বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একাধিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত আছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট খাতের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে কৃষি, যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র নীতি পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আজকের আর্টিকেলে– আমরা বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহের পরিচয়, তাদের কার্যাবলি, এবং মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি যারা সরকারি চাকরিতে আগ্রহী বা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান তাদের অনেক বেশি উপকারে আসবে।
মন্ত্রণালয় সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মন্ত্রণালয় হলো সরকারের একটি প্রশাসনিক বিভাগ, যা একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজ করে।
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের একজন মন্ত্রী থাকেন, যিনি মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী। মন্ত্রীকে সহায়তা করেন সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন করে এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলো সেই নীতি বাস্তবায়ন করে।
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহের তালিকা
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪৩টি মন্ত্রণালয় রয়েছে। নিচে সেগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
অর্থ মন্ত্রণালয়
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
কৃষি মন্ত্রণালয়
খাদ্য মন্ত্রণালয়
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
শিল্প মন্ত্রণালয়
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
রেলপথ মন্ত্রণালয়
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
ভূমি মন্ত্রণালয়
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
চিনি ও খাদ্য শিল্প বিভাগ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
সংসদ বিষয়ক বিভাগ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়ের কাজ
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট কার্যপরিধি রয়েছে। নিচে প্রধান কিছু মন্ত্রণালয়ের কাজের বিবরণ দেওয়া হলো:
অর্থ মন্ত্রণালয়
জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
রাজস্ব নীতি নির্ধারণ
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা
ব্যাংকিং ও বীমা খাত নিয়ন্ত্রণ
বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান ব্যবস্থাপনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পরিচালনা
শিক্ষা কারিকুলাম উন্নয়ন
শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ
বৃত্তি ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা
ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ও মান নিশ্চিতকরণ
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা
মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও রোগ প্রতিরোধ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও পুলিশ বাহিনী পরিচালনা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) তদারকি
পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবস্থাপনা
কারা পরিদপ্তর পরিচালনা
জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনা
কৃষি মন্ত্রণালয়
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির নীতি প্রণয়ন
কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ
সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা
কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি পরিচালনা
বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস পরিচালনা
বৈদেশিক চুক্তি ও সন্ধি সম্পাদন
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা
আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
মন্ত্রণালয়ের চাকরি প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়গুলোতে চাকরির সুযোগ বেশ ব্যাপক। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থীরা মন্ত্রণালয়ে চাকরি পেতে পারেন।মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে- আমাদের শূন্য থেকে চাকরির প্রস্তুতি ব্লগটি দেখতে পারেন।
নিয়োগ পদ্ধতি
মন্ত্রণালয়ে দুই ধরনের নিয়োগ হয়ে থাকে:
বিসিএস (BCS) পরীক্ষার মাধ্যমে- প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড পদে
সরাসরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে- তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে
এছাড়াও পদোন্নতির মাধ্যমে- নিম্নপদ থেকে উচ্চপদে এবং চুক্তিভিত্তিক- বিশেষ প্রকল্পের জন্য মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে থাকে।
আবেদন প্রক্রিয়া
মন্ত্রণালয়ে চাকরির আবেদন করতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়:
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd), (alljobs.teletalk.com.bd) বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ডাউনলোড করে যোগ্যতা যাচাই করুন
অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
নির্ধারিত ফি টেলিটক/অন্যান্য মাধ্যমে পরিশোধ করুন
প্রবেশপত্র ডাউনলোড করুন এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন
পরীক্ষার ধাপসমূহ
মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা সাধারণত নিচের ধাপে অনুষ্ঠিত হয়:
ধাপ ১: প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (MCQ) পদ এবং গ্রেডের উপড়ে ভিত্তি করে মন্ত্রণালয়ের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাগুলোর সিলেবাস এবং মান নির্ধারণ হয়ে থাকে। সাধারণ বেশিরভাগ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ হয়ে থাকে। পাশ মার্ক ৫০% হয়ে থাকে। বিসিএস প্রিলিমিনারি ২০০ নম্বরের হয়ে থাকে।
ধাপ ২: লিখিত পরীক্ষা পদের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়গুলোর লিখিত পরীক্ষার মান ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে, বেশিরভাগ মন্ত্রণালয়ের লিখিত পরীক্ষা ১০০ নম্বরের হয়ে থাকে। বিসিএস সাধারণ / প্রফেশনাল লিখিত পরীক্ষা ৯০০ নম্বরের হয়ে এবং উভয় বিসিএস লিখিত পরীক্ষা ১২০০ নম্বরের হয়ে থাকে।
ধাপ ৩: মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা। এখানে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগাযোগ দক্ষতা, বিষয়জ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞান যাচাই করা হয়। চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরিতে এই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ধাপ ৪: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ যাচাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় এবং প্রার্থীরা নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে পারেন।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয় কয়টি? বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। তবে সরকার পরিবর্তন বা পুনর্গঠনের ফলে এই সংখ্যা সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে।
মন্ত্রণালয় কী? মন্ত্রণালয় হলো সরকারের একটি প্রশাসনিক ইউনিট যা একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এটি নির্দিষ্ট খাতের নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে। মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থা থাকে যারা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয় কোনটি? জনবল ও কার্যপরিধির দিক থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশের বৃহত্তম মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মরত আছেন, যা এটিকে কর্মীসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম মন্ত্রণালয়ে পরিণত করেছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর মূল ভিত্তি। প্রতিটি মন্ত্রণালয় তার নির্দিষ্ট খাতে নীতি প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়গুলো একযোগে কাজ করছে।
আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। যদি বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়সমূহ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পড়াশোনা এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে চাকরির স্বপ্ন পূরণ করা সম্পূর্ণ সম্ভব। মন্ত্রণালয়সহ দেশের সকল সরকারী চাকরির প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।
নন ক্যাডার পদসমূহ বিষয়টি মাথায় আসলেই চিন্তা আসে আসলে এই পদগুলো কোনগুলো। এই পদগুলো কেমন, এগুলোর সার্কুলার কিভাবে হয়ে থাকে। প্রথমত, নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের জেনারেল পদগুলো ভালো। সবগুলোতে কম-বেশি সুবিধা রয়েছে। জেনারেলগুলোতে টেকনিক্যালগুলোর তুলনায় একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, ১০ম গ্রেডের কয়েকটি খুব ভালো জব রয়েছে। এগুলো অনেকেই ৯ম গ্রেড থেকে এগিয়ে রাখে। যেমন- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। চলুন ননক্যাডার পদগুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেই এই ব্লগে।
নন ক্যাডার কি
নন-ক্যাডার বলতে সরকারি চাকরির সেইসব পদকে বোঝায়, যেগুলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, যারা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগ পান না, কিন্তু সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তারা নন-ক্যাডার কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে পরিচিত।
নন-ক্যাডারদের কাজ নির্ভর করে তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর। তারা প্রশাসনিক সহায়তা, কারিগরি কাজ, অফিস ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনার মতো নানা দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব পদ দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি অবদান রাখে।
নন-ক্যাডার নিয়োগ সাধারণত বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (BPSC) এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বিসিএস পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হলেও ক্যাডার পান না, তাদের মেধা তালিকা অনুযায়ী নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেও নন-ক্যাডার কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে।
নন ক্যাডার পদ সমূহ
নন ক্যাডারের অন্তভুর্ক্ত অসংখ্য পদ রয়েছে। নিম্নে ৯ম ও ১০ গ্রেডের নন ক্যাডার কতিপয় কিছু ভালো পদ সমূহকে উল্লেখ করা হলোঃ
নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদসমূহ
> সাবরেজিস্ট্রার- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। > উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা- নির্বাচন কমিশন। > উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা- সমাজসেবা অধিদপ্তর।
নন-ক্যাডার ১০ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদসমূহ
> সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > কর পরিদর্শক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট, বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর কার্যালয়।
উপসংহার
আশা করি, নন ক্যাডার সম্পর্কিত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানতে পেরেছেন। যদি নন ক্যাডারের পদ থেকে শুরু করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি , নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
নন ক্যাডার থেকে শুরু করে সকল সরকারী চাকরি ( বিসিএস, ব্যাংক, NTRCA, ৯ম থেকে ২০তম গ্রেড) এবং প্রাইভেট ব্যাংক জব প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে এখনই Live MCQ™ অ্যাপটি ডাউনলোড করুন। রুটিন অনুযায়ী পড়াশোনা এবং নিয়মিত লাইভ পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করুন। জব সার্কুলার, নোটিশ এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য পেতে আমাদের ব্লগ সেকশনে চোখ রাখুন।
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার নাম হল বিসিএস। তাই অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। সেই তুলনায় সুযোগ থাকে মাত্র কয়েক হাজার। এই কঠিন প্রতিযোগিতায় যারা সফল হন, তাদের বেশিরভাগের মধ্যে একটা মিল আছে- তারা তাড়াতাড়ি শুরু করেছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে নয়, অনার্সে পড়তে পড়তেই তারা প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন।
অনেকেই ভাবেন- “অনার্স শেষ হোক, তারপর দেখা যাবে।” কিন্তু এই একটা ভুল ধারণাই অনেকের বিসিএসের স্বপ্নকে কঠিন করে দেয়। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি ঠিক কীভাবে নেওয়া যায়, কোন বর্ষে কী করবেন, কোন বইগুলো পড়বেন এবং কেমন রুটিন মানবেন সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন দেওয়া হবে।
অনার্স থেকে বিসিএস প্রস্তুতি
অনার্সে পড়ার সময়টা আসলে বিসিএস প্রস্তুতির জন্য সঠিক সময়। অনার্সে থাকা অবস্থায় আপনার হাতে সময় থাকে, মাথায় শেখার আগ্রহ থাকে এবং পড়াশোনার পরিবেশও অনুকূলে থাকে। শুধু তাই নয়, অনার্সের সিলেবাসের সাথে বিসিএসের সিলেবাসের অনেক জায়গায় মিল আছে। বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস, ভূগোল, ইংরেজি- এসব বিষয় অনার্সেও পড়তে হয়, বিসিএসেও লাগে।
অনার্সে পড়ার সময় থেকেই বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করতে হলে, প্রথমেই কিছু বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। যে ভিত্তিটা শুরুতেই মজবুত থাকে, পুরো প্রস্তুতিটা তার উপরেই দাঁড়িয়ে থাকে।
বিসিএস কী এবং কত প্রকার তা জানুন
বিসিএস মূলত দুই ধরনের সাধারণ ক্যাডার ও কারিগরি/পেশাদার ক্যাডার। কোন ক্যাডারে আপনি যেতে চান সেটা আগে থেকেই ঠিক করে নিলে প্রস্তুতি নেওয়া অনেক সহজ হয়।
বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাস ভালোভাবে বুঝুন
সিলেবাল না জেনে পড়া শুরু করলে অনেক সময় নষ্ট হয়। পিএসসির অফিশিয়াল সিলেবাস একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং কোন বিষয়ে কতটুকু পড়তে হবে সেটা বুঝে নিন।
মানবণ্টন বোঝা জরুরি
প্রিলিমিনারিতে ২০০ নম্বর, লিখিততে ৯০০ নম্বর এবং ভাইভাতে ১০০ নম্বর- মোট ১২০০ নম্বরের এই পরীক্ষায় কোন ধাপে কোন বিষয়ে কত নম্বর সেটা জানলে কোথায় বেশি সময় দিতে হবে সেটা বুঝতে পারবেন।
বিসিএস ক্যাডার লিস্ট দেখুন
বিসিএসে মোট ২৬টি ক্যাডার আছে। প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, শিক্ষা সহ বিভিন্ন ক্যাডারের কাজ ও সুযোগ-সুবিধা আলাদা। আগে থেকেই ক্যাডার পছন্দ ঠিক রাখলে লক্ষ্য নিয়ে এগোনো সহজ হয়।
পরীক্ষার ধাপগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখুন
বিসিএস তিনটি ধাপে হয় প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা। প্রতিটি ধাপের ধরন, সময় এবং কৌশল আলাদা। তাই তিনটি ধাপ সম্পর্কেই শুরু থেকে একটা সাধারণ ধারণা রাখুন।
যদি প্রথমেই এই বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকে আর অনার্সে ৪ বছরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তাহলে মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই বিসিএস প্রিলিমিনারি পাস করার সুযোগ থাকে। আর যারা অনার্সের পরে শুরু করেন, তারা তখনও শুধু শুরু করছেন। এছাড়া ধীরে ধীরে পড়া সবসময় বেশি কার্যকর। একসাথে পুরো সিলেবাস পড়ে শেষ গেলে মাথায় থাকে না। কিন্তু ৩-৪ বছরে ধীরে ধীরে পড়লে সেটা দীর্ঘমেয়াদে মনে থাকে।
কখন থেকে বিসিএস প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
সরাসরি উত্তর দিলে বলব অনার্স ১ম বর্ষ থেকেই। অনেকে মনে করেন, ১ম বর্ষে বিসিএসের কথা ভাবাটা অনেক আগে হয়ে যায়। কিন্তু এখানে একটু বুদ্ধি করে ভাবতে হবে। ১ম বর্ষে আপনাকে বিসিএসের পুরো সিলেবাস ধরতে হবে না। শুধু কিছু অভ্যাস গড়তে হবে যেগুলো পরে অনেক কাজে লাগবে।
মনে রাখবেন- বিসিএস প্রস্তুতি মানে শুধু বই পড়া নয়। পত্রিকা পড়া, সাধারণ জ্ঞান আপডেট রাখা, ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ানো- এগুলোও প্রস্তুতির অংশ।
অনার্স ১ম বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি
১ম বর্ষে মূল লক্ষ্য হবে ভিত্তি তৈরি করা। এই সময়ে ভারী বই পড়ার দরকার নেই। বরং কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করুন যেগুলো পরের বছরগুলোতে কাজে লাগবে।
১ম বর্ষে যা করবেন:
প্রতিদিন একটি জাতীয় পত্রিকা পড়ুন- অন্তত সম্পাদকীয় পাতা
বাংলা ব্যাকরণের মৌলিক বিষয়গুলো ঝালাই করুন
ইংরেজি গ্রামারের বেসিক- Tense, Parts of Speech, Sentence ভালো করুন
বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিন
বিসিএসের সিলেবাসটা একবার পড়ুন – শুধু একটা ধারণার জন্য
২য় বর্ষে যা করবেন:
বাংলা সাহিত্য- কবি-সাহিত্যিকদের পরিচয় ও রচনা শুরু করুন
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একটা নোটবুক তৈরি করুন
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৫০টা MCQ প্র্যাকটিস করুন
অনার্স ৩য় বর্ষ থেকে বিসিএস প্রস্তুতি
৩য় বর্ষ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পড়ার গতি বাড়াতে হবে এবং পুরো সিলেবাসটা বড় করে ধরতে হবে।
৩য় বর্ষে যা করবেন:
বিসিএস প্রিলিমিনারির পুরো সিলেবাস অনুযায়ী পড়া শুরু করুন
বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন
ইংরেজিতে Vocabulary, Idioms, Reading Comprehension গুরুত্ব দিন
মানসিক দক্ষতা ও IQ টাইপ প্রশ্নের প্র্যাকটিস করুন
প্রতিদিন ১০০+ MCQ প্র্যাকটিস করুন
মক টেস্টে অংশ নিন- দুর্বলতা খুঁজে বের করুন
নিয়মিত MCQ প্র্যাকটিস করার জন্য সাজেশন হল Live MCQ অ্যাপ ব্যবহার করা।
৪র্থ বর্ষে যা করবেন:
সিলেবাসের বাকি অংশ শেষ করুন এবং রিভিশন দিন
লিখিত পরীক্ষার জন্যও প্রস্তুতি শুরু করুন
প্রতিদিন নিয়ম করে ফুল মক টেস্ট দিন
কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
সম্ভব হলে বিসিএস প্রিলিমিনারিতে বসুন- অভিজ্ঞতা হবে
শূন্য থেকে বিসিএস প্রস্তুতি
অনেকেই আছেন যারা অনার্সের ৩য় বা ৪র্থ বর্ষে এসে বুঝতে পারছেন এতদিন কিছুই করা হয়নি। তাদের জন্য বলছি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শূন্য থেকে শুরু করা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। শুধু দরকার একটু বেশি মনোযোগ এবং স্মার্ট প্ল্যানিং।
শূন্য থেকে শুরুর কৌশল
প্রথম ১ মাস- শুধু বিগত বছরের প্রশ্ন দেখুন এবং সিলেবাস বুঝুন। পরের ২-৩ মাস বিষয়ভিত্তিক পড়া শুরু করুন, দুর্বল জায়গাগুলো আগে ধরুন। এরপর- নিয়মিত মক টেস্ট এবং রিভিশন।মনে রাখবেন, একদিনে সব শেষ করতে হবে না। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে গেলেই হবে।
বিসিএস প্রস্তুতি রুটিন
বিএসস পরীক্ষার সিলেবাস যেহেতু অনেক বিশাল তাই রুটিন মানা আবশ্যক। রুটিন মানেই যে খুব কঠোর হতে হবে তা নয়। বরং এমন একটা রুটিন বানান যেটা আপনি সত্যিই মানতে পারবেন।
নীচে একটি নমুনা রুটিন দেখানো হলো।
দিন
বিষয়
সময়
শনিবার
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
২ ঘণ্টা
রবিবার
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
২ ঘণ্টা
সোমবার
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
২ ঘণ্টা
মঙ্গলবার
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি + কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
২ ঘণ্টা
বুধবার
গণিত ও মানসিক দক্ষতা
২ ঘণ্টা
বৃহস্পতিবার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি + ভূগোল
২ ঘণ্টা
শুক্রবার
ফুল মক টেস্ট + রিভিশন
৩ ঘণ্টা
প্রতিদিন পড়ার শেষে ৫ মিনিট নোট করুন- আজকে কী পড়লেন, কোথায় আটকালেন। এটা রিভিশনের সময় অনেক কাজে লাগবে।
বিসিএস প্রস্তুতি বই তালিকা
বিসিএস প্রস্তুতির বই নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। কোন বই কিনব, কতগুলো কিনব। সত্যি বলতে, অনেক বই কেনার দরকার নেই। বরং কম বই কিন্তু ভালো করে পড়ুন।
বিসিএস পরীক্ষা ৩টি ধাপে বিভিক্ত থাকে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো- প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ভালো করার জন্য অবশ্যই ভালো মানের বই নির্ধারণ করতে হবে। তাই সাজেশন হল- Live MCQ (বিষয়ভিত্তিক) বিসিএস প্রিলিমিনারি জব সল্যুশন বইটি।
এছাড়া বিসিএস এর প্রস্তুতিকে আরও গোছানো, শক্তিশালী করতে নীচের বইগুলো পড়তে হবে।
বাংলা: নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ (বোর্ড বই) পাশাপাশি হায়াৎ মামুদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, MP3 বাংলা গাইড। ইংরেজি: Saifur’s Vocabulary, English for Competitive Exams, Professor’s BCS English Guide বাংলাদেশ বিষয়াবলি: বোর্ড বই পাশাপাশি আজকের বিশ্ব বাংলাদেশ গাইড, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস (মুনতাসীর মামুন), সংবিধান। গণিত ও মানসিক দক্ষতা: বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান পাশাপাশি খাইরুলস ম্যাথ, Oracle Mental Ability সাধারণ বিজ্ঞান: নবম-দশম বিজ্ঞান বোর্ড বই পাশাপাশি আজকের বিশ্ব সাধারণ বিজ্ঞান, Live MCQ Science Expert আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স (মাসিক), তাজুল ইসলামের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি।
বই কেনার চেয়ে বই পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটা বই শেষ করুন, তারপর পরেরটা শুরু করুন।
বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
অনার্স করে কি বিসিএস দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, অবশ্যই যায়। বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকলেই হয়। তাই অনার্স ডিগ্রি নিয়ে বিসিএস দেওয়া সম্পূর্ণ সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, অনার্স শেষ হওয়ার আগেই প্রস্তুতি শুরু করলে আপনি বাকিদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।
বিসিএসের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হয়?
বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল ধাপে ধাপে এগোনো। প্রথমে পিএসসির অফিশিয়াল সিলেবাস ও মানবণ্টন ভালোভাবে বুঝুন। এরপর বিষয়ভিত্তিক ভালো বই বেছে নিন এবং একটা নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন। প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন, নিয়মিত MCQ প্র্যাকটিস করুন এবং বিগত বছরের প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণ করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল- ধারাবাহিকভাবে পড়ে যাওয়া।
উপসংহার
বিসিএস কঠিন, এটা সত্যি। কিন্তু অসম্ভব নয়। যারা ধৈর্য ধরে, পরিকল্পনা করে এগিয়ে যান- তারাই শেষে সফল হন।
অনার্স থেকেই শুরু করলে আপনার হাতে সময় থাকে, ভুল শোধরানোর সুযোগ থাকে এবং আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয় ধীরে ধীরে। তাই আর দেরি না করে আজই একটা ছোট পদক্ষেপ নিন।
নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন, একটা বই ধরুন, কিংবা আজকের একটা MCQ সেট সলভ করুন। শুরুটা ছোট হলেও চলবে- কিন্তু শুরু করতে হবে। আজকের একটু পরিশ্রমই আগামীকালের বড় সাফল্যের ভিত্তি।
প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতি এর পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। মূলত বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা নির্দিষ্ট ক্যাডার পদ (যেমন প্রশাসন, পুলিশ ইত্যাদি) পান না, বরং প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্যান্য সরকারি পদে নিয়োগ পান, তাদের নন-ক্যাডার বলা হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য আলাদা পরীক্ষা গ্রহণ করে, যা নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা নামে পরিচিত। এ ধরনের চাকরিতে যোগ দিতে হলে প্রার্থীদের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ের উপর আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়ে সিলেবাস শেষ করে পরবর্তীতে বিগত সালের প্রশ্নের উপর পরীক্ষা দিয়ে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর উপায়। নিয়মিত রিভিশন, বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান, এবং সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন, সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পড়াশোনার মাধ্যমেই নন-ক্যাডার পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসি এই নন-ক্যাডার অর্থাৎ ৯ম-১৩তম গ্রেডে নিয়োগের লক্ষ্যে নন-ক্যাডার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকে। এই নিয়োগগুলোতে বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এর নিয়োগ পরীক্ষাগুলোও বেশ প্রতিযোগীতাপূর্ণ হয়ে থাকে। তাই প্রতিযোগীতাপূর্ণ পরীক্ষায় নিজের অবস্থান নিশ্চিত করতে আপনার প্রস্তুতি হতে হবে গোছানো এবং কার্যকর। তাছাড়া আপনাদের মধ্যেই অনেকে নন-ক্যাডার নিয়োগ, এর চাকরির সুবিধা-অসুবিধা, এই নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি, সিলেবাস এবং প্রশ্ন প্যাটার্ন আরোও নানা বিষয়ে কনফিউজড থাকেন। আজকের ব্লগে আমরা পিএসসি কর্তৃক নেয়া ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতির প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার কৌশল ও পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন আলোচনা করবো। এছাড়াও এই ব্লগে নন-ক্যাডার সম্পর্কিত নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ফলে এখান থেকে আপনারা নন-ক্যাডার এর পদসমূহ, চাকরির সুবিধা-অসুবিধা এবং আরোও নানান বিষয়ে জানতে পারবেন। আশা করি, এই ব্লগটি পড়ার পর নন-ক্যাডার পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না।
নন-ক্যাডারদের পদ
প্রথমত, নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের জেনারেল পদগুলো ভালো। সবগুলোতে কম-বেশি সুবিধা রয়েছে। জেনারেলগুলোতে টেকনিক্যালগুলোর তুলনায় একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়।
দ্বিতীয়ত, ১০ম গ্রেডের কয়েকটি খুব ভালো জব রয়েছে। এগুলো অনেকেই ৯ম গ্রেড থেকে এগিয়ে রাখে। যেমন- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা।
নন-ক্যাডার ৯ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদ: > সাবরেজিস্ট্রার- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। > সহকারী পরিচালক- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। > উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা- নির্বাচন কমিশন। > উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা- সমাজসেবা অধিদপ্তর।
নন-ক্যাডার ১০ম গ্রেডের কতিপয় ভালো পদ: > সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > কর পরিদর্শক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। > এসএএস সুপারিনটেনডেন্ট, বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল এর কার্যালয়।
নন-ক্যাডার বেতন কাঠামো
বাংলাদেশে নন-ক্যাডার পদগুলোও প্রথম শ্রেণি (Grade 9-10) এবং দ্বিতীয় শ্রেণি (Grade 11-13) সরকারি চাকরির অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদের বেতন সরকার নির্ধারিত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সব মিলিয়ে একজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তার মাসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০,০০০+ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, পদ ও অবস্থানভেদে।
ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের মধ্যে পার্থক্য
১. নিয়োগ প্রক্রিয়া
ক্যাডার: বিসিএস (Bangladesh Civil Service) পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নির্দিষ্ট ক্যাডার (যেমন প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা, কাস্টমস, ফরেন সার্ভিস ইত্যাদি) এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
নন-ক্যাডার: বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ক্যাডারে সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীরা PSC এর মাধ্যমে প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্য সরকারি পদে নিয়োগ পান। নন-ক্যাডার নিয়োগের জন্য আলাদা সার্কুলার/পরীক্ষাও হয়।
২. পদ ও দায়িত্ব
ক্যাডার: প্রশাসনিক, নীতি-নির্ধারণী বা বিশেষায়িত পদে কাজ করেন। উদাহরণ: সহকারী কমিশনার (AC), পুলিশ ASP, শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক ইত্যাদি।
নন-ক্যাডার: বিভিন্ন দপ্তরে অফিসার/সহকারী পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেন। যেমন: সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার, সহকারী প্রকৌশলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা।
৩. গ্রেড ও বেতন
ক্যাডার: সাধারণত ৯ম গ্রেড থেকে শুরু (২২,০০০ টাকা বেসিক) এবং ধাপে ধাপে উন্নতি।
নন-ক্যাডার:৯ম, ১০ম, ১১তম, ১২তম বা ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ হয়। গ্রেড যত নিচু, বেতনও তত কম।
৪. প্রশিক্ষণ
ক্যাডার: বিসিএস একাডেমি বা সংশ্লিষ্ট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে দীর্ঘমেয়াদি ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ পান।
নন-ক্যাডার: সাধারণত সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে ক্যাডারদের মতো বিস্তৃত নয়।
৫. ক্যারিয়ার উন্নতি
ক্যাডার: পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার অগ্রগতি তুলনামূলক দ্রুত ও নির্দিষ্ট কাঠামোয় হয়।
নন-ক্যাডার: পদোন্নতি তুলনামূলক ধীর, অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উচ্চ পদে পৌঁছানো যায় না।
৬. সুবিধা
ক্যাডার: গাড়ি সুবিধা, সরকারি বাসা, বিদেশে প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ইত্যাদি বেশি থাকে।
নন-ক্যাডার: বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাওয়া গেলেও ক্যাডারদের সমপর্যায়ের বাড়তি সুবিধা থাকে না।
মূলত ক্যাডারগণ দেশের নীতি, প্রশাসন ও গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনায় নিয়োজিত এলিট সরকারি কর্মকর্তা এবং নন-ক্যাডারগণ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, তবে ক্যাডারের মতো প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলক কম।
নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে সুপারিশকৃত কিছু পদ
পিএসসি বিসিএস ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য নন-ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করে। নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে তাদের চাহিদা মোতাবেক জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয়ই পদেই যোগ্য প্রার্থীকে সুপারিশ করে। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য প্রার্থীকে দুই বা তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নিম্নে পিএসসি কর্তৃক নন-ক্যাডার পরীক্ষার মাধ্যমে সুপারিশকৃত কিছু পদের নাম উল্লেখ করা হলো:-
পদের নাম
গ্রেড
মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর
পদের ধরন
জেলা ক্রীড়া অফিসার
৯ম
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর।
জেনারেল
সহকারী উপজেলা/ থানা শিক্ষা অফিসার
১০ম
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
জেনারেল
প্রশাসনিক কর্মকর্তা
১১ম
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন তোশাখানা ইউনিট, তোশাখানা জাদুঘর।
জেনারেল
স্টেশন অফিসার
১২তম
স্বরাষ্ট্র মধ্যপালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন ফায়ার সার্ভিস, ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
জেনারেল
সহকারী প্রোগ্রামার
৯ম
আইন ও বিচার বিভাগ এর আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
টেকনিক্যাল
উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)
১০ম
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেলওয়ে
টেকনিক্যাল
এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনার
১১তম
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
টেকনিক্যাল
নার্স মিডওয়াফ
১২তম
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট)।
টেকনিক্যাল
উপোরক্ত পদগুলো ছাড়াও আরো শতাধিক নন-ক্যাডার পদের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে থাকে বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন (পিএসসি)। জেনারেল সকল অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের পদের সিলেবাস ও মানবন্টন একই রকম। তাই একটি সমন্বিত প্রস্তুতি নিতে পারলে চাকরি পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা থাকে। অনুরূপভাবে টেকনিক্যাল সকল পদের পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বাকি সিলেবাস ও প্রস্তুতি একই ধরনের, তাই টেকনিক্যালে পদের জন্য পদ- সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া বাকিগুলতে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়া যায়। আমরা এখানে জেনারেল এবং টেকনিক্যাল উভয় ধরনের পরীক্ষার পদ্ধতি, সিলেবাস এবং গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি গাইডলাইনটি আপনাদের প্রস্তুতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
৯ম-১৩তম গ্রেড নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের পরীক্ষা পদ্ধতি
৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০ জনের বেশি হলে লিখিত পরীক্ষার পূর্বে প্রথমে ১ ঘণ্টা ব্যাপী ১০০ নম্বরের MCQ ধরনের বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। MCQ পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরবন্টন নিম্নরুপ:
ক্রমিক নং
বিষয়
নম্বর
সময়
১
বাংলা
২৫
১ ঘণ্টা
২
ইংরেজি
২৫
৩
সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)
২৫
৪
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান
২৫
৫
সর্বমোট
১০০
MCQ ধরনের বাছাই পরীক্ষায় প্রার্থীগণ প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন; ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে।
৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে শূন্য আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০ বা তার কম হলে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের পর সরাসরি ৪ ঘণ্টা ব্যাপী ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। লিখিত পরীক্ষার বিষয় ও নম্বরবন্টন নিম্নরুপ:
ক্রমিক নং
বিষয়
নম্বর
পাশ নম্বর
সময়
১
বাংলা
৫০
সামগ্রিকভাবে পাশ নম্বর ৪৫% অর্থ্যাৎ পাশ মার্ক ৯০
৪ ঘণ্টা
২
ইংরেজি
৫০
৩
সাধারণ জ্ঞান
৪০
৪
গণিত ও মানসিক দক্ষতা
৬০
সর্বমোট
২০০
৯ম গ্রেডের মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০০ মার্কসের, পাশ নম্বর ৪৫% অর্থ্যাৎ ৪৫ পেলে পাশ বলে বিবেচিত হবেন। অপরদিকে ১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেডের মৌখিক পরীক্ষা হবে ৫০ মার্কসের, পাশ নম্বর ৪০% অর্থ্যাৎ ২০ পেলে পাশ বলে বিবেচিত হবেন।
প্রার্থীকে লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদা আলাদাভাবে পাশ করতে হবে। অন্যথায় প্রার্থী সার্বিকভাবে অকৃতকার্য বিবেচিত হবেন।
৯ম-১৩তম গ্রেড নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা প্রস্তুতির গাইডলাইন-
বাংলা- (২৫ নম্বর)
পিএসসি নন-ক্যাডারের বিগত বছরের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে দেখা গিয়েছে, বাংলা ব্যাকরণ এবং সাহিত্য উভয় অংশ থেকে প্রায় সমান পরিমান প্রশ্ন এসেছে। তাই ব্যাকরন এবং সাহিত্য উভয় অংশেই সমান জোর দিয়ে পড়তে হবে।
❖ সাহিত্য অংশ:
– বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ প্রভৃতি সময়কাল নিয়ে জানা থাকতে হবে। অন্ধকার যুগের সাহিত্য কর্ম নিয়ে জেনে নিবেন।
– প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ সম্পর্কিত সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখবেন। চর্যাপদ থেকেই প্রায় সকল নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। তাই এর পদ, পদকর্তা, আবিষ্কারক, অনুবাদক, টীকাকারকসহ গুরত্বপূর্ণ সকল তথ্য পড়বেন।
– মধ্যযুগ থেকে প্রতি নন-ক্যাডার পরীক্ষায় ২-৩টি প্রশ্ন আসে। তাই এই অংশে কোনভাবেই হেলাফেলা করা যাবে না। এই অংশে মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাসমূহ, পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য, লোক সাহিত্য, মর্সিয়া সাহিত্য, কবিগান ও শায়ের প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ সকল কিছু পড়বেন। এছাড়া মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম পড়বেন। এই অংশে এই নামের একাধিক লেখা ভিন্ন ভিন্ন সাহিত্যিকগণ লিখেছেন। তাই পরীক্ষায় আসলে যাতে কনফিউশনে না পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রেখে পড়বেন।
– আধুনিক যুগ থেকে প্রতিটি নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রায় ৮-১০টি প্রশ্ন আসে। এই অংশে বাংলা গদ্যের বিকাশ (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও অন্যান্য); সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি, সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা; গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, উক্তি ও সংলাপ; বাংলা সাহিত্যে যা কিছু প্রথম; মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অন্যান্য আন্দোলন সংগ্রাম বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পড়বেন।
– এছাড়া আধুনিক যুগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, মানিক বন্ধ্যোপাধ্যায়, জসীমউদ্দীন, অন্নদাশঙ্কর রায়, আহসান হাবীব, ডি. এল. রায়, শওকত আলী, শওকত ওসমান, শহীদুল্লাহ কায়সার, শামসুর রাহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সৈয়দ শামসুল হক, সৈয়দ মুজতবা আলী, হাসান আজিজুল হক প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম পড়বেন।
– তাছাড়া ত্রিশের দশক ও বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব, বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ নারী লেখক, সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সাহিত্যকর্ম দেখে যাবেন।
❖ ব্যাকরণ অংশ:
– ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, বাংলা বর্ণমালা ও যুক্তবর্ণ, সন্ধি, শব্দের উৎস, পারিভাষিক শব্দ, শব্দার্থ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, উপসর্গ, শব্দ প্রকরণ, বাগ্ধারা, সমাস, কারক ও বিভক্তি, বচন, পদ প্রকরণ, বাক্য সঙ্কোচন ও এক কথায় প্রকাশ, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বাচ্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
বাংলা অংশ অনেকটা বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই অংশ কেউ ভালোভাবে শেষ করলে বিসিএস প্রিলিমিনারি বাংলা অংশ অনেকটাই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
অধ্যয়নের উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ এবং ২০২২ সংস্করণ।
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর (অথবা যেকোনো শিক্ষক/স্কলারের বই)।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম (অথবা যেকোনো শিক্ষক/স্কলারের বই)।
লাল নীল দীপাবলি (বাঙলা সাহিত্যের জীবনী), হুমায়ুন আজাদ।
কতো নদী সরোবর (বাঙলা ভাষার জীবনী), হুমায়ুন আজাদ।
গুরুত্বপূর্ণ সকল লেখকের পেইজগুলো বাংলাপিডিয়াতে একনজর দেখে নিবেন।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
ইংরেজী – (২৫ নম্বর)
ইংরেজি অংশে সাধারণত Literature থেকে ২-৪টি প্রশ্ন আসে, বাকি প্রশ্নগুলো Grammar অংশ থেকে। তাই দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজিতে Grammar খুবই গুরত্বপূর্ণ।
❖ English Literature:
– এই অংশে Classification of English Literary Periods, Important Writers of the Different Ages, Literary Terms, Characters and Quotations of Famous Literary Works প্রভৃতি পড়বেন। সর্বোপরি এই অংশে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন।
❖ English Grammar:
– Grammar অংশ জোর দিয়ে পড়বেন। প্রথমত Vocabulary অংশে আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষায় ৩টি থেকে ৫টি পর্যন্ত Vocabulary সম্পর্কিত অর্থাৎ Meaning, Synonym, Antonym, Spelling প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসে। এই অংশে ভালো করার জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) পিডিএফটি দেখতে পারেন।
– এছাড়া Idioms এবং One Word Substitution থেকে নিয়মিত প্রশ্ন এসেছে। এই অংশে ভালো করার জন্য জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Idoms পিডিএফটি দেখতে পারেন।
– তাছাড়া Parts of Speech, Interchange of Different Parts of Speech, Gender, Number, Right form of Verb, Appropriate Preposition Fill in Blanks (Sentence Completion), Clause, Sentence and Correction, Voice, Narration, Translation, Degree প্রভৃতি টপিকগুলো পড়বেন।
Grammar অংশ থেকে যেহেতু অধিকাংশ প্রশ্ন আসে, এ অংশটি ভালোভাবে পড়ে যাবেন। ইংরেজি ভীতির কারণে এই অংশ কম গুরত্ব দেন। কিন্তু গোছানো প্রস্তুতি এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আপনি এ বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
Live MCQTM Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) PDF.
Live MCQTM Idioms PDF.
Applied English Grammar and Composition, P. C. Das.
A Passage to the English Language, S M Zakir Hossain.
An ABC OF English Literature, Dr. M. Mofizar Rahman.
ইংরাজি সাহিত্যের ইতিহাস, ড. শীতল ঘোষ।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
সাধারণ জ্ঞান – (২৫ নম্বর)
সাধারণ জ্ঞান অংশে বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং ভূগোল থেকে মোট ২৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। এছাড়া নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন থেকে মাঝে মধ্যে ২/১টি প্রশ্ন আসতে পারে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিষয়াবলি থেকে তুলনামূলক একটু বেশি প্রশ্ন আসে। এ অংশ ভালোভাবে শেষ করা গেলে যেকোন চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে।
❖ বাংলাদেশ বিষয়াবলি:
– এই অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের ইতিহাস, প্রাচীন জনপদ ও মধ্যযুগ দেখে যাবেন।
– ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। তাই অংশকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। সংবিধান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এই অংশ ভালোভাবে পড়তে হবে।
– এছাড়া বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, বাংলাদেশের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও শিল্প-বাণিজ্য-কৃষি, জাতীয় অর্জন, খেলাধুলা, গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যক্তি ভালোভাবে পড়বেন।
❖ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি:
– বৈশ্বিক ইতিহাস, বিপ্লব ও সভ্যতা, মহাদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ দেশের সাধারণ তথ্য (রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা ইত্যাদি), বিখ্যাত ব্যক্তি (রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, বিপ্লবী), গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক পড়বেন।
– আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন ও জোট, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিসমূহ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আবিষ্কারক, খেলাধুলা প্রভৃতি।
❖ ভূগোল:
– নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়, প্রণালি, ভৌগোলিক উপনাম প্রভৃতি সম্পর্কিত।
– জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল (ম্যানগ্রোভ, রেইন, পাহাড়ি ইত্যাদি)।
– দেশীয় ও বৈশ্বিক স্থান ও স্থাপনা (ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ), জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সীমারেখা ইত্যাদি।
এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক বিষয়সমূহ দেখে যাবেন। সাম্প্রতিক যা পাবেন তাই পড়ার দরকার নেই, শুধু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট করে পড়তে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
অর্থনীতি বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রসঙ্গ, বাংলাদেশ সরকারের অর্থব্যবস্থা এই অধ্যায় সমূহ)।
বাংলাদেশের সংবিধান।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা প্রভৃতির ওয়েবসাইট।
উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস, প্রথম পত্র।
উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি, দ্বিতীয় পত্র।
পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ব্রিটানিকা, হিস্টোরি.কম, ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস প্রভৃতি প্রথিতযশা ওয়েবসাইট।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই। সাম্প্রতিকের জন্য দৈনিক পত্রিকা, Live MCQTM Daily NewsPicker, Live MCQTM Weekly
Bulletin, Live MCQTM সাম্প্রতিক সমাচার নিয়মিত অনুসরণ করবেন।
গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান – (২৫ নম্বর)
এই অংশে গণিত থেকে সাধারণত ১৭-১৯টি প্রশ্ন আসে। এছাড়া দৈনন্দিন বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি থেকে ৬-৮টি প্রশ আসতে পারে। যদিও পিএসসি নন-ক্যাডার সিলেবাসে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি অংশটি নেই, তবে বিগত বছরের নন-ক্যাডারের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে দেখা গিয়েছে, কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি অংশ থেকে মাঝে মধ্যে ১/২টি প্রশ্ন এসেছে।
❖ সাধারন গণিত:
পাটিগণিত অংশে, বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, ঐকিক নিয়ম প্রভৃতি গুরত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
বীজগণিত অংশে বীজগাণিতিক রাশি, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, দ্বি-ঘাত ও সরল সহ-সমীকরণ, সূচক লগারিদম, অসমতা, সেট ও ফাংশন, ধারা (সমান্তর ও গুণোত্তর) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো পড়বেন।
এছাড়া ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান, সরল রেখা, বৃত্ত ও বহুভুজ সংক্রান্ত সমাধান, পরিমিতি, ত্রিকোণমিতি, সম্ভাব্যতা, স্থানাঙ্ক জ্যামিতি, ঘড়ি ও সময় বিষয়ক সমস্যা পড়বেন।
❖ দৈনন্দিন বিজ্ঞান:
দৈনন্দিন বিজ্ঞান অংশে খাদ্য ও পুষ্টি, উদ্ভিদের পুষ্টি, রক্ত, মানবদেহ ও রোগ জীবাণু, স্কেল, রাশি ও পরিমাপক, চুম্বক, তড়িৎ ও অন্যান্য শক্তি এবং শক্তির রূপান্তর, আধুনিক বিজ্ঞান, দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান ও ব্যবহারিক বিষয় (যেমন – ফিটকিরি, বেকিং পাউডার ইত্যাদি), বিভিন্ন বিষয়ের জনক প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসে।
❖ কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি:
কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটার প্রোগ্রাম (যেমন – অনুবাদক প্রোগ্রাম ইত্যাদি), ডাটাবেজ সিস্টেম, ডাটা কমিউনিকেশন, তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অংশ থেকে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন আসে।
অধ্যয়নের উৎস:
সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
Live MCQ Computer & ICT Cloud বই
পদার্থ, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। মৌলিক বিষয়গুলো এক নজর দেখে নিবেন।
বিগত বছরের পিএসসির বিসিএস ও নন ক্যাডার পরীক্ষায় আসা সকল প্রশ্ন ভালোভাবে পড়বেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই।
৯ম–১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) পদের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস
বাংলা – [পূর্ণমান: ৫০ নম্বর]
ক্রমিক নং
বাংলা সিলেবাস
নম্বর
১
রচনা
১৫
২
সারাংশ/সারমর্ম
৫
৩
পত্র লিখন: ব্যক্তিগত পত্র, আবেদনপত্র, পত্রিকায় প্রকাশনার্থে পত্র, ব্যবসা সংক্রান্ত পত্র, স্মারকলিপি।
১০
৪
বঙ্গানুবাদ
৫
৫
ব্যাকরণ: ভাষার সংজ্ঞা, ভাষার রূপ, সাধুভাষা ও চলিত রীতির রূপান্তর, দেশি ও বিদেশি শব্দ, ণত্ব- বিধান ও ষত্ব-বিধানের সংজ্ঞা ও নিয়মাবলি, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদ, ধাতু, উপসর্গ, অনুসর্গ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, যতি বা বিরাম চিহ্ন, শুদ্ধ ও অশুদ্ধ, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, প্রতিশব্দ ও সমার্থক শব্দ, প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ, একই শব্দের বিভিন্নার্থে প্রয়োগ।
১৫
৬
মোট
৫০
ইংরেজি – [পূর্ণমান: ৫০ নম্বর]
ক্রমিক নং
ইংরেজি সিলেবাস
নম্বর
১
Essay (with hints)
১৫
২
Comprehension
১০
৩
Letter: Official/ Demi-Official/ Memorandum/ Business Type.
১০
৪
Grammar: Use of verbs, prepositions, Voice, Narration, Correction of errors in composition, use of words having similar pronunciation but conveying different meanings, use of idioms and phrases.
১৫
৫
মোট
৫০
সাধারণ জ্ঞান – [পূর্ণমান: ৪০ নম্বর]
ক্রমিক নং
সাধারণ জ্ঞান সিলেবাস
নম্বর
১
বাংলাদেশ বিষয়াবলি: বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিল্প ও সাহিত্য, প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ, জলবায়ু, পরিবেশ, বাংলাদেশের উন্নয়নে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্যের অবদান, উন্নয়ন পরিকল্পনা।
১৫
২
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, গ্লোবালাইজেশন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ।
১৫
৩
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু, মাটি, তাপ, বিদ্যুৎ, আলো, চুম্বক, খাদ্যের উপাদান, জনস্বাস্থ্য, দূষণ, কম্পিউটার।
১০
৪
মোট
৪০
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত বাংলা গাইডলাইন-
প্রবন্ধ রচনা:
প্রবন্ধ সাহিত্যের এক বিশেষ প্রকরণ। সংস্কৃত শব্দ ‘প্রবন্ধ’ – এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘প্রকৃষ্টরূপে বন্ধন’; বাংলায় শব্দটির একই অর্থ রক্ষিত। গদ্যে রচিত লেখকের বুদ্ধিদীপ্ত, মননশীল, যুক্তিশাণিত আঁটোসাঁটো বন্ধনে নিয়ন্ত্রিত সাহিত্যরূপই হলো প্রবন্ধ। প্রবন্ধ শব্দটির বিকল্প হিসেবে বাংলায় ‘রচনা’ শব্দের ব্যবহারও লক্ষণীয়, যার অর্থ ‘নির্মাণ করা’। ইংরেজি Essay শব্দের পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর প্রকৃতি প্রবন্ধের সঙ্গে ঠিক মেলে না।
প্রবন্ধের প্রকারভেদ: প্রবন্ধ সাহিত্য প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা: চিন্তাশ্রিত এবং ভাবাশ্রিত। প্রথমোক্ত ধরনে বিষয়বস্তুর গুরুত্ব সর্বাধিক, আর দ্বিতীয়োক্ত ধরনে লেখকের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রাধান্য।
এছাড়াও যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে:
যে বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ লেখা হবে সে বিষয়-সংশিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও উপকরণ আগেই ঠিক করতে হবে।
যে বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হবে সেই বিষয়ের ওপর নানা দিক থেকে আলো ফেলতে হবে। অর্থাৎ যতভাবে বিষয়টিকে দেখা যায় ততগুলো উপশিরোনাম বা অনুচ্ছেদ ঠিক করতে হবে।
উপশিরোনামগুলো বা অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে একটি ঐক্য থাকতে হবে।
একই কথার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
প্রবন্ধের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের সম্পর্ক হবে জৈবিক। গঠনগত ঐক্য প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রবন্ধের মধ্যে প্রাবন্ধিকের চিন্তার স্বচ্ছতা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
প্রবন্ধের মধ্যে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য যথাযথভাবে বিন্যাস করতে হয়।
সারার্শ/সারমর্ম: সারাংশ বা সারমর্ম লেখার নিয়ম –
নির্ধারিত অংশটি বার বার পড়ে মূল বক্তব্য অনুধাবন করতে হবে।
মূল অংশে যেসব অপ্রয়োজনীয় উপমা, অলঙ্কার, দৃষ্টান্ত আছে সারাংশে তা বাদ দিয়ে আসল কথাটা লিখতে হবে।
একই কথার পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। তেমনি প্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেয়া যাবে না।
সারাংশ খুব ছোট কিংবা বড় হবে না। মূল অংশের চেয়ে তা অবশ্যই আকারে ছোট হবে।
বক্তব্যের বর্ণনায় বিশেষণ, ক্রিয়াপদ, অলঙ্কার, উপমা, রূপক ইত্যাদি অবান্তর। বাহুল্য বাদ দিয়ে মূল বিষয়টি সরাসরি লিখতে হবে।
মূল বিষয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনো বিষয় সারাংশে অবতারণা করা যাবে না। অনুমান নির্ভর কোনো ব্যাখ্যা বাঞ্ছনীয় নয়।
সারমর্ম কিংবা সারাংশ রচনার ভাষা মূলের অনুগামী হওয়া প্রয়োজন। সহজ-সরল মৌলিক ভাষায় বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে সবার সহজবোধ্য হয়।
উদ্ধৃত রচনায় একাধিক বিষয় থাকলে তা সংক্ষেপে উল্লেখ করতে হবে এবং মূল বিষয়টি থেকে যাতে রচিত অংশটি সরে না আসে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।
শব্দ ও বাক্য প্রয়োগে সংযম অবলম্বন করতে হবে। একাধিক বিশেষণ প্রয়োগ বাঞ্ছনীয় নয়।
কোনো সাংকেতিক বিষয় থাকলে তার তত্ত্ব বের করতে হবে। ব্যক্তি বা বস্তু সম্পর্কে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য থাকলে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে প্রকাশ করতে হবে।
প্রদত্ত অনুচ্ছেদ অথবা কবিতাংশটি বারবার পড়ে মূলভাবটি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
উদ্ধৃত অংশের মূলভাবের বাক্য/বাক্যগুলি চিহ্নিত করুন।
উপমা, উদাহরণ, উদ্ধৃতি ও রূপক আলাদাভাবে চিহ্নিত করুন।
সারাংশ লিখনের সময় লেখার আয়তনের দিকে লক্ষ রাখুন।
মূলভাবটি যথাযথ ও সহজ বাক্যবিন্যাসে লিখুন।
উপমা, রূপক উদ্ধৃতসহ সকল বাহুল্য বর্জন করুন।
একই কথার পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে লক্ষ্য করুন।
উদ্ধৃতাংশটি কোন কবি বা লেখকের সেটি বলার দরকার নেই।
প্রথম বাক্যটি হবে সহজ সরল ও মূলভাবের প্রতি নির্দেশক।
সারাংশটি লেখা হলে কয়েকবার পড়ে নিশ্চিত হন যে প্রয়োজনীয় কোনো কিছু বাদ যায়নি।
ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য অনুশীলন প্রয়োজন। সারাংশ রচনায় ভাষা পড়ে বুঝতে পারা ও সংক্ষিপ্ত করে লেখা এ দুটি বিষয়ের দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এ দক্ষতা অর্জন করতে হলে সারাংশ রচনার অনুশীলন করতে হবে।
পত্র লিখন:
পরীক্ষায় সামাজিক সমস্যা বা জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য সম্পদকের নিকট পত্র লিখতে হবে অথবা জীবনের মূল্যবোধ বা ব্যক্তিগত কোনো অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বন্ধু, বাবা-মা বা ছোট ভাই-বোন অথবা কোনো আত্মীয় স্বজনকে ব্যক্তিগত পত্র লিখতে হতে পারে।
পত্র লেখার সময় অবশ্যই পত্রের ফরমেট অনুসরণ করতে হবে। পত্রের ৬টি অংশের সবগুলোই যাতে পরীক্ষার উত্তরপত্রে লেখার সময় থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
সবচেয়ে ভালো হয় ২/৩টা করে ব্যক্তিগত পত্র, অফিসিয়াল পত্র, সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাছে লিখিত পত্র ইত্যাদি নোট করে রাখলে এবং ২/১ দিন পর পর সেগুলো চোখ বুলালে ফরম্যাটিং ভালো করে মনে থাকবে এবং কোনো অংশ মিস হবে না। তাছাড়া সপ্তাহে অন্তত একদিন লিখে অনুশীলন করা যেতে পারে। ফরম্যাটিং নোট করার জন্য ভাষা শিক্ষা বইটির সাহায্য নিতে পারেন।
পত্র লেখার ক্ষেত্রে সম্বোধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পত্রের প্রাপকের উপর নির্ভর করে কি ধরনের সম্বোধন হবে। পত্রের ক্ষেত্রে কি ধরনের সম্বোধন ব্যবহার করা যাবে, সেগুলো বাংলা একাডেমি অভিধান ঘেঁটে সেগুলো নোট করে রাখলে পরবর্তীতে সুবিধা পাওয়া যাবে।
অনুবাদ:
জ্ঞানবিস্তারে অনুবাদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অনুবাদের সাহায্যেই পৃথিবীর বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা সম্পর্কে সাধারণ পাঠক জ্ঞান লাভ করতে পারে। বিশ্বের অগণিত ভাষায় যে বিপুল জ্ঞানচর্চা হচ্ছে, শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞান-দর্শন-সমাজতত্ত্ব-নৃতত্ত্ব এবং মানববিদ্যার যে কোনো বিষয় নিয়ে জ্ঞানের যে প্রবাহ বিকাশ লাভ করছে তা সারাবিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম উপায় হলো অনুবাদ। অনুবাদ হলো কোনো বক্তব্য বা রচনাকে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত করা। কোনো রচনার বক্তব্য বিষয়কে পরিবর্তন না করে শুধু ভাষার পরিবর্তনকেই অনুবাদ বলা হয়। কোনো ভাষার সমৃদ্ধি সাধনে ও বিশ্বসাহিত্যের ক্ষেত্রে অনুবাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনুবাদের গুরুত্বের কারণে বিভিন্ন সাহিত্যে অনুবাদ নামক বিশেষ এক শাখা গড়ে উঠেছে। অনুবাদের দ্বারা পরস্পরের ভাষা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
ব্যাকরণ:
বাংলা ভাষাকে জানা এবং সঠিকভাবে প্রয়োগ করার একমাত্র মাধ্যম হলো ব্যাকরণ। তেমনি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করার জন্য ব্যাকরণে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির বিকল্প নেই।
ব্যাকরণ অংশে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে প্রিলিমিনারি এবং লিখিত উভয়ই সম্পন্ন হয়ে যাবে।
বুঝে পড়ার অংশ এবং মুখস্ত অংশ আলাদাভাবে পড়ার চেষ্টা করবেন। বুঝে পড়ার অংশে ধ্বনি পরিবর্তন, সমাস, সন্ধি, প্রত্যয়, পদ প্রভৃতির বিস্তারিত নিয়মগুলো জানবেন। আর মুখস্ত অংশ যেমন বাগ্ধারা, এক কথায় প্রকাশ, প্রবাদ প্রবচন প্রচুর পড়তে হবে। তবে এগুলোর অর্থ বুঝে মুখস্ত করার চেষ্টা করবেন, তাহলে সহজেই মুখস্ত হবে পরবর্তীতে আর ভুলবেন না। যেমন- প্রবাদ-প্রবচনের একটা ইতিহাস বা স্টোরি থাকে, আপনি সেই ইতিহাস বা স্টোরি যদি জানতে পারেন তবে সহজে মনে থাকবে, পড়েও মজা পাবেন।
বাংলা বানান অবশ্যই ভালোভাবে জানতে হবে। বাক্যশুদ্ধি, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ শিখে নিবেন।
৯ম-১০ম শ্রেণির নতুন এবং পুরাতন ব্যাকরণ মিলিয়ে পড়বেন। সাংঘর্ষিক তথ্য পেলে নতুন বইকে প্রাধান্য দিবেন। হায়াৎ মামুদ স্যারের ভাষা-শিক্ষা বইটাও দেখতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং ড. মোহাম্মদ আমীন।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইড বই ইত্যাদি।
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত ইংরেজি গাইডলাইন-
Essay:
Essay ভালো লেখার পূর্বশর্ত হচ্ছে Free Hand Writing ভালো থাকা। একইসাথে নির্দিষ্ট Essay টি নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য জানা। তথ্য না জানলে আপনি খুব বেশি ভালো লিখতে পারবে না।
শুরুতেই রচনা কোনটি লিখবেন তা সিলেক্ট করুন। তারপর Brainstorm শুরু করুন। মনের মাঝে কী কী তথ্য আছে সেটা Collect করে ফেলুন।
এবার পেন্সিল/কলম দিয়ে খাতায় একটা পেইজে একটা চার্ট রাফ করুন যে কী কী পয়েন্ট আপনি লিখবেন। কোন পয়েন্ট আগে আসবে, কোনটা পরে, কোনটায় বেশি ইনফো দিবেন, কোনটায় কম – চট করে সেটা এই চার্টে সাজিয়ে ফেলুন। Outline টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা অনেক সময় বাঁচায়। Wh questions-who/what/how/why/when/where- এইগুলো ধরে ধরে আগালে টপিক ক্লিয়ার হয়ে যায়।
এবার Introduction. খুব Snappy/Eye catchy একটা Introduction লেখার চেষ্টা করবেন যাতে পরীক্ষকের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষিত হয়।ভালো Introduction লেখার অনেক স্টাইল আছে। অন্যতম দুইটা হলো –
– প্রবাদবাক্য, কোন উক্তি দিয়ে শুরু করা। – ছোট্ট কোন গল্প দিয়ে শুরু করা (Extra সাহসী পদক্ষেপ এটা)।
Introduction যেন বেশী বড় না হয়, আবার বেশী ছোটও না হয়। Introduction এ সংজ্ঞায়ন করে ফেলার দরকার নেই।
Essay-তে Introduction – Conclusion মেনশন করার দরকার নেই। বরং মাথার মাঝে যে পয়েন্টটা আছে সেটা প্যারাগুলোর প্রথম বাক্যেই মেনশন করে ফেলুন। এতে কোন প্যারার প্রথম বাক্য দেখলেই পরীক্ষক বুঝে ফেলবেন ওই প্যারায় কী নিয়ে আলাপ করা হয়েছে।
Body of the essay – মানে ভূমিকা ও উপসংহারের মাঝখানের পয়েন্টগুলোর Order & Unity খেয়াল করতে হবে।
প্রথমেই সাজিয়ে নিতে হবে কোনটা আগে কোনটা পরে দিবেন। আবার একটার সাথে আরেকটার কানেকশন আছে কিনা সেটাও খেয়াল রাখা লাগবে। Transition Words ব্যবহার করে Coherence ঠিক রাখা লাগবে।
Conclusion – A good ending makes your writing perfect. অনেকেই Essay এর উপসংহার চট করে শেষ করে দেন বা জাস্ট ১/২ বাক্যে শেষ করে দেন। এটা করা যাবে না। Conclusion আকারে ছোট হলেও Well organized & Well thought হতে হবে। দুয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ সামারি এখানে আসবে। To the point, subject related প্রবাধ/উক্তি দিয়ে শেষ করা যায়।
Comprehension:
এই অংশে একটি Comprehension Passage দেয়া থাকবে। এখানে ভালো করার জন্য অনুশীলনের কোন বিকল্প নেই। এই অংশ দ্বারা মূলত একজন পরীক্ষার্থীর Understanding ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। তাই এটি বুঝে তা থেকে উত্তর দিতে হবে। এটি সাধারণত কোন পত্রিকার কলাম বা কোন ম্যাগাজিনের আর্টিকেল হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট কোন টপিক নিয়ে এটি হয় না। তাই নির্দিষ্ট কোন বই পড়লে কমন আসবে এমন কোন সুযোগ নেই। তবে কিছু কৌশল অনুসরণ করে একজন পরীক্ষার্থী তার English Language Understanding ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এখান থেকে Effectively উত্তর দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষাগুলোর প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রশ্ন সম্পর্কে একটা আইডিয়া করা যায়।
লেখার কৌশল:
– প্রথমেই সময় পরিকল্পনা। এটা লিখিত পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। অনেকেই Passage এর প্রশ্নের উত্তরে বেশি সময় দিতে গিয়ে পরে অন্যান্য প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে উত্তর দিতে পারেন না। তাই আগেই ঠিক করে রাখতে হবে এই অংশে সর্বোচ্চ কত সময় ব্যায় করা যাবে।
– এবার Passage টি যেহেতু ভালোভাবে বুঝা অত্যন্ত জরুরি তাই উত্তর লেখা শুরু করার আগে এটি একাধিকবার পরে ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আগে প্রশ্নগুলো পড়ে নিলে টার্গেট সেট করে নেয়া যায় যে ঠিক কি ধরণের ইনফরমেশন আপনাকে Passage থেকে বের করতে হবে। তাই শুরুতেই প্রশ্ন পড়ে নিয়ে প্রশ্নের গুরুত্বপূর্ণ কি-ওয়ার্ড মার্ক করে নিতে হবে। এবার একটা একটা প্রশ্নের একটা একটা Keyword ধরে প্যাসেজে ঐ কি-ওয়ার্ডটি চিহ্নিত করতে পারলে সহজেই উত্তর দেয়া যাবে।
– Passage থেকে উত্তর দেয়ার সময় কোন বাক্য কপি করা যাবেনা, Sentence এর structure/ formation পরিবর্তন করে বা synonym/antonym ব্যবহার করে বা Sentence কে paraphrase করে উত্তর করা যেতে পারে।
– Grammar & Spelling ভুল করা যাবেনা। এক্ষেত্রে Complex and Compound Sentence ব্যবহার করলে নিঃসন্দেহে উত্তরের গুণগত মান অনেক বেড়ে যায়। তবে যদি ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে বা Complex and Compound Sentence ব্যবহারে যথার্থ পারদর্শীতা না থাকে, তবে Simple Sentence ব্যবহারই শ্রেয়।
– Passage এর বাহিরের কোন বিষয়ের সাথে এর অভ্যন্তরীণ কোন কিছু মিক্সড না করা ভালো।
– Formal language ব্যাবহার করতে হবে। Passive Voice & Modal Auxiliary এর ব্যবহারে ভাষাটা Formal করে তুলতে হবে। Contraction/Slang ব্যবহার করা যাবেনা।
Letter:
প্রথমেই হেডিং ও সেন্ডারের এড্রেস থাকবে। সাবজেক্ট অনেকেই না দিলেও চলে বলেন, তবে দেওয়াটাই সেইফ। Editor কে সম্বোধন করার পর ৩-৪ বাক্যে লেটারটি প্রকাশ করার অনুরোধ করে Yours/Sincerely/With Regards দিয়ে নাম, সংক্ষিপ্ত ঠিকানা দিয়ে শেষ করে দিবেন। এরপর থাকবে সিম্পল একটা টাইটেল।
এবার মূল feature/Report/ যেটা পাবলিশ হবে – সেটা লিখবেন। এ অংশকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়-
– Clarification of the issue. – Practical Experience /Present Condition. – Express your opinion. – Concluding statement.
অনেকেই এটা পুরো লেখার পর আবার লেখকের নাম ঠিকানা দেন, অনেকে দেন না। দুইটাই শুদ্ধ। এ ধরণের লেটারের আসলে নানান ফরম্যাট প্রচলিত।
লেখার সময় Formal languae ব্যাবহার করতে হবে। Passive Voice & Modal Auxiliary এর ব্যবহার Language কে Formal করে।
Alignment এর ক্ষেত্রে বৃটিশ অথবা আমেরিকান যেকোন একটা ব্যবহার করা যাবে।
Grammar:
Grammar অংশে ভালো করার জন্য যেকোনো একজন প্রখ্যাত লেখকের বই বুঝে বুঝে পড়ে ফেলতে হবে। Rules গুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা ক্রবেন। এক্ষেত্রে P. C. Das বা S M Zakir Hossain এর বই পড়তে পারেন। মোদ্দাকথা, Grammar এর ব্যাসিক স্ট্রং করতে হবে।
তাছাড়া Vocabulary অংশে আপনার ভালো দখল থাকতে হবে। এই অংশে ভালো করার জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) পিডিএফটি দেখতে পারেন। Idioms এবং One Word Substitution অংশে ভালো করার জন্য জন্য Live MCQTM থেকে প্রদত্ত Idoms পিডিএফটি দেখতে পারেন।
অধ্যয়নের উৎস:
Live MCQTM Vocabulary Booster (520 High Frequency Words) PDF, Live MCQTM Idioms PDF.
Applied English Grammar and Composition, P. C. Das.
A Passage to the English Language, S M Zakir Hossain.
নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) লিখিত সাধারন জ্ঞান গাইডলাইন-
বাংলাদেশ বিষয়াবলি:
সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে প্রচুর লিখতে হয়। তাই বাসায় সবসময় দ্রুত হাতের লেখার অভ্যাস করতে হবে। আবার দ্রুত লিখতে গিয়ে হাতের লেখা যাতে অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মানচিত্র, চার্ট, সারণি, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি সহকারে উত্তর করার চেষ্টা করবেন। এই বিষয়গুলো উত্তরপত্রের সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রেজেন্টেশনও ভালো করে। উক্তি, পয়েন্ট, রেফারেন্স বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নীল কালিতে লিখার চেষ্টা করবেন। এতে পরীক্ষকের চোখ এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়াবে না।
বাংলাদেশ বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস (পটভূমি, ঘটনাক্রম); মূলনীতিসমূহ, সংবিধানের প্রস্তাবনা (উদ্দেশ্য, গুরুত্ব ও তাৎপর্য); সাংবিধানিক সংস্থাসমূহ ও পদসমূহ; সরকারি ও বেসরকারি বিল, অর্থবিল, বাজেট; মৌলিক অধিকার, রাষ্ট্রধর্ম, সংবিধানের প্রাধান্য, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, ধর্মনিরপেক্ষতা, জরুরি অবস্থা, নারীর অধিকার, নাগরিক অধিকারে সমতা, ন্যায়পাল, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল (সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ); রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি সংক্রান্ত অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ সমূহ, সংবিধানের সংশোধনী সমূহ ও সংবিধানের তফসিলসমূহ; সংবিধানের অভিভাবক, ব্যাখ্যাকারক, সংশোধন সংক্রান্ত বিধান ও নিয়ম, ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ; সরকারের গুরুত্বপুর্ণ বিভাগসমূহ যেমন – আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগ প্রভৃতি।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থা অংশে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রকৃতি (কৌশলগত অবস্থান, গুরুত্ব, সুবিধা); বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন – ভূমিরূপ, নদ-নদী, বনাঞ্চল ইত্যাদি; ব-দ্বীপ পরিকল্পনা (কাঠামো, অর্থায়ন ও চ্যালেঞ্জ); সমুদ্র অর্থনীতি, সমুদ্র বিজয় (সরকারের পদক্ষেপ, বাস্তবায়নে করণীয়); বঙ্গবন্ধু দ্বীপ, ভাসানচর, প্রবাল দ্বীপ, সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড, বিগ-বি, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রভৃতি পড়বেন।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তাসমূহের বৈচিত্র্য (পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক); মানব সম্পদ উন্নয়নে করণীয়; ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড, এর সমস্যা ও সম্ভাবনাসমূহ; বাংলাদেশের জনসংখ্যা নীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং প্রাসঙ্গিকতা; জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২; পরিবার পরিকল্পনা (পরিচিতি, প্রয়োজনীয়তা, সরকারের পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নে করণীয়) প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট (১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ঘটনাবলি); মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব শক্তির ভূমিকা (ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র); মুক্তিযুদ্ধ ও প্রভাব, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বরূপ ও বর্তমান প্রয়োজনীতা; স্বাধীনতার ঘোষণা, গণহত্যা, অপারেশ জ্যাকপট, অপারেশন সার্চলাইট, রায়েরবাজার বধ্যভূমি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, মুক্তিবাহিনী, বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরপ্রতীক, উল্লেখযোগ্য অপারেশন ইত্যাদি।
বাংলাদেশের পরিবেশ (বৈশিষ্ট্য, দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিকার ও প্রতিরোধ); জলবায়ু পরিবর্তন (বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ (কারণ, প্রতিকার ও প্রশমনে করণীয়); সুন্দরবনের পরিবেশ, নদীদূষণ (কারণ, প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়); বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন, ফারাক্কা বাঁধ, ই-বর্জ্য, যৌথ নদী কমিশন, সবুজ অর্থনীতি, SPARSO ইত্যাদি।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ (বিবরণ, ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ও করণীয়); বাংলাদেশের বনজ ও খনিজ সম্পদ ( বিবরণ, সমস্যা-সম্ভাবনা, রক্ষার গুরুত্ব ও করণীয়); সামুদ্রিক সম্পদ (সম্ভাবনা ও আহরণে করণীয়), কৃষিজ ও মৎস সম্পদ; নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য সম্পদ; বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ; বিশ্ব ঐতিহ্যে স্বীকৃত বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদসমূহ; পেট্রোবাংলা; বাপেক্স প্রভৃতি।
ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য; অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জসমূহ (জ্বালানী সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কোভিড-১৯ অতিমারি); দারিদ্র্য বিমোচন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা; রপ্তানি আয় (তৈরি পোশাক শিল্প, মৎস্য খাত, পর্যটন শিল্প, পাট ও অন্যান্য উদীয়মান শিল্পের ভূমিকা); অর্থনীতির বিভিন্ন খাত (কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ অন্যান্য উপখাত) ও তাঁদের অবদান; ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়; রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি, পর্যটন শিল্প, চামড়া শিল্প, মৎস খাত, পাট শিল্প, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, বাজেট, SDG, MDG (প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের সাফল্য ও করণীয়) প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
৭ম থেকে ৯ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ মূলবই।
৯ম-১০ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ মূলবই।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বশেষ সংশোধনী সম্বলিত মূল সংবিধান।
হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’।
মুনতাসির মামুনের লেখা ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’।
সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা।
প্রথিতযশা জাতীয় দৈনিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাম্প্রতিক কলামসমূহ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সরকারি ওয়েবসাইট।
বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যকোষ।
সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি:
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির উত্তরে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ছক, বক্স, গ্রাফ, চার্ট ইত্যাদি ব্যবহার বৃদ্ধি করলে উত্তরপত্র প্রশংসার সাথে মূল্যায়িত হবে। মানচিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারলে ভালো হয়। সরকারি নীতিসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কৌশলী হতে হবে, কোনোভাবেই যেনো কোনো পয়েন্ট/শিরোনামে সরকারের সমালোচনা না থাকে, থাকলেও তা যেন গঠনমূলক সমালোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (সংজ্ঞা, প্রকৃতি, পরিধি, বিষয়বস্তু, গুরুত্ব); আন্তর্জাতিক রাজনীতি (পরিধি, বিষয়বস্তু, পাঠের প্রয়োজনীয়তা, নিয়ন্ত্রক উপাদানসমূহ); আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির মধ্যে পার্থক্য; আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্ব; আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বাস্তববাদ, আচরণবাদ, বহুত্ববাদ ও উদারনীতিবাদ; স্নায়ুযুদ্ধ (পরিচিতি, উৎপত্তির স্বরূপ, কারণসমূহ ও পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতি); Clash of Civilization, UDHR, CEDAW, Shadow Pandemic, ম্যাগনা কার্টা, ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি প্রভৃতি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ; ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব; বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের সমস্যা ও সম্ভাবনা; বিদেশের বাজারে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ (প্রয়োজনীয়তা, ভূমিকা ও কৌশল); আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ, অর্জন ও সম্ভাবনা; বাংলাদেশ-চীন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক; স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ; বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ প্রভৃতি।
জাতিসংঘ (গঠনের পটভূমি, কার্যাবলি, সাফল্য ও ব্যর্থতা, মহাসচিবের ক্ষমতা ও কার্যাবলি); জাতিসংঘের সনদ অনুসারে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও মূল দায়িত্ব; জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের সাফল্য ও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ; আন্তর্জাতিক আদালত (গঠন, ক্ষমতা ও কার্যাবলি); পরিবেশগত এজেন্ডা, মানবাধিকার এজেন্ডা; শরণার্থী সংকট মোকাবেলায়, নারীর ক্ষমতায়নে ও আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসায় জাতিসংঘের ভূমিকা।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম, নীতিমালা ও ভূমিকা); ব্রিকস, আইডিবি, AIIB, NDB; জি-৭, জি-২০, জি-৭৭ (উৎপত্তি, বিকাশ, কার্যক্রম); কিয়োটা প্রটোকল চুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনে কপ (COP) এর পদক্ষেপ প্রভৃতি।
সার্ক (অবদান, সাফল্য-ব্যর্থতা, সনদ পরিবর্তনে পরামর্শ ও বর্তমান অবস্থা); ন্যাম (গঠন, কার্যক্রম, অবদান ও কার্যকর করার জন্য পরামর্শ); ইউরোপীয় ইউনিয়ন (বিকাশ ও সম্প্রসারণ); ও.আই.সি (গঠন, কার্যাবলি, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা); ওপেক (গঠন, পটভূমি, উদ্দেশ্য, অবদান ও সম্ভাবনা); ASEAN, BIMSTEC, EU, ASEAN, APEC, AU, GCC, Common Wealth, RCEP (গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম, সাফল্য-ব্যর্থতা); NATO (উদ্দেশ্য ও কার্যপ্রণালি); দক্ষিণ এশীয় বাণিজ্য চুক্তি: SAPTA, SAFTA; AFTA ও অন্যান্য আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও সহযোগীতা চুক্তি প্রভৃতি।
বিশ্বায়ন, বিশ্বের প্রধান ইস্যু ও দ্বন্দ্বসমূহ; বিশ্বের বিখ্যাত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থানসমূহ প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক সংবাদ, প্রাসঙ্গিক কলাম ও সম্পাদকীয়।
নয়া বিশ্বব্যবস্থা ও সমকালীন আন্তর্জাতিক রাজনীতি- তারেক শামসুর রেহমান।
বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর- তারেক শামসুর রেহমান।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সংগঠন ও পররাষ্ট্রনীতি- শাহ মুহাম্মদ আব্দুল হাই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূলনীতি- মোঃ আবদুল হালিম।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ের পাঠ্য।
বেবি মওদুদের রচনায় ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনা’ গ্রন্থ।
অধ্যাপক মুহাম্মাদ নূরুল ইসলামের ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক’ বই।
মোস্তফা কামালের লেখা ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশ’।
সর্বশেষ সংস্করণের কোনো নির্ভরযোগ্য গাইডবই।
ব্রিটানিকা, ওয়ার্ল্ড এটলাস, বাংলাপিডিয়া – ইত্যাদি থেকে টপিক সার্চ করে বিস্তারিত পড়ে নিবেন।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনেকের জন্য ভয়ের কারণ। তবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিল এখানে সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সম্ভব। কারণ নন-ক্যাডারে অংশে খুব বেশি ডিপ থেকে আসার সম্ভাবনা নেই। ৯ম-১০ম শ্রেণিতে সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে হুবুহু প্রশ্ন আসতে দেখা যায়। বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের পরীক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বইগুলো পড়তে পারেন। অন্যরা শুধু টপিক ধরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়বেন।
বিজ্ঞান বিষয়ে বেশি নম্বর পেতে হলে সংক্ষেপে প্রাসঙ্গিক ও চিত্রসহ (যদি প্রয়োজন হয়) বিষয়বস্তু বর্ণনা করতে পারলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে। চিত্র আকা ও সমীকরণ লিখার জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা উচিত। তবে সমীকরণ অন্য রংয়ের কলম দিয়েও লেখা যেতে পারে। কোনভাবেই লাল রংয়ের কালির কলম ব্যবহার করা যাবে না।
বিজ্ঞানের গুরত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
আলোর প্রকৃতি, বর্ণালি; বিভিন্ন রং ও তরঙ্গ দৈর্ঘ্য; অতিবেগুনি রশ্মি, অবলোহিত রশ্মি ও লেজার; আলোর প্রতিফলন, আলোর প্রতিসরণ, আলোর বিচ্চুরণ; লেন্স, আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন; আলোর কণাতত্ত্ব, আইনস্টাইনের ফটোতড়িৎ সমীকরণ, আলোক কোষ প্রভৃতি।
চুম্বক ও চুম্বকত্ব; চৌম্বক ও অচৌম্বক পদার্থ; চৌম্বকের পোলারিটি এবং বিদ্যুতের সাথে সম্পর্ক; চৌম্বক বলরেখা; দন্ড চুম্বক হিসেবে পৃথিবীর চুম্বকক্ষেত্র; তড়িৎ চুম্বক; ট্যানজেন্ট গ্যালভানোমিটার; কম্পন ম্যাগনেটোমিটার; ডায়া, প্যারা, ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ; তড়িৎ চুম্বক ও স্থায়ী চুম্বক প্রভৃতি।
মাটি, মাটির প্রকারভেদ, মাটির গঠন, মাটির বৈশিষ্ট্য, মাটির pH; মাটি ক্ষার ও অম্ল হওয়ার কারন, বাফারিং; মাটি দূষণের কারণ, প্রভাব, প্রতিরোধ; প্রাকৃতিক গ্যাস ও এর প্রধান উপাদান; প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও কয়লার উৎস, প্রক্রিয়াকরণ ও ব্যবহার; বনপালনবিদ্যা, আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণ; দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান, বিভিন্ন ধরনের দূষণ প্রভৃতি।
খাদ্যের বিভিন্ন উপাদান; প্রোটিন; স্নেহ ও লিপিড; শর্করা; ভিটামিন; শর্করা ও প্রোটিনের প্রকারভেদ ও উৎস; রাফেজ; পুষ্টি মান; সুষম খাদ্য উপাদান তালিকা; সুষম খাদ্যের পিরামিড; বডি মাস ইনডেক্স (BMI), জাঙ্ক ফুড; খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি; খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার ও এর শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।
রোগ সংক্রমণ, কারণ ও প্রতিকার; এন্টিবায়োটিক; স্ট্রোক; হৃদরোগ; উচ্চ রক্তচাপ; ডায়াবেটিস; ডেঙ্গু; কোভিড-১৯; এইডস; ক্যান্সার; ডায়রিয়া; মাদকাসক্তি; ভ্যাকসিনেশন; ফুড পয়েজনিং; কেমোথেরাপি; রেডিওথেরাপি; সিটিস্ক্যান; এম.আর.আই প্রভৃতি।
কম্পিউটার ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
কম্পিউটার সংগঠন ও কার্যাবলি, কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটারের প্রজন্ম; সিপিইউ ও তার অংশ, মাইক্রোপ্রসেসর, মাদারবোর্ড; কম্পিউটার মেমরি, ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস, বায়োস, বাস আর্কিটেকচার; অনুবাদক প্রোগ্রাম; প্রোগ্রামিং ভাষা; সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম, অফিস অটোমেশন; কম্পিউটার ভাইরাস, দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটারের প্রভাব প্রভৃতি।
ডাটা ও ডাটা কমিউনিকেশন, তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বন্টন; ডাটাবেজ সফটওয়্যার ও কাঠামো, ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম; মাল্টিমিডিয়া সিস্টেম, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার; LAN, MAN, WAN, GPS, টপোলজি, নেটওয়ার্কিং ডিভাইস (রাউটার, সুইচ, হাব প্রভৃতি); প্রোটোকল, ইন্ট্রানেট, এক্সট্রানেট, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার; WWW, ওয়েব প্রযুক্তি, জনপ্রিয় ওয়েবসাইটসমূহ; ক্লাউড কম্পিউটিং, ইমেইল, ডাটাবেজ, সাইবার নিরাপত্তা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম; ট্রান্সমিশন মিডিয়া, ব্যান্ডউইথ, অপটিক্যাল ফাইবার, ওয়াইফাই; টেলিকমিউনিকেশন এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগ, ভিস্যাট; ই-কমার্স; সাম্প্রতিক আলোচিত তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ প্রভৃতি।
অধ্যয়নের উৎস:
৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই।
২০১৯ সংস্করণের ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (অবশ্যই পড়তে হবে)।
৯ম-১০ম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বই।
৮ম, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বই।
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
বীজগণিত: বর্গ ও ঘন এর সূত্র এবং এর ব্যবহার, ল.সা.গু, গ. সা. গু, উৎপাদকে বিশ্লেষণ, সমাধান, মান নির্ণয় ইত্যাদি।
১৫
৩
জ্যামিতি: প্রাথমিক ধারণা ও সংজ্ঞা, রেখা, বিন্দু, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ সম্পৰ্কীয়, বিষয়াদি; ক্ষেত্রফল ও বৃত্ত সম্পৰ্কীয় বিষয়াদি, ত্রিকোণমিতি ইত্যাদি।
১০
৪
মানসিক দক্ষতা: Ability to understand language, decision making ability, ability to measure spatial relationship and direction, problem solving ability, perceptual ability etc.
২০
৫
মোট
৬০
গণিত:
গণিতে ৩টি অংশ আলাদা রয়েছে। যথা- পাটিগণিত, বীজগণিত এবং জ্যামিতি। নন-ক্যাডার সিলেবাসটা অনেকাংশে বিসিএস সিলেবাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেউ বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিলে এই অংশ কভার হয়ে যায়। তদুপরি, যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় গণিত অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই গণিতের প্রস্তুতি সবমসয় ভালোভাবে নেওয়া উচিত।
❖ পাটিগণিত:
– বাস্তব সংখ্যা, ল.সা.গু ও গ.সা.গু, সরল, গড়, লাভ-ক্ষতি, শতকরা, সুদকষা, অনুপাত-সমানুপাত, ঐকিক নিয়ম গণিতের ব্যাসিক বিষয়। এগুলো সকলেরই জানা থাকা উচিত। এগুলোর ব্যাসিক শক্তিশালী না হলে গণিতে ভালো করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অবশ্যই সবাই এ অধ্যায়গুলো ভালোভাবে শিখে যাবেন।
– সেট প্রকাশের পদ্ধতি, সেটের বিভিন্ন অপারেশন, বিভিন্ন সেটের সংজ্ঞা, ডোমেইন রেঞ্জ নির্ণয়, কার্তেসীয় গুণজ, ক্রমজোড়ের সূত্র, ডি মরগ্যান এর সূত্র সম্পর্কিত সমস্যাসমূহ দেখবেন। ভেনচিত্র সম্পর্কিত সমস্যাসমূহ পড়ে যাবেন।
– সমান্তর ও গুণোত্তর ধারার সকল সূত্রাবলি মুখস্ত রাখতে হবে এবং প্রয়োগ জানতে হবে। অসীমতক সমষ্টির নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ অনুপাত ও উল্লিখিত শর্ত লক্ষ্য রেখে সমাধান করতে হবে। কিছু কিছু পৌনঃপনিক থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে আবৃত ভগ্নাংশের ব্যবহার ও প্রয়োগ জেনে যাবেন।
❖ বীজগণিত:
– বীজগাণিতিক সূত্রাবলি এবং বহুপদী উৎপাদকে বিশ্লেষণ খুবই গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই এই টপিকের ব্যাসিক থেকে শুরু করে ডিপ সব ধরনের অংক সমাধান করার দক্ষতা থাকতে হবে। বীজগণিতের সকল সূত্রাবলি মুখস্থ রাখতে হবে এবং সূত্রাবলির প্রয়োগ জানতে হবে।
– সূচক এবং লগারিদম থেকে প্রায়ই লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। লিখিত পরীক্ষার জন্য এটা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়ে যাবে। সূচক এবং লগারিদমের সূত্রাবলি ভালোভাবে মুখস্থ রাখতে হবে এবং প্রয়োগ জানতে হবে।
❖ জ্যামিতি:
– জ্যামিতিতে ভালো করার জন্য জ্যামিতির ব্যাসিক বিষয়গুলো যেমন: বিভিন্ন ধরনের রেখা, কোণ, ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, ট্রাপিজিয়াম, বৃত্ত প্রভৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। উপপাদ্য মাধ্যমিক গণিত এবং উচ্চতর গণিত বই থেকে সরাসরি সম্ভাবনা রয়েছে। অধ্যায় শেষে অনুশীলনীর সমস্যাগুলোও সমাধান করবেন। ত্রিভুজ সংক্রান্ত উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য, পিথাগোরাসের উপপাদ্য সম্পর্কিত প্রমান এবং বৃত্ত সম্পর্কিত উপপাদ্যগুলো পড়বেন।
– পরিমিতিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমে অংশে রয়েছে সরলক্ষেত্র (যেমন- ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, সামান্তরিক, ট্রাপিজিয়াম প্রভৃতি) এবং দ্বিতীয় অংশে ঘনবস্তু (যেমন: ঘনক, কোণক, গোলক, বেলন, সিলিন্ডার, পিরামিড, প্রিজম প্রভৃতি)। পরমিতিতে ভালো করতে হলে সরলক্ষেত্র এবং ঘনবস্তুসমূহের ক্ষেত্রফল ও অন্যান্য সূত্রগুলো মুখস্ত রাখতে হবে।
– ত্রিকোণমিতিক অনুপাতের মধ্যে সম্পর্কসমূহ এবং সূত্রসমূহ মুখস্থ করতে হবে। বিভিন্ন ত্রিকোণমিতিক অনুপাতের (0, 30, 45, 60, 90) ডিগ্রীর মানগুলো মুখস্থ রাখতে হবে। উন্নতি কোণ, অবনতি কোণ, দূরত্ব, উচ্চতা সম্পর্কিত সমস্যাসমূহের বিশেষভাবে সমাধান করতে হবে। বোর্ড বইয়ের এই অধ্যায়ের সমস্যা সমূহের সমাধান করতে হবে।
অধ্যয়নের উৎস
সরল ও যৌগিক মুনাফা ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১ এবং ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩.৫, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪.৩ থেকে পড়বেন।
শতকরা ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪ থেকে পড়বেন।
লাভ-ক্ষতি ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.২, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩.৫, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪.২ থেকে পড়বেন।
অনুপাত-সমানুপাত ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১, ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.১, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩ থেকে পড়বেন।
ঐকিক নিয়ম ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.৩, ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২.৩, ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ২ থেকে পড়বেন।
সেট ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৭; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১ থেকে পড়বেন।
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৭ থেকে পড়বেন।
বীজগাণিতিক সূত্রাবলি এবং বহুপদী উৎপাদকে বিশ্লেষণ ৬ষ্ঠ শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৭ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪, ৫ এবং ৬; ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪ এবং ৫; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ২; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০০২ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় ২, ৩ এবং ৪ থেকে পড়বেন।
সূচক এবং লগারিদম ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৪; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৯; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (১৯৮৩ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬ থেকে পড়বেন।
জ্যামিতি ৮ম শ্রেণির গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬, ৮, ৯ এবং ১০; ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৬, ১৪ এবং ১৫; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৩ থেকে পড়বেন।
পরিমিতি ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৫ এবং ১৬; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ১৩ থেকে পড়বেন।
ত্রিকোণমিতি ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৯ এবং ১০; ৯ম-১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বইয়ের (২০১৯ সংস্করণ) অধ্যায় – ৮ থেকে পড়বেন।
সর্বশেষ সংস্করণের নির্ভরযোগ্য যেকোনো গাইডবই।
মানসিক দক্ষতা:
মানসিক দক্ষতাকে মূলত ৬টি অংশে বিভক্ত করা যায়। বিসিএস প্রিলিমিনারি এবং লিখিত মানসিক দক্ষতা অংশের জন্য প্রস্তুতি নিলে এই অংশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যায়। মানসিক দক্ষতায় ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। মনে রাখবেন এই বিষয়ে সবচেয়ে কম পরিশ্রমে সবচেয়ে বেশি নম্বর পাওয়া সম্ভব।
বানান ও ভাষা: ভাষাগত যৌক্তিক বিচার অংশে মূলত আপনার চিন্তা করা ক্ষমতা, জ্ঞানের গভীরতা যাচাই করা হবে। এই অংশে সাধারণত কোন শব্দ, শব্দগুচ্ছ বা বাক্য কার্যকরভাবে ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এছাড়া সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন আসতে পারে পাশাপাশি ইতিহাস, ভূগোল, সাহিত্য, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক বিষয়ায়বলি থেকেও প্রশ্ন আসতে পারে। সামাজিক এবং পরিস্থিতি বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে।
সমস্যা সমাধান: এই অংশে আপনার গাণিতিক সমস্যা, জ্যামিতিক সমস্যা ও অনুধাবন ক্ষমতা ব্যবহারের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এছাড়া সাধারণ গণিতের যেকোন অঙ্ক আসতে পারে। যেমন: ঘড়ি, দিনপুঞ্জি, কাজ-সময়, ট্রেন-নৌকা-গতি, সম্পর্ক অনুধাবন প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
সংখ্যাগত দক্ষতা: এই অংশে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাগত ক্ষমতা যাচাই করা হয়। সংখ্যাগত হিসাব, ধারায় সংখ্যার অবস্থান, ধারা থেকে বিলুপ্ত সংখ্যা খোঁজা, সংখ্যা চিহ্নিতকরণ প্রভৃতি থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। এছাড়া চিত্রে যৌক্তিক সংখ্যা কোনটি হবে, জ্যামিতিক চিত্রে সংখ্যা ব্যবহারের দক্ষতা প্রভৃতি সক্ষমতা দেখা হয়।
স্থানাঙ্ক সম্পর্ক: এ অংশে একটি চিত্র হতে লুকায়িত চিত্র খুঁজে বের করতে বলা হতে পারে। কোডিং-ডিকোডিং, দিক এবং দূরত্ব নির্ণয় করতে বলা হয়। পরীক্ষার্থীর বহুমাত্রিক অবস্থান নির্ণয়ের দক্ষতা যাচাই করা হয়।
বিমূর্ত যুক্তি: এই অংশে আয়নায় ও পানিতে প্রতিবিম্ব নিরূপণ করতে দেওয়া হয়। বাংলা ও ইংরেজি বর্ণ এবং সংখ্যার আয়নায় ও পানিতে প্রতিবিম্বরূপ মুখস্ত রাখতে হবে। একটি অসম্পূর্ণ চিত্র সম্পূর্ণ করতে বলা হতে পারে। চিত্র থেকে ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ গণনা করার প্রক্রিয়া জানতে হবে। কাগজের ভাঁজ সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করার নিয়ম জানতে হবে। বিভিন্ন ধরনের চিত্র বা ডায়াগ্রাম হতে ব্যতিক্রমী চিত্র বা ডায়াগ্রামটি খুঁজে বের করতে হয়।
যান্ত্রিক দক্ষতা: এই অংশে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সরল ও জটিল যন্ত্রাংশ ও প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে। তাছাড়া লিভারের ভারসাম্য, কপিকল, স্প্রিং, গিয়ারের ঘূর্ণন দিক নির্ণয় সংক্রান্ত প্রশ্ন আসতে পারে।
অধ্যয়নের উৎস
বিগত বিসিএস লিখিত ও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আসা মানসিক দক্ষতার সব প্রশ্ন একসাথে সংগ্রহ করে সমাধান করে ফেলতে হবে। একই টপিকের অন্যান্য প্রশ্নগুলোর উপরও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।
মানসিক দক্ষতার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট যেমন – Examveda, Indiabix ইত্যাদি থেকে বিসিএস সিলেবাসের টপিকগুলোর উপর প্রস্তুতি নিন।
The Aptitude Test Workbook by Jim Barrett বইটি থেকে সিলেবাস মিলিয়ে পড়তে পারেন।
Mechanical Aptitude Test by Paul Newton বইটি থেকে সিলেবাস মিলিয়ে পড়তে পারেন।
সর্বশেষ সংস্করণের যেকোনো ভালোমানের গাইডবই।
টেকনিক্যাল পদের প্রিলিমিনারি এবং লিখিত প্রস্তুতির জেনারেল অংশের গাইডলাইন সম্পর্কে জানতে উপরের নন-টেকনিক্যাল (জেনারেল) অংশের বিষয়ভিত্তিক গাইডলাইন ও সাজেশন দেখুন। পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বিগত সময়ে আসা পিএসসি নন-ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিন।
প্রিয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ, উপজেলা / থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার (ATEO) নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনায় আপনাকে স্বাগতম। ১৩তম গ্রেড থেকে একবারে ১০ম গ্রেডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য উপজেলা / থানা সহকারী শিক্ষা অফিসার (ATEO) পদটি প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই যাত্রায় নিয়মিত চর্চা আর অধ্যবসায়ই আপনাকে পৌঁছে দিতে পারে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।
এই আর্টিক্যালটি পড়ার পর সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) নিয়োগ প্রস্তুতি নিয়ে আপনার মনে আর কোন বিভ্রান্তি থাকবে না এবং সহজেই একটি গুছানো প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন। এখানে যে সাজেশনগুলো দেওয়া হবে সেগুলো ভালোভাবে অনুসরণ করলে এই নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো একটি ফলাফল অর্জন করতে পারবেন।
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদনের যোগ্যতা
২০২৩ সালে প্রকাশিত হওয়া সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীর আবেদনের যোগ্যতা অংশে বেশ কয়েকবার সংশোধন করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সংশোধিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ATEO নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের যোগ্যতা নিম্নরূপ:
(ক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেকোন শিক্ষক বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার পদে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। বর্ণিত পদের নিয়োগবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে ২ বছর পূর্ব অভিজ্ঞতার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
(খ) ৪ বছর মেয়াদী অনার্স ডিগ্রিধারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেকোন শিক্ষক স্নাতকোত্তর সমমান বিবেচনায় সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার পদে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদে নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ৩ ধাপে হয়ে থাকে: (১) প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, (২) লিখিত পরীক্ষা, (৩) মৌখিক / ভাইভা পরীক্ষা।
প্রথম ধাপে প্রার্থীদের ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। পরবর্তীতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ৫০ নম্বরের মৌখিক / ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, পূর্বে সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও প্রথমবারের মতো ২০২৩ সাল ভিত্তিক এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর অধীনে হবে। তাই এখন থেকে এই নিয়োগে পিএসসি-এর নন-ক্যাডার ৯ম এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পদে নিয়োগ পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৩ অনুসরণ করবে। এই নীতিমালা অনুযায়ী ৯ম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের নন-টেকনিক্যাল পদের ক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০ জনের বেশি হলে লিখিত পরীক্ষার পূর্বে ১ ঘণ্টা ব্যাপী ১০০ নম্বরের MCQ ধরনের বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন
ATEO পদে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সময়: ১ ঘণ্টা। প্রতিটি সঠিক উত্তরের মান ১ এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর কাটা হয়।
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
ATEO পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য যেসব গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলোতে প্রস্তুতি নিতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো।
বাংলা অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
বাংলা ব্যাকরণ ও বাংলা সাহিত্য—দুই অংশেই সুষম প্রস্তুতি নিন।
বাংলা ব্যাকরণ অংশ
ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয়, প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, ধ্বনি ও ধ্বনির পরিবর্তন, বাংলা বর্ণমালা ও যুক্তবর্ণ, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, শব্দের উৎস ও পারিভাষিক শব্দ, শব্দ প্রকরণ, সন্ধি, কারক ও বিভক্তি, শব্দার্থ, সমার্থক শব্দ, উপসর্গ, বচন, লিঙ্গ, সংখ্যাবাচক শব্দ, সমাস, পদ প্রকরণ, বাগ্ধারা, বাক্য সঙ্কোচন ও এক কথায় প্রকাশ, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বাচ্য, বিপরীতার্থক শব্দ, যতিচিহ্ন, অনুবাদ ইত্যাদি।
বাংলা সাহিত্য অংশ
প্রাচীন থেকে আধুনিক—সব যুগের গুরুত্বপূর্ণ ধারা, লেখক ও রচনাসমূহ পড়ুন।
Renaissance: William Shakespeare, Christopher Marlowe, Edmund Spenser, Francis Bacon, Ben Jonson, John Donne
Neoclassical: John Milton, Alexander Pope, Jonathan Swift, Samuel Johnson, Thomas Gray
Romantic: Blake, Wordsworth, Coleridge, Byron, Keats, Shelley, Jane Austen
Victorian: Thomas Hardy, Charles Dickens, Alfred Tennyson, Emily Brontë
Modern: G. B. Shaw, Ernest Hemingway, T. S. Eliot, W. B. Yeats, O. Henry, W. S. Maugham, D. H. Lawrence, James Joyce, H. G. Wells, Rudyard Kipling
Postmodern & Others: George Orwell, Arundhati Roy
গণিত অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
পাটিগণিত
বাস্তব সংখ্যা
ল.সা.গু ও গ.সা.গু
ঐকিক নিয়ম
সরল ও যৌগিক মুনাফা, লাভ-ক্ষতি
শতকরা
অনুপাত-সমানুপাত
ভগ্নাংশ
বীজগণিত
বীজগাণিতিক সূত্রাবলি ও উৎপাদকে বিশ্লেষণ
অসমতা
সূচক-লগারিদম
দ্বি-ঘাত ও সরল সহ-সমীকরণ
সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা
সেট ও ফাংশন
সম্ভাব্যতা
জ্যামিতি
সরল রেখা, বৃত্ত ও বহুভুজ
ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ
স্থানাঙ্ক জ্যামিতি
সাধারণ জ্ঞান অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
ভৌগোলিক অবস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি
বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের ইতিহাস (প্রাচীন, মধ্যযুগ, ব্রিটিশ-পাকিস্তানি আমল)
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যক্তি, জাতীয় অর্জন ও খেলাধুলা
মুক্তিযুদ্ধ, সংবিধান, অর্থনীতি ও শিল্প-বাণিজ্য
সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সুশাসন
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল, প্রণালি, ভৌগোলিক উপনাম
বিশ্বের ভাষা, জনমিতি, সূচক ও সমীক্ষা
বিশ্ব ইতিহাস, ভূ-রাজনীতি, বিপ্লব ও সভ্যতা
বিখ্যাত ব্যক্তি/স্থান/স্থাপনা
আন্তর্জাতিক/আঞ্চলিক সংগঠন, চুক্তি ও সম্মেলন
মহাদেশ ও দেশের সাধারণ তথ্য; বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক বিষয়
বিজ্ঞান ও কম্পিউটার
ভৌত বিজ্ঞান (পদার্থ, রসায়ন) এর মৌলিক বিষয়
জীববিজ্ঞান (উদ্ভিদ ও প্রাণি) ও আধুনিক বিজ্ঞান
কম্পিউটার ও ICT সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়
ATEO পদের বিগত সালের প্রশ্নপত্র এনালাইসি
২০১০, ২০১২, ২০১৫ (দুই বার) ও ২০১৬ সালে মোট ৫ বার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত বছরে অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নের বিশ্লেষণ নিচে গ্যালারিতে দেওয়া হলো।
https://youtu.be/9sQ4Y92WsJ0?si=njQfegLdK2mUGNor
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদের লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন
ATEO পদের লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ২০০। পিএসসি-এর নীতিমালা অনুযায়ী প্রার্থীর সংখ্যা ≤ ১০০০ হলে সরাসরি ৪ ঘণ্টা ব্যাপী লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিষয় ও নম্বরবন্টন:
বিষয়
নম্বর
বাংলা
৫০
ইংরেজি
৫০
সাধারণ জ্ঞান
৪০
গণিত ও মানসিক দক্ষতা
৬০
সর্বমোট
২০০
সামগ্রিক পাশ নম্বর ৪৫% (অর্থাৎ ৯০)। তবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শুধু পাশ নম্বর পেলেই উত্তীর্ণ হওয়া নাও সম্ভব—অন্যদের তুলনায় ভালো করতে হবে।
সহকারী উপজেলা / থানা শিক্ষা অফিসার ATEO পদের লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক মানবন্টন
বাংলা লিখিত অংশের বিষয়ভিত্তিক মানবন্টন
সিলেবাস
মানবন্টন
রচনা
১৫
সারাংশ/সারমর্ম
৫
পত্র লিখন
১০
বঙ্গানুবাদ
৫
ব্যাকরণ
১৫
মোট
৫০
বাংলা লিখিত অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির গাইডলাইন
রচনা
সারাংশ/সারমর্ম
পত্র লিখন: ব্যক্তিগত পত্র, আবেদনপত্র, পত্রিকায় প্রকাশনার্থে পত্র, ব্যবসা সংক্রান্ত পত্র, স্মারকলিপি
বঙ্গানুবাদ
ব্যাকরণ: ভাষার সংজ্ঞা, ভাষার রূপ, সাধু-চলিত রূপান্তর, দেশি/বিদেশি শব্দ, ণত্ব/ষত্ব বিধান, দ্বিরুক্ত শব্দ, পদ, ধাতু, উপসর্গ/অনুসর্গ, প্রকৃতি/প্রত্যয়, যতিচিহ্ন, শুদ্ধ-অশুদ্ধ, বাগধারা, বাক্য সংকোচন, প্রতিশব্দ/সমার্থক, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক, একই শব্দের বিভিন্নার্থে প্রয়োগ
অধ্যয়নের উৎস: ভাষা শিক্ষা (ড. হায়াৎ মামুদ); প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি (ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন); ৯ম–১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ; সাম্প্রতিক যেকোনো ভালোমানের গাইড।
ইংরেজি লিখিত অংশের বিষয়ভিত্তিক মানবন্টন
সিলেবাস
মানবন্টন
Essay (with hints)
১৫
Comprehension
১০
Letter
১০
Grammar
১৫
মোট
৫০
ইংরেজি লিখিত অংশের প্রস্তুতির গাইডলাইন
Essay
Comprehension
Letter: Official / Demi-Official / Memorandum / Business
অধ্যয়নের উৎস: Live MCQ™ Vocabulary Booster (520 Words) & Idioms PDF; Applied English Grammar and Composition (P. C. Das); A Passage to the English Language (S M Zakir Hossain); Advanced Learner’s (HSC, Chowdhury & Hossain); Oxford/Cambridge/Merriam-Webster; সাম্প্রতিক গাইড।
সাধারণ জ্ঞান লিখিত অংশের বিষয়ভিত্তিক মানবন্টন
সিলেবাস
মানবন্টন
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
১৫
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
১৫
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
১০
মোট
৪০
সাধারণ জ্ঞান লিখিত অংশের প্রস্তুতির গাইডলাইন
বাংলাদেশ বিষয়াবলি (টপিক)
সংবিধান, ভৌগোলিক অবস্থা, জনসংখ্যা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শিল্প-সাহিত্য, প্রাকৃতিক/খনিজ সম্পদ, জলবায়ু/পরিবেশ, কৃষি/শিল্প/বাণিজ্য, উন্নয়ন পরিকল্পনা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (টপিক)
পররাষ্ট্রনীতি, জাতিসংঘ ও অঙ্গসংগঠন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গ্লোবালাইজেশন, আঞ্চলিক সংস্থা, বিখ্যাত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান/স্থান ইত্যাদি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (টপিক)
দৈনন্দিন বিজ্ঞান, বায়ু/মাটি/তাপ/বিদ্যুৎ/আলো/চুম্বক, খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য, দূষণ, কম্পিউটার ইত্যাদি।
অধ্যয়নের উৎস: ৭ম–৯ম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’, ৯ম–১০ম ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’, বাংলাদেশের সংবিধান, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র’, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’, অর্থনৈতিক সমীক্ষা, প্রাসঙ্গিক সরকারি ওয়েবসাইট/বাংলাপিডিয়া/বিশ্বকোষ/দৈনিক পত্রিকা ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি—গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ (বর্ধিত)
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনীতির ধারণা, তত্ত্ব (বাস্তববাদ, আচরণবাদ, বহুত্ববাদ, উদারনীতিবাদ), স্নায়ুযুদ্ধ, UDHR, CEDAW, Magna Carta, Camp David, Clash of Civilizations
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব, ভৌগোলিক অবস্থানের সম্ভাবনা, দক্ষ জনশক্তি, চ্যালেঞ্জ/অর্জন, বাংলাদেশ–চীন/যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, LDC→উন্নয়নশীল
অধ্যয়নের উৎস: ৬ষ্ঠ–৮ম সাধারণ বিজ্ঞান; ২০১৯ সংস্করণ ৯ম–১০ম সাধারণ বিজ্ঞান; ৯ম–১০ম পদার্থ/রসায়ন/জীববিজ্ঞান; ৮ম/মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক কম্পিউটার ও আইসিটি; ‘কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি’ (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান); সাম্প্রতিক গাইড।
ব্যক্তিগত বিষয়: আত্মপরিচয়, পরিবার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শক্তি/দুর্বলতা, পছন্দ-অপছন্দ, কেন এই পদ—এসব নিয়ে প্রশ্ন হতে পারে; নামের অর্থ, দিনের তারিখের তাৎপর্য, শখ (গান/আবৃত্তি/বিতর্ক) ইত্যাদি।
জেলা/উপজেলা: প্রতিষ্ঠা, নামকরণ, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত স্থান, নদ-নদী, পণ্য, সেক্টর নম্বর/কমান্ডার ইত্যাদি।
বর্তমান পেশা: সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজের পরিবেশ, সমস্যা ও সমাধানপদ্ধতি—গঠনমূলক উত্তরের প্রস্তুতি নিন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/গ্রাজুয়েশন বিষয়: প্রতিষ্ঠান/হল সম্পর্কিত তথ্য; পঠিত বিষয়ের মৌলিক ধারণা, থিওরি, গবেষণা, এবং পছন্দের ক্যাডারের সঙ্গে সম্পর্ক।
ভাইভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিক (নির্বাচিত)
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্রমানুগ ঘটনা, ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট, ছয় দফা, আগরতলা মামলা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ২৫ মার্চ, স্বাধীনতার ঘোষণা, মুজিবনগর সরকার, অপারেশন জ্যাকপট, বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, আত্মসমর্পণ
বঙ্গবন্ধুর জীবন/বক্তৃতা/বই/চলচ্চিত্র; পরবর্তী শাসনামল, জাতীয় চার নেতা, জেল হত্যা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রনীতি, বর্তমান সরকারের সাফল্য/উন্নয়ন
সংবিধান/সাংবিধানিক আইন/রাজনীতি, BPSC ইতিহাস, Warrant of Precedence
প্রিয় চিকিৎসক বন্ধুগণ, ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য শেষ মুহূর্তের বিষয়ভিত্তিক সাজেশন (মেডিকেল পার্ট) সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। ৪৮তম বিশেষ বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ১৮ জুলাই, ২০২৫। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের জন্য এখন চলছে শেষ ধাপের প্রস্তুতি। এ সময়টায় পরিকল্পিত রিভিশন, গুরুত্বপূর্ণ টপিক পড়া এবং মডেল টেস্টে অংশ নেওয়াই হতে পারে সফলতার মূল চাবিকাঠি।
আজকের ব্লগে আপনাদের জন্য থাকছে Biochemistry, Physiology, Pathology, Pharmacology, Microbiology ও Gynae বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন ও সাজেশন। সাজেশনগুলো PDF ও ইমেজগুলো যেকোন ফরম্যাটে সংগ্রহ করে আপনার সুবিধানুযায়ী পড়তে বা প্রিন্ট করেও নিতে পারবেন।
৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য শেষ মুহূর্তের বিষয়ভিত্তিক সাজেশন (মেডিকেল পার্ট)
[dflip id=”24772″][/dflip]
৪৮তম বিসিএস স্বাস্থ্য শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতির বিষয়ভিত্তিক গাইডলাইন ও সাজেশনের সম্পূর্ণ PDF-টি পেতে এখনই Live MCQ অ্যাপ ইন্সটল করুন
এই সময়টিতে নতুন কিছু পড়া নয়, বরং রিভিশন ও রুটিন ফলো করাই গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিদিন ২–৩টি বিষয় রিভিশন দিন
মডেল টেস্টে অংশ নিন, প্রস্তুতি যাচাই করুন
যাদের এখনো পরিকল্পিতভাবে পড়া হয়নি, তাদের জন্য এই সাজেশনই হতে পারে স্টার্টিং পয়েন্ট!
Live MCQ অ্যাপে শেষ মুহূর্তের রিভিশনের জন্য ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস [স্বাস্থ্য] প্রস্তুতি সাবজেক্ট ফাইনাল ও ফুল মডেল টেস্ট রুটিন প্রকাশিত হয়েছে। কেননা এই অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রিভিশন ও ফুল মডেল টেস্ট দিয়ে প্রস্তুতি যাচাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফুল মডেল টেস্টগুলোতে অংশগ্রহণ করে আপনার সামগ্রিক প্রস্তুতি সহজেই যাচাই করে নিতে পারবেন। যা শেষ সময়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। আশা করি Live MCQ এর নতুন এই স্টাডি প্ল্যান আপনার ৪৮তম স্পেশাল বিসিএসের প্রস্তুতিকে আরও গোছানো এবং ফলপ্রসূ করে এক ধাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সাবজেক্ট ফাইনাল ও ফুল মডেল টেস্ট রুটিনের বিস্তারিত-
মেডিকেল সাবজেক্ট ফাইনাল পরীক্ষা: ৪টি
জেনারেল সাবজেক্ট ফাইনাল পরীক্ষা: ৫টি
ফুল মডেল টেস্ট/মক টেস্ট: ৫টি
ক্লাস ও PDF রিসোর্স, মডেল প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ PDF
এক্সেস থাকবে Smart Search, Topic Guru, Mentor Support
প্রিয় চাকরিপ্রত্যাশীগণ, ব্যাংক জব প্রস্তুতি সংক্রান্ত আর্টিকেলে আপনাদেরকে স্বাগতম। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি ভালো চাকরি যেখানে সোনার হরিণ, সেখানে আশার আলো দেখাচ্ছে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টর। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, দ্রুত পদোন্নতি, উন্নত বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধাসহ নানা কারণে অন্যান্য চাকরির তুলনায় ব্যাংক জব বর্তমানে তরুণদের কাছে একটি আকাঙ্ক্ষিত চাকরিতে পরিণত হয়েছে।
বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ব্যাংকের চাকরিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। বিগত কয়েক বছরের ব্যাংক নিয়োগের পরিসংখ্যান দেখলে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এসব কারণে ব্যাংক জব সেক্টরে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে আগের চেয়ে বহুগুণ। তাই ব্যাংকে চাকরি পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ব্যাংক জব প্রস্তুতি নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে।
এই আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনার ব্যাংক জব প্রস্তুতি (Bank Job Preparation) নিয়ে আর কোন কনফিউশন থাকবে না। বিশেষত, যারা একদম নতুন অবস্থায় ব্যাংক জব প্রস্তুতি শুরু করতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য এই লেখাটি খুবই কাজে আসবে।
ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা: Bank Job Qualification
ব্যাংক জবের প্রিপারেশন শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনার ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা সম্পর্কে একটি ধারনা থাকতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগে সকল অনুষদের শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক সমমানের ডিগ্রীধারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। নিম্নে বিভিন্ন ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল –
সরকারি ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা:
সরকারি ব্যাংকে সাধারণত সিনিয়র অফিসার, অফিসার (জেনারেল), অফিসার (ক্যাশ), সিনিয়র অফিসার পদে নতুনদের সরাসরি নিয়োগ প্রদান করা হয়। যেকোনো অনুষদের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রী অর্জনকারী প্রার্থীরাই এসব নিয়োগে আবেদন করতে পারেন। তবে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় নূন্যতম ১টি প্রথম শ্রেণি/বিভাগ থাকতে হবে এবং কোন পর্যায়ের ৩য় শ্রেণি/বিভাগ গ্রহণযোগ্য হবে না।
বর্তমানে জি.পি.এ পদ্ধতি চালু হওয়ায় ১ম, ২য়, ৩য় শ্রেণি/বিভাগ নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কনফিউশন তৈরি হতে পারে। গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রকাশিত ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ২০০৯ ও ২০১০ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি সমমান পরীক্ষার ক্ষেত্রে ও স্নাতক বা সমমানের পর্যায়ে জি.পি.এ বের করার পদ্ধতি আলোচনা করা হল –
এস.এস.সি / এইচ.এস.সি এর জন্য জিপিএ বের করার পদ্ধতি
শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ
প্রথম শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ৩.০০ বা তদূর্ধ
দ্বিতীয় শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ২.০০ থেকে ২.৯৯ পর্যন্ত
তৃতীয় শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ১.০০ থেকে ১.৯৯ পর্যন্ত
এস.এস.সি / এইচ.এস.সি এর জন্য জিপিএ বের করার পদ্ধতি
শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ
প্রথম শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ৩.০০ বা তদূর্ধ
দ্বিতীয় শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ২.২৫ থেকে ২.৯৯ পর্যন্ত
তৃতীয় শ্রেণি / বিভাগ
জি.পি.এ ১.৬৫ থেকে ২.২৪ পর্যন্ত
এছাড়াও সরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন সময় টেকনিক্যাল পদে লোকবল নিয়োগ প্রদান করা হয়। যেমন, ব্যাংকের IT (Information Technology) বা Accounting-এর মতো শাখায় নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ধরণের নিয়োগকে ‘Special Recruitment’ বলা হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর আবেদনের যোগ্যতা পদভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি যোগ্যতা:
বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি যোগ্যতা অন্যান্য সরকারি ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতার অনুরূপ। অর্থাৎ, এক্ষেত্রেও সাধারণ (নন-টেকনিক্যাল) পদগুলোতে যেকোনো অনুষদ থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রীধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক বা সমমানের পর্যায়ের যেকোন একটিতে প্রথম শ্রেণি / বিভাগ থাকলে এবং কোন পর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণি/বিভাগ না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ পদগুলোতে আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্তদের জন্য সর্বোচ্চ পদটি হয় সহকারী পরিচালক (Assistant Director)।
প্রাইভেট ব্যাংকে চাকরির যোগ্যতা:
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে চাকরির যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সাধারণত ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী হয়ে থাকে। যেখানে অধিকাংশ ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া একই রকম হলেও কিছু কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।
বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের চাহিদা অনুসারে ট্রেইনি অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, এক্সিকিউটিভ অফিসার, ট্রেইনি এসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, কাস্টমার সার্ভিস অফিসার, টেলর, সেলস অফিসার, রিলেশনশিপ অফিসার, ক্রেডিট অফিসার, অপারেশন অফিসার ইত্যাদি পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে, ব্যাংকভেদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও ব্যাংকগুলো সাধারণত ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ভালো সিজিপিএ প্রাপ্ত ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের প্রার্থীদের অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। প্রার্থীর Problem Solving Skills, Leadership Skills, English Language Proficiency Level, Computer Literacy Skill-এর মতো কিছু Extracurricular Activity-এর উপর অধিক গুরুত্ব দেয় ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য
অনেকের মনেই বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। যেমন – বাংলাদেশে বর্তমানে কতগুলো ব্যাংক অপারেশনে আছে, এরমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা কত ইত্যাদি। এই পর্যায়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো সম্পর্কে।
সরকারি ব্যাংক কয়টি ও কি কি?
বাংলাদেশে সরকার কর্তৃক পরিচালিত ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। এই সরকারি ব্যাংকগুলো হল:
১। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
২। জনতা ব্যাংক পিএলসি
৩। রূপালী ব্যাংক পিএলসি
৪। সোনালী ব্যাংক পিএলসি
৫। বেসিক ব্যাংক পিএলসসি
৬। বাংলাদেশ ডেভলাপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি
উল্লেখিত এই ৬ টি ব্যাংক বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব বণিজ্যিক ব্যাংক যার সম্পুর্ণ বা অধিকাংশ মালিকানাই বাংলাদেশ সরকারের।
বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংক কয়টি ও কি কি?
বাংলাদেশে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ টি বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে যার বেশিরভাগই বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৩৩ টি ব্যাংক গতানুগতিক ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করে এবং ১০ টি ব্যাংক ইসলামী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও রয়েছে ৪ টি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৫ টি অতালিকাভূক্ত ব্যাংক, এবং ৯ টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংকের চাকরির খবর পেতে নিয়মিত ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটের Career পেইজে এবং সংবাদপত্রে চোখ রাখুন।
ব্যাংক জব পরীক্ষা পদ্ধতি
ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ব্যাংক জব পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএসসহ অন্যান্য চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রশ্নের ধরন কাছাকাছি হয়ে থাকলেও ব্যাংক নিয়োগের প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে ভিন্নতা দেখা যায়। প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার আগে ব্যাংক নিয়োগের পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টনের দিকে আলোকপাত করা যাক। ব্যাংকে নিয়োগের প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৩ ধাপে হয়ে থাকে।
সরকারি ব্যাংক জব পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বন্টন
পরীক্ষার নাম
নম্বর
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা
১০০ নম্বর
লিখিত পরীক্ষা
২০০ নম্বর
মৌখিক পরীক্ষা
২৫ নম্বর
যেকোন প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। ব্যাংক জবের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও তার ব্যাতিক্রম নয়। এই পরীক্ষাগুলো সাধারণত MCQ ধরনের হয়ে থাকে। যেখানে ১০০ টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়ে ১ ঘণ্টায়। ব্যাংক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী বাদ পরেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই একজন প্রার্থী পরবর্তী পরীক্ষা অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এইক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের সাথে যুক্ত হয় যা মেধাতালিকার ভিত্তিতে প্রার্থীর চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কাজে আসে। সরকারি ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় পদভেদে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নের ধরনে ভিন্নতা আসলেও নম্বর বণ্টনের ক্ষেত্রে সবগুলো প্রায় একই রকমের থাকে।
সরকারি ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন
সরকারি ব্যাংক গুলোর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাধারণত ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা হয়ে থাকে। এখানে প্রার্থীকে ১ ঘণ্টায় ১০০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রতি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য – ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হয়। বর্তমান সময়ে ব্যাংকের সাধারণ পদগুলোর জন্য প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন হয় নিম্নরূপ –
সরকারি ব্যাংকের (সাধারণ) পদগুলোর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন
বিষয়
মোট নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
২৫
ইংরেজি
২৫
সাধারণ গণিত ও মানসিক দক্ষতা
২০
সাধারণ জ্ঞান
২০
আইসিটি (ICT)
১০
সর্বমোট
১০০
তবে বিশেষায়িত পদগুলোর ক্ষেত্রে যেমন – আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, গবেষণা, পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন পদের পরীক্ষার মানবন্টন ভিন্ন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি’ সচিবালয় এর অধীনে ব্যাংকের সমন্বিত নিয়োগ কার্যক্রমের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাতেও একই ধরনের মানবন্টন কাঠামো দেখা যায়। নিচে ব্যাংকের বিশেষায়িত পদে নিয়োগ পরীক্ষার মানবন্টন দেখানো হলো —
সরকারি ব্যাংকের (বিশেষায়িত) পদগুলোর প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবন্টন
বিষয়
মোট নম্বর
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১০
ইংরেজি
১০
সাধারণ গণিত ও মানসিক দক্ষতা
১০
সাধারণ জ্ঞান
১০
বিষয়ভিত্তিক
৬০
সর্বমোট
১০০
অতীতে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ পদগুলোতে অনুষ্ঠিত হওয়া ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ (Faculty of Arts), ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (IBA), Center for Trade and Investment (CTI), সমাজবিজ্ঞান অনুষদ, ফিনান্স অনুষদ, বাবসায় শিক্ষা অনুষদ, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM), Ahsanullah University of Science and Technology (AUST), ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অধীনে হতে দেখা গেছে।
বর্তমানে, ব্যাংকের সাধারণ ও টেকনিক্যাল পদের পরীক্ষাগুলো অধিকাংশই BIBM-এর অধীনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানবন্টন অনুসরণ করে প্রশ্ন করেছে। তবে বর্তমানে ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (BIBM) এর অধীনে অধিকাংশ ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় BIBM-এর মানবন্টনকেই এখানে স্টান্ডার্ড ধরে পরবর্তী সকল আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মানবন্টনে আংশিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বেসরকারি ব্যাংক জব নিয়োগ পরীক্ষার মানবন্টন
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সাধারণত একই দিনে, একই প্রশ্নপত্রে প্রিলিমিনারী ও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনকারীদের তালিকা থেকে বিভিন্ন যোগ্যতার সূচকে, এবং বিভিন্ন সময় অনলাইন টেস্ট নেওয়ার মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে বাছাই করে।
পরবর্তীতে প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত প্রার্থীরা প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষা মিলিয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সর্বমোট ৮০-১০০ নম্বরের পরীক্ষা হতে দেখা যায়। যার মধ্যে সচরাচর প্রিলিমিনারি অংশে ৫০-৮০ নম্বর এবং লিখিত অংশে ২০-৪০ নম্বর থাকে। প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এই পরীক্ষায় এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা এবং লিখিত অংশের জন্য ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে।
কিছু কিছু বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশের পরীক্ষা শেষ হলে প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আবার কিছু ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। বেসরকারি ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রস্তুতি
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি: বাংলা
সাধারণত ব্যাংক নিয়োগ প্রিলিমিনারি পরীক্ষাগুলোতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এই ২টি অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। বিসিএস পরীক্ষার জন্য বাংলা অংশের সঠিক প্রস্তুতি নিলে ব্যাংক নিয়োগের জন্য বাংলা বিষয়ে আর আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন পরে না। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ভালো প্রস্তুতি থাকলে আপনি সহজেই ২৫ নম্বর উত্তর করতে পারবেন। যেহেতু ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে আলাদা কোন সিলেবাস হয় না তাই বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাটার্নকে স্টান্ডার্ড ধরে প্রস্তুতি নিতে হবে। বর্তমান সময়ে পরীক্ষা নেওয়া বিভিন্ন ফ্যাক্লটি অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে আপনাকে ব্যাংক নিয়োগের বাংলা প্রস্তুতি নিতে নিম্নোক্ত টপিকগুলো অধিক গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।
বাংলা ব্যাকরণ অংশের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
ভাষা
শব্দ
উপসর্গ
পদ প্রকরণ
লিঙ্গ পরিবর্তন
সন্ধি
বচন
প্রকৃতি প্রত্যয়
বাগধারা
সমাস
কারক ও বিভক্তি
এক কথায় প্রকাশ
বিপরীত শব্দ
দিরুক্ত শব্দ
বাক্য ও বানান
ণত্ব ও ষত্ব বিধান
বাংলা সাহিত্য অংশের গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজন (প্রাচীনযুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ)
বাংলা ভাষার ও উৎপত্তি ও বিকাশ
বিখ্যাত পত্রপত্রিকার সম্পাদক
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র, গান ও কবিতার লাইন
প্রবাদ প্রবচন
সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম
বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের জীবনী ও রচিত গ্রন্থ:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
সৈয়দ শামসুল হক
বিভূতিভূষণ
আবু ইসহাক
শামসুর রাহমান
সেলিম আল দীন
মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কাজী নজরুল ইসলাম
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জীবনানন্দ দাশ
আলাউদ্দিন আল আজাদ
শওকত ওসমান
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
সিকান্দার আবু জাফর
হাসান আজিজুল হক
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য বাংলা বুকলিস্ট:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) / শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা
ব্যাংক জব প্রস্তুতিতে বাংলা বিষয়ে ভালো করার কার্যকরী কিছু টিপস:
১। আপনার যদি বিসিএস পরীক্ষার জন্য একবার বাংলার বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়া থাকে, তাহলে নতুন করে আর প্রস্তুতি না নিয়ে বার বার পুরাতন বিষয়গুলো রিভিশন দিতে পারেন।
২। ব্যাকরণের জন্য ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই টি ভালোভাবে অনুশীলন করা। বাংলা ব্যাকরণে এর বাইরে থেকে প্রশ্ন করা হয় না।
৩। বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাজন ও সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের জীবনী ও সাহিত্যকর্ম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যকর্ম, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যকর্ম ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
৪। পঠিত বিষয়ের উপর নিয়মিত লাইভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রস্তুতির মান যাচাই করুন।
এছাড়াও বাংলা বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ অ্যাপের ‘টপিকগুরু’ বাটনের ‘বাংলা সাহিত্য’ অংশে প্রায় ২০ হাজার ও ‘বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ’ অংশে প্রায় ৩০ হাজার ইউনিক প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্সসহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।
শুধু তাই নয় Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি বাটন থেকে থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং অবস্থান যাচাই করুন।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি: ইংরেজি
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যেকোনো চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করতে ইংরেজিতে দক্ষতা অনেক গুরুত্বপুর্ণ। তবে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা ত্রুটির কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ইংরেজি বিষয়ে ভালো ভিত্তি তৈরি হয় না। পরবর্তীতে একাডেমিক জীবনে এবং চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও তারা ইংরেজির বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিযোগিতামূলক চাকরির পরীক্ষা, সব ক্ষেত্রেই শুধু ইংরেজিতে পিছিয়ে থাকার কারণে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পরার অনেক উদাহরণ রয়েছে। এর একটি বড় কারণ ইংরেজিকে অন্যান্য ভাষার মতো একটি ভাষা হিসেবে গণ্য না করে একটি একাডেমিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা। ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার স্বল্পমেয়াদী কোন উপায় না থাকলেও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ইংরেজিতে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ইংরেজি অংশে ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে এবং প্রশ্নের কারিকুলামও ইংরেজিতে হয় বিধায় ইংরেজিতে দক্ষতা থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়োগ পরীক্ষায় শুধু ইংরেজি গ্রামার অংশ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ইংরেজি সাহিত্য থেকে নয়। তাই এই বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিতে পারলেই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। ব্যাংক নিয়োগ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ইংরেজি বিষয় থেকে Vocabulary-based ও Grammar-based এর দুই ধরনের প্রশ্ন আসে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ব্যাংক নিয়োগ প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ইংরেজিতে ভালো করতে কোন বিষয়গুলো অধিক গুরুত্ব সহকারে পড়তে হবে।
Vocabulary Based topics:
Synonyms, Antonyms
One word substitution
Replacing underlined word
Analogy
Odd man out
Spelling
Grammar Based topics:
Right from the verb
Parts of speech
Corrections
Narration
Voice
Preposition
Idioms and Phrases
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ইংরেজি বুকলিস্ট:
ব্যাংক জব প্রস্তুতিতে ইংরেজিতে ভালো করার কিছু কার্যকরী টিপস:
১। ইংরেজির অনেকগুলো বড় বড় বই না পড়ে শুধু ব্যাংক জব প্রিপারেশনের জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু পড়া,
২। গ্রামারের কোন টপিকে কনফিউশন থাকলে সেটি দূর করার জন্য রেফারেন্স হিসেবে একটি গ্রামার বই অনুসরণ করা,
৩। বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা এবং সেই অনুযায়ী দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে বাড়তি সময় দেওয়া।
৪। Vocabulary তে ভালো করার জন্য একটি Flash Card (কাগজের টুকরো) নিয়ে প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে দুই থেকে তিন টি শব্দ কার্ডে লিখে কার্ড টি সাথে রাখা এবং দিনের বিভিন্ন সময় কার্ড থেকে শব্দের অর্থটি দেখা এবং ইংরেজিতেই নতুন নতুন বাক্য গঠন করার চেষ্টা করা।
৫। নিয়মিত দৈনিক পত্রিকার (ইংরেজি ও বাংলা) সম্পাদকীয় কলাম পড়া এবং অনুবাদের চেষ্টা করা।
এছাড়াও ইংরেজি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের Bank Job Preparation অংশের All Subtopic এর Bank English বাটনের প্রায় ২.২ হাজার ইউনিক প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।
শুধু তাই নয় Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি বাটন থেকে থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং অবস্থান যাচাই করুন।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি: গণিত
একটু গুছিয়ে প্রস্তুতি নিলে যেকোন চাকরির পরীক্ষায় গণিত অংশে সহজেই ভালো নম্বর অর্জন করা যায়। তবে আমাদের অনেকের মধ্যেই গণিত নিয়ে ভয় কাজ করে বিধায় গণিত বিষয় টি খুব কঠিন মনে হয়। তবে নিয়মিত চর্চা করার মাধ্যমে গণিতভীতি দূর করে একটি শক্ত ফাউন্ডেশন তৈরি করা সম্ভব। আর গণিত যেহেতু ব্যাংক নিয়োগ প্রিলিমিনারি ও লিখিত উভয় ধাপের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সেহেতু একটু গভীর ভাবেই ব্যাংক নিয়োগের গণিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিসিএস ও অন্যান্য চাকরির তুলনায় ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার গণিত অনেক বেশি পাটিগণিত নির্ভর। তবে মনে রাখতে হবে, ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার গণিত অংশের প্রশ্ন ইংরেজিতে হয় বিধায় ভাষাগত দক্ষতাও জরুরী। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য R. S. Agarwal রচিত Quantitative Aptitude বইটি অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় ওয়েবসাইট যেমন, Indiabix, Examveda ইত্যাদি থেকেও অনুশীলন করতে পারেন।
ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় গণিত অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে যে টপিকগুলো খুব গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে তা নিম্নে দেওয়া হল –
শতকরা
লাভ – ক্ষতি
সরল ও যৌগিক মুনাফা
বাস্তব সংখ্যা
ল.সা.গু ও গ.সা.গু
ঐকিক নিয়ম
গতি
ট্রেন
নল ও চৌবাচ্চা
কাজ সময়
গড়
সমীকরণ
সূচক
লগ
ত্রিকোণমিতি
পরিমিতি
জ্যামিতি
সম্ভাব্যতা
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গণিত বুকলিস্ট:
ব্যাংক জব গণিত প্রস্তুতিতে ভালো করার কিছু কার্যকরী টিপস:
৮ম শ্রেণি থেকে ৯ম-১০ম শ্রেণির গণিত বই টি ভালো ভাবে শেষ করুন।
গণিতের শর্টকাট পরিহার করে গভীর ভাবে অনুশীলন করুন যেন লিখিত পরীক্ষায়ও কাজে আসে।
শর্টকাট পরিহার করে একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করার পিছনে মননিবেশ করুন। একবার বেসিক ক্লিয়ার হলে কম সময়ে গণিত সমাধান করার পদ্ধতি আপনি নিজেই বের করতে পারবেন।
গণিত প্রশ্নের ইংরেজি টার্মগুলো বুঝার চেষ্টা করুন নয়তো জানা প্রশ্নেরও উত্তর করতে পারবেন না।
অর্জিত জ্ঞান যাতে ভুলে না যান, তাই অন্যান্য বিষয়ের সাথে প্রতিদিন অন্তত এক-দেড় ঘণ্টা নিয়মিত গণিত চর্চা করুন।
Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত পরীক্ষা দিয়ে আপনার প্রস্তুতির মান যাচাই করুন।
এছাড়াও ব্যাংকের গণিত অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের Bank Preparation অংশের All Subtopics এর Bank Math বাটনের প্রায় ১৩হাজার+ প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।
শুধু তাই নয় Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি বাটন থেকে থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং অবস্থান যাচাই করুন।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি: সাধারণ জ্ঞান ও আইসিটি
পূর্বে সাধারণ জ্ঞান অংশের জন্য কম পরিশ্রম করেই ব্যাংক নিয়োগের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করা যেতো। তবে বর্তমানে ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০ নম্বর এবং লিখিত পরীক্ষায়ও ৩০ নম্বর থাকায় সাধারণ জ্ঞান অবহেলা করে এই পরিক্ষায় ভালো করার কোন সুযোগ নেই।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশের কোন নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তবে বিগত সালের প্রশ্নগুলো এনালাইসিস করলে দেখা যায় যে, ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান অংশটি খুব বেশি সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নির্ভর। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর সম্প্রতি সংগঠিত তথ্যগুলো জানলে সাধারণ জ্ঞান অংশে ভালো করা সম্ভব।
চাকরির পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপুর্ণ সাম্প্রতিক বিষয়াবলী সম্পর্কে নিয়মিত আপডেটেড থাকার জন্য একদম ফ্রীতে Live MCQ এর প্রতিদিনের আয়োজন Daily NewsPicker এবং সাপ্তাহিক আয়োজন Weekly Bulletin অনুসরণ করতে পারেন। নিয়মিত এই সংক্রান্ত ফ্রী আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে এবং ইউটিউব চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে যুক্ত থাকুন। এছাড়াও আমাদের Live MCQ এর চ্যানেল গুলোতে যুক্ত থেকেও নিয়মিত এই আপডেট গুলো পেতে পারেন।
Live MCQ অ্যাাপের PDF সেকশনে প্রকাশিত প্রতি মাসের সাম্প্রতিক সমাচার, Live MCQ তথ্য সমাহার সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল PDF আপনার সাধারণ জ্ঞাণ প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করবে। এছাড়াও Dynamic Info Panel এর শেষ মুহূর্তের সকল আপডেটেড তথ্য তো রয়েছেই যা পরীক্ষার আগমুহূর্তে সাম্প্রতিক বিষয়াবলীতে আপনার প্রস্তুতিকে সহজ করবে।
সাম্প্রতিক বিষয়াবলী ছাড়াও ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন ব্যাংকিং টার্ম ও অর্থনৈতিক বিষয়াবলী থেকে প্রশ্ন আসতে দেখা যায় যা জানা থাকা খুবই জরুরি। এছাড়াও আইসিটি অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ‘উচ্চমাধ্যমিক তথ্য ও প্রযুক্তি’ বই টি সবচেয়ে ভালো। বইটির পঞ্চম অধ্যায়: প্রোগ্রামিং ভাষা ছাড়া আর সকল অধ্যায়ই আপনাকে ব্যাংক জব সহ যেকোন চাকরির পরীক্ষায় আইসিটি অংশে ভালো ফলাফল পেতে সহযোগীতা করবে।
সাধারণ জ্ঞান এর গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ
১। বাংলাদেশ বিষয়াবলি: (মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, অর্থনীতি, ব্যাংক, শিল্প বাণিজ্য, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ পরবর্তী এবং সংস্কার প্রস্তাবণা, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি)
২। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি: (আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সদর দপ্তর, বিভিন্ন দেশের মধ্যকার চুক্তি, দেশ ও মহাদেশ সম্পর্কিত তথ্য, বিভিন্ন দেশের রাজধানী, জনসংখ্যা, মুদ্রা, নদ-নদী, যুদ্ধ-বিগ্রহ, খেলাধুলা সংক্রান্ত বিষয়, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি)
কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) এর গুরুত্বপূর্ণ টপিকসমূহ:
কম্পিউটার এর অঙ্গসংগঠন: সিপিইউ, এএলইউ, হার্ডডিস্ক, মেমোরি ইত্যাদি
এছাড়াও ব্যাংকের সাধারণ অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতে Live MCQ App এর টপিকগুরু বাটনের Bank Job Preparation এর All Subtopics এর অধীনে থাকা Bank General Knowledge এর প্রায় ৩ হাজার ৮০০ প্রশ্ন এবং Bank ICT এর প্রায় ৩ হাজার ৯০০ প্রশ্ন তো রয়েছেই! প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর, রেফারেন্স সহ ব্যাখ্যা ও Question Analytics আপনাকে সহযোগিতা করবে একটি স্মার্ট প্রস্তুতি নিতে।
শুধু তাই নয় Live MCQ অ্যাাপে নিয়মিত ব্যাংক নিয়োগ প্রস্তুতি বাটন থেকে থেকে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিজের প্রস্তুতি এবং অবস্থান যাচাই করুন।
ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করার উপায়
ব্যাংক জব সহ যেকোন চাকরির প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ভালো করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের সাথে সঠিক কৌশল আপনাকে ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফল হতে সহযোগিতা করবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কেমন প্রশ্ন আসে তা সম্পর্কে ভালো ধারনা নিন।
বাংলা ছাড়া ব্যাংকের সকল বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন ইংরেজিতে হয়। তাই ইংরেজি রিডিং স্কিলে গুরুত্ব দিন।
বিগত সালে অনুষ্ঠিত হওয়া ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন সমাধান করুন।
নিজের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও দুর্বলতা খুঁজে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতির সময় বণ্টন করুন।
একটি স্মার্ট রিভিশন সার্কেল অনুসরণ করে পূর্বের পঠিত বিষয়গুলো বার বার রিভিশন করুন।
পড়ার পাশাপাশি যতটা সম্ভব মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিন এবং প্রস্তুতির মান যাচাই করুন।
কারও দেখাদেখি একটি বিষয় নিয়ে পড়া শুরু না করে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিন।
কোন বিষয় নিয়ে পড়ার সময় ক্লান্তি বা বিরক্তি বোধ করলে, ভালো লাগে এমন একটি বিষয় পড়ুন। তবুও পড়া ছাড়বেন না।
সবকিছু আপনাকে পড়তে হবে বা জানতে হবে এমন মানসিকতা ত্যাগ করে যেটুকু পড়া দরকার শুধু সেটুকু পড়ুন।
একটানা পড়াশোনা না করে মাঝে মাঝে বিরতি দিন। ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করুন।
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি (Bank Job Written Exam Preparation)
ব্যাংক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হল লিখিত পরীক্ষা। ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ একজন প্রার্থী তার কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি পাবেন কিনা — তা অনেকাংশেই নির্ভর করে এই লিখিত পরীক্ষার উপর। ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষায় একজন প্রার্থীকে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় যার সময় থাকে ২ ঘণ্টা।
ব্যাংক লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন : Bank written syllabus
Post (Senior Officer/ Officer Cash/ Assistant Director)
Mark Distribution (Senior Officer)
Mark Distribution (Officer Cash)
Mark Distribution (Assistant Director)
Post (Officer General)
Mark Distribution (Officer General)
Focus Writing in Bangla
35
35
35
Focus Writing in Bangla
30
Focus Writing in English
35
35
35
Focus Writing in English
35
Argument Writing
30
30
30
Precis Writing
20
Mathematics
30
30
30
Mathematics
25
Translation E2B/ B2E (OC)
10
20
10
B2E & E2B
40
General Knowledge
30
30
30
General Knowledge
30
Comprehension
30
20
30
Comprehension
20
Total Mark
200
200
200
Total Mark
200
সরকারি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা আলাদাভাবে অনুষ্ঠিত হলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সাধারণত একই দিনে একই প্রশ্নে MCQ অংশের সাথে লিখিত অংশেরও পরীক্ষা হয়ে থাকে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই। মনে রাখতে হবে, ব্যাংকের পরীক্ষা কার্যক্রম খুব দ্রুততম সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব একটা সময় পাওয়া যায় না। তাই ব্যাংক জব প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ই যুগপৎভাবে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি: ফোকাস রাইটিং:
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ফোকাস রাইটিং। ফোকাস রাইটিং হলো এমন এক প্রকারের লেখার পদ্ধতি যেখানে লেখক নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে এবং তথ্য ও উপাত্ত ব্যবহার করে আলোচনা করে। মূল বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন টপিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করার পরিবর্তে ফোকাস রাইটিং নির্দিষ্ট একটি বিষয়, সমস্যা বা দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নির্দেশ করে। বাংলা ও ইংরেজিতে ভালোভাবে গুছিয়ে লেখার দক্ষতা ফোকাস রাইটিং-এ ভালো ফলাফল করতে সহযোগিতা করে।
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার খাতায় নির্দিষ্ট সংখ্যক পেইজ থাকে এবং অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এবং এই অল্প লেখাতেই আপনাকে বাকিদের থেকে নিজেকে আলাদা করে উপস্থাপন করতে হবে। তাই অল্প কথায় ভালোভাবে একটা নির্দিষ্ট ফোকাস ধরে রেখে লেখা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তাই যেটুকু লেখা যায় খুব স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। লেখার সময় অবশ্যই বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, যেমন – লেখার ধরন, বাক্যের গঠন, বানান, ব্যাকরণ, শব্দ চয়ন, তথ্য বিশ্লেষণ।
ফোকাস রাইটিং এ ভালো করার কিছু কার্যকরী টিপস:
ফোকাস রাইটিং এর ভাষা হবে তথ্যসমৃদ্ধ, প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য।
মূল বিষয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো কালার পেন (নীল অথবা সবুজ) দিয়ে হাইলাইট করা যেতে পারে।
ফোকাস রাইটিং এর ক্ষেত্রে যত সম্ভব ডাটা, গ্রাফ, চার্ট, টেবিল, ডায়াগ্রাম ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। এতে লেখার মান স্ট্যান্ডার্ড পর্যায়ে যায়।
বিভিন্ন টপিক সম্পর্কিত কিছু কমন কোটেশন মুখস্ত করে রাখবেন এবং সেগুলো টপিকের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করবেন। যথাসম্ভব নীল কালি দিয়ে কোটেশন লেখার চেষ্টা করবেন।
ফোকাস রাইটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দিষ্ট টপিকেই ফোকাসড থাকা। অযথা এবং অসংলগ্ন বিষয় লেখার চেয়ে মূল বিষয়ের উপর ফোকাসড থাকা অতি জরুরি।
যেহেতু ফোকাস লেখার জন্য খুব কম সময় পাবেন তাই অল্প কথায় মূল বিষয় লেখার চেষ্টা করবেন। একই বিষয় ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে দেওয়ার দরকার নাই। ভূমিকা না করে প্রথম বাক্য থেকেই মূল টপিকে চলে যান।
যেহেতু লিখিত পরীক্ষায় খাতার পাতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে, সেহেতু প্রতিটি ফোকাসের জন্য বরাদ্ধকৃত ৩-৪ পৃষ্ঠার মধ্যে সম্পূর্ণ লেখা শেষ করতে হবে। এজন্য বাসায় বেশি বেশি লেখার অভ্যাস করতে হবে।
ব্যাংক জব ফোকাস রাইটিং এ যে ধরনের টপিক আসতে পারে:
অর্থনৈতিক ইস্যু
পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যু
সামাজিক ইস্যু
ব্যাংকিং রিলেটেড ইস্যু
সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়াবলী
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সকল স্টাডি ম্যাটিরিয়ালস, সাজেশন পেতে Live Written App টি ইন্সটল করুন। ঘরে বসে হাজারো পরীক্ষার্থীর সাথে লাইভ এক্সামের মাধ্যমে ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন।
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি: আর্গুমেন্ট রাইটিং:
ব্যাংক জব লিখিত পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে আর্গুমেন্ট রাইটিং (Argument Writing)। এই অংশে সর্বমোট ৩৫ নম্বর থাকে বিধায় এখানে ভালো করলে ব্যাংক লিখিত পরীক্ষায় একটি ভালো ফলাফল করা যায়। কোন একটি বিষয়ের সাথে আপনি একমত নাকি মতভেদ রয়েছে, আপনি বিষয়টির সাথে কতটা একমত বা কতটা মতভেদ রয়েছে এবং এর স্বপক্ষে আপনার উদাহরণ ও যুক্তি খণ্ডনকেই Argument Writing বলে। তবে আর্গুমেন্ট রাইটিংয়ে অনেক সময় একটি বিষয়ের স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে উভয় অবস্থান লিখতে হয়।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার, বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনসহ সাধারণত সমসাময়িক বিষয়গুলোই আর্গুমেন্ট রাইটিংয়ের বিষয়বস্তু হতে দেখা যায়।
Argument Writing লেখার সময় যেসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে-
Argument অনেকটা বিতর্কের মত, যেখানে বক্তব্যটির সাথে যে কেউ একমত বা দ্বিমত হতে পারে। Argument এর দুই পক্ষেই যুক্তি দেওয়া যায়। ব্যক্তিভেদে তা নির্ভর করে। তবে, আপনি যে পক্ষ নিবেন, আপনার যুক্তির স্বপক্ষে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করবেন।
প্রথমত, বক্তব্যটির সাথে আপনি agree করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, বক্তব্যটির সাথে আপনি disagree করতে পারেন
তৃতীয়ত, বক্তব্যটির সাথে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে পারেন।
আপনি agree করলে বিষয়টির পক্ষের যুক্তিগুলো বেশি আলোচনা করবেন এবং বিপক্ষের যুক্তি থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করবেন। তবে, পক্ষের যুক্তিগুলোকে ফোকাস করবেন বেশি, বিপক্ষের যুক্তিগুলো কিছুটা কম ফোকাস করবেন।
আপনি disagree করলে বিষয়টির বিপক্ষের যুক্তিগুলো বেশি আলোচনা করবেন এবং পক্ষের যুক্তি থাকলে তা নিয়েও আলোচনা করবেন। তবে, বিপক্ষের যুক্তিগুলোকে ফোকাস করবেন বেশি, পক্ষের যুক্তিগুলো কিছুটা কম ফোকাস করবেন।
নিরপেক্ষ নিলে পক্ষে এবং বিপক্ষের যুক্তিগুলো ভলোভাবে আলোচনা করে আপনার নিরপেক্ষ অবস্থান পরিষ্কার করবেন।
‘For’ এবং ‘Against’ উভয়ই লিখতে বলা হলে আপনি বিষয়টির পক্ষে এবং বিপক্ষের উভয়দিকের যুক্তিগুলো তুলে ধরতে হবে। কিংবা শুধু ‘For’ বা ‘Against’ লিখতে বলা হলে যেটি প্রশ্নে চাইবে সেটি নিয়ে আলোচনা করবেন।
ব্যাংক জব ভাইভা প্রস্তুতি : Bank Job Viva Preparation
ব্যাংক জব পরীক্ষার সর্বশেষ ধাপটি হচ্ছে ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা। সরকারি ব্যাংকের ভাইভা পরীক্ষায় সাধারণত ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। এখানে মূলত ব্যাংকিং সংক্রান্ত বেসিক কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে। খুব বেশি খারাপ না করলে সাধারণত ব্যাংক নিয়োগের এই পর্যায়ে কোন প্রার্থীকে ফেল করানো হয় না। বাজারের প্রচলিত ব্যাংক ভাইভা সংক্রান্ত একটি বই অনুসরণ করলে ব্যাংক নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যাংকের ভাইভা পরীক্ষায় প্রার্থীকে আরও যেসব প্রশ্ন করা হতে পারে —
১। প্রার্থীর নিজ নামের অর্থ।
২। নিজ জেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কৃত তথ্য।
৩। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রশ্ন।
৪। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আলোচিত বিষয় সংক্রান্ত।
৫। যে ব্যাংকের ভাইভা পরীক্ষা হচ্ছে সেই ব্যাংক সম্পর্কিত।
৬। স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা করা বিষয় সম্পর্কিত।
৭। ব্যাংকিং সম্পর্কিত বিভিন্ন টার্ম।
ব্যাংক জব ভাইভা পরীক্ষায় ভালো করার কিছু কার্যকরী টিপস:
১। ভাইভা বোর্ডে সবসময় পজেটিভ থাকবেন।
২। কোন প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সাথে নিজের অপারগতা প্রকাশ করবেন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল উত্তর দিবেন না।
৩। ভাইভা চলাকালীন পুরোটা সময় মুখে স্মিত হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করবেন।
৪। ভাষার আঞ্চলিকতা পরিহার করার চেষ্টা করুন।
৫। যেকোন প্রশ্ন মন দিয়ে পুরোটা শুনে তারপর সামান্য সময় ভেবে উত্তর দেওয়া শুরু করুন। প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের মাঝেই কথা বলবেন না।
৬। ইংরেজিতে প্রশ্নকরা হলে ইংরেজিতে উত্তর দিবেন। বাংলায় প্রশ্ন করে ইংরেজিতে উত্তর দিতে বললে সেটই করবেন, কিন্তু বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইবেন না।
৭। ভাইভা বোর্ডে একজনের প্রশ্নের উত্তর করা অবস্থায় আরেকজন প্রশ্ন করলে প্রথমজনের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় জনের প্রশ্নের উত্তর দিবেন।
৮। আপনার একাডেমিক পড়াশোনার রেজাল্ট কোনভাবে ভালো না হয়ে থাকলে সে বিষয়ের স্বপক্ষে একটি গ্রহণযোগ্য কারণ আগেই তৈরি করে রাখবেন।
৯। বেশি বেশি মক / মডেল ভাইভাতে অংশগ্রহণ করুন।
১০। ব্যাংকের বিভিন্ন টার্ম সম্পর্কে ভালো ভাবে জানুন।
১১। নিজের পাণ্ডিত্য দেখাতে যাবেন না আবার সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে উত্তর দিতে খুব বেশি দেরিও করবেন না।
১২। নিজের রাজনৈতিক দর্শন প্রকাশ করবেন না।
১৩। বোর্ডের কারও সাথে তর্কে জড়াবেন না। তারা আপনাকে ভুল প্রতিপন্ন করলে সেই বিষয়ের আপডেট তথ্যটি আপনার জানা নেই এবং জেনে নিবেন বলে তাদের কথাই মেনে নিবেন।
ব্যাংক জব ভাইভা প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বই:
বাজারের প্রচলিত ব্যাংক জব ভাইভা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কিত বই
ব্যাংকে চাকরির পদসমূহ এবং পদসোপান / পদক্রম ও পদোন্নতি
সরকারি ব্যাংকের পদক্রম / পদসোপান:
সরকারি ব্যাংকগুলোতে সাধারণত ৯ম ও ১০ম গ্রেডে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ প্রমোশন ও বদলিজনিত কারণে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়ে থাকে। সাধারণত, একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ‘অফিসার’ অথবা ‘সিনিয়র অফিসার’ পদে যোগদান করেন এবং সর্বোচ্চ ম্যানেজিং ডিরেক্টর পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে পারেন। সরকারি ব্যাংকের পদসোপান / পদক্রম নিম্নরূপ –
ম্যানেজিং ডিরেক্টর (১ম গ্রেড)
মহাব্যবস্থাপক (GM) (২য় গ্রেড)
উপ মহাব্যবস্থাপক (DGM) (৩য় গ্রেড)
সহকারী মহাব্যবস্থাপক (AGM) (৪র্থ গ্রেড)
সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (৫ম গ্রেড)
প্রিন্সিপাল অফিসার (৬ষ্ঠ গ্রেড)
সিনিয়র অফিসার (৯ম গ্রেড)
অফিসার (১০ম গ্রেড)
বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্রম / পদসোপান:
সরকারি ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেও সাধারণত ৯ম গ্রেডে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ প্রমোশন ও বদলী জনিত কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত একজন ব্যাংক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ‘সহকারী পরিচালক’ পদে যোগদান করেন এবং সর্বোচ্চ ‘গভর্নর’ পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পদসোপান / পদক্রম নিম্নরূপ –
গভর্নর (সুপার গ্রেড)
ডেপুটি গভর্নর (গ্রেড-১)
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (গ্রেড-২)
জেনারেল ম্যানেজার (গ্রেড-৩)
ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর (গ্রেড-৪)
জয়েন্ট ডিরেক্টর (গ্রেড-৫)
ডেপুটি ডিরেক্টর (গ্রেড-৬)
সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯)
ব্যাংকে চাকরির পদোন্নতি:
সিনিয়র অফিসার থেকে প্রিন্সিপাল অফিসার হতে ৫ বছর ।
প্রিন্সিপাল অফিসার থেকে সিনয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হতে ৩-৫ বছর।
সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার থেকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (AGM) হতে ৩-৫ বছর।
এর পরের সবগুলো ৩ বছরের প্রমোশন ডিউ হয়।
সরকারি ব্যাংকের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকেও সাধারণত ৯ম গ্রেডে সরাসরি জনবল নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় অভ্যন্তরীণ প্রমোশন ও বদলী জনিত কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত একজন ব্যাংক কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা ‘সহকারী পরিচালক’ পদে যোগদান করেন এবং সর্বোচ্চ ‘গভর্নর’ পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পদসোপান / পদক্রম নিম্নরূপ –
গভর্নর (সুপার গ্রেড)
ডেপুটি গভর্নর (গ্রেড-১)
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (গ্রেড-২)
জেনারেল ম্যানেজার (গ্রেড-৩)
ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর (গ্রেড-৪)
জয়েন্ট ডিরেক্টর (গ্রেড-৫)
ডেপুটি ডিরেক্টর (গ্রেড-৬)
সহকারী পরিচালক (গ্রেড-৯)
ব্যাংকে চাকরির সুবিধাসমূহ
ব্যাংকে চাকরির নানাবিধ সুবিধা রয়েছে। নিম্নে সরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুবিধাসমূহ বর্ণনা করা হল।
সরকারি ব্যাংকে চাকরির সুবিধাসমূহ:
সরকারি ব্যাংকে চাকরির নানা ধরনের সুযোগ সুবিধার রয়েছে। ব্যাংক জব প্রিপারেশন নেওয়ার আগে এই সুবিধাগুলো সম্পর্কে আপনার জেনে রাখা ভালো।
ব্যাংকে চাকরির একটি বড় সুবিধা হচ্ছে ওয়েটিং লিস্ট / প্যানেল থেকে নিয়োগ পাওয়া যায়। এখানে চতুর্থ থেকে পঞ্চম প্যানেল পর্যন্তও প্রার্থীরা নিয়োগ পায়।
বিসিএস এর চেয়ে ব্যাংকে চাকরির প্রস্তুতি নিতে তুলনামূলক কম সময় লাগে এবং বছরে অনেকগুলো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়।
মাসের ৩০ তারিখের মধ্যেই বেতন পাওয়া যায়।
প্রতিদিন ২০০ টাকা লাঞ্চ ভাতা পান যে সুবিধা ক্যাডার সার্ভিসেও নেই।
প্রতিবছর ৩-৪ টি incentive বোনাস পাওয়া যায়।
ব্যাংকে অন্যান্য চাকরির তুলনায় প্রমোশন অনেক দ্রুত এবং সহজ। সিনিয়র অফিসার থেকে সহজেই মহাব্যবস্থাপক (GM) এবং এমডি হওয়া যায়।
১ বছর পর Computer Loan এবং ৩ বছর পর Bike Loan পাওয়া যায়।
চাকরির ৩ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর ৫ লক্ষ টাকা Instant Loan পাওয়া যায়।
চাকরির ৪ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর বাড়ি / ফ্লাট ক্রয় করার জন্য প্রায় কোটি টাকার লোন পাওয়া যায়।
AGM হওয়ার পর গাড়ি ক্রয়ের জন্য ভাতা দেওয়া হয় এবং সেইসাথে মেইন্টেন্যান্স বাবদ অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়।
অবসর গ্রহণের পর বিশ্বব্যাংক সহ বিভিন্ন ডেভলাপমেন্ট পার্টনারের সাথে কাজ করার সুযোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুবিধাসমূহ:
সরকারি ব্যাংকে চাকরির সুবিধাগুলোর চেয়ে ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুবিধা অনেকক্ষেত্রে বেশি। এসকল সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরি সরকারি ব্যাংক গুলোর তুলনায় আকর্ষনীয়। নিম্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরির সুবিধসমূহ আলোচনা করা হল –
৯ম গ্রেডে সারাসরি নিয়োগ প্রাপ্ত হওয়ার পরে একজন কর্মকর্তার বেসিক বেতন ২২,০০০ টাকার সাথে একটি ৫% ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে ২৩,১০০ টাকা থেকে বেতন শুরু হয়। এই বেসিক বেতনের উপরই একজন ব্যাংক কর্মকর্তা পরবর্তী অন্যান্য সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ছাত্রজীবনে এস.এস.সি, এইচ.এস.সি, অনার্স ও মাস্টার্স মিলিয়ে কারও যদি ৪ টি ফার্স্ট ক্লাস / প্রথম শ্রেণি এর ফলাফল থাকে তাহলে আরও ৪ টি ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে তার বেসিক বেতন হবে ২৮,১০০ টাকা। ৩ টি ফার্স্ট ক্লাস থাকলে ২ টি ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে বেসিক বেতন হবে ২৫,৪৮০ টাকা। তবে এই বাড়তি সুবিধাটি চাকরি কনফার্ম (১ বছর) হলে একসাথে পাবেন।
ঢাকায় পদায়ন হলে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বেসিক বেতনের ৫৫% এবং অন্যান্য সিটিকর্পোরেশনে পদায়ন হলে ৪৫% বাড়ি ভাড়া পাবেন।
এছড়াও নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে ওষুধ কেনার খরচ সহ ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্যও খরচ পেতে পারেন।
মোবাইল / টেলিফোন, ইন্টারনেট বিল বাবদ প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা।
কর্মঘন্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় (১ ঘণ্টা) কাজ করার জন্য (আর্লি সিটিং / লেইট সিটিং) এর সুবিধায় যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন ৩৫০ টাকা ভাতা পাবেন। লেট সিটিং / আর্লি সিটিং এর সুবিধা না থাকলে ব্যাংকের বাসে আসা যাওয়া করতে পারবেন।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার -শনিবার) অতিরিক্ত কাজ করার জন্য (অর্ধদিবস) সুবিধায় প্রতিদিন ৭০০ টাকা পাবেন।
চাকরিতে ৩ বছর অতিক্রম করার পর হাউজ বিল্ডিং লোন হিসেবে ৯৫ লক্ষ টাকা পাবেন (ব্যাংক রেট) ৪% ইন্টারেস্টে।
চাকরি কনফার্মেশন হলেই মোটরসাইকেল লোন ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা (মাসে ১৩০০ টাকা কর্তন করে ২০ বছর পর্যন্ত) এছাড়াও ৮০ হাজার টাকার কম্পিউটার লোন পাবেন (মাসে ৮০০ টাকা কর্তন করে ১০ বছর পর্যন্ত)।
গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাংক রেট (৪% ইন্টারেস্টে) লোন পাবেন। কিন্তু উপ মহাব্যবস্থাপক (DGM) হলে একদম ইন্টারেস্ট ফ্রী থাকবে। শুধুমাত্র ১% সার্ভিস চার্জ দিতে হবে। এবং DGM হলে গাড়ি মেইন্টেন্যান্স ফি বাবদ প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা পাবেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য দেশে ও বিদেশে স্কলারশিপ সহ এবং ছাড়া পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এবং অধ্যয়নকালীন সময়ে বেতন বা বোনাসের কোন ব্যাঘাত ঘটবে না।
সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে পোশাক ক্রয়ের জন্যাই ১৮০০০ টাকা পাওয়া যায়, যা দিয়ে পোশাক ক্রয়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
সকল সরকারি চাকরির মতো সন্তান স্কুলে ভর্তী হলে প্রতি মাসে ৫০০ করে দুটি সন্তানের জন্য ১০০০ টাকা পাবেন।
বেসিকের ৫% থেকে ২৫% পর্যন্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডে রাখতে পারবেন যার ইন্টারেস্ট রেট প্রায় ১৩%।
প্রতি তিন বছর পর পর ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটি পাবেন এবং সাথে এক বেসিকের টাকাও পাবেন।
কোচিং ছাড়া ব্যাংক জব প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন
আপনার লক্ষ্য যদি হয় ব্যাংকের একটি ভালো চাকরি কিন্তু কোন কোচিং সেন্টারে যেতে চান না বা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন —
১। প্রথমে আপনার লক্ষ্য স্থির করুন। আপনি নিজের লক্ষ্য অবিচল থাকলে পড়াশোনা আপনার জন্য কোন কঠিন কাজ হবে না।
২। বিগত সালের প্রশ্নব্যাংক থেকে ব্যাংক জব এর প্রশ্নের প্যাটার্ন সম্পর্কে ধারনা নিন। কতটুকু পড়বেন এবং কতটুকু বাদ দিবেন ঠিক করুন।
৩। আপনার বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা খুঁজে বের করুন এবং সেই অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য সময় নির্ধারন করুন।
৪। একটি স্টাডিরুটিন প্রস্তুত করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করুন।
৫। প্রস্তুতির মান যাচাই করার জন্য নিয়মিত মডেল টেস্ট / মক টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
৬। একটি স্মার্ট রিভিশন সার্কেল অনুসরণ করুন এবং নিয়মিত পূর্বের পঠিত বিষয়গুলো নিয়মিত রিভিশন করুন।
যেকোন চাকরির প্রস্তুতি নিতে প্রয়োজন হয় একটি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সঠিক প্রস্তুতিমূলক গাইডলাইন। ব্যাংক জব প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম নয়। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় Live MCQ নামের চাকরির প্রস্তুতির প্লাটফর্ম নিয়ে এসেছি আমরা, অর্জন করেছি ১২ লক্ষের অধিক অ্যাপ ব্যাবহারকারীর আস্থা।দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে কোচিং ছাড়াই ব্যাংক জব প্রস্তুতির সকল সুবিধা পাচ্ছেন Live MCQ অ্যাাপে। অ্যাাপের প্রিমিয়াম ও দুর্দান্ত সব ফিচার উপভোগ করতে আজই ইন্সটল করুন।
শেষকথা: আশাকরি এই আর্টিকেল টি আপনার ব্যাংক জব প্রস্তুতিকে আরও সহজ করবে। বিশেষ করে একদম নতুন করে যারা ব্যাংক জব প্রিপারেশন (Bank Job Preparation) নিতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই গাইডলাইনগুলো অনেক কাজে আসবে। যদি ব্যাংক জব প্রিপারেশন নিয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকে অবশ্যই নিচে থাকা কমেন্ট বক্সে জানাবেন
ব্যাংক জব প্রস্তুতি নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা করা কিছু প্রশ্ন এবং উত্তর:
প্রশ্ন: ব্যাংকে চাকরি বেতন কত?
উত্তর: সরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের চাকরিতে ৯ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন স্কেল ২২,০০০ টাকা থেকে ৫৩,০৬০ টাকা এবং ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন স্কেল ১৬,০০০ টাকা থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশকালে একজন কর্মকর্তার ন্যুনতম বেতন ২৮,০০০ টাকা এবং শিক্ষানবিশকাল শেষে ন্যুনতম বেতন ৩৯,০০০ টাকা।
প্রশ্ন: ব্যাংক পরীক্ষার জন্য কি কি বই পড়তে হবে?
উত্তর: ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান, ICT এই বইগুলো পড়তে হয়। এবং বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য যে বইগুলো পড়তে হবে তা এই আর্টিকেলে উল্লেখ করা আছে।
প্রশ্ন: ব্যাংকে চাকরির জন্য কোন বিষয় ভালো?
উত্তর: সরকারি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য নির্দিষ্ট কোন বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করা প্রার্থীরা আলাদা কোন সুবিধা পায় না। তবে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির জন্য ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
প্রশ্ন: ব্যাংকে চাকরির জন্য কি কি যোগ্যতা লাগে?
উত্তর: সরকারি ব্যাংক, বেসরকারি ও বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন হতে পারে। তবে সরকারি ব্যাংকে আবেদনের জন্য —
১. স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে যে কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অথবা স্বীকৃত বোর্ড হতে এইচএসসি/ সমমানের পরীক্ষা পাশের পর স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হতে চার (৪) বছর মেয়াদী স্নাতক পাশ থাকতে হবে। সরকারি ব্যাংকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত।
২. ও-লেভেল ও এ-লেভেল অথবা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডিগ্রির ক্ষেত্রে যথাক্রমে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি শিক্ষা বোর্ড অথবা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন/প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত সমমান সনদ আবশ্যক।
প্রশ্ন: ব্যাংক জবের জন্য সিজিপিএ কত লাগে?
উত্তর: এসএসসি/সমমান ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের পরীক্ষায় অন্তত একটি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ থাকতে হবে। কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণি বা সমমানের ফলাফল গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান ৫.০০ ও ৪.০০ স্কেলের জিপিএ/সিজিপিএ-কে প্রচলিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণিতে রূপান্তরের জন্য ২ জুন ২০০৯ ও ২ মার্চ ২০১০ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সার্কুলারের টেবিল অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের এডির বেতন কত?
উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদ টি সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী ৯ম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন এডি সরকারি বেতন স্কেল ২২,০০০ টাকা মূল বেতন দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন।
প্রিয় চাকরির প্রত্যাশীগণ, ৪৫তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার গাইডলাইন ও সাজেশন সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা যারা সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ধাপ শেষ করে লিখিত পরীক্ষার গন্ডি পার করেছেন সফলভাবে প্রথমেই আপনাদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আপনারা জানেন আগামী ৬ জুলাই ৪৫তম বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেছে পিএসসি। বিসিএস ভাইভা আপনার কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার নির্ধারণের চাবিকাঠি। ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—মৌখিক পরীক্ষা। এই ভাইভা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ২০০ নম্বরের মূল্যায়ন হয় এবং ভালো স্কোর পেলে কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
সাধারণত ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত বুদ্ধি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও আচরণ দিয়ে একজন প্রার্থীকে যাচাই করা হয়। তাই কেবল বই মুখস্থ নয়, প্রস্তুতি হওয়া উচিত চিন্তা, কথাবার্তা ও নিজের উপস্থাপনার জায়গা থেকে। আজকের ব্লগে ভাইভা প্রস্তুতির কৌশল, ভাইভা বোর্ডে কি করবেন, কি করবেন না এবং কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন এসকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। আশা করি এরপর আত্মবিশ্বাসের সাথে ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে পারবেন।
ভাইভা প্রস্তুতির ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক
নিজ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা: নিজের নামের অর্থ, জেলার পরিচিতি, পছন্দ-অপছন্দ, ক্যাডার চয়েসের কারণ—এই বিষয়গুলো গোছানো উত্তরসহ প্রস্তুত রাখুন।
সমসাময়িক ঘটনা: ভাইভার দিন বা আগের সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ, রাষ্ট্রপতি/প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণ, সদ্য প্রয়াত কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি—এসব জানা থাকা জরুরি।
ক্যাডারভিত্তিক জ্ঞান: প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র—আপনার চয়েজ অনুযায়ী কাডার সংক্রান্ত দায়িত্ব, পদক্রম, এবং সাম্প্রতিক ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।
গ্রাজুয়েশন বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্ন: স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের মূল বিষয়গুলো, গুরুত্বপূর্ণ থিওরি, ও বিষয়টি কীভাবে কাডার দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত—এসব ব্যাখ্যা দিতে প্রস্তুত থাকুন।
ভাইভা আচরণ ও ড্রেস কোড: মার্জিত পোশাক, বিনয়ী ব্যবহার, চোখে চোখ রেখে কথা বলা ও টু-দ্য-পয়েন্ট উত্তর দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৪৫তম বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার গাইডলাইন ও সাজেশন এর একাংশ
[dflip id=”23305″][/dflip]
যেভাবে ভাইভা প্রশ্নের ধরন বদলেছে
৪৩তম বিসিএস থেকে ভাইভার প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আর কেবল তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন নয়—বরং বোর্ড সদস্যরা প্রার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা, মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা ও দেশপ্রেম যাচাই করতে চান।
ভাইভায় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
অনুমতি না নিয়ে বসবেন না।
ভুল তথ্য দিয়ে বোর্ডের সঙ্গে তর্ক করবেন না।
উত্তরের মাঝে অপ্রয়োজনীয় তথ্য জুড়বেন না।
তোতলামি, জড়তা বা অস্বাভাবিক আচরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
কোনো প্রশ্ন না জানলে “Sorry, I don’t know” বলে বিনয়ের সাথে এড়িয়ে যান।
আরও জানতে চান?
এই ব্লগে আমরা শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সারাংশ দিয়েছি। ৪৫তম বিসিএস ভাইভার জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন, সাজেশন, প্রশ্ন ধরন, ক্যাডারওয়ারি দায়িত্ব, পিএসসি বোর্ড সদস্যদের তথ্যসহ সবকিছু পাওয়া যাবে নিচের ছবিতে যুক্ত করা লিংকে। পিডিএফটি আপনারা চাইলে ডাউনলোড করে কিংবা প্রিন্ট করে সংরক্ষণে রাখতে পারেন। পিডিএফ ডাউনলোড করতে নিচে দেয়া ছবিতে ক্লিক করুন—
প্রিয় চাকরিপ্রার্থীগণ, আশা করি ভালো আছেন। ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি-তে আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা জানেন, দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে গত ১৬ জুন ২০২৫ তারিখ (সোমবার) ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে NTRCA. এ নিয়োগের মাধ্যমে ১ লাখ ৮২২ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি গত ৪ জুন ২০২৫ তারিখে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এ পরীক্ষায় মোট ৬০ হাজার ৫২১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭তম ও ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত প্রার্থীদের এখন ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময়। কিন্তু চলমান নিয়োগে আবেদন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় আছেন। যারা আবেদন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন খুঁজছেন মূলত তাদের উদ্দেশ্যেই আমাদের আজকের আলোচনা। আশা করছি এই ব্লগটি পড়ার পর নিবন্ধন ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন, কীভাবে পছন্দক্রম ঠিক করবেন, কিংবা আবেদনপত্র পূরণে কী বিষয়ে সতর্কতা জরুরি — এসকল বিষয় নিয়ে আপনাদের আর কোন কনফিউশন থাকবে না।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন NTRCA ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য উত্তর এখানে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি, এই লেখাটি পড়লে আপনি নির্ভুলভাবে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন।
৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির শূন্যপদের বিবরণ
স্কুল ও কলেজ- এমপিও– ৪৬,২১১
মাদ্রাসা- এমপিও- ৫৩,৫০১
কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান- এমপিও- ১,১১০
সর্বমোট- ১,০০,৮২২
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন শুরু: ২২ জুন ২০২৫, দুপুর ১২টা।
শেষ সময়: ১০ জুলাই ২০২৫, রাত ১২টা।
আবেদন ফি জমা: ১৩ জুলাই ২০২৫, রাত ১২টা পর্যন্ত
৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে কারা আবেদন করতে পারবেন
প্রার্থীর বয়সসীমা: সর্বশেষ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ ৪ জুন ২০২৫ পর্যন্ত আবেদনকারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার কম হতে হবে। নিবন্ধন সনদের মেয়াদ: শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে ৪ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত ৩ বছরের মধ্যে হতে হবে।
যোগ্যতা-
নির্দিষ্ট পদ ও বিষয়ের জন্য প্রত্যাশিত শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ NTRCA-এর ওয়েবসাইটের “৬ষ্ঠ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি” নামক সেবা বক্সে পাওয়া যাবে।
আবেদনকারীকে প্রাসঙ্গিক শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
কোন মহিলা কোটা থাকবে না।
একটি সনদে আবেদন: প্রত্যেক আবেদনকারী ভিন্ন ভিন্ন নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করলেও অর্থাৎ, একাধিক নিবন্ধন সনদপ্রাপ্ত হলেও আবেদনের ক্ষেত্রে একটি মাত্র সনদ ব্যবহার করতে পারবেন। এমপিওভুক্তদের আবেদন: যারা ইতিমধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, তারা সেই একই পদে আবেদন করতে পারবেন না; তবে অন্য উচ্চতর বা নিম্নপদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
আবেদন প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলী
৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন পদ্ধতির ৮ ধাপ
মোট ৮টি ধাপে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
১ম ধাপ: প্রথমে এনটিআরসিএ ও টেলিটক ওয়েবসাইট থেকে E-Application বা অনলাইন আবেদনের লিংকে প্রবেশ করতে হবে। এখানে রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ইনপুট দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব তথ্য চলে আসবে।
২য় ধাপ: পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি, প্রার্থীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে।
৩য় ধাপ: প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করতে হবে।
৪র্থ ধাপ: এ ধাপে প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম দিতে হবে। ৫ম ধাপে পছন্দক্রম সিরিয়াল অনুযায়ী সাজাতে হবে। এই সিরিয়াল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর, মেধাক্রম অনুযায়ী সুপারিশ করা হবে। ফলে নম্বর কম এবং মেধাক্রম বেশি হলে হলে চিন্তাভাবনা করে পছন্দক্রম দিতে হবে।
৬ষ্ঠ ধাপ: এ পর্যায়ে প্রার্থীর ছবি ও ই-সিগনেচার আপলোড করতে হবে। এক্ষেত্রে নিবন্ধন পরীক্ষার আবেদনে প্রার্থীর যে ছবি ব্যবহৃত হয়েছে, সেই ছবিই ডাউনলোড করে আবেদন ফরমের নির্ধারিত স্থানে আপলোড করতে হবে।
৭ম ধাপ: এরপর আবেদনটি সম্পূর্ণ রিভিউ করা যাবে। এখানে সবকিছু ঠিক আছে কি না তা পুনরায় দেখে নিতে হবে। সব ঠিক থাকলে তবেই আবেদন সাবমিট করতে হবে।
৮ম ধাপ: সকল ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করলে এই শেষ ধাপে প্রার্থীদের আবেদন কপি ডাউনলোড করতে হবে।
আবেদন ফি
e-Application ফি ১,০০০/- টাকা, যা Application ফরম Submit করার পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে টেলিটক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দিতে হবে।
ভিডিও টিউটোরিয়াল দেওয়া হবে টেলিটক–এ, যাতে ফরম পূরণ ও ফি প্রদানের ধাপগুলো সহজে বুঝে নেওয়া যায়।
পছন্দক্রম নির্ধারণ ও সংখ্যা
আবেদনকারীরা নিজের ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪০টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দ তালিকায় (Choice List) দিতে পারবেন।
এই লিস্টের বাইরের প্রতিষ্ঠানেও পরে যোগদানের সুযোগ পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে, Choice প্রদানের পর E-Application ফরমের ‘Other’ Option বক্সে ‘Yes’ ক্লিক করতে হবে। তবে পছন্দ তালিকার বাইরে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক না হন তবে ‘NO’ ক্লিক করতে হবে।
‘Yes’ Click করলে তিনটি অপশন পাওয়া যাবে — General, Madrasha ও Technical — এর যে কোন একটি অথবা দুইটি অথবা তিনটি অপশনই Select করতে পারবেন।
কোন প্রার্থীর যদি স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের সনদ থাকে এবং তিনি যদি উভয় পর্যায়ের পদে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে তাকে কলেজ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজ পর্যায়ে নির্বাচিত না হলে স্কুল পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে।
৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে —
আবেদনপত্র পূরণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি না দিলে আবেদন বাতিল হবে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন ফি জমা না দিতে হবে। অনলাইনে সফলভাবে আবেদন পেশ করার পর আবেদনকারীকে স্ব-উদ্যোগে দাখিলকৃত আবেদনের (Applicant’s copy) একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
আবেদনকারীকে e-Application ফরম পূরণের সময়েই পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমটি যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে।
আবেদনকারী যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং সে অনুযায়ী নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়; তবে এ সুপারিশ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা কলেজে সহকারী শিক্ষক (শারীরিক শিক্ষা) পদে শুধুমাত্র মহিলা প্রার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন। মহিলাদের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান বা পদে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করে নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত হলে তার নিয়োগ সুপারিশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পদের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই ওই ধর্মাবলম্বী হতে হবে, অন্যথায় সুপারিশ বাতিল বলে গণ্য হবে।
জন্ম তারিখসহ অন্যান্য তথ্যাদি ভুল থাকলে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারবেন না। তাই E- Certificate ডাউনলোড করার আগেই নির্ধারিত ফিসহ নির্ধারিত ফর্মে নিজ জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য NTRCA কার্যালয়ে আবেদন করার সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। তবে সময় খুবই কম।
নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও এলাকার নামে কোনো তথ্য ভুল থাকলে NTRCA-তে যোগাযোগ করে সংশোধন করে নিন। অভিভাবকের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
আবেদন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ফরম পূরণ শেষে একবার আবেদনপত্র Submit হয়ে গেলে তা কোন ভাবেই সংশোধনের সুযোগ থাকবে না।
নিয়োগ প্রক্রিয়া
নিয়োগের সুপারিশ: এক পদে একজন প্রার্থীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারিশ করা হবে। সুপারিশ প্রাপ্তদের তালিকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।
চুক্তিপত্র বা নিয়োগপত্র না পেলে: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ না দেন, তবে সেই প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হবে।
NTRCA-র ডিসক্লেইমার
নিয়মানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার এর মাধ্যমে কর্তৃক শূন্যপদের চাহিদা জমা দেন। এই প্রক্রিয়ায় ভুল চাহিদাপত্রের কারণে নিয়োগ সুপারিশে কোন জটিলতার তৈরি হলে তার জন্য NTRCA দায়ী থাকবে না।
মামলা/আইনগত কোন জটিলতার কারণে অনলাইনে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কোন পদে নিয়োগ প্রদান সম্ভব না হলে NTRCA দায়ী থাকবে না।
এই গণবিজ্ঞপ্তির যে কোন শর্ত এবং প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি NTRCA যে কোন সময়ে সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন এবং স্থগিত করতে পারবে।
NTRCA কেন ও এর ভূমিকা
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগের প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান NTRCA।
২০০৫ খ্রিষ্টাব্দে যাত্রা শুরুর সময় শুধু প্রাক-যোগ্যতা নির্ধারণী সনদ দেয়া হতো। সেটা দেখিয়ে শিক্ষক পদে আবেদন করা যেতো। কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটির নেয়া পরীক্ষাই ছিলো চূড়ান্ত।
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত দায়িত্ব পায় NTRCA।
এবারই প্রথম গণবিজ্ঞপ্তিতে ১ লাখ ৮২২টি এমপিওভুক্ত শূন্যপদের এত বিশাল নিয়োগের ঘোষণা করলো NTRCA।
NTRCAএ পর্যন্ত ১৮টি নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়েছে।
আসন্ন শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি ১৯তম হওয়ার কথা থাকলেও সেটি না-ও হতে পারে। এক্ষেত্রে নতুন করে প্রথম থেকে শুরু করা হতে পারে।
পরবর্তী শিক্ষক নিবন্ধন থেকে আর গণ-বিজ্ঞপ্তি থাকবে না, পাশ হলে সরাসরি নিয়োগ পাবেন।
শিক্ষক নিবন্ধনের নতুন বিজ্ঞপ্তি হতে পারে জুলাইয়ে
শিক্ষক নিবন্ধনের বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করলেও এ বিষয়ে জনপ্রশাসন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রয়োজন। এ মতামত পাওয়ার পরপরই শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। আগামী জুলাই মাসের শেষ দিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা
এনটিআরসিএর মাধ্যমে চূড়ান্ত উত্তীর্ণ ও নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া একজন প্রবেশনারি পর্যায়ের শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় বেতন কাঠামো অনুসারে ৯ম, ১০ম ও ১১তম স্কেলে বেতন শুরু হয়। কলেজ পর্যায়ের প্রভাষকেরা ৯ম গ্রেডে, স্কুলপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক বিএড ছাড়া ১১তম গ্রেডে ও বিএড থাকলে ১০ম গ্রেডে বেতন শুরু হয়।
মাসিক নিট বেতন হিসাব করলে একজন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত কলেজ প্রভাষক ২২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত ও মাদ্রাসা, কারিগরি ও হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ১২ হাজার ৫০০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন।
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০সহ মোট ১ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত যুক্ত হয়।
উৎসব ভাতা হিসেবে মূল বেতনের ২৫%, দুই ঈদে দুটি উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতাও পেয়ে থাকেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা। অন্যান্য চাকরির মতো প্রতিবছর ইনক্রিমেন্ট সুবিধা পাওয়া যায়।
স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক থেকে পর্যায়ক্রমে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পর্যন্ত হওয়া যায়।
কলেজের প্রভাষকেরা আট বছর পূর্তিতে আনুপাতিক হারে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ পান। পরবর্তী সময় পদোন্নতি পেয়ে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।
একজন প্রভাষক বা শিক্ষক ৬০ বছর চাকরি শেষে অবসর গ্রহণ করলে অবসরকালীন ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন সুবিধা পেয়ে থাকেন।
শেষকথা
এই বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আশা করি আপনাদের অনেক বিভ্রান্তি দূর হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন, কীভাবে আবেদন করবেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো কেমন হবে, এবং NTRCA কেন ও কিভাবে কাজ করে — এসব ব্যাপারে আশা করি আর কোনো সংশয় নেই। তবে আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে জানাতে পারেন।
গণবিজ্ঞপ্তি ও শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এলে Live MCQ সাইট ও ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে নিবন্ধিত শিক্ষকের সংখ্যা দেশে লাখো শিক্ষক ঘাটতির তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পরবর্তী (বা ১৯তম) শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হবে। সঙ্গত কারণেই, যারা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে চান (ইতোমধ্যে নিবন্ধিত ও নতুন পরীক্ষার্থী উভয়), তাদের এখন থেকেই ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন- ১: আমি ১৭তম এবং ১৮তম উভয় নিবন্ধন পরীক্ষায় পাশ করেছি। তাহলে কোন সনদ দিয়ে আবেদন করবো?
উত্তর: একাধিক নিবন্ধন সনদ থাকলেও একজন প্রার্থী কেবল একটি সনদ ব্যবহার করেই আবেদন করতে পারবেন। কোন সনদটি ব্যবহার করবেন, সেটা আপনার পছন্দ।
প্রশ্ন- ২: নিবন্ধন সনদে ভুল থাকলে কী করতে হবে?
উত্তর: যেসব প্রার্থীর ই-প্রত্যয়নপত্রে নাম, পিতার নাম, মাতার নাম বা ঠিকানায় ভুল আছে, তারা ই-প্রত্যয়নপত্র ডাউনলোড করার পর নির্ধারিত ফি ও ফর্মসহ এনটিআরসিএ অফিসে আবেদন করে ভুল সংশোধন করতে পারবেন। আর যাদের জন্ম তারিখে ভুল থাকায় তারা ৬ষ্ঠ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করতে পারছেন না, তাদেরকে ই-প্রত্যয়নপত্র ডাউনলোড না করে, শুধু নির্ধারিত ফি ও ফর্মসহ জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন এনটিআরসিএ অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন- ৩: বয়সের হিসাব কীভাবে করা হবে? আবেদন করার জন্য সর্বোচ্চ বয়স কত?
উত্তর: প্রার্থীর বয়স গণনা করা হবে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ অর্থাৎ ৪ জুন ২০২৫ অনুযায়ী। সে তারিখে আপনার বয়স ৩৫ বছর বা তার কম হলে আপনি আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন- ৪: আমি স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের সনদধারী। তাহলে আমি কীভাবে আবেদন করবো?
উত্তর: আপনি উভয় পর্যায়ের পদে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে আগে কলেজ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজে সুপারিশ না পেলে তখন স্কুল পর্যায়ে বিবেচিত হবেন।
প্রশ্ন- ৫: Choice List-এ কতটি প্রতিষ্ঠান দিতে পারবো? ব্যকগ্রাউন্ড জেনারেল হলেও মাদ্রাসায় কি পোস্টিং অপশন দিতে পারবো?
উত্তর: আপনি সর্বোচ্চ ৪০টি প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে পারবেন। তবে চাইলে Choice List-এর বাইরেও নিয়োগের জন্য ‘Other’ অপশনে ‘Yes’ ক্লিক করে সম্মতি জানাতে পারেন। এতে General, Madrasha ও Technical — তিনটি বিভাগ থেকে এক বা একাধিক বিভাগ নির্বাচন করতে পারবেন। লেখাপড়ার ব্যাকগ্রাউন্ড ভিন্ন হলেও পছন্দ মতো যে কোনো বিভাগের অপশন রাখতে পারবেন।
প্রশ্ন- ৬: আমি আগেই একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত, আমি কি এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবো?
উত্তর: হ্যাঁ, তবে আপনি যে পদে কর্মরত, সেই একই পদে আবেদন করতে পারবেন না। আপনি চাইলে উচ্চতর বা নিম্নপদে আবেদন করতে পারেন।
প্রিয় চিকিৎসক বন্ধুগণ, ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রস্তুতি সংক্রান্ত ব্লগে আপনাদের স্বাগতম। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত ২৯ মে ২০২৫-এ ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC)। স্বাস্থ্যখাতে ৩০০০ জন চিকিৎসক নিয়োগের লক্ষ্যে এই বিশেষ নিয়োগ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সহকারী সার্জন পদে ২৭০০ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০০ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। কাঙ্ক্ষিত এই পরীক্ষায় সফল হতে হলে চিকিৎসকদের প্রয়োজন — এমসিকিউ-ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার এগিয়ে থাকার স্ট্র্যাটেজিক উপায়।
দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বিসিএসসহ নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য Live MCQ একটি নির্ভরযোগ্য ও পরিচিত প্ল্যাটফর্ম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আজ থাকছে চিকিৎসকদের জন্য ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রস্তুতি এর নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত গাইডলাইন। আসুন জেনে নিই— ৪৮তম স্পেশাল বিসিএসের জন্য কেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন, কেমন হবে প্রতিযোগিতার ধরণ ও কার্যকর প্রস্তুতি নিয়ে পাশ করার কৌশলসহ বিস্তারিত।
এক নজরে ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষা ২০২৫ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
মোট পদসংখ্যা
৩০০০টি
সহকারী সার্জন
২৭০০ জন
ডেন্টাল সার্জন
৩০০ জন
আবেদন শুরু
১ জুন ২০২৫
আবেদনের শেষ সময়
২৫ জুন ২০২৫
অনলাইনে আবেদন লিংক
http://bpsc.teletalk.com.bd/
বয়সসীমা
২১ – ৩২ বছর
লিখিত পরীক্ষার (MCQ Type) সম্ভাব্য তারিখ
জুলাই ২০২৫ এর ২য় সপ্তাহে (সম্ভাব্য)
সাধারণ বিসিএস ও স্পেশাল বিসিএসের পার্থক্য
প্রতিযোগিতার ধরণ:
সাধারণ বিসিএস জেনারেল ও টেকনিক্যাল ক্যাডারের শূন্যপদের জন্য আয়োজিত হয়, যেখানে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ও যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে সকল ডিসিপ্লিনের গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণ করতে পারেন। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত বিধায় বেশি প্রতিযোগিতামূলক। অন্যদিকে, স্পেশাল বিসিএস বিশেষ সেক্টরে (যেমন: স্বাস্থ্য বা শিক্ষা) সাবজেক্ট ম্যাটার স্পেশালিস্ট নিয়োগের জন্য আয়োজিত হয়। এই পরীক্ষায় শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা গ্র্যাজুয়েটরাই অংশ নিতে পারেন। ফলে প্রতিযোগিতা তুলনামূলকভাবে কম। যেমন – এবারের ৪৮তম বিসিএসে কেবল এমবিবিএস ও বিডিএস পাশ ডাক্তাররাই পরীক্ষা দিতে পারবেন।
স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষার পদ্ধতি:
৪৮তম স্পেশাল বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় স্বাস্থ্যখাতে নিয়োগের জন্য শুধু মেডিকেল ও ডেন্টাল গ্র্যাজুয়েটরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এতে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ-ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের ভাইভা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সাধারণ বিসিএসের মতো বর্ণনামূলক প্রশ্নের লিখিত পরীক্ষা থাকবে না। এছাড়া এই ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মধ্যে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে মেডিকেল পার্টের। শুধু তাই নয়, সাধারণ বিসিএসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার নম্বর মূল স্কোরের সঙ্গে যুক্ত হয় না। কিন্তু, স্পেশাল বিসিএসে এমসিকিউ পরীক্ষার নম্বর ভাইভার সঙ্গে যুক্ত করে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।
ডাক্তারদের ক্যারিয়ারে ‘গোল্ডেন অপরচুনিটি’:
স্পেশাল বিসিএসে প্রার্থীরা যে বিষয়ে ৪-৫ বছর পড়াশোনা করেছেন – যে বিষয়েরও ওপরই এমসিকিউ পরীক্ষার একটা বড় অংশের প্রশ্ন করা হবে। যেমন, ৪৮তম স্পেশাল বিসিএসে MBBS বা BDS-এ পঠিত বিষয়ের দক্ষতা ডাক্তারদের প্রস্তুতিকে অনেকটা এগিয়ে রাখবে। এছাড়া ক্যাডার হওয়ার পর, সরকারি ডাক্তার হিসেবে স্থায়ী চাকরিতে নিয়োগের পর এক বা দুটি ইনক্রিমেন্টসহ উচ্চতর বেতন স্কেলের সুযোগ পাবেন। সবমিলিয়ে, বিশেষ দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন, দেশ সেবা ও ক্যারিয়ার গঠনের জন্য ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস ডাক্তারদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
৪৮তম বিশেষ বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে চাইলে বয়স, নাগরিকত্ব, ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। স্পেশাল বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণ করেছে পিএসসি। সংক্ষেপে দেখে নিন কারা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন —
১ মে ২০২৫ তারিখে যে সকল প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩২ বছর।
যেকোনো স্বীকৃত মেডিকেল কলেজ/ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে MBBS (বা সমমান) ও BDS (বা সমমান) ডিগ্রিধারী প্রার্থীগণ।
MBBS বা BDS পরীক্ষায় অবতীর্ণ প্রার্থীরা (আবেদনের শেষ দিনের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া ও উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে)
BMDC রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে
বিদেশি ডিগ্রির ক্ষেত্রে BMDC কর্তৃক প্রদত্ত ইকুইভ্যালেন্স সনদের সত্যায়িত কপি থাকতে হবে
বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষার সিলেবাস ও মানবন্টন বিশ্লেষণ
প্রজ্ঞাপনের তথ্য বলছে, বিশেষ বিসিএসে সর্বমোট ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে, আর মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। ২০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষার নম্বরবন্টন নিচের টেবিলে দেখানো হলো —
সাধারণ অংশ (১০০ নম্বর)
মেডিকেল অংশ (১০০ নম্বর)
বাংলা
২০ নম্বর
🩺 Doctors
ইংরেজি
২০ নম্বর
পার্ট-১: প্রি ও প্যারা ক্লিনিক্যাল
৫০ নম্বর
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
২০ নম্বর
পার্ট-২: ক্লিনিক্যাল
৫০ নম্বর
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
২০ নম্বর
🦷 Dentists
গাণিতিক যুক্তি
১০ নম্বর
পার্ট-১: অ্যানাটমি ও ডেন্টাল অ্যানাটমি
৫০ নম্বর
মানসিক দক্ষতা
১০ নম্বর
পার্ট-২: ওরাল সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়া
৫০ নম্বর
নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর থাকবে। প্রতি ভুল উত্তরে ০.৫০ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার সময়: ২ ঘণ্টা
কেমন হবে প্রস্তুতির কৌশল?
এবারের বিশেষ বিসিএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এতে শুধুমাত্র এমসিকিউ ভিত্তিক প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই সরাসরি ভাইভায় অংশ নেওয়া যাবে। প্রিলির নম্বর ও ভাইভা মিলিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, প্রিলিমিনারি পরীক্ষাই নির্ধারণ করবে আপনি ভাইভা পর্যন্ত যাবেন কি না।
অন্যদিকে, সরকারি নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে হাতে খুব বেশি সময় নেই। এই পরিস্থিতিতে যাঁরা প্রথম থেকেই গুছিয়ে রুটিনমাফিক প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন, তাঁরাই এগিয়ে থাকবেন।
স্পেশাল বিসিএসে এগিয়ে থাকতে হলে ভবিষ্যৎ ক্যাডারদের যা যা করণীয়:
স্পেশাল বিসিএসের জন্য সময় খুব সীমিত হওয়ায় গোছানো ও রুটিনভিত্তিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।
সময় যেহেতু কম, এই পর্যায়ে প্রস্তুতি হবে সাজেশন ও পরীক্ষা-নির্ভর। এক্সপার্ট মেন্টরদের দিকনির্দেশনা মেনে পরীক্ষার মাধ্যমে সিলেবাস রিভিশন করাই এখন টার্গেট।
রিয়েল এক্সামের মতো প্রতিযোগিতামূলক প্যাটার্নে নিয়মিত মডেল টেস্ট বা মক টেস্ট দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে।
রিয়েল পরীক্ষার সময় ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন আঙ্গিকের প্রশ্ন সমাধানের কৌশল ও চাপ সামলানোর চর্চা করতে হবে।
পিএসসি প্রণীত সিলেবাস অনুযায়ী বিগত বছরের প্রশ্ন অনুশীলন করতে হবে।
মেডিকেল অংশের পাশাপাশি সাধারণ অংশেও সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য এক্সপার্ট মেন্টরদের দিকনির্দেশনামূলক ক্লাসে অংশ নিতে হবে।
পড়াশোনা ও পরীক্ষার জন্য একটি কার্যকরী রুটিন অনুসরণ করতে হবে।
পরীক্ষা যতই কাছাকাছি আসবে, চাপ তত বাড়বে। তাই মানসিক প্রস্তুতির দিকেও নজর দিন
সাধারণ ও মেডিকেল অংশে কেমন প্রস্তুতি নেবেন?
১. সাধারণ অংশের প্রস্তুতি:
এই অংশে বাংলা (২০ নম্বর), ইংরেজি (২০), বাংলাদেশ বিষয়াবলি (২০), আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (২০), মানসিক দক্ষতা (১০) এবং গাণিতিক যুক্তি (১০) থেকে প্রশ্ন আসে। প্রস্তুতির জন্য:
সিলেবাস ভালোভাবে আত্মস্থ করুন।
বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান করুন।
প্রতিদিন নিয়মিত পরীক্ষা দিন।
ভাষাগত দক্ষতা-
বাংলা: ব্যাকরণ, সাহিত্য, বানান ও সিলেবাসের টপিকগুলো অনুশীলন করুন।
ইংরেজি: Parts of Speech, Voice, Narration, Vocabulary নিয়মিত অনুশীলন করুন। এছাড়া সাহিত্যের টপিকগুলো পড়ুন।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য সাম্প্রতিক ঘটনা, ইতিহাস, ভূগোল ও কূটনীতি পড়ুন।
মানসিক দক্ষতা ও গণিতের জন্য যুক্তি-ভিত্তিক প্রশ্নের চর্চা করুন। বই বা অন্যান্য স্টাডি ম্যাটেরিয়াল থেকে পড়াশোনা করে প্রতিদিন অনুশীলন করুন। এছাড়া সময় বাঁচাতে শর্টকাট পদ্ধতি আয়ত্তে আনুন।
২. মেডিকেল অংশের প্রস্তুতি:
স্পেশাল বিসিএস-এ ডাক্তারদের মূল প্রতিযোগিতা হবে নিজেদের ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রতিযোগীদের সঙ্গে, অর্থাৎ ১০০ নম্বরের মেডিকেল/ডেন্টাল অংশে। এই অংশের প্রস্তুতির জন্য:
মেডিকেল/ডেন্টাল বিষয়ে মৌলিক ধারণা (MBBS/BDS সিলেবাস) ভালোভাবে রিভিশন করুন।
প্রতিটি টপিকের ওপর বারবার পরীক্ষা দিন।
কোনো টপিকে দুর্বলতা থাকলে এক্সপার্ট মেন্টরদের ক্লাস করে কনসেপ্ট পরিষ্কার করে নিন।
Anatomy, Physiology, Biochemistry, Pathology, Pharmacology, Medicine, Surgery, Gynae & Obs ইত্যাদি বিষয়ে ফোকাস করুন।
বিগত স্পেশাল বিসিএসের প্রশ্ন সমাধানের চর্চা করুন। পূর্ববর্তী স্পেশাল বিসিএস (বিশেষ করে ৩৯তম ও ৪২তম) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ক্লিনিক্যাল প্রশ্ন বেশি এসেছে। তাই Medicine, Surgery, Pediatrics, Gynae & Obs ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে পড়তে হবে।
মনে রাখার জন্য স্মার্ট মেমোরি টুল ব্যবহার করুন। Flowchart, visualization, acronyms বা ডায়াগ্রাম ব্যবহার করলে তথ্য মনে রাখা সহজ হয়।
Clinical case ও treatment protocol সম্পর্কে আপডেট থাকুন।
সাধারণ টিপস: নিয়মিত মডেল টেস্ট দিন, সময় ব্যবস্থাপনা শিখুন এবং দুর্বল বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলোতে জোর দিন।
বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের গুরুত্ব
যেকোন নিয়োগ পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে বিগত সালের প্রশ্ন সমাধান অত্যন্ত কার্যকর একটি বিষয়। কেননা বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের মাধ্যমে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের ধরণ, মানবন্টন, সময় ব্যবস্থাপনাসহ বিস্তারিত বিষয়ে গভীর এবং স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। যা সামগ্রিক পরীক্ষা প্রস্তুতিকে তুলনামূলক সহজ করে তোলে। বিগত সালের প্রশ্ন সমাধানের বিশেষ কিছু কার্যকর দিক নিম্নে তুলে ধরা হলো-
বিগত সালের প্রশ্ন (৩৫-৪৬তম বিসিএস, বিশেষ করে ৩৯তম ও ৪২তম স্পেশাল বিসিএস) সমাধান করলে প্রশ্নের প্যাটার্ন, গুরুত্বপূর্ণ টপিক ও নম্বর বণ্টন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
অনেক সময় পূর্ববর্তী প্রশ্ন থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কমন পড়ে, যা প্রস্তুতিকে সহজ করে।
প্রশ্ন সমাধানের চর্চা দুর্বলতা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে।
বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে কোন বিষয়ে বেশি ফোকাস দিতে হবে তা বুঝতে সাহায্য করে, যেমন মেডিকেল অংশে ক্লিনিকাল টপিক বা সাধারণ অংশে সাম্প্রতিক ঘটনা।
তাছাড়া বিগত সালের প্রশ্নগুলোর উপর নির্দিষ্ট সময় ধরে পরীক্ষা দিয়ে মূল পরীক্ষায় সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।
প্রস্তুতির টাইমলাইন (Preparation Timeline)
৪৮তম স্পেশাল বিসিএস ২০২৫-এর এমসিকিউ পরীক্ষা জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে ২৯ মে’র বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, যারা আগে থেকে স্পেশাল বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি কেমন হবে? আর যারা নতুন — সবে এমবিবিএস/ বিডিএস সম্পন্ন করেছেন, তারাই বা এই সীমিত সময়ের মধ্যে কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন? এই বাস্তবতায় প্রার্থীদের প্রস্তুতি-চিত্র ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই— ডাক্তার ক্যাডার হওয়া। নিচে দুই ধরনের প্রার্থীর জন্য পৃথক টাইমলাইন ও কৌশল তুলে ধরা হলো:
যারা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন: এখনই আপনাদের শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়। প্রস্তুতির শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপে প্রয়োজন রিভিশন, প্র্যাকটিস ও নিজের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কভার করা।
সপ্তাহ ১–৪:
বিষয়ভিত্তিক রিভিশন শুরু করুন—প্রতিদিন নির্দিষ্ট বিষয় কভার করুন (Medical + General)।
বিগত প্রশ্নের রিভিশন দিন।
অন্তত ৩টি বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট দিন—ফল বিশ্লেষণ করে ভুলগুলো বুঝুন।
সাম্প্রতিক তথ্যে আপডেট রাখুন।
কঠিন টপিকগুলোতে ফোকাস করুন।
প্রতিদিন কমপক্ষে ৩-৪টি মিক্সড ও সমন্বিত টপিকের পরীক্ষা ও ১টি ফাইনাল মডেল টেস্ট দিন।
সপ্তাহ ৫–৬ (পরীক্ষা পর্যন্ত):
মেডিকেল অংশের ক্লিনিক্যাল ও প্রি-প্যারা ক্লিনিক্যাল অংশে পুনরাবৃত্তি করুন।
General অংশে ব্যাকরণ, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, ম্যাথ-লজিক—সব রিপিট করুন।
রিভিশনের জন্য রুটিনে শ্বাস নেওয়ার জায়গা রাখুন।
এই সময়টা নতুন কোনো টপিক পড়বেন না। টপিক ধরে রিভিশন করুন।
আলাদা করে নোট করা বা মার্ক করে রাখা অপেক্ষাকৃত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চোখ বুলান।
যারা সদ্য MBBS/BDS শেষ করেছেন: আপনাদেরকে শুরু থেকেই ফিনিশিং লাইন টার্গেট নিয়ে আগাতে হবে। আপনারা যেহেতু সদ্যই লেখাপড়া শেষ করেছেন, তাই আশা করা যায় মেডিকেল অংশের পঠিত বিষয়গুলো আপনাদের মোটামুটি চর্চায় আছে। এটা একটা ভালো ব্যাকআপ হতে পারে। তবে স্পেশাল বিসিএসের উপযোগী এমসিকিউ প্যাটার্নের প্রশ্নে অভ্যস্ত হতে মেডিকেল অংশেও ভালো রিভিশন দরকার হবে।
সপ্তাহ ১-৪:
সিলেবাস দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিন—কি পড়বেন, কোনটা বাদ দেবেন ঠিক করুন।
কোনো জটিল বিষয় শেখার সময় নেই। ১-২ নম্বর বাদ দিয়ে অন্যান্য টপিকগুলো ভালো টপিকভিত্তিক রিভিশন শুরু করুন।
একদিনে ২-৩ ঘণ্টা মেডিকেল, ১.৫ ঘণ্টা জেনারেল + ১ ঘণ্টা মডেল প্রশ্ন অনুশীলন করুন।
প্রতিদিন অন্তত ১টি মডেল টেস্ট দিন—সময় ধরে, পরীক্ষার মতো পরিবেশে।
ভুল প্রশ্নগুলো আলাদা করে রাখুন—সেগুলো থেকেই শিখুন।
সপ্তাহ ৫-৬:
দ্রুত রিভিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গাইড/অ্যাপ ব্যবহার করুন (যেমন Live MCQ)।
প্রয়োজন হলে ভিডিও ক্লাস বা এক্সপার্ট মেন্টরের শরণাপন্ন হোন—নিজে গাইড খুঁজে সময় নষ্ট করবেন না।
মডেল টেস্ট, বিগত প্রশ্ন ও ব্যক্তিগত নোটে ফোকাস করুন।
নতুন কিছু শেখার চেষ্টা নয়, পুরনোটা ঝালিয়ে নিন।
মনোবল ও শরীর ঠিক রাখুন।
প্রাধান্য পাওয়া বিষয়সমূহ
ডাক্তার ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য সিলেবাস ঘোষণা করেছে পিএসসি। জেনারেল ও মেডিকেল অংশের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য ওই সিলেবাসের টপিকগুলোই বেশি প্রাধান্য দিয়ে পড়তে হবে। ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:
সাহিত্য: প্রাচীন ও মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ (১৮০০–বর্তমান) (৫ নম্বর)
ইংরেজি (২০ নম্বর)
Part 1 (Grammar): Parts of Speech, Idioms & Phrases, Clauses, Corrections, Sentence & Transformation, Vocabulary (Words), Composition
Part 2 (English Literature): Names of writers of literary pieces from Elizabethan period to the 21st Century; Important drama, Poetry and prose of different ages.
বাংলাদেশ বিষয়াবলি (২০ নম্বর)
১. বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলী ২. বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ ৩. বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৪. বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫. বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য ৬. বাংলাদেশের সংবিধান ৭. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ৮. বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা ৯. বাংলাদেশের জাতীয় অর্জন, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, জাতীয় পুরষ্কার, বাংলাদেশের খেলাধুলা, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি
আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি (২০ নম্বর)
বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আন্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্ক
চলমান ও সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ
আন্তর্জাতিক পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি
আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহ ও বৈশ্বিজক অত্থনৈক প্রতিষ্ঠানাদি
সিভিল সার্ভিস গোড়াপত্তন; যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস
গাণিতিক যুক্তি (১০ নম্বর)
অঙ্কের মৌলিক ধারণা: শতকরা, মুনাফা, অনুপাত
বীজগাণিতিক সূত্র
সূচক ও লগারিদম
জ্যামিতি, পরিমিতি
সেট, পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্যতা
মানসিক দক্ষতা (১০ নম্বর)
Verbal reasoning
Problem solving
Numerical ability
Mechanical Reasoning
Space relation
Mechanical reasoning
মেডিকেল পার্ট (পূর্ণমান: ১০০)
ডাক্তারদের জন্য:
Pre & Para Clinical (৫০): Anatomy, Physiology, Biochemistry, Pharmacology, Microbiology, Forensic Medicine & Toxicology, Community Medicine and Public Health, Pathology
পরীক্ষা ও পড়াশোনার জন্য একটি কার্যকরী রুটিন অনুসরণ করুন।
Live MCQ এর মাধ্যমে ঘরে বসে BCS Health Cadre প্রস্তুতি
উল্লিখিত ৫ কৌশল মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে ‘Live MCQ ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস প্রস্তুতি রুটিন’। এতে প্রতিদিনের পড়ার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার পাশাপাশি জেনারেল ও মেডিকেল উভয় পার্টের জন্য ২৭টি করে মোট ৫৯টি প্রতিযোগিতামূলক লাইভ পরীক্ষা, ২৬৫-এর বেশি ভিডিও ক্লাস, গুরুত্বপূর্ণ কুইজ ও রিভিশনের তালিকা অন্তর্ভুক্ত আছে। নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য ৫টি ২০০ মার্কের ফুল মডেল টেস্ট/মক টেস্ট নেওয়া হবে। সীমিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে প্রস্তুত হতে হলে এমন একটি রুটিন শুধু সাহায্যই করবে না—প্রস্তুতির মান ও অগ্রগতি যাচাই করতে সহায়ক হবে।
স্পেশাল বিসিএসের মানসিক প্রস্তুতি
শুধু পড়াশোনার প্রস্তুতিই যথেষ্ট নয়—একজন পরীক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটাও সমান জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, প্রিপারেশন ভালো থাকা সত্ত্বেও মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির কারণে পরীক্ষার ফলাফল ভেঙে পড়ে। বিশেষ বিসিএস একটি সময়সীমাবদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক এবং ক্যারিয়ার-নির্ধারক পরীক্ষা। তাই লিখিত পরীক্ষার আগেই নিজেকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে এবং ফলাফল নিয়ে অতি দুশ্চিন্তা না করে নিজের ওপর আস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি, পরীক্ষার দিন সকালেও যেন মন ও শরীর দুটোই ফ্রেশ থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষায় ফোকাস ধরে রাখার কৌশল:
১. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে—রাত জেগে না পড়ে পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকা জরুরি।
২. স্ট্রেস বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকতে হবে—নিরাপদ এবং পজিটিভ পরিবেশ বজায় রাখুন।
৩. একসঙ্গে অনেক কিছু না পড়ে টপিকভিত্তিক ছোট ছোট ভাগে পড়া ভালো—এতে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
৪. পরীক্ষার আগের দিন নতুন কিছু না পড়ে রিভিশনে মনোযোগ দিন—অজানা কিছু শেখার চেষ্টা এড়ান।
৫. স্বাস্থ্যকর খাবার ও হালকা শারীরিক ব্যায়াম পরীক্ষার আগের দিন আপনাকে সতেজ রাখবে।
৬. পরীক্ষার সময় মনোযোগ ভাঙতে পারে এমন যেকোনো বিষয় (ফোন, চিন্তা বা ভয়) থেকে নিজেকে আলাদা রাখুন।
৭. পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হবে নাকি সহজ হবে – এসব চিন্তা না করে শুধু নিয়মিত রুটিনের পরীক্ষা দিতে থাকুন।
যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:
১. পরীক্ষার দিন যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখুন—ভিড় বা যানজট এড়াতে আগে বের হন।
২. প্রবেশপত্র সময়মতো ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন এবং সেটি একটি ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন।
৩. প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র (প্রবেশপত্র প্রভৃতি) আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখুন।
৪. উত্তরপত্রে নাম, রোল নম্বর এবং অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে ও পরিষ্কার করে লিখুন।
৫. পরীক্ষার আগে কলম, ঘড়ি, চশমা ইত্যাদি দরকারি জিনিস ঠিকমতো সঙ্গে আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
৬. পরীক্ষা চলাকালীন সময় যেন অহেতুক গুজব বা ভয়ের প্রভাব না পড়ে, সেজন্য আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুন।
হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত নিয়ম মেনে আবেদন করুন। নির্দিষ্ট সময়ের ফি জমা দিয়ে মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিন।
Live MCQ ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস [স্বাস্থ্য] প্রস্তুতির রুটিন
Live MCQ অ্যাপে ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস [স্বাস্থ্য] প্রস্তুতির জন্য থাকছে পিএসসি সিলেবাস-ভিত্তিক সম্পূর্ণ প্রস্তুতির আয়োজন। রয়েছে ডিসকাউন্ট প্যাকেজও। দেখে নেওয়া যাক, কী কী থাকছে এই রুটিন ও ডিসকাউন্ট প্যাকেজে —
রুটিনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
লাইভ পরীক্ষা: ৫৯টি ➤ সাধারণ অংশের পরীক্ষা: ২৭টি [সাবজেক্ট ফাইনালসহ] ➤ মেডিকেল অংশের পরীক্ষা: ২৭টি [সাবজেক্ট ফাইনালসহ] ➤২০০ মার্কের ফুল মডেল টেস্ট/মক টেস্ট: ৫টি
ভিডিও ক্লাস: ২৬৫টি ➤ রেকর্ডেড: ২২৮টি [জেনারেল পার্ট: ২০০ ও মেডিকেল পার্ট: ২৮] ➤ নতুন ক্লাস: ৩৭টি [জেনারেল পার্টের জন্য: ১৯টি ও মেডিকেল পার্ট: ২২টি]
প্যাকেজ – ১: ১৪৯৯/- টাকা (সাথে ৩ মাস মেয়াদী ৫৫০ টাকার ত্রৈমাসিক প্যাকেজ ফ্রি)
ডিসকাউন্ট মূল্য (১৭ জুন পর্যন্ত): ২৪৯৯/- টাকা
ফ্রি: ৯৯৯/- টাকার ষাণ্মাসিক প্রিমিয়াম প্যাকেজ
প্যাকেজ মেয়াদ: ৩১ জুলাই, ২০২৫
প্যাকেজ – ২: ২৪৯৯/- টাকা (সাথে ৬ মাস মেয়াদী ৯৯৯ টাকার ষাণ্মাসিক প্যাকেজ ফ্রি)
ডিসকাউন্ট মূল্য (১৭ জুন পর্যন্ত): ২৪৯৯/- টাকা
ফ্রি: ৯৯৯/- টাকার ষাণ্মাসিক প্রিমিয়াম প্যাকেজ
প্যাকেজ মেয়াদ: ৪৮তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা পর্যন্ত।
৪৮তম স্পেশাল বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির সময় এখনই!
চিকিৎসকদের জন্য ৪৮তম স্পেশাল বিসিএস একটি গোল্ডেন সুযোগ। প্রস্তুতি শুরু করতে দেরি নয়। Live MCQ-এর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির রুটিন ও সাপোর্ট নিয়ে আপনিও হতে পারেন ক্যাডার চিকিৎসক।