationsThe Simple Sentence The Compound Sentence The Complex Sentence The Active Voice The Passive Voice The Positive Degree The Comparative Degree The Superlative Degree
    WordsMeanings Synonyms Antonyms Spellings Usage of words as various parts of speech Formation of new words by adding prefixes and suffixes

    ইংরেজি সাহিত্য

    • Names of writers of literary pieces from Elizabethan period to the 21st Century.
    • Quotations from drama/poetry of different ages.

    ইংরেজি রেফারেন্স বই সমূহ:

    1. High School English Grammar and Composition by Wren and Martin,
    2. Advanced Learner’s Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain,
    3. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hossain,
    4. Applied English Grammar and Composition by P. C. Das,
    5. Live MCQ English Wizard Grammar – Saleh Ahmed

    Live MCQ English Wizard Grammar Book – Sample PDF

    [dflip id=”7551″][/dflip]

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাজেশন: (সাধারণ জ্ঞাণ)

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ও সাধারণ বিজ্ঞান অংশ থেকে সর্বমোট ২০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। উক্ত পদের পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপুর্ণ সাধারণ জ্ঞানের টপিকগুলো নিম্নে দেওয়া হল:

    বিষয়টপিক
    বাংলাদেশ বিষয়াবলিবাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি: প্রাচীনকাল হতে সম-সাময়িক কালের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি।বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদবাংলাদেশের জনসংখ্যা, আদমশুমারি, জাতি, গোষ্ঠী ও উপজাতি সংক্রান্ত বিষয়াদিবাংলাদেশের অর্থনীতিবাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যবাংলাদেশের সংবিধানবাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাবাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থাবাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনাসমূহ, জাতীয় পুরস্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলাসহ চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি।বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ববাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ। বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন: আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস্য ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব।প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা: দুর্যোগের ধরন, প্রকৃতি ও ব্যবস্থাপনা।
    আন্তর্জাতিক  বিষয়াবলিবৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক।বিশ্বের সাম্প্রতিক ও চলমান ঘটনাপ্রবাহ।আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি।আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি।বিশ্বের উল্লেখযোগ্য স্থাপনা, বৃহত্তম, ক্ষুদ্রতম, দীর্ঘতম ইত্যাদি। বিখ্যাত দেশ, মহাদেশ, স্থান, মালভূমি, সমভূমি এবং ভৌগোলিক পরিচিতি।
    সাধারণ বিজ্ঞানভৌত বিজ্ঞান: পদার্থের অবস্থা, এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, ভৌত রাশি এবং এর পরিমাপ, ভৌত বিজ্ঞানের উন্নয়ন, চৌম্বকত্ব, তরঙ্গ এবং শব্দ, তাপ ও তাপগতি বিদ্যা, আলোর প্রকৃতি, স্থির এবং চল তড়িৎ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস এবং এর প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর, আলোক যন্ত্রপাতি, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, তড়িৎ চৌম্বক, ট্রান্সফরমার, এক্সরে, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি।  জীব বিজ্ঞান: পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, হৃদপিণ্ড এবং হৃদরোগ, স্নায়ু এবং স্নায়ুরোগ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, মাইক্রোবায়োলজি, প্লান্ট নিউট্রেশন, পরাগায়ন ইত্যাদি। আধুনিক বিজ্ঞান: পৃথিবী সৃষ্টির ইতিহাস, কসমিক রে, ব্লাক হোল, হিগের কণা, বারিমণ্ডল, টাইড, বায়ুমণ্ডল, টেকটোনিক প্লেট, সাইক্লোন, সুনামি, বিবর্তন, সামুদ্রিক জীবন, মানবদেহ, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, জোয়ার-ভাটা, এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার, ডায়োড, ট্রানজিস্টর, আইসি, আপেক্ষিক তত্ত্ব, ফোটন কণা ইত্যাদি।

    সাধারণ জ্ঞান রেফাররেন্স বই ও ওয়েবসাইট:

    • ৬ষ্ঠ – ১০ম শেণি পর্যন্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), 
    • বাংলাপিডিয়া, 
    • সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট, দৈনিক পত্রিকা এবং যেকোনো গাইডবই।
    • ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। (আন্তর্জাতিক অংশের জন্য)

    [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাজেশন: (বিষয়ভিত্তিক কৃষি)

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বিষিয়ভিত্তিক (কৃষি) অংশ থেকে সর্বমোট ৪০ নম্বরের প্রশ্ন আসে। কৃষির বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ন টপিকগুলো নিয়ে কৃষি বিষয়ভিত্তিক সাজেশন নিম্নে দেওয়া হল:

    বাংলাদেশের কৃষি পরিচিতিবাংলাদেশে কৃষিশিক্ষার ক্রমবিকাশ, গুরুত্ব, ইতিহাস, প্রয়োজনীয়তা, পদক্ষেপ, কৃষির সমস্যা, সমাধানের উপায় এবং গুরুত্ব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, গুরুত্ব, মৌসুমী জলবায়ুর গুরুত্ব  ইত্যাদি। 
    মৃত্তিকা বিজ্ঞান(মাটির ভৌত বৈশিষ্ট্য মাটির কণা, মাটির গঠন, pH,মাটির অম্লত্ব, ক্ষারত্ব, লবণাক্ততা, মাটির উর্বরতা, মাটি ক্ষয়, অনুজীব সার, নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ,, মাটির জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক, ইত্যাদি )
    মাঠ ফসলের চাষাবাদধান, পাট, গম, মসুর, আখ, সরিষা এবং তুলা, আলু, টমেটো, মটর ও মটরশুটির উৎপাদনের বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক নাম ইত্যাদি। 
    ফুল ও ফল ও মসলা জাতীয় ফসল চাষাবাদফুল চাষ-গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, বেলি ইত্যাদি ফুল বিবেচনা করে জমি তৈরি, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ, বীজের হার, বিভিন্ন প্রকার মসলার চাষ পদ্ধতি, মাটি নির্বাচন ও সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি
    ফসলের রোগ-পাকামাকড় ও বালাই ব্যবস্থাপনাউদ্ভিদ ও বিভিন্ন ফসলের বিভিন্ন রোগের নাম, অনিষ্টকারী পোকার নাম, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি
    উদ্যান নার্সারি ব্যবস্থাপনানার্সারি, বৃক্ষরোপন, পানি নিস্কাশন, বীজ শোধন, বীজ বপন, চারা উৎপাদন, আদর্শ বীজতলা, ছাঁটাইকরণ
    উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনাউদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের কাজ, উৎস, অভাবজনিত লক্ষণ, প্রতিকার, আয়ন শোষন পদ্ধতি, উদ্ভিদের মুখ্য ও গৌণ পুষ্টি উপাদান, জৈব ও অজৈব সার, বিভিন্ন সারের কাজ, অভাবজনিত লক্ষণ ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলাফল, ক্ষতিকর সার ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
    গৃহপালিত পশুপাখি পালন ও মাছ চাষপশুপাখি ও মাছের বিভিন্ন দেশীয় ও উন্নত জাত, রোগ ও প্রতিরোধ, প্রতিপালন ও উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ, সমন্বিত মাছ চাষ
    ফসল সংগ্রহ ও বীজ প্রযুক্তিবীজ শোধন, বীজ বপন ও চারা উৎপাদন, রোপণ পদ্ধতি, বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরীক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, ফসল সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বিপণন, কৃষিতে জৈবপ্রযুক্তি, GMO, টিস্যু কালচার ইত্যাদি
    কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচকৃষির যান্ত্রিকীকরণের ভবিষ্যৎ ও সম্ভবনা বা অগ্রগতি এবং সরকারের পদক্ষেপ, পানি সেচ ও নিস্কাশনের গুরুত্ব, পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা, প্রকারভেদ, সুবিধা, তাৎপর্য, কার্যকারিতা, SRI পদ্ধতি ও AWD পদ্ধতি ইত্যাদি
    খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণবিভিন্ন প্রকার খাদ্য, ফলমূলের সংরক্ষণ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ পদ্ধতি ইত্যাদি
    আগাছা দমনকীটপতঙ্গ ও রোগের ধারণা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশকের ধরন ইত্যাদি
    ফসলের জাতের নামবিভিন দেশীয় এবং বিদেশী ফসলের জাতের নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, উৎস, বিপণন, রোগ, প্রতিকার এবং বাজারজাতকরণ ইত্যাদি।
    উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াউদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ ও রোগের প্রকারভেদ, সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন, ট্রান্সপিরেশন, ফটোপিরিওডিজম, শ্রেণীবিন্যাস, C3 ও C4 উদ্ভিদ, উদ্ভিদ কোষ, টিস্যু, বিভাজন ইত্যাদি
    কৃষি সম্প্রসারণনতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতির প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও উপাদান, বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়ন কর্মসূচি সমূহ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, কৃষি ঋণ ও সমবায়,
    কৃষি বনায়নবাংলাদেশের বন ও বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, সামাজিক বনায়ন, বন্যপ্রাণি ও অভয়ারন্য, বৃক্ষ ও কৃষি মেলা, কৃষি বনায়নের প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা ইত্যাদি
    কৃষি প্রতিষ্ঠানকৃষি তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস ও প্রতিষ্ঠান, কৃষি তথ্য বিস্তারে কৃষি তথ্য সার্ভিসের ভূমিকা।
    কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞানপরিবেশ বিজ্ঞান , ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস, বিভিন্ন দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ইকোলজিক্যাল পিরামিড, জলবায়ু পরিবর্তিন ইত্যাদি।

    কৃষি (টেকনিক্যাল) অংশের  রেফাররেন্স বই: 

    • কৃষি ডিপ্লোমা বোর্ড বই
    • কৃষি শিক্ষা শিক্ষণ -২, বিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • কৃষি শিক্ষা ১ম ও ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • নবম-দশম-একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।
    • ৭ম এবং ৮ম শ্রেণির NCTB প্রাসঙ্গিক বোর্ড বই।
    • কৃষি ডায়েরি-২০২৩/২৪
    • জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন:

    একটু কৌশল অবলম্বন করে গুছিয়ে প্রস্তুতি নিতে পারলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব। বিশেষ যারা গনিতে দুর্বল তাদের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদটি একটি আশীর্বাদস্বরূপ কারন এই পদের পরীক্ষায় গণিত থেকে কোন প্রশ্ন আসে না। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আপনাকে অবশ্যই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে –

    • প্রথমেই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাজেশন টি আত্মস্থ করুন।
    • কোন বিষয় থেকে কতটুক পড়বেন এবং কতটুকু বাদ দিবেন এই সম্পর্কে জানুন।
    • আপনার বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও দুর্বলতার উপর ভিত্তি করে একটি স্মার্ট স্টাডি প্ল্যান প্রস্তুত করুন।
    • ইংরেজি অংশে বিশেষ প্রস্তুতি নিশ্চিত করুন।
    • বিগত সালগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান গুলো অনুসরণ করুন।
    • প্রয়োজনীয় বইগুলো নিয়ে একটি বুক লিস্ট তৈরি করুন এবং সেগুলো অনুসরণ করুন।
    • ১০তম থেকে ৪৬তম বিসিএস প্রশ্ন সমাধান গুলো অনুসরণ করুন।
    • পড়ার পাশাপাশি নিজের প্রস্তুতিকে যাচাই করার জন্য বেশি বেশি প্রিলিমিনারি মডেল টেস্ট ও মক টেস্ট পরীক্ষা দিন।
    • একটি স্মার্ট রিভিশন সার্কেল অনুসরণ করুন যেখানে একবার পড়া শেষ করার পরে পূর্বের পঠিত বিষয়গুলো এই সার্কেলের মাধ্যমে পুনরায় রিভিশন করা যায়।
    • একই লক্ষ্যে অবিচল সমমনা ও পরিশ্রমী প্রার্থীদের সাথে স্টাডি গ্রুপ গঠন করে পরস্পরের সহযোগিতার মাধ্যমে সমন্বিত প্রস্তুতি নিন।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যেখানে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞাণ এবং প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল / প্রফেশনাল বিষয়ের উপর প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। নিম্নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন দেওয়া হল:

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন:

    বিষয় নম্বর
    বাংলা৪০
    ইংরেজি৪০
    সাধারণ জ্ঞান৪০
    প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল/ প্রফেশনাল বিষয়ে৮০
    মোট২০০

    উল্লেখ্য যে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষায় পাসের জন্য সামগ্রিকভাবে ৪৫ শতাংশ নম্বর এবং বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিটি বিষয়ের জন্য পৃথক পৃথকভাবে ২৫ শতাংশ নম্বর এবং কৃষি বিষয়ে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস:

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার  সিলেবাস (বাংলা):

    টপিক সমূহনম্বর
    রচনা১৫
    সারাংশ/সারমর্ম
    পত্র লিখন: ব্যক্তিগত পত্র, আবেদনপত্র, পত্রিকায় প্রকাশনার্থে পত্র, ব্যবসা সংক্রান্ত পত্র, স্মারকলিপি।
    বঙ্গানুবাদ
    ব্যাকরণ: ভাষার সংজ্ঞা, ভাষার রূপ, সাধুভাষা ও চলিত রীতির রূপান্তর, দেশি ও বিদেশি শব্দ, ণত্ব- বিধান ও ষত্ব-বিধানের সংজ্ঞা ও নিয়মাবলি, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদ, ধাতু, উপসর্গ, অনুসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, যতি বা বিরাম চিহ্ন, শুদ্ধ ও অশুদ্ধ, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, প্রতিশব্দ ও সমার্থক শব্দ, প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ, একই শব্দের বিভিন্নার্থে প্রয়োগ।১০
    মোট:৪০

    অধ্যয়নের উৎস:

    • ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
    • প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
    • বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

    সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই ইত্যাদি।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার  সিলেবাস (ইংরেজি):

    ইংরেজি সিলেবাসনম্বর
    Essay (with hints)১৫
    Letter: Official/ Demi-Official/ Memorandum/ Business Type.
    Comprehension১০
    Grammar: Use of verbs, prepositions, Voice, Narration, Correction of errors in composition, use of words having similar pronunciation but conveying different meanings, use of idioms and phrases.১০
    মোট৪০

    অধ্যয়নের উৎস:

    • Live MCQTM Vocabulary Booster (520 High-Frequency Words) PDF, Live MCQTM Idioms PDF.
    • Applied English Grammar and Composition, P. C. Das.
    • A Passage to the English Language, S M Zakir Hossain.
    • Advanced Learner’s, HSC, Chowdhury & Hossain.
    • Oxford Dictionary, Cambridge Dictionary & Merriam-Webster Dictionary.

    সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার  সিলেবাস (সাধারণ জ্ঞাণ):

    টপিকনম্বর
    বাংলাদেশ বিষয়াবলি: বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, নির ও সাহিত্য, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, জলবায়ু, পরিবেশ, বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যের অবদান, উন্নয়ন পরিকল্পনা।১৫
    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, গ্লোবালাইজেশন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ।১৫
    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুৎ, আলো, চুম্বক, খাদ্যের উপাদান, জনস্বাস্থ্য, দূষণ, কম্পিউটার।১০
    মোট৪০

    অধ্যয়নের উৎস: 

    • ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ মূলবই।
    • ৯ম-১০ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ মূলবই।
    • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ সংশোধনী সম্বলিত মূল সংবিধান।
    • হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’।
    • মুনতাসির মামুনের লেখা ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’।
    • সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা। 
    • প্রথিতযশা জাতীয় দৈনিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাম্প্রতিক কলামসমূহ।
    • সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সরকারি ওয়েবসাইট।
    • বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যকোষ।
    • সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস (বাংলাদেশ বিষয়াবলী):

    সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে প্রচুর লিখতে হয়। তাই বাসায় সবসময় দ্রুত হাতের লেখার অভ্যাস করতে হবে। আবার দ্রুত লিখতে গিয়ে হাতের লেখা যাতে অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মানচিত্র, চার্ট, সারণি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি সহকারে উত্তর করার চেষ্টা করবেন। এই বিষয়গুলো উত্তরপত্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রেজেন্টেশনও ভালো করে। উক্তি, পয়েন্ট, রেফারেন্স বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নীল কালিতে লিখার চেষ্টা করবেন। এতে পরীক্ষকের চোখ এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়াবে না।

    বাংলাদেশ বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    • বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস (পটভূমি, ঘটনাক্রম); মূলনীতিসমূহ, সংবিধানের প্রস্তাবনা (উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য); সাংবিধানিক সংস্থাসমূহ ও পদসমূহ; সরকারি ও বেসরকারি বিল, অর্থবিল, বাজেট; মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রধর্ম, সংবিধানের প্রাধান্য, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, ধর্মনিরপেক্ষতা, জরুরি অবস্থা, নারীর অধিকার, নাগরিক অধিকারে সমতা, ন্যায়পাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ); রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি,মৌলিক অধিকার ইত্যাদি সংক্রান্ত অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ সমূহ, সংবিধানের সংশোধনী সমূহ ও সংবিধানের তফসিলসমূহ; সংবিধানের অভিভাবক, ব্যাখ্যাকারক, সংশোধন সংক্রান্ত বিধান ও নিয়ম, ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; সরকারের গুরুত্বপুর্ণ বিভাগসমূহ যেমন – আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ প্রভৃতি।
    • বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি (কৌশলগত অবস্থান, গুরুত্ব, সুবিধা); বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন – ভূমিরূপ, নদ-নদী, বনাঞ্চল ইত্যাদি; ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (কাঠামো, অর্থায়ন ও চ্যালেঞ্জ); সমুদ্র অর্থনীতি, সমুদ্র বিজয় (সরকারের পদক্ষেপ, বাস্তবায়নে করণীয়); বঙ্গবন্ধু দ্বীপ, ভাসানচর, প্রবাল দ্বীপ, সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড, বিগ-বি, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রভৃতি পড়বেন।
    • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের বৈচিত্র্য (পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক); মানব সম্পদ উন্নয়নে করণীয়; ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, এর সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ; বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং প্রাসঙ্গিকতা; জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২; পরিবার পরিকল্পনা (পরিচিতি, প্রয়োজনীয়তা, সরকারের পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নে করণীয়) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
    • বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ঘটনাবলি); মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব শক্তির ভূমিকা (ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র); ৭ মার্চের ভাষণ ও এর বর্ণনা, গুরুত্ব; মুজিবনগর সরকার গঠন, নেতৃত্ব; মুক্তিযুদ্ধ ও প্রভাব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ ও বর্তমান প্রয়োজনীতা; স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যা, অপারেশ জ্যাকপট, অপারেশন সার্চলাইট, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, মুক্তিবাহিনী, মুজিব বাহিনী, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরপ্রতীক, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, উল্লেখযোগ্য অপারেশন ইত্যাদি।
    • বাংলাদেশের পরিবেশ (বৈশিষ্ট্য, দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিকার ও প্রতিরোধ); জলবায়ু পরিবর্তন (বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ (কারণ, প্রতিকার ও প্রশমনে করণীয়); সুন্দরবনের পরিবেশ, নদীদূষণ (কারণ, প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা বাঁধ, ই-বর্জ্য, যৌথ নদী কমিশন, সবুজ অর্থনীতি, SPARSO ইত্যাদি।
    • বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ (বিবরণ, ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ও করণীয়); বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ (বিবরণ, সমস্যা-সম্ভাবনা, রক্ষার গুরুত্ব ও করণীয়); সামুদ্রিক সম্পদ (সম্ভাবনা ও আহরণে করণীয়), কৃষিজ ও মৎস সম্পদ; নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য সম্পদ; বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ; বিশ্ব ঐতিহ্যে স্বীকৃত বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ; পেট্রোবাংলা; বাপেক্স প্রভৃতি।
    • ভিশন ২০৪১ (সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নে করণীয়); আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মেগাপ্রকল্পসমূহ (আর্থ-সামাজিক প্রভাব), EPZ, BIDA, BEZA, পিপিপি; দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ, ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, শিল্পনীতি-২০১৬; দারিদ্র বিমোচন, গ্রামীণ উন্নয়ন, সমাজ কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা; বাংলাদেশের উন্নয়নে শিক্ষা, সমাজ ও অর্থনীতি; খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ; মুদ্রানীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ, GDP, GNI, GNP, NNP, PCI; আমার বাড়ি আমার খামার; আশ্রয়ন প্রকল্প, ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য; অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ (জ্বালানী সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কোভিড-১৯ অতিমারি); দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা; রপ্তানি আয় (তৈরি পোশাক শিল্প, মৎস্য খাত, পর্যটন শিল্প, পাট ও অন্যান্য উদীয়মান শিল্পের ভূমিকা); অর্থনীতির বিভিন্ন খাত (কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অন্যান্য উপখাত) ও তাঁদের অবদান; ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়; রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি, পর্যটন শিল্প, চামড়া শিল্প, মৎস খাত, পাট শিল্প, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, বাজেট, SDG, MDG (প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের সাফল্য ও করণীয়) প্রভৃতি।

    অধ্যয়নের উৎস:

    • ৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ মূলবই।
    • ৯ম-১০ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ মূলবই।
    • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ সংশোধনী সম্বলিত মূল সংবিধান।
    • হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’।
    • মুনতাসির মামুনের লেখা ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’।
    • সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা।
    • প্রথিতযশা জাতীয় দৈনিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাম্প্রতিক কলামসমূহ।
    • সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সরকারি ওয়েবসাইট।
    • বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যকোষ।
    • সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস (আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী):

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির উত্তরে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ছক, বক্স, গ্রাফ, চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার বৃদ্ধি করলে উত্তরপত্র প্রশংসার সাথে মূল্যায়িত হবে। মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারলে ভালো হয়। সরকারি নীতিসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে, কোনোভাবেই যেনো কোনো পয়েন্ট/শিরোনামে সরকারের সমালোচনা না থাকে, থাকলেও তা যেন গঠনমূলক সমালোচনা হয়।

    আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (সংজ্ঞা, প্রকৃতি, পরিধি, বিষয়বস্তু, গুরুত্ব); আন্তর্জাতিক রাজনীতি (পরিধি, বিষয়বস্তু, পাঠের প্রয়োজনীয়তা, নিয়ন্ত্রক উপাদানসমূহ); আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব; আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাস্তববাদ, আচরণবাদ, বহুত্ববাদ ও উদারনীতিবাদ; স্নায়ুযুদ্ধ (পরিচিতি, উৎপত্তির স্বরূপ, কারণসমূহ ও পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি); Clash of Civilization, UDHR, CEDAW, Shadow Pandemic, ম্যাগনা কার্টা, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি প্রভৃতি।
    • বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ; ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব; বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সমস্যা ও সম্ভাবনা; বিদেশের বাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ (প্রয়োজনীয়তা, ভূমিকা ও কৌশল); আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ, অর্জন ও সম্ভাবনা; বাংলাদেশ-চীন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক; স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ; বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রভৃতি।
    • জাতিসংঘ (গঠনের পটভূমি, কার্যাবলি, সাফল্য ও ব্যর্থতা, মহাসচিবের ক্ষমতা ও কার্যাবলি); জাতিসংঘের সনদ অনুসারে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও মূল দায়িত্ব; জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সাফল্য ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ; আন্তর্জাতিক আদালত (গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি); পরিবেশগত এজেন্ডা, মানবাধিকার এজেন্ডা; শরণার্থী সংকট মোকাবেলায়, নারীর ক্ষমতায়নে ও আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় জাতিসংঘের ভূমিকা।
    • বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম, নীতিমালা ও ভূমিকা); ব্রিকস, আইডিবি, AIIB, NDB; জি-৭, জি-২০, জি-৭৭ (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম); কিয়োটা প্রটোকল চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনে কপ (COP) এর পদক্ষেপ প্রভৃতি।
    • সার্ক (অবদান, সাফল্য-ব্যর্থতা, সনদ পরিবর্তনে পরামর্শ ও বর্তমান অবস্থা); ন্যাম (গঠন, কার্যক্রম, অবদান ও কার্যকর করার জন্য পরামর্শ); ইউরোপীয় ইউনিয়ন (বিকাশ ও সম্প্রসারণ); ও.আই.সি (গঠন, কার্যাবলি, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা); ওপেক (গঠন, পটভূমি, উদ্দেশ্য, অবদান ও সম্ভাবনা); ASEAN, BIMSTEC, EU, ASEAN, APEC, AU, GCC, Common Wealth, RCEP (গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, সাফল্য-ব্যর্থতা); NATO (উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালি); দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য চুক্তি: SAPTA, SAFTA; AFTA ও অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সহযোগীতা চুক্তি প্রভৃতি।
    • বিশ্বায়ন, বিশ্বের প্রধান ইস্যু ও দ্বন্দ্বসমূহ; বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ প্রভৃতি।

    অধ্যয়নের উৎস:

    • জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক সংবাদ, প্রাসঙ্গিক কলাম ও সম্পাদকীয়।
    • নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি- তারেক শামসুর রেহমান।
    • বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।
    • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি- শাহ মুহাম্মদ আব্দুল হাই।
    • আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি- মোঃ আবদুল হালিম।
    • আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ের পাঠ্য।
    • বেবি মওদুদের রচনায় ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনা’ গ্রন্থ।
    • অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামের ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক’ বই।
    • মোস্তফা কামালের লেখা ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশ’।
    • সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।
    • ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া – ইত্যাদি থেকে টপিক সার্চ করে বিস্তারিত পড়ে নিবেন।
    • সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার  সিলেবাস (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি):

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেকের জন্য ভয়ের কারণ। তবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিল এখানে সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সম্ভব। কারণ নন-ক্যাডারে অংশে খুব বেশি ডিপ থেকে আসার সম্ভাবনা নেই। ৯ম-১০ম শ্রেণিতে সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে হুবুহু প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের পরীক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বইগুলো পড়তে পারেন। অন্যরা শুধু টপিক ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন। 

    বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বর পেতে হলে সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক ও চিত্রসহ (যদি প্রয়োজন হয়) বিষয়বস্তু বর্ণনা করতে পারলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। চিত্র আকা ও সমীকরণ লিখার জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা উচিত। তবে সমীকরণ অন্য রংয়ের কলম দিয়েও লেখা যেতে পারে। কোনভাবেই লাল রংয়ের কালির কলম ব্যবহার করা যাবে না।

    বিজ্ঞানের গুরত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    • আলোর প্রকৃতি, বর্ণালি; বিভিন্ন রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্য; অতিবেগুনি রশ্মি, অবলোহিত রশ্মি ও লেজার; আলোর প্রতিফলন, আলোর প্রতিসরণ, আলোর বিচ্চুরণ; লেন্স, আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন; আলোর কণাতত্ত্ব, আইনস্টাইনের ফটোতড়িৎ সমীকরণ, আলোক কোষ প্রভৃতি।
    • চুম্বক ও চুম্বকত্ব; চৌম্বক ও অচৌম্বক পদার্থ; চৌম্বকের পোলারিটি এবং বিদ্যুতের সাথে সম্পর্ক; চৌম্বক বলরেখা; দন্ড চুম্বক হিসেবে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র; তড়িৎ চুম্বক; ট্যানজেন্ট গ্যালভানোমিটার; কম্পন ম্যাগনেটোমিটার; ডায়া, প্যারা, ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ; তড়িৎ চুম্বক ও স্থায়ী চুম্বক প্রভৃতি।
    • মাটি, মাটির প্রকারভেদ, মাটির গঠন, মাটির বৈশিষ্ট্য, মাটির pH; মাটি ক্ষার ও অম্ল হওয়ার কারন, বাফারিং; মাটি দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিরোধ; প্রাকৃতিক গ্যাস ও এর প্রধান উপাদান; প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও কয়লার উৎস, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার; বনপালনবিদ্যা, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণ; দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান, বিভিন্ন ধরনের দূষণ প্রভৃতি।
    • খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান; প্রোটিন; স্নেহ ও লিপিড; শর্করা; ভিটামিন; শর্করা ও প্রোটিনের প্রকারভেদ ও উৎস; রাফেজ; পুষ্টি মান; সুষম খাদ্য উপাদান তালিকা; সুষম খাদ্যের পিরামিড; বডি মাস ইনডেক্স (BMI), জাঙ্ক ফুড; খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি; খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ও এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।
    • রোগ সংক্রমণ, কারণ ও প্রতিকার; এন্টিবায়োটিক; স্ট্রোক; হৃদরোগ; উচ্চ রক্তচাপ; ডায়াবেটিস; ডেঙ্গু; কোভিড-১৯; এইডস; ক্যান্সার; ডায়রিয়া; মাদকাসক্তি; ভ্যাকসিনেশন; ফুড পয়েজনিং; কেমোথেরাপি; রেডিওথেরাপি; সিটিস্ক্যান; এম.আর. আই প্রভৃতি।

    কম্পিউটার ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    • কম্পিউটার সংগঠন ও কার্যাবলি, কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটারের প্রজন্ম; সিপিইউ ও তার অংশ, মাইক্রোপ্রসেসর, মাদারবোর্ড; কম্পিউটার মেমরি, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস, বায়োস, বাস আর্কিটেকচার; অনুবাদক প্রোগ্রাম; প্রোগ্রামিং ভাষা; সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, অফিস অটোমেশন; কম্পিউটার ভাইরাস, দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের প্রভাব প্রভৃতি।
    • ডাটা ও ডাটা কমিউনিকেশন, তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বন্টন; ডাটাবেজ সফটওয়্যার ও কাঠামো, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম; মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার; LAN, MAN, WAN, GPS, টপোলজি, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস (রাউটার, সুইচ, হাব প্রভৃতি); প্রোটোকল, ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার; WWW, ওয়েব প্রযুক্তি, জনপ্রিয় ওয়েবসাইটসমূহ; ক্লাউড কম্পিউটিং, ইমেইল, ডাটাবেজ, সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; ট্রান্সমিশন মিডিয়া, ব্যান্ডউইথ, অপটিক্যাল ফাইবার, ওয়াইফাই; টেলিকমিউনিকেশন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ভিস্যাট; ই-কমার্স সহ সাম্প্রতিক আলোচিত তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ প্রভৃতি।

    অধ্যয়নের উৎস:

    • ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই। 
    • ২০১৯ সংস্করণের ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (অবশ্যই পড়তে হবে) ।
    • ৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বই।
    • ৮ম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বই।
    • কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
    • সর্বশেষ সংস্করণের ভালোমানের নির্ভরযোগ্য যেকোনো গাইডবই।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার  সিলেবাস (কৃষি):

    পিএসসি কর্তৃক টেকনিক্যাল অংশের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস দেওয়া হয় নি। বিগত বছরের প্রশ্নের আলোকে আমাদের সাজেশন তৈরি করা হয়েছে। যেহেতু এ অংশে মার্কস বেশি তাই এ অংশে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। 

    গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:

    ১. বাংলাদেশের কৃষি পরিচিতি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান: 

    • বাংলাদেশে কৃষিশিক্ষার ক্রমবিকাশ, গুরুত্ব, ইতিহাস, প্রয়োজনীয়তা, পদক্ষেপ, কৃষির সমস্যা, সমাধানের উপায় এবং গুরুত্ব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, গুরুত্ব, মৌসুমী জলবায়ুর গুরুত্ব ইত্যাদি।  
    • মাটির ভৌত বৈশিষ্ট্য মাটির কণা, মাটির গঠন, pH, মাটির অম্লত্ব, ক্ষারত্ব, লবণাক্ততা, মাটির উর্বরতা, মাটি ক্ষয়, অনুজীব সার, নাইট্রোজেন সংবদ্ধকরণ, মাটির জন্য ক্ষতিকর কীটনাশক, ইত্যাদি। 

    ২. মাঠ ফসল এবং ফুল ও ফল ও মসলা জাতীয় ফসল চাষাবাদ: 

    • ধান, পাট, গম, মসুর, আখ, সরিষা এবং তুলা, আলু, টমেটো, মটর ও মটরশুটির উৎপাদনের বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক নাম ইত্যাদি। 
    • ফুল চাষ-গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, বেলি ইত্যাদি ফুল বিবেচনা করে জমি তৈরি, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ, বীজের হার, বিভিন্ন প্রকার মসলার চাষ পদ্ধতি, মাটি নির্বাচন ও সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি। 

    ৩. সবজি চাষাবাদ এবং ফসলের রোগ-পোকামাকড় ও বালাই ব্যবস্থাপনা: 

    • বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির শাক-সবজির প্রকারভেদ, ক্রপিং প্যাটার্ণ, ক্ষতিকর রোগ, প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনা। 
    • উদ্ভিদ ও বিভিন্ন ফসলের বিভিন্ন রোগের নাম, অনিষ্টকারী পোকার নাম, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। 

    ৪. উদ্যান নার্সারি ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা: 

    • নার্সারি, বৃক্ষরোপন, পানি নিস্কাশন, বীজ শোধন, বীজ বপন, চারা উৎপাদন, আদর্শ বীজতলা, ছাঁটাইকরণ। 
    • উদ্ভিদের পুষ্টিতে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের কাজ, উৎস, অভাবজনিত লক্ষণ, প্রতিকার, আয়ন শোষন পদ্ধতি, উদ্ভিদের মুখ্য ও গৌণ পুষ্টি উপাদান, জৈব ও অজৈব সার, বিভিন্ন সারের কাজ, অভাবজনিত লক্ষণ ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলাফল, ক্ষতিকর সার ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। 

    ৫. গৃহপালিত পশুপাখি পালন ও মাছ চাষ এবং ফসলের জাতের নাম: 

    • পশুপাখি ও মাছের বিভিন্ন দেশীয় ও উন্নত জাত, রোগ ও প্রতিরোধ, প্রতিপালন ও উন্নয়ন, বাজারজাতকরণ, সমন্বিত মাছ চাষ। 
    • বিভিন দেশীয় এবং বিদেশী ফসলের জাতের নাম, বৈজ্ঞানিক নাম, উৎস, বিপণন, রোগ, প্রতিকার এবং বাজারজাতকরণ ইত্যাদি।

    ৬. কৃষি অর্থনীতি ও কৃষি ও পরিবেশবিজ্ঞান: 

    • জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা, শস্য পরিকল্পনা, শস্য পঞ্জিকা ও শস্য আবর্তন ও ফসল বিন্যাস, ফসলের ক্রপিং প্যাটার্ন ইত্যাদি। 
    • পরিবেশ বিজ্ঞান, ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস, বিভিন্ন দূষণ, গ্লোবাল ওয়ার্মিং, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ইকোলজিক্যাল পিরামিড, জলবায়ু পরিবর্তিন ইত্যাদি।

    ৭. ফসল সংগ্রহ ও বীজ প্রযুক্তি এবং আগাছা দমন: 

    • বীজ শোধন, বীজ বপন ও চারা উৎপাদন, রোপণ পদ্ধতি, বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরীক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, ফসল সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ ও বিপণন, কৃষিতে জৈবপ্রযুক্তি, GMO, টিস্যু কালচার ইত্যাদি।  
    • কীটপতঙ্গ ও রোগের ধারণা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশকের ধরন ইত্যাদি। 

    ৮. কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ এবং জীববিজ্ঞান: 

    • কৃষির যান্ত্রিকীকরণের ভবিষ্যৎ ও সম্ভবনা বা অগ্রগতি এবং সরকারের পদক্ষেপ, পানি সেচ ও নিস্কাশনের গুরুত্ব, পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা, প্রকারভেদ, সুবিধা, তাৎপর্য, কার্যকারিতা, SRI পদ্ধতি ও AWD পদ্ধতি ইত্যাদি। 
    • দ্বি-বীজপত্রী ও এক-বীজপত্রী উদ্ভিদ, প্রস্বেদন, চক্রীয় ও অচক্রীয় ফটোফোরাইলেশন, জীববৈচিত্র্য, নিউরন, নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোজোম, রাইবোসম, সেন্ট্রোজোম, লাইসোজোমের গঠন ও কাজ ইত্যাদি। 

    ৯. খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ ও শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া: 

    • বিভিন্ন প্রকার খাদ্য, ফলমূলের সংরক্ষণ পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ পদ্ধতি ইত্যাদি। 
    • উদ্ভিদের বিভিন্ন রোগ ও রোগের প্রকারভেদ, সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন, ট্রান্সপিরেশন, ফটোপিরিওডিজম, শ্রেণীবিন্যাস, C3 ও C4 উদ্ভিদ, উদ্ভিদ কোষ, টিস্যু, বিভাজন ইত্যাদি। 

    ১০. কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বনায়ন এবং কৃষি প্রতিষ্ঠান: 

    • নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতির প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও উপাদান, বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়ন কর্মসূচি সমূহ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, কৃষি ঋণ ও সমবায়। 
    • বাংলাদেশের বন ও বনজ সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, সামাজিক বনায়ন, বন্যপ্রাণি ও অভয়ারন্য, বৃক্ষ ও কৃষি মেলা, কৃষি বনায়নের প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা ইত্যাদি। 
    • কৃষি তথ্য ও সেবা প্রাপ্তির উৎস ও প্রতিষ্ঠান, কৃষি তথ্য বিস্তারে কৃষি তথ্য সার্ভিসের ভূমিকা। 

    অধ্যয়নের উৎস:

    • কৃষি শিক্ষা শিক্ষণ -২, বিএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • কৃষি শিক্ষা ১ম ও ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    • নবম-দশম-একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বোর্ড বই।
    • ৭ম এবং ৮ম শ্রেণির NCTB প্রাসঙ্গিক বোর্ড বই।
    • কৃষি ডায়েরি-২০২৩/২৪। 
    • জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য করনীয়:

    • প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় আসতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো চিহ্নিত করুন।
    • বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ও নমুনা উত্তরগুলো দেখুন।
    • বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে লাগতে পারে এমন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের পাশে লিখে রাখুন।
    • প্রশ্ন সহজ হবে কিংবা কঠিন এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। প্রশ্নটি আপনার জন্য যেমন, বাকিদের ক্ষেত্রেও তেমনি হবে। 
    • লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত দেওয়ার চেষ্টা করুন। 
    • প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টপিকগুলোর উপর ৫-৭ পৃষ্ঠা লেখার অভ্যাস করুন। 
    • প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত না লিখে প্রাসঙ্গিক দেওয়ার জন্য যতটুকু লিখা প্রয়োজন ততটুকুই লিখুন। 
    • হাতের লেখা সুন্দর না হলেও যেন পড়ে বুঝার মতো স্পষ্ট হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
    • বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে কোন তথ্যবহুল উত্তরের শেষে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট এবং আপনার নিজস্ব মতামত ও বিশ্লেষণ দেবার চেষ্টা করুন।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের লিখিত পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:

    • টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল পদের প্রার্থীদের অবশ্যই প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয়ের লিখিত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০% নম্বর পেতে হবে। কোনো প্রার্থী টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয়ে ৩০% এর কম নম্বর পেলে উক্ত প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় সামগ্রিকভাবে অকৃতকার্য বলে গণ্য হবেন।
    • লিখিত পরীক্ষায় টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল বিষয় ব্যতিত অন্য কোনো বিষয়ে ২৫% এর কম নম্বর পেলে প্রার্থী উক্ত বিষয়ে কোনো নম্বর পাননি মর্মে গণ্য হবেন। উপরিউক্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সামগ্রিকভাবে সকল বিষয়ে গড়ে ৪৫% নম্বর পেলে প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মর্মে বিবেচিত হবেন।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি:

    যেকোন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার জন্য মৌখিক পরীক্ষাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় যাচাই করা হয়ে আপনে জানেন কিনা, লিখিত পরীক্ষায় যাচাই করা হয় আপনি যা জানেন তা বুঝেন কিনা, এবং মৌখিক পরীক্ষায় যাচাই করা হয় আপনি যা বুঝেন তা কতটা বুঝাতে পারেন।

    যেহেতু উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে সরাসরি কাজ করবেন তাই এখানে মৌখিক পরীক্ষাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস নিম্নে দেওয়া হল:

    • আপনার নিজের সম্পর্কে, নিজ জেলা, বিশ্ববিদ্যালয়, পঠিত বিষয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা রাখতে হবে।
    • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে বিশেষ ধারনা থাকতে হবে।
    • সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে।
    • আপনাকে অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হওয়ার সাথে সাথে বিনয়ী হতে হবে। মনে রাখবেন ওভার কনফিডেন্ট ভাইভার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
    • ভাইভা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সবসময় মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
    • মৌখিক পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভাষার আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন।
    • যেকোন প্রশ্ন মন দিয়ে পুরোটা শুনে একটু ভেবে তারপর উত্তর করার চেষ্টা করুন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝেই কথা বলবেন না।
    • ভাইভা বোর্ডে থাকা একজনের প্রশ্নের উত্তর করার করার মাঝেই আরেকজন প্রশ্ন করলে প্রথম প্রশ্নকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
    • সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এমন মনোভাব ত্যাগ করুন। ভুল বা অনুমান নির্ভর উত্তর দেওয়া পরিহার করুন।
    • ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর দেওয়ার কথা বললে সেটিই করবেন, বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইবেন না।
    • আপনার একাডেমিক রেজাল্ট যদি কোন কারনে সন্তুষজনক না হয় তাহলে এর সাপেক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য কারন তৈরি করে রাখুন।
    • বেশি করে মক ভাইভা ও মডেল ভাইভা দিন।

    ঘরে বসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি:

    Live MCQ থাকতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে আর কোন ব্যায়বহুল কোচিং এর দ্বারস্থ হতে হবে না। ঘরে বসেই Live MCQ অ্যাাপের মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে পারবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির রুটিনে থাকছে –

    • ১৯টি বিষিয়ভিত্তিক (জেনারেল পার্টের পরীক্ষা),
    • ৮টি টেকনিক্যাল কৃষি বিষয়ের পরীক্ষা,
    • ৫টি রিভিশন পরীক্ষা
    • ৮টি ফুল মডেল টেস্ট
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন
    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির রুটিন

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন PDF ডাউনলোড

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্নের উত্তর:

    প্রশ্ন: উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বেতন কত?

    উত্তর: একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরকারি বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬,০০০ থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। এর সাথে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতা, নববর্ষ ও উৎসব ভাতা, পেনশনসহ সরকারি চাকরির সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

    প্রশ্ন: উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কত গ্রেড?

    উত্তর: উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

  • ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    প্রিয় চাকরি প্রার্থীগণ সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাদের স্বাগতম। আপনারা জানেন যে ২০৯ টি শূন্য পদের বিপরীতে গত ৯ জুন ২০২৪ তারিখে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৪ প্রকাশিত হয়। এই বিজ্ঞপ্তি টি প্রকাশের পর থেকে আমাদের ব্লগে এবং ফেসবুক পেইজে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত অসংখ্য প্রশ্ন আসে যার প্রেক্ষিতে আজকের এই ব্লগ টি লিখা।

    আপনারা নিশ্চই জেনে থাকবেন যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদ টি সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। তাই ১৬তম গ্রেডের যেকোন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিলেই এই পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। আজকের এই আর্টিক্যাল টি পড়ার পর ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না। তাই সম্পূর্ণ ব্লগ টি গুরুত্ব সহকারে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হল।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মীর কাজ কী?

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের একদম মাঠ পর্যায়ের কাজ বাস্তবায়ন করে থাকেন। এটি অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ এবং সেবামূলক একটি কাজ। দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করা থেকে শুরু করে একদম মাঠ পর্যায়ে জনগণকে বিভিন্ন সামাজিক ও আর্থিক সেবা প্রদান করাই একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মীর কাজ। একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মীর কাজের পরিধি নিম্নে আলোচনা করা হল –

    ১। সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বিস্তার ও বাস্তবায়ন করা।

    ২। মাঠপর্যায়ের স্থানীয় জনগণের সাথে অধিদপ্তরের সমন্বয় সাধন করা।

    ৩। পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্রিক কার্যক্রম, এসিড দগ্ধ জনগণের পুনর্বাসন কার্যক্রম ইত্যাদি পরিচালনা করা।

    ৪। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি-উপবৃত্তি পদানের কাজ পরিচালনা করা।

    ৫। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রদানের কাজ পরিচালনা করা।

    ৬। সদর উপজেলা হাসপাতালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের শাখাগুলোর কাজ পরিচালনায় সহযোগিতা করা।

    ৭। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করা।

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের আবেদনের যোগ্যতা:

    এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের আবেদনের যোগ্যতাটি মূলত ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়। যার মধ্যে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা এবং স্থায়ী ঠিকানা জনিত যোগ্যতা রয়েছে।

    শিক্ষাগত যোগ্যতা:

    যেকোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অনূন্য দ্বিতীয় বিভাগের ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন।

    বয়সসীমা:

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগের আবেদন করার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন হতে গণনা করে প্রার্থীর বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত।

    তবে নির্দিষ্ট কিছু জেলা (যথা- রাজবাড়ি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, মাগুরা ও ঝালকাঠি) জেলার প্রার্থীগণ ২০২৪ সাল ভিত্তিক এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পদ্ধতি:

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই প্রার্থীকে http://dss.teletalk.com.bd ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে উক্ত পদের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময়সীমা শেষ হলে প্রার্থীকে নির্ধারিত তারিখে উক্ত পদের প্রাথমিক প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। মোট ৭০ নম্বরের এই পরীক্ষাটি MCQ টাইপ এবং OMR শিটে হয়ে থাকলেও একে লিখিত পরীক্ষা বলা হয়ে থাকে।

    বাছাই পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরবর্তীতে ৩০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এবং মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন:

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবণ্টন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা থাকলে এবং সেই অনুযায়ী সঠিক ভাবে প্রস্তুতি নিলে এই নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। নিম্নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন সম্পর্কে আলোচনা করা হল –

    অন্যান্য ১৬তম গ্রেডের চাকরির সিলেবাসের ন্যায় ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার সিলেবাসও মূলত ৪টি বিষয়ভিত্তিক সাবজেক্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিগত সালের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে ৭০ নম্বরের এই পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন আসে। নিম্নে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন প্রদান করা হল –

    বিষয়মোট নম্বর 
    বাংলা২০
    ইংরেজি২০
    সাধারণ জ্ঞান১৫
    গণিত১৫
    মোট নম্বর৭০

    উক্ত সিলেবাস ও মানবণ্টন অনুসরণ করে বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করলে এই নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা সম্ভব। নিম্নে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি:

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষার বিগত সালের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ টপিক গুলো উল্লেখ করা হল। প্রতি বিষয় থেকে নির্দিষ্ট টপিক গুলো ভালো ভাবে আত্মস্থ করতে পারলে এই নিয়োগের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষায় ভালো ফলাফল আশা করা যায়। নিম্নে বিষয়ের নাম উল্লেখপূর্বক ঐ বিষয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো আলোচনা করা হল –

    বাংলা ব্যাকরণ অংশের টপিক সমূহ:

    ধনি ও বর্ণ, শব্দ, সন্ধি বিচ্ছেদ, এককথায় প্রকাশ, সমাস, বানান শুদ্ধি, বিরামচিহ্ন, প্রকৃতি-প্রত্যয়, কারক, বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ ইত্যাদি।

    বাংলা সাহিত্য অংশের টপিক সমূহ:

    যুগ বিভাগ, উক্তি, ছদ্মনাম, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আধুনিক যুগের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ ইত্যাদি।

    ইংরেজি অংশের টপিক সমূহ:

    Parts of speech, Voice change, Number, Synonyms-Antonyms, Narration, Phrase and Idioms, Correct spelling.

    গণিত অংশের টপিক সমূহ:

    মৌলিক সংখ্যা, গড়, অনুপাত, ঐকিক নিয়ম, লসাগু ও গসাগু, মান নির্ণয়, উৎপাদক, সূচক, ধারা, বৃত্ত, ক্ষেত্রফল ও কোণ ইত্যাদি।

    সাধারণ জ্ঞান অংশের টপিক সমূহ:

    মুক্তিযুদ্ধ, আদমশুমারি, পদ্মা সেতু, সরকারের মেগা প্রকল্প সমূহ, বঙ্গবন্ধু, মেট্রোরেল, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতিসংঘ, সাম্প্রতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি।

    উপরিউক্ত টপিকগুলোর বাইরে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষায় খুব একটা প্রশ্ন আসে না বিধায় এই পদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য এর বাইরে থেকে না পড়ে বরং এই টপিকগুলোই বারবার পড়ে রিভিশন দিতে পরামর্শ দেওয়া হল।

    এছড়াও Live MCQ অ্যাাপের Premium Section – এ থাকা “টপিক গুরু” বাটন থেকে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ভিত্তিক টপিকগুলোর প্রস্তুতি নিতে পারেন। এছাড়াও Exam Section – এ থাকা ৯ম-২০তম গ্রেডের প্রস্তুতি বাটনের অধীনে থাকা ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রস্তুতি বাটন থেকে নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আপনার প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে পারবেন। এছাড়াও Live MCQ অ্যাাপের বিভিন্ন স্মার্ট ফিচার এবং অভিজ্ঞ মেন্টরদের ভিডিও ক্লাস এবং PDF লেকচার অনুসরণ করে ঘরে বসেই ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারেন।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন:

    আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে Live MCQ অ্যাাপে ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। যেখানে মোট ৫০টি পরীক্ষা ও ৫ টি সাজেশনমূলক ক্লাস থাকছে। প্রয়োজন অনুসারে এই এই ক্লাসের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। থাকছে জব সল্যুশনের ৬১ হাজারের অধিক প্রশ্নের এক্সেস সহ ১৪-২০তম গ্রেডের ২.৬ হাজার প্রশ্নের এক্সেস। এছাড়াও স্মার্ট সার্চ, ডাইনামিক প্যানেল, লেকচার PDF, সাম্প্রতিক সমাচার, জব সল্যুশন টপিক গুরু, উইকলি বুলেটিন সহ চাকরির প্রস্তুতির জন্য সহায়ক দূর্দান্ত সব ফিচার। আর এই সবকিছু আপনি পেয়ে যাবেন মাত্র ৫৯৯ টাকায় যার মেয়াদ থাকবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত। এছাড়া আপনার কাছে যদি Live MCQ এর যেকোন একটি প্রিমিয়াম প্যাকেজ থাকে তাহলে এই বাটনের পরীক্ষাগুলো আপনার জন্য ফ্রি থাকবে। চলুন দেখে নেওয়া যাক সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন টি:

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-001
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-002
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-003
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-004
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-005
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-006
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-007
    ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ প্রস্তুতির রুটিন-page-008

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বইসমূহ:

    ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের MCQ টাইপ লিখিত পরীক্ষার জন্য আপনাকে বেশ কিছু বই এর সহযোগিতা নেওয়ার প্রয়োজন পরবে। নিম্নে এই বইগুলোর ব্যাপারে আলোচনা করা হল –

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার একদম প্রারম্ভিক পর্যায়েই আপনাকে এই পরীক্ষায় আসা বিগত সালের প্রশ্নগুলো সলভ করতে হবে। যার জন্য শুরুতেই আপনার এই পদের জন্য অনুষ্ঠিত হওয়া বিগত সালের ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধানের আলোকে তৈরি একটি জব সল্যুশন সংগ্রহ করতে হবে। এর জন্য আপনি বাজারের প্রচলিত যেকোন পাবলিকেশন এর একটি বই সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও ১৬তম গ্রেডের অন্যান্য চাকরির প্রশ্ন সম্বলিত একটি জব সল্যুশন অনুসরণ করতে পারেন।

    এছাড়াও ইংরেজি অংশের প্রস্তুতির জন্য Live MCQ English Wizard Grammar বইটি অনুসরণ করতে পারেন। এই বইটিতে নতুন নতুন Term এবং Technique ব্যবহার করে Grammar কে আরো সহজ, মনে রাখার উপযোগী ও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। বইটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে পরীক্ষার প্রাক্কালে অল্প সময়ে আপনি পুরো গ্রামার Revision দিতে পারবেন। দেখে নিন যা যা রয়েছে Live MCQ English Wizard Grammar বইটিতে। এছাড়াও Live MCQ অ্যাাপের Study Section এ থাকা Video Section, PDF Section, মাসিক সাম্প্রতিক সমাচার, Premium Section এর স্মার্ট সার্চ, ডায়নামিক ইনফো প্যানেল, তথ্যকল্পদ্রুম সহ বিভিন্ন ফিচার আপনার চাকরির প্রস্তুতি করবে আরও সহজ।

    অনলাইনে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে Live MCQ অ্যাাপ টি ইন্সটল করুন।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মীর পদোন্নতি:

    সমাজসেবা অধিদফতর (গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী ইউনিয়ন সমাজর্মী পদটি ১৬ তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ সমাজসেবা অধিদপ্তরের একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মী সরকারি বেতন স্কেল ১৬তম গ্রেডে তার কর্মজীবন শুরু করেন। এই বিধিমালা অনুযায়ী এই পদের একজন কর্মচারির সরাসরি নিয়োগ, প্রেষণ এবং বদলীর মাধ্যমে পদোন্নতি লাভ করতে পারেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের পৌর, ইউনিয়ন, মহল্লা লেভেলের সমাজকর্মী হিসেবে (পাঁচ) বৎসরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা অর্জন করলে মোট পদের শতকরা ৭০ ভাগ সমাজকর্মী ফিল্ড সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং বাকি ৩০% ফিল্ড সুপারভাইজারের শূন্য পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

    সমাজসেবা অধিদফতর (গেজেটেড কর্মকর্তা এবং নন-গেজেটেড কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩ এর ৩৪ নম্বর পৃষ্ঠায় পদোন্নতির এই বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

    ইউনিয়ন সমাজকর্মীর পদায়ন: 

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ সচরাচর প্রার্থীর নিজ জেলায়, নিজ উপজেলায়, নিজ ইউনিয়নে হয়ে থাকে। তবে এটি অবশ্যই উক্ত এলাকার পদ শূন্য থাকার উপর নির্ভর করে। তবে একজন প্রার্থী যদি তার নিজ এলাকায় থেকে একটি ভালো বেতনের সম্মানজনক সরকারি চাকরি করতে চান তাহলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের চাকরিটি একটি ভালো চাকরি। 

    এই পদের চাকরিতে কোন নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা না থাকায় এলাকাভিত্তিক অন্যান্য চাকরি যেমন – প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের চাকরির চেয়েও এই চাকরি অনেকটাই আরামদায়ক। কোন প্রার্থীর লক্ষ্য যদি আরও উচ্চস্তর চাকরি প্রাপ্তি হয়ে থাকে তবে এই চাকরি করার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

    সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর

    প্রশ্ন: ইউনিয়ন সমাজকর্মী কত তম গ্রেড?

    উত্তর: সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদটি সরকারি বেতন স্কেলের ১৬তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত।

    প্রশ্ন: ইউনিয়ন সমাজকর্মী পরীক্ষার তারিখ কবে?

    উত্তর: ২০২৪ সালে প্রকাশিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষার তারিখ এখনও প্রকাশিত হয় নি। তারিখ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে আমাদের ওয়েবসাইটে এবং ফেসবুক পেইজে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    প্রশ্ন: ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ পরীক্ষা কোথায় হয়?

    উত্তর: সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদের পরীক্ষাটি বিভাগীয় এবং জেলা উভয় পর্যায়েই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবেদনকৃত প্রার্থীর সংখ্যার উপর এটি নির্ভর করবে।

  • Live MCQ এর নতুন App Update V: 5.6.7 এ যা যা থাকছে

    Live MCQ এর নতুন App Update V: 5.6.7 এ যা যা থাকছে

    প্রিয় ব্যাবহারকারীগণ চাকরির প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম Live MCQ এ দুর্দান্ত কিছু ফিচার যুক্ত হয়েছে নতুন ভার্সন 5.6.7 এর মাধ্যমে। নতুন এই আপডেটে টপিক গুরু-তে Unique প্রশ্নের জন্য ফিল্টার যুক্ত হয়েছে। স্মার্ট সার্চে সাজেশন ও সার্চ হিস্ট্রি যুক্তকরণ এবং সার্চের ফলাফল পরিমার্জন করা হয়েছে। এবং Live MCQ রেফারেল প্রোগ্রাম যুক্তকরণ করা হয়েছে! অনুগ্রহ করে Google Playstore ও iOS App Store-থেকে আপনার ফোনের অ্যাপটি আপডেট করে নিন।

    নতুন আপডেটের বিস্তারিত:

    Live MCQ App Update v5.6.7. Feature explain

    টপিক গুরু-তে Unique প্রশ্নের জন্য ফিল্টার যুক্তকরণ:

    • Live MCQ অ্যাপের টপিকগুরুতে প্রায় ৩.৫ লাখ প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রশ্নে অনেক প্রশ্ন একাধিকবার থাকায় ইউনিক প্রশ্ন পড়ার ক্ষেত্রে বিঘ্ন হচ্ছিলো।
    • নতুন আপডেটে ইউনিক প্রশ্নের জন্য আলাদা ফিল্টার যুক্ত হয়েছে এবং By Default ইউনিক প্রশ্নগুলোই শুধু টপিকগুরুতে দেখাবে। কেউ চাইলে All Question ফিল্টার সিলেক্ট করে সকল প্রশ্নও দেখতে পারবেন।
    • নতুন আপডেটে টপিকগুরুতে পড়াশোনার বিষয়টি আরো বেশি কার্যকর হবে এবং আপনাদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা প্রদান করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

    স্মার্ট সার্চে সাজেশন ও সার্চ হিস্ট্রি যুক্তকরণ এবং সার্চের ফলাফল পরিমার্জন:

    • বর্তমান এই আপডেটের ফলে স্মার্ট সার্চে কোনো Keyword লেখা হলে সেই Keyword-এর সাথে সম্পর্কিত টপিক সাজেশন আকারে দেখাবে। এতে স্মার্ট সার্চের ব্যবহার আরও সহজ হবে।
    • স্মার্ট সার্চ অপশনে আপনার আগের সার্চের History দেখাবে। এতে একই টপিক সার্চ করতে নতুনভাবে আপনাকে Keyword টাইপ করতে হবে না।
    • স্মার্ট সার্চের সার্চ রেজাল্টের Algorithm-এ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে সার্চের ফলাফল আরও বেশি Accurate হবে।

    Live MCQ রেফারেল প্রোগ্রাম যুক্তকরণ:

    • Live MCQ অ্যাপে রেফারেল যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমান আপডেটের পর Live MCQ অ্যাপ বন্ধুদেরকে রেফার করলে আপনার প্রোফাইলে রেফারেল ব্যালেন্স যুক্ত হবে এবং এই ব্যালেন্স বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলন করা যাবে।
    • আমাদের অ্যাপ অনেকেই স্ব-উদ্যোগে বন্ধুদেরকে রেফার করেন। তাদের জন্য Live MCQ রেফারেল প্রোগ্রামটি আমাদের পক্ষ থেকে ছোট্ট উপহার হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

    অ্যাপের নতুন এই আপডেট ভার্সন ব্যবহারে কোনো সমস্যা বোধ করলে অনুগ্রহ করে আমাদেরকে জানানোর অনুরোধ রইলো। আমাদের ডেভেলপমেন্ট টিম যেকোনো প্রকার সমস্যা সমাধানে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। আপনাদের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি যাতে সহজ ও কার্যকর হয় – এই বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তার জন্য অ্যাপের বর্তমান ফিচার মডিফিকেশন ও নতুন ফিচার যুক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। অ্যাপের ফিচার ও সার্ভিসের মানোন্নয়নে আপনাদের যেকোনো পরামর্শ সাদরে গ্রহণযোগ্য। যেকোনো প্রয়োজনে Live MCQ পেইজে মেসেজ/কল দিন।

    শুভকামনায়,
    Live MCQ – Since 2017

  • বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি জেনে নিন

    বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা কি জেনে নিন

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যতম মর্জাদাপূর্ণ একটি চাকরির নাম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস)। একজন বিসিএস ক্যাডার হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করার জন্য একজন প্রার্থীকে প্রতিযোগিতা করতে হয় হাজারো প্রার্থীর সাথে। তবুও এমন হতে দেখা গেছে একজন প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষার সবগুলো ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও বিসিএস ক্যাডার হতে পারেন নি। যার কারন হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা সম্পর্কে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আগে না জানা।

    বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা বলতে আমরা শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা বুঝলেও শারীরিক যোগ্যতা, প্রার্থীর বয়স, নাগরিকত্ব ইত্যাদি যোগ্যতা রয়েছে। যেসবের একটিতেও যদি কোন প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হন তাহলে তাঁর বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে।

    বিসিএস ক্যাডার চয়েস লিস্ট তৈরি করার আগেই বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা সম্পর্কে জানা একজন প্রার্থীর জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আর্টিকেল টি পড়ার পর বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা সম্পর্কে সকল কিছু জানতে পারবেন।

    বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা

    বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা কি কি ?

    বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা খুব বেশি জটিল কিছু নয়। খুব বড় ধরনের কোন সমস্যা না থাকলে বেশিরভাগ বিসিএস ক্যাডার পদগুলোর জন্য শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি দিয়েই বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায়। তবে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য যে যোগ্যতাগুলো একদম না থাকলেই নয় তা নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল। এই যোগ্যতা ৫ টির মধ্যে রয়েছে –

    ১। শিক্ষাগত যোগ্যতা
    ২। শারীরিক যোগ্যতা
    ৩। বয়সসীমা
    ৪। নাগরিকত্ব
    ৫। স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা

    নিম্নে এই যোগ্যতাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    ১। বিসিএস পরীক্ষার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা:

    বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা টেকনিক্যাল / প্রফেশনাল ক্যাডার ভেদে ভিন্ন রকম হলেও শিক্ষার স্তর টি মূলত সবগুলোতে একইরকম। এক্ষেত্রে প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি তে উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।

    • বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যেকোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী (অনার্স) বা এইচ.এস.সি পরীক্ষার পর ৪ বছর মেয়াদী সমমানের ডিগ্রী অর্জন করতে হবে। যদি কোন প্রার্থী এইচ.এস.সি পরীক্ষা পাশের পর ৩ বছর মেয়াদী ডিগ্রী বা সমমানের কোর্স করেন তাহলে তাকে ডিগ্রী পাশের পর স্নাতকোত্তর পাশ (মাস্টার্স পাশ) করতে হবে। এবং এর পরেই এই প্রার্থীরা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।
    • প্রার্থীর শিক্ষা জীবনের কোন স্তরেই একাধিক ৩য় বিভাগ / ৩য় শ্রেণি সমমানের জিপিএ থাকলে তিনি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ এস.এস.সি, এইচ.এস.সি এবং অনার্স বা সমমানের এই ৩ টি পরীক্ষা মিলিয়ে ১ টির বেশি ৩য় বিভাগ / ৩য় শ্রেণির নম্বর থাকলে সেই প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

    বর্তমানে জি.পি.এ সিস্টেম চালু হওয়ায় ১ম, ২য়, ৩য় (বিভাগ) এবং (শ্রেণি) নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষার জন্য কত পয়েন্ট লাগে এ নিয়ে একটি কনফিউশন তৈরি হতে পারে। বিষয় টি আরও সহজ ভাবে নিচের টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হল।

    এস.এস.সি / এইচ.এস.সি এর জন্য জিপিএ বের করার পদ্ধতি

    শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ
    প্রথম শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ৩.০০ বা তদূর্ধ
    দ্বিতীয় শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ২.০০ থেকে ২.৯৯ পর্যন্ত
    তৃতীয় শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ১.০০ থেকে ১.৯৯ পর্যন্ত

    অনার্স বা সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রে জিপিএ বের করার পদ্ধতি

    শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ
    প্রথম শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ৩.০০ বা তদূর্ধ
    দ্বিতীয় শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ২.২৫ থেকে ২.৯৯ পর্যন্ত
    তৃতীয় শ্রেণি / বিভাগজি.পি.এ ১.৬৫ থেকে ২.২৫ পর্যন্ত

    ২। বিসিএস পরীক্ষার জন্য শারীরিক যোগ্যতা:

    বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সম্মুখে হাজির করা হয়। মেডিকেল বোর্ডে শারীরিক যোগ্যতার মাপকাঠিতে একজন প্রার্থী উত্তীর্ণ না হলে তিনি বিসিএস ক্যাডার হতে পারেন না। তাই বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা হিসেবে প্রার্থীর শারীরিক যোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত পুরুষ ও মহিলা প্রার্থীদের জন্য শারীরিক যোগ্যতা ভিন্ন হয়ে থাকে। আবার পুলিশ ও আনসার ক্যাডার এবং অন্যান্য ক্যাডারদের জন্যও শারীরিক যোগ্যতা ভিন্ন হয়ে থাকে। শারীরিক যোগ্যতার প্রমাণের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রার্থীদের ওজন-উচ্চতা, বক্ষ পরিমাপ, দৃষ্টিশক্তি, মূত্র পরীক্ষা ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।

    বিভিন্ন ক্যাডার পদে পুরুষ ও নারী প্রার্থীদের ওজন, উচ্চতা ও বক্ষের পরিমাপের যোগ্যতা:

    পুরুষ প্রার্থীদের জন্য নূন্যতম উচ্চতা ও ওজন

    ক্যাডারনূন্যতম উচ্চতানূন্যতম ওজন
    বিসিএস পুলিশ / আনসার ক্যাডার১৬২.৫৬ সে.মি৫৪.৫৪ কেজি
    অন্যান্য ক্যাডার১৫২.৪০ সে.মি৪৫ কেজি

    নারী প্রার্থীদের জন্য নূন্যতম উচ্চতা ও ওজন

    ক্যাডারনূন্যতম উচ্চতানূন্যতম ওজন
    বিসিএস পুলিশ / আনসার ক্যাডার১৫২.৪০ সে.মি৪৫.৪৫ কেজি
    অন্যান্য ক্যাডার১৪৭.৩২ সে.মি৪০.৪০ কেজি

    প্রার্থীর বক্ষের পরিমাপের যোগ্যতা

    জুতা সহ উচ্চতা (সেঃ মিঃ)পূর্ণ প্রসারণের মাধ্যমে বক্ষ
    পরিমাপ (সেঃ মিঃ)
    সর্বোচ্চ প্রসারণের মাত্রা (সেঃ মিঃ)
    ১৫২.৪০ হইতে ১৬৫.১০ সেঃ মিঃ এর নিম্নে৭৬.২০৫.০৮
    ১৬৫.১০ হইতে ১৭২.৭২ সেঃ মিঃ এর নিম্নে৭৮.৭৪৫.০৮
    ১৭২.৭২ হইতে ১৭৭.৮০ সেঃ মিঃ এর নিম্নে৮১.২৮৫.০৮
    ১৭৭.৮০ হইতে ১৮২.৮৮ সেঃ মিঃ এর নিম্নে৮৩.৮২৫.০৮
    ১৮২.৮৮ সেঃ মিঃ হইতে তদুর্ধ্ব৮৬.৩৬৫.০৮

    উল্লেখিত উচ্চতা না থাকলে কোন প্রার্থী নিয়োগের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে কোন প্রার্থীর বর্ণিত ওজন না থাকলে তিনি সাময়িক ভাবে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এক্ষেত্রে ওজন কম হলে বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে Body Mass Index (BMI) এর মান আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উল্লেখ্য যে শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিধান সমূহ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসরণ পূর্বক সম্পন্ন করা হবে।

    প্রার্থীর দৃষ্টিশক্তির যোগ্যতা:

    বিসিএস পরীক্ষার শারীরিক যোগ্যতার মধ্যে প্রার্থীর দৃষ্টিশক্তি জনিত যোগ্যতা অন্যতম। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা একটি প্রচলিত সমস্যা। তাই প্রার্থীদের সচরাচর একটি জিজ্ঞাসা থাকে যে চশমা ব্যাবহার করেন এমন প্রার্থীরা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হওয়া যাবে কিনা। বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দৃষ্টিশক্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ৩ টি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। নিম্নে এই মানদণ্ড টি তুলে ধরা হল –

    মানদণ্ড ১

    দৃষ্টির ধরণডান চোখবাম চোখ
    দূর দৃষ্টি৬/৬৬/৬
    নিকট দৃষ্টি পঠন০.৬/টিআই/এন৫পঠন-০.৬/জেআই/এন৫

    মানদণ্ড ২

    দৃষ্টির ধরণডান চোখবাম চোখ
    দূর দৃষ্টি৬/৬গ্লাস/চশমা ছাড়া ৬/৬০ এর নিম্নে নহে সংশোধিত হওয়ার পর চশমা সহ ৬/১২ এর নিম্নে নহে
    নিকট দৃষ্টি পঠন০.৬/টিআই/এন৫পঠন-১/টি ২/এন৬

    মানদণ্ড ৩

    দৃষ্টির ধরণডান চোখবাম চোখ
    দূর দৃষ্টিচশমা ছাড়া ৬/৬০ এর নিম্নে নহেচশমা/গ্লাস ছাড়া ৬/৬০ এর নিম্নে নহে এবং সংশোধিত হওয়ার পর চশমা সহ ৬/১২ এর নিম্নে নহে
    নিকট দৃষ্টি পঠন০.৬/টিআই/এন৫পঠন-১/টি৪/এন৮

    দৃষ্টিশক্তি জনিত যোগ্যতা কোন ভাবেই শিথিলযোগ্য নয়। তবে গ্লাস বা চশমা ব্যাবহারের পরে যদি প্রার্থীর দৃষ্টিশক্তি ঠিক থাকে তবে প্রার্থী দৃষ্টিশিক্তি জনিত যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হবেন। তবে প্রার্থী যদি বর্ণান্ধ হন অর্থাৎ যদি কোন রঙ সঠিক ভাবে ধরতে না পারেন তবুও তিনি দৃষ্টিশক্তির বিবেচনায় যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে সেক্ষেত্রে এই তথ্য উনার রিপোর্টে উল্লেখ থাকতে হবে।

    ৩। বিসিএস পরীক্ষার জন্য বয়সসীমা:

    বিসিএস প্রস্তুতির শুরুতেই অনেক প্রার্থী বয়স নিয়ে চিন্তিত থাকেন। সম্প্রতি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নতুন বয়সসীমা এবং এবং বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক:

    • সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য সাধারণ প্রার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর।
    • মুক্তিযোদ্ধা কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, স্বাস্থ্য ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য এই বয়সসীমা এখন পর্যন্ত ৩২ বছর রাখা হয়েছে।
    • এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি) যে মাসে বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি জারি করে সে মাসের ১ তারিখ থেকে প্রার্থীর বয়স গণনা করা হয়।
    • স্বাস্থ্য ও কারিগরি শিক্ষা ক্যাডারের জন্য প্রার্থীদের বয়সসীমা আগেও ৩২ বছর ছিল এবং বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও এটি বহাল রয়েছে।
    • এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার সনদপত্রে থাকা জন্মতারিখই প্রার্থীর আসল জন্মতারিখ এর প্রমাণ, হলফনামার মাধ্যমে বয়স প্রমাণের সুযোগ আর নেই।
    • বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরির বয়স থাকাকালীন অবস্থায় একজন প্রার্থী যতবার ইচ্ছা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    ৪। বিসিএস পরীক্ষার জন্য নাগরিকত্বের যোগ্যতা:

    বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কোন ব্যাক্তি বিসিএস পরীক্ষায় অংশহগ্রহন করতে পারবেন না। শুধু তাই নয় সরকারের পুর্বানুমতি ব্যাতিরেকে কোন প্রার্থী কোন বিদেশি নাগরিক কে বিবাহ করলে বা বিবাহ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইলে তিনি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

    ৫। বিসিএস পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা:

    বিসিএস প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও একজন প্রার্থী বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন থেকে ছিটকে পরতে পারে যদি তিনি স্বাস্থ্যগত ভাবে ফিট না হন। তাই বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করার পূর্বেই এই বিষয় টি জেনে নেওয়া খুবই প্রয়োজন। বিসিএস পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই সহ বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করার মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়ে থেকে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার এই ধাপগুলো নিম্নে দেওয়া হল:

    (ক) শারীরিক যোগ্যতা যাচাই: এ পর্যায়ে পর্যায়েই প্রার্থীর উজন, উচ্চতা এবং বুকের মাপ পরিমাপ করা হয়।
    (খ) দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা: এ পর্যায়ে উপরে উল্লেখিত দৃষ্টিশক্তি পরিমাপের মানদন্ড অনুসরণ করে প্রার্থীর চোখের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে দেখা হয়।
    (গ) এক্স রে পরীক্ষা: এ পর্যায়ে সামনে এবং পিছন থেকে এক্স রে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর ফুসফুস এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
    (ঘ) ডোপ টেস্ট: এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী কোন প্রকার মাদক সেবনের সাথে জড়িত কিনা এটি পরীক্ষা করা হয়ে থাকে।
    (ঙ) রক্ত পরীক্ষা: স্বাস্থ্য পরীক্ষার এই পর্যায়ে প্রার্থীর রক্তে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর শরীরে বিভিন্ন রোগ যেমন হেপাটাইটিস বি ও সি, এবং এইচআইভি এর উপস্থিতি আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

    (চ) রক্তচাপ পরীক্ষা: এ পর্যায়ে প্রার্থীর রক্তচাপ বা ব্লাডপ্রেশার পরীক্ষা করে দেখা হয় তার উচ্চরক্তচাপ বা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা আছে কিনা।

    আরও দেখুন: বিসিএস প্রস্তুতি যেভাবে শুরু করবেন

    শেষকথা:

    বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতার মাপকাঠিতে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার একমাত্র লক্ষ্য যদি হয় বিসিএস ক্যাডার হওয়া, তবে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতার সকল স্তরে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমান করার জন্য কাজ করতে হবে। আশাকরি এই আর্টিক্যাল টি পড়ার পর বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা নিয়ে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন।

    বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাস করা কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর:

    প্রশ্ন: বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কি কি টেস্ট করানো হয়?

    উত্তর:  বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সাধারণত প্রার্থীর ওজন, উচ্চতা, বক্ষের মাপ, দৃষ্টিশক্তির পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা ইত্যাদি করানো হয়। যার মধ্যে কিছু রুটিন টেস্ট থাকে যেখানে সাধারণত প্রার্থীর রক্তচাপ, হেপাটাইটিস, এইচআইভি টেস্ট করানো হয় ।

    প্রশ্ন: বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার যোগ্যতা কি?

    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সাধারণত যেসকল যোগ্যতা প্রয়োজন যেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক যোগ্যতা, বয়সসীমা, নাগরিকত্ব এই সকল যোগ্যতাই শিক্ষা ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতার জন্য প্রযোজ্য। তবে যেহেতু শিক্ষা ক্যাডার একটি প্রফেশনাল ক্যাডার এবং প্রার্থীর স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নকৃত বিষয়ের উপর এটি নির্ভর করে সেহেতু প্রার্থী কোন বিষয়ে তার স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জন করেছেন সেটিও একটি যোগ্যতা। কারন সকল বিষয়ের জন্য শিক্ষা ক্যাডার পদ টি থাকে না।

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা দিতে কত পয়েন্ট লাগে?

    উত্তর: বিসিএস পরীক্ষা দিতে কোন নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা জিপিএ প্রয়োজন পরে না। প্রার্থীর এস.এস.সি, এইচ.এস.সি এবং অনার্স এই ৩ টি পর্যায়ে একাধিক তৃতীয় বিভাগ বা তৃতীয় শ্রেণির ফলাফল না থাকলেই একজন প্রার্থী বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করবেন। এই আর্টিক্যালের শিক্ষাগত যোগ্যতা অংশে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

    প্রশ্ন: বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়?

    উত্তর: একজন প্রার্থী তার চাকরির বয়স থাকা পর্যন্ত অর্থাৎ সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বিসিএস পরীক্ষার বয়সীমা ২১ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত যতবার চান বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তবে কোটায় আবেদন করা প্রার্থীদের জন্য এই বয়স সীমা ৩২ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে।

  • ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি প্রশ্ন এনালাইসি | English Wizard Grammar

    ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি প্রশ্ন এনালাইসি | English Wizard Grammar

    English Wizard Grammar বই থেকে ৪৬তম বিসিএসে কেমন প্রশ্ন কমন এসেছে? বি.সি.এস. এর মতো পরীক্ষায় ইংরেজি গ্রামার অংশে সরাসরি কমন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তথাপি ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আমাদের গ্রামার বই English Wizard Grammar থেকে প্রায় সরাসরি কিছু প্রশ্ন কমন এসেছে এবং প্রায় সকল প্রশ্নই আমাদের বইয়ে আলোচিত Rule এর মধ্য থেকে এসেছে অথবা কিছু প্রশ্ন উত্তর করার জন্য যথেষ্ট Clue আমাদের বইয়ে আছে।

    দেখে নিন Live MCQ English Grammar Wizard – বই এ যা যা রয়েছে।

    তাছাড়া English Wizard Video Lecture Series এবং English Wizard Exam Section এবং লাইভের বিভিন্ন পরীক্ষায় ইংরেজি গ্রামারে আমরা যে প্যাটার্ন এর প্রশ্ন করেছি বা প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিয়েছি এবারের পরীক্ষায় সেগুলো আমাদের ইউজারদের অনেক বেশি সাহায্য করেছে। আমাদের ইউজারদের স্বতঃস্ফূর্ত কিছু পজিটিভ কমেন্ট এবং স্বীকৃতি আমাদেরকে বেশ আপ্লুত করেছে, তাদের প্রতি জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা।

    ৪৬তম বিসিএসের English Grammar part এ ২৫টি প্রশ্ন ছিলো, এর মধ্যে ২২টি প্রশ্নের আলোচনা English Wizard Grammar বইয়ে রয়েছে। Live এবার আমরা দেখার চেষ্টা করি, আমাদের বই English Wizard Grammar এর Rule, Example, প্রদত্ত Clue থেকে এবারের ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কী পরিমাণ প্রশ্ন কমন এসেছে।

    দেখে নিন ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি প্রশ্নের বিশ্লেষণ এবং English Wizard Grammar বই এর কোন পৃষ্ঠা থেকে কোন প্রশ্নটি কমন পড়ছে।

    ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি প্রশ্ন এনালাইসিস

    ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ইংরেজি প্রশ্ন এনালাইসি PDF – English Wizard Grammar